সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#দৃষ্টিশক্তি

চোখের বিরল রোগের চিকিৎসায় ক্ষুদ্র ইমপ্লান্ট
চোখের বিরল রোগে নতুন আশার আলো, চালের দানার সমান যন্ত্রে সুরক্ষিত থাকতে পারে দৃষ্টি

চোখের বিরল রোগে দৃষ্টিশক্তি হারানোর গতি কমাতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে চালের দানার সমান একটি ক্ষুদ্র ইমপ্লান্ট। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে এই যন্ত্রের পরীক্ষা ও প্রয়োগের মাধ্যমে এমন রোগীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যাঁরা ধীরে ধীরে চোখের কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন। তবে এই চিকিৎসায় ইতিমধ্যে হারিয়ে যাওয়া দৃষ্টি ফিরে আসে না। এর মূল লক্ষ্য রোগের অগ্রগতি ধীর করা এবং যতটা সম্ভব অবশিষ্ট দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা।   ম্যাকুলার টেলাঞ্জিয়েকটেশিয়া বা ম্যাকটেল (MacTel) নামের বিরল চোখের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই চিকিৎসা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রোগটি চোখের রেটিনার কেন্দ্রীয় অংশ ম্যাকুলাকে প্রভাবিত করে। ম্যাকুলা মানুষের সূক্ষ্ম ও স্পষ্ট দৃষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ চিনতে পারা, বই পড়া, টেলিভিশন দেখা কিংবা ছোট অক্ষরের লেখা বোঝার মতো কাজের ক্ষেত্রে এই অংশের ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ম্যাকটেলে আক্রান্ত হিদার হ্যারিস-কেডি নিজের চোখের দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন অনুভব করেছেন। তাঁর ভাষায়, একটি চোখ বন্ধ করলে অন্য চোখ দিয়ে কারও মুখ স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন না। তখন সামনে থাকা মানুষের চুল ও চারপাশের দেয়াল দেখা গেলেও মুখটি আর পরিষ্কার বোঝা যায় না। বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রোগের সঙ্গে বসবাস করছেন হিদার। প্রথমে তাঁর ডান চোখে সমস্যা দেখা দেয়। পরে বাম চোখেও একই ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়। দৃষ্টিশক্তি কতটা কমেছে, তা বোঝার জন্য তাঁকে প্রায়ই একটি চোখ ঢেকে পরীক্ষা করতে হতো। প্রতিদিনের এই অনিশ্চয়তা তাঁর জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছিল। রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডিন এলিয়টের মতে, ম্যাকটেল সাধারণত প্রথম দিকে ঝাপসা দৃষ্টি এবং চোখের কেন্দ্রের আশপাশে ছোট ছোট দৃষ্টিহীন অংশ তৈরি করে। রোগটি বাড়তে থাকলে মানুষের সূক্ষ্মভাবে দেখার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে পড়া, টেলিভিশন দেখা এবং পরিচিত মানুষের মুখ শনাক্ত করার মতো দৈনন্দিন কাজেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। এলিয়ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাস আই অ্যান্ড ইয়ার প্রতিষ্ঠানের রেটিনা বিভাগের সাবেক পরিচালক। রোগটি বিরল হওয়ায় এ ধরনের রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে আগে এই রোগের অগ্রগতি ধীর করার জন্য অনুমোদিত কোনো চিকিৎসা ছিল না। গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে অনেক রোগীর পক্ষে বই পড়া কিংবা টেলিভিশন দেখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত।   হিদারকে দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় বিবর্ধক কাচ বা ম্যাগনিফাইং গ্লাস রাখতে হতো। বাক্সের গায়ে লেখা নির্দেশনা কিংবা ছোট অক্ষরের তথ্য পড়তে এগুলো ব্যবহার করতেন তিনি। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে। একসময় হয়তো আর দেখতে পারবেন না, গাড়ি চালাতে পারবেন না—এমন আশঙ্কা তাঁকে তাড়া করত। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শুধু তাঁর নিজের জীবন নয়, স্বামীর জীবনও বদলে যেত। দৈনন্দিন কাজে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ভয়ও ছিল তাঁর। এই পরিস্থিতিতে হিদারের জন্য আশার কারণ হয়ে আসে এনসেলটো (ENCELTO) নামের ক্ষুদ্র ইমপ্লান্ট। চালের একটি দানার সমান আকারের এই যন্ত্র অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের ভেতরে বসানো হয়। এর বিশেষ কোষগুলো এমন একটি প্রোটিন তৈরি ও সরবরাহ করে, যা রেটিনার আলোকসংবেদনশীল কোষগুলোকে সুরক্ষা দিতে এবং রোগের অগ্রগতি ধীর করতে সাহায্য করে। রেটিনার এই কোষগুলোকে ফটোরিসেপ্টর বলা হয়। এগুলো আলো গ্রহণ করে দৃষ্টিসংক্রান্ত সংকেত তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ম্যাকটেলের কারণে এসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমতে থাকে। এনসেলটো থেকে নির্গত সিলিয়ারি নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর বা সিএনটিএফ নামের প্রোটিন এই কোষগুলোর ক্ষয় কমানোর উদ্দেশ্যে কাজ করে। ইমপ্লান্টটির কার্যকারিতা যাচাই করতে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, যন্ত্রটি ম্যাকুলার আলোকসংবেদনশীল কোষের ক্ষয় উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করতে পারে। এই ফলাফল চিকিৎসাটির অনুমোদনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। রেটিনা বিশেষজ্ঞ এলিয়ট এই প্রযুক্তিকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো বিস্ময়কর বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, ক্ষুদ্র একটি যন্ত্র চোখের ভেতরে বসিয়ে প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরবরাহ করার ধারণাটি একসময় কল্পনাতীত মনে হতো। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) প্রাপ্তবয়স্কদের ইডিওপ্যাথিক ম্যাকটেল টাইপ-২ চিকিৎসায় এনসেলটোর অনুমোদন দেয়। এটি রোগটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত প্রথম চিকিৎসা। হিদার হ্যারিস-কেডি বোস্টনের ম্যাস আই অ্যান্ড ইয়ারে এই ইমপ্লান্ট গ্রহণকারী প্রথম রোগী হন। তবে এই চিকিৎসার খরচ বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এলিয়টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইমপ্লান্টটির দাম প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তাঁর মতে, চিকিৎসাটির উদ্দেশ্য রোগীর দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখা। তবে চিকিৎসার কার্যকারিতা নিয়ে আশাবাদ থাকলেও এটি হারানো দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো পদ্ধতি নয়। রোগীর অবস্থা, চিকিৎসার উপযোগিতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। হিদার হ্যারিস-কেডির জন্য এই চিকিৎসা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন তাঁর চোখে কিছুটা দৃষ্টিশক্তি তখনো অবশিষ্ট ছিল। ইমপ্লান্ট পাওয়ার পর তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, অন্তত রোগটির অগ্রগতি থামানোর সুযোগ পাওয়া গেছে। ম্যাকটেলের মতো বিরল রেটিনার রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য এই চিকিৎসা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যদিও সবার ক্ষেত্রে ফলাফল এক হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই, তবু রোগের কারণে দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ হারানোর প্রক্রিয়া ধীর করতে পারা চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। বিশেষ করে যাঁরা এখনো আংশিক দৃষ্টিশক্তি ধরে রেখেছেন, তাঁদের জন্য রোগের অগ্রগতি কমানোর এই সুযোগ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
দৃষ্টিশক্তি ফেরানোর আশায় অপেক্ষায় শত শত রোগী (ছবি: এএফপি)
‘ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থি’ যুক্তিতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ করল তালেবান, দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রোগীরা

আফগানিস্তানে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তালেবান সরকার। চিকিৎসকদের দাবি, ‘ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থি’ যুক্তিতে এই অস্ত্রোপচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার আশায় থাকা শত শত রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। বিশেষ করে বি স্ফোরণ, বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও কর্মক্ষেত্রে আঘাতের কারণে দৃষ্টিশক্তি হারানো তরুণদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আফগান চিকিৎসকেরা জানান, তালেবান কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তির আশঙ্কা থাকায় চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার চালিয়ে যেতে পারছেন না। তবে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক লিখিত আদেশ প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।   ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর দেশটির স্বাস্থ্যসেবা খাতে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধের নির্দেশ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে এমন একটি সময়ে এই সিদ্ধান্ত এসেছে, যখন কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদে স্থানীয় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কাবুলের নূর আই হাসপাতালের চিকিৎসক নূর জামান হাশিম জানান, নির্দেশে কর্মসূচি বন্ধ হওয়ার আগে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাঁদের হাসপাতালে ৯০টি কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এখন চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাঁদের অনেকেই তরুণ। বিস্ফোরণ, আঘাত কিংবা ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার সময় দুর্ঘটনার কারণে তাঁরা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। নূর জামান হাশিমের ভাষ্য, কয়েক দশকের সংঘাতে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটিতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের চাহিদা পূরণের মতো পর্যাপ্ত চক্ষু বিশেষজ্ঞ নেই। পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় দান করা কর্নিয়ারও সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, তালেবান কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে অস্ত্রোপচার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। কঠোর শাস্তির আশঙ্কায় কেউ সেই নির্দেশ অমান্য করার সাহস পাচ্ছেন না। এই কর্মসূচিতে সহায়তা করছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস অব পাকিস্তানি ডিসেন্ট অব নর্থ আমেরিকা (অ্যাপনা)। সংস্থাটি ২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানে বিনা মূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ করে আসছে। অঙ্গদানের মাধ্যমে সংগৃহীত কর্নিয়া ব্যবহার করে সেখানে বহু রোগীর অস্ত্রোপচারে সহায়তা করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে সংস্থাটি আফগানিস্তানেও কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে। সেখানে ১৫০টির বেশি কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এ কাজের জন্য আফগানিস্তানের তিনজন চক্ষু বিশেষজ্ঞকে পাকিস্তানের পেশোয়ারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। অ্যাপনার কর্নিয়া কর্মসূচির প্রধান এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জাফফার মির ফাউন্ডেশনের প্রধান ডা. ফাওয়াদ জাফফার জানান, ২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানে তাঁদের কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। আফগানিস্তানে কার্যক্রম শুরুর সময়ও সেখানে শত শত রোগীর কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তালেবানের নির্দেশে সেই উদ্যোগ গুরুতর বাধার মুখে পড়েছে।   নিষেধাজ্ঞার পেছনে ধর্মীয় ব্যাখ্যার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তালেবানের নীতি-নৈতিকতা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর আগে মানবদেহের অঙ্গ কেনাবেচা ও বাণিজ্যিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, মানুষের শরীরের অঙ্গের মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি। তবে দাতার কাছ থেকে বিনা মূল্যে পাওয়া কর্নিয়া ব্যবহার করে রোগীর চিকিৎসা করার বিষয়টিও একই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের আগের বক্তব্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধ থাকলে যেসব রোগীর দৃষ্টিশক্তি ফেরানোর সম্ভাবনা রয়েছে, তাঁদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হবে। যুদ্ধ ও সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ এমনিতেই সীমিত। এর মধ্যে বিনা মূল্যের চিকিৎসা কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দরিদ্র রোগীদের জন্য বিকল্প চিকিৎসা খুঁজে পাওয়াও কঠিন হতে পারে। কর্নিয়া হলো চোখের সামনের স্বচ্ছ স্তর, যার মধ্য দিয়ে আলো চোখের ভেতরে প্রবেশ করে। এই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা অস্বচ্ছ হয়ে গেলে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা সম্ভব। তাই এই অস্ত্রোপচার বন্ধের নির্দেশ আফগানিস্তানের চক্ষু চিকিৎসাসেবায় বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
