আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের নতুন নিয়ম, ৩০ দিনের বেশি থাকলে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১০:৩০
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অ-নিবন্ধিত বিদেশিদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিবন্ধন নীতি জারি | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অ-নিবন্ধিত বিদেশিদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিবন্ধন নীতি জারি | ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ওপর নজরদারি জোরদার করতে একটি নতুন নিয়মের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) গত ২৯ জুন এই সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ করে, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি অবস্থানকারী অ-নিবন্ধিত বিদেশি নাগরিকদের অবশ্যই আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে নিবন্ধন করতে হবে।

 

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের বয়স ১৪ বছর বা তার বেশি এবং যারা মার্কিন ভিসার আবেদনের সময় আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেননি, তারা যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ দিন বা তার বেশি সময় অবস্থান করলে তাদের অবশ্যই নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটিকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে 'ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস' (ইউএসসিআইএস) একটি অনলাইন ব্যবস্থা এবং ‘জি-৩২৫আর’ নামের একটি বিশেষ ফর্ম চালু করেছে।

 

নিবন্ধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিবন্ধনের দায়িত্ব তাদের বাবা-মা বা আইনি অভিভাবককে পালন করতে হবে। কোনো শিশু আগে থেকে নিবন্ধিত থাকলেও তার বয়স ১৪ বছর পূর্ণ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে পুনরায় নতুন করে নিবন্ধন ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি একটি নিবন্ধনপত্র বা সার্টিফিকেট প্রদান করবে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বিদেশি নাগরিকদের জন্য এই প্রমাণপত্রটি সব সময় নিজেদের কাছে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

 

মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে এই নিয়মটি কেবলই একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো বিদেশি নাগরিক কোনো ধরনের অভিবাসন মর্যাদা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পাবেন না। একই সাথে এটি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট হিসেবেও গণ্য হবে না। বিদেশি নাগরিকরা প্রতিবার যতদিনের জন্যই আমেরিকায় প্রবেশ করুন না কেন, তাদের অবস্থান ৩০ দিন বা তার বেশি হলেই প্রতিবার এই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

 

কোনো বিদেশি নাগরিক যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এই নিয়ম অমান্য করেন বা নিবন্ধন করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে সেটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের জন্য সিভিল ও ক্রিমিনাল শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা, ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার নিয়ম চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের সুবিধার্থে একটি অনলাইন 'এআরআর ডিটারমিনেশন টুল' চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে যে কেউ যাচাই করতে পারবেন তার জন্য এই নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কি না।

 

সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ট্রাম্প মিম কয়েনের দাম ৯৮% কমায় ১ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নেমে এসেছে মাত্র ২ হাজার ২০০ ডলারে | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের ক্রিপ্টো কয়েনে বিনিয়োগকারীর ১ লাখ ডলার নেমে ২,২০০-তে, আর ট্রাম্প পরিবারের আয় ১৪০ কোটিরও বেশি ডলার

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ব্যবহার করে চালু হওয়া অফিশিয়াল ট্রাম্প (Official TRUMP) মিম কয়েনে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের লোকসানের চিত্র সামনে এসেছে। বাজার বিশ্লেষণ বলছে, কয়েনটি সর্বোচ্চ দামে কিনে কেউ যদি এক লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে থাকেন, তবে বর্তমানে সেই বিনিয়োগের মূল্য নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ২ হাজার ২০০ ডলারে। অর্থাৎ, বিনিয়োগের প্রায় ৯৮ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে।   বাজার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি বাজারে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই Official TRUMP কয়েনের দাম সর্বোচ্চ প্রায় ৭৫.৩৫ ডলারে পৌঁছায়। পরে ধারাবাহিকভাবে এর দাম কমতে থাকে। বর্তমানে কয়েনটির বাজারমূল্য সর্বোচ্চ দামের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। সেই হিসাবে, সর্বোচ্চ দামে কেনা এক লাখ ডলারের বিনিয়োগ এখন প্রায় ২ হাজার ২০০ ডলারে নেমে এসেছে।   অন্যদিকে, ট্রাম্পের সর্বশেষ আর্থিক বিবরণীতে দেখা গেছে, তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগ থেকে গত এক বছরে ১৪০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আয়ের মধ্যে ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট মিম কয়েনের লাইসেন্সিং ও রয়্যালটি এবং ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল (World Liberty Financial)-এর টোকেন বিক্রি থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ এসেছে।   এছাড়া রয়টার্সের পৃথক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট মিম কয়েন থেকে ট্রাম্প পরিবারের শত শত মিলিয়ন ডলার আয় হলেও একই সময়ে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কয়েনটির মূল্য দ্রুত কমে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীর সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।   এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে বিপুল আয়ের বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, তাঁর ব্যবসায়িক সম্পদ স্বাধীন ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে এসব ব্যবসার কোনো প্রভাব নেই।   বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের আগে বাজারের অস্থিরতা, সম্ভাব্য লাভ-লোকসান এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১১:১১
অ্যারিজোনায় সোয়াট অভিযানের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ঢুকে পড়ল ডোরড্যাশের রোবট | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

