ট্রাম্প প্রশাসন

অবৈধ অভিবাসন ও আবাসন বাজার নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন কমায় বাড়ির দাম কমতে শুরু করেছে, দাবি জেডি ভ্যান্সের

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, অবৈধ অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশটিতে বাড়ির দাম ও ভাড়া কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সীমান্ত নীতির ফলে তরুণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবাসন আরও সাশ্রয়ী করার পথে অগ্রগতি হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি শুরু থেকেই বলে আসছিলেন যে, অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ বন্ধ করা গেলে আবাসন বাজারের ওপর চাপ কমবে এবং বাড়ির দামও কমতে শুরু করবে। তার ভাষায়, "অবৈধ অভিবাসীদের ঢল থামাতে পারলে বাড়ির দাম কমবে এবং পরিবার গড়তে চাওয়া তরুণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবাসন আবারও সাশ্রয়ী হবে।"   ভ্যান্স আরও দাবি করেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর প্রভাব আবাসন বাজারেও দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডালাস ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের একটি গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহানগর এলাকায় বাড়ির দামের গড় বৃদ্ধির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং ভাড়া বৃদ্ধির প্রায় ২০ শতাংশের পেছনে অননুমোদিত অভিবাসীদের প্রবেশ ভূমিকা রেখেছে।   তবে ওই গবেষণায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আবাসনের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে অভিবাসন একমাত্র কারণ নয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, আবাসনের সীমিত সরবরাহ, স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণও বাড়ির দাম ও ভাড়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গবেষকরা আরও বলেন, অননুমোদিত অভিবাসীদের আগমনে শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বেড়েছে এবং সামগ্রিকভাবে মজুরির ওপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছেন, গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক খসড়া এবং এটি ফেডারেল রিজার্ভের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।   এদিকে গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে পাস হওয়া ২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট-এ স্বাক্ষরের নির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল করেন। দ্বিদলীয় সমর্থনে পাস হওয়া এই বিলের লক্ষ্য ছিল আবাসনের সরবরাহ বাড়ানো, বাড়ির মূল্য কমাতে সহায়তা করা এবং বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর একক পরিবারের জন্য নির্মিত বাড়ি ব্যাপকভাবে কেনার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা।   ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই বিলে স্বাক্ষর করবেন না। প্রস্তাবিত এই বিলে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার বিধান রয়েছে।   আবাসন ব্যয়, অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসন সংকটের পেছনে অভিবাসনের পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয়, সুদের হার, জমির স্বল্পতা এবং সরবরাহ সংকটের মতো একাধিক কারণও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
শিকাগোর ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় লিন্ডসেকে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি, যুক্তরাষ্ট্রে শতভাগ বৈধ গ্রিন কার্ডধারীদেরও আটক করছে ICE

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বৈধভাবে বসবাসের পরও ডেটন আন্দ্রে লিন্ডসে নামের এক গ্রিন কার্ডধারীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)। জ্যামাইকায় ছুটি কাটিয়ে শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রশাসন অভিবাসন আইন কঠোর করার পর থেকে লিন্ডসের মতো বহু বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদেরও এখন অভিবাসন দপ্তরের কড়াকড়ির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এবং আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেটন আন্দ্রে লিন্ডসে মূলত জ্যামাইকার নাগরিক হলেও গত প্রায় তিন দশক ধরে বৈধ পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি ইলিনয়ের জোলিয়েটে একটি ওয়ালমার্ট ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি রেস্তোরাঁয় শেফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ও তার স্ত্রী বেঞ্জি লিন্ডসে গত ছয় বছর ধরে বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন এবং তাদের যৌথ পরিবারে ৫ সন্তান ও ৭ নাতি-নাতনি রয়েছে।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ও’হেয়ার বিমানবন্দরে নামার পর অভিবাসন কর্মকর্তারা লিন্ডসেকে আটকে দেন। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি অত্যন্ত কঠোর করায় বিমানবন্দরে সাধারণ গ্রিন কার্ডধারীদের নথিপত্র এবং অতীত ইতিহাস পুনরায় নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০১৪ সালে লিন্ডসের বিরুদ্ধে একটি পারিবারিক সাধারণ সহিংসতার (মিসডিমিনর ডোমেস্টিক ব্যাটারি) অভিযোগ এবং প্রায় ১০ বছর আগে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর (ডিইউআই) একটি ট্রাফিক মামলা ছিল।   স্থানীয় গণমাধ্যম ডব্লিউজিএন ৯ (WGN 9) জানায়, লিন্ডসে এর আগেও বহুবার কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করেছেন। আদালতের রায়ে বিচারক উল্লেখ করেছেন যে, লিন্ডসের অতীত অপরাধগুলো এককভাবে বিবেচনা করলে তেমন গুরুতর নয়, তবে একসঙ্গে দেখলে তা আইনের প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞার ইঙ্গিত দেয়। লিন্ডসে জামিন পাওয়ার যোগ্য হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মুক্তি না দিয়ে কেন্টাকির হপকিন্স কাউন্টি জেলে বন্দি রাখা হয়েছে।   এই ঘটনার পর লিন্ডসের স্ত্রী বেঞ্জি লিন্ডসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই, কোনো গুরুতর অপরাধের রেকর্ডও নেই। সে শতভাগ বৈধ একজন মানুষ, তাও আইস তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছে।” দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কারণে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। লিন্ডসের আইনজীবীরা গত জুন মাসে কেন্টাকির ফেডারেল আদালতে একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ (অবৈধ আটকাদেশ চ্যালেঞ্জকারী রিট) পিটিশন দায়ের করেছেন।   প্রোপাবলিকার এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসের এই ধরপাকড় চ্যালেঞ্জ করে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, যা বিগত তিনটি প্রশাসনের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। কেন্টাকির যে কেন্টাকি ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে লিন্ডসের মামলাটি বিচারাধীন, সেখানে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি রিট আবেদন জমা পড়েছে।   ইউসি বার্কলের ‘ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে আইস গ্রেপ্তার করেছে। জুন মাসের শেষ দিকে মাত্র ৫ দিনে ১০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়। বর্তমানে আইসের ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে বন্দির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার।   অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, শুধু লিন্ডসে একাই নন, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির স্নাতক মাহমুদ খলিল এবং মিলওয়াকি ইসলামিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সালাহ সারসুরের মতো দীর্ঘদিনের গ্রিন কার্ডধারীদেরও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক মাস করে আটকে রাখা হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তারা মুক্তি পান। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের এক মুখপাত্র অবশ্য জানিয়েছেন, যারা অবৈধ বা নিয়মের বাইরে আছেন, তাদের নিজ খরচে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। লিন্ডসের পরিবার এখন আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে আছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (সংগৃহীত)
এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির বিরুদ্ধে বড় অভিযান, তদন্তে নেমেছে ট্রাম্প প্রশাসন: জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ওয়ার্ক ভিসা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কথিত জালিয়াতি ও অপব্যবহারের অভিযোগে বড় ধরনের ফেডারেল তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই একাধিক সাবপোনা (Subpoena) জারি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নথি ও তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   মার্কিন শ্রম বিভাগের অফিস অব ইনস্পেক্টর জেনারেলের (OIG) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই তদন্তে এইচ-১বি ভিসা এবং PERM লেবার সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য জালিয়াতি, শ্রমিক শোষণ, মজুরি-সংক্রান্ত অনিয়ম, ভুয়া নিয়োগ এবং মানবপাচার-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।   অনুষ্ঠানে জেডি ভ্যান্স বলেন, এইচ-১বি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের মেধাবী পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ দেওয়া। তবে তাঁর অভিযোগ, কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা ও মধ্যস্বত্বভোগী এই কর্মসূচির অপব্যবহার করে মার্কিন শ্রমবাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং যারা ভিসা ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানান, তদন্তে এমন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে যেখানে বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে মজুরির অংশ ফেরত নেওয়া, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দেখিয়ে ভিসা সংগ্রহ, শ্রমিকদের শোষণ এবং সংগঠিত অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে ফেডারেল পর্যায়ে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।   মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত কেবল প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য শিল্পেও এইচ-১বি ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।   এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী কর্মভিসা, যার মাধ্যমে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগ দিতে পারে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে PERM হলো কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হয় যে নির্দিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যায়নি।   তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   এই তদন্তের ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, বিদেশি কর্মী নিয়োগ এবং এইচ-১বি কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোধ এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন, সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন ভারতীয় এইচ-১বি ও স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন, সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন ভারতীয় এইচ-১বি ও স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক এবং বর্তমানে সেখানে কর্মরত পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। সদ্য পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের সম্ভাব্য নতুন অভিবাসন নীতির কারণে বহুল আলোচিত এইচ-১বি (H-1B) ভিসা প্রোগ্রাম, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা মেয়াদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।   একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি (OPT) প্রোগ্রামেও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপের প্রস্তুতি চলছে। খুব শিগগিরই প্রকাশ হতে যাওয়া এই চূড়ান্ত নীতিমালায় এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্টের (EAD) স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির দীর্ঘদিনের সুবিধাও বাতিল করা হবে।   নতুন এই নিয়মগুলো বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা। প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে বার্ষিক ৮৫ হাজার কোটার বাইরে যেসব বিশেষ ছাড় ছিল, সেগুলো সীমিত করা হতে পারে। পাশাপাশি থার্ড-পার্টি ক্লায়েন্টের কাছে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের আরও বেশি নথিপত্র দাখিলের শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে।   অন্যদিকে ইএডি (EAD) বা কাজের অনুমতির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর বাড়বে না। ফলে বর্তমান অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ইউএসসিআইএস (USCIS)-এর নতুন অনুমোদন না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না, যা অভিবাসীদের আর্থিক ও পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আসছে বড় ধরনের ধাক্কা। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা বা প্রোগ্রাম শেষ হওয়া পর্যন্ত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। কিন্তু নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত (সম্ভবত চার বছর) বেঁধে দেওয়া হতে পারে। এরপর সেখানে থাকতে চাইলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে।   এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বা স্টেম (STEM) শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা দুই বছরের ওপিটি (OPT) মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধাতেও কাঁটছাঁট করার কথা ভাবা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মেধাভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে দিতে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের মাঝে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতিতে প্রভাব পড়ছে মার্কিন নাগরিকের বিদেশি জীবনসঙ্গীদের ওপর। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই আর মিলছে না আগের সুবিধা, বদলে যাচ্ছে অভিবাসন নীতি

মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহিত বিদেশি নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়ে আসছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নেওয়া একাধিক কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে সেই সুবিধা এখন অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী, অধিকারকর্মী এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। তাদের দাবি, নতুন নীতির কারণে অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, আবেদন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠছে এবং বৈধ অভিবাসনের পথেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরের এক প্রতিবেদনে।   ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন আনে। এর মধ্যে রয়েছে ৭৫টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত রাখা, গ্রিন কার্ড সাক্ষাৎকারে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই, আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের আরও বিস্তৃত তদন্ত এবং যাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তাদের পরিধি বাড়ানো।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, আগে মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীকে সাধারণ অভিবাসীদের তুলনায় আইনি দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। তারা অভিবাসী কোটার আওতায় পড়তেন না এবং অনেক ক্ষেত্রেই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কিছু আইনি সুবিধা পেতেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন এই শ্রেণিকেও অন্যান্য অভিবাসীদের মতো একইভাবে বিবেচনা করছে।   আমেরিকান ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাশলি ডি'আজেভেদো বলেন, "যেসব মার্কিন নাগরিক বিদেশে জন্ম নেওয়া কাউকে বিয়ে করেছেন, তাদের জীবন এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে।" তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ এবং দেশের বাইরে আরও প্রায় ৩ লাখ মানুষ তাদের সহায়তা চাইছেন।   তিনি জানান, অনির্দিষ্ট সময় আটক থাকার আশঙ্কায় অনেক পরিবার স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে গেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি জীবনসঙ্গীকে আটকও করা হয়েছে, যা অতীতে খুব কমই দেখা যেত।   অন্যদিকে আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শারভারি দালাল-ধেইনি বলেন, মার্কিন সরকার সব সময়ই বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন যাচাই করত। তবে আগে এই আবেদনকারীরা সাধারণ অভিবাসন অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতেন না। কারণ আইনে তাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ছিল।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ভিন্ন। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এনপিআরকে বলেন, গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের পরিচয়, অতীত এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য কঠোরভাবে যাচাই করা আইনগত বাধ্যবাধকতা। তিনি বলেন, কেবল মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কেউ বহিষ্কার থেকে সুরক্ষা পান না।   তার ভাষায়, আই-১৩০ পারিবারিক আবেদন অনুমোদিত হলেও সেটি নিজে থেকে কোনো অভিবাসন মর্যাদা দেয় না। যারা বৈধ অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বা অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। এটি মোট গ্রিন কার্ড অনুমোদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। সন্তান ও বাবা-মায়ের মতো নিকট আত্মীয়দের যুক্ত করলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে যায়। অর্থাৎ পারিবারিক অভিবাসন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসনের অন্যতম প্রধান পথ।   তথ্য অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনের গড় নিষ্পত্তি সময় ছিল প্রায় ১৩ মাস এবং বাগদত্তা বা বাগদত্তার ভিসার ক্ষেত্রে প্রায় ৭ মাস। তবে আইনজীবীরা বলছেন, সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের পর অনেক আবেদনেই অতিরিক্ত বিলম্ব হচ্ছে।   নতুন নীতির প্রভাব পড়েছে সামরিক পরিবারের ওপরও। এনপিআরের প্রতিবেদনে এমন এক নারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি একজন মার্কিন সেনাসদস্যের স্ত্রী এবং নিজেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন। তিনি এমন একটি দেশের নাগরিক, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেও তার আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।   ওই নারীর স্বামীকে জার্মানিতে দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু তার নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় পুরো পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বাড়ির কী হবে, তারা একসঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন কি না এবং দুই মার্কিন নাগরিক সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মিলছে না।   অভিবাসন আইনজীবী এরিক ওয়েলশ বলেন, বর্তমানে আবেদনকারীদের শুধু বৈবাহিক সম্পর্কের সত্যতাই নয়, ব্যক্তিগত চরিত্র, অতীত জীবন এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত তথ্যও জমা দিতে হচ্ছে। আগে যেসব তথ্য সাধারণত বাধ্যতামূলক ছিল না, এখন সেগুলোও চাওয়া হচ্ছে।   তিনি বলেন, অনেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, বিদেশি কাউকে বিয়ে করলেই স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি কখনোই এমন ছিল না। তবে বর্তমান নীতির কারণে আবেদনকারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।   অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, নতুন নীতির ফলে অনেক পরিবার এখন অভিবাসন প্রক্রিয়ায় এগোতেই ভয় পাচ্ছে। কারণ আবেদন করলেই অতিরিক্ত তদন্ত, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা আটক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ফলে বৈধ উপায়ে অভিবাসনের সুযোগ থাকলেও অনেকেই সেই পথ অনুসরণ করতে দ্বিধায় পড়ছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
৯০ দিনের বেশি কোনো অভিবাসীকে শুনানি ছাড়া আটক রাখা যাবে না। ছবি: সংগৃহীত
৯০ দিনের বেশি অভিবাসী আটক রাখতে আদালতের অনুমতি লাগবে, রায়ে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিষয়ক কঠোর নীতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত রায় দিয়েছে, কোনো অভিবাসীকে ৯০ দিনের বেশি আটক রাখতে চাইলে সরকারকে অবশ্যই আদালতে তার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের পর কোনো ব্যক্তিকে অনির্দিষ্টকাল জামিনের সুযোগ ছাড়া আটকে রাখা যাবে না। এই রায়ে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিসহ পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালতের আওতাভুক্ত অঙ্গরাজ্যগুলোতে আটক থাকা হাজারো অভিবাসীর ওপর প্রভাব পড়তে পারে।   বৃহস্পতিবার নিউ অরলিন্সভিত্তিক পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালত ২-১ ভোটে এই সিদ্ধান্ত দেন। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লিখেছেন বিচারক লেসলি এইচ. সাউথউইক। তিনি বলেন, কাউকে আটক করার ৯০ দিনের মধ্যে অবশ্যই একটি জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হতে হবে। সেই শুনানিতে সরকারকে আদালতের সামনে পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আরও আটক রাখা প্রয়োজন। শুধু সাধারণ যুক্তি দেখিয়ে কাউকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটক রাখা যাবে না। রায়ে আদালত বলেন, সরকার যদি কাউকে জামিন ছাড়া আরও আটক রাখতে চায়, তাহলে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে অথবা আইনের দৃষ্টিতে তাকে আটক রাখার অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ আছে।   তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফেডারেল আইন অনুযায়ী বহিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসা এবং পরে গ্রেপ্তার হওয়া অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। আদালতের মতে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নিশ্চিত করা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। তাই তাদের কোনো শুনানির সুযোগ না দিয়ে দীর্ঘদিন আটক রাখা সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিচারক সাউথউইক ২০০১ সালের যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করে বলেন, সাংবিধানিক সুরক্ষা শুধু নাগরিকদের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সীমানার ভেতরে থাকা প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তিনি রায়ে লেখেন, সংবিধানের অন্যতম শক্তি হলো, এটি দেশের ভেতরে থাকা মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম করে না। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হলে সেই ব্যক্তির কথা শোনার অধিকারও সংবিধান নিশ্চিত করেছে।   একই মামলায় বিচারক জেমস ই. গ্রেভস জুনিয়র সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের সঙ্গে একমত হলেও মন্তব্য করেন, ৯০ দিন অপেক্ষাও অনেক দীর্ঘ সময়। তার ভাষায়, বর্তমানে আটক অভিবাসীদের অনেকেই এমন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্যদিকে ট্রাম্প মনোনীত বিচারক কোরি উইলসন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তার মতে, বর্তমান অভিবাসন আইন অনুযায়ী অনথিভুক্ত অভিবাসীদের আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিন ব্যক্তি, ইগনাসিও সোসনাভা রদ্রিগেজ, মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল গোমেজ আলভারাদো এবং আলেহান্দ্রো ভিয়েগাস অ্যাঞ্জেল। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে টেক্সাসে নিয়মিত ট্রাফিক তল্লাশির সময় অঙ্গরাজ্যের পুলিশ তাদের আটক করে। তিনজনই অন্তত ১৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। তাদের নিয়মিত চাকরি ছিল এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সন্তানদের লালন-পালন করছিলেন।   পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসের (ICE) কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংস্থাটি তাদের কোনো বিচারকের সামনে হাজির না করেই আটক রাখে। পরে ফেডারেল আদালতের বিচারকরা রায় দেন, জামিন শুনানির সুযোগ না দিয়ে তাদের আটক রাখা সংবিধানে নিশ্চিত করা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চালু করা তাদের নতুন নীতির আওতায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বহিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখার বিধান রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে জামিন শুনানির প্রয়োজন নেই। এই নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক আইনি লড়াই শুরু হয়। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৩ মাসে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে প্রায় ৪৭ হাজার হেবিয়াস করপাস আবেদন দায়ের করা হয়েছে। এই সংখ্যা আগের তিনটি প্রশাসনের মোট আবেদনের চেয়েও বেশি। এসব মামলার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগই টেক্সাসের ফেডারেল আদালতে দায়ের হয়েছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই ধরনের মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল আপিল আদালতে ভিন্ন ভিন্ন রায় হওয়ায় বিষয়টি এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ এই রায়ের আগে তিনটি আপিল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, দুটি আদালত প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়েছিল এবং আরেকটি আদালতে বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন আদালতের পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্তের কারণে শেষ পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টেই হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থার নতুন নিয়ম | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোনে বড় পরিবর্তন, যা জানা জরুরি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবস্থায় ১ জুলাই থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়মে ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি, নতুন ঋণ গ্রহণের সুযোগ এবং কিছু ঋণের সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে বর্তমানে যারা ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন ব্যবহার করছেন এবং ভবিষ্যতে যারা ঋণ নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের ওপর এ পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা অফিস এবং জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া SAVE (Saving on a Valuable Education) ঋণ পরিশোধ কর্মসূচিকে ঘিরে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, SAVE কর্মসূচি আর আগের মতো চালু থাকছে না। বর্তমানে এ কর্মসূচিতে নিবন্ধিত ঋণগ্রহীতাদের অন্য একটি অনুমোদিত পরিশোধ পরিকল্পনায় যেতে হবে। শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের এ বিষয়ে ধাপে ধাপে নোটিশ পাঠানো হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য একটি পরিশোধ ব্যবস্থায় স্থানান্তর করা হতে পারে, যেখানে মাসিক কিস্তির পরিমাণ আগের তুলনায় বেশি হতে পারে।   একই সঙ্গে ১ জুলাই থেকে নতুন ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন গ্রহণকারীদের জন্যও নতুন কাঠামো চালু হয়েছে। নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রধান দুটি পরিশোধ পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। এর একটি আয়ভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনা, যেখানে ঋণগ্রহীতার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসিক কিস্তি নির্ধারণ করা হবে। অন্যটি নির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনা, যেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।   নতুন নিয়মে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য Graduate PLUS Loan কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি Parent PLUS Loan-এর ক্ষেত্রেও ঋণের সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগের তুলনায় কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের জন্য ফেডারেল ঋণ গ্রহণের সুযোগ সীমিত হতে পারে।   অন্যদিকে, শিক্ষা বিভাগ সময়মতো ঋণ পরিশোধে উৎসাহ দিতে স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ (AutoPay) ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুদ ছাড়ের সুবিধাও ঘোষণা করেছে। এ সুবিধা গ্রহণ করলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় পেতে পারেন।   উচ্চশিক্ষা–সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়মের ফলে অনেক শিক্ষার্থীর মাসিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বর্তমানে যাদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন রয়েছে, তাদের নিজ নিজ লোন সার্ভিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন পরিশোধ পরিকল্পনা তাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হবে, তা দ্রুত যাচাই করা উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং যেসব পরিবার সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের ওপর নির্ভর করেন, তাদের জন্যও এ পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে ঋণের নতুন নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বা জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন নির্দেশনা ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানানো হবে। তাই যাদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন রয়েছে, তাদের শিক্ষা বিভাগের নোটিশ এবং নিজ নিজ লোন সার্ভিসারের বার্তাগুলো নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অ-নিবন্ধিত বিদেশিদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিবন্ধন নীতি জারি | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের নতুন নিয়ম, ৩০ দিনের বেশি থাকলে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