চোখের যত্নে প্রতিদিনের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিদিনের যে ৭টি অভ্যাস নীরবে চোখের দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস ধীরে ধীরে চোখের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের বিভিন্ন সমস্যা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। তবে কিছু অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখলে এসব সমস্যার অগ্রগতি ধীর করা এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সহায়তা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গোন হেলথের চক্ষুবিদ্যার অধ্যাপক ড. ডগলাস লাজারো।   লাজারোর মতে, বংশগত কারণ ও বয়স চোখের বিভিন্ন রোগের বড় কারণ হলেও দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসও চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তিনি বিশেষ করে সাতটি অভ্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন।   এর মধ্যে প্রথমটি হলো রোদে বের হলে চোখের সুরক্ষা না নেওয়া। দীর্ঘ সময় অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং চোখের লেন্স ঘোলাটে হয়ে যাওয়া ছানি পড়ার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। লাজারো জানিয়েছেন, তাঁর নিজের চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় তিন দশক আগের তুলনায় এখন পাঁচ থেকে ১০ বছর আগেই ছানি দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উজ্জ্বল রোদে সানগ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   দ্বিতীয় অভ্যাস হলো কম আলোয় পড়াশোনা বা বই পড়া। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে চোখে চাপ বাড়তে পারে এবং কোনো কিছুর ওপর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে অল্প আলো থেকে উজ্জ্বল আলোতে বা উজ্জ্বল পরিবেশ থেকে অন্ধকারে চোখের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তাই পড়ার সময় পর্যাপ্ত আলো রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।   তৃতীয় বিষয়টি হলো অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস। পুষ্টিকর খাবার ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, আর এসব রোগ চোখের দৃষ্টিশক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। লাজারোর মতে, উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যাকে আরও খারাপ করতে পারে। চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা চলছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো আরও গবেষণা প্রয়োজন।   চতুর্থ অভ্যাস হলো পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখ শুষ্ক হওয়ার সমস্যা বা ড্রাই আই তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। এতে চোখ লাল, চুলকানি ও অস্বস্তি হতে পারে। শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গরমের দিনে বাইরে থাকার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো। এতে চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ কর্নিয়া আর্দ্র রাখতে সহায়তা করতে পারে।   পঞ্চম অভ্যাস হলো নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। বিশেষ করে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন লাজারো। এ ধরনের ঘুমের সমস্যার সঙ্গে গ্লুকোমা এবং চোখের কিছু রক্তনালিসংক্রান্ত সমস্যার বেশি উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। রাতে রক্তসঞ্চালনে ওঠানামার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া চোখের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁর মত।   ষষ্ঠ অভ্যাস হলো বারবার চোখ ঘষা। লাজারোর মতে, চোখ ঘষার অভ্যাস কেরাটোকোনাসের একটি ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। কেরাটোকোনাস এমন একটি চোখের সমস্যা, যেখানে কর্নিয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গোলাকার আকৃতি হারিয়ে সামনে দিকে উঁচু হয়ে শঙ্কুর মতো আকৃতি নিতে পারে। চোখ ঘষার অভ্যাস সরাসরি এ রোগ সৃষ্টি করে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পুরোপুরি একমত না থাকলেও বারবার চোখ ঘষলে কর্নিয়ার আকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই এ অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।   সপ্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত চোখ পরীক্ষা না করানো। গ্লুকোমা অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে চোখের অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা করানো রোগটি দ্রুত শনাক্ত করার অন্যতম উপায় বলে জানিয়েছেন লাজারো। তিনি গ্লুকোমাকে এমন একটি রোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দৃষ্টিশক্তির বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এর প্রকোপও বাড়তে পারে।   লাজারো প্রাপ্তবয়স্কদের বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। শুধু কাছের জিনিস দেখতে সমস্যা শুরু হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে নিয়মিত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। মধ্যবয়সে প্রেসবায়োপিয়া নামের একটি স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে কাছের জিনিসে ফোকাস করতে সমস্যা হতে পারে এবং অনেকের পড়ার চশমার প্রয়োজন হয়।   