মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। তবে আলোচনার এই আবহাওয়ার মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গত কালই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশ দুটির মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শেষ হতে যাচ্ছে।
এদিকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আন্তালিয়ায় এক সম্মেলনে জানান, যুদ্ধ অবসানে উভয় দেশই আলোচনার সদিচ্ছা দেখালেও বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ট্রাম্প ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচির অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন না।
সংঘাতের অন্যান্য খবরে জানা গেছে, গত দুই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর (আইডিএফ) আরও দুই সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পারস্য উপসাগর অভিমুখী দুটি এলপিজি ট্যাংকার মাঝপথেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ লিও।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বছরজুড়ে স্থায়ী ‘ডেলাইট সেভিং টাইম’ (ডিএসটি) চালুর জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে 'সানশাইন প্রটেকশন অ্যাক্ট' পাস হওয়ার পর বিলটি এখন সিনেট ও পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। এই আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হলে মার্কিন নাগরিকদের আর বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা সামনে বা পেছনে সরাতে হবে না। তবে বছরজুড়ে ডেলাইট সেভিং টাইম পালন করা শুনতে যতটা সহজ মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বলে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা বেশ জটিল। এর আগে ১৯৭০-এর দশকে ঠিক একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও চরম বিপত্তি ও জনরোষের মুখে অল্প সময়ের মধ্যেই তা বাতিল করতে হয়েছিল। জ্বালানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ডেলাইট সেভিং টাইম চালু করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে এটি পুনরায় চালু হলেও সময় পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ১৯৬৬ সালে ‘ইউনিফর্ম টাইম অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের নিয়মটি সুনির্দিষ্ট করা হয়। কিন্তু ১৯৭৩ সালে জাতীয় জ্বালানি সংকটের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বছরজুড়ে স্থায়ী ডিএসটি কার্যকর করার বিশেষ বিলে স্বাক্ষর করেন। শুরুতে দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ নাগরিক এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এর সমর্থন কমে ৪২ শতাংশে নেমে আসে। বছরজুড়ে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে রাখার মূল বিপত্তি দেখা দেয় শীতকালে। সূর্য দেরিতে ওঠায় দেশের অনেক স্থানে সকাল প্রায় ৯টা পর্যন্ত চারপাশ অন্ধকার থাকত। ফলে কোমলমতি শিশুদের টর্চলাইট হাতে নিয়ে ঘোর অন্ধকারে স্কুলে যেতে হতো, যা মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে যানবাহনের ধাক্কায় শিশু হতাহতের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে কেবল ফ্লোরিডাতেই আটজন শিশুর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে মার্কিন পরিবহন দপ্তর থেকে জানানো হয়, স্থায়ী এই ব্যবস্থার ফলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ০.৪ থেকে ১.৫ শতাংশ, যা প্রত্যাশার তুলনায় অতি সামান্য। ফলে সার্বিক নিরাপত্তা ও অচলাবস্থা বিবেচনায় ১৯৭৪ সালের অক্টোবরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড নতুন বিলে স্বাক্ষর করে স্থায়ী ডিএসটি বাতিল করেন এবং দেশকে আগের নিয়মে ফিরিয়ে আনেন। বর্তমানে মার্কিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠন স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইমের পরিবর্তে ‘স্থায়ী স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ চালুর জোর দাবি জানাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়া মানুষের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা ‘সারকাডিয়ান রিদম’-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, মানসিক স্বাস্থ্য ও ঘুমের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অর্থোডক্স ইহুদি সম্প্রদায় মনে করে, সকালে সূর্য দেরিতে উঠলে তাদের নির্ধারিত সময়ের সকালের ধর্মীয় প্রার্থনা শেষ করে সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে ইউএস কংগ্রেসে এখন স্থায়ী ডিএসটি ও স্থায়ী স্ট্যান্ডার্ড টাইম উভয় ধরনের একাধিক বিল বিবেচনাধীন থাকলেও, অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে সিনেট শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে এখনও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ফ্লোরিডার নতুন নাম পাওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেতে অনিচ্ছুক যাত্রীদের বিনা খরচে অন্য গন্তব্যে পাঠানোর কোনো বিশেষ নীতি চালু হয়নি বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস। যাত্রীসেবা কর্মীদের কাছে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ বার্তাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার এ অবস্থান স্পষ্ট করে মার্কিন বিমান সংস্থাটি। ভ্রমণবিষয়ক প্রকাশনা লাইভ অ্যান্ড লেটস ফ্লাইয়ের হাতে আসা ওই বার্তায় ইউনাইটেডের রিজার্ভেশন কর্মীদের বলা হয়েছিল, কোনো যাত্রী নতুন নামের বিমানবন্দরে যেতে না চাইলে কাছাকাছি ফোর্ট লডারডেল বা মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার বিকল্প দেওয়া যেতে পারে। নির্দেশনায় টিকিট পরিবর্তনটি সমমূল্যের বিনিময় হিসেবে সম্পন্ন করার কথাও ছিল, যাতে যাত্রীকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে না হয়। তবে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস বলেছে, বার্তাটির ভাষা যথাযথ ছিল না এবং এতে প্রতিষ্ঠানের নীতি সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানান, বিভিন্ন কারণে যাত্রীরা কোনো ফি ছাড়াই টিকিটে পরিবর্তনের সুযোগ পেতে পারেন। কিন্তু শুধু কোনো বিমানবন্দরের নাম বা তিন অক্ষরের কোড পছন্দ না হওয়ার কারণে গন্তব্য পরিবর্তনের অনুমতি ইউনাইটেডের নীতিতে নেই। এর ফলে ট্রাম্পের নামে বিমানবন্দরটির নামকরণের বিরোধিতা করা কোনো যাত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনা খরচে ফোর্ট লডারডেল কিংবা মিয়ামির ফ্লাইটে স্থানান্তরের সুযোগ পাবেন না। সাধারণ টিকিটের শর্ত, আসন খালি থাকা এবং এয়ারলাইনসের প্রচলিত পরিবর্তন নীতির ভিত্তিতেই প্রতিটি অনুরোধ বিবেচিত হবে। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে অবস্থিত পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করে ৯ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হয়। ফ্লোরিডার আইনসভায় পাস হওয়া সংশ্লিষ্ট বিলে গভর্নর রন ডেস্যান্টিস ৩০ মার্চ অনুমোদন দেন। আইনটি ১ জুলাই কার্যকর হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন নাম চালু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, বিমানবন্দরটির নতুন নাম অনুযায়ী তাদের চার্ট ও তথ্যভান্ডারে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের টিকিট, বোর্ডিং পাস ও লাগেজ ট্যাগে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কোড ১৮ আগস্ট পর্যন্ত পিবিআই থাকবে। এরপর আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার ব্যবহৃত কোড পরিবর্তিত হয়ে ডিজেটি হবে। নাম ও কোড পরিবর্তনের কারণে বিমানবন্দরের মালিকানা, পরিচালনা ব্যবস্থা, ফ্লাইট কিংবা যাত্রীসেবায় কোনো পরিবর্তন হবে না। পাম বিচ কাউন্টিই আগের মতো বিমানবন্দরটির নীতি, অর্থায়ন ও কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একজন পরিবারকে মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচিত হতে বছরে কমপক্ষে ৫৩ হাজার ৩২৭ ডলার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৮২ ডলার আয় করতে হবে। আর রাজ্যটির মধ্যম পারিবারিক আয় ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯১ ডলার। নতুন এক বিশ্লেষণে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেট। সাভানাহ মর্নিং নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং দেশের ১০০টি বৃহত্তম শহরের আয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের এক বছরের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যবিত্তের সংজ্ঞা নির্ধারণে পিউ রিসার্চ সেন্টারের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্জিয়ার রাজধানী আটলান্টায় মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচিত হতে বার্ষিক আয় হতে হবে অন্তত ৫৮ হাজার ৭৭৭ ডলার। এই শহরে মধ্যবিত্ত আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩০ ডলার এবং মধ্যম পারিবারিক আয় ৮৮ হাজার ১৬৫ ডলার। বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, মধ্যবিত্ত হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি আয়ের প্রয়োজন ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে। সেখানে বছরে অন্তত প্রায় ৬৯ হাজার ৮৮৫ ডলার আয় করতে হয়। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আয়ের প্রয়োজন মিসিসিপিতে, যেখানে মধ্যবিত্তের সর্বনিম্ন সীমা ৪০ হাজার ডলারের কিছু বেশি। স্মার্টঅ্যাসেট জানিয়েছে, মধ্যবিত্ত আয়ের সীমা নির্ধারণে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যম পারিবারিক আয়কে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। সেই মধ্যম আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত আয়কে মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিসর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।