প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ‘বৈরী গোয়েন্দা চক্রের’ আস্তানায় আকস্মিক বিমান হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। শুক্রবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এই নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির জন্য এই ঘটনাকে নতুন ও বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যে কাবুলের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম কোনো বড় ধরনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আইএসআইএল-খোরাসান (আইএসআইএস-কে) এর এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট ‘বৈরী গোয়েন্দা চক্রের’ (সম্ভবত পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা) সহযোগিতায় আফগানিস্তানে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। হামলায় আইএস-কে নেতাদের ব্যবহার করা একটি স্থাপনা ধ্বংসসহ ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু’তে আঘাত হানার দাবি করেছে কাবুল। আন্তর্জাতিক সামরিক তথ্যমতে, আফগানিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান না থাকলেও তাদের ড্রোন, হেলিকপ্টার ও বেশ কয়েকটি এয়ারক্রাফট রয়েছে, যা এই হামলায় সফলভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে আফগানিস্তানের এই হামলার দাবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আফগান দাবিকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যায়িত করেছে। উল্টো তারা দাবি করেছে যে, আইএস বা দায়েশসহ দুই ডজনেরও বেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্তানা মূলত আফগান তালেবানদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাতেই অবস্থিত এবং সেখান থেকেই তাদের মদদ দেওয়া হচ্ছে। ২০২১ সালে তালেবানরা পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে চরম বৈরিতা বিরাজ করছে। পাকিস্তান নিয়মিত অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে টিটিপি-সহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে হামলা চালায়। অন্যদিকে আফগানিস্তান একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে দাবি করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগানিস্তান পাল্টা হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই সীমান্ত সংঘাতে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন। এমনকি গত সপ্তাহেও আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ১১ শিশুসহ ১৩ জন নিহত হওয়ার দাবি করেছিল তালেবান প্রশাসন, যদিও পাকিস্তানের দাবি ছিল তারা ২৬ জন যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে চীনের মধ্যস্থতায় শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চললেও তা এখনো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। শুক্রবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অত্যন্ত কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, আফগানিস্তান তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর আর কোনো হুমকি কখনোই সহ্য করবে না এবং যেকোনো হুমকিকে উৎসেই নির্মূল করতে তারা তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবে।
ভারত পানিকে একটি রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করতে চায় বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। ভারতের এই ধরনের পদক্ষেপের পেছনে অত্যন্ত গুরুতর ও মারাত্মক পরিণতি লুকিয়ে থাকতে পারে বলেও আন্তর্জাতিক মহলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। সম্প্রতি দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় ইসহাক দার স্পষ্টভাবে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি সম্পূর্ণ মেনে চলা ভারতের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। পাকিস্তানের সাধারণ জনগণকে তাদের ন্যায্য পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার যেকোনো ধরনের চেষ্টা ভবিষ্যতে অত্যন্ত মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি জোর দাবি করেন। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারত সম্পূর্ণ একতরফাভাবে এবং বেআইনিভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অথচ তার মতে, এই চুক্তির মূল কাঠামোর ভেতরেই যেকোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় বিরোধ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির জন্য একদম স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। ইসহাক দার এই প্রসঙ্গে বলেন, পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে জাতিসংঘ সনদ বাস্তবায়নে এবং এর নীতিগুলো মেনে চলতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই মুহূর্তে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন, কারণ পাকিস্তান বর্তমান জলবায়ু সংকটে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। তিনি জোর দাবি করেন যে, পাকিস্তানের দিকে আসা নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাকিস্তান সবসময় ভারতের সঙ্গে সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় সমস্যার সমাধান পারস্পরিক সংলাপ ও কূটনৈতিক উপায়ে করতে চায় উল্লেখ করে তিনি ভারতের বর্তমান পদক্ষেপকে জাতিসংঘ সনদের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী নদী ও জলসম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো অপরিহার্য। পাকিস্তান বরাবরই সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় থাকা বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আইনি পথ অনুসরণ করে এসেছে। তবে ভারত বর্তমানে সিন্ধু নদী অববাহিকায় বিপুল পরিমাণ জলাধার সম্প্রসারণ করছে এবং পানি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, ভারতের এই প্রকল্পগুলো নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে পারে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। ইসহাক দার জোর দিয়ে বলেন, পানিকে কখনোই কোনো দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