তিনি আরও জানিয়েছেন, নিয়মিত চোখ পরীক্ষার সময় চোখের পাতায় ত্বকের ক্যানসার ও টিউমারের মতো সমস্যাও পরীক্ষা করা যেতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত রোদে থাকার সঙ্গে ছানি ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের পাশাপাশি চোখের পাতার কিছু ক্যানসারের সম্পর্কও থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই তা অপসারণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।   চোখের রোগের ক্ষেত্রে বয়স ও বংশগতির মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, রোদে চোখের সুরক্ষা, পর্যাপ্ত আলোয় পড়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম, চোখ না ঘষা এবং নিয়মিত পরীক্ষা—এই অভ্যাসগুলো চোখের দীর্ঘমেয়াদি যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
জিএলপি-১ ওষুধে বিরল চোখের রোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি
জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধে হঠাৎ দৃষ্টি হারানোর শঙ্কা, যা বলছে গবেষণা

ওজন কমানো ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত জনপ্রিয় জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ওজেম্পিক, ওয়েগোভি ও মাউঞ্জারো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গে খুবই বিরল একটি চোখের রোগের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে গবেষণা চলছে। রোগটির নাম নন-আর্টেরিটিক অ্যান্টেরিয়র ইস্কেমিক অপটিক নিউরোপ্যাথি, সংক্ষেপে এনএআইওএন। এতে হঠাৎ করে, সাধারণত কোনো ব্যথা ছাড়াই, দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন ব্যক্তি এসব ওষুধের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, ওষুধ ব্যবহারের সম্ভাব্য এই ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট সতর্ক করা হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গবেষণাই প্রমাণ করেনি যে জিএলপি-১ ওষুধ সরাসরি এনএআইওএনের কারণ। ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও এসব অভিযোগের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, রোগীদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে তারা সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।   এনএআইওএন কী?   চোখের অপটিক নার্ভে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ না পৌঁছালে এনএআইওএন হতে পারে। মায়ো ক্লিনিকের চক্ষু ও নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ড. জন চেনের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি হঠাৎ অপটিক নার্ভের সমস্যার অন্যতম সাধারণ কারণ। সাধারণত কোনো ব্যথা ছাড়াই হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যায় এবং এই ক্ষতি অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী হতে পারে। বর্তমানে এনএআইওএনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহার না করলেও ডায়াবেটিস থাকা ব্যক্তিদের এই রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ছাড়া রাতে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যাওয়া এবং অপটিক নার্ভের গঠনের কিছু বৈশিষ্ট্যও এই রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।   জিএলপি-১ ওষুধের সঙ্গে যোগসূত্রের প্রমাণ কতটা?   এই সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা শুরু হয় ২০২৪ সালে। বোস্টনের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গবেষণায় দেখা যায়, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারকারী কিছু রোগীর মধ্যে এনএআইওএন হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। সেমাগ্লুটাইড হলো ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির প্রধান সক্রিয় উপাদান।   এরপর আরও বড় পরিসরে বেশ কয়েকটি গবেষণা হয়েছে। তবে এসব গবেষণার ফল এক নয়। কোনো কোনো গবেষণায় সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও অন্য কিছু গবেষণায় তেমন সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ফলে এখন পর্যন্ত জিএলপি-১ ওষুধের কারণে এনএআইওএন হয়—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।   