ইরানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে রাশিয়া সহায়তা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডিপুল। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনে চলমান রুশ হামলা থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরাতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে ব্যবহার করতে চাইছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভাডিপুল এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান এবং বলেন, জার্মানির অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভাডিপুলের ভাষ্য অনুযায়ী, পুতিন আশা করছেন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড থেকে বিশ্বের নজর সরিয়ে দেবে। তবে এই কৌশল সফল হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জোর দেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। রাশিয়া সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তথ্য দিয়ে ইরানকে সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হরমুজ প্রণালিতে জার্মানি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী বলেও জানান ভাডিপুল।
জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক স্টেইনমায়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং সামরিক অভিযানকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। মঙ্গলবার জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বক্তৃতায় স্টেইনমায়ার বলেন, এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে এবং এটি একটি গুরুতর রাজনৈতিক ভুল। খবরটি প্রকাশ করেছে মিডিল ইস্ট মনিটর, যেখানে বলা হয়েছে জার্মান প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন যে কূটনৈতিক পথ খোলা থাকলেও যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। স্টেইনমায়ার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে যায়, তখন থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। তার মতে, সেই চুক্তি কার্যকর থাকলে বর্তমান সংঘাত এড়ানো সম্ভব ছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জিনহুয়া নিউজ এজেন্সি যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইউরোপীয় দেশগুলো শুরু থেকেই যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে ছিল। জার্মান প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করলে বিশ্বব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং এতে ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কেও চাপ তৈরি হতে পারে। একই ধরনের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে দ্য গার্ডিয়ান, যেখানে বলা হয়েছে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ পশ্চিমা জোটের মধ্যেও মতভেদ বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েন, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে জার্মানির অবস্থান স্পষ্ট করলেন চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ। বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি জানান, যতক্ষণ না এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত বা 'অস্ত্রের গর্জন' থামছে, ততক্ষণ জার্মানি সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপে জড়াবে না। চ্যান্সেলর মের্জ সাংবাদিকদের বলেন, "শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই কেবল আমরা আমাদের ভূমিকা পালন করতে পারি। যুদ্ধ চলাকালীন জার্মানি কোনো পদক্ষেপ নেবে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে জার্মানি যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা অবশ্যই ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই করা হবে। সমুদ্রপথ উন্মুক্ত রাখা এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জার্মানির সক্ষমতা রয়েছে স্বীকার করেও মের্জ জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট বা আইনগত বৈধতা ছাড়া জার্মানি সেখানে কোনো সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার পর জার্মানির পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা এলো। ট্রাম্পের দাবি ছিল, যেহেতু মিত্র দেশগুলো এই পথ দিয়ে তেল আমদানি করে, তাই এর নিরাপত্তার দায়িত্বও তাদের নিতে হবে। তবে চ্যান্সেলর মের্জের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, চাপের মুখে নয় বরং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি এবং শান্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জার্মানি তার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
ইরান ইস্যুতে এবার সরাসরি ওয়াশিংটনের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেয়ার্জ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে মার্কিন-ইসরায়েলি যে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে, তা নিয়ে জার্মানির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। চ্যান্সেলর মেয়ার্জ আজ বুন্দেসট্যাগে (জার্মান পার্লামেন্ট) দেওয়া এক ভাষণে স্পষ্ট করে বলেন, এই অভিযানের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট বা দূরদর্শী কৌশল জার্মানির নজরে পড়েনি। মেয়ার্জ জানান, এই অভিযানের আগে ওয়াশিংটন বার্লিনের সাথে কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন মনে করেনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমেরিকা যদি আগে আমাদের সাথে পরামর্শ করত, তবে আমরা অবশ্যই এই ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দিতাম।" চ্যান্সেলর আরও যোগ করেন, এই সামরিক অভিযান সফল করার মতো কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা এখনও বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় ন্যাটোর সহযোগিতা চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হরমুজ প্রণালীতে জার্মান যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন মেয়ার্জ। ইরান ইস্যুতে প্রথমে কিছুটা নীরব থাকলেও বর্তমানে নিজ অবস্থানে অনড় ও কঠোর মনোভাব পোষণ করছেন এই জার্মান নেতা। বিশেষ করে যখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই মূহুর্তে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার আগে যদি জার্মানিকে পরামর্শের জন্য বলা হতো, তবে দেশটি এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দিত। তিনি বার্লিনে নিন্ম সংসদ বুন্ডেস্টাগে বলেন, এই অভিযান সম্পর্কে এখনও “অনেক প্রশ্ন” রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আজও কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই যে এই অভিযান কীভাবে সফল হবে।” মের্জ অভিযোগ করেন, “ওয়াশিংটন আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি এবং ইউরোপীয় সহায়তাকে প্রয়োজন মনে করেনি।” চ্যান্সেলর আরও বলেন, “মহোদয়গণ, যদি আমাদের পরামর্শ নেওয়া হতো, আমরা এই পদক্ষেপ নেওয়ার বিরুদ্ধে পরামর্শ দিতাম।” তিনি এই মন্তব্য করেছেন এমন সময়ে, যখন মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে চলমান আলোচনার সময় ঘটে। মের্জ স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি জার্মান যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তাবে সম্মতি দেবেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশগুলোকে এই প্রণালী রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে ইরানের হামলার কারণে বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটে যোগ দিচ্ছে না জার্মানি ও পোল্যান্ড। ইরান ইস্যুতে সৃষ্ট উত্তেজনার মাঝে পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধে তার দেশ কোনো ধরনের সেনা মোতায়েন করবে না। সরকারি এক বৈঠকের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে টাস্ক জানান, ইরান সীমান্তে কোনো অভিযানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা পোল্যান্ডের নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পোল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা সন্দেহের অবকাশ নেই। পোল্যান্ড বর্তমানে ইউক্রেন সীমান্তের যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকেই বেশি মনোযোগী। টাস্ক উল্লেখ করেন, পোল্যান্ডের স্থল, বিমান ও নৌবাহিনী বর্তমানে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে। তাই দূরবর্তী কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওয়ারশ। অন্যদিকে, জার্মান চ্যান্সেলরও একই সুরে কথা বলেছেন। তার মতে, চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই। বরং আলোচনার মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে সামরিকভাবে অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। রাজধানী বার্লিন-এ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জার্মানির সংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী এই যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মতো কোনো অনুমোদন জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটো—কোনো পক্ষ থেকেই পাওয়া যায়নি। শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, এই সংঘাত ন্যাটোর আওতার বিষয় নয়। মের্ৎস আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর আগে জার্মানির সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শও করেনি। পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কখনোই কোনো যৌথ সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে জার্মানি কীভাবে সামরিকভাবে এতে জড়িত হতে পারে—সে প্রশ্নই ওঠে না।” বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এই অবস্থান ইউরোপের বড় শক্তিগুলোর মধ্যে যুদ্ধ ইস্যুতে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ জার্মানি। একই সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালি সামরিক শক্তি দিয়ে খোলা রাখার কোনো উদ্যোগেও অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে দেশটি। সোমবার জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ইরানকে ঘিরে চলমান এই সংঘাতের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে জার্মানি যুদ্ধ বা সামরিক উপায়ে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার প্রচেষ্টায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খোলা রাখতে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। এ ক্ষেত্রে সামরিক জোট ন্যাটোর ভূমিকা থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে জার্মানির পাশাপাশি গ্রিসও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে। দেশটির সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কোনো সামরিক তৎপরতায় অংশ নেবে না গ্রিস। উল্লেখ্য, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করলে সেগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। সূত্র: আল–জাজিরা।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই বড় ধরণের দ্বিমত পোষণ করল ইউরোপের অন্যতম শক্তিধর দেশ জার্মানি। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি কোনো সম্ভাব্য যুদ্ধে জার্মানি অংশ নেবে না বলে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির ভাইস চ্যান্সেলর লার্স ক্লিঙবেইল। জার্মান সংবাদমাধ্যম আরএনডি (RND)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লিঙবেইল এই যুদ্ধের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এই যুদ্ধের বৈধতা নিয়ে তার মনে গভীর সংশয় রয়েছে। ক্লিঙবেইল বলেন, "আমি খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। আমরা এই যুদ্ধে কোনোভাবেই অংশগ্রহণ করব না।" বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তির দাপট নয়, বরং নিয়মনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তার মতে, বিশ্ব আজ এমন এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে যেখানে নিয়মনীতি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করতে চাই না যেখানে কেবল শক্তিশালীর আইনই শেষ কথা হবে।" তবে ভাইস চ্যান্সেলরের এই অবস্থান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সাম্প্রতিক বক্তব্যের ঠিক উল্টো। চ্যান্সেলর মার্জ এর আগে জানিয়েছিলেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে জার্মানি একাত্ম। শীর্ষ নেতৃত্বের এই প্রকাশ্য মতভেদ এখন