সোয়াট অভিযানের মাঝখানে ঢুকে পড়ল খাবার সরবরাহকারী রোবট, থামাতে ডাক পড়ল কোম্পানির

সৈয়দা নুসরাত জাহান (স্নেহা) | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট শিক্ষা অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি নুসরাত জাহান

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অ-নিবন্ধিত বিদেশিদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিবন্ধন নীতি জারি | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের নতুন নিয়ম, ৩০ দিনের বেশি থাকলে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

নিউইয়র্কের সুইমিং পুল থেকে মেয়রের ৭ বছর বয়সী ভাতিজা হারবে নাগির মরদেহ উদ্ধার | ছবি: আদম আলহারবি ফেসবুক
যুক্তরাষ্ট্রে সাত বছর বয়সী মেয়রের ভাতিজা নিখোঁজের পর সুইমিং পুলে মৃত উদ্ধার

আমেরিকার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রামেক শহরের মেয়র আদম আলহারবির ৭ বছর বয়সী ভাতিজার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিউইয়র্কের অ্যালবানি অঞ্চলের একটি সুইমিং পুল থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হারবে নাগি নামের ওই শিশুটি গত রোববার থেকে নিখোঁজ ছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডেট্রয়েট নিউজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই দুঃখজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে।   মেয়র আদম আলহারবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, তার ৭ বছর বয়সী ভাতিজা হারবে কথা বলতে পারত না এবং সে অটিজমে আক্রান্ত ছিল। রোববার একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান চলাকালীন সে হঠাৎ সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বাইরে চলে যায়। শিশুটির সন্ধান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। ভাতিজার নিখোঁজের খবর পেয়ে মেয়র আলহারবি নিজে মিশিগান থেকে নিউইয়র্কে ছুটে যান এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেন।   নিউইয়র্কের মেনান্দস গ্রামের পুলিশ প্রশাসন মঙ্গলবার জানায়, নিখোঁজ শিশুটির মরদেহ অবশেষে একটি আবাসিক এলাকার সুইমিং পুল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, শিশুটির প্রকৃতির প্রতি, বিশেষ করে পানির প্রতি ব্যাপক আকর্ষণ ছিল এবং সে প্রায়শই একা একা বাইরে ঘুরে বেড়াত। ধারণা করা হচ্ছে, মনের অজান্তেই সে সুইমিং পুলে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।   এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর মেনান্দস পুলিশ বিভাগ নিহতের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ পুরো এলাকায় তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট রাস্তাটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   মেয়র আদম আলহারবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, "এই কঠিন সময়ে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, প্রার্থনা করেছেন এবং সমবেদনা জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের এই সহানুভূতি আমাদের পরিবারকে শক্তি জুগিয়েছে।" আগামী বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ল্যাথামে শিশুটির শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১০:১৫
সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার স্থূলতা কমানোর ওষুধের খরচ বহন করবে মেডিকেয়ার

কুকুর হামলার ঘটনায় মারিয়া আভিলাকে ১৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ ক্রিস ব্রাউনকে | ছবি: গেটি ইমেজেস