ইউরোপীয় মেডিসিনস এজেন্সি বা ইএমএ পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে সেমাগ্লুটাইড-ভিত্তিক কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে এনএআইওএনকে খুব বিরল সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সতর্কতা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত জিএলপি-১ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই সমস্যা প্রতি ১০ হাজারে প্রায় একজনের হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।   তবে নর্থ আমেরিকান নিউরো-অপথালমোলজি সোসাইটি এবং আমেরিকান একাডেমি অব অপথালমোলজি জানিয়েছে, কিছু গবেষণায় সামান্য বাড়তি ঝুঁকির ইঙ্গিত থাকলেও অন্য গবেষণায় কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, এনএআইওএনের সামগ্রিক ঝুঁকি কম।   যুক্তরাষ্ট্রে এখনো নির্দিষ্ট সতর্কতা নেই   যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা এফডিএ বর্তমানে জিএলপি-১ ওষুধের লেবেলে এনএআইওএনকে নির্দিষ্ট ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা দেয়নি। তবে এফডিএর সেনটিনেল ইনিশিয়েটিভ এই সম্ভাব্য নিরাপত্তা সংকেত নিয়ে বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।   এফডিএ জানিয়েছে, বাজারে আসার পরও ওষুধগুলোর নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া সম্ভাব্য ঝুঁকির তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন হলে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   অন্যদিকে, ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির প্রস্তুতকারক নোভো নরডিস্ক জানিয়েছে, তারা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সব রিপোর্ট গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণের মামলাগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মাউঞ্জারো ও জেপবাউন্ডের প্রস্তুতকারক এলি লিলিও জানিয়েছে, তারা ওষুধগুলোর নিরাপত্তা তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করছে।   ব্যবহারকারীদের কী করা উচিত?   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এই সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জিএলপি-১ ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। ডায়াবেটিস ও গুরুতর স্থূলতার চিকিৎসা না করলেও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জন্য প্রমাণিত স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।   যারা সেমাগ্লুটাইড বা অন্য কোনো জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহার করছেন এবং কোনো উপসর্গ নেই, তারা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের উদ্বেগ চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। তবে কারও যদি হঠাৎ করে কোনো ব্যথা ছাড়াই দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, তাহলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জিএলপি-১ ওষুধের সঙ্গে এনএআইওএনের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিটি বিরল বলেই মনে হচ্ছে এবং এসব ওষুধ সরাসরি এই রোগ সৃষ্টি করে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
রোগীর চোখ পরীক্ষা করছেন একজন চিকিৎসক (প্রতীকী ছবি)
নিউইয়র্কে চোখের পরীক্ষা কোথায় করবেন, খরচ কত! জানুন

চোখে ঝাপসা দেখা, চশমার পাওয়ার বদলে যাওয়া কিংবা নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাতে নিউইয়র্কে কোথায় যেতে হবে এবং কত খরচ পড়বে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে যাদের চোখের চিকিৎসার বীমা নেই, তাদের জন্য আগে থেকে খরচ ও সুবিধা সম্পর্কে জেনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটিতে চোখের পরীক্ষার নির্দিষ্ট কোনো একক মূল্য নেই। চিকিৎসাকেন্দ্র, পরীক্ষার ধরন এবং অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ পরিবর্তিত হয়।   উদাহরণ হিসেবে, আমেরিকাস বেস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অফারের আওতায় দুই জোড়া চশমা নিলে চোখের পরীক্ষা বিনা খরচে হতে পারে। আবার দুই জোড়া চশমা না কিনলে তাদের সাধারণ চোখের পরীক্ষার মূল্য ৮০ ডলার। কন্টাক্ট লেন্সের পরীক্ষার জন্য আলাদা ১৩০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তাই শুধু একটি গড় মূল্য ধরে না নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে চিকিৎসাকেন্দ্রে ফোন করে নিজের ক্ষেত্রে মোট খরচ জেনে নেওয়াই নিরাপদ।   