দেশের ১১টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে দক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়নের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে এই বড় পরিবর্তন আনা হলো। নতুন ডিসি পাওয়া জেলাগুলো হলো— রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, মাদারীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, হবিগঞ্জ, নরসিংদী, মেহেরপুর, লালমনিরহাট ও বান্দরবান। নতুন দায়িত্ব পেলেন যারা সরকারের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী: রাজশাহীতে নিয়োগ পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শহিদুল ইসলাম। খুলনার দায়িত্ব পেয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব হুরে জান্নাত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পদায়ন করা হয়েছে সরকারি প্রিন্টিং প্রেসের উপ-পরিচালক মো. আবু সাঈদকে। চাঁদপুরের ডিসি হয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপসচিব আহমেদ জিয়াউর রহমান। নরসিংদীতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ইসরাত জাহান কেয়া এবং মেহেরপুরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শিল্পী রানী রায় নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় লুৎফুন নাহার, মাদারীপুরে মর্জিনা আক্তার, হবিগঞ্জে জি এম সরফরাজ, লালমনিরহাটে মুহ. রাশেদুল হক প্রধান এবং বান্দরবানে মো. সানিউল ফেরদৌসকে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই আদেশে উল্লিখিত ১১ জেলার বর্তমান জেলা প্রশাসকদের প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসকগণ জেলার সাধারণ প্রশাসনিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সরকারের বিশেষ কর্মসূচি ও উন্নয়নমূলক কাজ তদারকি করে থাকেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত যখন চরমে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন কংগ্রেসের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে নিজেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত ও জর্ডানের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে হোয়াইট হাউজ। বৃহস্পতিবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে এক ‘জরুরি অবস্থা’ বিরাজ করছে। আর এই বিশেষ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার নিয়মটি বাতিল করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অস্ত্র চুক্তির বিস্তারিত: সংযুক্ত আরব আমিরাত: আমিরাতের জন্য প্রায় ৮.৪০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত মাঝারি পাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল (AMRAAM), এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের গোলাবারুদ এবং শত্রু ড্রোন মোকাবিলায় সক্ষম অত্যাধুনিক ‘ইন্টিগ্রেটেড ডিফিট সিস্টেম’। এছাড়াও থাকছে দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা যা থাড (THAAD) মিসাইল ডিফেন্সের সাথে যুক্ত করা হবে। কুয়েত: আকাশপথে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে কুয়েতের কাছে ৮ বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সেন্সর রাডার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জর্ডান: জর্ডানের জন্য ৭০.৫ মিলিয়ন ডলারের ‘এয়ারক্রাফট ও মিউনিশন সাপোর্ট’ নিশ্চিত করা হয়েছে, যার আওতায় যুদ্ধবিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা প্রদান করা হবে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলার মুখে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে মিত্র দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই অস্ত্রের দাবি জানিয়ে আসছিল। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই ইসরায়েলের কাছেও কংগ্রেসকে এড়িয়ে ১২ হাজার বোমা বিক্রির অনুরূপ একটি জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইডেন প্রশাসনের সময় থমকে যাওয়া এই বিশাল অস্ত্র চুক্তিগুলো দ্রুত কার্যকর করার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্রদের পূর্ণ সামরিক নিরাপত্তা দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিল। তবে এই সরঞ্জামগুলো কবে নাগাদ পৌঁছাবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
হবিগঞ্জের বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জহিরুল ইসলামকে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে। তাকে রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে (পিএসটিএস) সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৪ মার্চ বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আলী হোসেন ফকিরের পক্ষে অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শামিমা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জহিরুল ইসলামকে ৫ মার্চের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছিন খাতুন সংবাদমাধ্যমকে জানান, এটি সম্পূর্ণ একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। দাপ্তরিক প্রয়োজনেই পুলিশ কর্মকর্তাদের এ ধরনের বদলি বা সংযুক্তির আদেশ দেওয়া হয়ে থাকে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব ড. মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে (সংযুক্ত) বদলি করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জেনেভা ক্যাম্পে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হওয়া এই সাঁড়াশি অভিযানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, রাত সোয়া ৮টা নাগাদ পুলিশের এই বিশেষ অভিযান চলছিল। এর আগে মাত্র একদিন আগেই বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় টানা চার ঘণ্টার এক ঝটিকা অভিযানে শতাধিক চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজানের নেতৃত্বে পরিচালিত সেই অভিযানে সাফল্য আসার পর আজ আবারও জেনেভা ক্যাম্পে এই বড় ধরনের পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ডিসি মো. ইবনে মিজান জানিয়েছেন, এলাকায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য নির্মূল করতেই এই ধারাবাহিক অভিযান। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ডিএমপির এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিন সচিবকে তাদের পদ থেকে প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। প্রত্যাহার হওয়া সচিবরা হলেন—ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মিজ্ রেহানা পারভীন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রত্যাহারের পর তিনজনকেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচনি মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো অনিয়ম রুখে দিতে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে মোতায়েন করা হচ্ছে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো একনজরে: জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট: ২৯৯টি আসনে মোট ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫ দিন নির্বাচনী অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্ন করবেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট: আচরণবিধি রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ১,০৪৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিটি উপজেলা ও থানায় নিয়োজিত থাকছেন। অতিরিক্ত ফোর্স: স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল কোর্টের সমন্বয়ে আরও ১,০৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৭ দিন মাঠে থাকবেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনের এই বিশাল প্রস্তুতি জনমনে স্বস্তি ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভোট উৎসবের নিরাপত্তায় প্রশাসন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।