জার্মানি

চীনে জার্মানির প্রতিষ্ঠান ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
চীনের তীব্র প্রতিযোগিতায় জার্মান শিল্পে বড় ধাক্কা, চাকরি কমছে, বিদেশে কারখানা সরাচ্ছে শত শত

চীনের ক্রমবর্ধমান শিল্প সক্ষমতা ও কম খরচে উৎপাদনের প্রতিযোগিতায় জার্মানির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি মাঝারি আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো (মিটেলস্ট্যান্ড) বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এর ফলে বহু প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করছে, উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিদেশে কারখানা স্থানান্তর করছে এবং নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির বহু মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন দেশীয় উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। একসময় উচ্চমানের প্রকৌশল, যন্ত্রপাতি ও শিল্প প্রযুক্তিতে বিশ্ববাজারে আধিপত্য বজায় রাখা এসব প্রতিষ্ঠান এখন চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে তীব্র মূল্য ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মুখোমুখি।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুধু চীনের কম উৎপাদন ব্যয়ই নয়, দেশটির দ্রুত প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সরকারি সহায়তাও জার্মান কোম্পানিগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন করে তুলেছে। একই সঙ্গে জার্মানিতে জ্বালানি ব্যয়, শ্রম ব্যয় এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে পূর্ব ইউরোপ, এশিয়া কিংবা উত্তর আমেরিকায় উৎপাদন স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।   জার্মানির এই মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এসব প্রতিষ্ঠানে লাখো মানুষ কর্মরত এবং রপ্তানি আয়ের বড় অংশও আসে এ খাত থেকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ স্থগিত করেছে, কোথাও কোথাও কর্মসংস্থান কমানোর পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।   অর্থনৈতিক সূচকগুলোও দেখাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানির উৎপাদনশিল্প দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া, উচ্চ সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা শিল্পখাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
পরিকল্পিত ব্যয় ও নিয়মিত সঞ্চয় জার্মানদের আর্থিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছবি: সংগৃহীত
কিপটেমি নয়, আর্থিক শৃঙ্খলা: জার্মানদের ৫ অভ্যাস যেভাবে বাড়ায় সঞ্চয়

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জার্মানির মানুষ শুধু উন্নত প্রযুক্তি, শিল্প বা বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাণের জন্যই পরিচিত নন। তাদের আরেকটি বড় পরিচয় হলো সুশৃঙ্খল আর্থিক পরিকল্পনা এবং নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস। বিভিন্ন আর্থিক জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির অধিকাংশ মানুষ প্রতি মাসেই আয়ের একটি অংশ ভবিষ্যতের জন্য আলাদা করে রাখেন।   অনেকেই মনে করেন, জার্মানরা হয়তো অতিরিক্ত কৃপণ। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। তারা অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে অর্থ ব্যয় করেন। ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনায় এই অভ্যাস তাদের অর্থনৈতিকভাবে আরও স্থিতিশীল থাকতে সাহায্য করে। বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্যও জার্মানদের এই জীবনধারা অনুসরণ করা কার্যকর হতে পারে।   জার্মানদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রয়োজন ছাড়া বাড়তি খরচ না করা। দৈনন্দিন কেনাকাটার ক্ষেত্রে তারা ব্র্যান্ডের চেয়ে গুরুত্ব দেন পণ্যের মান ও দামের ওপর। তাই অনেকেই নিয়মিত কেনাকাটা করেন লিডল, আলডি, পেনি কিংবা নেটোর মতো ডিসকাউন্ট সুপারমার্কেটে। একই মানের পণ্য তুলনামূলক কম দামে পাওয়ায় মাস শেষে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়। এছাড়া বাজারে যাওয়ার আগে তালিকা তৈরি করে তারা সাধারণত সেই তালিকার বাইরে অতিরিক্ত কিছু কেনেন না।   অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন বাতিল করাও তাদের আর্থিক শৃঙ্খলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যবহার না করলেও মাসের পর মাস বিভিন্ন অ্যাপ, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বা জিমের সদস্যপদের জন্য অর্থ পরিশোধ করার প্রবণতা অনেক দেশে দেখা যায়। কিন্তু জার্মানিতে মানুষ নিয়মিত ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে যেসব সেবা ব্যবহার করছেন না, সেগুলো দ্রুত বাতিল করে দেন। এতে ছোট ছোট অপ্রয়োজনীয় খরচ জমে বড় অঙ্কে পরিণত হওয়ার সুযোগ থাকে না।   বিশ্বখ্যাত বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ কিংবা অডির মতো গাড়ির দেশ হলেও অনেক জার্মান প্রতিদিনের যাতায়াতে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার করেন। উন্নত বাস, ট্রেন ও ট্রামের নেটওয়ার্কের কারণে কম খরচে সহজে চলাচল করা সম্ভব হয়। এতে জ্বালানি, পার্কিং, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বীমার মতো ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। প্রয়োজন হলে অনেকেই গাড়ি কেনার বদলে কার-শেয়ারিং সেবা ব্যবহার করেন।   সঞ্চয়ের ক্ষেত্রেও তারা একটি কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করেন। মাস শেষে যা অবশিষ্ট থাকে তা জমা না রেখে, বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ হিসাবে স্থানান্তর করেন। জার্মানির অনেক ব্যাংক স্থায়ী স্বয়ংক্রিয় নির্দেশনার মাধ্যমে এই অর্থ নির্দিষ্ট সঞ্চয়ী হিসাব বা বিনিয়োগ তহবিলে পাঠানোর সুবিধা দেয়। ফলে প্রথমেই সঞ্চয় নিশ্চিত হয় এবং বাকি অর্থ দিয়ে পুরো মাসের বাজেট পরিচালনা করা সহজ হয়।   পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থ সাশ্রয়কে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতিও জার্মানদের মধ্যে লক্ষণীয়। দেশটিতে প্লাস্টিক ও কাঁচের বোতল কেনার সময় অতিরিক্ত একটি আমানত মূল্য পরিশোধ করতে হয়, যা ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট মেশিনে বোতল ফেরত দিলে ফেরত পাওয়া যায়। অনেকেই এসব বোতল জমিয়ে রেখে পরে রিফান্ড নিয়ে দৈনন্দিন কেনাকাটায় ব্যবহার করেন। পাশাপাশি নতুন পণ্য কেনার পরিবর্তে ভালো মানের সেকেন্ড-হ্যান্ড আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাও জার্মানদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়।   অর্থনীতিবিদদের মতে, আয় যতই হোক, দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সঞ্চয়, পরিকল্পিত ব্যয় এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। জার্মানদের এই অভ্যাস শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক স্থিতিশীলতাই বাড়ায় না, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ও তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে সহায়তা করে।   বিশেষ করে বিদেশে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্যও এই অভ্যাসগুলো কার্যকর হতে পারে। নিয়মিত সঞ্চয়, পরিকল্পিত বাজেট এবং সচেতন ব্যয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করা অনেক সহজ হয়ে ওঠে।    

