জনপ্রশাসন

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী ও মো. সারওয়ার আলম | ছবি: সংগৃহীত
মাজারের কারণে ডিসি সারওয়ারের বদলি নয়, শিগগিরই নতুন পদায়ন: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের বদলির সঙ্গে মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার সাম্প্রতিক উদ্যোগ বা অন্য কোনো বিষয়কে যুক্ত করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে কোনো ব্যক্তিই কোনো জায়গায় ‘অপরিহার্য’ নন। তাছাড়া এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং শিগগিরই তাকে নতুন কোনো পদে পদায়ন করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি। রোববার (২১ জুন) সরকারের এক প্রশাসনিক আদেশে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের পর তৈরি হওয়া আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   এর আগে রোববার মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপনে তাকে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হলেও, কেন তাকে ডিসির পদ থেকে সরানো হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা এবং বিভিন্ন গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়।   সারওয়ার আলমের এই আকস্মিক বদলি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, বদলি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কোনো কারণ নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। একজন কর্মকর্তা নিয়ম অনুযায়ী এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাবেন, আবার অন্য কর্মকর্তা এসে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই সরকারের নিয়মিত ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ।   উল্লেখ্য, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে মো. সারওয়ার আলম সেখানকার মাজারের দীর্ঘদিনের আয়-ব্যয়ের অনিয়ম ও হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এর পরপরই তার বদলির আদেশ আসায় এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘লোকের এভাবে মেলালে তো হবে হবে না। মাজারের সঙ্গে এ বদলির কী সম্পর্ক আছে? বদলি তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, হতেই পারে। এর সঙ্গে অন্য কিছু মেলানোর কোনো কারণ নেই।’   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বদলি নিয়ে তৈরি হওয়া সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটি সরকারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সরকারি কর্মকর্তা কোনো পদে স্থায়ী নন। তিনি আসবেন, যাবেন এবং তার কাজ করবেন। কোনো ব্যক্তি কোনো জায়গায় অপরিহার্য নন। একজন কর্মকর্তা ভালো কাজ করলে মানুষ তাকে পছন্দ করবে, ভালোবাসবে, সেটাই স্বাভাবিক। সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্বই হলো মানুষের জন্য ভালো কাজ করা।’   ডিসি পদ থেকে সরিয়ে সারওয়ার আলমকে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো পদে পদায়ন না করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী যাদের কোনো দপ্তর বা জেলা থেকে আনা হয়, তাদের প্রথমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাদের নতুন পদে পদায়ন দেওয়া হয়। সারওয়ার আলমকে আপাতত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আনা হয়েছে, এখান থেকেই তাকে খুব দ্রুত নতুন পদে পদায়ন করা হবে।’   উল্লেখ্য, ২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের দক্ষ কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম এর আগে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সারাদেশে ব্যাপক আলোচিত ও প্রশংসিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন তিনি র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক সফল ভেজালবিরোধী ও অনিয়মবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিতি ও প্রশংসা কুড়ান।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরিতে ৪ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি পদ শূন্য, শূন্য পদ পূরণে চলমান প্রক্রিয়া জানালেন প্রতিমন্ত্রী

দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এটি জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য তিনি উপস্থাপন করেন।   প্রতিমন্ত্রীর বরাতে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সরকারি চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। শ্রেণিভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণিতে ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন কর্মরত থাকলেও শূন্য পদ রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জনের বিপরীতে শূন্য পদ ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি।   তৃতীয় শ্রেণিতে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন কর্মরত, কিন্তু শূন্য পদ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি। চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জন কর্মরত এবং শূন্য পদ ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি। অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ৭ হাজার ৯৮০ জন কর্মরত থাকলেও ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে।   প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীরা বিভিন্ন শ্রেণিতে থাকলেও তারা সরকারি বেতন স্কেল অনুসরণ করেন না। সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম শূন্য পদ পূরণের সময়সীমা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, শূন্য পদ পূরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে পদগুলো পূরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইংরেজি শিখতে উপ-সচিব থেকে সিনিয়র সচিবদের থাইল্যান্ড পাঠাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় উপ-সচিব থেকে সিনিয়র সচিব পর্যায়ের প্রায় ৩০০ কর্মকর্তাকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য থাইল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি অবস্থিত পাতায়া শহরের কাছাকাছি, যা পর্যটননির্ভর এলাকায় মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে।   তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক কর্মকর্তারা মনে করছেন, দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে পাঠানো নিয়ে অর্থনৈতিক সংকটের সময় এটি অনভিপ্রেত।   লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, “রাজনীতি এবং আমলাতন্ত্রে শুদ্ধাচার ও সদিচ্ছা না থাকলে কোনো উদ্যোগই সফল হবে না।”   অপরদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “যদি কোনো সচিব মনে করেন ইংরেজি শিখতে বিদেশে যেতে হবে, তাহলে তাদের সচিব হওয়ার যোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ। বিদেশে যাওয়ার পরিবর্তে ঘরে বসেই দক্ষতা অর্জন সম্ভব।”   সরকার প্রতি বছর কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। তবে এই থাইল্যান্ড পাঠানো প্রকল্প নিয়ে এবার নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিয়াম ফাউন্ডেশন, যা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে, তারা সরাসরি ক্যামেরার সামনে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা শুধু জানিয়েছেন, আগের প্রকল্প অনুমোদন কৃচ্ছ্রসাধন নীতির কারণে হয়নি, এবার পুনরায় অনুমোদনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ফটো।
১১ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ: মাঠ প্রশাসনে বড় রদবদল

দেশের ১১টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে দক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়নের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে এই বড় পরিবর্তন আনা হলো। নতুন ডিসি পাওয়া জেলাগুলো হলো— রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, মাদারীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, হবিগঞ্জ, নরসিংদী, মেহেরপুর, লালমনিরহাট ও বান্দরবান। নতুন দায়িত্ব পেলেন যারা সরকারের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী: রাজশাহীতে নিয়োগ পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শহিদুল ইসলাম। খুলনার দায়িত্ব পেয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব হুরে জান্নাত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পদায়ন করা হয়েছে সরকারি প্রিন্টিং প্রেসের উপ-পরিচালক মো. আবু সাঈদকে। চাঁদপুরের ডিসি হয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপসচিব আহমেদ জিয়াউর রহমান। নরসিংদীতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ইসরাত জাহান কেয়া এবং মেহেরপুরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শিল্পী রানী রায় নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় লুৎফুন নাহার, মাদারীপুরে মর্জিনা আক্তার, হবিগঞ্জে জি এম সরফরাজ, লালমনিরহাটে মুহ. রাশেদুল হক প্রধান এবং বান্দরবানে মো. সানিউল ফেরদৌসকে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই আদেশে উল্লিখিত ১১ জেলার বর্তমান জেলা প্রশাসকদের প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসকগণ জেলার সাধারণ প্রশাসনিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সরকারের বিশেষ কর্মসূচি ও উন্নয়নমূলক কাজ তদারকি করে থাকেন।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
প্রেস উইংয়ে নতুন নিয়োগ: উপপ্রেস সচিব ও সহকারী প্রেস সচিব পেলেন রাষ্ট্রপ্রধান

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং পুনর্গঠনে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তথ্য ক্যাডারের দুই দক্ষ কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রপতির উপপ্রেস সচিব এবং সহকারী প্রেস সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তথ্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোল্লা আহমদ কুতুবুদ-দ্বীন রাষ্ট্রপতির উপপ্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে, একই অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ তথ্য অফিসার এসএম রাহাত হাসনাতকে সহকারী প্রেস সচিব পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই কর্মকর্তাদের চাকরি বর্তমানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ে বড় ধরনের রদবদল আনে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় এবার গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পদে নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হলো। বর্তমানে সচিব পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. সরওয়ার আলম।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0