আমেরিকায় অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ওপর নজরদারি জোরদার করতে একটি নতুন নিয়মের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) গত ২৯ জুন এই সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ করে, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি অবস্থানকারী অ-নিবন্ধিত বিদেশি নাগরিকদের অবশ্যই আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে নিবন্ধন করতে হবে।   নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের বয়স ১৪ বছর বা তার বেশি এবং যারা মার্কিন ভিসার আবেদনের সময় আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেননি, তারা যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ দিন বা তার বেশি সময় অবস্থান করলে তাদের অবশ্যই নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটিকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে 'ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস' (ইউএসসিআইএস) একটি অনলাইন ব্যবস্থা এবং ‘জি-৩২৫আর’ নামের একটি বিশেষ ফর্ম চালু করেছে।   নিবন্ধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিবন্ধনের দায়িত্ব তাদের বাবা-মা বা আইনি অভিভাবককে পালন করতে হবে। কোনো শিশু আগে থেকে নিবন্ধিত থাকলেও তার বয়স ১৪ বছর পূর্ণ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে পুনরায় নতুন করে নিবন্ধন ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি একটি নিবন্ধনপত্র বা সার্টিফিকেট প্রদান করবে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বিদেশি নাগরিকদের জন্য এই প্রমাণপত্রটি সব সময় নিজেদের কাছে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে এই নিয়মটি কেবলই একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো বিদেশি নাগরিক কোনো ধরনের অভিবাসন মর্যাদা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পাবেন না। একই সাথে এটি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট হিসেবেও গণ্য হবে না। বিদেশি নাগরিকরা প্রতিবার যতদিনের জন্যই আমেরিকায় প্রবেশ করুন না কেন, তাদের অবস্থান ৩০ দিন বা তার বেশি হলেই প্রতিবার এই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।   কোনো বিদেশি নাগরিক যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এই নিয়ম অমান্য করেন বা নিবন্ধন করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে সেটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের জন্য সিভিল ও ক্রিমিনাল শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা, ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার নিয়ম চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের সুবিধার্থে একটি অনলাইন 'এআরআর ডিটারমিনেশন টুল' চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে যে কেউ যাচাই করতে পারবেন তার জন্য এই নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কি না।   সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে কংগ্রেসকে আইন প্রণয়নের আহ্বান ট্রাম্পের I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে কংগ্রেসকে আইন প্রণয়নের আহ্বান ট্রাম্পের

