যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের পর এবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া (ন্যাচারালাইজড) আমেরিকানদের টার্গেট করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। জালিয়াতি বা তথ্য গোপন করে যারা মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করতে এক নজিরবিহীন আইনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত মামলা করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এখন বিলাসিতা, সাধারণ ‘স্টার্টার হোম’ কিনতেও লাগছে ১০ লাখ ডলার
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের গত দুই মাসেরও কম সময়ে বিচার বিভাগ ইতিমধ্যে ২৯ জন বিদেশি-জাত মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। গত ২০০৮ থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত যেখানে বছরে গড়ে মাত্র ১০টির মতো নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা হতো, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের এই গতি আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত বিরল এবং জটিল হলেও ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে তাদের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ভিডিও দেখুন: যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন? জেনে নিন গ্রিন কার্ড পাওয়ার সহজ পথ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বিচার বিভাগ জালিয়াতি দমনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে সিভিল আইনজীবীদের সরিয়ে এনে এই ‘নাগরিকত্ব বাতিল ইউনিটে’ নিয়োগ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া একটি বিশেষ সুযোগ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃঢ় নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়ার যেকোনো ধরনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাদের নীতি হলো ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মূলত যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় বা তার আগে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নে জড়িত ছিলেন, কিংবা সন্ত্রাসবাদের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন—তাদেরই নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য চিহ্নিত করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন যদি কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলায় জয়ী হয়, তবে ওই ব্যক্তি তার মার্কিন নাগরিকত্ব হারাবেন এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার আগের অভিবাসী স্ট্যাটাসে (যেমন- পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ড) ফিরে যাবেন। এমনকি অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্টও করা হতে পারে।
তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের প্রশাসনগুলো (যেমন- বাইডেন প্রশাসন চার বছরে মাত্র ২৪টি মামলা করেছিল) কেবল যুদ্ধাপরাধী বা বড় সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রেই এই পদক্ষেপ নিত। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সাধারণ কাগজের ভুলত্রুটি বা ছোটখাটো তথ্য গোপনের বিষয়গুলোকেও এই আইনের আওতায় এনে চাপ সৃষ্টি করছে, যা আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, এই আইনটি কেবল অন্য দেশ থেকে এসে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া আমেরিকানদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয়।
সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের পর এবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া (ন্যাচারালাইজড) আমেরিকানদের টার্গেট করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। জালিয়াতি বা তথ্য গোপন করে যারা মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করতে এক নজিরবিহীন আইনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত মামলা করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এখন বিলাসিতা, সাধারণ ‘স্টার্টার হোম’ কিনতেও লাগছে ১০ লাখ ডলার প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের গত দুই মাসেরও কম সময়ে বিচার বিভাগ ইতিমধ্যে ২৯ জন বিদেশি-জাত মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। গত ২০০৮ থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত যেখানে বছরে গড়ে মাত্র ১০টির মতো নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা হতো, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের এই গতি আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত বিরল এবং জটিল হলেও ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে তাদের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভিডিও দেখুন: যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন? জেনে নিন গ্রিন কার্ড পাওয়ার সহজ পথ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বিচার