- প্রচ্ছদ
- Topic
ডে-কেয়ার
মিশিগানের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে তিন বছরের এক শিশুর ব্যাগ থেকে গুলিভর্তি পিস্তল বের করে অন্য শিশুদের মধ্যে ঘোরানোর ঘটনায় তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশুটির বাবা ব্র্যান্ডন জন এলি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মা রাবাব ইব্রাহিম আল জায়াদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র অনিরাপদভাবে সংরক্ষণের অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটে ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে মিশিগানের ক্যান্টন টাউনশিপের চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টারে। ওয়েন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ওই ডে-কেয়ারে খবর পেয়ে যায়। অভিযোগ, শিশুটি শ্রেণিকক্ষে রাখা একটি ব্যাগ থেকে হোলস্টারে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে। পরে সেটি অন্য কয়েকজন শিশুর হাতেও যায়। একজন শিক্ষক বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অস্ত্রটি শিশুদের কাছ থেকে সরিয়ে নেন। পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্রটি গুলিভর্তি ছিল এবং ঘটনার সময়ও হোলস্টারের ভেতরে ছিল। তবে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি এবং কোনো শিশু বা শিক্ষক আহত হননি। ক্যান্টন পুলিশের প্রধান জোসেফ বিয়ালি ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও দেখেছেন। তাঁর ভাষায়, ভিডিওতে তিন বছরের শিশুকে ব্যাগ থেকে অস্ত্রটি বের করতে দেখা ‘বিস্ময়কর’ হলেও ডে-কেয়ারের কর্মীর দ্রুত পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। ওয়েন কাউন্টির প্রসিকিউটর কিম ওয়ার্থি বলেন, এই ঘটনায় কী ঘটতে পারত, তা ভাবাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, কোনো প্রাণহানি না হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আদালতে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে অভিযোগগুলো প্রমাণ করার মতো তথ্য-প্রমাণ তাদের রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যান্ডন জন এলি, ২৮, এবং রাবাব ইব্রাহিম আল জায়াদ, ২৭, উভয়েই ওয়েন কাউন্টির বাসিন্দা। ১ অক্টোবর প্লাইমাউথের ৩৫তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিচারক জো ব্যারোনের সামনে তাদের হাজির করা হয়। এলির বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার শিশু নির্যাতরের অভিযোগটি এক বছরের মেয়াদের একটি লঘু অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আর জায়াদের বিরুদ্ধে অনিরাপদভাবে আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগটি সর্বোচ্চ ৯৩ দিনের শাস্তিযোগ্য লঘু অপরাধ। আদালত উভয়ের ওপর ১০ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত বন্ড নির্ধারণ করেছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে তাদের ডে-কেয়ার কেন্দ্রে না যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিচারক দুজনকেই কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নিজেদের কাছে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এলি আদালতে জানিয়েছিলেন, তার বাড়িতে তিনটি নিরাপদ সংরক্ষণাগারে মোট নয়টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তবে সেগুলোও হস্তান্তরের নির্দেশ দেন বিচারক। এলি ডেট্রয়েট পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলাটি চলাকালে তাকে প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখা হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনের সময়ও আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর আইনজীবী কর্মস্থলে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র রাখার অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে বিচারক সেই অনুরোধ নাকচ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অস্ত্রটি এলির চাকরির জন্য সরবরাহ করা অস্ত্র ছিল না। তবে কীভাবে শিশুটি ব্যাগ থেকে অস্ত্রটি বের করার সুযোগ পেল, সে বিষয়ে তদন্তে অনিরাপদ সংরক্ষণের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাগটি শ্রেণিকক্ষেই রাখা ছিল এবং শিশুটি সেখান থেকে অস্ত্রটি বের করে। ঘটনার পর চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টার পরিবারটিকে প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশু ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কেন্দ্রটি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে শিশুদের ব্যাগ তল্লাশির মতো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডে-কেয়ার কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে তাদের কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। বিশেষ করে যে শিক্ষক অস্ত্রটি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের কাছ থেকে সেটি সরিয়ে নেন, তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের প্রধান জোসেফ বিয়ালিও কর্মীদের প্রশংসা করে বলেছেন, শ্রেণিকক্ষে দায়িত্বে থাকা শিক্ষক দ্রুত পরিস্থিতি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ায় শিশুদের নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে। মিশিগানের আইনে শিশু উপস্থিত থাকলে বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদভাবে তালাবদ্ধ করে রাখার বিধান রয়েছে। ক্যান্টন পুলিশও ঘটনার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদে সংরক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। মামলাটি এখন আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে। সূত্র: ওয়েন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য, WDIV, দ্য ডেট্রয়েট নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
মিশিগানের ৬২ বছর বয়সী এমোরি ম্যাথিউজকে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজের মালিকানাধীন ডেট্রয়েটের একটি প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার সেন্টারে দেওয়া হয়নি এমন সাইকোথেরাপি সেবার বিল মেডিকেয়ারে জমা দেওয়া হয়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এমোরি ও তাঁর স্ত্রী মিলে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি মেডিকেয়ারে জমা দেন। এমন রোগীদের নামেও বিল করা হয়েছে, যারা ওই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা মারা গিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক কর্মীদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়। এমোরি ম্যাথিউজ এর আগে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবৈধ ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং সেই কারণে মেডিকেয়ারে বিল করার ওপর তাঁর নিষেধাজ্ঞা ছিল। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ডে-কেয়ার সেন্টারে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকার বিষয়টি গোপন করে তিনি ওই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই মামলায় তাঁর স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজ আগেই স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। এমোরি ম্যাথিউজের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং আরও তিনটি জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সোর্স: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো এলাকায় কম আয়ের পরিবারের শিশুদের ডে-কেয়ার খরচে সহায়তার জন্য দেওয়া সরকারি অর্থ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি জালিয়াতির অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা লাইসেন্সধারী বাড়িভিত্তিক শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনার দাবি করে শিশুদের উপস্থিতি নিয়ে ভুয়া তথ্য জমা দিয়ে সরকারি ভর্তুকির অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে ২৫০ জনের বেশি ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। সান দিয়েগোর বিভিন্ন এলাকায় শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের দাবি করা ১২টি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে ১২ অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিক হওয়া ব্যক্তি এবং বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাও রয়েছেন। বিচার বিভাগের নথিতে অভিযুক্তদের আদি দেশ হিসেবে সিরিয়া, সোমালিয়া, সুদান, আফগানিস্তান ও ইরাকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরকারি নথিতে অভিযুক্তদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থার পাশাপাশি আদি দেশের তথ্যও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো মূলত সরকারি শিশু পরিচর্যা ভর্তুকির অর্থ নিয়ে কথিত জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব অভিযোগ এখন আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়িভিত্তিক শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনার লাইসেন্স নেন এবং শিশু পরিচর্যা সহযোগী সংস্থা ও ওয়াইএমসিএর মাধ্যমে পরিচালিত সরকারি ভর্তুকি কর্মসূচিতে নিবন্ধিত হন। এসব কর্মসূচির আওতায় যোগ্য কম আয়ের পরিবারগুলো শিশুদের জন্য অনুমোদিত ডে-কেয়ার সেবা নিতে পারে। এরপর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সেবা প্রদানকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হয়। এই অর্থ পাওয়ার জন্য ডে-কেয়ার পরিচালকদের প্রতি মাসে কোন শিশু কোন দিন এবং কতক্ষণ তাদের তত্ত্বাবধানে ছিল, তার সঠিক উপস্থিতির হিসাব জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ফেডারেল কৌঁসুলিদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা শিশুদের উপস্থিতির হিসাব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য