- প্রচ্ছদ
- Topic
ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসংশ্লিষ্ট কাজের সুযোগ দেওয়া অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি কর্মসূচিতে প্রথমবার অংশগ্রহণের জন্য ৭০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার ৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর জন্য এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে। নিয়মটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইমিগ্রেশন আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এরিকসন ইমিগ্রেশন গ্রুপ জানিয়েছে, কোনো এফ-১ শিক্ষার্থীকে প্রথমবার যেকোনো ধরনের ওপিটির জন্য সুপারিশ করার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার দিতে হবে। পরবর্তী প্রতিটি ওপিটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবিত ফি ৩০ হাজার ডলার। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের স্টেম ওপিটির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হবে। ওপিটির মাধ্যমে যোগ্য এফ-১ শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কাজে সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ মাস অংশ নিতে পারেন। নির্ধারিত স্টেম বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা শর্ত পূরণ করলে আরও ২৪ মাসের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারেন। ফলে প্রথম ওপিটির পর একটি স্টেম এক্সটেনশন নিলে প্রস্তাবিত নতুন ফির মোট পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ডলার। ব্লুমবার্গ ল জানিয়েছে, অনেক বিদেশি স্নাতক ওপিটির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরে নিয়োগদাতার স্পনসরশিপে এইচ-১বি কর্মসূচিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর এই কর্মসূচির আওতায় কাজের অনুমোদন ছিল। প্রস্তাবটি সামনে এনেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সরকারি নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনার নথিতে দেখা যায়, ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং ফিস’ শীর্ষক প্রস্তাবটি ২০ আগস্ট পর্যালোচনার জন্য জমা পড়ে। ১১ সেপ্টেম্বর সেই পর্যালোচনা শেষ হয়। নথিতে উদ্যোগটির অবস্থান এখনো প্রস্তাবিত বিধি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এরিকসন ইমিগ্রেশন গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি ৮ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপর ৩০ দিন জনমত গ্রহণ করা হবে। চূড়ান্ত বিধি প্রকাশ ও কার্যকর হওয়ার আগে এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন ফি আদায় শুরু হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে নতুন ফেডারেল আইনের কারণে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ অ-নাগরিকের মেডিকেইড স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে গ্রিন কার্ড না থাকা শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবপাচার থেকে বেঁচে যাওয়া কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীর ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালে স্বাক্ষর করা এইচআর-১, যা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, তার আওতায় মেডিকেইডের যোগ্যতার নিয়ম বদলানোর ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইলিনয়ের স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ জানিয়েছে, যেসব অ-নাগরিক নতুন নিয়মের আওতায় আর পূর্ণ মেডিকেইডের যোগ্য নন, তাদের সর্বশেষ কভারেজের দিন ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। রাজ্য কর্তৃপক্ষ আগেই সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিঠি পাঠিয়ে পরিবর্তনের বিষয়ে জানিয়েছিল। নতুন নিয়মটি ইলিনয় রাজ্য নিজে থেকে তৈরি করেনি, বরং ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে রাজ্যকে তা বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। নতুন নিয়মে সব বৈধ অভিবাসী মেডিকেইড হারাচ্ছেন না। ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ মেডিকেইডের আওতায় থাকার জন্য প্রধানত গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী এবং ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের রাখা হয়েছে। এছাড়া ইলিনয়ে বৈধভাবে বসবাসকারী ১৯ বছরের কম বয়সী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের জন্য কিছু সুবিধা বহাল রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যভিত্তিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিরাও সুবিধা পেতে পারেন। এর ফলে বিশেষ করে এমন অভিবাসীরা সমস্যায় পড়েছেন, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থান থাকলেও এখনো গ্রিন কার্ড হয়নি। শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতেও সাধারণত নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, শরণার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে এক বছর থাকার পর এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিরা আশ্রয়ের অনুমোদনের এক বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার পরও গ্রিন কার্ড পেতে আরও সময় লাগতে পারে। ইলিনয়ের পরিস্থিতি বোঝাতে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো কয়েকটি পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরেছে। শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে ৬৬ বছর বয়সী তেরেসিতা ভি. মোরালেসের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইউগেন কুতার ঘটনা উঠে এসেছে। রোমানিয়া থেকে আসা কুতা ১৫ বছরেরও বেশি আগে গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এতে তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং কথা বলার সক্ষমতাও হারান। এরপর থেকে তিনি নার্সিং হোমে বসবাস করছেন এবং তার সার্বক্ষণিক পরিচর্যার খরচ মেটাতে মেডিকেইডের ওপর নির্ভর করছিলেন। মোরালেস জানান, আগস্টে তার সঙ্গীর কাছে রাজ্য সরকারের পাঠানো একটি চিঠি আসে। সেখানে বলা হয়, তার ‘অ-নাগরিক’ অবস্থানের কারণে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর তিনি আর মেডিকেইডের যোগ্য থাকবেন না। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও নার্সিং হোমের খরচ কীভাবে চালানো হবে, তা নিয়ে এরপর থেকে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মোরালেস। ইলিনয় কোয়ালিশন ফর ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটসের স্বাস্থ্যনীতি ও ন্যায়বিচার বিভাগের পরিচালক এডিথ আভিলা হেসার পরিবারটিকে বিষয়টি মোকাবিলায় সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মেডিকেইড হারানোর প্রভাব শুধু দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ওপর নয়, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের ওপরও পড়তে পারে। কুক কাউন্টি হেলথের চিকিৎসক নিম্মি রাজাগোপাল জানিয়েছেন, মেডিকেইড হারাতে যাওয়া কিছু রোগী তাদের নিয়মিত ওষুধ কীভাবে সংগ্রহ করবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কুক কাউন্টিতে ইলিনয়ের মেডিকেইড হারাতে যাওয়া মানুষের ৪০ শতাংশেরও বেশি বসবাস করেন এবং তাদের অনেকেই ইউক্রেনীয় ভাষাভাষী বলে কাউন্টি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে। লিগ্যাল কাউন্সিল ফর হেলথ জাস্টিসের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আন্দ্রেয়া কোভাচের মতে, অনেক অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেইডের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আসছিলেন। কভারেজ বন্ধ হলে এসব সেবায় বাধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মেডিকেইড হারানো ব্যক্তিদের জন্য কিছু বিকল্প ব্যবস্থা থাকছে। ফেডারেলভাবে অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো অনেক ক্ষেত্রে বিনা খরচে বা আয় অনুযায়ী কম খরচে চিকিৎসা দিতে পারে। জরুরি অবস্থায় ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেইড’ সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি নিয়মিত চিকিৎসা, প্রেসক্রিপশন ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার পূর্ণ বিকল্প নয়। ইলিনয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, শুধু অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে মেডিকেইডের যোগ্য না থাকলেও জরুরি চিকিৎসার জন্য এই সুবিধা বহাল থাকবে। কিছু শরণার্থী মেডিকেইডের বিকল্প হিসেবে ‘রিফিউজি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স’ পেতে পারেন। তবে এই কর্মসূচির সুবিধা সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত বা নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি মেডিকেইডের সমতুল্য নিরাপত্তা তৈরি করে না। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা তাই মেডিকেইড হারানো রোগীদের চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ না করে বিকল্প স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। ইলিনয়ের এই পরিবর্তন আসলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেডিকেইড ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রথম ধাপগুলোর একটি। কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন ফেডারেল নিয়মে মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি বা সিএইচআইপির যোগ্যতা মূলত গ্রিন কার্ডধারী, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী, সিওএফএ দেশের নাগরিক এবং কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তির মধ্যে সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে গ্রিন কার্ড ছাড়া শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিসহ আরও কয়েকটি বৈধ অভিবাসী গোষ্ঠী ফেডারেলভাবে অর্থায়িত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বাদ পড়েছেন। কেএফএফের হিসাবে, শুধু মেডিকেইড ও সিএইচআইপির যোগ্যতা সীমিত করার বিধানই ২০৩৪ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যবিমাহীন করে তুলতে পারে। একই আইনের অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরিবর্তন ধরলে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন বলে কেএফএফের পূর্বাভাস। ইলিনয়ে এখন নতুন নিয়মের বাস্তব প্রভাব শুরু হলেও বিষয়টি পুরোপুরি এখানেই শেষ নয়। যাদের অভিবাসনগত অবস্থান যাচাই করা নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রাজ্য অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের সময়ও দিতে পারে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারও যোগ্য অভিবাসনগত অবস্থান প্রমাণিত হলে তিনি নতুন নিয়ম অনুযায়ী কভারেজ ধরে রাখতে পারেন। সূত্র: শিকাগো ট্রিবিউন, ইলিনয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ, কেএফএফ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিগ বেন্ড অঞ্চলে সীমান্ত দেয়াল ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবারের এই আদেশের ফলে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় নতুন করে মাটি খননসহ সীমান্ত অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চালাতে পারবে না ট্রাম্প প্রশাসন। আদেশটি জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন মেক্সিকো সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা অবকাঠামো সম্প্রসারণের বড় কর্মসূচি চালাচ্ছে। পুরো দক্ষিণ সীমান্তে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচির আওতায় ৩০ ফুট উচ্চতার ইস্পাত দেয়াল, যানবাহন ঠেকানোর প্রতিবন্ধক, সড়ক ও নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিগ বেন্ড অঞ্চলেও কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিচারক কার্ডোন তার আদেশে বলেন, মামলাকারীরা অন্তত একটি দাবিতে আইনি লড়াইয়ে সফল হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখাতে পেরেছেন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা না দিলে তাদের গুরুতর ও অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্বার্থ ও জনস্বার্থও নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রাখার পক্ষে রয়েছে। ফলে মামলার মূল বিষয়গুলো আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটি করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে কাজ করা ফ্রেন্ডস অব দ্য রুইডোসা চার্চ এবং বিগ বেন্ড এলাকার এক নদীভ্রমণ গাইড ও জমির মালিক। মামলাকারীদের অভিযোগ, সীমান্ত অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণের জন্য প্রশাসন পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ফেডারেল আইনের বিধান থেকে ব্যাপক ছাড় নিয়েছে। তাদের দাবি, এভাবে নিয়ম শিথিল করে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। বিগ বেন্ড অঞ্চলের সবচেয়ে আলোচিত অংশ বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্ক। এর বিস্তৃত মরুভূমি, চুনাপাথরের পাহাড়, গভীর গিরিখাত এবং দূষণমুক্ত রাতের আকাশের জন্য এলাকাটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও পর্যটন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। পার্কের ভেতরে সীমান্ত নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন, ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। আগস্টে পার্কের ভেতরে নির্মাণযন্ত্র দিয়ে জমি পরিষ্কার করার কাজ শুরু হলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এরপর ১৭ আগস্ট ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি পার্কের ভেতরের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। সেই বিরতি ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে আদালতের নতুন নিষেধাজ্ঞায় বিগ বেন্ড অঞ্চলে নির্মাণকাজ আবারও আইনি বাধার মুখে পড়ল। এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিগ বেন্ড অঞ্চলের পার্কের বাইরে হাডস্পেথ কাউন্টিতে ৪৭ মাইল দীর্ঘ একটি এলাকায় ৩০ ফুট উচ্চতার ইস্পাতের সীমান্ত দেয়ালের প্রথম অংশ বসানোর কাজ শুরু করে প্রশাসন। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর সীমান্ত অবকাঠামো কর্মসূচির অংশ। তবে পার্ক ও আশপাশের এলাকায় পরিকল্পিত সড়ক, যানবাহন ঠেকানোর প্রতিবন্ধক এবং অন্যান্য অবকাঠামো নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা অব্যাহত ছিল। বিগ বেন্ডের সীমান্ত প্রকল্প নিয়ে বিরোধিতা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। স্থানীয় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতা, জমির মালিক, ব্যবসায়ী এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের একটি অংশ নির্মাণকাজ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মূল বক্তব্য, এই অঞ্চলের দুর্গম ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি নিজেই সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করে। একই সঙ্গে দেয়াল ও সড়ক নির্মাণে প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদীর প্রবেশাধিকার এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তারা তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের অবস্থান হলো সীমান্তের দুর্গম এলাকাতেও অবকাঠামো প্রয়োজন, যাতে সীমান্তে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়। সিবিপি বলেছে, তারা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিগ বেন্ডের অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নিচ্ছে। আদালতের আদেশের পর সংস্থাটি জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে। বিগ বেন্ড অঞ্চলে নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধ এখনো শেষ হয়নি। শুক্রবারের আদেশটি মামলার চূড়ান্ত রায় নয়, বরং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত অবকাঠামো প্রকল্পের বৈধতা ও পরিবেশগত বিধি থেকে নেওয়া ছাড়ের বিষয়টি এখন আদালতে আরও বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনা হবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর পরিবার কেন্দ্রীয় সরকার ও ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি দেওয়ানি মামলা করেছে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর করা মামলাগুলোতে ক্ষতিপূরণ ও জুরি বিচারের আবেদন জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলেছে। ৩৭ বছর বয়সী গুডকে গত ৭ জানুয়ারি তাঁর গাড়ির ভেতর গুলি করেন আইসিই এজেন্ট জনাথন রস। সে সময় মিনেসোটায় কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছিল। গুডের পরিবার মামলায় দাবি করেছে, গুলি চালানোর ঘটনায় তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং বলপ্রয়োগ ছিল অযৌক্তিক। প্রথম মামলাটি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে। এতে গুডের মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় রসের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোমসহ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ধরন নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের পথ তৈরি করেছিল। মামলার ঘোষণা দিতে পরিবারের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আসেন গুডের স্ত্রী বেকা গুড। রেনির ভাই ব্রেট গ্যাঙ্গার বলেন, তাঁর বোনের মৃত্যুর পর জবাবদিহির অভাব তাঁদের হতবাক করেছে। পরিবার বলছে, আদালতের মাধ্যমে তারা গুলির ঘটনার পূর্ণ জবাবদিহি চায়। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রশাসন মামলাগুলোর বিরুদ্ধে আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আগে রসের বলপ্রয়োগকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ন্যায্য বলে সমর্থন করেছে। রসের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় এখনো কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। মিনেসোটার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গুলির ঘটনার তদন্ত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর দাখিলের সময় করদাতাদের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমোদনের অবস্থা জানানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ২০২৬ সালের আয়কর ফরমের খসড়ায় এ-সংক্রান্ত নতুন প্রশ্ন যুক্ত করেছে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা বা আইআরএস। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর দাখিলকারী প্রায় সব কর্মীকেই জানাতে হবে, তারা মার্কিন নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি, নাকি যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া বিদেশি। আইআরএসের ২০২৬ সালের খসড়া ১০৪০ ফরমে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছে, করদাতা এবং যৌথভাবে কর দাখিল করলে তার স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি বা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত বিদেশি কি না। ফরমে করদাতা ও তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আলাদা করে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বেছে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইআরএসের খসড়া ফরমে বলা হয়েছে, এই তথ্য দেওয়ার বিষয়টি ফরম পূরণের অংশ হিসেবেই থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, নতুন তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এমন অভিবাসীদের ফেরতযোগ্য কর-সুবিধা নেওয়া ঠেকানো যাবে, যারা ফেডারেল আইনের অধীনে এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস আগস্টে প্রস্তাবিত বিধি প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল আইনের আওতায় ফেরতযোগ্য কর-ক্রেডিটের অর্থকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি নাগরিকদের সেসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা সীমিত করা হবে। প্রশাসনের হিসাবে, এতে করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় হতে পারে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মী ও পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর-সুবিধার বিষয় জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে অর্জিত আয় কর-সুবিধা বা ইআইটিসি এবং অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধা। ট্রেজারি ও আইআরএসের প্রস্তাবে শিশু কর-সুবিধা, অর্জিত আয় কর-সুবিধা, দত্তক গ্রহণসংক্রান্ত কর-সুবিধা এবং আমেরিকান অপরচুনিটি কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশের ওপর নতুন যোগ্যতার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কর ও অভিবাসন নীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেন্টার ফর ট্যাক্সপেয়ার রাইটসের নির্বাহী পরিচালক নিনা ওলসনের মতে, আয়কর রিটার্ন প্রক্রিয়া করার জন্য করদাতার নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থা জানা আইআরএসের প্রয়োজন নেই। তার যুক্তি, কর-সুবিধার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য আইআরএসের কাছে আগে থেকেই সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং ব্যক্তিগত কর শনাক্তকরণ নম্বরের তথ্য রয়েছে। আইআরএসের বর্তমান ব্যবস্থায় অর্জিত আয় কর-সুবিধা দাবি করা ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যের সঙ্গে যাচাই করা হয়। ফলে নতুন করে নাগরিকত্ব বা কাজের অনুমতির তথ্য চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অভিবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য কর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর তা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে কি না, সে বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা-সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব শুধু অননুমোদিতভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নতুন কর-সুবিধা সংক্রান্ত বিধির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বোস্টন ইউনিভার্সিটি, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি এবং ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসির গবেষকদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার মানুষ এমন পরিবারে রয়েছেন যারা অর্জিত আয় কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ হারাতে পারেন। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার শিশু। অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ এবং ৫ লাখ ৭৪ হাজার শিশু প্রভাবিত হতে পারেন। গবেষণাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সম্ভাব্যভাবে সুবিধা হারাতে যাওয়া শিশুদের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। গবেষকদের হিসাবে, এ ধরনের সুবিধা হারাতে পারে এমন শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই মার্কিন নাগরিক। কারণ তাদের বাবা বা মায়ের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থার কারণে পরিবারটি নতুন যোগ্যতার শর্তের আওতায় পড়তে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং কাজের অনুমতি থাকা কিছু অভিবাসীও প্রভাবিত হতে পারেন। গবেষকদের বিশ্লেষণে ডাকা বা ডাকা-সুরক্ষিত অভিবাসী, সাময়িক সুরক্ষিত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট সাময়িক ভিসায় কাজ করা কিছু মানুষকে সম্ভাব্য প্রভাবিত গোষ্ঠীর মধ্যে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন বিধির প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিতভাবে বসবাসরত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজে আইআরএসের কর-তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েও বিতর্কের মুখে পড়েছিল। ২০২৫ সালে ট্রেজারি বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মধ্যে একটি তথ্য বিনিময় চুক্তি হয়েছিল, যার আওতায় আইআরএসের কাছে থাকা নির্দিষ্ট তথ্য অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বা আইসের সঙ্গে ভাগ করার বিষয়টি সামনে আসে। পরে ফেডারেল আদালতে এই তথ্য ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে মামলা হয়। একটি ফেডারেল বিচারক পরবর্তী সময়ে আইআরএসের গোপন কর-তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ফেডারেল গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, আইসের পাঠানো প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার নামের মধ্যে আইআরএস প্রায় ৪৭ হাজার ব্যক্তির ঠিকানা যাচাই করে তা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে দিয়েছিল। এ ঘটনাকে ঘিরে করদাতার তথ্যের গোপনীয়তা এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগে কর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। নতুন ১০৪০ ফরমের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমতির প্রশ্নটি বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। একইভাবে ফেরতযোগ্য কর-সুবিধার যোগ্যতা পরিবর্তনের বিধিটিও এখনো প্রস্তাবিত। ট্রেজারি ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত ও শুনানির সুযোগ রেখেছে। তাই প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর ভাষা বা প্রয়োগের নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের আইআরএস ও ট্রেজারি বিভাগ।
অপরাধে দণ্ডিত নন বা ফৌজদারি অভিযোগ নেই, এমন অনথিভুক্ত অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধ করতে আইসিই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ডেইলি ওয়্যার ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে পরদিন ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, অভিবাসন প্রয়োগের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে গ্রেপ্তার বন্ধ হয়েছে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। পরিচয় প্রকাশ না করা আইসিই কর্মকর্তাদের বরাতে ডেইলি ওয়্যার জানায়, সাময়িকভাবে শুধু ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ তাঁরা পেয়েছিলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারও ডিপোর্টেশনের চূড়ান্ত আদেশ থাকলেও ফৌজদারি রেকর্ড না থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতো না। অভিযানের সময় মূল লক্ষ্য ছাড়া অন্য অনথিভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও বন্ধ থাকার কথা ছিল। প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় ডেইলি ওয়্যার জানিয়েছিল, মন্তব্য চেয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তাৎক্ষণিক জবাব পায়নি তারা। এরপর ফক্স নিউজকে প্রশাসন জানায়, মাঠপর্যায়ে গুরুতর অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এটি আনুষ্ঠানিক নীতিবদল নয়; বিষয়টি স্পষ্ট করে আইসিই দপ্তরগুলোতে নতুন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের আইসিই এখনো গ্রেপ্তার ও ডিপোর্ট করতে পারে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছাড়া সেখানে পাওয়া অন্য অনথিভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বহাল রয়েছে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এখানে ‘অপরাধের রেকর্ড নেই’ বলতে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ড বা অভিযোগ না থাকার কথা বোঝানো হচ্ছে। এতে কারও অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান বা ডিপোর্টেশনের আদেশ বদলে যায় না। ডেইলি ওয়্যারের কর্মকর্তাদের দেওয়া বিবরণ এবং প্রশাসনের পরবর্তী বক্তব্যে পার্থক্য থাকলেও বর্তমান সরকারি অবস্থান হলো, আইসিইর গ্রেপ্তারনীতি বদলায়নি। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়েছে। ডিএইচএস জানিয়েছে, অপরাধের রেকর্ড বা মুলতবি ফৌজদারি অভিযোগ নেই, এমন অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য “ফলস” বা মিথ্যা। বিভাগটি বলেছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেউই গ্রেপ্তারের আওতার বাইরে নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইসিইর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এদিকে পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিইর কিছু মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে অপরাধী ও গুরুতর অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা পৌঁছেছিল। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এটিকে আনুষ্ঠানিক নীতির পরিবর্তন নয়, বরং ভুল যোগাযোগ বা বিভ্রান্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। পরে আইসিইর মাঠ কার্যালয়গুলোতে নতুন নির্দেশনা পাঠিয়ে জানানো হয়, অভিবাসন প্রয়োগের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এবং অপরাধের অতিরিক্ত রেকর্ড না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বহাল রয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন দেওয়া প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের সরকারি ব্যয় বা বরাদ্দ বাতিল ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভিবাসী সেবা এবং বৈচিত্র্য ও সমতাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের বরাদ্দ ছাঁটাই করতে এক বিরল ও বিতর্কিত আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্পের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) এই পদক্ষেপকে সরকারের ‘সবচেয়ে ক্ষতিকর ব্যয়’ রোধ করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রশাসনের দাবি, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় এই তহবিলগুলোর আর প্রয়োজন নেই। ফলে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীনে পরিচালিত শরণার্থী ও অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী শিশুদের সহায়তা সংক্রান্ত কর্মসূচিগুলোতেই সবচেয়ে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। অভিবাসী সহায়তা ছাড়াও শিক্ষা বিভাগের অভিবাসী শিক্ষার্থী কর্মসূচি, বিচার বিভাগের বর্ণগত উত্তেজনা প্রশমন দপ্তর, সংখ্যালঘু উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক উন্নয়ন উদ্যোগ এবং আবাসন বিভাগের কাউন্সেলিং সেবার বরাদ্দও বাতিলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংক্রান্ত তথাকথিত 'ওক' (woke) কর্মসূচি থেকে ৭ কোটি ডলার, স্বাস্থ্য গবেষণা অনুদান থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, সংখ্যালঘু ব্যবসা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১ কোটি ডলার এবং জলবায়ু নীতিতে অর্থায়ন করা বিদেশি দেশগুলোর ঋণ মওকুফ তহবিল থেকে ৯০ লাখ ডলার প্রত্যাহার করছে প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত এসব সংস্থার বেশ কয়েকটির নেতৃত্বে সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে খোদ রিপাবলিকান দলের ভেতর থেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির চেয়ার ও রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স কোনো পূর্ব সতর্কতা বা আলোচনা ছাড়া নেওয়া এই পদক্ষেপকে কংগ্রেসের আর্থিক ক্ষমতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি একে ‘অবৈধ কার্যক্রম’ অভিহিত করে জানান, ওএমবি কোনোভাবেই কোন কর্মসূচি চলবে আর কোনটি বন্ধ হবে তা এককভাবে নির্ধারণ করতে পারে না। অন্যদিকে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য প্যাটি মারে এই পদক্ষেপকে ‘আমেরিকান জনগণের সঙ্গে প্রকাশ্য চুরি’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, দ্বিদলীয় ঐকমত্যে পাস হওয়া এই অর্থ সাধারণ মানুষের কাজে না লাগিয়ে প্রশাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে। ফেডারেল আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত ব্যয় সংকোচনের ওপর পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসকে ৪৫ দিন সময় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে অর্থবছর শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিন বাকি থাকতে এবং প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন মুলতবি থাকা অবস্থায় এই ঘোষণা দিয়ে সেই সুযোগ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সরকারের ওয়াচডগ সংস্থা গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস (জিএও)-এর মতে, আইনপ্রণেতাদের পাশ কাটিয়ে তহবিল বাতিল করার এই 'পকেট রিসিশন' কৌশলটি আইনসম্মত নয়। এর আগেও গত বছর বিদেশি সহায়তার প্রায় ৫০০ কোটি ডলার আটকে দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এবার অভ্যন্তরীণ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে একই ধরনের হস্তক্ষেপ করায় নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভার মধ্যে নতুন করে তীব্র সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক আদালতের তিনটি নির্দেশ অমান্য করে এক আশ্রয়প্রার্থীকে এল সালভাদরে বিতাড়িত করার দায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। শুক্রবার দেওয়া এক আদেশে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ স্টেফানি গ্যালাগার সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন, আদালতের নথিতে 'ই.এল.এ.' (E.L.A.) হিসেবে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই সঙ্গে তাঁর আশ্রয়ের আবেদন পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে বিতাড়নের কোনো আদেশ কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে সরকারকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে দুবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। প্রথমবার বিতাড়নের পর তিনি গত ৭ আগস্ট স্বেচ্ছায় বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং নিজেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সমর্পণ করেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বন্দি রাখার পর মার্কিন সরকার তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো এমন একটি দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠায়, যেখানে তিনি নিপীড়নের আতঙ্কে ছিলেন। এই ঘটনাটি মূলত ২০১৯ সালের একটি ফেডারেল ক্লাস-অ্যাকশন মামলার অংশ, যা অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসীদের আশ্রয়ের অধিকার আইনিভাবে রক্ষা করে। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আইনি সুরক্ষার আওতায় থাকা অন্তত ১০৭ জন ব্যক্তিকে (যার মধ্যে ৫৪ জন নিশ্চিত এবং ৫৩ জন সম্ভাব্য সুরক্ষিত সদস্য) তাঁদের আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই অন্যায়ভাবে বিতাড়ন করা হয়েছে। এছাড়া, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ২,৫০০ ডলার অনুদান দেওয়ারও প্রস্তাব দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত আগস্ট মাসেও বিচারক গ্যালাগার ডিএইচএস-কে দেওয়ানি অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। সে সময় তিনি রায় দিয়েছিলেন যে, আইনগত বাধা থাকা সত্ত্বেও সরকার বারবার তরুণ আশ্রয়প্রার্থীদের বিতাড়িত করছে। সর্বশেষ এই ঘটনা নিয়ে এবিসি নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ডিএইচএস-এর কোনো মুখপাত্র তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। শুক্রবারের ওই আদেশে আগামী ২ অক্টোবরের মধ্যে ওই আশ্রয়প্রার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি আদালতকে জানাতে উভয় পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে আটজন নিহত হয়েছেন, যাদের তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এ ছাড়া অন্তত ১৫টি ঘটনায় অভিবাসন কর্মকর্তারা গুলি চালালেও কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। এবিসি নিউজের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব গুলির ঘটনা ঘটেছে। এবিসি নিউজ তাদের প্রতিবেদন, আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য এবং সরকারি বিভিন্ন বিবৃতি বিশ্লেষণ করে এই সংখ্যা নির্ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাটি ঘটে গত রোববার টেক্সাসের অস্টিনে। সেখানে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এক কর্মকর্তা ২৮ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার নাগরিক উইলবার রাফায়েল গারসেস পেরেজকে গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তিনি ডোরড্যাশের হয়ে খাবার সরবরাহ করছিলেন বলে তার আইনজীবী এবং ডোরড্যাশ নিশ্চিত করেছে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর গারসেস পেরেজকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়ে আবার ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ জানিয়েছেন, তার শরীরে এখনো একটি গুলি রয়েছে, যা মেরুদণ্ডের কাছাকাছি আটকে আছে। ২৩ সেপ্টেম্বর টেক্সাস ট্রিবিউনও জানিয়েছে, গুলিটি অপসারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। গারসেস পেরেজের আইনজীবীর বক্তব্য, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন এবং আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দেশ থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল। অর্থাৎ, ঘটনাটি ঘিরে তার অভিবাসন অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। অস্টিনের ঘটনার পর তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইসিই কর্মকর্তা ঘটনার সময় শরীরে পরিধানযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহার করছিলেন না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। অস্টিন পুলিশও আলাদাভাবে তদন্ত করছে। ২২ সেপ্টেম্বর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এক কর্মকর্তার বডি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করে। তবে ওই ভিডিওতে গুলি চালানোর আগের পুরো ঘটনাটি স্পষ্ট হয়নি। অস্টিন পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস জানিয়েছেন, তার বিভাগ এবং টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে। তিনি বলেন, অস্টিন পুলিশের কর্মকর্তারা আইসিইর মূল অভিযানে অংশ নেননি। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে অনুসরণ করা হবে বলেও তিনি জানান। অস্টিনের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কিছু কংগ্রেস সদস্য আইসিইর কর্মকাণ্ডে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। শতাধিক কংগ্রেস সদস্য গারসেস পেরেজকে চিকিৎসার জন্য মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আইসিইর অভিযান বন্ধ করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। বিভাগটি বলেছে, কংগ্রেসের পাস করা আইন বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব এবং অস্টিনে আইসিইর অভিযান থামবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মার্কওয়েন মুলিনও আইসিই কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এদিকে, অস্টিনের ঘটনার আগে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনাগুলো নিয়েও কংগ্রেসে শুনানি হয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সিনেটের পার্মানেন্ট সাবকমিটি অন ইনভেস্টিগেশনস এবং প্রতিনিধি পরিষদের কমিটি অন ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিফর্ম যৌথ শুনানির আয়োজন করে। সেখানে আইসিই-সংশ্লিষ্ট প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। শুনানিতে রেনে গুডের মা ডোনা গ্রেঞ্জারও বক্তব্য দেন। ৩৭ বছর বয়সী গুডকে জানুয়ারিতে মিনেসোটায় এক আইসিই কর্মকর্তা গুলি করে হত্যা করেন। গুড ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। শুনানিতে আরও বক্তব্য দেন টেক্সাসের হিউস্টনে জুলাইয়ে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকোর নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদোর পরিবার। তার ছেলে লরেঞ্জো সালগাদো জুনিয়র আইনপ্রণেতাদের বলেন, বাবার মৃত্যুর আড়াই মাস পরও পরিবার তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, যেমন মানিব্যাগ ও ফোন, ফেরত পায়নি এবং ঘটনার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকেও পর্যাপ্ত উত্তর পায়নি। অস্টিনে গারসেস পেরেজকে গুলি করার ঘটনায় স্থানীয় মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরাও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। লিগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনসের প্রেসিডেন্ট রোমান পালোমারেস হিউস্টনের প্রাণঘাতী ঘটনার তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং অস্টিনের ঘটনার স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান। এবিসি নিউজের হিসাবে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে আটটি ছিল প্রাণঘাতী এবং নিহতদের তিনজন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। একই সময়ে আরও অন্তত ১৫টি ঘটনায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা গুলি চালালেও কেউ আহত হননি। এই হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কঠোর অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র ব্যবহারের মাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সূত্র: এবিসি নিউজ, দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন
ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫০০ শরণার্থী গ্রহণের পরিকল্পনা কংগ্রেসকে জানিয়েছে। মঙ্গলবার কংগ্রেসে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত শরণার্থীদের বড় অংশ দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ, বিশেষ করে আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের মানুষ হতে পারেন। এই সংখ্যা গত বছরের নির্ধারিত ৭ হাজার ৫০০ শরণার্থীর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে ১৭ হাজার ৫০০ সংখ্যাটি সর্বোচ্চ সীমা, অর্থাৎ এর বেশি শরণার্থী গ্রহণ করা হবে না। বাস্তবে এর পুরো সংখ্যাটি ভর্তি হবে কি না, তা আলাদা বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি অর্থবছরে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শের পর শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করেন। প্রস্তাবিত নীতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকানারদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। আফ্রিকানাররা মূলত ডাচ ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকানদের একটি সম্প্রদায়। ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, সম্পত্তি অধিগ্রহণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের ওপর গণহত্যা চলছে এমন দাবিকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও সংগঠন প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকানার শরণার্থী গ্রহণের পেছনে প্রশাসনের দেওয়া কারণ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ফলে নতুন শরণার্থী নীতিটি মানবিক সুরক্ষা, অভিবাসন নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের এই পরিকল্পনা এমন সময়ে এসেছে যখন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্বাসন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী গ্রহণ কর্মসূচি স্থগিত করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। পরে সীমিত পরিসরে কিছু শরণার্থী গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচিতে কোনো ব্যক্তি শরণার্থী হিসেবে গ্রহণের আগে একাধিক ধাপে যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যান। বিদেশে থাকা এমন ব্যক্তিদের জন্য এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য, যারা নিজ দেশে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বা নিপীড়নের আশঙ্কায় দেশে ফিরতে পারেন না। শরণার্থী ও অ্যাসাইলামপ্রার্থীর মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে। শরণার্থী সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করেন, আর অ্যাসাইলামপ্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে সুরক্ষা চান। ২০২৬ অর্থবছরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী পুনর্বাসনের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আগত শরণার্থীদের সংখ্যা অন্য দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে। শরণার্থী প্রসেসিং সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অর্থবছরের দেশভিত্তিক ভর্তি ও পুনর্বাসনের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট প্রতি অর্থবছরের জন্য শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করেন এবং এ বিষয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়। এরপর প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সংখ্যা কার্যকর হয়। তাই কংগ্রেসে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৭ হাজার ৫০০ শরণার্থী গ্রহণের পরিকল্পনা কার্যকর হলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানারদের জন্য বড় অংশ বরাদ্দের পরিকল্পনাই এই নীতির সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই তা ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়। একই সময়ে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে কয়েকটি শহর ও কাউন্টিও পৃথক মামলা করেছে। নতুন নিয়মটি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নীতিতে গ্রিন কার্ড, নির্দিষ্ট ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন পর্যালোচনার সময় কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির মতো কিছু সরকারি সুবিধা বিবেচনায় আসতে পারে। রাজ্যগুলো বলছে, এতে বৈধভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করা অভিবাসী পরিবারগুলো গ্রিন কার্ডের আবেদন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। মামলাকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, কলোরাডোসহ মোট ২২টি রাজ্য রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াও যুক্ত হয়েছে। মামলাটি নিউইয়র্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, নতুন নীতিটি ডিএইচএসের আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নিয়মও লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে পৃথক একটি মামলায় শিকাগো, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং কয়েকটি কাউন্টি ও স্থানীয় সরকার যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর দাবি, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবারগুলো মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য বৈধ সরকারি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। এতে শুধু অভিবাসীদের নয়, এসব কর্মসূচি পরিচালনাকারী রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের ওপরও আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে তারা আদালতে যুক্তি দিয়েছে। ডিএইচএস অবশ্য নতুন নীতিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে এমন ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ড বা ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কোনো আবেদনকারীর পরিস্থিতি কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। নতুন নিয়মটি ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে চালু করা অনুরূপ নীতির সঙ্গে মিল রয়েছে। পরে বাইডেন প্রশাসন সেই নীতি বাতিল করে ২০২২ সালে তুলনামূলকভাবে সীমিত একটি কাঠামো চালু করেছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডিএইচএস সেই ২০২২ সালের বিধান বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, নতুন নিয়ম ১৮ সেপ্টেম্বর কার্যকর হবে। মামলার ফলে এখন ফেডারেল আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুন নীতিটি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে কার্যকর করা হয়েছে কি না এবং তা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত কার্যকর তারিখ ঘিরে গ্রিন কার্ড ও সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তির গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন সরল নিয়ম নয়; কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কয়েকজন ননসিটিজেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা কিংবা মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবি করার অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে গ্রিন কার্ডধারী এক ব্যক্তিও রয়েছেন। সেপ্টেম্বর ১৫ তারিখে টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান, ছয়জনকে ১০ সেপ্টেম্বর এবং আরও একজনকে ১১ সেপ্টেম্বর অবৈধ ভোট বা মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ননসিটিজেনদের ভোট দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮ আগস্ট ৩০ বছর বয়সী এক হন্ডুরাসের নাগরিক ও গ্রিন কার্ডধারীকে ভোটার হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে নিবন্ধনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ফরমে নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে প্রসিকিউটরদের নথিতে বলা হয়েছে, তিনি শেষ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে ভোট দেননি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবি ও প্রতারণামূলক ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসেও একটি মামলায় একজন চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে অন্য এক গ্রিন কার্ডধারী চীনা নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যালট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি গত ৩ সেপ্টেম্বর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। কানসাসে ১০ সেপ্টেম্বর আরেক পেরুভিয়ান নাগরিকের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন জেনেও নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন এবং প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নির্বাচনে ব্যালট দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মার্কিন নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। গ্রিন কার্ডধারীরা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হলেও তারা মার্কিন নাগরিক নন। ফলে তারা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, কোনো গ্রিন কার্ডধারী ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিলে বা শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত কোনো স্টেট বা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিলে তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসেও গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। তবে স্থানীয় নির্বাচনের নিয়ম সব জায়গায় এক নয়। কিছু স্থানীয় এলাকায় আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানীয় নির্বাচনে ননসিটিজেনদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তাই কোনো গ্রিন কার্ডধারী ভোট দিয়েছেন কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি কোন ধরনের নির্বাচনে ভোট দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় আইনে কারা ভোট দিতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মামলাগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচনী আইন প্রয়োগ জোরদারের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। ২০২৬ সালের মে মাসে বিচার বিভাগের অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেল একটি মতামতে জানায়, ননসিটিজেনদের বেআইনি ভোট শনাক্ত করার প্রচেষ্টায় স্টেটভিত্তিক ভোটার তালিকা সংগ্রহ ও তা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে শেয়ার করার আইনি কর্তৃত্ব বিচার বিভাগের রয়েছে। তবে এসব মামলার সব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফেডারেল প্রসিকিউশনগুলোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র বা ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট কেবল অভিযোগের বিবরণ দেয় এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনের চোখে নির্দোষ।
যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলকে মঙ্গলবার সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানিতে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এফবিআইয়ের কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে নজরদারি শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা তার নেতৃত্বের ধরন, এজেন্টদের বিদায়, সরকারি সম্পদের ব্যবহার, ২০২০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত তদন্ত এবং জেফ্রি এপস্টেইন তদন্তসহ একাধিক বিতর্কিত বিষয় সামনে আনেন। রিপাবলিকানরা অন্যদিকে এফবিআইয়ের অপরাধ দমন কার্যক্রম এবং ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে তদন্তের বিষয়গুলোতে জোর দেন। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই শুনানিটি প্যাটেলের জন্য কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ জবাবদিহির আরেকটি পর্ব। সিনেটের সরকারি সূচি অনুযায়ী, এফবিআইয়ের ওপর নজরদারি নিয়ে শুনানিতে প্যাটেলই ছিলেন প্রধান সাক্ষী। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি একই কমিটির সামনে হাজির হয়েছিলেন। শুনানির শুরুতেই সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ডিক ডারবিন প্যাটেলের নেতৃত্ব নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের লাইভ আপডেট অনুযায়ী, ডারবিন প্যাটেলের অভিজ্ঞতা, বিচারবোধ ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআইয়ের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও গুরুত্ব পায়। প্যাটেলের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের একটি বড় বিষয় হলো এফবিআইয়ের ভেতরে কর্মী পরিবর্তন। তার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্থাটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা ও এজেন্টের পদত্যাগ, বরখাস্ত বা দায়িত্ব পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাটরা জানতে চান, এসব পরিবর্তনের পেছনে পেশাগত প্রয়োজন ছিল, নাকি রাজনৈতিক আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এফবিআইয়ের নিয়োগ নীতিও শুনানির আগে নতুন করে আলোচনায় আসে। সিনেটের ডেমোক্র্যাটরা প্যাটেলের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন, কেন সংস্থাটি কিছু আচরণকে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অযোগ্যতার কারণ হিসেবে রাখা থেকে সরে এসেছে। এর মধ্যে চাকরির জায়গা থেকে চুরি, যৌনসেবা ক্রয় এবং পশুর সঙ্গে যৌন আচরণের মতো বিষয়ও রয়েছে বলে সিনেটরদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি অর্থ ও এফবিআইয়ের বিমান ব্যবহারের বিষয়টিও শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্যাটেলের ব্যক্তিগত বা ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভ্রমণে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা আগে থেকেই তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন সরকারি বিমান ব্যবহারের বিষয়ে হুইসেলব্লোয়ারদের তথ্য তুলে ধরে সরকারি সম্পদের ব্যবহারের ওপর নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে এফবিআইয়ের তদন্তও শুনানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রয়টার্স জানিয়েছে, রিপাবলিকান সিনেটররা ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে তদন্তের বিষয়টি সামনে আনতে পারেন। একই সময়ে ডেমোক্র্যাটরা প্যাটেলের করা গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য এবং সেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। জেফ্রি এপস্টেইনসংক্রান্ত তদন্ত ও নথি নিয়েও প্যাটেলকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এফবিআইয়ের আগের এক শুনানিতে প্যাটেল বলেছিলেন, এপস্টেইন মামলার প্রাথমিক তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য যথেষ্টভাবে সংগ্রহ করা হয়নি। তিনি আরও বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইনগতভাবে প্রকাশযোগ্য তথ্য কংগ্রেসের কাছে তুলে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে, প্যাটেল নিজের নেতৃত্বের পক্ষে এফবিআইয়ের অপরাধ দমন কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরেছেন। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তার দায়িত্বকালে সহিংস অপরাধ, মানবপাচার, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং মাদক ও গ্যাংবিরোধী অভিযানে সংস্থাটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এফবিআইয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্যাটেল এসব কার্যক্রমকে তার নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। শুনানিতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্যাটেলের কথোপকথনও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিনেটর কোরি বুকার প্যাটেলের নেতৃত্ব ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তার আনুগত্য নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তোলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুকার প্যাটেলকে সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক সমর্থন সবসময় স্থায়ী নাও হতে পারে। এদিকে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যরা এফবিআইয়ের অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সংস্থাটির ভূমিকার ওপর জোর দেন। ফলে শুনানিটি শুরু থেকেই এফবিআইয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের মঞ্চে পরিণত হয়। কাশ প্যাটেলের এই শুনানি এমন সময়ে হলো, যখন এফবিআইয়ের নেতৃত্ব, কর্মী ব্যবস্থাপনা, সরকারি সম্পদের ব্যবহার এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর তদন্ত নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। শুনানিতে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব এবং কংগ্রেসের পরবর্তী নজরদারি কার্যক্রম প্যাটেলের নেতৃত্বে এফবিআইয়ের ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে বিতর্ককে আরও প্রভাবিত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা মার্কিন সেনাদের পরিবারের সদস্যদের আটক ও ডিপোর্টেশনের ঘটনা বাড়ছে, এমন সময় পেন্টাগন আবারও অভিবাসী সম্প্রদায় থেকে সেনা নিয়োগ বাড়াচ্ছে। এবিসি নিউজের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ৫০ জনের বেশি সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনার বাবা-মা ও স্বামী-স্ত্রীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করেছে; তাদের মধ্যে অন্তত ৬ জনকে ডিপোর্ট করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির একটি উদাহরণ মার্কিন সেনাবাহিনীর স্পেশালিস্ট জেসমিন হার্নান্দেজের পরিবার। তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা বলেছেন। কিন্তু তার বাবা অ্যানিসেতো হার্নান্দেজ-রেইনাকে চলতি বছরের মে মাসে আইসিই আটক করে। ওই সময় তিনি মিলিটারি প্যারোল ইন প্লেস কর্মসূচির জন্য আবেদন করে অপেক্ষায় ছিলেন। মিলিটারি প্যারোল ইন প্লেস এমন একটি অভিবাসন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনা, সাবেক সেনা বা তাদের পরিবারের কিছু অনথিভুক্ত সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে থাকার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই কর্মসূচিতে আবেদন করা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা দেয় না—ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসও বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। এবিসি নিউজের পর্যালোচনা অনুযায়ী, হার্নান্দেজের বাবার বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তার ২০০২ সালের একটি ডিইউআইসহ কয়েকটি ট্রাফিক-সংক্রান্ত রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে তিনি অ্যারিজোনার ইলোয় ডিটেনশন সেন্টারে আছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর আগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের অনুসন্ধানে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ৫২টি সামরিক পরিবারের সদস্য আটক হওয়ার ঘটনা শনাক্ত করা হয়। এসব পরিবারের সদস্য ছিলেন সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাদের বাবা-মা বা স্বামী-স্ত্রী। এপির অনুসন্ধানে অন্তত ছয়জন ডিপোর্ট হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়; সরকারি কোনো নির্দিষ্ট হিসাব না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও তদন্ত শুরু করেছেন। ৬০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা ডিএইচএস, ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট ও ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের কাছে জানতে চেয়েছেন, সামরিক পরিবারের সদস্যদের আটক ও ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রে পেন্টাগন এবং ডিএইচএসের মধ্যে কোনো সমন্বয় রয়েছে কি না। পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা আইনপ্রণেতাদের চিঠির জবাব সরাসরি দেবে। অন্যদিকে, একই সময়ে পেন্টাগন গ্রিন কার্ডধারী অভিবাসীদের নিয়োগ বাড়াচ্ছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীতে জনবল বাড়ানোর অংশ হিসেবে অভিবাসী সম্প্রদায় থেকে নিয়োগের ওপর গুরুত্ব বাড়ছে। ফলে একদিকে অভিবাসী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইসিইর অভিযান, অন্যদিকে অভিবাসী সম্প্রদায় থেকেই সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ—এই দুই নীতির মধ্যে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য বিষয়টি শুধু পারিবারিক সংকট নয়, সেনাদের মানসিক চাপ ও সামরিক প্রস্তুতির সঙ্গেও যুক্ত বলে সামরিক নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি আর্মি আইনি নোটিশে বলা হয়েছিল,পরিবারের সদস্যের অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা সেনাসদস্যের মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং দায়িত্ব পালনে মনোযোগ ব্যাহত করতে পারে। তবে ডিএইচএসের অবস্থান হলো, শুধু মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কাজ করার কারণে পরিবারের কোনো অনথিভুক্ত সদস্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পান না এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের পরিণতি থেকেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি মেলে না। ফলে বর্তমানে সামরিক পরিবারের সদস্যদের জন্য অভিবাসন সুরক্ষা, সামরিক দায়িত্ব ও ডিপোর্টেশন নীতির সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রে বড় রাজনৈতিক ও মানবিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদন মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। মেয়র জোহান মামদানি সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন। ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে করা মামলায় নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে একাধিক স্থানীয় সরকার এই নীতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছে। মামলাকারীদের দাবি, নতুন বিধির মাধ্যমে ফেডারেল সরকার ‘পাবলিক চার্জ’ ধারণার প্রচলিত ও দীর্ঘদিনের আইনি ব্যাখ্যার সীমা অতিক্রম করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের জুলাইয়ে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি প্রকাশ করে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বিধির আওতায় নির্দিষ্ট ভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের সময় আগের তুলনায় বিস্তৃত পরিসরের সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে আয়ভিত্তিক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা এবং আবাসন সহায়তার মতো সুবিধা রয়েছে। তবে কোনো অভিবাসী এসব সুবিধার একটি গ্রহণ করলেই তার ভিসা বা গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন বিধান নেই। কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। নিউইয়র্ক সিটির মামলায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ শব্দটি দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যিনি মূলত সরকারের কাছ থেকে নগদ সহায়তার ওপর জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্ভরশীল। মামলাকারীদের মতে, সাময়িক, সম্পূরক বা নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধাকে এই ধারণার আওতায় বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ঐতিহাসিক আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, কংগ্রেস অতীতে ‘পাবলিক চার্জ’ ধারণার পরিধি বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে প্রশাসনিকভাবে নতুন বিধির মাধ্যমে এর অর্থ ও প্রয়োগের ক্ষেত্র ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। মেয়র মামদানি বলেন, নতুন নীতি অভিবাসী পরিবারগুলোকে এমন সরকারি কর্মসূচি থেকেও দূরে সরিয়ে দিতে পারে, যেগুলো তারা আইন অনুযায়ী পাওয়ার অধিকার রাখে। তার আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা বা আবাসন সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রেও অভিবাসীদের মধ্যে ভয় তৈরি হতে পারে। মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের অভিবাসী সম্প্রদায় কোনো বোঝা নয়। তারা শহর ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে শহর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি। নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে শিকাগো ও সিয়াটলসহ আরও কয়েকটি স্থানীয় সরকার এই আইনি চ্যালেঞ্জে যুক্ত হয়েছে। তাদের মূল উদ্বেগ হলো, নতুন নীতি কার্যকর হলে বৈধভাবে সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীরাও প্রয়োজনীয় সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য নতুন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, অভিবাসন আইনে আবেদনকারীদের ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং নতুন বিধি সেই আইনগত কাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, অভিবাসীদের নিজেদের আর্থিকভাবে সক্ষম থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু একটি সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্য নয়, বরং তার বয়স, স্বাস্থ্য, আয়, সম্পদ, পারিবারিক পরিস্থিতি, চাকরি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি দীর্ঘদিনের। তবে এর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনের সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে এই নীতির পরিধি বাড়ানো হয়েছিল। পরে বাইডেন প্রশাসন ২০২২ সালে সেই বিস্তৃত বিধান বাতিল করে তুলনামূলকভাবে সীমিত কাঠামো চালু করে। নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার আগেই নিউইয়র্কসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকারের করা মামলার কারণে বিষয়টি আবার আদালতের সামনে এসেছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি নির্ধারিত সময়ে কার্যকর হবে কি না এবং এর কতটা অংশ বাস্তবে প্রয়োগ করা যাবে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের অভিবাসনবিষয়ক কার্যালয় অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা প্রয়োজন এমন বাসিন্দাদের নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি সহায়তার জন্য শহরের হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