জার্মানির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চলমান সংঘাতের মধ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোতে ইরানের হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে জার্মানি অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। জার্মানির রাজনৈতিক ও সামরিক সূত্রগুলো সোমবার (২ মার্চ) ইসরাইলি সেনাবাহিনীর রেডিওকে এ তথ্য জানিয়েছেন, যা বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত হয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই চলছে। এতে বিমান হামলায় অংশগ্রহণ এবং সামরিক ও আকাশপথে সহায়তা দেওয়ার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে রোববার ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলার নিন্দা জানায়। তারা সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের ও মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় ইরানের বিরুদ্ধে “প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা” নিতে তারা প্রস্তুত। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরানে ৫৫০ জন নিহত হন। জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করেছে।
বিশ্ব অর্থনীতির দুই পরাশক্তি জার্মানি ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক টানাপোড়েন নিরসন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে দুই দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে চীন পৌঁছেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেইজিং পৌঁছানোর পর তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চ্যান্সেলর মার্জকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে চীন ও জার্মানির উচিত একে অপরের ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে কাজ করা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের কঠোর শুল্ক নীতির প্রতি ইঙ্গিত করে শি বলেন, বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্য রক্ষায় দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি। চীন ইউরোপের স্বনির্ভরতাকে সমর্থন করে এবং আশা করে যে ইউরোপও চীনের সাথে সমান তালে কাজ করবে। বাণিজ্যিক আলোচনার পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে এই সফরে। বৈঠকে চ্যান্সেলর মার্জ ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চীনের প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “মস্কো বেইজিংয়ের সিগন্যালকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়। আমরা চাই চীন এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখুক।” জবাবে প্রেসিডেন্ট শি জানান, চীন আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষপাতি। এছাড়া তাইওয়ান ইস্যুতে মার্জ স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো ধরণের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে। সফরের শুরুতেই জার্মানির জন্য বড় ধরণের বাণিজ্যিক সুসংবাদ মিলেছে। আলোচনার পর মার্জ ঘোষণা করেন যে, ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'এয়ারবাস' থেকে ১২০টি বিমান কেনার বিষয়ে বেইজিং সম্মতি দিয়েছে। এই চুক্তিকে তিনি তার সফরের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন। সফরে মার্জের সাথে রয়েছেন বিএমডব্লিউ (BMW) এবং ভক্সওয়াগেনের (Volkswagen) মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। চীনের প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের সাথে বৈঠকে মার্জ জার্মানির উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। গত বছর চীনের সাথে জার্মানির বাণিজ্য ঘাটতি ছিল প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরো। মার্জ বলেন, “এই ভারসাম্যহীন বাণিজ্য সুস্থ অর্থনীতির লক্ষণ নয়।” তিনি চীনা কোম্পানিগুলোকে জার্মানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বাজারের অসম প্রতিযোগিতা দূর করার অনুরোধ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণার ফলে বিশ্বজুড়ে যে বাণিজ্যিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা থেকে নিজেদের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতেই ইউরোপীয় নেতারা এখন বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন। মার্জের এই সফরকে সেই প্রচেষ্টারই একটি অংশ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আগামীকাল সফরের দ্বিতীয় দিনে চ্যান্সেলর মার্জ চীনে কর্মরত বিভিন্ন জার্মান প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন এবং দুই দেশের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে তিনদিনের সফরে গেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস। বৃহস্পতিবার তিনি সৌদি আরবে গিয়ে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে জ্বালানি সরবরাহ, প্রতিরক্ষা বাণিজ্য এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যাবেন জার্মান চ্যান্সেলর। জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে শুরু করেছেন চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি হওয়ার পরেই কূটনৈতিক মৈত্রীর দিকে এগিয়েছে জার্মানি। আলোচনায় রয়েছে ভারত, চীন ও উপসাগরীয় দেশগুলি। ভারতে বছরের শুরুতে সফর করেছেন ম্যার্ৎস। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তার যাওয়ার কথা রয়েছে চীনে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রুশ গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমালেও জার্মানি এখন যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। সেই নির্ভরতা কমাতেই সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অংশীদারিত্ব চায় বার্লিন। জ্বালানির পাশাপাশি অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও এই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সফরে জার্মান বাণিজ্য প্রতিনিধিরাও রয়েছেন, যারা জ্বালানি, পরিকাঠামো ও সবুজ হাইড্রোজেন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে নতুন কৌশলগত অংশীদার খোঁজার অংশ হিসেবেই উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে ঝুঁকছে জার্মানি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।