দক্ষিণ এশিয়ার দুই মুসলিম প্রধান দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ওপর গভীর নজরদারি চালাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েল। সম্প্রতি ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার এই বিস্ফোরক দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আকস্মিক হামলার পর থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের সম্ভাব্য যাবতীয় তৎপরতা কড়া নজরদারিতে রেখেছে ইসরায়েল। এনডিটিভির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এডিটর আদিত্য রাজ কৌলকে দেওয়া ওই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক কূটনীতি এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেন রিউভেন আজার। তিনি সরাসরি জানান যে, ইসরায়েল কোনোভাবেই পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না এবং দেশটির চলমান কূটনৈতিক অবস্থানকে তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে শুধু পাকিস্তানই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে কাতারের ভূমিকাও ইসরায়েলের কাছে যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন এই রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগটি ছিল হামাসের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে ঘিরে। আজারের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামাসের নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের পর থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে তাদের নানামুখী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও নীতি-নির্ধারকেরা। এই ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের হাতে থাকা এসব তথ্যের কিছু অংশ মূলত প্রকাশ্য বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এর বাইরেও দেশ দুটিতে এমন আরও কিছু গোপন কার্যক্রম থাকতে পারে, যা এখনও জনসমক্ষে আসেনি বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে আজার আরও বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কারণ অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনগুলোও ৭ অক্টোবরের হামলাকে নিজেদের অঞ্চলে একই ধরনের অভিযান পরিচালনার একটি সফল মডেল হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।’ আর এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কেবল ইসরায়েলের জন্য নয়, বরং গোটা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সরকারগুলোর জন্যই চরম উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গোপসাগরে ভারতের যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙ্গর’। সেই ঘটনার বহু বছর পর আবারও বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় ফিরছে পাকিস্তানের অত্যাধুনিক ‘হাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিন। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীনে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনপ্রাপ্ত পাকিস্তানের হাঙ্গর শ্রেণির প্রথম সাবমেরিনটি গত সপ্তাহে করাচি বন্দরে এসে পৌঁছেছে। তবে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা কেবল আরব সাগরের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে এই সাবমেরিনকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। বরং একে আরও বিস্তৃত ও দূরপাল্লার সামরিক অভিযানে নিয়োজিত করার মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন তারা। শ্রীলঙ্কার কলম্বোভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মর্নিং’-এর তথ্য অনুযায়ী, চীন থেকে নতুন সাবমেরিনটিকে দেশে নিয়ে আসা নৌবহরের কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক চলতি মাসের শুরুতে কলম্বো বন্দরে এক অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। পাকিস্তানি ফ্রিগেট ‘পিএনএস তৈমুর’-এ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "নতুন হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন বহরে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান এখন থেকে বঙ্গোপসাগরেও নিজেদের কার্যকর সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করবে।" এই সাবমেরিনটিকে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করে কমোডর ফারুক আরও জানান, বেইজিংয়ের সহযোগিতায় এই শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন পর্যায়ক্রমে তাদের নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে ইসলামাবাদ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানি নৌ কর্মকর্তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে ইসলামাবাদ এখন আর শুধু নিজেদের উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি নয়। তারা ভারত মহাসাগরসহ বঙ্গোপসাগরের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় বিস্তৃত অপারেশনাল উপস্থিতি গড়ে তুলতে চায়, যা সরাসরি উন্মুক্ত সমুদ্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে। গত পাঁচ দশকে ভারতীয় নৌবাহিনী ব্যাপকভাবে নিজেদের সম্প্রসারিত করেছে। বর্তমানে ভারতের কাছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, দুটি বিশালাকার বিমানবাহী রণতরী এবং দীর্ঘ-পাল্লার সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের এই নতুন সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরের সার্বিক সামরিক ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে না পারলেও, ভারতের জাতীয় ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য এটি একটি বড় ধরণের কৌশলগত অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