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের বিপক্ষে রায় দেওয়ার পর এবার বিষয়টি কংগ্রেসের মাধ্যমে আইনে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখলেও কংগ্রেস চাইলে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি কংগ্রেসকে অবিলম্বে এ বিষয়ে কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন উদ্যোগে তিনি “পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন” দেবেন।   বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমান জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “ব্যয়বহুল ও অন্যায্য”। তাঁর মতে, এ নীতিতে পরিবর্তন আনতে দীর্ঘ সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন নেই; কংগ্রেস আইন পাস করলেই তা সম্ভব।   এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ কার্যকর করার পথ বন্ধ করে দেয়। আদালত নিম্ন আদালতের সেই স্থগিতাদেশ বহাল রাখে, যার ফলে নির্বাহী আদেশটি আপাতত কার্যকর করা যাচ্ছে না।   ট্রাম্প প্রশাসনের ওই নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, কোনো শিশুর বাবা-মায়ের কেউই যদি মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিনকার্ডধারী) না হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সেই শিশুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।   এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একাধিক অঙ্গরাজ্য, নাগরিক অধিকার সংগঠন ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলাকারীদের দাবি ছিল, ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী (১৪তম সংশোধনী)-এর পরিপন্থী।   মার্কিন গৃহযুদ্ধের পর প্রণীত এই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির আইনগত এখতিয়ারের আওতাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী।   রায়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ১৮৯৮ সালের ঐতিহাসিক United States v. Wong Kim Ark মামলার নজির উল্লেখ করেন। ওই রায়ে আদালত বলেছিল, বিদেশি নাগরিকের সন্তান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে তিনি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকারী। প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই সাংবিধানিক ব্যাখ্যাই অনুসরণ করা হচ্ছে এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার মতো কোনো সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি।   তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও ট্রাম্প বিষয়টি থেকে সরে আসছেন না। বরং তিনি এখন কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইনসভা চাইলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান ব্যবস্থা পরিবর্তন করা সম্ভব।   বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী উদ্যোগ আপাতত স্থগিত থাকলেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে তা আগামী দিনের অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
একদিনে ট্রাম্পের দুই আইনি জয়, অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একই দিনে অভিবাসন-সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আদালতের এক রায়ে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্য রায়ে সীমান্তে আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদনকারীদের সংখ্যা সীমিত করার 'মিটারিং' নীতি পুনরায় চালুর আইনি পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এদিকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে বহুল আলোচিত মামলার রায় এখনও অপেক্ষমাণ রয়েছে।   ৬-৩ ভোটের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং প্রায় ৬ হাজার সিরীয় নাগরিকের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের অনুমতি দিয়েছে। টিপিএস এমন একটি কর্মসূচি, যার আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিজ দেশে ফিরতে না পারা বিদেশি নাগরিকরা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য "বিশাল জয়" বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে যে টিপিএস কখনোই স্থায়ী বসবাসের পথ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়।   অন্যদিকে, টিপিএস সুবিধাভোগীদের পক্ষে থাকা আইনজীবীরা রায়টিকে "দুঃখজনক দিন" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এতে হাজারো পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। একই দিনে মুলানি বনাম ওট্রো ল্যাবো মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের একটি আদেশ বাতিল করেছে, যা সীমান্তে দৈনিক অ্যাসাইলাম আবেদনকারীর সংখ্যা সীমিত করার 'মিটারিং' নীতি স্থগিত রেখেছিল।   বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন ভিন্নমত দিয়ে বলেন, এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে গ্রহণ করার প্রয়োজন ছিল না। কারণ সংশ্লিষ্ট নীতিটি ২০২১ সালেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল। যদিও বর্তমানে নীতিটি কার্যকর নেই, আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসন চাইলে ভবিষ্যতে এটি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে আইনি বাধার মুখে পড়বে না।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সবচেয়ে আলোচিত মামলা ট্রাম্প বনাম বারবারা এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটিতে প্রশ্ন উঠেছে, অবৈধভাবে অথবা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া হবে কি না।   এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত শুনানিতে কয়েকজন বিচারপতি ট্রাম্প প্রশাসনের উপস্থাপিত আইনি যুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেলকে বলেন, "এটা একই সংবিধান।"   এই মামলার রায় আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে গত ৫ জুন রোড আইল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালত ইউএসসিআইএসের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিতাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি নীতি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে। এতে হাজারো আবেদনকারী সাময়িক স্বস্তি পান।   বর্তমানে ইউএসসিআইএস ২০২২ সালের তুলনামূলক শিথিল 'পাবলিক চার্জ' নীতি অনুসরণ করছে। এই নীতিতে কেবল নগদ সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়।   তবে বিদেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটগুলোতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর নতুন নির্দেশনায় আবেদনকারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা ব্যয় বহনের সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিতের সিদ্ধান্তও এখনও কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ নীতি বাতিল করে আরও কঠোর নীতি কার্যকরের একটি প্রস্তাব বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। সেটি ২০২৬ সালের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   অভিবাসন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অনেক পরিবার এখনও ভুল ধারণার কারণে এসএনএপি বা ডব্লিউআইসির মতো বৈধ সরকারি সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকছেন। অথচ বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এসব সুবিধা 'পাবলিক চার্জ' নির্ধারণে গণনা করা হয় না।   অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মতে, একের পর এক আদালতের রায় এবং পরিবর্তিত নীতিমালার কারণে লাখো অভিবাসী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে।   এসিএলইউর আইনজীবী সেসিলিয়া ওয়াং বলেন, "আমরা যারা এই দেশে জন্মেছি, সবাই আমেরিকান। কোনো রাজনীতিবিদ ঠিক করতে পারেন না কে এই দেশে জন্ম নেওয়ার যোগ্য।" অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। আদালতের সামনে থাকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মামলার রায়ের দিকেও এখন নজর রয়েছে।