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ক্ষুধার্তকে সাহায্য করতে গিয়ে পরিচয় জেনে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ভারতীয় লেখিকা

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম অমানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আয়ারল্যান্ড প্রবাসী ভারতীয় লেখিকা নিবেদিতা শুক্লা। প্রবাসে ভারতীয়দের বৈষম্যের শিকার হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্ষেপ করে একটি লম্বা পোস্ট লিখতে গিয়ে তিনি নিজেই এক পাকিস্তানি নাগরিকের প্রতি যে বর্ণবাদী আচরণ করেছেন, তা এখন নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিজের অমানবিক আচরণের বয়ান নিজেই দিয়ে নেটিজেনদের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন ‘দ্য মোমেন্টোস অব রুনঝ’ বইয়ের এই লেখিকা।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের ১০ ঘণ্টার ট্রানজিটের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে নিবেদিতা জানান, বিমানবন্দরে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও ক্ষুধার্ত মনে হওয়া এক ব্যক্তিকে দেখে সহানুভূতিশীল হয়ে তিনি নিজের সঙ্গে থাকা খাবার নিয়ে ওই ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যান। হিন্দিতে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি জানান যে তিনি ডাবলিন থেকে এসেছেন এবং তার গন্তব্য পাকিস্তানের করাচি। লেখিকার দাবি, গন্তব্য ‘পাকিস্তান’ শোনার পরই তিনি ওই ব্যক্তিকে খাবার না দিয়েই মুখ ফিরিয়ে নিজের আসনে ফিরে আসেন। এখানেই শেষ নয়, চরম অমানবিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি নিজের পোস্টে ‘যা মর’ (যাও, গিয়ে মরো) শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে পোস্টটির ইতি টানেন।   নিবেদিতা শুক্লার এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ইন্টারনেটে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আশ্চর্যজনকভাবে, প্রবাসে নিজের পাসপোর্ট বা নাগরিকত্বের কারণে বৈষম্যের আক্ষেপ করা এই লেখিকা খোদ ভারতীয় নেটিজেনদেরই তোপের মুখে পড়েন। এক ভারতীয় ব্যবহারকারী কড়া সমালোচনা করে লেখেন যে, তিন প্যারাগ্রাফ ধরে পাসপোর্টের কারণে বৈষম্যের আক্ষেপ করে পরের মুহূর্তেই একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে তার পাসপোর্ট দিয়ে বিচার করেছেন লেখিকা; যা বৈষম্যের এক নিকৃষ্ট উদাহরণ। অনেকেই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণকে দায়ী করে মন্তব্য করেছেন যে, এ ধরনের ঘৃণ্য মানসিকতার কারণেই বিশ্বজুড়ে ভারতীয়দের অবহেলা ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে মনস্তাত্ত্বিক ‘প্রোজেকশন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, লেখিকার অভিযোগগুলো মূলত তার নিজের চরিত্রের অন্ধকার দিকেরই স্বীকারোক্তি।   অন্যদিকে, পাকিস্তানি নেটিজেনরাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কোনো পাকিস্তানির তরফ থেকে এমন আচরণ তারা কখনো দেখেননি বা শোনেননি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এমন সংকীর্ণ মানসিকতা পরিহার করার পরামর্শ দিয়ে অনেকেই বলেছেন, পাসপোর্ট বা নাগরিকত্বের ঊর্ধ্বে উঠে বিমানবন্দরে সবাই সমমানের যাত্রী এবং মানবিকতাই হওয়া উচিত প্রথম পরিচয়। তবে নিজের দেশের মানুষই এমন বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নেটিজেনদের একাংশ। সব মিলিয়ে নিবেদিতার এই পোস্টটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় জাতীয়তাবাদী সংকীর্ণতা, বৈষম্য ও মানবিকতা নিয়ে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানিতে তীব্র তাপপ্রবাহে জলাশয়ে নেমে ৩০ জনের মৃত্যু
জার্মানিতে তীব্র তাপপ্রবাহে জলাশয়ে নেমে ৩০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও কয়েকজন

