- প্রচ্ছদ
- Topic
ড্রোন যুদ্ধ
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ ফ্রন্টলাইনগুলোর একটিতে টানা ৩২৬ দিন মাটির নিচের একটি ছোট ফক্সহোলে কাটিয়েছেন ইউক্রেনের সেনাসদস্য সেরহি ক্রিনিতস্কি। চারদিকে রুশ ড্রোনের সার্বক্ষণিক নজরদারি, গোলাবর্ষণ আর মৃত্যুর আশঙ্কার মধ্যে দিনের আলোয় বাঙ্কার থেকে বের হওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। প্রায় এক বছর ধরে এমন জীবন কাটিয়ে অবশেষে ফিরে এসে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘হিরো অব ইউক্রেন’ পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ৩৫ বছর বয়সী ক্রিনিতস্কি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডোনেৎস্ক অঞ্চলের চাসিভ ইয়ারের কাছে একটি অগ্রবর্তী অবস্থানে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ের বেশির ভাগ সময়ই তিনি মাটির নিচে খোঁড়া একটি সংকীর্ণ ফক্সহোলে কাটিয়েছেন, কারণ রুশ বাহিনীর ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া কার্যত আত্মহত্যার শামিল ছিল। ক্রিনিতস্কি জানান, যুদ্ধের শুরুতে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে আকাশজুড়ে ড্রোনের আধিপত্য তৈরি হওয়ায় যুদ্ধের ধরন পুরোপুরি বদলে যায়। আগে সেনারা দিনের বেলায়ও অবস্থান পরিবর্তন করতে পারলেও এখন সামান্য নড়াচড়াও শত্রুপক্ষের নজরে পড়ে যায়। ফলে খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানো থেকে শুরু করে সেনাদের চলাচল সবকিছুই রাতের অন্ধকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, দিনের পর দিন সূর্যের আলো দেখা হতো না। সংকীর্ণ গর্তের ভেতরেই ঘুম, খাওয়া এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি চলত। রাত নামলে সীমিত সময়ের জন্য বাইরে বের হয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হতো। যুদ্ধ চলাকালে তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহযোদ্ধা রুশ ড্রোন থেকে নিক্ষিপ্ত বিস্ফোরকে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। এরপর দীর্ঘ সময় একাই সেই অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করেন ক্রিনিতস্কি। রয়টার্স জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রের কিছু মুহূর্ত তিনি নিজের মোবাইল ফোনেও ধারণ করেছিলেন, যা যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার সাক্ষ্য বহন করে। খাবার ও সরঞ্জামের তীব্র সংকটের কথাও তুলে ধরেছেন এই ইউক্রেনীয় সেনা। তিনি বলেন, অনেক সময় যুদ্ধক্ষেত্রে পড়ে থাকা রসদ সংগ্রহ করেই টিকে থাকতে হয়েছে। প্রতিটি দিন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা, আর প্রতিটি রাত ছিল পরবর্তী দিনের জন্য বেঁচে থাকার সংগ্রাম। যুদ্ধের আগে ক্রিনিতস্কির জীবন ছিল একেবারেই ভিন্ন। তিনি খরগোশ পালন করতেন এবং সাধারণ কৃষিজীবন কাটাতেন। পরে দেশ রক্ষার আহ্বানে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে চলে যান পূর্ব ইউক্রেনের অন্যতম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্রে। রয়টার্সকে তিনি দাবি করেছেন, যুদ্ধ চলাকালে অন্তত ২৩ জন রুশ সেনাকে হত্যা করেছেন। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, ড্রোননির্ভর আধুনিক যুদ্ধের কারণে ফ্রন্টলাইনের বাস্তবতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। ছোট ছোট ফক্সহোল ও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়স্থল এখন অনেক সেনার প্রধান নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। প্রায় এক বছরের সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার পর ক্রিনিতস্কিকে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ইউক্রেনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সামরিক সম্মান ‘হিরো অব ইউক্রেন’ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন, যাতে নতুন প্রজন্ম যুদ্ধের মানবিক মূল্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রচলিত ট্যাংক, কামান বা যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ও নির্ধারক অস্ত্র হিসেবে উঠে এসেছে ড্রোন। এই বাস্তবতায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও আধুনিক করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি পরিকল্পনা করেছে, তাদের প্রায় পাঁচ লাখ সেনাসদস্যকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলা হবে। শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক এক ঘোষণায় জানান, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে তারা ব্যক্তিগত অস্ত্রের মতোই সহজভাবে ড্রোন ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বিতভাবে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ। আন গিউ-ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে—ড্রোন এখন শুধু সহায়ক প্রযুক্তি নয়, বরং যুদ্ধের ফলাফল বদলে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রধান অস্ত্র। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের কৌশল যুদ্ধের প্রচলিত ধারণাকেই পাল্টে দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই পরিকল্পনার পেছনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রাখছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে। নতুন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। পরবর্তী সময়ে, ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে। শুধু ড্রোন ব্যবহার নয়, দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত ড্রোন তৈরির দিকেও জোর দিচ্ছে সিউল। এর অংশ হিসেবে ‘কে-লুকাস’ নামের দূরপাল্লার আক্রমণাত্মক ড্রোন দ্রুত উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তির ধারণা নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন মডেল থেকে, যার নকশা আবার ইরানের বহুল আলোচিত আত্মঘাতী ড্রোনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধে এ ধরনের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। ড্রোনের পাশাপাশি প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়া। লেজার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে শত্রুপক্ষের ড্রোন দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা যায়। উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। ২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে একটি রাজধানী সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সংরক্ষিত এলাকাতেও ঢুকে পড়ে। ওই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণ হেলিকপ্টার মোতায়েন করে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে, কিন্তু কোনো ড্রোন ভূপাতিত করতে পারেনি। ঘটনাটি দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের ফলে উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল থেকে তারা সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে, যা সাধারণ অবস্থায় অর্জন করতে দীর্ঘ সময় লাগত। এদিকে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, তাদের নেতা কিম জং-উন সম্প্রতি কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষানিরীক্ষা তদারক করেছেন। সব মিলিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার এই ড্রোন-কেন্দ্রিক পরিকল্পনাকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বিবেচনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ লাখ সদস্যকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। নতুন এ উদ্যোগের আওতায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা ব্যক্তিগত অস্ত্র ব্যবহারের মতো সহজেই ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন। আজ শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় ড্রোন এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ড্রোন ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রায় পাঁচ লাখ সদস্যকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আন গিউ-ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে যে ড্রোন যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাঁর মতে, স্বল্প ব্যয়ে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের ফলে যুদ্ধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হামলাকারী ড্রোন ‘কে-লুকাস’-এর উৎপাদনও দ্রুত বাড়ানো হবে। এ ড্রোনের ধারণা নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস ড্রোন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই ড্রোন আবার ইরানের শাহেদ-১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোনের নকশা অনুসরণে তৈরি। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ব্যাপকভাবে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে। ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও উদ্যোগ নিয়েছে সিউল। এ লক্ষ্যে লেজার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভভিত্তিক অস্ত্র প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার এ ঘোষণা এসেছে। ২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে একটি ড্রোন রাজধানী সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওপরের সংরক্ষিত এলাকাতেও ঢুকে পড়ে। ওই ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করে এবং প্রায় ১০০টি গুলি ছোড়ে। তবে কোনো ড্রোন ভূপাতিত করতে পারেনি। ঘটনাটি দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত কৌশল থেকে পিয়ংইয়ং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে হাজার হাজার সেনা ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য পাঠিয়েছে। এর ফলে দেশটির সেনারা বৃহৎ পরিসরের ড্রোন যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এদিকে একই দিনে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং-উন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম তদারক করেছেন।
দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিশ্বজুড়ে সামরিক অভিযানে আকাশপথে প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৬ সালের ইরান সংঘাত সেই আধিপত্যের ধারণাকে নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পশ্চিম ইরানে একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে বিশ্লেষকেরা প্রতীকী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। যদিও পরবর্তীতে চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবুও ঘটনাটি ওয়াশিংটনের জন্য কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে। একই দিনে পারস্য উপসাগর সংলগ্ন কুয়েত এলাকায় আরও একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ বিমান ধ্বংস হওয়ার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এতে বোঝা যাচ্ছে, স্টেলথ সুবিধাবিহীন এবং নিম্ন উচ্চতায় উড্ডয়নকারী বিমানগুলো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, উদ্ধার অভিযানের সময় আরও কিছু মার্কিন উড়োজাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এটি স্পষ্ট যে সংঘাতের প্রকৃতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের দাবি—তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে এবং বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় সফল হামলা চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আংশিক দুর্বল করা আর সম্পূর্ণ অকার্যকর করে দেওয়া এক বিষয় নয়। ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো এখনও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। সংঘাতের শুরুর দিকেই ইসফাহান ও বুশেহর এলাকায় একাধিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাও মার্কিন বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যদিও ড্রোন ক্ষয়ক্ষতি রাজনৈতিকভাবে কম সংবেদনশীল, তবুও গোয়েন্দা নজরদারি ও লক্ষ্য নির্ধারণে এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে কেবল প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই বিজয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। বরং সক্ষম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই মানেই দীর্ঘস্থায়ী চাপ, অনিশ্চয়তা এবং ক্ষয়ক্ষতি। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-এর বাস্তবতার সঙ্গেও মিল খুঁজে দেয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ কৌশলে স্টেলথ প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ড্রোন ব্যবহারে আরও গুরুত্ব দিতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আকাশ শক্তির পাশাপাশি সাইবার সক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য ও কূটনৈতিক তৎপরতার সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ফলাফল। সব মিলিয়ে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি দুর্বল না করলেও ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী আধিপত্য’-এর ধারণাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের ড্রোন যুদ্ধ কৌশল প্রয়োগ করছে ইরান—এমনটাই মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ফাইবার অপটিক তার দিয়ে নিয়ন্ত্রিত এফপিভি (FPV) ড্রোনের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্যামিং-প্রতিরোধী ড্রোন বাগদাদে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটির ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এসব হামলায় একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ও একটি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফাইবার অপটিক নিয়ন্ত্রিত এসব ড্রোন ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে থামানো যায় না, যা প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অনেকাংশে অকার্যকর করে দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছেন। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে স্থল ও নৌ অভিযান চালানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাহিনীকে এমন এক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হতে পারে, যেখানে ড্রোনই প্রধান হুমকি—যা ইরাক বা আফগানিস্তানের পূর্ববর্তী যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে ভিন্ন। ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কফম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো এফপিভি ড্রোন প্রযুক্তি ও এর সামরিক প্রভাব পুরোপুরি অনুধাবনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনীর সাবেক এয়ার মার্শাল মার্টিন স্যাম্পসনের মতে, পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী এ ধরনের ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোন প্রযুক্তি উন্নত করতে মস্কো যেমন কাজ করছে, তেমনি সেই অভিজ্ঞতা তেহরানও গ্রহণ করছে। ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রি জাগোরোদনিয়ুক বলেন, দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, যুদ্ধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির কারণ হয়ে উঠেছে এফপিভি ড্রোন। অনেক ক্ষেত্রে ২০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ড্রোন নিয়ন্ত্রিত ‘কিল জোন’ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে। তবে পেন্টাগন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো এই নতুন ধরনের যুদ্ধ বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।