Unknown জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি সংগৃহীত
টিপিএসধারী অভিবাসীদের স্থায়ী মর্যাদা না পেলে দেশে ফিরতে হবে: ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) নিয়ে বসবাসরত অভিবাসীদের স্থায়ী বৈধ আবাসিক মর্যাদা অর্জন করতে হবে, অন্যথায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। রোববার (২৮ জুন) সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মার্কওয়েইন মুলিন।   সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে। এই মর্যাদার আওতায় এতদিন যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকটে থাকা দেশগুলো থেকে আসা নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ পেয়ে আসছিলেন।   মুলিন বলেন, ‘হয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে স্থায়ী বৈধ মর্যাদা অর্জনের চেষ্টা করুন, নয়তো আমরা আপনাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করব। আমরা বিমানের টিকিট দেব, পাশাপাশি নিজ দেশে পুনর্বাসনের জন্য দুই হাজার ১০০ ডলার সহায়তা দেওয়া হবে।’   মার্কিন আইনে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিজ দেশ ছেড়ে আসা বিদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) দেওয়া হয়। এ সুবিধার আওতায় তারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।   এতদিন টিপিএসের মেয়াদ নিয়মিত নবায়ন করা হলেও বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন ধাপে ধাপে এই সুরক্ষা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো হাইতি ও সিরিয়ায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি রেখেছে। তাদের মতে, দেশ দুটিতে সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ ও অপরাধের ঝুঁকি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।   ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর প্রথমবারের মতো হাইতির নাগরিকদের জন্য টিপিএস চালু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে ২০১২ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর দেশটির নাগরিকদেরও একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জন্মস্থান যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে ছোট ছোট অভিবাসী শিশুরা l ছবি: সংগৃহীত
বাবা-মায়ের নির্বাসনের জেরে নিজের জন্মস্থান যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে ছোট ছোট অভিবাসী শিশুরা

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক ধরপাকড় ও নির্বাসন অভিযানের কারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে ছোট ছোট শিশু। গত বুধবার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনটি পরিবারের আটজন শিশু গুয়াতেমালার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন শিশু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং তাদের বেশিরভাগেরই এটি জীবনের প্রথম বিমানযাত্রা। ফ্লোরিডাভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘দ্য গুয়াতেমালান-মায়া সেন্টার’ এই শিশুদের লাতিন আমেরিকায় তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে এবং ভ্রমণ নথিপত্র তৈরিতে সহায়তা করছে।   এই পরিস্থিতিকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন সংস্থাটির অন্যতম সংগঠক লিন্ডসে ম্যাকএলরয়। তিনি জানান, যে দেশকে এই শিশুরা নিজেদের বলে জেনেছে, ভালোবাসে এবং যেখানে তারা বেড়ে উঠেছে, সেখান থেকে তাদের একপ্রকার নির্বাসিত হতে হচ্ছে। পরিচিত বন্ধুবান্ধব, পরিবার এবং শিক্ষাজীবন পেছনে ফেলে সম্পূর্ণ অচেনা এক গন্তব্যে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছে এই শিশুরা।   কয়েক মাস আগে ৭ বছর বয়সী ক্রিস্টিনার বাবা এবং বড় ভাইকে আটক করে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। এবার ক্রিস্টিনাও তার মা মাগদালেনা, ভাই-বোন ও এক বছর বয়সী এক ভাগনের সঙ্গে গুয়াতেমালায় ফিরে যাচ্ছে। তবে ক্রিস্টিনার ১৯ বছর বয়সী বড় বোন, যে ওই এক বছর বয়সী শিশুটির মা, সে পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   জানা গেছে, প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় ক্রিস্টিনাদের পরিবার বিচ্ছিন্ন হলেও পরবর্তীতে ২০২২ সালে তারা আবার একত্র হয় এবং তিন বছরের জন্য কাজের অনুমতি পায়। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তাদের সেই অনুমতির মেয়াদ আর বাড়ায়নি। স্বামীর নির্বাসনের পর বাসা ভাড়া ও সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন মাগদালেনা। তাই বাধ্য হয়েই সন্তানদের নিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।   বিমানবন্দরে পরিবারগুলোর এই বিদায়বেলা ছিল অত্যন্ত বেদনদায়ক। তিন বছর বয়সী ইথান এবং ছয় বছর বয়সী আবেলকে বিদায় জানাতে এসেছিলেন তাদের বাবা। এই শিশুদের মা মাত্র দুই মাস আগে নির্বাসিত হয়েছেন। তবে তাদের বাবা পরিবারের জন্য অর্থ পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সন্তানদের বিদায় দেওয়ার সময় তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন। মিয়ামি বিমানবন্দরে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য এখন প্রতিনিয়তই দেখা যাচ্ছে। অভিবাসী অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, নতুন এই অভিবাসন নীতির কারণে অসংখ্য শিশুর শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে গিয়ে পড়ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
সান ফ্রান্সিসকোর একটি ভবনের সামনে ইউনাইটেড স্টেটস পোস্টাল সার্ভিসের একটি ডেলিভারি ভ্যান | ছবি: গেটি ইমেজেস
ট্রাম্পের প্রস্তাবে ভোটার তালিকা না দিলে ব্যালট পাঠাবে না মার্কিন ডাক বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ বা ইউএসপিএস ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী রাজ্যগুলোর অনুমোদিত ভোটার তালিকা না পেলে ডাকের মাধ্যমে পাঠানো নির্বাচনী ব্যালট সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানাবে। মার্কিন পোস্টমাস্টার জেনারেল ডেভিড স্টেইনার গত বুধবার সিনেটের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্টাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির সামনে হাজির হয়ে এই তথ্য সরাসরি নিশ্চিত করেছেন। এই নতুন নিয়মকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে।   কমিটির শুনানিতে ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতারা এই প্রস্তাবিত নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে এই নিয়মটি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং আসন্ন নির্বাচনে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব বিস্তারের একটি গোপন প্রচেষ্টা মাত্র। সিনেটর গ্যারি পিটার্স শুনানিতে সরাসরি প্রশ্ন করেন যে কোনো রাজ্য যদি কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের ভোটার তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ডাক বিভাগ ব্যালট পাঠাবে কি না। জবাবে স্টেইনার স্পষ্ট করে বলেন যে প্রস্তাবিত নিয়মের অধীনে তালিকা না দিলে ব্যালট পাঠানো হবে না।   এই প্রস্তাবিত নিয়মের কারণে মার্কিন ডাক বিভাগ এখন সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর লড়াইয়ের কেন্দ্রে চলে এসেছে। যদিও পোস্টমাস্টার জেনারেল ডেভিড স্টেইনার যুক্তি দিয়েছেন যে এই নীতিটি খুবই সাধারণ একটি প্রক্রিয়া। ব্যালটগুলো যাতে অত্যন্ত সুরক্ষিত, দক্ষ এবং নির্ভুলভাবে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী মেইল-ইন ব্যালট বা ডাকের মাধ্যমে ভোট পাওয়ার জন্য রাজ্যগুলোকে ভোটারদের নাম, ঠিকানা এবং ব্যালট বারকোড নম্বর ডাক বিভাগের কাছে জমা দিতে হবে। এই তালিকায় ভোটারদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য বা মূল ভোটার তালিকার চেয়ে কম তথ্য চাওয়া হলেও, এটি গত মার্চ মাসে ট্রাম্পের সই করা নির্বাহী আদেশের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। ইতিমধ্যে এই নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে অন্তত পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।   শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা যুক্তি দেখান যে এই নীতিটি আসলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি গোপন চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। সিনেটর গ্যারি পিটার্স বলেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটি করতে চেয়েছেন বলেই তা আইন হয়ে যায় না এবং এটি কোনোভাবেই সঠিক বা সাংবিধানিক হতে পারে না। সাধারণ ডাকের নিয়ম আর নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।   সিনেটর এলিসা স্লটকিনও এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে মার্কিন ডাক বিভাগকে এখন রাষ্ট্রীয় নির্বাচন প্রক্রিয়াকরণের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে প্রেসিডেন্ট এবং তার দল যদি আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হতে না পারে, তবে তারা আগে থেকেই নির্বাচন কারচুপির অজুহাত তৈরি করছেন। তবে এই নিয়মটি এখনও চূড়ান্ত নয় এবং বর্তমানে এটি প্রস্তাবিত আকারে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।   সূত্র: এবিসি নিউজ

