পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপনের জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পাঁচ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে তালেবান সরকারও তাদের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতিসংঘ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে, গত সোমবার (১৬ মার্চ) কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলায় চার শতাধিক মানুষ নিহত এবং অন্তত ২৬৫ জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে অনেকের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরে কাবুল উপকণ্ঠে গণকবরে দাফন করা হয়। তালেবান সরকার হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা শুধুমাত্র সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান ১৮ মার্চ রাত ১২টা থেকে ২৩ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও নিশ্চিত করেছেন, ঈদ উপলক্ষে তারা সামরিক তৎপরতা স্থগিত রাখছে। জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে এবার নতুন করে উঠে এসেছে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা তুলসি গ্যাবার্ড বলেছেন, পাকিস্তান ভবিষ্যতে এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বুধবার সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের পাশাপাশি পাকিস্তানও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এসব প্রযুক্তি পারমাণবিক ও প্রচলিত অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডকেও নাগালের মধ্যে আনতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তান দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অগ্রসর হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। একই সঙ্গে বলা হয়, দেশটি ধীরে ধীরে এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে। তবে এ মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। তাদের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘শাহিন-থ্রি’র পাল্লা প্রায় ২৭৫০ কিলোমিটার, যা মূলত আঞ্চলিক পরিসরে সীমাবদ্ধ। সাধারণভাবে আইসিবিএম বলতে ৫৫০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বোঝানো হয়, যা পাকিস্তানের কাছে এখনো নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটারের বেশি হওয়ায় বর্তমানে সরাসরি আঘাত হানার সক্ষমতা দেশটির নেই। এই ধরনের প্রযুক্তি এখনো কেবল কয়েকটি দেশ—রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থানও পরিষ্কার। দেশটির কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন, তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মূলত ভারতকে কেন্দ্র করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য। সাবেক কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও মার্কিন মূল্যায়নকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের মূল্যায়ন অনেক সময় সম্ভাব্য ঝুঁকির সর্বোচ্চ চিত্র তুলে ধরে। তবে এতে বাস্তব পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। এই মূল্যায়ন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আবারও কূটনৈতিকভাবে উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ও বাস্তব কৌশলগত অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছাড়িয়ে জ্বালানি স্থাপনাগুলোও এখন হামলার শিকার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—যদি সৌদি আরব সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে কি পাকিস্তান তাদের পারমাণবিক সহায়তা দেবে? সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েল তেহরানের তেল ডিপো ও সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। জবাবে ইরান কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও বাহরাইনের জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে রিয়াদ। রিয়াদ–এ আয়োজিত এক বৈঠকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং যৌথ পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল জোটের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়, তাহলে ইসলামাবাদের সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হতে পারে। এক সৌদি ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক সালমান আল-আনসারি বলেন, “প্রয়োজনে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় করতে পারে, যা কার্যত একটি ‘পারমাণবিক ছাতা’র মতো কাজ করতে পারে।” গত বছর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, কোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে—যা অনেকটা ন্যাটো–এর অনুচ্ছেদ ৫–এর মতো। তবে বাস্তবে পাকিস্তান সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত এবং সম্পূর্ণ পরিস্থিতিনির্ভর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক কাবুলে প্রাণঘাতী হামলার প্রেক্ষাপটে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্ক-এর অনুরোধে এবং সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে দুই দেশ এই সিদ্ধান্ত নেয়। বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি ২৩ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন কার্যকর থাকবে। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার মাত্র দুই দিন আগে কাবুলের ক্যাম্প ফিনিক্স—একটি সাবেক ন্যাটো ঘাঁটি, যা বর্তমানে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত—সেখানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এই হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। তালেবান সরকারের দাবি, সোমবার (১৬ মার্চ) রাতের ওই হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মতে, এটি একটি বেসামরিক পুনর্বাসন কেন্দ্র ছিল। অন্যদিকে জাতিসংঘ জানায়, নিহতের সংখ্যা ১৪৩ এবং আহত ১১৯ জন। ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা কোনো বেসামরিক স্থাপনায় নয়, বরং সন্ত্রাসীদের গোলাবারুদ, ড্রোন ও আত্মঘাতী হামলাকারীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পৃথকভাবে এই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তান জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো আন্তঃসীমান্ত বা ড্রোন হামলা ঘটে, তাহলে তারা আবারও অভিযান শুরু করবে। একইভাবে তালেবানও জানায়, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। এক সময় মিত্র থাকলেও গত এক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক ব্যাপকভাবে অবনতি হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালেবান তাদের দেশে হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে তালেবান এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও, গত মাসে পাকিস্তানের সরাসরি আফগান ভূখণ্ডে হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