যাদের মেডিকেইড আছে, তাদের জন্য চোখের চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কম হতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেটের মেডিকেইড কর্মসূচির আওতায় চোখের পরীক্ষা, চক্ষু বিশেষজ্ঞের সেবা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চশমাসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। সাধারণভাবে দুই বছরে একবার চোখ পরীক্ষা করার সুবিধা পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসাগত প্রয়োজন থাকলে আরও ঘন ঘন পরীক্ষার সুযোগ থাকতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মেডিকেইড সদস্যদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বছরে একবার চোখের বিশেষ পরীক্ষা করার সুবিধাও রয়েছে।   চোখের চিকিৎসার বীমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে চিকিৎসার খরচ কমিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে কিছু রোগী বিনা খরচেও চিকিৎসা পেতে পারেন। যারা স্বাস্থ্যবীমার জন্য যোগ্য নন কিংবা বীমার খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির এনওয়াইসি কেয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে কম খরচে বা বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   চিকিৎসার খরচ তুলনা করার জন্য নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্যসেবার মূল্য তুলনা করার ব্যবস্থাও ব্যবহার করা যায়। এতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে নির্দিষ্ট সেবার সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ফলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার আগে একাধিক জায়গার খরচ তুলনা করা সম্ভব।   শিশুদের চোখের পরীক্ষার ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের আগে থেকে খোঁজ নেওয়া উচিত। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, স্কুল পর্যায়ে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনে চক্ষু চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। শিশুরা অনেক সময় নিজের চোখের সমস্যা বুঝতে পারে না। বারবার চোখ কচলানো, টেলিভিশন বা বই খুব কাছে নিয়ে দেখা, চোখ কুঁচকে দেখা, মাথাব্যথা কিংবা উজ্জ্বল আলো সহ্য করতে সমস্যা হলে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশুদের চোখের পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে তথ্য পেতে নিউইয়র্ক সিটির ৩১১ নম্বরেও যোগাযোগ করা যায়।   তবে কোথায় যাবেন, তা নির্ভর করবে চোখের সমস্যার ধরনেও। অপটোমেট্রিস্ট সাধারণ চোখ পরীক্ষা, চশমার পাওয়ার নির্ধারণ এবং অনেক সাধারণ চোখের সমস্যার পরীক্ষা ও চিকিৎসা করেন। অন্যদিকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চোখের জটিল রোগের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারও করতে পারেন। আর চশমা প্রস্তুত ও চোখে সঠিকভাবে বসানোর কাজ করেন অপটিশিয়ান। তিনি নিজে রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা করেন না।   চোখ পরীক্ষা করাতে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় ফোন করে জেনে নেওয়া ভালো। জিজ্ঞেস করুন, বীমা ছাড়া সম্পূর্ণ পরীক্ষার খরচ কত, চোখের ভেতরের অংশ পরীক্ষা করতে অতিরিক্ত কোনো পরীক্ষা লাগবে কি না, রেটিনার ছবি তোলার জন্য আলাদা খরচ আছে কি না এবং পরীক্ষার পর চশমার পাওয়ারের কাগজের কপি দেওয়া হবে কি না। শুধু চোখ পরীক্ষার খরচ কম হলেই মোট খরচ কম হবে এমন নয়। অতিরিক্ত পরীক্ষা, কন্টাক্ট লেন্সের পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য সেবার জন্য আলাদা টাকা লাগতে পারে।   তবে কিছু উপসর্গ দেখা দিলে নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। হঠাৎ চোখে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিশক্তির আকস্মিক পরিবর্তন, চোখ অতিরিক্ত লাল বা ফুলে যাওয়া, চোখের সামনে হঠাৎ অনেক কালো দাগ বা ভাসমান ছায়া দেখা, আলোর ঝলকানি দেখা কিংবা দৃষ্টির সামনে কালো পর্দার মতো কিছু নেমে আসা গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিকটস্থ জরুরি বিভাগেও যেতে হতে পারে।   নিউইয়র্কে চোখের চিকিৎসা নিতে তাই শুধু কম খরচের চিকিৎসাকেন্দ্র খোঁজাই যথেষ্ট নয়। নিজের সমস্যার জন্য কোন ধরনের চিকিৎসক প্রয়োজন, কী কী পরীক্ষা লাগবে এবং বীমা বা সরকারি সহায়তার আওতায় কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, সেগুলোও আগে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে যাদের চোখের চিকিৎসার বীমা নেই, তারা মেডিকেইড, এনওয়াইসি কেয়ার এবং নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির যোগ্যতা যাচাই করলে চিকিৎসার খরচ কমানোর সুযোগ পেতে পারেন।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০