আমেরিকা

বাড়িতে আগুন লাগার সময় গাড়ির সিটে বন্দি শিশু, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে ছিলেন মা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ২০:৩২
অভিযুক্ত মা ২৬ বছর বয়সী ক্যালিয়ান হিথম্যান, যাকে চরম মাতাল অবস্থায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ছবি: সংগৃহীত
অভিযুক্ত মা ২৬ বছর বয়সী ক্যালিয়ান হিথম্যান, যাকে চরম মাতাল অবস্থায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্লেনডেলে একটি বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় দুই বছরের এক শিশুকে কার সিটে আটকে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় শিশুটির মা ঘরের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১২নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট গ্লেনডেলের ৬৭তম অ্যাভিনিউ ও ক্যাকটাস রোড এলাকার একটি বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকলকর্মীরা। পরে গ্লেনডেল পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত বডিক্যাম ভিডিওতে দেখা যায়, ঘন ধোঁয়ায় ভরা বাড়িতে প্রবেশ করে কর্মকর্তারা একটি দুই বছরের শিশুকে কার সিটে বাঁধা অবস্থায় খুঁজে পান। ধোঁয়ার কারণে শিশুটি প্রায় অচেতন হয়ে পড়েছিল এবং নিজে থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।

 

পুলিশ সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে কোলে নিয়ে বাড়ির বাইরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান, যাতে সে খোলা বাতাসে শ্বাস নিতে পারে। এরপর তারা আবার বাড়ির ভেতরে ফিরে গিয়ে বসার ঘরের সোফার পাশে মেঝেতে এক নারীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তার পরিচয় ২৬ বছর বয়সী ক্যালিয়েন হিথম্যান (Kallien Heathman) হিসেবে নিশ্চিত করা হয়।

 

বডিক্যামের ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা বারবার তাকে জাগানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসার সময় তিনি চিৎকার করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন।

 

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মাইক্রোওয়েভে পিজ্জা গরম করার সময় সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার সময় বাড়িতে থাকা সাত বছর বয়সী আরেক শিশু তার বাবাকে ফোন করে পরিস্থিতির কথা জানায়। পরে ওই বাবা জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি পুলিশকে জানান, ওই নারী তার সাবেক সঙ্গী এবং সে সময় শিশু দুটির দায়িত্ব তার কাছেই ছিল।

 

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স ১০-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় হিথম্যানের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনসিদ্ধ সীমার প্রায় পাঁচ গুণ বেশি ছিল।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার সময় শিশু দুটির অভিভাবক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন হিথম্যান। অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় শিশুদের কার্যত তত্ত্বাবধানহীন রেখে দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতনের (ফেলনি চাইল্ড অ্যাবিউজ) মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