পাকিস্তানের জীবনযাত্রার চমৎকার সব দিক ও সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স নাটালি এ বেকার। পাকিস্তানিদের আন্তরিকতা, সুস্বাদু খাবার, ক্রিকেটের উন্মাদনা এবং প্রাণবন্ত বিয়ের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তায় যেকোনো অতিথি নিজেকে ‘পরিবারের সদস্য’ বলে মনে করেন। ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের এই মুগ্ধতার কথা জানান। সাক্ষাৎকারে নাটালি এ বেকার জানান, অবসর সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং নতুন জায়গা ও অভিজ্ঞতার সন্ধানে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে তিনি ভীষণ পছন্দ করেন। পাকিস্তানে আসার পর থেকেই এ দেশের ক্রিকেটের প্রতি তার গভীর আগ্রহ জন্মেছে। ক্রিকেট খেলাটিকে কিছুটা ‘জটিল’ মনে করলেও তিনি সুযোগ পেলেই স্টেডিয়ামে যান এবং পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট দলের ম্যাচে গ্যালারিতে বসে দলকে উৎসাহ দেন। আমেরিকানদের পাকিস্তানি সংস্কৃতির কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি জানা উচিত, এমন প্রশ্নের জবাবে এই মার্কিন কূটনীতিক আতিথেয়তাকেই তালিকার শীর্ষে রাখেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা অতিথিদের অত্যন্ত সাদরে আমন্ত্রণ জানান, যার ফলে এখানে আসা অতিথিরা প্রায়ই নিজেদের বাড়ির মতো স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পাকিস্তানের খাবারের প্রশংসা করে বেকার জানান, তার প্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে ‘পালং পনির’ ও বিভিন্ন পদের ডাল অন্যতম। এ ছাড়া চা ও পাকোড়ার (পেঁয়াজু) মতো মুখরোচক স্ন্যাকস এবং এখানকার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিগুলো তার ওপর গভীর ছাপ ফেলেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানিদের জন্য কোন আমেরিকান খাবারটি সেরা হবে জানতে চাইলে তিনি তার নিজ শহর টেক্সাসের সান আন্তোনিও’র বিখ্যাত ‘ব্রেকফাস্ট টাকো’ এবং ‘টেক্সাস বারবিকিউ’ চেখে দেখার পরামর্শ দেন। পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের উৎসবকে ‘জাদুকরী’ বলে অভিহিত করে নাটালি এ বেকার বলেন, মেহেদি অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বরযাত্রী ও ওলিমা, সব আয়োজনই আনন্দ ও প্রাণবন্ত শক্তিতে ভরপুর থাকে। পাকিস্তানে অবস্থানকালে বেশ কয়েকটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে কনেদের দেখতে অবিকল রাজকুমারীর মতো লাগে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তা বলেছেন, নতুন হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন বহর পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে আরও সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করার সক্ষমতা দেবে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার সংবাদপত্র দ্য মর্নিং–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ওমর ফারুক। সাক্ষাৎকারের তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের সহায়তায় নির্মিত ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি আধুনিক সাবমেরিন সম্প্রতি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাবমেরিনটি গ্রহণের জন্য পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কমোডর ওমর ফারুক। চীন থেকে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে অবস্থানকালে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে কমোডর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন পাকিস্তানের সামুদ্রিক সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। তার ভাষায়, এই শ্রেণির সাবমেরিন পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। তিনি আরও জানান, শুধু একটি নয়, একই শ্রেণির আরও সাতটি সাবমেরিন পর্যায়ক্রমে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বহর ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগর এলাকায় পাকিস্তানের নৌ উপস্থিতি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে কারণ ১৯৭১ সালের পর থেকে বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর উপস্থিতি কার্যত সীমিত হয়ে যায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন এই অঞ্চলে মোতায়েন ছিল। তবে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তানের সামুদ্রিক কার্যক্রম মূলত আরব সাগরকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বঙ্গোপসাগর শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক কৌশলগত প্রতিযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর জন্য এই জলসীমা বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভারত দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা ভোগ করে আসছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের সদর দপ্তর বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত। এছাড়া আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান ভারতকে এই অঞ্চলে বাড়তি সামুদ্রিক সক্ষমতা দিয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাকিস্তানের নতুন সাবমেরিন কর্মসূচি মূলত নৌ সক্ষমতা আধুনিকীকরণের অংশ। তবে বঙ্গোপসাগরে উপস্থিতি বৃদ্ধির পরিকল্পনা দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। চীনের সহায়তায় নির্মিত হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিনগুলোকে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের ভবিষ্যৎ কৌশলগত সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। কমোডর ওমর ফারুক সাক্ষাৎকারে এই সাবমেরিনগুলোকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মোতায়েন পরিকল্পনা বা সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বঙ্গোপসাগরে এই উপস্থিতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে এখনো বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইস্যুর প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই পরিকল্পনা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক কৌশলগত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান নিয়ে দেওয়া