জার্মানিতে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে নদী, হ্রদ ও বিভিন্ন জলাশয়ে সাঁতার বা গোসল করতে গিয়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই পুরুষ, পাশাপাশি কয়েকজন কিশোরও রয়েছে। প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে পানিতে নামার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   জার্মানির লাইফ সেভিং অ্যাসোসিয়েশন DLRG (ডিএলআরজি) জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে রোববার—মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে—সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও পৃথক সাতটি প্রাণঘাতী ঘটনার খবর পাওয়া যায়।   তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার আগেই সংস্থাটি জনগণকে সতর্ক করে বলেছিল, অতিরিক্ত গরমের সময় নদী বা হ্রদে সাঁতার কাটাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। তবুও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে অনেকেই ঝুঁকি নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছে তারা।   রোববার নিডারজ্যাক্সেন রাজ্যের পাইনে শহরের আইক্সার হ্রদ থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের এখৎস হ্রদ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোরের লাশ, যিনি শুক্রবার নৌকা থেকে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন।   ডিএলআরজি জানিয়েছে, তাদের পরিসংখ্যানে শুধুমাত্র যাদের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে, তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে এলবে নদীতে এক সাঁতারু, স্যাক্সনির পোহল জলাধারে এক ব্যক্তি এবং বাডেন-ভুর্টেমবার্গের একটি খনির হ্রদে ২৮ বছর বয়সী এক যুবকের খোঁজ চলছে।   পুলিশের তথ্যমতে, ওই যুবক রোববার কয়েকবার পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর হঠাৎ তলিয়ে যান। তার এক বন্ধু তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরাও তাকে খুঁজে পাননি। দুর্ঘটনাস্থলের পানির গভীরতা ছিল প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিটার।   এছাড়া নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার নেফেল হ্রদে ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, কোলনের ফ্যুলিঙ্গার হ্রদে ২১ বছর বয়সী এক সাঁতারু, ভেসেল জেলায় ডুবে যাওয়া একটি রাবার বোটের আরোহী এবং বাল্টিক সাগরের শারবয়ৎস উপকূলে এক দূরপাল্লার সাঁতারুও নিখোঁজ রয়েছেন।   ডিএলআরজির সভাপতি উটে ফগ্ট বলেন, “আমরা বারবার দেখছি, বিশেষ করে পুরুষেরা নিজেদের সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করেন এবং এমন ঝুঁকি নেন, যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।”   এদিকে জার্মানির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কয়েক দিনের তীব্র তাপপ্রবাহের পর আপাতত তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। তবে ১০ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের প্রভাবও ক্রমেই বাড়ছে। স্পেনের বার্সেলোনা শহরে ৫০০টির বেশি স্থানে ‘জলবায়ু-সুরক্ষা কেন্দ্র’ চালু করা হয়েছে, যেখানে মানুষ গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে পারে। অন্যদিকে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ টেলিফোন নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে এবং তাপপ্রবাহের সময় মদ বিক্রিতে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা World Health Organization (ডব্লিউএইচও)-এর ইউরোপীয় আঞ্চলিক পরিচালক হান্স ক্লুগে সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতের একটি ইঙ্গিত মাত্র। তার ভাষায়, “তাপপ্রবাহ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটি বারবার ফিরে আসা একটি সংকটে পরিণত হয়েছে।”   ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহেই এক হাজার ৩০০ জনের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সপ্তাহেই দেশটিতে প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বড় অংশই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ছে। অথচ এখনো অনেক দেশ এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারেনি। আগাম সতর্কবার্তা, শীতল আশ্রয়কেন্দ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বহু প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নীলুফা নিশাত জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ইকুয়েডর জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় গঞ্জালো প্লাতা (বামে) এবং জেরেমি সারমিয়েন্তো (ডানে) | ছবি: এএফপি
জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস ইকুয়েডরের, খুশিতে দেশে ছুটি ঘোষণা

বিশ্বকাপ ফুটবলে দীর্ঘ ২০ বছর পর নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর। শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক গৌরব নিশ্চিত করেছে দলটি। ২৬ জুন শুক্রবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এই নাটকীয় জয়ের পর পুরো দেশজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এই অবিস্মরণীয় অর্জনকে উদ্‌যাপন করতে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া পরের দিনকে দেশটিতে সাধারণ জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় প্রেসিডেন্ট নোবোয়া খেলোয়াড় ও কোচদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি লিখেছেন, যারা সমালোচনা, অপমান আর কঠিন সময়ের পরও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এবং পুরো দেশে এই বিশাল আনন্দ এনে দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনি একই সাথে পরের দিন ছুটি ঘোষণা করে ইকুয়েডরের দীর্ঘায়ু কামনা করেন। অথচ এই ম্যাচের শুরুটা ইকুয়েডরের জন্য ছিল একেবারেই দুঃস্বপ্নের মতো, কারণ খেলার মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে নেন লেরয় সানে।   তবে জার্মানির প্রথম গোলটি নিয়ে মাঠেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। গোলের ঠিক আগে আলেক্সান্ডার পাভলোভিচ ইকুয়েডরের মিডফিল্ডার পেদ্রো ভিতেকে উঁচু বুট দিয়ে আঘাত করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ইকুয়েডরের খেলোয়াড়রা ফাউলের জোরালো প্রতিবাদ করলেও রেফারি টোরি পেনসো গোল বহাল রাখেন এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর এই বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। তবে সেই ধাক্কা সামলে দ্রুতই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় ইকুয়েডর এবং সাত মিনিটের মধ্যে ভিতে জার্মানির কাছ থেকে বল কেড়ে নেন।   এরপর নিলসন আঙ্গুলো বক্সের বাইরে থেকে একটি চমৎকার বাঁকানো শট নেন, যা পাভলোভিচের পায়ের ফাঁক দিয়ে সরাসরি জালে জড়ায়। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের প্রথম গোল এবং টুর্নামেন্টে তাদের ৪০তম শটে আসা প্রথম সাফল্য। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জার্মানি পেনাল্টির দাবি তুললেও ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন, কারণ বিল্ড-আপের সময় সানে নিজেই ফাউল করেছিলেন।   খেলার ৬৪ মিনিটে মাঠে আসেন কেভিন রদ্রিগেজ এবং ৭৭ মিনিটে একটি কর্নার থেকে তাঁর হেড ফ্লিক পেনাল্টি এলাকার ভেতরে চলে যায়। সেখানে সবার আগে পৌঁছে পা বাড়িয়ে বলটি জালে ঠেলে দেন গনজালো প্লাতা, যার ফলে ইকুয়েডর ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। শেষ ১০ মিনিট জার্মানি সমতার জন্য একের পর এক আক্রমণ করলেও ইকুয়েডর রক্ষণ গুটিয়ে প্রতিটি আক্রমণ প্রতিহত করে নাটকীয় এই জয় নিশ্চিত করে।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানিতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইসলামবিদ্বেষ l ছবি: সংগৃহীত
মুসলিম হওয়াই যেন অপরাধ! জার্মানিতে ইসলামবিদ্বেষী হামলা ৪ হাজার ছাড়াল