ঘটনায় উদ্ধার হওয়া শিশুদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে দ্রুত উদ্ধার অভিযানের কারণে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ ও তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের স্ত্রী কে? জানুন তার পরিবার ও রাজনৈতিক পথচলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদ। দলীয় প্রাইমারিতে অল্প ব্যবধানে জয়ের পর নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হতে যাচ্ছে।   নিউইয়র্ক টাইমসের ভোটের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল-সাইয়েদ মধ্যপন্থী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে এক শতাংশেরও কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। এই রাজনৈতিক সাফল্যের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার।   এল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারণার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তার স্ত্রী ডা. সারা জুকাকু একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। দুজনের পরিচয় হয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে পড়াশোনার সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংবাদপত্র 'দ্য মিশিগান ডেইলি'-তে ২০০৬ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে।   সেই সময় সারা জুকাকু জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়ার সময়ই তাদের বাগদান সম্পন্ন হয়। একই প্রতিবেদনে আবদুল এল-সাইয়েদ বলেছিলেন, ইসলাম ধর্মের শিক্ষা তাকে অল্প বয়সেই বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করেছিল। তার ভাষায়, "আমি ভাবতাম, একজন মানুষের সঙ্গেই আমার দেখা হবে এবং তাকেই আমি বিয়ে করব। আমার কাছে এটিই একটি সম্পর্কের সবচেয়ে নির্মল রূপ।"   নির্বাচনী প্রচারণার বিভিন্ন ভিডিওতেও সারাকে দেখা গেছে। একটি ভিডিওতে তিনি সন্তান জন্মদানের সময় জটিলতার মুখে নিজের শ্রমিক ইউনিয়নের সহায়তার কথা তুলে ধরেন। সে সময় তিনি চিকিৎসক হিসেবে রেসিডেন্সি করছিলেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই ইউনিয়নের গুরুত্ব বোঝেন না, কিন্তু কঠিন সময়ে সেই সহায়তা তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   আবদুল এল-সাইয়েদ তার লেখা 'হিলিং পলিটিক্স: আ ডক্টরস জার্নি ইনটু দ্য হার্ট অব আওয়ার পলিটিক্যাল এপিডেমিক' বইতেও স্ত্রী সম্পর্কে লিখেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সারার বাবা-মা ভারতের একটি গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন। স্ত্রীর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে তিনি লেখেন, জীবনে নিজের পরিচয় খুঁজে পেতে তাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে, কিন্তু সারা সবসময় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তার মতে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়া সারার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দারুণভাবে মানানসই।   মাদার্স ডে উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এল-সাইয়েদ সারাকে "আমার সবচেয়ে বড় ভরসা এবং আমাদের দুই কন্যার অসাধারণ মা" বলে উল্লেখ করেন। দম্পতির দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের নাম এমালি (Emmalee) ও সেরিন (Serene)।   এল-সাইয়েদের পারিবারিক শিকড়ও বৈচিত্র্যময়। তার প্রচারণা শিবিরের তথ্য অনুযায়ী, তার বাবা মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। তিনি বাবার পাশাপাশি সৎমা জ্যাকির সঙ্গেও বেড়ে উঠেছেন, যার পরিবারের শিকড় মিশিগানের গ্রাটিয়ট কাউন্টিতে। অন্যদিকে 'আরব আমেরিকা'র তথ্য অনুযায়ী, তার মা ডা. ফাত্তেন এলকোমি মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে নার্স প্র্যাকটিশনার হিসেবে কর্মরত।   এদিকে নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান নেতা ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে।   ইপিক-এমআরএ পরিচালিত এক জরিপে রজার্স ৪৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এল-সাইয়েদের (৪৩ শতাংশ) চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। তবে মিচেল রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের আরেকটি জরিপে দুজনই ৪৫ শতাংশ করে সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে গ্লেনগারিফ গ্রুপের এক জরিপে রজার্স ৪৯ শতাংশ এবং এল-সাইয়েদ ৩৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ 'ব্যাটলগ্রাউন্ড' অঙ্গরাজ্য। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প অল্প ব্যবধানে রাজ্যটিতে জয় পান। ফলে এখানে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত করতে শুধু দলীয় ভোটার নয়, স্বতন্ত্র ভোটারদেরও সমর্থন অর্জন করতে হবে। সেই দিক থেকে আবদুল এল-সাইয়েদের প্রার্থিতা প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষাও হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ২১:২০
অনলাইনে অনুদান চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কে ব্রায়ান রোমেরো। ছবি: সংগৃহীত

বাড়িভাড়া পরিশোধে অনলাইনে অনুদান চেয়ে তদন্তের মুখে নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতা

অভিযুক্ত মা ২৬ বছর বয়সী ক্যালিয়ান হিথম্যান, যাকে চরম মাতাল অবস্থায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ছবি: সংগৃহীত

বাড়িতে আগুন লাগার সময় গাড়ির সিটে বন্দি শিশু, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে ছিলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে বন্দুকধারীর অতর্কিত হামলায় নিহত হোয়াইট হাউস কর্মকর্তার পুলিশ-ভাই

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে বন্দুকধারীর অতর্কিত হামলায় নিহত হোয়াইট হাউস কর্মকর্তার পুলিশ-ভাই

নিউইয়র্কে অবৈধ ই-বাইক বিক্রি বন্ধে মেয়রের নির্দেশ, সমালোচকদের তীব্র ক্ষোভ
নিউইয়র্কে অবৈধ ই-বাইক বিক্রি বন্ধে মেয়রের নির্দেশ, সমালোচকদের তীব্র ক্ষোভ