জমা দেন এবং সেগুলো সঠিক বলে শপথের আওতায় ঘোষণা করেন। তদন্তকারীরা নজরদারি ভিডিও, আর্থিক লেনদেন এবং সীমান্ত পারাপারের তথ্যসহ বিভিন্ন নথি যাচাই করে এসব হিসাবের সঙ্গে অসঙ্গতি পান। বিচার বিভাগের দেওয়া একটি উদাহরণে বলা হয়েছে, আবদুররহমান আলাওয়াদ ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে যথাক্রমে ২৩ ও ২৫ শিশুকে নিয়মিত সেবা দেওয়ার দাবি করেছিলেন। কিন্তু ৫৭ দিনের নজরদারি ভিডিওতে তার ডে-কেয়ারে শিশু প্রবেশ বা বের হওয়ার ঘটনা মাত্র একদিন দেখা যায়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওই দিনই একজন অঙ্গরাজ্য পরিদর্শক আকস্মিক পরিদর্শনে সেখানে গিয়েছিলেন। আরেক অভিযুক্ত তুরকিয়া মামদুহ আলাওয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, সীমান্ত পারাপারের তথ্য অনুযায়ী তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যান এবং প্রায় ৩০ দিন পর ফিরে আসেন। কিন্তু বিদেশে অবস্থানের সময়ও তিনি ডে-কেয়ার সেবা দেওয়ার উপস্থিতির হিসাব জমা দিয়েছেন বলে কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন। এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিশু পরিচর্যা সহযোগী সংস্থা ও ওয়াইএমসিএ থেকে তার হিসাবে মোট ১৪ হাজার ৯৭০ ডলারের আটটি অর্থ জমা হয় বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন অভিযুক্ত কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর ধরে সরকারি কর্মসূচি থেকে কয়েক লাখ ডলার করে পেয়েছেন। ব্যক্তিভেদে কথিত অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণ ৫ লাখ ৩৮ হাজার থেকে ১২ লাখ ডলারের মধ্যে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আবদুররহমান আলাওয়াদ ২০২৫ সালেই সান দিয়েগো কাউন্টি, শিশু পরিচর্যা সহযোগী সংস্থা ও ওয়াইএমসিএ থেকে ৩ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন অভিযুক্তের ক্ষেত্রে মোট অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণ ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। মামলাটির তদন্তে ফেডারেল ও স্থানীয় একাধিক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসও রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সুবিধা কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে মার্কিন বিচার বিভাগের নতুন জাতীয় জালিয়াতি দমন বিভাগ গঠনের পর এটি তাদের প্রথম দিকের বড় ধরনের পদক্ষেপগুলোর একটি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত বৈদ্যুতিক যোগাযোগের মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ বৈধ করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত ১২ অভিযুক্তকেই আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে বলে ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর বোইস শহরে এক মায়ের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক একটি প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনা রিজ নামে এক মা সন্তানদের ডে-কেয়ারে রেখে দ্বিতীয় চাকরিতে যাচ্ছেন, আর সেই বাড়তি আয় দিয়েই সন্তানদের ডে-কেয়ারের খরচ মেটাচ্ছেন। তবে ঘটনাটি বাস্তব সংবাদ নয়, এটি ব্যঙ্গধর্মী সংবাদমাধ্যম বেবিলন বি -এর একটি রম্য প্রতিবেদন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনা তাঁর দুই ছোট সন্তানকে ‘Mountains of Fun Daycare’-এ রেখে দ্বিতীয় চাকরির শিফটে যান। সন্তানদের ডে-কেয়ারে রেখে যাওয়ার সময় তিনি মজা করে বলেন, তারা যেন ভালোভাবে থাকে, কারণ তাদের সেখানে রাখার খরচ জোগাতে তাঁকে কাজ করতে যেতে হচ্ছে। পরে তাদের বাবা কর্মস্থল থেকে ছুটি পাওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে যাবেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ব্যঙ্গাত্মক লেখাটিতে আরও বলা হয়, জেনা সন্ধ্যায় একটি সুপারমার্কেটের বেকারি বিভাগে পার্টটাইম কাজ করেন। তাঁর বক্তব্য হিসেবে প্রতিবেদনে ডে-কেয়ারের বাড়তি খরচের কারণে দ্বিতীয় চাকরি নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্তানদের সঙ্গে আরও সময় কাটাতে না পারার বিষয়টিও হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির মূল বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ডে-কেয়ারের ব্যয় মেটাতে অনেক পরিবারের ওপর তৈরি হওয়া আর্থিক চাপকে ব্যঙ্গ করে তুলে ধরা। তবে এতে বর্ণিত চরিত্র ও ঘটনাগুলোকে বাস্তব সংবাদ বা যাচাই করা ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। Babylon Bee নিজেই একটি ব্যঙ্গধর্মী সংবাদমাধ্যম, যেখানে সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে রম্য প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সন্তানদের বাবাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১০০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এক নারী। মামলার আসামি মিন্ডি ওস্টিন শিশুদের বাবা ক্রিস্টোফার ট্রাভিস জোন্সকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারের বাইরে গুলি করে হত্যা করেন। ওই সময় তাঁদের দুই সন্তান গাড়ির ভেতরে ছিল। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই ফ্লোরিডার স্টার্ক শহরের আন্টি লিলিজ চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের সামনে। ৩৭ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার জোন্স সেদিন তাঁদের দুই সন্তানকে ডে-কেয়ার থেকে নিতে গিয়েছিলেন। সন্তানদের গাড়িতে তোলার পর তিনি চালকের আসনে বসেন। তখন মিন্ডি ওস্টিন একটি ব্যাগ নিয়ে তাঁর কাছে এগিয়ে যান। তদন্তকারীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিজেবি জানিয়েছে, ওস্টিন প্রথমে জোন্স ও শিশুদের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন। এরপর জোন্স সন্তানদের গাড়ির পেছনের আসনে বসিয়ে চালকের আসনে বসার পর ওস্টিন তাঁর ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গাড়ির দিকে গুলি চালান। জোন্স গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গাড়ি থেকে বেরিয়ে ডে-কেয়ার সেন্টারের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রবেশপথের দ্বিতীয় নিরাপত্তা দরজা দিয়ে ঢুকতে না পেরে তিনি দুই দরজার মাঝের জায়গায় আটকা পড়েন। তদন্তকারীদের মতে, সেখানেও ওস্টিন গুলি চালান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জোন্স ওস্টিনের নাম উল্লেখ করে জানান, তিনিই তাঁকে গুলি করেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় জোন্স ও ওস্টিনের দুই সন্তান গাড়ির ভেতর ছিল। ডে-কেয়ার ভবনের ভেতরেও আরও ছয় শিশু ও দুই কর্মী ছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। তবে ঘটনায় কোনো শিশু আহত হয়নি। ঘটনার পর ওস্টিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা, শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা, অস্ত্র রাখা এবং অন্যান্য অভিযোগ আনা হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলেছিলেন, গুলি চালানোর আগে তিনি একটি ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তবে মামলাটি শেষ পর্যন্ত বিচার পর্যন্ত গড়ায়নি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ওস্টিন দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা এবং আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করে সমঝোতাভিত্তিক মামলার নিষ্পত্তিতে রাজি হন। আদালত ওই সমঝোতা গ্রহণ করে তাঁকে বিভিন্ন অভিযোগে ধারাবাহিক সাজা দেন, যার মোট মেয়াদ ১০০ বছর। একই সঙ্গে জোন্সের পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মামলার শুনানিতে জোন্সের পরিবারের সদস্যরা আদালতে বক্তব্য দেন। তাঁর পরিবারের এক সদস্য ফিলিস স্যান্ডস জানান, শুরুতে পরিবার আরও কঠোর শাস্তি চেয়েছিল। তবে ১০০ বছরের সাজায় কার্যত ওস্টিনের জীবনের বাকি সময় কারাগারে কাটানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জোন্সের দুই সন্তান ওই ঘটনার কারণে গভীরভাবে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে তাদের এমন এক নারী দত্তক নেন, যিনি জোন্সের পরিবারের সদস্য নন। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, বড় হওয়ার পর সন্তানরা একদিন বাবার মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইবে এবং সেই স্মৃতি তাদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। জোন্সের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি সন্তানদের জন্য কাজ করতেন এবং তাদের জীবনে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও পরিবারের বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। মামলাটি শেষ পর্যন্ত ১০০ বছরের কারাদণ্ডে শেষ হলেও ঘটনাটির মূল প্রশ্নগুলো এখনও পরিবারের জন্য গভীর বেদনার বিষয় হয়ে রয়েছে। সন্তানদের নিতে যাওয়া একটি সাধারণ বিকেল কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী ঘটনায় পরিণত হয়েছিল, সেই স্মৃতি এখন জোন্সের পরিবারের পাশাপাশি তাঁর দুই সন্তানের জীবনেও দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে। সংবাদসূত্র: ডব্লিউসিজেবি, নিউজ৪জ্যাক্স ও ব্র্যাডফোর্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে হপকিন্স শহরের ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুসহ তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা, যেখানে এক বাবা তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করে এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। নিহত তিনজন একই পরিবারের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে হপকিন্সের টাইলার এভিনিউ নর্থের ২০০ ব্লকে অবস্থিত একটি বাড়ির ডে-কেয়ারে এই নারকীয় ঘটনা ঘটে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক অভিভাবক তার সন্তানকে ডে-কেয়ারে নামিয়ে দেওয়ার সময় এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান এবং আতঙ্কিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৯১১-এ কল করে পুলিশকে খবর দেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য শিশুদের চোখের সামনেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে মোট সাতজন শিশু উপস্থিত ছিল। তবে নিহত শিশুটি এই সাতজনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়। স্বস্তির বিষয় হলো, ভুক্তভোগী পরিবারটি ছাড়া সেখানে থাকা অন্য কোনো শিশুর শারীরিক ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিজ নিজ বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। মিনিয়াপোলিসের ঠিক দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত হপকিন্স শহরতলির এই ঘটনায় প্রশাসন ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার এক বক্তব্যে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এই হামলাকে একটি "সংকটজনক ঘটনা" (ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমাদের হৃদয় ও প্রার্থনা হপকিন্সের মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে রয়েছে।" তিনি ইতোমধ্যে হপকিন্সের মেয়র হ্যানলনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন এবং এই সংকটময় মুহূর্তে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে ২৩ মাস বয়সী এক শিশুকে খেলার সময় ওপরে ছুড়ে দিয়ে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় সে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা-মায়ের করা এক মামলায় দাবি করা হয়েছে, ওই দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্কে আঘাত লাগে এবং শ্রবণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার এল সেগুন্দো শহরের দ্য বে ক্লাব ক্লাবহাউস-এ ঘটে। মামলায় শিশুটির পরিচয় গোপন রাখতে তাকে "সি.কে." নামে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা নথিতে থাকা স্থিরচিত্রে দেখা যায়, ডে-কেয়ার কেন্দ্রের এক কর্মী শিশুটিকে দুই হাত ধরে খেলাচ্ছলে ওপরে ছুড়ে দেন। এক পর্যায়ে তিনি শিশুটিকে ধরতে ব্যর্থ হন। এতে শিশুটি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে ওই কর্মীও শিশুটির ওপর পড়ে যান। মামলায় বলা হয়েছে, পড়ে যাওয়ার সময় শিশুটির মাথায় আঘাত লাগে। এরপর সে জোরে কান্না শুরু করে। কক্ষে উপস্থিত অন্য প্রাপ্তবয়স্করাও ঘটনাটি দেখে হতবাক হয়ে যান। শিশুটির বাবা-মা ম্যাট ও এলেনা কিটলের অভিযোগ, ওই দুর্ঘটনায় তাদের সন্তানের ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি (মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত) হয় এবং তার শ্রবণশক্তিরও ক্ষতি হয়। মামলায় দাবি করা হয়েছে, এখনো সে ওই আঘাতের প্রভাব বহন করছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে ম্যাট কিটল শিশুটিকে ডে-কেয়ারে রেখে যান। কিছুক্ষণ পর ডে-কেয়ার কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায়, শিশুটি পড়ে গিয়েছিল, তবে এখন শান্ত রয়েছে এবং তাকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রায় ১৫ মিনিট পর আবার ফোন করে জানানো হয়, শিশুটিকে আর শান্ত করা যাচ্ছে না, তাই তাকে নিয়ে যেতে হবে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তখনও কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের কাছে বিষয়টিকে একটি সামান্য দুর্ঘটনা হিসেবেই উপস্থাপন করেছিল। শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর তার ডান পাশের মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন, ডান চোখ ফুলে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মুখে ফোলাভাব দেখা যায়। এছাড়া সে অস্বাভাবিকভাবে ঝিমিয়ে পড়ে এবং বিরক্তিকর আচরণ করতে থাকে। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে টরেন্স হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা মাথায় গুরুতর আঘাত শনাক্ত করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, প্রথমে ডে-কেয়ারের এক কর্মী দাবি করেছিলেন, শিশুটি মাত্র দেড় ফুট উচ্চতা থেকে পড়েছিল। কিন্তু পরে সিসিটিভি ভিডিও দেখে বাবা-মায়ের দাবি, শিশুটি অন্তত ছয় ফুট ওপরে উঠেছিল, সেখান থেকে মাটিতে পড়ে যায়। এছাড়া মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দ্য বে ক্লাব ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক সেবা বিভাগের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডে-কেয়ার কেন্দ্র নয়। তবুও তারা নিজেদের আইনের আওতার বাইরে বলে দাবি করে শিশুদের তত্ত্বাবধান করছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। শিশুটির বাবা-মা মামলায় অবহেলা, শারীরিক ক্ষতি, প্রতারণা এবং মানসিক ক্ষতির অভিযোগ এনেছেন। তারা আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন, যার পরিমাণ জুরি বোর্ড নির্ধারণ করবে। মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।