মানবাধিকার সংগঠন 'অ্যালায়েন্স অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া অ্যান্ড অ্যান্টি-মুসলিম হেট' (ক্লেম)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জার্মানিতে মুসলিম বিরোধী হামলা ও বৈষম্যের ঘটনা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। গত বুধবার প্রকাশিত সংগঠনটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর দেশটিতে ৪ হাজার ৯৬টি ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার প্রামাণ্য নথি পাওয়া গেছে। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ বছরজুড়ে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ১১টিরও বেশি মুসলিম বিরোধী ঘটনা ঘটেছে।   বার্লিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে 'ক্লেম'-এর সহ-পরিচালক রিমা হানানো জানান, এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল মৌখিক হামলার অভিযোগ, যার সংখ্যা ২ হাজার ৩৭৯টি (৬১ শতাংশ)। এরপরই রয়েছে ৮৪০টি বৈষম্যমূলক ঘটনা (২১.৫ শতাংশ) এবং শারীরিক নির্যাতন ও সম্পত্তি ধ্বংসের মতো ৬৮৯টি ক্ষতিকর আচরণের (১৭.৪ শতাংশ) ঘটনা।   প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশটিতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের মাত্রাও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে দুটি হত্যাকাণ্ড, গুরুতর জখম বা হত্যাচেষ্টাসহ ২১৪টি শারীরিক আঘাতের ঘটনা এবং অন্তত পাঁচটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রিমা হানানো বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন, এসব বর্ণবাদী হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন মূলত নারীরা, যা মোট একক ভুক্তভোগীদের প্রায় ৬৪.৫ শতাংশ।   এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় জার্মান সরকারকে ইসলামবিদ্বেষী বর্ণবাদের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানিতে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের এই সমস্যা সমাধানে দেশের রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছার ওপর আর বিন্দুমাত্র 'আস্থা নেই'।   প্রায় সাড়ে ৮ কোটি জনসংখ্যার দেশ জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় ৫৫ লাখ মুসলিম বসবাস করেন, যা ফ্রান্সের পর পশ্চিম ইউরোপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে 'অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি' (এএফডি)-এর মতো কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন উগ্রবাদী আন্দোলনের প্রভাবে দেশটিতে মুসলিম বিরোধী বর্ণবাদ ও সহিংসতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ | ছবি: সংগৃহীত
জার্মানিতে অবসরের বয়স বাড়িয়ে ৭০ করার পরিকল্পনা, চ্যান্সেলর মের্জের সমর্থন

জার্মানির বয়োবৃদ্ধ জনসংখ্যার ভবিষ্যৎ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অবসরের বয়সসীমা ধাপে ধাপে ৭০ বছর করার একটি নতুন সুপারিশে সমর্থন দিয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। জার্মান পেনশন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিশন মঙ্গলবার তাদের ৩৩ দফা সুপারিশ পেশ করার পর চ্যান্সেলর এই ঘোষণা দেন। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ভঙ্গুর পেনশন ব্যবস্থাকে ভেঙে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করা এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর থেকে বিপুল আর্থিক চাপ কমিয়ে আনা।   বর্তমানে জার্মানির নিয়ম অনুযায়ী ২০৩০-এর দশকের শুরুতে যারা অবসরে যাবেন, তাদের বয়সসীমা নির্ধারণ করা আছে ৬৭ বছর। তবে বিশেষজ্ঞ প্যানেল জানিয়েছে, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই বয়সসীমা পর্যায়ক্রমে বাড়াতে হবে, যা ২০৯০-এর দশকের মধ্যে ৭০ বছরে গিয়ে ঠেকবে। চ্যান্সেলর মের্জ আশ্বস্ত করে বলেছেন, "কোনো নাগরিকেরই উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।" এই সংস্কারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক চুক্তি আরও জোরালো হবে এবং তরুণরা ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হতে পারবে।   কমিশনের অন্যতম প্রধান সুপারিশ হলো—শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবদানের অর্থ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা, যাতে তহবিলটির আর্থিক মূল্য সুরক্ষিত থাকে এবং বৃদ্ধি পায়। এছাড়া সিভিল সারভেন্ট বা সরকারি আমলা এবং স্বনির্ভর পেশাজীবীদেরও এই বাধ্যতামূলক পেনশন অবদানের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি, যারা একটানা ৪৫ বছর কাজ করার পর ৬৩ বছর বয়সে কোনো পেনশন কর্তন ছাড়াই আগাম অবসরের সুবিধা পেতেন, সেই বিশেষ সুযোগটি পুরোপুরি বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে।   বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া জনসংখ্যার দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি অন্যতম। বর্তমানে দেশটিতে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে দীর্ঘজীবী অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। তবে এই সংস্কারের কিছু প্রস্তাব নিয়ে ইতিমধ্যে ট্রেড ইউনিয়ন এবং বামপন্থী জোটের সদস্যদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, আগাম অবসর বাতিলের সিদ্ধান্তটি নির্মাণ শ্রমিক বা কেয়ারারদের মতো কঠোর পরিশ্রমী ও স্বল্প আয়ের মানুষদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এছাড়া শেয়ার বাজারের ওপর পেনশনের নির্ভরতা জার্মানির সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ ভীতির কারণে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।   উল্লেখ্য, ১৮৮৯ সালে চ্যান্সেলর অটো ফন বিসমার্কের হাত ধরে জার্মানিতে বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্রীয় পেনশন ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। সে সময় অবসরের বয়স ৭০ বছরই নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা তৎকালীন গড় আয়ুর তুলনায় অনেক বেশি ছিল। প্রায় দুই শতাব্দী পর, ২০২১ সালের পর জন্ম নেওয়া জার্মান নাগরিকদের জন্য অবসরের বয়স আবারও সেই ৭০ বছরেই ফিরে যেতে চলেছে। চ্যান্সেলর মের্জ আগামী মাসের সংসদীয় ছুটির আগেই এই ঐতিহাসিক সংস্কার বিলটি সংসদে পাস করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

