ইসরায়েল নিয়ে কড়া মন্তব্য, পরে পোস্ট মুছে ফেললেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইসরায়েলকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পোস্ট মুছে ফেলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তার ওই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে খাজা আসিফ ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ এবং ‘ক্যান্সারসদৃশ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে সমালোচনার মুখে পড়ে কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।
ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদে যখন শান্তি আলোচনা চলছে, তখন লেবাননে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। গাজা, ইরান এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের জন্য তিনি ইসরায়েলকে দায়ী করেন।
এই মন্তব্যের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর কার্যালয় থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য সংলাপে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreপশ্চিম কেনিয়ার প্রত্যন্ত চেপোরোর গ্রামে ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনা পাওয়ার ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সোনা-অনুসন্ধান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গ্রামটিতে জড়ো হন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তবে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের মতো পর্যাপ্ত সোনার মজুত রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ৩৩ বছর বয়সী মানাসে লোমাচার পেশায় ছাগলপালক। হারিয়ে যাওয়া একটি ছাগল খুঁজতে গিয়ে নদীর তীরে কয়েকজন নারীকে সোনা খুঁজতে দেখেন তিনি। কৌতূহলবশত তাদের সঙ্গে যোগ দেন লোমাচার। সেখানেই প্রায় ৩ গ্রাম সোনা পাওয়ার দাবি করেন তিনি। পরে সেই সোনা ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিংয়ে বিক্রি করেন লোমাচার, যার মূল্য প্রায় ২৮০ মার্কিন ডলার। তার এই ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সোনা-অনুসন্ধানের ঢল শুধু তার পাওয়া সোনার কারণেই শুরু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত নয়। ওয়েস্ট পোকট কাউন্টির ডেপুটি কমিশনার স্যামুয়েল কিয়ারির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে ওই এলাকায় কয়েকজন তরুণ তুলনামূলক বড় পরিমাণের সোনা খুঁজে পান। পরদিন কয়েকজন নারীও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা পাওয়ার দাবি করেন। এরপর মুখে মুখে খবর ছড়িয়ে পড়লে চেপোরোরে মানুষের ঢল নামে। কেনিয়া ও প্রতিবেশী উগান্ডার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সোনার আশায় সেখানে ছুটে আসেন। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, ভিড় একপর্যায়ে প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। পরে সেই সংখ্যা কমে প্রায় আড়াই হাজারে নেমে এলেও খোঁড়াখুঁড়ি এখনো চলছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও চেপোরোরের ওই এলাকায় ছিল ঝোপঝাড় ও পশুচারণের জমি। এখন সেখানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত, মাটির স্তূপ এবং অস্থায়ী খনিশিবির। অনেকেই কোনো খনির অভিজ্ঞতা ছাড়াই হাতে থাকা সাধারণ সরঞ্জাম নিয়ে মাটির নিচে সোনা খুঁজছেন। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া সোনার পরিমাণ নিয়ে বড় কোনো নিশ্চিত হিসাব পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, কেউ কেউ কয়েকশ কেনিয়ান শিলিং মূল্যের সোনা পেয়েছেন, আবার সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ হাজার শিলিং বা ৬০০ ডলার মূল্যের সোনা পাওয়ার দাবিও রয়েছে। মাটির নিচে আসলে কতটা সোনা আছে এবং তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন লাভজনক হবে কি না, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। চেপোরোর আশপাশের নদীর তীরে স্থানীয় নারীরা বহু বছর ধরেই ছোট পরিসরে সোনা খুঁজে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই কার্যক্রমই এখন বড় আকারের অনানুষ্ঠানিক খনন কার্যক্রমে রূপ নিয়েছে। সোনা খুঁজতে আসা মানুষের ভিড়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে, খনিস্থলের আশপাশে ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি ছোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে। খাবার, পানি, কোমল পানীয়, রুটি, দুধসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে হঠাৎ করে হাজার হাজার মানুষের আগমনে চেপোরোরের সীমিত অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে খনিস্থলে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি বাড়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এদিকে সোনা পাওয়ার আশায় অনেকেই মাটির আরও গভীরে গর্ত করছেন। খনন করা মাটি ও পাথর কাছের ওর্তুম শহরে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়ায় কতটা সোনা পাওয়া যায়, তার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এলাকায় বড় ধরনের খনন কার্যক্রমের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। চেপোরোরের এই আকস্মিক সোনা-উন্মাদনা স্থানীয় মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পানি, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা ও শিশুদের খননকাজে জড়িয়ে পড়া নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। লোমাচারের আশা, যথাযথ সরকারি সহায়তা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয় মানুষ নিয়ন্ত্রিতভাবে সোনা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তার বিশ্বাস, আরও অনুসন্ধানে খনিজ সম্পদের সন্ধান মিললে চেপোরোরের দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সাবেক প্রেমিকাকে সপরিবারে মারতে ইতালি যান শাহাদাত
দুর্ঘটনার পর দরজা খুলতে সমস্যা হতে পারে, চীনে প্রায় ৩০ লাখ টেসলা গাড়ি প্রত্যাহার
সন্তানদের জন্য নিজের কিডনি বিক্রি, হয়রানি থেকে বাঁচতে বছরের পর বছর পুরুষ সেজে কাজ করলেন এক মা
ব্রাজিলে ১২ বছর বয়সী কিশোরীর পরিচয় দিয়ে একটি পরিবারের সঙ্গে ১৪ মাস বসবাস করার ঘটনায় আমান্ডা মারিয়া সুজা দে অলিভেইরাকে প্রতারণা ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। বাস্তবে তাঁর বয়স ৩৮ বছর। সান্তা কাতারিনা অঙ্গরাজ্যের জইনভিলে একটি পরিবার তাঁকে নিজেদের সন্তান হিসেবে আশ্রয় দেওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। সান্তা কাতারিনার আদালতের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অলিভেইরা একটি কাল্পনিক পরিচয় তৈরি করে নিজেকে ১২ বছর বয়সী শিশু হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি পালিয়ে এসেছেন। তাঁর এই বক্তব্য বিশ্বাস করে পরিবারটি তাঁকে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দেয় এবং প্রায় ১৪ মাস তাঁকে পরিবারের সদস্য হিসেবেই দেখাশোনা করে। তদন্তে উঠে এসেছে, অলিভেইরা ‘গাব্রিয়েলে’ নাম ব্যবহার করতেন এবং শিশুসুলভ কণ্ঠে কথা বলতেন। নিজের প্রাপ্তবয়স্ক চেহারা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি দাবি করতেন, শৈশবে তাঁকে জোর করে হরমোন দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নিজেকে অটিজমে আক্রান্ত এবং নির্যাতনের শিকার শিশু হিসেবেও উপস্থাপন করেছিলেন। এসব তথ্য ব্যবহার করে তিনি পরিবারের সহানুভূতি অর্জন করেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। পরিবারটি তাঁর গল্প বিশ্বাস করে তাঁকে নিজেদের মেয়ের মতো করে নেয়। তাঁকে আলাদা ঘর দেওয়া হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানো হতো। এমনকি তাঁর কথিত ১২তম জন্মদিনও উদ্যাপন করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে একপর্যায়ে পরিবারের এক আত্মীয়ের সন্দেহ হয়। তিনি ইন্টারনেটে খোঁজ করে অলিভেইরার সঙ্গে মিল রয়েছে এমন আগের কয়েকটি ঘটনার তথ্য খুঁজে পান। এরপর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অলিভেইরার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের পরিচয় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অলিভেইরা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শিশু পরিচয় ব্যবহার করেছেন। তবে তাঁর আইনজীবীদের দাবি, এই আচরণের উদ্দেশ্য ছিল কারও কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া নয়। বরং দীর্ঘদিনের অনিশ্চিত জীবন ও রাস্তায় থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বেঁচে থাকার একটি উপায় হিসেবে তিনি এমন পরিচয় তৈরি করেছিলেন। আদালতে অলিভেইরা বলেছেন, তিনি মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং মিথ্যা বলেছেন, তবে কাউকে প্রতারণা করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শৈশবে যে ভালোবাসা ও যত্ন তিনি পাননি, সেটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি পরিবারের সান্নিধ্য খুঁজেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে তিনি পরিবারটির কাছ থেকে আশ্রয়, যত্ন ও বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছেন। তদন্তে তাঁর ব্যবহৃত মিথ্যা পরিচয়, বিভিন্ন বক্তব্য এবং আগের ঘটনাগুলোর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ব্রাজিলের আদালত শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতারণা এবং মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। রায়ে অলিভেইরাকে প্রতারণার দায়ে এক বছর ছয় মাস ১০ দিনের কারাদণ্ড এবং মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে আরও চার মাস ১৮ দিনের সাজা দেওয়া হয়েছে। উভয় সাজাই প্রাথমিকভাবে আধা-খোলা কারা ব্যবস্থায় ভোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মামলার বিচার চলাকালে অলিভেইরার মানসিক সক্ষমতা নিয়েও পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর দীর্ঘদিনের মানসিক ও সামাজিক সংকট রয়েছে এবং বিষয়টি মামলায় বিবেচনা করা প্রয়োজন। আদালতের প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়। অলিভেইরার আইনজীবী লুসিও সুজা রায়ের পর জানিয়েছেন, তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিলসহ আইনগতভাবে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেবেন। তাঁর ভাষ্য, অলিভেইরার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তাঁর কর্মকাণ্ডকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। এই ঘটনা ব্রাজিলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে শিশু হিসেবে উপস্থাপন করে একটি পরিবারের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে মামলাটি সহানুভূতি, পরিচয় যাচাই এবং দুর্বল অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অলিভেইরার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের ঘটনার তদন্ত বা মামলা থাকার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এসব ঘটনার সবগুলোতে আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। বর্তমান মামলায় সান্তা কাতারিনার আদালত তাঁকে প্রতারণা ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। সংবাদসূত্র: ফক্স নিউজ, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
গাজায় জীবিতদের আশ্রয় নেই, মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও
গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত, তাদের একজন মরিয়ম আবু দাগ্গা
ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলায় চার দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র
ইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার অভিযোগের পর যুক্তরাজ্যকে আবারও ‘পরিণতি’ ভোগ করার হুমকি দিয়েছে মস্কো। এ নিয়ে রাশিয়া–ব্রিটেন উত্তেজনার মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, চাপের মুখে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন। সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়ার গভীরে চালানো হামলায় ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। এর পরই লন্ডনে রুশ দূতাবাস অভিযোগ করে, যুক্তরাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তাদের হুঁশিয়ারি—সংঘাতে ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, দেশটির জন্য ‘মূল্য’ও তত বেশি হবে। ব্রিটিশ তৈরি ড্রোনের মাধ্যমে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোনসহ সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার সামরিক শিল্প, জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাশিয়ার হুমকির জবাবে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের পাশে ‘১০০ শতাংশ’ রয়েছে এবং রাশিয়ার হুমকির কারণে কিয়েভকে সমর্থন থেকে সরে আসবে না। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার হুমকি অবশ্য নতুন নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ব্রিটেনের সামরিক সহায়তার প্রতিটি বড় ধাপের পর মস্কো বিভিন্ন ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন—রাশিয়া যদি নিজেকে আরও কোণঠাসা ও মরিয়া মনে করে, তাহলে বেপরোয়া পদক্ষেপের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেন সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি সাইবার হামলা, নাশকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাতের মতো হাইব্রিড হুমকির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটির বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও গ্যাস সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর একটি অংশ সমুদ্রের নিচের কেবলের ওপর নির্ভরশীল, যা নাশকতার লক্ষ্য হতে পারে। এদিকে রাশিয়া ও ব্রিটেনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনও দায়িত্ব শেষে দেশ ছেড়েছেন এবং এখনো তার স্থলাভিষিক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, পুতিনের হুমকির অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা কমাতে চাপ দেওয়া। সরাসরি ব্রিটেনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, রাশিয়ার সাইবার হামলা, নাশকতা ও অন্যান্য গোপন তৎপরতার ঝুঁকি যে বাস্তব—এ বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ইউক্রেনকে ব্রিটিশ সামরিক সহায়তা এবং রাশিয়ার পাল্টা হুমকিকে ঘিরে লন্ডন-মস্কো উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সরাসরি সংঘাতে না গিয়েও এই পরিস্থিতি ইউরোপের নিরাপত্তা ও রাশিয়া-ন্যাটো সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
মুসলিম পরিচয় নিয়ে জেমিনির বিতর্কিত উত্তর, তীব্র সমালোচনার মুখে ইসলামবিদ্বেষী উত্তরের পরিবর্তন
কৃষ্ণাঙ্গ দম্পতির ঘরে নীল চোখ ও সোনালি চুলের শিশুর জন্ম, বিস্মিত চিকিৎসকরাও