পবিত্র রমজান শেষ হওয়ার আগে উত্তেজিত সীমান্ত অঞ্চলে পাকিস্তান সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বুধবার ঘোষণা করা হয়েছে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা আগামী পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত থাকবে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, এই বিরতির সিদ্ধান্ত সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যদি পাকিস্তানের ভেতরে সীমান্ত পেরিয়ে কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে, তবে সামরিক অভিযান অবিলম্বে পুনরায় শুরু করা হবে।” আফগান তালেবান সরকারও সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। কাবুলের তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার কাবুলের ওমিদ মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিমান হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর বুধবার গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তালেবান দাবি করেছে, ওই হামলায় ৪০০ জনের বেশি নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রকে ব্যবহার করেনি। বরং ‘নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করা হয়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ তুলেছে, কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান হামলা চালায় এবং কাবুলের তালেবান সরকার তাদের আশ্রয় দেয়। এর আগে সীমান্তে সংঘর্ষের কারণে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও চীনসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান সরাসরি আফগান তালেবানকে লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করলে উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পায়।
ভারতের পর এবার পাকিস্তানকেও কম দামে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। পাকিস্তানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত অ্যালবার্ট খোরেভ জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ দেখায়, তাহলে মস্কো দেশটিকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে প্রস্তুত। সংবাদ সম্মেলনে খোরেভ বলেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো জ্বালানি খাত। এই খাতে যে কোনো অগ্রগতি ইসলামাবাদের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি ‘জটিল ও অপ্রত্যাশিত’। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই জ্বালানি তেলের যোগান নিশ্চিত করতে সমস্যার মুখে পড়েছে। এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তা পর্যায়েও পড়েছে; পাকিস্তান ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। খোরেভ বলেন, বর্তমান উত্তেজনা কখন এবং কীভাবে শেষ হবে তা পূর্বানুমান করা কঠিন।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সোমবার রাতে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের এই হামলায় একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র (হাসপাতাল) ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকশ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগকে পুরোপুরি 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী কাবুলের নির্দিষ্ট কিছু 'সন্ত্রাসী আস্তানা' এবং 'কারিগরি সহায়তা অবকাঠামো' লক্ষ্য করে নিখুঁত (precision) হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব স্থাপনা থেকে পাকিস্তানে আন্তঃসীমান্ত হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা হচ্ছিল, কেবল সেগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কোনো হাসপাতাল বা বেসামরিক এলাকায় হামলা চালানোর তথ্য নাকচ করে দিয়ে পাকিস্তান দাবি করেছে, তালেবান সরকার বিশ্ববাসীর সহানুভূতি পেতে এবং সন্ত্রাসীদের মদত দেওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো কাবুলের ‘উমিদ’ (Omid) নামক একটি ২,০০০ শয্যার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র ও হাসপাতালে বোমাবর্ষণ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন। তালেবান প্রশাসন এই ঘটনাকে ‘মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ এবং ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে, যা দমনে তালেবান সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ (Operation Ghazab lil-Haq) শুরু করে আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালাচ্ছে। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দুই পক্ষকেই ধৈর্য ধারণ করার এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে দুই দেশের বর্তমান যুদ্ধংদেহী অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আফগান ক্রিকেটাররা। শবে কদরের পবিত্র রাতে দুই হাজার শয্যার একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এই হামলার ফলে প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি ও নবিন উল হকের মতো তারকা ক্রিকেটাররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তারা এই হামলাকে ইসরায়েলি বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান নিহতের ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে লিখেছেন যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালে হামলা চালানো একটি জঘন্য অপরাধ। অন্যদিকে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবি এই ঘটনাকে সরাসরি পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বলি বলে উল্লেখ করেছেন। পেসার নবিন উল হক আরও কঠোর ভাষা ব্যবহার করে পাকিস্তান ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেন। যদিও পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সীমান্ত সংঘর্ষের রেশ ধরে এই হামলা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা ও অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, যা পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। সোমবার (১৬ মার্চ) আফগানিস্তান অভিযোগ করেছে, রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে পাকিস্তানি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সন্ধ্যার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের বিমান হামলায় চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, এই হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং অন্তত ২৫০ জন আহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। বরং কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত অবকাঠামো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শারাফাত জামান আমরখাইল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, হামলার