তাবাস্সুম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্টেফান করনেলিয়াস | ছবি: সংগৃহীত
লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি সেনা রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করল জার্মানি

লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের স্থায়ী উপস্থিতির তীব্র বিরোধিতা করেছে জার্মানি। দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের দেওয়া এক বক্তব্যের পর সোমবার (২২ জুন) বার্লিন এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। জার্মান সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব (স্বাধীন রাষ্ট্রীয় অধিকার) ক্ষুণ্ন করে সেখানে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।   বার্লিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্টিন গিসে বলেন, "এ বিষয়ে ফেডারেল সরকারের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। আমরা লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের স্থায়ী উপস্থিতির সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছি। এর পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া লেবাননের বেসামরিক জনগণকে তাদের নিজস্ব ঘরবাড়িতে ফিরে যেতে বাধা দেওয়া যাবে না।" পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্যকে সমর্থন করে জার্মান সরকারের প্রধান মুখপাত্র স্টেফান কর্নেলিয়াস লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি বার্লিনের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।   এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছিলেন যে, লেবাননে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ‘কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা’ বা বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আমি আগেই স্পষ্ট করেছি যে, লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে ইসরায়েল তার সেনা প্রত্যাহার করবে না।" মূলত গত শুক্র ও শনিবার দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ২০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালানোর পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।   ইসরায়েলের এমন আগ্রাসী অবস্থানের মুখে জার্মানির এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে যুদ্ধবিরতি ও বৈরিতা অবসানের আহ্বান জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি সেনা রেখে দেওয়ার এই জেদ আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে লোহিত সাগরের দিকে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে জার্মানি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দুটি জাহাজ লোহিত সাগরের দিকে মোতায়েন করছে জার্মানি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ন্যাটো সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক চলাকালীন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের সমঝোতার পর জলপথটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার তোড়জোড় শুরু হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সম্প্রতি নৌপরিবহন ও বীমা শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালিতে জরুরি ভিত্তিতে মাইন অপসারণকারী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জোরালো আহ্বান জানান। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের মাইনসুইপার ‘ফুলদা’ এবং অন্য একটি জাহাজ ‘মোজেল’ সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এই সামরিক মিশন সফল করতে এবং মাইন অপসারণ অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণের আগে ইরান ও ওমানের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে বলে তিনি জানান।   প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস জাহাজ মোতায়েনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের যেকোনো মিশনের ভবিষ্যৎ মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে। নৌপরিবহন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে মাইনমুক্ত করা সম্ভব না হলে ওই অঞ্চলে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে।   উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় জার্মানি এই বিশেষ মিশনের জন্য পানির নিচে নিখুঁতভাবে পরিচালিত ড্রোন, মাইন অপসারণে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর ডুবুরি এবং শক্তিশালী জাহাজ সুরক্ষা দলও পাঠাচ্ছে। এদিকে জলপথটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে একটি বহুজাতিক নৌ-মিশনের পরিকল্পনা করছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরান এই জলপথে যেকোনো ধরনের বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে বরাবরই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে আসছে।   অন্যদিকে মাইন অপসারণ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে গ্রিস সরকার। তবে দেশটির সরকারি মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানান, এই সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণের বিষয়ে গ্রিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লোহিত সাগরে দুই যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘোষণা জার্মানির, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন কৌশলগত তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযানে দ্রুত অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত জার্মান নৌবাহিনীর মাইন অপসারণকারী জাহাজ ‘ফুলদা’ এবং সরবরাহকারী জাহাজ ‘মোজেল’ ইতোমধ্যে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, এটি মূলত একটি আগাম প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক কোনো অভিযান শুরু হলে যাতে জার্মানি দ্রুত সাড়া দিতে পারে, সে লক্ষ্যেই জাহাজ দুটি কৌশলগতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, “প্রয়োজন দেখা দিলে এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনো অভিযান শুরু হলে আমরা দ্রুত অংশ নিতে প্রস্তুত থাকব। আমাদের লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য সবচেয়ে কম সময়ে হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছানোর সক্ষমতা নিশ্চিত করা।” বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে এই নৌপথের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে যেকোনো সামরিক বা নৌ অভিযান পরিচালনার আগে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো এবং জার্মান পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তিনি জানান, সম্ভাব্য কোনো আন্তর্জাতিক মিশনে অংশ নিতে হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতা হতে হবে। এরপর জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট জারি করা হলে জার্মান সরকার পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের আবেদন করবে।   সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন দেশ বিকল্প নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এই পদক্ষেপ শুধু সামরিক প্রস্তুতির অংশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর কৌশলেরও অংশ। কারণ হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে।   জার্মান সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তি উদ্বেগেরও ইঙ্গিত বহন করছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক অভিযান শুরু হয়নি, তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে বার্লিন।   এদিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। সেই বাস্তবতায় জার্মানির এই পদক্ষেপকে একটি কৌশলগত প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তরণ এবং নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে সামনে রেখে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জার্মানি। জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের (এফএফও) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বলেছেন, বাংলাদেশকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে জার্মানি ও ইউরোপ অত্যন্ত আগ্রহী।   মঙ্গলবার জার্মান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান এবং এফএফওর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ গত ৯ থেকে ১১ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তারা সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।   হার্টম্যান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গেছে এবং এর মাধ্যমে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জার্মানি ও ইউরোপ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়।   জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের উপস্থিতিতে প্রতিনিধি দলটি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।   সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আগ্রহও তুলে ধরে।   বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সমর্থন অব্যাহত রাখতে জার্মানি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।   জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।   সফরকালে প্রতিনিধি দলটি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও বৈঠক করে। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।   ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।   সফরের অংশ হিসেবে জার্মান কর্মকর্তারা কাশিমপুরে ডিবিএল গ্রুপের টেক্সটাইল উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত হন।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হরমোজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্মতি চায় জার্মানি

