ইরান, ইয়েমেন এবং লেবানন—এই তিন দিক থেকে ধেয়ে আসা ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির রাজধানী তেল আবিব, জেরুজালেম এবং মৃত সাগর (ডেড সি) সংলগ্ন অঞ্চলে তিন দফায় এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ জানিয়েছে, ইরানের একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের নিকটবর্তী পেতাহ তিকভা শহরে সরাসরি আঘাত হেনেছে, যাতে ওই এলাকার আবাসন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি জানিয়েছে, তারা ইরানের সাথে সমন্বয় করে তেল আবিবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন বসতি ও সামরিক যান লক্ষ্য করে অন্তত ৫৫টি হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন সেনাসদস্য রয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য ও নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার সময় তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ প্রধান শহরগুলোতে বিপৎসংকেত বা সাইরেন বেজে উঠলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, তিন দিক থেকে চালানো এই অভূতপূর্ব সমন্বিত আক্রমণ ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (আয়রন ডোম) ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের এই নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি প্রতিনিধিরা। শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে অনুষ্ঠিত বিশাল এই শোক অনুষ্ঠানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিদেশি কূটনীতিক ও কর্মকর্তারাও উপস্থিত থেকে প্রয়াত এই নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুথি আন্দোলনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এসব গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করলেও তেহরান তাদের মিত্র এই শক্তিগুলোকে ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষ হিসেবে অভিহিত করে থাকে। শনিবারের এই শোক অনুষ্ঠানে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ ফনেইশ। অন্যদিকে হামাসের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ দারবিশ এবং তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হামাসের অপর শীর্ষ নেতা বাসেম নাইম। এছাড়াও ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর নেতা জিয়াদ আল-নাখালা এবং হুথি আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ধাইফ আল্লাহ আল-শামিও খামেনির জানাজায় অংশ নেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তেহরানেই এক হামলায় নিহত হয়েছিলেন হামাসের সাবেক রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়া। সেই ঘটনার পর খামেনির জানাজায় হামাস নেতাদের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, খামেনির মরদেহ তেহরান থেকে প্রথমে ইরানের কুম শহরে নেওয়া হবে। এরপর ইরাকের নাজাফ ও কারবালা প্রদক্ষিণ শেষে তাকে ইরানের মাশহাদে চূড়ান্তভাবে দাফন করা হবে। খামেনির মৃত্যুতে আগামী কয়েকদিন ধরে পুরো ইরানজুড়ে বড় ধরনের শোক মিছিল ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগ টানতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায় তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে নিজেদের জ্বালানি, খনিজ, অবকাঠামো, সামুদ্রিক, টেলিযোগাযোগ এবং কৃষি খাতে বিশাল বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের আমন্ত্রণে ইস্তাম্বুল সফরে গিয়ে শনিবার তিনি এই আহ্বান জানান। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইস্তাম্বুলে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তুরস্কের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে চ্যালিক হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান আহমেদ চ্যালিক, আলবায়রাক গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আলবায়রাক এবং ইউনিয়ন অব চেম্বার্স অ্যান্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব তুর্কিয়ের (টিওবিবি) প্রেসিডেন্ট রিফাত হিসারসিক্লিওগ্লু উপস্থিত ছিলেন। চ্যালিক হোল্ডিংয়ের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি পাকিস্তানের জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বেসরকারীকরণ খাতের বিশাল সম্ভাবনা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আলবায়রাক গ্রুপকে পাকিস্তানের সামুদ্রিক অবকাঠামো, বন্দরের আধুনিকায়ন এবং লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাল ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে শাহবাজ শরিফ তুর্কসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলি তাহা কোচের সঙ্গেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি আঞ্চলিক ডিজিটাল সংযোগ শক্তিশালী করা, নিরাপদ আন্তঃসীমান্ত ডেটা প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর একীকরণে একটি ‘পাকিস্তান-তুরস্ক ডিজিটাল করিডোর’ প্রতিষ্ঠার সরকারি পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি তুর্কসেলকে পাকিস্তানে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম তৈরিতে অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। জবাবে তুর্কসেলের সিইও পাকিস্তানের ডিজিটাল রূপান্তরের এজেন্ডার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং উদীয়মান এই প্রযুক্তি খাতে একযোগে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই সরকারি সফরে শাহবাজ শরিফ একটি বিজনেস কনফারেন্সেও ভাষণ দেবেন, যেখানে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, জ্বালানি এবং আইটি খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনাগুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বিদ্যমান। মিশর, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘আর-৪’ কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্কেরও সক্রিয় সদস্য এই দুই মিত্র দেশ। বর্তমানে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসহ জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। যার অংশ হিসেবে পাকিস্তান তুরস্কের কাছ থেকে চারটি আধুনিক করভেট যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ করছে, যার দুটি তুর্কি সহায়তায় করাচি শিপইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে। এছাড়া আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তিসহ এভিওনিক্স ও নজরদারি ব্যবস্থার যৌথ উন্নয়নেও দেশ দুটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তেহরানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি ছোট্ট কফিন। সেটিই ছিল তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানির মরদেহবাহী কফিন। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছোট্ট কফিনটি বড় বড় কফিনের পাশে রাখা হয়। পাশে ছিল শিশুটির একটি ছবি। রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের বিশাল আয়োজনের মধ্যেও এই ছোট্ট কফিন অনেকের চোখে জল এনে দেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বহু মানুষ নীরবে শিশুটির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনেককে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার রাজনৈতিক গুরুত্বের বাইরে, ছোট্ট জাহরার কফিন মানবিক ক্ষতির একটি গভীর প্রতীক হিসেবে সামনে আসে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের সদস্যদের একজন। শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে তাঁর কফিন অন্য পরিবারের সদস্যদের কফিনের পাশেই রাখা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিটি অসংখ্য মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, একটি শিশুর ছোট্ট কফিন যুদ্ধের মানবিক মূল্যকে সবচেয়ে নির্মমভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। জাহরার বিদায় তাই শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের ঘটনা নয়; বরং সংঘাতের মধ্যে নিরীহ মানুষের প্রাণহানির এক মর্মান্তিক স্মারক হিসেবেও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছে। তাঁর ছোট্ট কফিন যেন মনে করিয়ে দেয়—প্রতিটি শিশুর জীবন অমূল্য, আর যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য অনেক সময় নিরপরাধরাই দিয়ে থাকে।