সন্তানদের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা, ১০০ বছরের কারাদণ্ড পেলেন মা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সন্তানদের বাবাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১০০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এক নারী। মামলার আসামি মিন্ডি ওস্টিন শিশুদের বাবা ক্রিস্টোফার ট্রাভিস জোন্সকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারের বাইরে গুলি করে হত্যা করেন। ওই সময় তাঁদের দুই সন্তান গাড়ির ভেতরে ছিল।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই ফ্লোরিডার স্টার্ক শহরের আন্টি লিলিজ চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের সামনে। ৩৭ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার জোন্স সেদিন তাঁদের দুই সন্তানকে ডে-কেয়ার থেকে নিতে গিয়েছিলেন। সন্তানদের গাড়িতে তোলার পর তিনি চালকের আসনে বসেন। তখন মিন্ডি ওস্টিন একটি ব্যাগ নিয়ে তাঁর কাছে এগিয়ে যান।
তদন্তকারীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিজেবি জানিয়েছে, ওস্টিন প্রথমে জোন্স ও শিশুদের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন। এরপর জোন্স সন্তানদের গাড়ির পেছনের আসনে বসিয়ে চালকের আসনে বসার পর ওস্টিন তাঁর ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গাড়ির দিকে গুলি চালান।
জোন্স গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গাড়ি থেকে বেরিয়ে ডে-কেয়ার সেন্টারের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রবেশপথের দ্বিতীয় নিরাপত্তা দরজা দিয়ে ঢুকতে না পেরে তিনি দুই দরজার মাঝের জায়গায় আটকা পড়েন। তদন্তকারীদের মতে, সেখানেও ওস্টিন গুলি চালান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জোন্স ওস্টিনের নাম উল্লেখ করে জানান, তিনিই তাঁকে গুলি করেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সময় জোন্স ও ওস্টিনের দুই সন্তান গাড়ির ভেতর ছিল। ডে-কেয়ার ভবনের ভেতরেও আরও ছয় শিশু ও দুই কর্মী ছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। তবে ঘটনায় কোনো শিশু আহত হয়নি।
ঘটনার পর ওস্টিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা, শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা, অস্ত্র রাখা এবং অন্যান্য অভিযোগ আনা হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলেছিলেন, গুলি চালানোর আগে তিনি একটি ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন।
তবে মামলাটি শেষ পর্যন্ত বিচার পর্যন্ত গড়ায়নি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ওস্টিন দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা এবং আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করে সমঝোতাভিত্তিক মামলার নিষ্পত্তিতে রাজি হন। আদালত ওই সমঝোতা গ্রহণ করে তাঁকে বিভিন্ন অভিযোগে ধারাবাহিক সাজা দেন, যার মোট মেয়াদ ১০০ বছর। একই সঙ্গে জোন্সের পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মামলার শুনানিতে জোন্সের পরিবারের সদস্যরা আদালতে বক্তব্য দেন। তাঁর পরিবারের এক সদস্য ফিলিস স্যান্ডস জানান, শুরুতে পরিবার আরও কঠোর শাস্তি চেয়েছিল। তবে ১০০ বছরের সাজায় কার্যত ওস্টিনের জীবনের বাকি সময় কারাগারে কাটানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জোন্সের দুই সন্তান ওই ঘটনার কারণে গভীরভাবে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে তাদের এমন এক নারী দত্তক নেন, যিনি জোন্সের পরিবারের সদস্য নন। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, বড় হওয়ার পর সন্তানরা একদিন বাবার মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইবে এবং সেই স্মৃতি তাদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
জোন্সের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি সন্তানদের জন্য কাজ করতেন এবং তাদের জীবনে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও পরিবারের বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
মামলাটি শেষ পর্যন্ত ১০০ বছরের কারাদণ্ডে শেষ হলেও ঘটনাটির মূল প্রশ্নগুলো এখনও পরিবারের জন্য গভীর বেদনার বিষয় হয়ে রয়েছে। সন্তানদের নিতে যাওয়া একটি সাধারণ বিকেল কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী ঘটনায় পরিণত হয়েছিল, সেই স্মৃতি এখন জোন্সের পরিবারের পাশাপাশি তাঁর দুই সন্তানের জীবনেও দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে।
সংবাদসূত্র: ডব্লিউসিজেবি, নিউজ৪জ্যাক্স ও ব্র্যাডফোর্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে বাড়িভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। জুলাই ২০২৬-এ দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া বছরে ১৩ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ম্যানহাটনে সামগ্রিক গড় ভাড়াও সর্বকালের সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৬৫৫ ডলারে পৌঁছেছে। তথ্যগুলো এসেছে দ্য করকোরান গ্রুপের জুলাইয়ের রেন্টাল মার্কেট রিপোর্ট থেকে। করকোরানের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ছিল ৪ হাজার ৮৮ ডলার এবং এক বেডরুমের গড় ভাড়া ৫ হাজার ৪৮৬ ডলার। দুই বেডরুমের ভাড়া বছরে ১৩ শতাংশ এবং তিন বেডরুমের ভাড়া ১২ শতাংশ বেড়েছে। তবে দুই ও তিন বেডরুমের গড় ভাড়া এখনো নিজ নিজ সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় কিছুটা নিচে রয়েছে। শুধু ভাড়া বাড়াই নয়, অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জুলাইয়ে ম্যানহাটনে ভাড়ার জন্য সক্রিয় তালিকাভুক্ত অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ১৯৮টি, যা এক বছর আগের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। করকোরানের হিসাবে, ২০১৯ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর কোনো জুলাইয়ে এত কম অ্যাপার্টমেন্টের তালিকা দেখা যায়নি। তবে ম্যানহাটনের ভাড়া নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপ হলো