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল জানিয়েছেন, হরমোজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ কার্যক্রমে অংশ নিতে তার দেশ ইচ্ছুক। তবে সেখানে যেকোনো ধরনের নৌযান বা সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের ক্ষেত্রে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষের পূর্বসম্মতি থাকতে হবে।   জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম 'এন-টিভি'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভাদেফুল এ কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানির মাইনসুইপার (মাইন অপসারণকারী) জাহাজ 'ফুলদা' এবং সরবরাহকারী জাহাজ 'মোসেল'কে ইতোমধ্যে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে এই দুটি নৌযান হরমোজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।   নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার কথা তুলে ধরে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে, উভয় পক্ষই এ ধরনের একটি অভিযান চাইছে। যদি কোনো একটি পক্ষ, বিশেষ করে ইরান এতে রাজি না থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের ওপর গুলি চালায়, তবে আমরা এমন পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় প্রবেশ করতে পারি না।   নিশ্চিতভাবেই সেটি কোনো আদর্শ পরিস্থিতি হবে না।" মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে নিজেদের বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক সংঘাত এড়াতেই বার্লিন এই কৌশলগত ও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চায় জার্মানি ও ইউরোপ

গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের (এফএফও) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান।   তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি কঠিন রাজনৈতিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গেছে এবং এর মাধ্যমে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়েছে। জার্মানি এখন বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে এবং বিভিন্ন খাতে অংশীদারিত্ব বাড়াতে কাজ করতে চায়। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান এবং এফএফওর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ গত ৯ থেকে ১১ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তারা সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেন। জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের উপস্থিতিতে এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।   সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষই দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় বন্ধন আরও দৃঢ় করতে এবং বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ব্যাপারে তাদের জোরালো আগ্রহের কথা তুলে ধরে। আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটও বিশেষভাবে স্থান পায়। হার্টম্যান বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে জার্মানি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সমর্থন বজায় রাখার আহ্বান জানান।   জার্মান প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানি বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কারমুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।   হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের আসন্ন উত্তরণের আগে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ সফরকালে জার্মান কর্মকর্তারা তৈরি পোশাক উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং টেকসই উন্নয়নমূলক উদ্যোগসমূহ সরাসরি দেখার জন্য কাশিমপুরে ডিবিএল গ্রুপের টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানাও পরিদর্শন করেন।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইতালির কাছে দেশের বড় ব্যাংক বিক্রি করবে না জার্মানি