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
কংগ্রেসের আপত্তি উড়িয়ে তুরস্ককে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের জেট ইঞ্জিন দিচ্ছেন ট্রাম্প

আসন্ন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগেই তুরস্কের প্রতি বন্ধুত্বের এক বড় বার্তা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন কংগ্রেসের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও আঙ্কারার কাছে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার মূল্যের যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার এই বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে।   জানা গেছে, ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের এই প্যাকেজের আওতায় তুরস্কের কাছে বেশ কয়েক ডজন ইঞ্জিন বিক্রি করা হবে। স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই)-এর তৈরি এই ইঞ্জিনগুলো তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম যুদ্ধবিমান 'কান' (Kaan)-এ ব্যবহৃত হবে। প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ২০১৬ সালে এই মেগা প্রকল্পটির সূচনা করেছিল।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে সাধারণত উষ্ণ সম্পর্কই বজায় ছিল। ট্রাম্প একাধিকবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের প্রশংসাও করেছেন। তবে, আঙ্কারা রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রকল্প থেকে তুরস্ককে বাদ দেয় এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছিল।   মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই নতুন ইঞ্জিন চুক্তির অনানুষ্ঠানিক পর্যালোচনা চলাকালীন আপত্তি তুলেছিলেন এবং এখনও এর পক্ষে সবুজ সংকেত দেননি। তা সত্ত্বেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং এরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবহিত করবে।   প্রায় এক বছর আগে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই ইঞ্জিন বিক্রির প্রক্রিয়াটি আটকে থাকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সেই জট খুলতে চলেছে। উল্লেখ্য, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কে ন্যাটো নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জোটে ব্যয়ভার বণ্টন, প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখার বিষয়ে মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে বিদ্যমান উত্তেজনার মাঝেই এই সম্মেলন আয়োজিত হতে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ছবি | আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিল
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের শুনানি ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কারে আবারও অনুমতি পেল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আবারও শুনানি ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম চালানোর অনুমতি পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল আপিল আদালতের এক রায়ের ফলে দেশটির অভ্যন্তরে বসবাসরত অনেক অনথিভুক্ত অভিবাসীকেও এখন অভিবাসন বিচারকের সামনে পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ ছাড়াই দ্রুত বহিষ্কার করা সম্ভব হবে।   মঙ্গলবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের যুক্তরাষ্ট্র আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রসারিত ‘এক্সপেডাইটেড রিমুভাল’ বা দ্রুত বহিষ্কার নীতি পুনরায় কার্যকর করার পথ খুলে যায়।   দ্রুত বহিষ্কার পদ্ধতিতে অভিবাসন আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি ছাড়াই কোনো ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো যায়। অতীতে এই ব্যবস্থা মূলত সীমান্তে আটক হওয়া বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হতো। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন নীতিটির পরিধি বাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবস্থানরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর করে।   এই নীতি কার্যকর হওয়ার পর অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আদালতে উপস্থিত হওয়া অনেক ব্যক্তিকে আদালত চত্বর থেকেই আটক করে কয়েক দিনের মধ্যে বহিষ্কারের অভিযোগ ওঠে।   রায়ের পর অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) অভিবাসী অধিকার প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আনন্দ বালাকৃষ্ণন বলেন, এই নীতি এমন একটি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে এবং অনেক অভিবাসী ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।   তবে আপিল আদালতের বিচারক জাস্টিন আর ওয়াকার রায়ে উল্লেখ করেন, বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি যে সম্প্রসারিত দ্রুত বহিষ্কার নীতি সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং কেন নেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয় এবং জবাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়।   এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারক জিয়া কব প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করে বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিরা যাতে ভুলবশত দ্রুত বহিষ্কারের শিকার না হন, সে জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে বসবাসকারী ব্যক্তিদেরও দ্রুত বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও আপিল আদালত স্বীকার করেছে যে কিছু ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে, তবে আদালতের মতে এসব ঘটনা নীতিগত বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে নয়; বরং পৃথক কর্মকর্তাদের আইন অনুসরণে ব্যর্থতার ফল।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে দ্রুত বহিষ্কার ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বিচার বিভাগ আদালতে যুক্তি দেয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই নীতি প্রশাসনকে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করবে। অন্যদিকে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখো অভিবাসীর মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। তাদের মতে, বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় ভুলবশত বহিষ্কারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।