একটি পোস্ট সরিয়ে ফেলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। পরবর্তীতে পুনরায় দেওয়া পোস্টে আসন্ন আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কোনো উল্লেখ রাখা হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শেহবাজ শরিফ তার আগের পোস্টে বলেছিলেন, পাকিস্তানসহ মধ্যস্থতাকারী কাতারের সমর্থনে একটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু করতে ২০২৬ সালের ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। তবে পরে তিনি সেই পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন এবং সংশোধিত পোস্টে অনুষ্ঠান বা চুক্তি স্বাক্ষর সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা আপাতত নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, ‘কয়েক ঘণ্টা আগেও শুক্রবারের বৈঠকটি নিশ্চিত ছিল। কিন্তু যখন দুই পক্ষের (ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র) প্রেসিডেন্টরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়, তখন শুক্রবারের বৈঠকের বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’ এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সময়সূচি এবং চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান স্পষ্ট নয়, ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
পাকিস্তানে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে ৯ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলীয় শিশু নিহত হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুটির বাবা এবং বড় ভাইও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে, গত বুধবার রাতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চাকওয়াল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারটি একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে তারা একদল ডাকাতের কবলে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় দূর থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেলে আসা দুই ডাকাত ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর আতঙ্কে ভাড়া করা গাড়িটিও দ্রুত গতিতে ওই স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করে। এক স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, মহাসড়কে ওয়ানডে বা টেস্টের মতো কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি ছিল না। গাড়িটি হঠাৎ খুব দ্রুত গতিতে চলে যেতে দেখে টহলরত পুলিশ সদস্যরা ভুলবশত সেটিকে ডাকাতদের গাড়ি ভেবে বসেন। এরপর তারা গাড়িটি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। পুলিশের সেই গুলিতে গাড়ির ভেতরে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৯ বছরের ওই শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে শিশুটির বাবা ও বড় ভাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে ভাগ্যক্রমে শিশুটির মা এই ঘটনায় সম্পূর্ণ অক্ষত আছেন। এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ভুক্তভোগী পরিবার এবং আহত সদস্যদের সব ধরনের কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে। এক সরকারি বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়া প্রশাসন এই ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মস্পর্শী’ বলে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কে-পি) প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক এক বিশেষ গোয়েন্দা অভিযানে আরও ২১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় মিরান শাহ এবং এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহতরা সবাই ভারত-পৃষ্ঠপোষিত নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারেজ’ গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। নিহতদের মধ্যে খালিদ রেজা ওরফে সালার, মুফতুন, মুসা এবং ইমরান ওরফে আয়ান নামে চার শীর্ষ সন্ত্রাসী কমান্ডার রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল। এই শীর্ষ কমান্ডাররা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিক হত্যাসহ অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। আইএসপিআর জানিয়েছে, নিখুঁত ও সুপরিকল্পিত এই ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৪৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রীয় অ্যাপেক্স কমিটির অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেকাম’ ভিশনের আওতায় এই কাউন্টার-টেররিজম অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এই বড় সাফল্যের জন্য দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রশংসা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি জারদারি তার বিবৃতিতে বলেন, ভারত-পৃষ্ঠপোষিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের নির্মূল করা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি বড় জয় এবং সমগ্র জাতি আমাদের সাহসী নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, এই অভিযানের আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার (১২ জুন) খাইবার পাখতুনখোয়ার পৃথক দুটি স্থানে বিস্ফোরণে এক শিশুসহ তিনজন নিহত হওয়ার পর ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রতি এবার নিজেদের আনুষ্ঠানিক পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে কাতার। গত শনিবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। কাতারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ফোনালাপের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আলোচনা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের এই শীর্ষ নেতার ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির সমসাময়িক নানা বিষয় গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আলোচনার বর্তমান পরিস্থিতি ও অগ্রগতির বিষয়ে কাতারকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। ইসলামাবাদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যের সূত্র ধরে কাতার গভীর আশা প্রকাশ করেছে যে, খুব শীঘ্রই বিশ্বের পরাশক্তি রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একটি টেকসই চূড়ান্ত শান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে সক্ষম হবে। কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশটির মহামান্য প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের এই আন্তরিক শান্তি ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে কাতারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি চলমান আঞ্চলিক সংকট সমাধানের জন্য পাকিস্তানের বৈশ্বিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের গুরুত্বের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। বিবৃতিতে কাতার এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। সেই লক্ষ্যে বৈশ্বিক সংকট উত্তরণের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে এবং পাকিস্তানের এই আন্তরিক উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিতে সংশ্লিষ্ট অন্য সব পক্ষকেও বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে দেশটি।
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বহুল আলোচিত শান্তিচুক্তি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। পোস্টে শাহবাজ শরিফ উল্লেখ করেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই ডিজিটাল মাধ্যমে এই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং এর ধারাবাহিকতায় আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আঞ্চলিক যেসব দেশ এই আলোচনায় সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছে, তাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টের শেষাংশে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে বলে তারা বিশ্বাস করেন। উল্লেখ্য, পাকিস্তান এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার কয়েকটি ধাপ আয়োজন করেছে। ১১ ও ২১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দুই দফা বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও তখন কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি। এবার নতুন করে সম্ভাব্য চুক্তির সময়সীমা সামনে আসায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২১ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযান গত ৭২ ঘণ্টা ধরে চলেছে বলে জানিয়েছে সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)। আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরানশাহ এলাকা এবং এর আশপাশে অবস্থিত একাধিক আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, অভিযানে ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা-আল-খারিজি’র ২১ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজনকে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে আইএসপিআর। পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে বোঝাতে ‘ফিতনা-আল-খারিজি’ পরিভাষা ব্যবহার করে থাকে। আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। অভিযান চলাকালে সশস্ত্র ব্যক্তিদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে ভারত-সমর্থনের অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন যাচাই বা ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: ডন
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও চলমান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চরম উত্তেজনাপূর্ণ এই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তির চূড়ান্ত ও সর্বসম্মত খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বিশ্ব রাজনীতিতে আলোড়ন তোলা এই যুগান্তকারী অগ্রগতির কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, শান্তিচুক্তিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত রূপ দিতে এবং এর পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষের সঙ্গেই অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চরম তিক্ত সম্পর্কের মাঝে এমন একটি সমঝোতার ঘোষণাকে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে তার বার্তায় জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই শান্তি এর আগে কখনোই বর্তমান সময়ের মতো এতটা কাছাকাছি আসেনি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের কার্যকর মধ্যস্থতা ও নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রচিত এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের অগ্রগতি। যদিও চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগে চুক্তিটির শর্তগুলো নিয়ে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার কাজ চলছে, তবুও বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার এই জোরালো সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এক ভয়াবহ সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার অঞ্চলটির রাজধানী মুজাফফরাবাদের কাছে রাশিয়ার তৈরি 'এমআই-১৭' মডেলের এই সামরিক পরিবহন হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং, ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলের ভবনগুলোর পেছন থেকে প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়। নিহতদের মধ্যে একজন কর্নেল, দুজন মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং ১৯ জন সেনা সদস্য রয়েছেন বলে রয়টার্স, আনাদোলু এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছে বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র। সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও, তারা নিশ্চিত করেছে যে ওই হেলিকপ্টারে থাকা সব আরোহীই প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার কাশ্মীরে অবস্থানরত একটি আর্টিলারি ইউনিটের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ও জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে নিহত এই সেনা সদস্যদের সামরিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কাশ্মীরের এই অতি-স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চলে বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ চলছে। গত সপ্তাহান্তে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সদ্য নিষিদ্ধ হওয়া সুশীল সমাজের একটি জোটের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহতের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন এই কড়াকড়ি আরোপ করে। তবে স্থানীয় এই অস্থিরতার সঙ্গে এভিয়েশন বা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার কথা জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। আইএসপিআর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত যান্ত্রিক কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে পাকিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সেনা মোতায়েন ও চলাচলের জন্য সোভিয়েত নকশার এই এমআই-১৭ হেলিকপ্টারগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে আসছে দেশটির সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পাকিস্তান এর আগে তাদের ২২টি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার সংস্কার ও আধুনিকায়ন করলেও, প্রায়শই এই দুর্গম ভূখণ্ডে এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতা করার পাশাপাশি তেহরানে একটি ‘বিশেষ বার্তা’ নিয়ে গেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। এই সফরে তিনি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসনার (ISNA) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। বৈঠক প্রসঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানান, তিনি মূলত একটি বিশেষ চিঠি পৌঁছে দিতে এই সফরে এসেছেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির কাছে বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে এই বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। এই বার্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে নকভি আশা প্রকাশ করেন, সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটবে। অন্যদিকে, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে এক বিরাট চুক্তির কথা ঘোষণা করেছেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি। তিনি জানান, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক বিনিময়ের পরিমাণ ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে উভয় দেশ পারস্পরিকভাবে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে ‘বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম’ রাষ্ট্র পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন মোমেনি। তিনি আরও জানান, পাকিস্তানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের একটি বড় অংশজুড়ে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, মাদক চোরাচালান রোধ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো প্রাধান্য পেয়েছে। দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সফল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি, সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করার পর, এর কড়া জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। ‘জবাব দেওয়ার অধিকার’ (রাইট অব রিপ্লাই) প্রয়োগ করে পাকিস্তানি কূটনীতিক গুল কায়সার সারওয়ানি বিশ্বমঞ্চে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীর কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, নয় এবং ভবিষ্যতেও কখনো হবে না। জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারওয়ানি বলেন, ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, যা আজও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় গুরুত্বের সঙ্গে রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের মিথ্যা বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই বিরোধের ঐতিহাসিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক চরিত্রকে বদলে দেওয়া ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়। এর আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন সংকট আজও সমানে প্রাসঙ্গিক এবং এর দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। তার এই বক্তব্যের পরই মূলত দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে বাগযুদ্ধ শুরু হয়। রাষ্ট্রদূত আসিম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ সংক্রান্ত ২০টিরও বেশি চিঠি বা যোগাযোগ নজরে আনা হয়েছে। এমনকি ওই বছরের মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদ এই ইস্যুতে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছে, যা প্রমাণ করে সাত দশক পেরিয়ে গেলেও কাশ্মীর বিরোধ এখনো আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তির স্বার্থে জাতিসংঘের প্রস্তাবনা ও কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের ভিত্তিতে এই বিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তির দাবি জানায় ইসলামাবাদ। কাশ্মীর ছাড়াও ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন আসিম আহমেদ। গাজায় চলমান রক্তপাত বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বস্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে (আল-কুদস আল-শরিফ) রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রতি অবিচল সমর্থন জানায় পাকিস্তান। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা এবং নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের একক সম্প্রসারণ ও ‘ভেটো’ ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই পাকিস্তানি দূত।