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি অবৈধ ও বিপজ্জনক ই-বাইক এবং স্কুটার বিক্রি বন্ধে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বুধবার সিটি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার প্রশাসন অবৈধভাবে উচ্চ গতির ই-বাইক ও স্কুটার বিক্রির অভিযোগে ৪২টি অনলাইন খুচরা বিক্রেতাকে 'সিজ-অ্যান্ড-ডেসিস্ট' (cease-and-desist) বা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।   আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে এই নির্দেশ না মানলে প্রতিটি অবৈধ বিক্রির জন্য বিক্রেতাদের দুই হাজার ডলার করে জরিমানা গুণতে হবে। মেয়র স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের রাস্তায় এ ধরনের বিপজ্জনক যান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। নতুন এই নির্দেশনার লক্ষ্য হলো— ১০০ পাউন্ডের বেশি ওজনের বা ২০ মাইল বেগের বেশি চলতে সক্ষম স্কুটার, ৭৫০ ওয়াটের বেশি ক্ষমতার মোটরযুক্ত ই-বাইক এবং বৈধ নিবন্ধন নম্বরবিহীন মোপেডগুলোর ভবিষ্যৎ বিক্রি বন্ধ করা।   তবে মেয়রের এই পদক্ষেপকে 'অকার্যকর ও দুর্বল প্রতিক্রিয়া' বলে আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকরা। কারণ, এই নির্দেশনার মাধ্যমে কেবল ভবিষ্যতে বিক্রি হতে যাওয়া যানগুলো ঠেকানোর কথা বলা হয়েছে, কিন্তু ইতোমধ্যে শহরের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ানো বিপজ্জনক ই-বাইকগুলো অপসারণের বিষয়ে মেয়র কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। এমনকি এসব যানের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার যে আইনি প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি সমর্থন করতেও তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মেয়রের দাবি, ই-বাইক ও স্কুটারের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করলে রাস্তার নিরাপত্তা খুব একটা বাড়বে না এবং তিনি এই পথে হাঁটতে চান না।   মেয়রের এমন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে 'এনওয়াইসি ই-ভেহিকল সেফটি অ্যালায়েন্স'। সংগঠনের একজন মুখপাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরের রাস্তা থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবৈধ যানগুলো সরাতে মেয়র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। গত পাঁচ বছর ধরে শহরে এই জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংকট চললেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।   পরিসংখ্যানও এই ভয়াবহতার প্রমাণ দেয়। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে ই-বাইক চালকদের মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি ঘটনার জন্যই অবৈধ যানগুলো দায়ী। এছাড়া, এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালে সাইকেল ও স্কুটার দুর্ঘটনাজনিত ট্রমার হার ১০ শতাংশেরও কম থাকলেও ২০২৩ সালের মধ্যে তা অর্ধেকের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটির মোট ট্রমা রোগীর প্রায় ৭ শতাংশই মাইক্রোমোবিলিটি দুর্ঘটনার শিকার।   সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কে ই-বাইকের কারণে বেশ কিছু মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। লোয়ার ম্যানহাটনে অবৈধ ই-বাইক চালাতে গিয়ে পার্ক করা এসইউভির সঙ্গে ধাক্কা লেগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়। গত মাসে সেন্ট্রাল পার্কে ই-বাইকের ধাক্কায় এক জগিংকারী মারাত্মকভাবে আহত হয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে কোমায় ছিলেন।   এসব কারণে সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বর্তমান আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ার অভিযোগ তুলে নতুন আইনের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, রাস্তায় থাকা অবৈধ বাইকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কিছুক্ষণ পরই মেয়র নিজেই যখন প্রশ্ন তোলেন— "যে আইন প্রয়োগই হয় না, তার আসলে কী মূল্য আছে?", তখন তার এই স্ববিরোধী অবস্থান পুরো পরিস্থিতিকে আরও হাস্যকর করে তোলে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৯:৩
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আমেরিকানদের খাদ্যাভ্যাস ও কেনাকাটায় আসছে ব্যাপক পরিবর্তন

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আমেরিকানদের খাদ্যাভ্যাস ও কেনাকাটায় আসছে ব্যাপক পরিবর্তন

সিটবেল্ট ত্রুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখের বেশি র‍্যাম গাড়ি মেরামতের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ

সিটবেল্ট ত্রুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখের বেশি র‍্যাম গাড়ি মেরামতের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ

লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দাদের জন্য সুখবর, গাড়ি ব্যবহার না করলেই মিলবে ৬০০ ডলার পুরস্কার

লস অ্যাঞ্জেলেসবাসীর জন্য সুখবর, ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারেই মিলবে ৬০০ ডলার পুরস্কার

ক্যালিফোর্নিয়ার হাসপাতালগুলোর জন্য দুঃসংবাদ, বাতিল হচ্ছে ঋণ মওকুফের গুরুত্বপূর্ণ বিল
ক্যালিফোর্নিয়ার হাসপাতালগুলোর জন্য দুঃসংবাদ, বাতিল হচ্ছে ঋণ মওকুফের গুরুত্বপূর্ণ বিল