তাবাস্সুম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং অভিবাসন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির ওপর দেশব্যাপী স্থগিতাদেশ জারি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক।   মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক পি. কেসি পিটস ৭১ পৃষ্ঠার এক রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এসব নীতি প্রশাসনিক আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং যথাযথ ব্যাখ্যা ছাড়াই কার্যকর করা হয়েছে। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) এবং অভিবাসন পর্যালোচনা বিষয়ক নির্বাহী দপ্তর তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যৌক্তিক ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে চালু হওয়া একটি নীতির ফলে অভিবাসন আদালতে শুনানির জন্য উপস্থিত ব্যক্তিদের আদালত চত্বর থেকেই আটক করার সুযোগ পেতেন ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা। এ কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিবাসন আদালতের বাইরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিবাসী অধিকারকর্মী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা দীর্ঘদিন ধরে এই নীতির সমালোচনা করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, আদালতে উপস্থিত হওয়ার সাহস দেখানো ব্যক্তিদেরই পরে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, যা অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।   বিচারক পিটস রায়ে বলেন, আইসিই যেসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করছে, তারা আদালতে অন্য কোনো অপরাধে নয়, বরং একই অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগের শুনানিতে হাজির হচ্ছিলেন। ফলে এই নীতির ভিত্তি এবং যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালে জারি করা পূর্ববর্তী নির্দেশনা বাতিলের ক্ষেত্রে প্রশাসন পর্যাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। আদালতের মতে, অভিবাসন আদালত এলাকায় বেসামরিক আইন প্রয়োগসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তও যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।   রায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিচারক দীর্ঘ সময় আটক রাখার নীতিকেও অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আওতায় আইসিই আটক ব্যক্তিদের ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হেফাজতে রাখতে পারত। তবে বিচারক বলেন, এই ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তিদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।   রায়ে উল্লেখ করা হয়, সান ফ্রান্সিসকোর একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে অনেককে ১২ ঘণ্টার বেশি, কখনো কখনো পুরো রাত বা কয়েক দিন পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছে। বিচারকের মতে, ধারণক্ষমতার সংকট মোকাবিলায় বিকল্প কোনো উপায় বিবেচনা না করেই প্রশাসন এই নীতি কার্যকর করেছে। তাই তিনি নীতিটি বাতিল করে দেশব্যাপী কার্যকারিতা স্থগিতের নির্দেশ দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান আইন উপদেষ্টা জেমস পারসিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারক যখন সাজা দেন, তখন আসামিকে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়। একইভাবে কোনো অভিবাসন বিচারক যদি কাউকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেন, তাহলে তার ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। তিনি আদালতের এই সিদ্ধান্তকে বিচারিক সক্রিয়তার উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন।   এদিকে, গত মাসে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতও ম্যানহাটনের অভিবাসন আদালতগুলোতে গ্রেপ্তার অভিযান সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মামলার বিচারক পি. কেভিন ক্যাসটেলও মন্তব্য করেছিলেন যে, অভিবাসন আদালতে আইন প্রয়োগসংক্রান্ত আগের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ‘খামখেয়ালি এবং যথাযথ বিবেচনাহীন’।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিকে ঘিরে চলমান আইনি লড়াইয়ে এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে অভিবাসন আদালতকে গ্রেপ্তারের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হবে কি না এবং আটক ব্যক্তিদের অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন দমনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের পক্ষে রায় দিয়েছে একটি ফেডারেল আপিল আদালত। এর ফলে দেশজুড়ে দ্রুত প্রক্রিয়ায় অভিবাসীদের বহিষ্কারের নীতি কার্যকর করার পথে বড় বাধা দূর হলো।   মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ ২-১ ভোটে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) ‘এক্সপেডাইটেড রিমুভাল’ বা দ্রুত বহিষ্কার নীতির সম্প্রসারিত সংস্করণ বাস্তবায়ন করতে পারবে। এই নীতির আওতায় অভিবাসন কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি ছাড়াই কিছু ব্যক্তিকে দেশ থেকে বহিষ্কার করতে পারবেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগে এই ব্যবস্থা মূলত সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। সাধারণত যেসব ব্যক্তি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন এবং দেশে অন্তত দুই সপ্তাহ অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে পারেননি, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হতো।   তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে প্রণীত নতুন নীতির মাধ্যমে এর পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে থাকা এমন অভিবাসীর বিরুদ্ধে দ্রুত বহিষ্কার প্রক্রিয়া ব্যবহার করা যাবে, যিনি দেশে টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থানের প্রমাণ দিতে পারবেন না।   এই নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘মেক দ্য রোড নিউইয়র্ক’-এর করা মামলায় এক ফেডারেল বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেন। তিনি রায়ে বলেন, এই নীতি অভিবাসীদের ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে।   কিন্তু আপিল আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হননি। ট্রাম্প মনোনীত বিচারক জাস্টিন ওয়াকার ও নিওমি রাও রায়ে বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা রয়েছে এবং আবেদনকারীরা প্রমাণ করতে পারেননি যে এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রায়ে বিচারকরা উল্লেখ করেন, অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন মাত্রার তথ্য প্রদান প্রত্যাশা করা যায় না যা কার্যত আইনি পরামর্শ দেওয়ার সমতুল্য হয়ে যায়।   তবে বেঞ্চের তৃতীয় সদস্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মনোনীত বিচারক রবার্ট উইলকিনস ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁর মতে, নীতিটি বাস্তবে অভিবাসীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত করতে পারে।   উইলকিনস বলেন, বর্তমান নিয়মে কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে জানতে চাওয়ার প্রয়োজন নেই যে কোনো ব্যক্তি কতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এমনকি দুই বছর অবস্থানের প্রমাণ বহিষ্কার ঠেকানোর একটি সম্ভাব্য আইনি ভিত্তি হতে পারে, সে বিষয়েও অনেককে জানানো হয় না। ফলে অনেক অভিবাসী তাদের অধিকার সম্পর্কে না জেনেই দ্রুত বহিষ্কারের মুখে পড়তে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।   রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। ডিএইচএসের প্রধান আইনজীবী জেমস পারসিভাল বলেন, আদালতের আদেশ প্রমাণ করেছে যে সরকার আইনের বিধান অনুসারেই পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। বর্তমানে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তিকে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেলে আর্থিক সহায়তা ও বিমান টিকিট দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।   অন্যদিকে, মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের রায়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আনন্দ বালাকৃষ্ণন বলেন, এই সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে এবং অনেক মানুষ ন্যায্য সুযোগ পাওয়ার আগেই বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে পারেন।   ‘মেক দ্য রোড নিউইয়র্ক’-এর উপপরিচালক ইয়ারিৎসা মেন্দেজও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই নীতি কার্যকর হলে অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে এবং ভুল বহিষ্কারের ঘটনাও বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বহিষ্কার নীতির সম্প্রসারণ ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন কৌশলের অংশ। প্রশাসন অভিবাসন মামলার জট কমানো এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।   সম্প্রতি সরকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাচের অভিবাসন বিচারক নিয়োগ দিয়েছে। একই সঙ্গে আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানি ছাড়াই দীর্ঘ সময় আটকে রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা চলছে।   অভিবাসন প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও মানবাধিকার অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমর্থকদের দাবি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন আইন কার্যকরে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, দ্রুত বহিষ্কার নীতি ন্যায়বিচার ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতিকে দুর্বল করতে পারে।   ফলে আদালতের সর্বশেষ এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা খারিজ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল আদালত লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘সাংকচুয়ারি সিটি’ নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে। অভিবাসন নীতি নিয়ে ফেডারেল সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছিল যে লস অ্যাঞ্জেলেসের সাংকচুয়ারি সিটি নীতি ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা সীমিত করছে এবং এর ফলে অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি এবং মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে প্রশাসনকে সংশোধিত অভিযোগ দাখিলের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।   সাংকচুয়ারি সিটি নীতির আওতায় অনেক শহর ও স্থানীয় প্রশাসন ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নির্দিষ্ট তথ্য বিনিময় বা অভিবাসন-সংক্রান্ত কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ সীমিত রাখে। এ ধরনের নীতির সমর্থকদের দাবি, এতে অভিবাসী সম্প্রদায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বেশি আস্থা রাখতে পারে এবং অপরাধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত হয়।   অন্যদিকে নীতির সমালোচকদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনের এ ধরনের সীমাবদ্ধতা ফেডারেল অভিবাসন আইন কার্যকর করার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কমিয়ে দেয়।   যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও আইনি লড়াই নতুন নয়। বিশেষ করে সাংকচুয়ারি সিটি নীতি নিয়ে ফেডারেল সরকার ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য কিংবা শহর প্রশাসনের মধ্যে বহুবার বিরোধ দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এই রায় সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত শুধু লস অ্যাঞ্জেলেসের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সাংকচুয়ারি সিটি নীতি অনুসরণকারী শহর ও স্থানীয় প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি অভিবাসন ইস্যুতে ফেডারেল ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে চলমান বিতর্কেও এ রায়ের প্রভাব পড়তে পারে।

