ইরান, ইয়েমেন এবং লেবানন—এই তিন দিক থেকে ধেয়ে আসা ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির রাজধানী তেল আবিব, জেরুজালেম এবং মৃত সাগর (ডেড সি) সংলগ্ন অঞ্চলে তিন দফায় এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ জানিয়েছে, ইরানের একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের নিকটবর্তী পেতাহ তিকভা শহরে সরাসরি আঘাত হেনেছে, যাতে ওই এলাকার আবাসন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি জানিয়েছে, তারা ইরানের সাথে সমন্বয় করে তেল আবিবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন বসতি ও সামরিক যান লক্ষ্য করে অন্তত ৫৫টি হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন সেনাসদস্য রয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য ও নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার সময় তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ প্রধান শহরগুলোতে বিপৎসংকেত বা সাইরেন বেজে উঠলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, তিন দিক থেকে চালানো এই অভূতপূর্ব সমন্বিত আক্রমণ ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (আয়রন ডোম) ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের এই নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ইতিহাসে এবার ইসরায়েলে সবচাইতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার চালানো এই হামলায় কেঁপে উঠেছে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। হামলার সময় সাইরেনের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে কয়েক লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, বেশ কিছু এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহন করছিল যা জনবহুল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তেল আবিব ছাড়াও শেফেলা এবং জেরুজালেম এলাকায় সতর্ক সংকেত বাজানো হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো নিহতের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এই হামলার পরপরই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানে ভয়াবহ পাল্টা হামলা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। তেহরানের কয়েক ডজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এই সংঘাত শুরু হয়েছে যা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজার তিনশ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এর পর থেকেই ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং বিমান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। জর্ডান ও ইরাকেও হামলার খবর পাওয়া গেছে যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে। বড় শক্তিগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে প্রতিদিন আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলছে। বিশ্ববাসী এখন চরম উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছে যে এই সংঘাতের শেষ কোথায়। আপাতত কোনো পক্ষই নমনীয় হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না যা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাসনিম-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি এবং তা গোপন করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেরুজালেম, তেল আবিব, হাইফা ও পেতাহ তিকভাসহ ১০টি বড় শহরের কবরস্থানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ১,২৮১ জনে পৌঁছেছে। এই হিসাব নির্ধারণে দাফন কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা চেভরা কাদিমা-এর উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণ সময়ে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০ জনের মৃত্যু ঘটে, সেখানে গত ২১ দিনে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন অন্তত ২১১ জনে। অর্থাৎ প্রতিদিন অতিরিক্ত ৬১ জনের মৃত্যু ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী সংস্থা জাকা-এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত তিন সপ্তাহে তাদের অন্তত ৭০৩টি বিশেষ অভিযান পরিচালনার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, এই সংস্থা মূলত মৃতদেহ উদ্ধার ও শনাক্তকরণের কাজ করে থাকে—যা মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দিমোনা ও আরাদ এলাকায় সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হতাহতের সংখ্যা এখনো এই হিসাবের সঙ্গে যোগ করা হয়নি। এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত হলে মোট প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাসনিমের দাবি, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এড়াতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রকৃত হতাহতের তথ্য গোপন রাখছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের একটি শহরে সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরান থেকে ছোড়া ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র। এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম The Times of Israel। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরের রিশন লেজিওন শহরের অন্তত তিনটি স্থানে এই ক্ষেপণাস্ত্রের বোমা আঘাত হানে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রে সাধারণত একাধিক ছোট বোমা থাকে—যেগুলো বিস্ফোরণের পর বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি বোমার ওজন প্রায় আড়াই কেজি পর্যন্ত হতে পারে, ফলে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ফলে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এই হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের তেল আবিবে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বুধবার চালানো এই হামলাকে তারা প্রতিশোধমূলক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছে। আইআরজিসির বরাতে জানা গেছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ধারাবাহিকতায় চালানো এই হামলায় খোররামশাহর-৪, ইমাদ ও খাইবার শেকান ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানের দাবি, এসব হামলায় ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তেহরানভিত্তিক সূত্রের দাবি, ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি হত্যার জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরান আরও দাবি করেছে, ইসরায়েলের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। হামলার পর তেল আবিবের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এ হামলায় ২৩০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত বা আহত হয়েছে। একই সঙ্গে আল-কুদস, হাইফা, বীরশেবা ও নেগেভ মরুভূমির বিভিন্ন স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে তারা জানায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলার দাবি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আইআরজিসির এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার সতর্ক করে বলেছেন, এই অভিযান এখানেই শেষ নয়; ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।