ইতালীয় ব্যাংক ইউনিক্রেডিটের পক্ষ থেকে জার্মানির কমার্সব্যাংক কিনে নেওয়ার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে জার্মান সরকার। মঙ্গলবার জার্মানির অর্থ সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ইউনিক্রেডিটের দেওয়া প্রস্তাবিত মূল্য অত্যন্ত কম এবং তাদের শেয়ার কেনার আগ্রাসী পদ্ধতি নিয়ে বার্লিনের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। কমার্সব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য দুই ব্যাংকের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলা লড়াইয়ের পর অবশেষে জার্মানি এই চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল। এর ফলে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাংক স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমর্থন পেল।   ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর থেকে জার্মানির সরকারের কাছে কমার্সব্যাংকের প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে। শুরু থেকেই জার্মান সরকার ইউনিক্রেডিটের এই একীভূতকরণের বা জোরপূর্বক ব্যাংক ক্রয়ের প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। জার্মানির অর্থ সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইউনিক্রেডিটের এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তারা কমার্সব্যাংকের বর্তমান শেয়ার বাজারের মূল্যের ওপর উপযুক্ত বা আকর্ষণীয় কোনো প্রিমিয়াম বা বাড়তি মূল্য দেওয়ার প্রস্তাব করেনি।   জার্মান সরকারের এই ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা তাদের কমার্সব্যাংকের সুপারভাইজরি বোর্ডে একাধিক আসন নিশ্চিত করে, যা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। অর্থ সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, তারা কমার্সব্যাংকের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখার পক্ষেই সম্পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। জার্মানির মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা 'মিতেলস্ট্যান্ড' কোম্পানিগুলোর অর্থায়নে এবং দেশটির প্রধান আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কমার্সব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করে আসছে।   এরই মধ্যে কমার্সব্যাংকের কর্মীদের একটি পরিষদের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগের ভিত্তিতে ফ্রাঙ্কফুর্টের সরকারি আইনজীবীরা বাজার কারসাজির একটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন। ইউনিক্রেডিট কর্তৃক বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে কমার্সব্যাংকের শেয়ার কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত রোববার এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। ইউনিক্রেডিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা এই তদন্তের বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছে। আইনি জটিলতার এই পরিস্থিতির মধ্যে ইউনিক্রেডিট এবং কমার্সব্যাংকের শেয়ারের মূল্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।   মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর কমার্সব্যাংকের শেয়ারের দাম ইউনিক্রেডিটের প্রস্তাবিত মূল্যের চেয়েও নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে কমার্সব্যাংকের শেয়ার ৩৬.৫৩ ইউরোতে লেনদেন হচ্ছে, অন্যদিকে ইউনিক্রেডিটের শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৬.৯৭ ইউরোতে। ইউনিক্রেডিটের প্রস্তাব অনুযায়ী, কমার্সব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ইউনিক্রেডিটের ০.৪৮৫টি নতুন শেয়ার দেওয়ার কথা, যা হিসাব করলে কমার্সব্যাংকের প্রতি শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৩৭.৩৩ ইউরো। শেয়ারের এই ওঠানামার কারণে ইউনিক্রেডিটের প্রস্তাবটি বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশ অনাকর্ষণীয় হয়ে পড়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
স্টুডেন্ট ভিসা, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা: স্টুডেন্ট ভিসা, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে জার্মানি। তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ডিগ্রির কারণে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো শিক্ষার্থী সেখানে পড়তে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকেও এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।   ভিসাবিষয়ক তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘জার্মানি ভিসা’-এর তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়া বাধ্যতামূলক।   জানা গেছে, জার্মানির স্টুডেন্ট ভিসা মূলত দীর্ঘমেয়াদি ন্যাশনাল ‘ডি’ ক্যাটাগরির ভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার দেশটিতে প্রবেশ করতে পারেন এবং সাধারণত এটি দুই বছরের জন্য বৈধ থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে এ ভিসার আবেদন ফি নির্ধারিত হয়েছে ৭৫ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭০০ টাকার মতো।   স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমেই জার্মানির স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হয়। পাশাপাশি সেখানে অবস্থানকালে নিজের খরচ বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ব্লকড অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ১১ হাজার ৯০৪ ইউরো জমা থাকার প্রমাণ দিতে হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৭ লাখ টাকার বেশি। তবে বৈধ স্কলারশিপ থাকলে তা-ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।   এ ছাড়া ভর্তিকৃত কোর্সের ধরন অনুযায়ী জার্মান বা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার সনদ জমা দিতে হতে পারে।   তবে সব দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ভিসা বাধ্যতামূলক নয়। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরাইল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা জার্মানিতে প্রবেশের আগে স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন। তারা সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় বিদেশি নিবন্ধন দপ্তরে আবাসিক অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন।   অন্যদিকে, ভিসামুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা যদি ৯০ দিনের বেশি মেয়াদের কোনো কোর্সে ভর্তি হন, তাহলে তাদেরও আবাসিক অনুমোদন নিতে হয়। তবে স্বল্পমেয়াদি কোর্স বা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে শেনজেন ভিসা প্রযোজ্য হতে পারে।   পড়াশোনার ধরন অনুযায়ী জার্মানিতে বিভিন্ন ধরনের স্টাডি ভিসা রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণকালীন একাডেমিক অধ্যয়ন, জার্মান ভাষা কোর্স, স্টুডিয়েনকলেগ, প্রস্তুতিমূলক কোর্স এবং বাধ্যতামূলক প্রাক-ইন্টার্নশিপের জন্য পৃথক ভিসা দেওয়া হয়।   আবেদন প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের জার্মান দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করা যায়। অনেক দেশে অনলাইনে আবেদন করার সুবিধাও রয়েছে, বাংলাদেশ থেকেও এই সুবিধা ব্যবহার করা সম্ভব।   ভিসা আবেদনের সময় সাধারণত পূরণকৃত আবেদনপত্র, বৈধ পাসপোর্ট, সাম্প্রতিক ছবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির প্রমাণ, একাডেমিক সনদ ও নম্বরপত্র, ভাষাগত দক্ষতার সনদ, ভ্রমণবীমা, জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), মোটিভেশন লেটার এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ জমা দিতে হয়।   আর্থিক প্রমাণ হিসেবে স্কলারশিপের কাগজপত্র, জার্মানিতে বসবাসরত কোনো ব্যক্তির স্পনসরশিপ ঘোষণা, ব্লকড অ্যাকাউন্টের তথ্য বা অভিভাবকের আর্থিক বিবরণী গ্রহণযোগ্য হতে পারে।   শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তাই আবেদন করার আগে জার্মান দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয়ে উচ্ছ্বাসে জার্মান ফুটবলাররা
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ব্রাজিলের পর কুরাসাওকেও ‘সেভেন আপ’ খাওয়াল জার্মানি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অভিষেক হওয়া কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোল উৎসবে মেতেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইউরোপের পরাশক্তিরা। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে সপ্তম গোল করে জার্মানির বড় জয় নিশ্চিত করেন কাই হাভার্টজ। এর মাধ্যমে ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতিও ফিরিয়ে আনে জার্মানি।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। কুরাসাওয়ের জালে বল পাঠাতে তাদের সময় লাগে মাত্র ৬ মিনিট। জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।   তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষুদ্র জনসংখ্যার দেশ হিসেবে অভিষেক হওয়া কুরাসাও দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে। ২১তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে লিভানো কোমেনেনসিয়ার বাঁ পায়ের শট জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ঠেকাতে ব্যর্থ হন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোল পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসে কুরাসাও।   গোল করার পর রেসলার জন সিনার বিখ্যাত উদ্‌যাপনও করেন কোমেনেনসিয়া। গ্যালারিতে উপস্থিত কুরাসাও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার দেশের জন্য এটি ছিল ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত।   তবে সমতা বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি জার্মানি। ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে কর্নার থেকে সহজ হেডে গোল করেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। এতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জার্মানরা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় জার্মানি। কুরাসাওয়ের বক্সে ফাউলের শিকার হন ফেলিক্স এনমেচা। স্পটকিক থেকে গোল করেন কাই হাভার্টজ। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মানি।   দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান আরও বাড়ান জামাল মুসিয়ালা। ইয়োশুয়া কিমিখের পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।   এরপর গোলের ধারা অব্যাহত রাখে জার্মানি। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে পঞ্চম গোল করেন লেফটব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন। ৭৮তম মিনিটে ষষ্ঠ গোলটি করেন ডেনিজ উনদাভ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জার্মানির প্রথম ছয়টি গোলই আসে ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোল করেন কাই হাভার্টজ। তার গোলেই ৭-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় জার্মানির।   ম্যাচটি আরেকটি বিশেষ কারণে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক প্রধান কোচ কুরাসাওয়ের ডিক অ্যাডভোকাট, যার বয়স ৭৮ বছর। অন্যদিকে জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের বয়স ৩৮ বছর। দুই কোচের বয়সের পার্থক্য ৪০ বছর, যা ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রধান কোচের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধান।   ম্যাচের আগে ডিক অ্যাডভোকাট বলেছিলেন, তার দল জার্মানিকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে। তিনি বলেন, “কোচেরা সব সময়ই প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলার পরিকল্পনা করেন। এই ম্যাচে জার্মানি যে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে, তা বলাই বাহুল্য। তারা বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার। তবে ফুটবলে মাঝেমধ্যেই ছোট দলগুলো বড় দলকে হারিয়ে দেয়। জার্মানির পাশে আমরা খুবই ছোট একটি দল, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তাদের জন্য আমরা কঠিন প্রতিপক্ষ হওয়ার চেষ্টা করব।”   বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া কুরাসাওয়ের খেলোয়াড়দের চোখে-মুখে জাতীয় সংগীতের সময় আবেগ স্পষ্ট ছিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে তাদের অভিষেক ইতোমধ্যে স্মরণীয় হয়ে আছে।   অন্যদিকে জার্মানি এই বড় জয়ের মাধ্যমে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ৭-১ জয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে এবার কুরাসাওকেও সাত গোলের স্বাদ দিল ইউরোপের এই ফুটবল পরাশক্তি।