তাবাস্সুম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় আইনি অভিযান শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের পর এবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া (ন্যাচারালাইজড) আমেরিকানদের টার্গেট করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। জালিয়াতি বা তথ্য গোপন করে যারা মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করতে এক নজিরবিহীন আইনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত মামলা করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এখন বিলাসিতা, সাধারণ ‘স্টার্টার হোম’ কিনতেও লাগছে ১০ লাখ ডলার   প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের গত দুই মাসেরও কম সময়ে বিচার বিভাগ ইতিমধ্যে ২৯ জন বিদেশি-জাত মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। গত ২০০৮ থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত যেখানে বছরে গড়ে মাত্র ১০টির মতো নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা হতো, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের এই গতি আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত বিরল এবং জটিল হলেও ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে তাদের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।   ভিডিও দেখুন: যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন? জেনে নিন গ্রিন কার্ড পাওয়ার সহজ পথ   পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বিচার বিভাগ জালিয়াতি দমনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে সিভিল আইনজীবীদের সরিয়ে এনে এই ‘নাগরিকত্ব বাতিল ইউনিটে’ নিয়োগ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া একটি বিশেষ সুযোগ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃঢ় নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়ার যেকোনো ধরনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাদের নীতি হলো ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা।   বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মূলত যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় বা তার আগে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নে জড়িত ছিলেন, কিংবা সন্ত্রাসবাদের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন—তাদেরই নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য চিহ্নিত করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন যদি কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলায় জয়ী হয়, তবে ওই ব্যক্তি তার মার্কিন নাগরিকত্ব হারাবেন এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার আগের অভিবাসী স্ট্যাটাসে (যেমন- পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ড) ফিরে যাবেন। এমনকি অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্টও করা হতে পারে।   তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের প্রশাসনগুলো (যেমন- বাইডেন প্রশাসন চার বছরে মাত্র ২৪টি মামলা করেছিল) কেবল যুদ্ধাপরাধী বা বড় সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রেই এই পদক্ষেপ নিত। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সাধারণ কাগজের ভুলত্রুটি বা ছোটখাটো তথ্য গোপনের বিষয়গুলোকেও এই আইনের আওতায় এনে চাপ সৃষ্টি করছে, যা আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, এই আইনটি কেবল অন্য দেশ থেকে এসে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া আমেরিকানদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয়।   সূত্র: সিএনএন

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ৩৯ দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড ও কাজের অনুমতি আটকে রাখার নীতি বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের কঠোর আদেশের মুখে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) দেওয়ার আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার নীতি থেকে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতের আদেশের সাথে তারা "তীব্র দ্বিমত" পোষণ করলেও মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জন ম্যাককনেলের রায় মেনে নেবে।   গত সপ্তাহে বিচারক ম্যাককনেলের দেওয়া ওই আদেশের পর ট্রাম্প প্রশাসন গত মঙ্গলবার আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, আদালতের নির্দেশটি কেবল প্রাথমিক ছিল এবং এটি এখনও "কার্যকর" হয়নি। তবে গত বৃহস্পতিবার বিচারক ম্যাককনেল এই টালবাহানার তীব্র সমালোচনা করে একটি আনুষ্ঠানিক রায় জারি করেন এবং সরকারকে অবিলম্বে এই নীতি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তিনি রায়ে স্পষ্টভাবে লেখেন, "এবার আর কোনো অজুহাত চলবে না। সরকারের দায়িত্ব এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা।"   বিচারকের এই কড়া আলটিমেটামের পর ইউএসসিআইএস-এর উপ-পরিচালক অ্যাঞ্জেলিকা আলফোনসো-রয়্যালস শুক্রবার আদালতে একটি ফাইলিংয়ের মাধ্যমে জানান, সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নিষেধাজ্ঞাগুলো "আর কার্যকর নেই" বলে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার ভুক্তভোগী অভিবাসীর আবেদন পুনরায় চালু হওয়ার পথ সুগম হলো।   উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন মাসে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে এবং আরও ৭টি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে ইউএসসিআইএস এই নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে আফ্রিকা, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ মোট ৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়। এর ফলে ইতিমধ্যে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজার হাজার অভিবাসী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।   ট্রাম্প প্রশাসনের এই বৈষম্যমূলক অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার রক্ষা সংগঠন আদালতে মামলা দায়ের করে। গত ৫ জুন দেওয়া রায়ে ওবামা আমলে নিযুক্ত বিচারক জন ম্যাককনেল ট্রাম্পের এই নীতি বাতিল করে বলেন, কেবল জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্রিজ বা আটকে রাখার কোনো আইনি কর্তৃত্ব ইউএসসিআইএস-এর নেই। তিনি এই নীতিকে অভিবাসনবিরোধী মানসিকতা বলে অভিহিত করে বলেন, কেবল জন্মসূত্রের কারণে এই মানুষদের সাথে এমন আচরণ করা অবৈধ।

তাবাস্সুম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার নীতিতে জনসমর্থন বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত এবং অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের বহিষ্কারের পক্ষে জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও এ নীতির প্রতি সমর্থন আগের তুলনায় বেড়েছে।   হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ও হ্যারিস পোলের যৌথ জরিপ অনুযায়ী, মোট ভোটারের প্রায় ৮০ শতাংশ বলেছেন, “অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এবং অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের বহিষ্কার করা উচিত।” এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৭৫ শতাংশ।   জরিপে আরও দেখা যায়, রাজনৈতিক সব শিবিরেই সমর্থন বৃদ্ধি পেলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে পরিবর্তন তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের ৭১ শতাংশ অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন, যা এপ্রিলের ৬৩ শতাংশের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ সমর্থন প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। এপ্রিলের ৮৯ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ৯০ শতাংশ রিপাবলিকান এই নীতিকে সমর্থন করছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও সমর্থন ৭৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে।   তবে সব অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের বিষয়ে জনমত তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৫৬ শতাংশ এই নীতির পক্ষে মত দিয়েছেন, যা আগের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।   দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ এখন সব অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কারের পক্ষে, যা এক মাস আগে ছিল ৩৩ শতাংশ। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই সমর্থন ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হার ৮০ শতাংশ থেকে কমে ৭৭ শতাংশে নেমেছে।   হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর আমেরিকান পলিটিক্যাল স্টাডিজের জন্য দ্য হ্যারিস পোল ও হ্যারিস এক্স পরিচালিত জরিপে ১ হাজার ৭২৫ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। ২৯ ও ৩০ মে পরিচালিত এই জরিপের মার্জিন অব এরর ছিল প্লাস মাইনাস ২.৪ শতাংশ।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসী দেশ ছেড়েছেন বা বহিষ্কৃত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় “সেলফ ডিপোর্টেশন” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশ ত্যাগ করেছেন।   বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে প্রায় ৯ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ৯ লাখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হক

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০