কুকুরের কামড়ে গৃহকর্মীর মুখ-হাত ক্ষতবিক্ষত, মার্কিন গায়ক ক্রিস ব্রাউনকে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার জরিমানা

নিউইয়র্কজুড়ে চালু করা হয়েছে শতাধিক কুলিং সেন্টার | ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে সপ্তাহজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা, খুলেছে শতাধিক কুলিং সেন্টার

৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসে ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারে শুরু হচ্ছে ‘ইউ আর আমেরিকা’ কর্মসূচি | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওবামা সেন্টারের গ্রীষ্মজুড়ে বিনামূল্যে নানা আয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গ্রীষ্মজুড়ে বিনামূল্যে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার। ‘ইউ আর আমেরিকা’ শীর্ষক এই কর্মসূচির উদ্বোধন হবে ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।   সোমবার প্রকাশিত এক ঘোষণায় জানানো হয়, ‘দ্য পিপলস ফোর্থ’ শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী শনিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেন্টারের জন লুইস প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে।    অনুষ্ঠানে সরাসরি সংগীত পরিবেশনা, স্বনির্দেশিত ক্যাম্পাস ভ্রমণ এবং পরিবারকেন্দ্রিক বিভিন্ন আয়োজন থাকবে।   এদিন সংগীত পরিবেশন করবেন মেলোডি অ্যাঞ্জেল, মুকা পাজা এবং ডিজে হট রড। ওবামা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্যালেরি জ্যারেট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার আশা ও অনুপ্রেরণার একটি স্থায়ী ঠিকানা। দেশের এই ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপনের মাধ্যমে আমরা এমন মানুষদের সামনে তুলে ধরতে চাই, যারা ভবিষ্যতে আরও উন্নত একটি দেশ গড়তে ভূমিকা রাখবেন। আশপাশের এলাকা, শহর কিংবা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা এই আয়োজন থেকে অনুপ্রাণিত হবেন।” জুলাই মাসজুড়ে আরও কয়েকটি বিশেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ৭ জুলাই শিল্পী মার্ক ব্র্যাডফোর্ড এবং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. লুইস বার্নার্ড শিল্পকলা নিয়ে একটি আলোচনায় অংশ নেবেন।   ১০ জুলাই শিকাগোর হাউস মিউজিক উদযাপন উপলক্ষে ডিজে লেডি ডি এবং জেসি ডি লা পেনা সরাসরি সংগীত পরিবেশন করবেন।   ১৭ জুলাই নাগরিক অংশগ্রহণ, ইতিহাস এবং শিল্পকলাকে কেন্দ্র করে একটি সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হবে।   এ ছাড়া ১২ জুলাই থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি দুই সপ্তাহ পরপর আরবান গ্রোয়ার্স কালেকটিভের সহযোগিতায় উন্মুক্ত বাগান আড্ডার আয়োজন থাকবে। এসব অনুষ্ঠানে স্থানীয় ডিজেদের সংগীত, বাগানবিষয়ক হাতে-কলমে কার্যক্রম এবং মৌসুমি খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   ২১ জুলাই শুরু হবে ‘মুভিজ অন দ্য প্লাজা’ সিরিজ। উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে দেখানো হবে জনপ্রিয় মিউজিক্যাল চলচ্চিত্র হ্যামিল্টন।   আগস্ট মাসে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মদিন উপলক্ষে কারাওকে অনুষ্ঠান এবং শিকাগোর বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ আয়োজনও থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৯:৩৬

যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে আজ সন্ধ্যায় তীব্র ঝড়ের সতর্কতা, আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

ফ্লোরিডায় একসঙ্গে কার্যকর ১৩২ নতুন আইন, বদলে যাচ্ছে ট্রাফিক, শিক্ষা, ব্যবসা ও ভোক্তা সুরক্ষার নিয়ম

ওহাইওর একটি বাড়ি থেকে ১৬ শিশুকে জীবিত উদ্ধার, অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে চার প্রাপ্তবয়স্ক গ্রেপ্তার

0 Comments