মধ্যম ভাড়া। জুলাইয়ে এই ভাড়া ছিল মাসে ৫ হাজার ২৯৫ ডলার, যা জুনের সমান এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ অতিরিক্ত দামের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টগুলোর প্রভাব বাদ দিলেও সাধারণ ভাড়ার বাজারে চাপ রয়ে গেছে। ভাড়ার এই চাপের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো চাহিদার তুলনায় সীমিত সরবরাহ। জুলাইয়ে ম্যানহাটনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়াটিয়া পেতে গড়ে মাত্র ৩৩ দিন সময় নিয়েছে। এক বছর আগের তুলনায় এই সময়ও কমেছে, যা বাজারে প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র তার একটি ইঙ্গিত। জুনে ম্যানহাটনের ভাড়ার খালি থাকার হার বা ভ্যাকেন্সি রেট ছিল ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জুলাইয়ে তা সামান্য বেড়ে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ হলেও সরবরাহ এখনো অত্যন্ত সীমিত। একই সময়ে সক্রিয় তালিকার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় ভাড়াটিয়াদের পছন্দের সুযোগও সংকুচিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক ভাড়াটিয়া তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল এলাকায় যাওয়ার কথা ভাবছেন। কেউ কেউ নিউইয়র্কের অন্য বরোতে, আবার কেউ পাশের নিউ জার্সির শহরগুলোতে বাসা খুঁজছেন। তবে ম্যানহাটনের উচ্চ ভাড়ার প্রভাব আশপাশের বাজারেও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। করকোরান বলছে, ম্যানহাটনে চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও নতুন আবাসন সরবরাহ সেই গতিতে বাড়ছে না। জুলাইয়ে নতুন লিজ স্বাক্ষরের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু একই সময়ে সক্রিয় তালিকা ২২ শতাংশ কমেছে। ফলে কম সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্টের জন্য বেশি ভাড়াটিয়াকে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে এই পরিস্থিতি ভাড়াটিয়াদের জন্য ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কম ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ম্যানহাটনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় বাসা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে নতুন আবাসন নির্মাণ বাড়ানো এবং সরবরাহের ঘাটতি কমানো নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চাপও বাড়ছে।
টেনেসিতে বন্দুকধারীর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, সন্দেহভাজন আটক
গরুর মাংসের দাম কমাতে বিদেশি মাংস আমদানি, ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতায় খামারি ও রিপাবলিকানরা
সন্তানদের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা, ১০০ বছরের কারাদণ্ড পেলেন মা
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রিনিটি নদী থেকে দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। নিহতরা হলেন ৪৫ বছর বয়সী লেক্স রিনকন এবং তাঁর ১৮ বছর বয়সী ছোট ভাই কৃষ্ণ রিনকন, যিনি গণেশ নামেও পরিচিত ছিলেন। বুধবার হামবোল্ট কাউন্টির উইলো ক্রিক এলাকার ট্রিনিটি নদীতে তাঁদের মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, পানিতে ডুবে তাঁদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের দিন নদীর স্রোতে এক ব্যক্তিকে বিপাকে পড়তে দেখা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। পরদিন সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে হামবোল্ট কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা ট্যাগমেয়ার বিচ এলাকায় পৌঁছান। সেখানে নদীর তীরে একটি গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় দেখতে পান তারা। এরপর নদীর পানির পাশাপাশি আশপাশের নদীতীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে পানির ভেতর থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারী দল। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ জানায়, একজন লেক্স রিনকন। তিনি হামবোল্ট কাউন্টির আর্কাটা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তাঁর বয়স ৪৫ বছর। অপরজন তাঁর ১৮ বছর বয়সী ভাই কৃষ্ণ রিনকন, যিনি নিউইয়র্কে থাকতেন। দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। আগামী সপ্তাহে তাঁদের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে মৃত্যুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না। ট্রিনিটি নদীর ওই অংশটি স্রোত ও পানির পরিস্থিতির কারণে বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত। নদীতে হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেলে সাঁতারু বা পানিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে দুই ভাই ঠিক কীভাবে পানিতে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। নিহতদের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিউইয়র্কে বসবাস করেন। ফলে শেষবারের মতো দুই ভাইকে বিদায় জানাতে তাঁদের স্বজনদের হামবোল্ট কাউন্টিতে যেতে হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হঠাৎ করে বিমানের টিকিট কিনতে হওয়ায় যাতায়াতের ব্যয়ও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একটি অনলাইন অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে স্বজনদের ক্যালিফোর্নিয়ায় যাতায়াত, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় সামাল দিতে সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। লেক্সের বন্ধু গ্রেগরি টেরি তাঁকে স্মরণ করে বলেন, লেক্স ছিলেন অত্যন্ত সদয়, দৃঢ়চেতা, সৃজনশীল ও রসিক একজন মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে জানার সুযোগ পেয়েছেন উল্লেখ করে টেরি বলেন, লেক্সের ছোট ভাই গণেশের সঙ্গেও পরিচিত হতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। দুই ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের পর তাঁদের মৃত্যুর বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