Unknown জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানির দামে স্বস্তি দিতে দুই মাস কর কমাবে জার্মানি

যুদ্ধের প্রভাবে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দামের চাপ কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানোর ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত আগামী দুই মাসের জন্য কার্যকর থাকবে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ের জন্য প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট (প্রায় ০.২০ ডলার) কর কমানো হবে।   সিডিইউ দল ও জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জার্মান চ্যান্সেলর। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা যে চাপের মুখে পড়েছেন, তা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে। এর প্রভাব ইউরোপের দেশগুলোতেও পড়েছে, যার ফলে সরকারগুলোকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
জার্মানিতে ইস্টারের শান্তি মিছিলে হাজারো মানুষের জনস্রোত

ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র জার্মানিতে ঐতিহ্যের 'ইস্টার পিস মার্চ' বা ইস্টার শান্তি মিছিলে নেমেছে মানুষের ঢল। শনিবার দেশটির অন্তত ৭০টি শহরে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং জার্মানির ক্রমবর্ধমান সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।  বার্লিন, মিউনিখ থেকে শুরু করে স্টুটগার্ট—সবখানেই প্রতিধ্বনিত হয়েছে শান্তির বার্তা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের মিছিলে সবচেয়ে বড় চমক ছিল তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সামরিক প্রভাব বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজপথে সরব ছিল তারা। অনেক জায়গায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি জানায়। শান্তি মিছিল নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান গোলা বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, গত ৪০ বছরের ইস্টার মিছিলের ইতিহাসে বিশ্বজুড়ে এমন সংঘাতময় পরিস্থিতি তিনি আর কখনো দেখেননি। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র স্টুটগার্টেই তিন হাজার এবং বার্লিনে ১৬০০-এর বেশি মানুষ সরাসরি এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। সামরিক খাতে বাজেট না বাড়িয়ে শিক্ষা ও জনকল্যাণে ব্যয় করার দাবিই ছিল এবারের মিছিলের মূল সুর।

Unknown এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডিপুল। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে রাশিয়ার সহায়তা—জার্মানির অভিযোগ

ইরানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে রাশিয়া সহায়তা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডিপুল। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনে চলমান রুশ হামলা থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরাতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে ব্যবহার করতে চাইছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।   ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভাডিপুল এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান এবং বলেন, জার্মানির অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।   ভাডিপুলের ভাষ্য অনুযায়ী, পুতিন আশা করছেন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড থেকে বিশ্বের নজর সরিয়ে দেবে। তবে এই কৌশল সফল হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জোর দেন।   তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। রাশিয়া সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তথ্য দিয়ে ইরানকে সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হরমুজ প্রণালিতে জার্মানি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী বলেও জানান ভাডিপুল।

Unknown মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন — ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা জার্মান প্রেসিডেন্টের

জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক স্টেইনমায়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং সামরিক অভিযানকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।   মঙ্গলবার জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বক্তৃতায় স্টেইনমায়ার বলেন, এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে এবং এটি একটি গুরুতর রাজনৈতিক ভুল। খবরটি প্রকাশ করেছে মিডিল ইস্ট মনিটর, যেখানে বলা হয়েছে জার্মান প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন যে কূটনৈতিক পথ খোলা থাকলেও যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।   স্টেইনমায়ার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে যায়, তখন থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। তার মতে, সেই চুক্তি কার্যকর থাকলে বর্তমান সংঘাত এড়ানো সম্ভব ছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জিনহুয়া নিউজ এজেন্সি যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইউরোপীয় দেশগুলো শুরু থেকেই যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে ছিল।   জার্মান প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করলে বিশ্বব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং এতে ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কেও চাপ তৈরি হতে পারে। একই ধরনের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে দ্য গার্ডিয়ান, যেখানে বলা হয়েছে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ পশ্চিমা জোটের মধ্যেও মতভেদ বাড়াচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েন, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।

Unknown মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০