আইসিইর হাতে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীকে আটকের ঘটনায় সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন ও ডিউ প্রসেস নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানোর প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক এক ইমিগ্রেশন জজ। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্টের সাবেক বিচারক ক্লোয়ি ডিলন এ অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছেন। ৯ সেপ্টেম্বরের পর দায়ের করা মামলায় ডিলন দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে তিনি প্রায় তিন বছর সান ফ্রান্সিসকোতে ইমিগ্রেশন জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়ার আগে তিনি কর্মক্ষেত্রে ভালো মূল্যায়ন পেয়েছিলেন এবং হাজারো ইমিগ্রেশন মামলা পরিচালনা করেছিলেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় তার আদালতে হাজির হওয়া এক ব্যক্তিকে ঘিরে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি কোনো অ্যাটর্নি ছাড়াই আদালতে হাজির হয়েছিলেন। শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার পর তাকে আইসিই আটক করে। বিষয়টি জানার পর ডিলন সংশ্লিষ্ট ফাইল আবার পর্যালোচনা করেন। ফাইল পর্যালোচনার পর ডিলনের ধারণা হয়, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একা ছিলেন। ফলে তিনি সম্ভবত ফেডারেল আইনের আওতায় একজন আনঅ্যাকম্পানিড মাইনর হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য ছিলেন। ডিলনের অভিযোগ, এমন অবস্থায় তাকে দ্রুত ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া বা expedited removal-এ নেওয়া আইনগতভাবে সম্ভব নাও হতে পারে। তার আগে করা অ্যাসাইলাম অ্যাপ্লিকেশনও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিবেচনার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল বলে তিনি মনে করেন। মামলায় বলা হয়েছে, ওই ঘটনার দিনই ডিলন তার সুপারভাইজারকে ইমেইল করে বিষয়টি জানান। সেখানে তিনি আইসিইর আটকের ঘটনায় সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন এবং ডিউ প্রসেসের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। কিন্তু এর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পরই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়। ডিলনের দাবি, তার বরখাস্তের সঙ্গে আগের ওই অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং এটি ছিল হুইসেলব্লোয়িংয়ের কারণে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা। ডিলনের মামলায় হুইসেলব্লোয়ার প্রোটেকশন অ্যাক্ট, প্রথম সংশোধনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বিভিন্ন সুরক্ষা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বরখাস্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চেয়েছেন। মামলাটি ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়েছে। তবে ডিলনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এক মুখপাত্র বলেছেন, চলমান মামলা বা কর্মীদের বিষয়ে সাধারণত তারা মন্তব্য করে না। তবে ডিলনের অভিযোগকে তারা সরাসরি মিথ্যা বলে দাবি করেছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট ও ইমিগ্রেশন কোর্টের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে একাধিক ইমিগ্রেশন জজকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ইমিগ্রেশন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রম জোরদারের ওপর প্রশাসনের গুরুত্ব বেড়েছে। আনঅ্যাকম্পানিড মাইনরদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিশেষ কিছু সুরক্ষা রয়েছে। একা যুক্তরাষ্ট্রে আসা শিশু বা কিশোরদের জন্য অ্যাসাইলামসহ বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন রিলিফের সুযোগ থাকতে পারে এবং তাদের মামলায় নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার প্রয়োজন হয়। ফলে আইসিই কোনো আনঅ্যাকম্পানিড মাইনরকে আটক করার পর তাকে কোন প্রক্রিয়ায় ডিপোর্টেশনের মুখোমুখি করা যাবে, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। ডিলনের মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। ফলে তিনি যে প্রতিশোধমূলকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন বা আইসিইর আটক বেআইনি ছিল, তা আদালত এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেনি। তবে অভিযোগটি ইমিগ্রেশন জজদের স্বাধীনতা, ডিউ প্রসেস এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িতে থেকে সন্তান লালন-পালন করা অভিভাবকদেরও সরকারি শিশু যত্ন ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বাস্তবায়িত হলে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা কিছু বিবাহিত দম্পতি, যাদের একজন বাইরে কাজ করবেন আর অন্যজন বাড়িতে থেকে সন্তানের যত্ন নেবেন, তারা ফেডারেল সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পরিকল্পনাটি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। বর্তমানে যে ফেডারেল তহবিল থেকে কম ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী পরিবারগুলো শিশু যত্নের খরচের জন্য সহায়তা পায়, সেই চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকেই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তহবিলটির আকার প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো পরিবারকে যোগ্য হতে হলে আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে। পাশাপাশি একজন বিবাহিত অভিভাবককে সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং অন্যজন বাড়িতে থেকে নিজের সন্তানের যত্ন নেবেন। এ ক্ষেত্রে বাড়িতে থাকা অভিভাবকের যত্নকে শিশু পরিচর্যার একটি ধরন হিসেবে বিবেচনা করে ভাতা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমান ব্যবস্থায় সাধারণত বাবা-মাকে কাজ, পড়াশোনা অথবা প্রশিক্ষণে থাকার শর্ত পূরণ করতে হয়। সরকারি সহায়তাটি মূলত শিশুদের ডে-কেয়ার বা অন্যান্য পরিচর্যার খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে একই তহবিলের অর্থ বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করা কিছু পরিবারও পেতে পারে। বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পরিবার শিশু যত্নের ভর্তুকি পাচ্ছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারে একক কর্মজীবী অভিভাবক রয়েছেন এবং তাদের বেশিরভাগই নারী। নতুন পরিকল্পনার সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, একই পরিমাণ অর্থ আরও বেশি পরিবারের মধ্যে ভাগ হলে কর্মজীবী ও একক অভিভাবকদের জন্য বরাদ্দ কমে যেতে পারে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বাড়িতে থাকা অভিভাবককে সরাসরি অর্থ দেওয়ার ফলে শিশু যত্নের বর্তমান বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কিছু বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল ডে-কেয়ার কেন্দ্রগুলো শিশু হারালে আয় কমে যেতে পারে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়তে পারে। অন্যদিকে, পরিকল্পনাটির সমর্থকেরা বলছেন, সন্তান লালন-পালনে বাড়িতে থাকা অভিভাবকের অবদানও আর্থিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে পরিবার ও শিশুদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। তবে নতুন নিয়ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসের অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ ও জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর থেকেই এটি কার্যকর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে থেকে নিজের সন্তানকে দেখাশোনা করা কিছু বাবা-মাকে ফেডারেল চাইল্ড কেয়ার সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন পরিকল্পনাটি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে একজন বাবা বা মা ঘরে থেকে নিজের সন্তানের যত্ন নিলে এবং অন্য স্বামী বা স্ত্রী সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করলে পরিবারটি চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বা সিসিডিএফ-এর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এই অর্থ নতুন কোনো আলাদা ফেডারেল তহবিল থেকে দেওয়ার পরিকল্পনা নয়। বরং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীনে থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থ ব্যবহারের নিয়ম পরিবর্তন করে নতুন ধরনের চাইল্ড কেয়ার সহায়তা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই তহবিল বর্তমানে মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী বাবা-মা, স্কুলে থাকা কিংবা চাকরির প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া অভিভাবকদের সন্তানদের চাইল্ড কেয়ার খরচে সহায়তা করে। খসড়া নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় একজন বিবাহিত বাবা বা মা নিজের সন্তানকে ঘরে থেকে দেখাশোনা করলেও চাইল্ড কেয়ার সহায়তার জন্য যোগ্য হতে পারেন। প্রস্তাবটির উদ্দেশ্য হবে ঘরে থাকা অভিভাবকের হারানো আয়ের একটি অংশ পুষিয়ে দিতে সহায়তা করা। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে প্রায় ৯ হাজার ডলার সমপরিমাণ চাইল্ড কেয়ার সহায়তা পেয়ে থাকে। তবে নতুন প্রস্তাবের অর্থ সরাসরি ৯ হাজার ডলার নগদ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে দেওয়া হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রস্তাবিত নিয়মে বিবাহিত দম্পতিদের জন্য বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, একজন স্বামী বা স্ত্রীকে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং অন্যজন নিজের সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য ঘরে থাকতে পারবেন। নির্দিষ্ট আয়ের সীমাও প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে, অবিবাহিত দম্পতি যেখানে একজন বাবা বা মা ঘরে থেকে সন্তান দেখাশোনা করেন, তারা এই প্রস্তাবিত নতুন ক্যাটাগরির আওতায় থাকবেন না। একইভাবে কাজ না করা একক অভিভাবকরাও এই নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য হবেন না। বর্তমান সিসিডিএফ নিয়মেও পরিবারের আয় এবং বাবা-মায়ের কাজ, শিক্ষা অথবা চাকরির প্রশিক্ষণের সঙ্গে যোগ্যতার সম্পর্ক রয়েছে। ফেডারেল নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যগুলো তাদের নির্ধারিত রাজ্যের মধ্যম আয়ের সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত আয় করা পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় নিতে পারে। তবে অনেক রাজ্য এর চেয়ে কম আয়ের সীমা নির্ধারণ করে। তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। চাইল্ড কেয়ার নীতির বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, একই তহবিল থেকে ঘরে থাকা বাবা-মাকে সহায়তা দেওয়া হলে বর্তমানে যারা কাজ করার জন্য চাইল্ড কেয়ার ভর্তুকি ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ কমে যেতে পারে। এতে কিছু চাইল্ড কেয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কংগ্রেসে উত্থাপিত নতুন কোনো বিল নয়। প্রশাসন বিদ্যমান সিসিডিএফ কর্মসূচির নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য নতুন করে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে খসড়া নিয়ম চূড়ান্ত হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসের অনুমোদন এবং সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার মতো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রস্তাবটি এখনো পরিবর্তিত হতে পারে এবং চূড়ান্ত হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনুমোদিত হলে আগামী বছর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বর্তমানে যারা ঘরে থেকে সন্তান দেখাশোনা করছেন, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন এই সুবিধার নামে এখনই কোনো আবেদন বা অর্থ পাওয়ার দাবি করার সুযোগ তৈরি হয়নি। নিয়ম চূড়ান্ত হওয়ার পরই যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া এবং কোন রাজ্যে কীভাবে সুবিধাটি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে চাইল্ড কেয়ার খরচ নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকটের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ কার্যকর হলে ফেডারেল চাইল্ড কেয়ার অর্থ কীভাবে পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে, তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আপাতত এটি একটি প্রস্তাবিত নীতি, চালু হওয়া সরকারি সুবিধা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হাসপাতালগুলোর জন্য বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে সোমবার থেকে হাসপাতালগুলো প্রতিদিন আনুমানিক ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার করে অর্থ হারাচ্ছে। তহবিল আটকে দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টেক্সাসের হাসপাতালগুলোর ওপর আরোপিত একটি করব্যবস্থা। এই করের মাধ্যমে রাজ্য ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে মেডিকেইডের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিজস্ব অংশ সংগ্রহ করে। তবে এই অর্থায়ন পদ্ধতি নিয়ে কেন্দ্র ও টেক্সাসের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। টেক্সাসের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশনার বিষয়টি সমাধানে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন। এখনও এই অর্থ আটকে যাওয়ার কারণে মেডিকেইড রোগীদের চিকিৎসাসেবায় তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রোগী, হাসপাতালের কর্মী এবং চিকিৎসাসেবায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ হাসপাতাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন লাভ বলেন, নিরাপত্তাবেষ্টিত হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যের হাসপাতালগুলোর অর্থায়ন ব্যবস্থা ফেডারেল আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাপ্য অর্থ পাওয়া উচিত। কতদিন এই তহবিল আটকে থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের পাসপোর্ট আবেদনের নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত নতুন নির্দেশনায়, সন্তানের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকদের নিজেদের মার্কিন নাগরিকত্ব কিংবা অভিবাসন status-এর প্রমাণ দিতে হতে পারে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়া নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে শিশুদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। তবে বাবা-মা মার্কিন নাগরিক কি না, তা জানাতে আবেদনপত্রে ঘর পূরণ করলেও সাধারণত আলাদা করে নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দিতে হয় না। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বাবা-মাকে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মসনদ দিতে হতে পারে। আর মার্কিন নাগরিক না হলে বৈধ অভিবাসন status-এর প্রমাণ হিসেবে স্থায়ী বসবাসের কার্ড, যেটি গ্রিন কার্ড নামে পরিচিত, কিংবা আই-৯৪-এর মতো নথি জমা দিতে হতে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করে সরকার নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট শিশু নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য কি না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়ায় বলা হয়েছে, সন্তানের পাসপোর্ট আবেদনের সময় বাবা-মায়ের তথ্য এবং তাদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন status-এর প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। এর উদ্দেশ্য হবে, সংশ্লিষ্ট শিশু প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের আওতায় পড়ছে কি না, তা নির্ধারণ করা। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আগে আরও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বসংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ নিয়েও আদালতে মামলা চলছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর আগে ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করা। সেই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ব্যাপক আইনি চ্যালেঞ্জ হয়। ২০২৬ সালের জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের প্রচেষ্টাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মনে করেন, ওই আদেশ সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ববিষয়ক ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এরপর ৬ আগস্ট ট্রাম্প আরও সীমিত পরিসরে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে বিশেষভাবে তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ‘জন্ম পর্যটন’ বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনো নারী যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ করেন এবং সন্তানের জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ট্রাম্পের নতুন আদেশে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমন ক্ষেত্রে, যখন শিশুর বাবা-মায়ের একজন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রতারণা বা বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকে, অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘শত্রু বিদেশি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এই নতুন নির্দেশনা নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে। শিশুদের হয়ে মামলা করা আইনজীবীরা দুটি পৃথক ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন, যাতে ট্রাম্পের নতুন আদেশ কার্যকর হওয়া ঠেকানো যায়। এর মধ্যে একটি মামলা মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে মার্কিন জেলা বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যানের আদালতে রয়েছে। গত ২৮ আগস্ট তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আদেশটি স্থগিত করেননি। তবে এর আইনি ভিত্তি নিয়ে তিনি গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন এবং বাদীপক্ষকে তাদের মামলার আবেদন সংশোধনের অনুমতি দিয়েছেন, যাতে নতুন আদেশটি আটকে দেওয়া যায় কি না তা আদালত বিবেচনা করতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, নতুন নির্দেশনার বিরুদ্ধে এখনই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উপযুক্ত হবে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো কীভাবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা তখনও প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমান মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবস্থায়ও শিশুদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর মার্কিন জন্মসনদ, আগের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট কিংবা নাগরিকত্বের অন্য গ্রহণযোগ্য নথি দিয়ে তার নাগরিকত্ব প্রমাণ করা যায়। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর পাসপোর্ট আবেদনে সাধারণত বাবা-মা বা অভিভাবকদের উপস্থিতি এবং তাদের পরিচয়পত্রও প্রয়োজন হয়। তবে নতুন প্রস্তাবের পার্থক্য হলো, সন্তানের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পাশাপাশি বাবা-মায়ের নিজেদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন status-এর নথিও চাওয়া হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের অর্থ ও মূল্য রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পাসপোর্ট যাচাই প্রক্রিয়াও সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তা শুধু পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক পরিবর্তন আনবে না, বরং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক বিতর্ককেও আরও তীব্র করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব নির্ধারণে বাবা-মায়ের status কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, সেটিই এখন আদালত ও প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় ঠিক কবে থেকে এবং কোন কোন পরিবারের ক্ষেত্রে নতুন নথি বাধ্যতামূলক হবে, তা নিশ্চিত নয়। আদালতে চলমান মামলাগুলোর সিদ্ধান্তও এই নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের 'শক গ্লাভস' বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার গ্লাভস ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে সম্প্রতি একটি নতুন বিল পাস করেছেন। 'অ্যাসেম্বলি বিল ২৭৬০' নামের এই প্রস্তাবটি বর্তমানে চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের ডেস্কে পাঠানো হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে ক্যালিফোর্নিয়ার যেকোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য পরিধানযোগ্য ইলেকট্রোশক বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। ফেডারেল সরকার এই বিশেষ গ্লাভস কেনার জন্য ২ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়ার খবরের পরপরই ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা লাশায় শার্প-কলিন্স তড়িঘড়ি করে বিলটি উত্থাপন করেন। কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা এই প্রযুক্তিটি মূলত 'জি.এল.ও.ভি.ই' (জেনারেটেড লো আউটপুট ভোল্টেজ এমিটার) নামে পরিচিত। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই গ্লাভসকে পরিস্থিতি শান্ত করার একটি হাতিয়ার বা 'ডি-এসকেলেশন টুল' হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আইসিই কর্মকর্তারা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন। শার্প-কলিন্সের মতে, এই গ্লাভসগুলো সবচেয়ে কম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও বেপরোয়া কর্মকর্তাদের হাতে গিয়ে পড়বে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ক্যালিফোর্নিয়ার এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে 'অসাংবিধানিক' আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিষিদ্ধ করার এই অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি তাদের কর্মকর্তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। সংবিধানের 'সুপ্রিমেসি ক্লজ'-এর বরাত দিয়ে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অঙ্গরাজ্যের কোনো আইন কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ খাটাতে পারে না, তাই তারা এই নিষেধাজ্ঞা মানবে না। ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় পুলিশও বিলটির বিরোধিতা করেছে। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টির শেরিফ জিম কুপার জানান, তার বিভাগ প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিকল্প হিসেবে ইতোমধ্যেই ৩৫ হাজার ডলার খরচ করে ১০টি শক গ্লাভস কিনেছে এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে এটি অস্বস্তিকর এবং এতে ব্যথা লাগে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এটি বেশ কার্যকর। উল্লেখ্য, গত বছর ক্যালিফোর্নিয়া আইসিই এজেন্টদের ফেস মাস্ক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি আইন করলেও পরবর্তীতে একজন ফেডারেল বিচারক তা বাতিল করে দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।