ক্যালিফোর্নিয়ার ঋণগ্রস্ত হাসপাতালগুলোর জন্য বড় দুঃসংবাদ। হাসপাতালগুলোর আর্থিক সংকট দূর করতে এবং ঋণ মওকুফের জন্য প্রস্তাবিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল হঠাৎ করেই বাতিল করা হয়েছে। আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনে জনসাধারণের মতামতের আগেই বিলটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।   ডিস্ট্রিক্ট ২৭-এর অ্যাসেম্বলি মেম্বার এসমেরালদা সোরিয়া বিদ্যমান 'অ্যাসেম্বলি বিল ১৯২৩' (এবি ১৯২৩) সংশোধন করেছেন। মূলত 'ডিস্ট্রেসড হসপিটাল লোন প্রোগ্রাম' বা দুর্দশাগ্রস্ত হাসপাতালগুলোর ঋণ কর্মসূচি হিসেবে পরিচিত এই বিলটির জায়গায় এখন ফ্রেসনো কাউন্টিতে আধা-সেন্ট বিক্রয় কর (সেলস ট্যাক্স) অব্যাহত রাখার একটি উদ্যোগ যুক্ত করা হয়েছে। মূল বিলটির পরিবর্তে এখন নভেম্বরের ব্যালটে 'বেটার রোডস, সেফ স্ট্রিটস' বা উন্নত ও নিরাপদ রাস্তাঘাট উদ্যোগটি স্থান পাবে। বিলটির প্রণেতা সোরিয়া গণমাধ্যমকে জানান, তাদের চারপাশে থাকা রাস্তাঘাট ও ফুটপাতসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর জরুরি মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে।   হাসপাতাল লোন প্রোগ্রামটি পুরো ক্যালিফোর্নিয়ার (গোল্ডেন স্টেট) সব হাসপাতালকে সাহায্য করতে পারত, অথচ নতুন উদ্যোগটি শুধুমাত্র ফ্রেসনো কাউন্টির রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সীমিত। এতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা। কাওয়াহ হেলথের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক মের্টজ বলেন, বিলটি এখন শুধু ফ্রেসনোর রাস্তাঘাটে সীমাবদ্ধ হওয়ায় এটি পুরো ক্যালিফোর্নিয়ার হাসপাতালগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।   মের্টজ আরও জানান, তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬২ শতাংশ রোগী 'মেডি-ক্যাল'-এর অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে হাসপাতালের কর্মীদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাস্থ্যসেবা খাতের ন্যূনতম মজুরির নিয়ম মেনে চলা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় মেডি-ক্যাল রেট অন্যতম সর্বনিম্ন হলেও এখানকার স্বাস্থ্যসেবার খরচ অনেক বেশি।   অন্যদিকে, অ্যাসেম্বলি মেম্বার সোরিয়া বিষয়টিকে কোনো একটির চেয়ে অপরটিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন না; বরং তিনি এটিকে সময়ের প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করছেন। তার মতে, বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবি ১৯২৩ বিলটি একটি অন্যতম সেরা মাধ্যম ছিল। হাসপাতাল লোন প্রোগ্রামটি বাতিল করার বিষয়ে তিনি জানান, ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সরকার এরই মধ্যে চলতি বছর হাসপাতালগুলোর জন্য প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলার অনুদান অনুমোদন করেছে, তাই ফ্রেসনোর অবকাঠামো উন্নয়ন আপাতত বেশি জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৭:৪৩
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হলেন মুসলিম নেতা আব্দুল এল-সায়েদ

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হলেন মুসলিম নেতা আব্দুল এল-সায়েদ

বিচ্ছেদের পর যৌথ মালিকানার অবসান, ৭৬ লাখ ডলারে ফ্লোরিডার প্রাসাদের একক মালিক হলেন ট্রাম্প জুনিয়র

বিচ্ছেদের পর যৌথ মালিকানার অবসান, ৭৬ লাখ ডলারে ফ্লোরিডার প্রাসাদের একক মালিক হলেন ট্রাম্প জুনিয়র

নিউ জার্সিতে ইসলাম গ্রহণের পর অঙ্গদাতার তালিকা থেকে নাম সরিয়েছিলেন কেইথ, কিন্তু মৃত্যুর পর অঙ্গ নিতে মরিয়া সংস্থা

নিউ জার্সিতে ইসলাম গ্রহণের পর অঙ্গদাতার তালিকা থেকে নাম সরিয়েছিলেন কেইথ, কিন্তু মৃত্যুর পর অঙ্গ নিতে মরিয়া সংস্থা

0 Comments