বিভাগ জালিয়াতি দমনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে সিভিল আইনজীবীদের সরিয়ে এনে এই ‘নাগরিকত্ব বাতিল ইউনিটে’ নিয়োগ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া একটি বিশেষ সুযোগ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃঢ় নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়ার যেকোনো ধরনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাদের নীতি হলো ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মূলত যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় বা তার আগে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নে জড়িত ছিলেন, কিংবা সন্ত্রাসবাদের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন—তাদেরই নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য চিহ্নিত করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন যদি কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলায় জয়ী হয়, তবে ওই ব্যক্তি তার মার্কিন নাগরিকত্ব হারাবেন এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার আগের অভিবাসী স্ট্যাটাসে (যেমন- পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ড) ফিরে যাবেন। এমনকি অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্টও করা হতে পারে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের প্রশাসনগুলো (যেমন- বাইডেন প্রশাসন চার বছরে মাত্র ২৪টি মামলা করেছিল) কেবল যুদ্ধাপরাধী বা বড় সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রেই এই পদক্ষেপ নিত। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সাধারণ কাগজের ভুলত্রুটি বা ছোটখাটো তথ্য গোপনের বিষয়গুলোকেও এই আইনের আওতায় এনে চাপ সৃষ্টি করছে, যা আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, এই আইনটি কেবল অন্য দেশ থেকে এসে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া আমেরিকানদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয়। সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়া অঞ্চলের এক ক্যানসার আক্রান্ত সাবেক সেনা সদস্য আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী অস্ত্রোপচারের কল্যাণে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। মারাত্মক ও মরণঘাতী ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে মাত্র দেড় বছর বাঁচার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে ‘ব্রেন ম্যাপিং’ নামের বিশেষ এক সফল অস্ত্রোপচারের কারণে তিনি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুস্থ এবং চিকিৎসকদের দেওয়া সময়ের চেয়েও দীর্ঘকাল বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন। আসন্ন বাবা দিবসটি (ফাদার্স ডে) নিজের সন্তানদের জড়িয়ে ধরে কাটানোর অপেক্ষায় থাকা এই বাবাকে নিয়ে বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস সান ফ্রান্সিসকো একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৮ বছর বয়সী জো কুইরার্তে মার্কিন সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ দুই দশক সেবা দিয়ে অবসর নেওয়ার পর হঠাৎ একদিন খিঁচুনির শিকার হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, জো-এর মাথায় অত্যন্ত মারাত্মক ও আক্রমণাত্মক ঘরানার ব্রেন ক্যানসার ‘গ্লিওব্লাস্টোমা মাল্টিফর্মে’ বাসা বেঁধেছে। এই ক্যানসারের টিউমারগুলো পুরো মস্তিস্কে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জো-এর হাতে বড়জোর আর এক থেকে দেড় বছর সময় আছে। এই খবরে পুরো পরিবারে অন্ধকার নেমে এলেও জো এবং তার স্ত্রী অ্যাশলেই হাল ছাড়েননি। তাদের এই কঠিন সময়ে আশার আলো দেখান ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকো (UCSF)-এর খ্যাতনামা নিউরোসার্জন ড. মিচ বার্গার। তিনি নিজেই অপারেশন থিয়েটারে ‘ব্রেন ম্যাপিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের এই যুগান্তকারী কৌশলটি আবিষ্কার করেছেন। এই পদ্ধতিতে রোগীকে প্রথমে অজ্ঞান করে মাথার খুলি খোলা হয়। এরপর রোগীকে জাগিয়ে তুলে মস্তিষ্কের সুনির্দিষ্ট অংশে মৃদু বৈদ্যুতিক তরঙ্গ দেওয়া হয় এবং রোগীকে গুণতে বলা বা কোনো বস্তুর নাম বলতে বলা হয়। এই পরীক্ষা করার সময় রোগীর কথা বলতে বা কোনো কাজ করতে সমস্যা হলে চিকিৎসকরা বুঝে যান যে মস্তিষ্কের ওই অংশটি সচল এবং টিউমার কাটার সময় তারা সেই অংশগুলো এড়িয়ে চলেন। এর ফলে মস্তিষ্কের ক্ষতি না করেই সর্বোচ্চ পরিমাণ টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়। সম্প্রতি চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট অনকোলজি’-তে প্রকাশিত ১৬টি প্রতিষ্ঠানের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে ব্রেন টিউমারের রোগীরা প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের পর কয়েক দশক পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারেন। জো-এর ক্ষেত্রেও এই অপারেশনের পর তার বেঁচে থাকার মেয়াদ দেড় বছর থেকে বেড়ে আরও ৩ থেকে ৫ বছর বা তারও বেশি হয়েছে, যা তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সুস্থভাবে কাটাতে পারবেন। জো কুইরার্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "দেড় বছর আগে আমি জানতামই না যে এই বছরের বাবা দিবস দেখার জন্য আমি বেঁচে থাকব কিনা। তাই এবার আমি আমার সন্তানদের যত শক্ত করে সম্ভব বুকে জড়িয়ে ধরে রাখতে চাই।"
ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে পরিবারের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক ঘুরতে বেরিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী রোমাঞ্চ মহাজন। বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখার পর সেন্ট্রাল পার্কে একটি ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে আনন্দময় সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি ও তার পরিবার। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সেই আনন্দময় ভ্রমণ পরিণত হয় শোকাবহ ট্র্যাজেডিতে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রোমাঞ্চ। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও এই ঘটনার ধাক্কা তাদের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বিকেলে নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের চেরি হিল এলাকায় পরিবার নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণ করছিলেন রোমাঞ্চ। সঙ্গে ছিলেন তার বাবা দীপক মহাজন, মা প্রিয়া মহাজন এবং ছোট ভাই। পার্কের একটি পরিচিত ফোয়ারার সামনে পরিবারের স্মরণীয় একটি ছবি তোলার জন্য গাড়িচালক ঘোড়ার গাড়ি থামান। পরিবারের দাবি, ছবি তোলার সুবিধার্থে চালক কিছুটা দূরে সরে গেলে ঘোড়াটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত ছুটতে শুরু করে। রোমাঞ্চের বাবা দীপক মহাজন জানান, মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘোড়াটি ফুটপাতে উঠে যায় এবং পরে ঘাসের ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে দৌড়াতে থাকে। এ সময় চালক ঘোড়ার পেছনে ছুটলেও সেটিকে থামাতে পারেননি। দীপক মহাজন বলেন, “আমরা বারবার সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলাম। সবাই একে অপরকে শক্ত করে ধরে রেখেছিল।” তিনি আরও জানান, দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকা গাড়ি থেকে তার স্ত্রী প্রিয়া মহাজন ছিটকে পড়ে গেলে রোমাঞ্চ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। মাকে বিপদে দেখে সে গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে। “আমার ছেলে শুধু তার মাকে বাঁচাতে চেয়েছিল। সে বারবার ‘মা, মা’ বলে চিৎকার করছিল,” বলেন আবেগাপ্লুত দীপক মহাজন। গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে রোমাঞ্চ মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে দ্রুত নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। বুধবার রাতেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যরা তুলনামূলকভাবে কম আহত হন। তবে নিয়ন্ত্রণহীন ঘোড়ার গাড়িটি পরে আরেকটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুপুর প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা নিউ ইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রাণীকল্যাণকর্মী এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বহু বছর ধরে সেন্ট্রাল পার্কে পর্যটকদের বহনকারী ঘোড়ার গাড়িগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। ঘোড়ার গাড়িচালকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন লোকাল ১০০-ও ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প এক বিবৃতিতে বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী মনে হচ্ছে চালক ঘোড়ার কাছ থেকে এমন দূরত্বে সরে গিয়েছিলেন, যেখানে তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তার মতে, ছবি তোলার জন্য কোনো চালকেরই গাড়ি বা ঘোড়াকে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে যাওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কখনোই ঘটার কথা নয়। আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।” ইউনিয়নের তথ্যমতে, ‘স্যাম্পসন’ নামের সাত বছর বয়সী ঘোড়াটি মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে সেন্ট্রাল পার্কে কাজ শুরু করেছিল। দুর্ঘটনার পর ঘোড়াটিকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট ঘোড়ার গাড়িচালককে গাড়ির মালিক অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করেছেন বলে জানিয়েছে ইউনিয়ন। তার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, চালকের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে সফরটি মহাজন পরিবারের জন্য আনন্দ ও স্মৃতির হওয়ার কথা ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতায় পরিণত হলো। মাকে বাঁচানোর চেষ্টায় এক তরুণের মৃত্যু এখন নিউ ইয়র্কজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।