স্থানের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় কাবুলজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে আকাশে বিমান চলাচল এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দও শোনা গেছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জন নিহত এবং ১৯৩ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে উভয় দেশ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর থেকে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলতেই থাকে, যা এখন বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় এর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, গত রাতে আবুধাবির আকাশে অনুপ্রবেশকারী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে সফলভাবে ধ্বংস করে আমিরাতের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে দুর্ভাগ্যবশত, ক্ষেপণাস্ত্রটির খণ্ডিত অংশ নিচে আছড়ে পড়লে সেখানে অবস্থানরত ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে হুমকিটি মোকাবিলা করেছে। তবে জনবহুল এলাকায় এই ধ্বংসাবশেষ পতনের ফলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিমান হামলার ঘটনায় শতাধিক মানুষের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে তালেবান সরকার, যদিও ইসলামাবাদ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সোমবার সন্ধ্যায় কাবুলের ওমিদ নামে একটি আসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর হামলায় চিকিৎসাধীন রোগীরাই হতাহতের শিকার হয়েছেন। প্রায় দুই হাজার শয্যার এই হাসপাতালটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হতো। হামলার ফলে হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হতাহতের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, কাবুল ও পূর্ব আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী অবকাঠামো” লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে, কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা করা হয়নি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অন্তত ৩০টি মরদেহ দেখা গেছে এবং তখনও ভবনের কিছু অংশে আগুন জ্বলছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শারাফাত জামান আমরখাইল জানান, হাসপাতালের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত দাবি করেন, এ হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের সাবেক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী। একই সঙ্গে আফগান ক্রিকেটার রশিদ খানও হামলাকে “অত্যন্ত লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে আটটার দিকে কাবুলজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, পরে আকাশে বিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুললেও তালেবান তা অস্বীকার করে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ইতোমধ্যে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রহিম ইয়ার খান জেলায় একটি দোকানের ছাদ ধসে পড়ে আটজন নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়। জানা গেছে, নিহত ও আহত নারীরা বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম (বিআইএসপি) থেকে আর্থিক সহায়তা নিতে ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে দোকানটির ছাদ ভেঙে পড়লে সেখানে উপস্থিত অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। দুর্ঘটনাটি রহিম ইয়ার খানের টাব্বা ১২৩পি এলাকায় ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ছাদ ধসে পড়ার পর অন্তত ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। তাদের অনেককেই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করতে হয়। ঘটনার পর রহিম ইয়ার খানের ডেপুটি কমিশনার জহির আনোয়ার জাপ্পার নির্দেশে শেখ জায়েদ হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত চিকিৎসক ও প্যারামেডিকেল কর্মীদের ডেকে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রেসকিউ ১১২২, এধি ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেপুটি কমিশনার জহির আনোয়ার জাপ্পা নিজেই পুরো উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করছেন।
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আফগানিস্তান দাবি করেছে, রাজধানী কাবুলে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত একটি হাসপাতালে এই হামলা চালানো হয়। এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। অন্যদিকে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাবুল ও নানগারহার প্রদেশে শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছে। বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগকে তারা ভিত্তিহীন এবং জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে কাবুলের ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে হামলার ঘটনা ঘটে। তার দাবি, প্রায় দুই হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটির বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফিতরাত আরও বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। হাসপাতালটির ৩১ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী ওমিদ স্তানিকজাই বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, হামলার আগে তিনি আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শুনেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের আশপাশে সামরিক ইউনিট অবস্থান করছিল। সেসব ইউনিট বিমানটির দিকে গুলি চালানোর পর বিমানটি বোমা ফেললে সেখানে আগুন ধরে যায়। তিনি দাবি করেন, নিহত ও আহতদের সবাই বেসামরিক মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাশে থাকার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উর্দু ভাষায় দেওয়া বার্তায় আরাগচি বলেন, মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার মুখে ইরান ও ইরানি জনগণের প্রতি সংহতি এবং দৃঢ় সমর্থন জানানোয় পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের প্রতি তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এদিকে ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সম্পর্ক বর্তমানে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। উপসাগরীয় অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকায় সেসব অঞ্চল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কে কিছুটা তিক্ততা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের অবস্থান নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে কিছুটা সংশয় ছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, মার্কিন-সৌদি সমীকরণ পাকিস্তান ও ইরানের সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করেনি। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে রিয়াদ সফর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। রিয়াদে যাওয়ার আগে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এছাড়া পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে চীন, সৌদি আরব, কুয়েত ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের লাক্কি মারওয়াতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী এক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে হত্যা করেছে। রোববার (১৫ মার্চ) ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এই তথ্য জানায়। সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, ভারতের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’-এর সদস্যদের উপস্থিতির খবরের ভিত্তিতে এই গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান (আইবিও) পরিচালনা করা হয়। উল্লেখ্য, ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ নামটি পাকিস্তানে নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযান চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনী ‘সন্ত্রাসী’দের অবস্থান লক্ষ্য করে কার্যকরভাবে হামলা চালায়। তীব্র গোলাগুলির পর পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদও জব্দ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এরা ভারতের মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী’ এবং এলাকায় বহু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এলাকায় আরও কোনো সন্ত্রাসী লুকিয়ে আছে কি না তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অভিযান (স্যানিটাইজেশন অপারেশন) চালানো হচ্ছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) এবং ফেডারেল অ্যাপেক্স কমিটির অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ অভিযানের আওতায় নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে অভিযান চালিয়ে যাবে। লাক্কি মারওয়াতে সাম্প্রতিক সময়ে এটি ‘সন্ত্রাসী’দের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযান। এর দুই দিন আগে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) একই জেলায় ছয়জন ‘সন্ত্রাসী’কে হত্যা করে। এছাড়া বুধবারও ওই জেলায় এক আইবিওতে নিরাপত্তা বাহিনী চারজন ‘সন্ত্রাসী’কে হত্যা করেছিল।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে তিন দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, আফগানিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং ‘সন্ত্রাসীদের’ ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের দক্ষিণের কান্দাহার প্রদেশে তালেবান ও পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো গোষ্ঠীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কান্দাহারের একটি সুড়ঙ্গকেও বিমান হামলার লক্ষ্য বানানো হয়েছে, যা তালেবান ও সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আফগান সরকার যতদিন পর্যন্ত পাকিস্তানের মূল নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো সমাধান করবে না, তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কান্দাহারের এক বাসিন্দা এএফপিকে জানিয়েছেন, শনিবার রাতে শহরের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন। বিস্ফোরণের শব্দ এবং ধোঁয়া দেখা গেছে। তিনি বলেন, “পর্বত অঞ্চলের ওপর দিয়ে একাধিক সামরিক বিমান উড়ে যায়। ওই এলাকার একটি সামরিক স্থাপনা বিস্ফোরিত হয়েছে।” তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এএফপিকে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হামলায় কান্দাহারের একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র এবং খালি কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান যে সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করেছিল, হামলার প্রকৃত এলাকা সেগুলো থেকে অনেক দূরে। এর আগে পাকিস্তান দাবি করেছিল, শুক্রবার রাতে আফগানিস্তানের তিনটি এলাকায় তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ওই হামলার প্রতিশোধ নেবার হুমকি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতেও আফগানিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছিল। উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সর্বশেষ বড় সংঘাতে জড়িয়েছিল গত মাসে। তখন দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ৯৯ জন নিহত হয়েছিলেন। নিহতের মধ্যে পাকিস্তানে ১৩ সেনা ও ১ বেসামরিক, আর আফগানিস্তানে ১৩ সেনা ও ৭২ বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন।
ডুরান্ড লাইন পেরিয়ে আফগান সীমান্তে ফের চরম সংঘাত শুরু হয়েছে পাকিস্তান ও তালিবান বাহিনীর মধ্যে। শনিবার রাতভর আফগানিস্তানের কান্দাহারে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর ভয়াবহ বোমাবর্ষণের পর পাল্টা জবাবে পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে একটি সেনা ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তালিবান প্রশাসন। সীমান্ত জুড়ে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদ সূত্র অনুযায়ী, সীমান্তে সক্রিয় জঙ্গিঘাঁটি নির্মূল করতেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, কান্দাহারে রাতভর অভিযানে বেশ কিছু জঙ্গি আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং একাধিক সন্ত্রাসীকে খতম করা হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান মাটি ব্যবহার করে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) ক্রমাগত সীমান্ত এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানি হামলায় একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই আগ্রাসন মুখ বুজে সহ্য করেনি আফগান বাহিনীও। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, পাকিস্তানের হামলার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অবস্থিত একটি পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্প লক্ষ্য করে পাল্টা গোলাবর্ষণ করা হয়, যাতে ক্যাম্পটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাস থেকেই দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। ২৬শে ফেব্রুয়ারি রাতে আফগান ফৌজের পালটা হামলায় পাকিস্তানের ৫৫ জন জওয়ানের মৃত্যু এবং ১২টি পাক পোস্ট দখলের দাবি করেছিল তালিবান। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কান্দাহারে এই বিমান হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। সীমান্ত এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দুই পক্ষই অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করেছে।