স্রোতে আটকে পড়া শিশুকে বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ, ঘাড় থেকে নিচের অংশ অবশ ৫ সন্তানের বাবার
মরুভূমির ৪৯ ডিগ্রি তাপে পুড়ে গেছে পা, হাঁটুর ওপর থেকে পা কাটতে হবে ৭২ বছরের বৃদ্ধের
দুই মাসের শিশুর ডায়াপার বদলানোর সময় যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গির্জা নেতা গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি উদ্যোগ আদালতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার প্রশাসনিক নীতি বাতিল করে দিয়েছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার, ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের জেলা জজ জেনেট ভার্গাস এই রায় দেন। রায়ের ফলে আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়ায় জাতীয়তার ভিত্তিতে আর ওই সামগ্রিক স্থগিতাদেশ প্রয়োগ করা যাবে না। আদালত বলেছে, কেবল কোনো ব্যক্তির জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা আটকে দেওয়ার এই নীতি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এই নীতি কার্যকর করেছিলেন। জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নীতি চালু করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, নির্দিষ্ট ৭৫টি দেশের সম্ভাব্য অভিবাসীদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। সে কারণে এসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। তবে আদালত মনে করেছে, অভিবাসন ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একজন আবেদনকারী সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা তাঁর জাতীয়তার ভিত্তিতে একযোগে ধরে নেওয়া আইনসম্মত নয়। জজ ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কংগ্রেসের নির্ধারিত আইনি কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আদালতের মতে, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদেরই ব্যক্তিভিত্তিকভাবে ভিসা আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ রয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, বসনিয়া, আলবেনিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া ও সোমালিয়ার মতো দেশও রয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও এই সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া স্থগিতাদেশের আওতায় বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াও পড়েছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক বা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য আদালতের রায়টি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে ভিসা পাওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হবে। এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুটি অলাভজনক সংগঠন এবং ১১ জন ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের পরিবারের সদস্যদের ভিসা আবেদন স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। অন্যরা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। মামলাকারীদের মধ্যে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও ছিল। মামলাকারীরা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক আনা গ্যালাঘার বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা স্থগিতের কারণে আলাদা হয়ে থাকা কিছু পরিবার আবার তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও রায়টিকে আইনের শাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছিল যে সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাঁদের প্রবেশ সীমিত করা প্রয়োজন। পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছিল, সরকারি সম্পদের ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানো এবং আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করাই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কর্মকর্তারা এমন তথ্যও তুলে ধরেছিলেন যে নির্দিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসী-অধ্যুষিত ৩০ শতাংশের বেশি পরিবার কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। তবে আদালতের মূল আপত্তি ছিল, এই পরিসংখ্যান ব্যবহার করে একটি দেশের সব নাগরিককে একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা যায় কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভিসার যোগ্যতা ব্যক্তির নিজস্ব আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করার আইনি কাঠামো রয়েছে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে জুনে আরেকটি ফেডারেল আদালত এমন একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ আটকে দেয়, যার মাধ্যমে অভিবাসীদের আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত কিছু সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি, ঠিক কত দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে। প্রশাসন চাইলে উচ্চ আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি আবারও উচ্চতর আদালতের বিবেচনায় যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের অভিবাসন নীতিতে ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই শুরু হতে পারে। আদালতের বর্তমান রায়ে মূলত জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপ করা সামগ্রিক স্থগিতাদেশ বাতিল হয়েছে। যেসব ভিসা প্রত্যাখ্যান শুধুমাত্র ওই নীতির ভিত্তিতে করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে। ফলে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অভিবাসনের প্রক্রিয়া আবার ব্যক্তিভিত্তিক মূল্যায়নের দিকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংবাদসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ
ফ্লোরিডায় মল থেকে ২২ হাজার ডলারের গয়না চুরি, বিক্রি করতে গিয়ে ধরা চোর
ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রিনিটি নদীতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃ ত্যু, তল্লাশির পর উদ্ধার ম রদেহ