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। তবে আলোচনার এই আবহাওয়ার মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গত কালই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশ দুটির মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শেষ হতে যাচ্ছে। এদিকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আন্তালিয়ায় এক সম্মেলনে জানান, যুদ্ধ অবসানে উভয় দেশই আলোচনার সদিচ্ছা দেখালেও বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ট্রাম্প ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচির অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন না। সংঘাতের অন্যান্য খবরে জানা গেছে, গত দুই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর (আইডিএফ) আরও দুই সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পারস্য উপসাগর অভিমুখী দুটি এলপিজি ট্যাংকার মাঝপথেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ লিও।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ এগিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরব সফর শেষে কাতারে পৌঁছেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছালে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। পরে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সফরকালে কাতারের আমিরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন শাহবাজ শরিফ। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর তিন ধাপের আঞ্চলিক সফরের দ্বিতীয় গন্তব্য। এর আগে তিনি সৌদি আরব সফর করেন এবং সফরের শেষ ধাপে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সৌদি আরব সফরকালে জেদ্দায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতা নিয়ে আলোচনা করেছেন শাহবাজ শরিফ। ইসলামাবাদ এই সংকট নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় বলে জানানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি টেকসই করা এবং পরবর্তী দফার আলোচনার পথ সুগম করতে পাকিস্তান একযোগে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। কাতার সফর সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই অংশ।
তীব্র অর্থনৈতিক চাপে থাকা পাকিস্তান-এর জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে সৌদি আরব। দেশটির অর্থনীতিকে সহায়তা করতে রিয়াদ নতুন করে ৩ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বৈঠকে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এই তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, সৌদি আরবের এই অর্থ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন সামাল দিতে সহায়ক হবে। এর আগে দেশটি পাকিস্তানের কাছে রাখা ৫ বিলিয়ন ডলারের আমানতের মেয়াদও বাড়িয়েছে। ফলে নতুন সহায়তা যুক্ত হয়ে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে পাকিস্তান বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত-কে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সহায়তাকে দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ইউরোবন্ড পরিশোধ করা হয়েছে এবং আইএমএফ-এর ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ১.২ বিলিয়ন ডলার শিগগিরই পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও করাচি বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়াকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও সৌদি আরব-এর সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত ও সামরিক ক্ষেত্রেও গভীর। অতীতেও সংকটের সময়ে দুই দেশ একে অপরকে সহায়তা করেছে। সাম্প্রতিক সহায়তাও সেই দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: সামা টিভি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার প্রেক্ষাপটে চার দিনের কূটনৈতিক সফরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে গেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বুধবার শুরু হওয়া এই সফর শনিবার পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সফরকালে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। অন্যদিকে তুরস্ক সফরে আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ফোরামে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, সম্ভাব্য আলোচনার স্থান নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ইসলামাবাদ ও জেনেভা—এই দুটি শহরের নাম আলোচনার সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সম্প্রতি বলেছেন, নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের জটিল এই সংকটের সমাধান এক ধাপে সম্ভব নয়; ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে পাকিস্তান নিজেকে আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগও খুঁজছে ইসলামাবাদ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি রহস্যময় মন্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে "বড় কিছু ঘটতে পারে"। ইসলামাবাদে অবস্থানরত নিউইয়র্ক পোস্টের একজন সংবাদদাতাকে ট্রাম্প বলেন, "আপনার সেখানে (পাকিস্তানে) থাকা উচিত, কারণ আগামী দুই দিনের মধ্যে সেখানে বিশেষ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। আমরা সেখানেই যেতে বেশি আগ্রহী।" জেনেভাকে আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রতিই তার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প তাকে "ফ্যান্টাস্টিক" হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "ফিল্ড মার্শাল দুর্দান্ত কাজ করছেন। পাকিস্তানই হতে পারে উপযুক্ত স্থান।" অন্যান্য নিরপেক্ষ দেশের তুলনায় ট্রাম্প পাকিস্তানকে কেন বেছে নিচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, "যেসব দেশের এই বিষয়ের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, আমরা সেখানে কেন যাব?" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও জেনারেল আসিম মুনিরের ওপর ট্রাম্পের এই ভরসা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।