ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে এক বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে বিসিসিআই-এর কাছে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয় গণমাধ্যম ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর ক্রিকেট নিয়ে আরও বাস্তবমুখী অবস্থানে ফিরতে চাইছে বিসিবি। বিসিসিআই-এর কাছে পাঠানো চিঠিতে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে: ১. স্থগিত সিরিজ ফেরানোর প্রস্তাব: গত সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল (৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি), যা বিসিসিআই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়। বিসিবি এখন সেই সিরিজটি দ্রুত আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২. ভবিষ্যৎ সফর নিয়ে আলোচনা: আগামী বছর ভারতের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর নিয়ে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসতে চায় বিসিবি। ৩. এশিয়া কাপের নিরাপত্তা: আগামী বছর এশিয়া কাপের আয়োজক বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন বিসিবির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিসিবি বন্ধুত্বের হাত বাড়ালেও বিসিসিআই এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ভারতীয় বোর্ড জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা ভেন্যু চূড়ান্ত করার বিষয়টি পুরোপুরি তাদের সরকারের সবুজ সংকেতের ওপর নির্ভর করছে। সরকারের ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত বিসিসিআই কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না। উল্লেখ্য, আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানের চুক্তি বাতিল এবং নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। যার ফলে হাইব্রিড মডেলের দাবি পূরণ না হওয়ায় বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এদিকে মাঠের ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করছে টাইগাররা। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সাদা বলের সিরিজের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৭ তারিখ প্রথম ওয়ানডের মাধ্যমে কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে অংশগ্রহণকারী দল ও আয়োজন ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা নিয়ে মুখ খুলেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) চেয়ারম্যান Jay Shah। তিনি বলেছেন, কোনো একক দল নয়—সব দলের সমন্বয়েই আইসিসি গঠিত, তাই কোনো দলই আইসিসির চেয়ে বড় নয়। শনিবার মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত India Business Leader Awards 2026 অনুষ্ঠানে ক্রিকেটে বিশেষ অবদানের জন্য ‘আউটস্ট্যান্ডিং কন্ট্রিবিউশন টু স্পোর্টস’ সম্মাননা পান জয় শাহ। সেখানেই তিনি বিশ্বকাপ আয়োজনের সময়কার চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের বিষয় তুলে ধরেন। এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে দল পাঠাতে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ সরকার এবং ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে Bangladesh Cricket Board (বিসিবি)। তবে আইসিসি সে প্রস্তাব গ্রহণ না করে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে। এ ঘটনায় ‘বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে’ উল্লেখ করে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান সরকার। পরে লাহোরে Pakistan Cricket Board (পিসিবি), বিসিবি ও আইসিসির বৈঠকের পর পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। এই অচলাবস্থার প্রসঙ্গ টেনে জয় শাহ বলেন, “টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনেকেই আলোচনা করছিলেন—কোন দল খেলবে, টুর্নামেন্ট কীভাবে আয়োজন করা হবে। তবে আইসিসি একটি সমন্বিত সংস্থা; কোনো একক দল সংস্থার চেয়ে বড় নয়।” তিনি আরও জানান, এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দর্শকসংখ্যা আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। একযোগে সর্বোচ্চ প্রায় ৭২ লাখ মানুষ ম্যাচ উপভোগ করেছেন। অনুষ্ঠানে তিনি ভারতীয় দলকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, “শিখরে পৌঁছাতে বছরের পর বছর সময় লাগে, কিন্তু সেখান থেকে নিচে নামতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মাস। তাই কঠোর পরিশ্রম ধরে রাখতে হবে।”
টানা ২৫৩ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ভারতের টিম সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের ফাইনালে উঠে গেছে। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সেমিফাইনাল ম্যাচে ভারত টস হারিয়ে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করে। ইংল্যান্ডের শুরু ভালো ছিল না। মাত্র ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দল চাপে পড়ে। ৯৫ রানে চতুর্থ উইকেটও হারানো পরে জ্যাকব ব্যাথেল ব্যাটে চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত দলের জয় নিশ্চিত করতে পারেননি। ব্যাথেল ৪৫ বলে ১০৫ রানের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ইনিংসের শেষ ওভারে ব্যাথেলের রান আউটের পর ইংল্যান্ডের জয়লাভের আশা শেষ হয়ে যায়। ভারতের ব্যাটসম্যানরা রানের পাহাড় গড়ে ইংল্যান্ডের সামনে দারুণ চাপ তৈরি করে। সাঞ্জু স্যামসন ৪২ বলে ৮৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। শিবম দুবে ২৫ বলে ৪৩, ইশান কিশান ১৮ বলে ৩৯, তিলক ভার্মা ৭ বলে ২১ এবং হার্দিক পান্ডিয়া ১২ বলে ২৭ রানে অবদান রাখেন। ফাইনালে ভারত আগামী রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হবে।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে খেলোয়াড়দের জরিমানা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা দিতে হবে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রুপ পর্ব ও সুপার এইট মিলিয়ে মোট ছয়টি ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস জাতীয় ক্রিকেট দল ও নামিবিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল–কে হারালেও দলটি ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল–এর কাছে পরাজিত হয়। সুপার এইট পর্বে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল–এর বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার পর ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল–এর কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে পাকিস্তান। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দল–কে হারালেও সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবধান অর্জন করতে পারেনি দলটি। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের কাছে ৬১ রানে হারের পরই খেলোয়াড়দের জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। পিসিবি কর্মকর্তারা ক্রিকেটারদের জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেটাররা বর্তমানে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বেতন ও আইসিসি রাজস্ব ভাগ পান। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে কোনো খেলোয়াড় নেই। খেলোয়াড়দের ক্যাটাগরি অনুযায়ী মাসিক বেতন ও অতিরিক্ত আয় নির্ধারিত রয়েছে।
ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল-এর অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক-এর ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল-কে ২ উইকেটে পরাজিত করে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ব্যাটিং করেন ব্রুক। ইনিংসের ১৭তম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদি-এর বলে বোল্ড হওয়ার আগে তিনি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন। তার ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই ইংল্যান্ড জয়ের পথে এগিয়ে যায়। ব্রুক আউট হওয়ার পর ইংল্যান্ড দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায় এবং কিছু সময় ম্যাচে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে শেষ দিকে জয়ের জন্য মাত্র ৪ রান প্রয়োজন হলে জফরা আর্চার শেষ ওভারের প্রথম বলেই চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ইংল্যান্ডের ইনিংসে ব্রুকের ব্যাটিংই মূল পার্থক্য গড়ে দেয়। তার বাইরে মাত্র দুইজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান করতে সক্ষম হন। স্যাম কারেন ১৫ বলে ১৬ রান এবং উইল জ্যাকস ২৮ রান করেন। ১০৩ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ব্রুক ও জ্যাকসের ৩১ বলে ৫২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ইংল্যান্ডকে জয়ের ভিত তৈরি করে দেয়। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগা। পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখান সাহিবজাদা ফারহান। তিনি ৪৫ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৩ রান করেন। অধিনায়ক বাবর আজম করেন ২৫ রান, তবে তার ধীরগতির ব্যাটিং সমালোচনার মুখে পড়ে। নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তান ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ইংল্যান্ড ১৯.১ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৬ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন স্পিনার লিয়াম ডসন। তিনি ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান: ১৬৪/৯ (ফারহান ৬৩, বাবর আজম ২৫; ডসন ৩/২৪, আর্চার ২/৩২) ইংল্যান্ড: ১৬৬/৮ (ব্রুক ১০০, জ্যাকস ২৮; আফ্রিদি ৪/৩০, উসমান ২/৩১)। ফলাফল: ইংল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: হ্যারি ব্রুক এই জয়ের মাধ্যমে চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড।
সুপার এইট পর্বের প্রথম ম্যাচেই রেকর্ডগড়া ব্যাটিং প্রদর্শনী উপহার দিয়ে বড় জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শিমরন হেটমায়ার ও রোভম্যান পাওয়েলের তাণ্ডবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৪ রান তোলে দলটি—যা চলতি আসরে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। হেটমায়ার শুরুতেই জীবন পেয়ে তা পুরোপুরি কাজে লাগান। মাত্র ১৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করে তিনি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড ভাঙেন। তাঁর ৩৪ বলের ৮৫ রানের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৭টি ছক্কা। হেটমায়ারের সঙ্গে ৫২ বলে ১২২ রানের জুটি গড়েন পাওয়েল। ধীর সূচনা কাটিয়ে ২৯ বলে ফিফটি করেন পাওয়েল; শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ৫৯ রান করেন তিনি। শেষভাগে শেরফান রাদারফোর্ড (১৩ বলে ৩১), রোমারিও শেফার্ড (১০ বলে ২১) ও জেসন হোল্ডার (৪ বলে ১৩) দ্রুতগতির ইনিংসে স্কোর আরও বাড়ান। দলটির ইনিংসে মোট ১৯টি ছক্কা আসে। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে। পাওয়ারপ্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৭ রান তোলে তারা। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ২০ বলে ২৭ রান করেন। ব্র্যাড ইভান্সের ২১ বলে ৪৩ রানের ইনিংস কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিলেও তা যথেষ্ট হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৪৭ রানে অলআউট হয়ে ১০৭ রানের বড় ব্যবধানে হার মানে জিম্বাবুয়ে। এই জয়ের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-এর সুপার এইট পর্বে শক্ত বার্তা দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হেটমায়ারের ব্যাটিং ঝড় ও সামগ্রিক দলীয় পারফরম্যান্সে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শুরু থেকেই ছিল ক্যারিবীয়দের হাতে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দিনের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কা পাথুম নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি ও ব্যাটারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। অস্ট্রেলিয়া ১৮২ রানে ইনিংস শেষ করে। ব্যাটিংয়ে নেমে ট্রাভিস হেড ৫৬ রানে ও মিচেল মার্শ ৫৪ রানে দলের জন্য দৃঢ় প্রতিরক্ষা গড়ে তোলেন। তবে মিডল অর্ডার ভেঙে গেলে অস্ট্রেলিয়া চাপের মধ্যে পড়ে। শ্রীলঙ্কার বোলার দুশান হেমন্ত সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ওভারের পর কুশল পেরেরার উইকেট হারালেও ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস চাপে ফেলেননি। তারা ৯৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগোতে সাহায্য করেন। মেন্ডিস ৫১ রানে আউট হন। এরপর নিশাঙ্কার সঙ্গে পাভান রত্নায়েক ৭৯ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে জয় এনে দেন। পাথুম নিশাঙ্কা ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন, ইনিংসটি মাত্র ৫২ বলে ১০টি চার ও ৫টি ছয়ে সাজানো। অপরাজিত রত্নায়েক ১৫ বলে ২৮ রান যোগ করেন। এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, জিম্বাবুয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে, অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ড দুই পয়েন্ট নিয়ে তিন ও চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। ওমান এখনও কোনো পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আজ মাঠে গড়াচ্ছে। টস জিতে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন, এবং ভারত ব্যাট করতে নামছে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের মধ্যে হ্যান্ডশেক বিনিময় হয়নি। আগের ম্যাচগুলোর মতোই দুই অধিনায়ক সৌহার্দ্যবোধ দেখাননি। বাংলাদেশের মধ্যস্থতায় শুরুতে কিছু অনিশ্চয়তা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত আইসিসির উদ্যোগে ভারত ম্যাচ খেলার জন্য রাজি হয়। পাকিস্তান একাদশ: সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, শাহিন শাহ আফ্রিদি, উসমান তারিক, আবরার আহমেদ। ভারতীয় একাদশ: ইশান কিশান (উইকেটরক্ষক), অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মা, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), হার্দিক পান্ডিয়া, শিবাম দুবে, রিংকু সিং, অক্ষর প্যাটেল, কুলদিপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী, জসপ্রিত বুমরাহ। ম্যাচটি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সবসময় হাইভোল্টেজ পরিবেশ তৈরি হয়। মাঠে খেলা শুরু হওয়ায় সারা বিশ্ব থেকে দর্শক ও সমর্থকদের নজর এখন পুরো ক্রিকেটের দিকে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেনি বাংলাদেশ, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে কোনো শাস্তি বা আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে না। বরং বাংলাদেশকে ২০২৮–২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগও প্রদান করা হচ্ছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপে অন্যান্য দল মাঠে থাকলেও বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আফসোস সৃষ্টি করেছিল। লাহোরে আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর এ বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা আসে। বিশ্বকাপে না খেললেও বিসিবির প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হবে এবং টুর্নামেন্টের লাভের অংশও পাবে বাংলাদেশ। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বৈঠকের পর মন্তব্য করেন, বিসিবি যে ক্রিকেট ডিপ্লোমেসি দেখিয়েছে, তার জন্য আইসিসি কোনো শাস্তি দিচ্ছে না। বরং ভবিষ্যতে একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক করা হচ্ছে। এটা একটি দারুণ অর্জন। দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় নেওয়া এই সিদ্ধান্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে। সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে কলকাতা ও মুম্বাইয়ে চারটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিসিবি ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ করেছিল। আইসিসি ও বিসিবি নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অংশ নিতে পারেনি। আসিফ নজরুল আরও বলেন, “এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও বিসিবি নিয়েছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে যে ত্যাগ স্বীকার করা হয়েছে, তা যুগান্তকারী উদাহরণ। শুধু আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট নয়, দেশের ঐতিহ্যবাহী এবং মাঠপর্যায়ের খেলাগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বহুল আলোচিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটল অবশেষে। পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে, আগামী ১৫ তারিখ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান দল। লাহোরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আসে। বৈঠকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে পেশোয়ারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। নাকভি বলেন, আমরা আলোচনায় বাংলাদেশের বিষয় ছাড়া অন্য কোনো শর্ত রাখিনি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের জন্য সম্মান আদায় করা এবং তাদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিকার নিশ্চিত করা। এর আগে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ সরকার ভারত সফরে বিশ্বকাপ দল পাঠাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর সাম্প্রদায়িক উগ্রপন্থীদের হুমকির বিষয়টি সামনে আসে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা নাকচ করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়—যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। নাকভি আইসিসির সেই সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, আপনারা দেখেছেন, বাংলাদেশ যা চেয়েছিল তার সবই শেষ পর্যন্ত মেনে নেওয়া হয়েছে। আমাদের কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ছিল না। সরকারও সেই ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যখন তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলো এবং স্বীকার করা হলো যে তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, তখনই আমরা খেলতে সম্মত হয়েছি। এ সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নিজেদের দাবিতে অটল থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বরং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশকে আরও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সোমবার আইসিসির দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে অনুরোধ জানান। আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ উল্লেখ করে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ক্রিকেট ঐতিহ্য ও বৈশ্বিক ক্রিকেট বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিরাপত্তা সংকটের কারণে নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে আইসিসি তাতে সম্মত না হওয়ায় বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ দল। আইসিসি আরও জানায়, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব যেন না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি কাজ করবে। প্রায় ২০ কোটির বেশি সমর্থক নিয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রাণবন্ত ক্রিকেট বাজার হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নে আইসিসি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও উল্লেখ করা হয়। আইসিসি স্পষ্ট করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় বিসিবির ওপর কোনো আর্থিক, খেলাসংক্রান্ত বা প্রশাসনিক জরিমানা বা শাস্তি আরোপ করা হবে না। প্রয়োজনে বিসিবি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে যাওয়ার অধিকার রাখবে, যা আইসিসির বর্তমান বিধিমালার আওতায় অক্ষুণ্ন থাকবে। আইসিসি, বিসিবি ও পিসিবির সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশ একটি আইসিসি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে। তবে এটি আইসিসির প্রচলিত আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও পরিচালনাগত শর্তাবলির অধীন থাকবে। উল্লেখ্য, ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা রয়েছে বাংলাদেশের। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সনযোগ গুপ্তাকে উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক। তবে এটি বাংলাদেশকে একটি প্রধান ক্রিকেট জাতি হিসেবে আইসিসির দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারকে পরিবর্তন করবে না। বিসিবিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দেশটির ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়ন এবং খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য ভবিষ্যৎ সুযোগ আরও শক্তিশালী করার দিকে আমরা মনোযোগী।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ওসূচি মঙ্গলবার চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। ২০টি দলকে ভাগ করা হয়েছে চারটি গ্রুপে। 'সি' গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী দুই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজও ইংল্যান্ড।বাকি দুই দল হলো নেপালওনবাগত ইতালি। ভারত ওশ্রীলঙ্কায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের দশম আসর। উদ্বোধনী দিনেই বাংলাদেশ কলকাতায় মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। অনুমিতভাবে একই গ্রুপে পড়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান।এ' গ্রুপে তাদের সঙ্গে আছে যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়াও নেদারল্যান্ডস। উদ্বোধনী দিনে ভারত আর পাকিস্তানও খেলতে নামবে। কলম্বোতে (এসএসসি) নেদারল্যান্ডসকে মোকাবিলা করবে পাকিস্তান, মুম্বাইয়ে ভারতের প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র। প্রত্যেক গ্রুপ থেকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল পাবে সুপার এইটের টিকিট।সেখানে আট দলকে আবার দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। এই দুই গ্রুপের প্রতিটির সেরা দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে। এরপর হবে শিরোপা নির্ধারণী লড়াই। ৩০দিনব্যাপী বিশ্বকাপে ম্যাচ হবে মোট ৫৫টি। খেলা হবে মোট আটটি ভেন্যুতে। ভারতের পাঁচটি ভেন্যু হলো আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম, চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়াম, দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামও কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। শ্রীলঙ্কার তিনটি ভেন্যু হলো কলম্বোর আর প্রেমাদাস স্টেডিয়াম (আরপিসি), কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এসএসসি)ও ক্যান্ডির পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। গ্রুপ: গ্রুপ এ'-ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস গ্রুপ'বি'- অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড, ওমান গ্রুপ 'সি'— বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড,ওয়েস্ট ইন্ডিজ,ইতালি, নেপাল গ্রুপ 'ডি'-দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত। গ্রুপ পর্বের সূচি: তারিখ ম্যাচ সময় (বাংলাদেশ) ভেন্যু ৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান-নেদারল্যান্ডস সকাল ১১টা ৩০ মিনিট কলম্বো (এসএসসি) ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট কলকাতা ৭ফেব্রুয়ারি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট মুম্বাই ৮ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড-আফিগানিস্তান সকাল ১১টা ৩০ মিনিট চেন্নাই ৮ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড-নেপাল বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট মুম্বাই ৮ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কা-আয়ারল্যান্ড সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট কলম্বো (আরপিএস) ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-ইতালি সকাল ১১টা ৩০ মিনিট কলকাতা ৯ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ে-ওমান বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট কলম্বো (এসএসসি) ৯ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট আহমেদাবাদ ১০ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডস-নামিবিয়া সকাল ১১টা ৩০ মিনিট দিল্লি ১০ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড-সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট চেন্নাই ১০ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট কলম্বো (এসএসসি) ১১ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকা-আফগানিস্তান সকাল ১১টা ৩০ মিনিট আহমেদাবাদ ১১ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়া-আয়ারল্যান্ড বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট কলম্বো (আরপিএস) ১১ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট মুম্বাই ১২ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কা-ওমান সকাল ১১টা ৩০ মিনিট ক্যান্ডি ১২ ফেব্রুয়ারি নেপাল-ইতালি বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট মুম্বাই ১২ ফেব্রুয়ারি ভারত-নামিবিয়া সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট দিল্লি ১৩ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়া-জিম্বাবুয়ে সকাল ১১টা ৩০ মিনিট কলম্বো (আরপিএস) ১৩ ফেব্রুয়ারি কানাডা-সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট দিল্লি ১৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-নেদারল্যান্ডস সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট চেন্নাই ১৪ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ড-ওমান সকাল ১১টা ৩০ মিনিট কলম্বো (এসএসসি) ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট কলকাতা ১৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট আহমেদাবাদ ১৫ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ-নেপাল সকাল ১১টা ৩০ মিনিট মুম্বাই ১৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-নামিবিয়া বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট চেন্নাই ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট কলম্বো (আরপিএস) ১৬ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তান-সংযুক্ত আরব আমিরাত সকাল ১১টা ৩০ মিনিট দিল্লি ১৬ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড-ইতালি বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট কলকাতা ১৬ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট ক্যান্ডি ১৭ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড-কানাডা সকাল ১১টা ৩০ মিনিট চেন্নাই ১৭ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট ক্যান্ডি ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-নেপাল সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট মুম্বাই ১৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকা-সংযুক্ত
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পাঠানো না হলেও এবার ভারত সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশের শুটিং দল। দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের জন্য শুটিং দলকে অনুমতি দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যৌথভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা হয়নি বাংলাদেশের। তবে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে শুটিং দলের ভারত সফরে সবুজ সংকেত দিয়েছে সরকার। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় শুটিং দলের ভারত সফরের জন্য সরকারি আদেশ (জিও) জারি করে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আন্তর্জাতিক শুটিং প্রতিযোগিতাটি ইনডোর এবং সংরক্ষিত এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। সে কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে মনে করছে সরকার। এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়াসচিব মো. মাহবুব-উল-আলম দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ দল খুবই ছোট—একজন খেলোয়াড় ও একজন কোচ। স্থানীয় আয়োজকেরা আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে। প্রতিযোগিতা ইনডোর এবং সংরক্ষিত এলাকায় হওয়ায় নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা কম। সব দিক বিবেচনা করেই শুটিং দলকে ভারতের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন দেশের অন্যতম সেরা শুটার রবিউল ইসলাম। তার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে ৫ ফেব্রুয়ারি। কোচ হিসেবে দলের সঙ্গে থাকবেন শারমিন আক্তার। নৌবাহিনীর অ্যাথলেট হওয়ায় বিশেষ পাসপোর্টের সুবিধায় রবিউল ইসলাম ভিসা ছাড়াই সাত দিন ভারতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে কোচ শারমিন আক্তারকে ভিসা নিতে হবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি তাঁদের দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর এটিই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।