বিশ্ব

ইরান সংঘাতে চ্যালেঞ্জের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ আধিপত্য: ‘অজেয়’ ভাবমূর্তিতে ধাক্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: এনডিটিভির সৌজন্যে
ছবি: এনডিটিভির সৌজন্যে

দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিশ্বজুড়ে সামরিক অভিযানে আকাশপথে প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৬ সালের ইরান সংঘাত সেই আধিপত্যের ধারণাকে নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

 

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পশ্চিম ইরানে একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে বিশ্লেষকেরা প্রতীকী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। যদিও পরবর্তীতে চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবুও ঘটনাটি ওয়াশিংটনের জন্য কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে।

 

একই দিনে পারস্য উপসাগর সংলগ্ন কুয়েত এলাকায় আরও একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ বিমান ধ্বংস হওয়ার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এতে বোঝা যাচ্ছে, স্টেলথ সুবিধাবিহীন এবং নিম্ন উচ্চতায় উড্ডয়নকারী বিমানগুলো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, উদ্ধার অভিযানের সময় আরও কিছু মার্কিন উড়োজাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এটি স্পষ্ট যে সংঘাতের প্রকৃতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

 

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের দাবি—তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে এবং বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় সফল হামলা চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আংশিক দুর্বল করা আর সম্পূর্ণ অকার্যকর করে দেওয়া এক বিষয় নয়। ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো এখনও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে।

 

সংঘাতের শুরুর দিকেই ইসফাহান ও বুশেহর এলাকায় একাধিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাও মার্কিন বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যদিও ড্রোন ক্ষয়ক্ষতি রাজনৈতিকভাবে কম সংবেদনশীল, তবুও গোয়েন্দা নজরদারি ও লক্ষ্য নির্ধারণে এর প্রভাব পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে কেবল প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই বিজয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। বরং সক্ষম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই মানেই দীর্ঘস্থায়ী চাপ, অনিশ্চয়তা এবং ক্ষয়ক্ষতি। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-এর বাস্তবতার সঙ্গেও মিল খুঁজে দেয়।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ কৌশলে স্টেলথ প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ড্রোন ব্যবহারে আরও গুরুত্ব দিতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আকাশ শক্তির পাশাপাশি সাইবার সক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য ও কূটনৈতিক তৎপরতার সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ফলাফল।

 

সব মিলিয়ে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি দুর্বল না করলেও ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী আধিপত্য’-এর ধারণাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ক্রু উদ্ধার অভিযানের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির সন্দেহ, ইরানের অভিযোগ

ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু উদ্ধারের অভিযানের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এই অভিযানের আড়ালে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা থাকতে পারে।   সোমবার এক বক্তব্যে তিনি জানান, পুরো ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অস্পষ্টতা রয়েছে। তার দাবি, কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশে মার্কিন পাইলট আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে বলা হলেও, মার্কিন বাহিনী মধ্য ইরানের আরও দূরবর্তী এলাকায় অবতরণের চেষ্টা করেছে, যা সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।   ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘এই অভিযানটি প্রতারণামূলক হতে পারে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহের প্রচেষ্টা ছিল—এ সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’   গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র-এর একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে ইরান। এতে থাকা দুই পাইলট নিখোঁজ হন। তাদের উদ্ধারে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে ইরানও ক্রুদের খোঁজে তল্লাশি চালায়।   রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, একটি ‘সাহসী অভিযানের’ মাধ্যমে দ্বিতীয় পাইলটকেও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: এনডিটিভির সৌজন্যে

ইরান সংঘাতে চ্যালেঞ্জের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ আধিপত্য: ‘অজেয়’ ভাবমূর্তিতে ধাক্কা

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী । ফাইল ছবি

দেশে খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল: অর্থমন্ত্রী

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ছবি: পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেসন্সের ফেসবুক পেজ

‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ ঘিরে তৎপরতা: রাতভর যোগাযোগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
ইরানে মার্কিন ক্রু উদ্ধারে ইসরায়েলের সহায়তা, দাবি নেতানিয়াহুর

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রুকে উদ্ধারের অভিযানে ইসরায়েল সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করেছে ইসরায়েল।   নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। শত্রুপক্ষের ভূখণ্ড থেকে নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের সাহসী সিদ্ধান্ত এবং সফল অভিযানের জন্য ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এই অভিযানে ইসরায়েলের সহায়তার জন্য ট্রাম্প কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।   তিনি আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতরে ও বাইরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সহযোগিতা “নজিরবিহীন” পর্যায়ে পৌঁছেছে। একজন মার্কিন সেনাকে উদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পেরে ইসরায়েল গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত শুক্রবার ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ইরান দাবি করে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে।   ওই বিমানে থাকা দুই ক্রুর একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা হলেও অন্যজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে দুই দিনব্যাপী অনুসন্ধান শেষে একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে মার্কিন কমান্ডোরা তাকে উদ্ধার করে। তবে এই উদ্ধার অভিযানে ইসরায়েলের সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না—সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প: ইরান ইস্যুতে কী বার্তা আসছে?

প্রস্তাবটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পায়নি । রয়টার্স প্রতীকী ছবি: রয়টার্স

‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ প্রস্তাব: যুদ্ধবিরতি থেকে চূড়ান্ত চুক্তি— কী থাকছে খসড়ায়

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে চীন । ছবি: সংগৃহীত

ব্লুমবার্গ বিশ্লেষণ: ট্রাম্পের নীতির ছায়ায় বদলাচ্ছে শক্তির ভারসাম্য: এশিয়ায় বাড়ছে চীনের প্রভাব

ইরান চীনের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী করতে পারে, যা ভারতের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হবে । ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে টানাপোড়েন: চীন-ইরান সমীকরণে নতুন দুশ্চিন্তায় ভারত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাড়তে থাকা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান ঘনিষ্ঠতা ভবিষ্যতে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   ভারতীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মারসেলাস ইনভেস্টমেন্টসের বিশ্লেষক সৌরভ মুখার্জি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, চীন ধীরে ধীরে ইরানের সঙ্গে কৌশলগতভাবে এগিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশ একসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তার মতে, এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে কঠোর ভাষায় হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে তীব্র সমালোচনা করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল স্বল্পমেয়াদি উত্তেজনা নয়; বরং এটি জ্বালানি ও কৌশলগত আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতার অংশ। এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌরভ মুখার্জি বলেন, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং এটি কয়েক মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে।   অন্যদিকে, কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর বিশ্লেষক আবদুল্লাহ বাবুদ মনে করেন, উপসাগরীয় তেলের ওপর চীন-এর নির্ভরতা এখন কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক হিসেবে চীনের জন্য হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ও প্রবাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   চীন ইতোমধ্যে ইরান থেকে কম দামে তেল আমদানি করছে এবং ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে বন্দর ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বেইজিং।   এই প্রেক্ষাপটে ভারতের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তেলের দাম বৃদ্ধি, মুদ্রার চাপ এবং সুদের হার বৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্পের ইরান হুঁশিয়ারি বিপজ্জনক ও মানসিক ভারসাম্যহীন: বার্নি স্যান্ডার্স

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানকে চূড়ান্ত আলটিমেটামের সুনির্দিষ্ট সময় ঘোষণা ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

ইস্টার সানডেতে ইরানকে অশ্লীল ভাষায় গালি দিলেন ট্রাম্প

0 Comments