আফগানিস্তানের ভেতরে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই হামলায় সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ও সামরিক ধরনের স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রোববার রাতে সীমান্তসংলগ্ন আফগান এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, কান্দাহার প্রদেশে আফগান তালেবান ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং একটি সরঞ্জাম গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি আলাদা এক হামলায় কান্দাহারের একটি সুড়ঙ্গও ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, ওই সুড়ঙ্গে আফগান তালেবান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম রাখা ছিল। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উত্থাপিত উদ্বেগের সমাধান না করা পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে কান্দাহারের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রোববার রাতে শহরের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন এবং বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একই সময় সীমান্তবর্তী স্পিন বালদাক ও খোস্ত প্রদেশেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। তবে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হামলায় কান্দাহারে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র ও একটি খালি কন্টেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে আফগানিস্তানে সহিংসতায় ১৮৫ জন বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এদিকে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের এই বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে ভারত। তবে পাকিস্তান ভারতের এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি দাবি করেন, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ভারত সমর্থন দেয়—এ বিষয়টি সবারই জানা। তাই এসব গোষ্ঠীর ক্ষয়ক্ষতিতে ভারতের হতাশা প্রকাশ করা স্বাভাবিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। শুক্রবার রাতে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। পাকিস্তানের সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে অবস্থিত সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর এলাকাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে তা প্রতিহত করা হয়েছে। এ ছাড়া Quetta অঞ্চলে একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শিশু আহত হয়েছে। আর Kohat এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। হামলার পর রাজধানী Islamabad–এর আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর কাছে উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি নেই। সাধারণত স্থানীয়ভাবে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে তারা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হামলা চালাতে পারে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী Kabulসহ তিনটি অঞ্চলে বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। এরপরই প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয় Taliban। ড্রোন হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট Asif Ali Zardari নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা পাকিস্তান মেনে নেবে না। প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করা যাবে না।” এর আগে গত মাসে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ওই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে আফগানিস্তানে এমন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেছে তালেবান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় চলমান সংঘর্ষে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানে অন্তত ৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৯৩ জন।
লাক্কি মারওয়াত এলাকায় টহলরত একটি পুলিশ গাড়ির কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায় সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সামা টিভি। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের এই এলাকায় নিয়মিত টহল চলাকালে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। এতে একটি টহল গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজন সদস্য নিহত হন। জেলা পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা (ডিপিও) জানান, বিস্ফোরণটি একটি পুলিশ যানবাহনের খুব কাছে ঘটে। সে সময় টহলরত দলটি দায়িত্ব পালন করছিল। শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সদর থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) আজমসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। নিহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কনস্টেবল শাহ বাহরাম, শাহ খালিদ, হাজি মুহাম্মদ, গুলজাদা ও সাখি জাদা। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে। বিস্ফোরণের ধরন এবং কারা এ হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ছয় জন নিহত ও বারো জন আহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনা বৃহস্পতিবার রাতে ঘটে। কান্দাহার বিমানবন্দরের নিকটবর্তী বেসরকারি বিমান পরিবহন প্রতিষ্ঠান কাম এয়ার-এর জ্বালানি তেলের ডিপোতে হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি হামলা হয়েছে রাজধানী কাবুল এবং নানগারহার প্রদেশেও। স্থানীয় বাসিন্দা মুরসেলিন জানান, হামলার সময় তার স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানসহ ঘুম ভেঙে যায়। চারপাশ ধুলা-মাখানো হয়ে যায় এবং তার শিশু সন্তানরা চিৎকার করতে থাকে। হামলায় তার বোন এবং দুই শিশুসন্তানও আহত হয়েছেন। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের এই হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের ওই ডিপো থেকে বেসরকারি বিমানগুলো তেল সরবরাহ করে, যেখানে জাতিসংঘের বিমানও তেল নেয়। তিনি সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই হামলা অঞ্চলের অস্থিরতা আরও বাড়াবে। এর আগে গত মাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত দেখা দেয়। প্রথমে হামলা চালায় ইসলামাবাদ, পরে আফগানিস্তান পাল্টা প্রতিহত করে। চীনের মধ্যস্থতায় সংঘাত কিছুটা কমলেও, বৃহস্পতিবারের হামলা আবার উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। পাকিস্তানের সামরিক সূত্র জানিয়েছেন, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশের চারটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। কান্দাহারে তেলের ডিপোতে হামলার কথাও তারা স্বীকার করেছে। তবে পাকিস্তান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস