প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের হামলার হুমকিতে ট্রাম্পকে হাসপাতালে নেওয়ার দাবি
ইরানের হামলার হুমকিতে ট্রাম্পকে হাসপাতালে নেওয়ার দাবি,যাচাইয়ে মিলল ভিন্ন তথ্য

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে দাবি ছড়িয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   বিভ্রান্তির সূত্রপাত হয় ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একটি পোস্ট থেকে। সেখানে তিনি লেখেন, তিনি একটি “নিখুঁত” স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করেছেন এবং নিজের অনুরোধে আরেকটি কগনিটিভ (মানসিক সক্ষমতা) পরীক্ষাও দিয়েছেন। পোস্টে তিনি কোথাও উল্লেখ করেননি যে ইরানের হামলার আশঙ্কায় বা জরুরি পরিস্থিতিতে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।   হোয়াইট হাউসও ট্রাম্পকে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বা নিরাপত্তা হুমকির কারণে তাঁকে ওয়াল্টার রিডে নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি। বরং প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ প্রকাশিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিয়মিত মেডিকেল মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই ওয়াল্টার রিডে গিয়েছিলেন।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও ট্রাম্পকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার দাবিটি নির্ভরযোগ্য কোনো সরকারি সূত্র বা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেনি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এ তথ্যকে অযাচাইকৃত দাবি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
লিন্ডসি গ্রাহামের মৃত্যুতে শোক ট্রাম্পের
লিন্ডসি গ্রাহামের মৃত্যুতে শোক ট্রাম্পের, বললেন—‘আমেরিকা হারাল এক দেশপ্রেমিককে’

দক্ষিণ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম ৭১ বছর বয়সে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারাল।”    সিনেটর গ্রাহামের কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি সংক্ষিপ্ত ও আকস্মিক অসুস্থতার পর শনিবার মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। পরিবার সবার কাছে দোয়া ও প্রার্থনা কামনা করেছে।   ট্রাম্প তাঁর শোকবার্তায় গ্রাহামের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রশংসা করে বলেন, তিনি সবসময় দেশের নিরাপত্তা, সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আরও বলেন, গ্রাহামের মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষ খুব কমই দেখা যায়।   লিন্ডসি গ্রাহাম ২০০২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হলেও পরে তিনি তাঁর অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্রে পরিণত হন। জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রতিরক্ষা ইস্যুতে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।   দুই দশকের বেশি সময় সিনেটে দায়িত্ব পালন করা লিন্ডসি গ্রাহাম যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মৃত্যু রিপাবলিকান পার্টি এবং মার্কিন রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য শূন্যতা তৈরি করেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত করেছি’—ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযানে ইরানকে “খুব কঠোরভাবে” আঘাত করা হয়েছে এবং প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখাই ছিল এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।   ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানায়, ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনা ও উপকূলীয় সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে নতুন হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের ওপর হুমকির জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং তেলের দামেও ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা দিয়েছে।   এদিকে ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে এর আগে তেহরান মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করে পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা বিমান হামলা এবং উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করে ভিডিওও প্রকাশ করে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন। নতুন এই হামলা দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
‘ইরানের হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে’—ট্রাম্পের দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের কথিত ‘হত্যার তালিকায়’ তার নাম শীর্ষে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জুন মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি তেহরান বারবার লঙ্ঘন করছে। তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।   ট্রাম্প জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি কাতারের উপহার দেওয়া বোয়িং উড়োজাহাজে দেশে ফিরবেন না। পরিবর্তে আগে এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত একটি পুরোনো উড়োজাহাজেই ফিরবেন। বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।   হাস্যরসের সুরে ট্রাম্প আরও বলেন, “গতকাল আরেকটি তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সেখানে হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে। যদিও টিকটকে এক নম্বরে থাকতে আমার বেশি ভালো লাগে।” তার এই মন্তব্য উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।   যুদ্ধবিরতি ঘিরে নতুন উত্তেজনা জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা ও নৌযান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।   পরে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে বলে জানা যায়। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।   ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর অভিযোগ ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করছে এবং এ নিয়ে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন। তার ভাষায়, ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি দেশটিকে গত কয়েক দশক ধরে ‘মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারকারী শক্তি’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।   তিনি বলেন, “আমি মনে করি না, ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি টিকবে।” পাশাপাশি সতর্ক করে দেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।   ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন বাহিনী এক রাতেই ইরানের ২৮টি নৌযান ধ্বংস করেছে এবং প্রয়োজনে আরও নৌযান লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।   তার বক্তব্য, “ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক বোমা থাকত, তারা সেটি ব্যবহার করত।”   খারগ দ্বীপ ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা কূটনৈতিক সমাধান না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে দেবে না বলে স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ইরানের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হতে পারে, যদিও তিনি এমন পরিস্থিতি এড়ানোর আশা প্রকাশ করেন।   এছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে এবং প্রয়োজন হলে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হতে পারে।   মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।   তথ্যসূত্র: সামা টিভি

নীলুফা নিশাত জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানে মার্কিন হামলা
ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানে মার্কিন হামলা, নিহত ৮ সেনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পর দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক হামলায় দেশটির অন্তত আটজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় একাধিক স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে নিহতদের মধ্যে ইরানের বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, হামলার পর ওই এলাকাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।   এ ঘটনার পরপরই তেহরান থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘দুঃসাহসিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই হামলা শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো গাল্ফ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বেলায়েতি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের মৌখিক সম্মতি অঞ্চলটিকে আবারও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম, এই অঞ্চল কোনো ছোট দেশের রাজনৈতিক জুয়ার ক্ষেত্র নয়। অতীতে যেমন দুঃসাহসিকতার জবাব দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতেও তাৎক্ষণিক ও উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।”   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর সংলগ্ন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এদিকে, এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ন্যাটো সম্মেলনে একই দিনে জেলেনস্কি ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসছেন ট্রাম্প
ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মোড়? ন্যাটো সম্মেলনে একই দিনে জেলেনস্কি ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসছেন ট্রাম্প

ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি সপ্তাহে তুরস্কের আঙ্কারায় যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্মেলনের ফাঁকে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে।   হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বৈঠকগুলোর আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব পেতে পারে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে বড় ধরনের পরিবর্তন না হওয়ায় কিয়েভ চাইছে ট্রাম্পের দৃষ্টি আবারও যুদ্ধের দিকে ফেরাতে। ইউক্রেনের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করবে।    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবরে বলা হয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনের পাশাপাশি ট্রাম্পের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গেও বৈঠকের সূচি রয়েছে। সম্মেলনে ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জোটের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।   এর আগে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেন। যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটো সম্মেলনের এই বৈঠকগুলো শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, সিরিয়া সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির পরবর্তী দিকনির্দেশনাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের নতুন পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, বিকৃত ছবিতে ওবামা দম্পতিকে দেখানোর সমালোচনা
ট্রাম্পের নতুন পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, বিকৃত ছবিতে ওবামা দম্পতিকে দেখানোর সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার একটি বিকৃত (ডক্টরড) ছবি পোস্ট করায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, পোস্ট করা ছবিতে ওবামা দম্পতিকে একটি গ্রাফিতি-আঁকা এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে উঠতে দেখা যায়। ছবিতে বিভিন্ন স্লোগান ও লেখাও সংযোজন করা হয়েছিল, যা সমালোচকদের মতে রাজনৈতিক ও বর্ণগত ইঙ্গিত বহন করে।    এটি প্রথমবার নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে এমন একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়েছিল, যেখানে ওবামা দম্পতিকে প্রাইমেট বা বনমানুষের আদলে দেখানো হয়। পোস্টটি প্রকাশের পর রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের নেতাদের সমালোচনার মুখে সেটি পরে সরিয়ে নেওয়া হয়। সে সময় ট্রাম্প এ জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেননি।   নতুন পোস্টটি এমন সময় এলো, যখন ট্রাম্প সম্প্রতি কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহারের পর আবারও বিমানটি নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন। একই দিনে তিনি ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিকে নিয়েও একটি সম্পাদিত ছবি পোস্ট করেন।   এ ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত বারাক ওবামা বা মিশেল ওবামার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ট্রাম্পের এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
শুধু প্রতিরক্ষা ব্যয় নয়, এবার ‘আনুগত্য’ও চান ট্রাম্প-চাপে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে
শুধু প্রতিরক্ষা ব্যয় নয়, এবার ‘আনুগত্য’ও চান ট্রাম্প-চাপে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে

ন্যাটোর আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে জোটটির মহাসচিব মার্ক রুটে নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার শুধু সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়েই জোর দিচ্ছেন না, বরং ওয়াশিংটনের প্রতি তাদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ‘আনুগত্য’ নিয়েও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, গত বছর ন্যাটো সদস্য দেশগুলো ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান ইস্যুসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে অনেক ইউরোপীয় মিত্র যথেষ্ট সমর্থন দেয়নি। ফলে তার মতে, শুধু অর্থ ব্যয় বাড়ালেই হবে না—মিত্রদের রাজনৈতিক সমর্থন ও নির্ভরযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ।   প্রায় দুই বছর ধরে ন্যাটোর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মার্ক রুটে যুক্তরাষ্ট্রকে জোটের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করে আসছেন। তিনি একাধিকবার বলেছেন, ইউরোপ ও কানাডা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বোঝা ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি ভূমিকা রাখছে।    তবে বিশ্লেষকদের মতে, এবারের তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে রুটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ট্রাম্পের নতুন প্রত্যাশা সামাল দেওয়া এবং একই সঙ্গে জোটের ৩২ সদস্য দেশের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা। ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভূমিকা—এসব বিষয় সম্মেলনের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
কমিউনিজম ‘ক্যানসারের মতো’—ওয়াশিংটনে ভাষণে ট্রাম্প, ‘ফিরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কমিউনিজমের তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘ক্যানসারের মতো’ বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন ফিরে এসেছে।”   দেশটির স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে দেওয়া এক ভাষণে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প।   ভাষণে তিনি বলেন, কমিউনিজম যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও মূল্যবোধের জন্য একটি বড় হুমকি। তার ভাষায়, “কমিউনিজম একটি ব্যর্থ মতবাদ। এটি সব সময় ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থই থাকবে। এটি আমাদের ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত।”   ট্রাম্প আরও বলেন, এ ধরনের মতাদর্শকে শুরুতেই প্রতিহত করা জরুরি। “এটি ক্যানসারের মতো—তাই শুরুতেই দ্রুত এটিকে কেটে ফেলতে হবে,” মন্তব্য করেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশটি কখনোই তার স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার বিসর্জন দেবে না। তিনি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নাগরিক স্বাধীনতার বিষয়গুলোও উল্লেখ করেন। “আমাদের বাক্‌স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনের চোখে সমান বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে—যা বিশ্বের অনেক দেশের থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আলাদা করে,” বলেন ট্রাম্প।   এর আগে গত শুক্রবার সাউথ ডাকোটার ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোর স্মৃতিসৌধে দেওয়া ভাষণেও তিনি কমিউনিজমের ‘হুমকি’ নিয়ে কথা বলেন। তখনও তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এমন এক মতাদর্শিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।   যদিও তার বক্তব্যে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করা হয়নি, বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হওয়া কিছু ডেমোক্র্যাট সমাজতন্ত্রী নেতাদের পরোক্ষভাবে লক্ষ্য করে এসব মন্তব্য করেছেন।   স্বাধীনতা দিবসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সমর্থকদের সামনে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন আবারও ফিরে এসেছে।”   তবে অনুষ্ঠানের আগে প্রতিকূল আবহাওয়া কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। তীব্র গরম ও সম্ভাব্য বজ্রঝড়ের আশঙ্কায় অনুষ্ঠানস্থল থেকে সাময়িকভাবে হাজারো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়—কেউ দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ অনুষ্ঠানস্থল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।   এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যেকোনো অবস্থায় তিনি ভাষণ দেবেন। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।   পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বাধীনতা দিবসের এই ভাষণে ট্রাম্পের বক্তব্য মূলত তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং আসন্ন সময়ের জন্য তার বার্তাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
জানাজা উপলক্ষে ‘এক সপ্তাহের বিরতি’ দিয়েছিলাম: ট্রাম্প
ইরান আপসে আগ্রহী, জানাজা উপলক্ষে ‘এক সপ্তাহের বিরতি’ দিয়েছিলাম: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি বলেন, দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় সাময়িক বিরতি দিয়েছিল।   তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির প্রশংসা করে বলেন, “আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছি। আমরা দুটি বিশ্বযুদ্ধে জয়ী হয়েছি।” স্নায়ুযুদ্ধের সময় আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘ইতিহাসের অতল গহ্বরে’ পাঠানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা একদিনে ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানকে কঠিন শিক্ষা দিয়েছি। তারা এখন আপস করতে মরিয়া। আমরা মানবিকতার কারণে তাদের নেতার দাফনের জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিলাম।”   যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্র’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানরা বিশ্বের সবচেয়ে স্বাধীন মানুষ এবং মানবকল্যাণ, ক্ষুধা মোকাবিলা ও রোগ নিরাময়ে তাদের অবদান অনন্য।   দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ‘কমিউনিস্ট চিন্তার’ পুনরুত্থান ঘটছে, যা দেশের জীবনধারা ও সাফল্যের পরিপন্থী। তিনি কমিউনিজমকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা ৯/১১ হামলার চেয়েও বড় হুমকি হতে পারে।”   আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা কখনো কমিউনিস্ট রাষ্ট্র হবে না। আমরা যদি নিজেরা পরাজয় মেনে না নিই, তবে হারার কোনো সুযোগ নেই।”   এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ আইন পাস হলে রিপাবলিকান পার্টি আগামী এক শতাব্দী পর্যন্ত নির্বাচনে পরাজিত হবে না।   ট্রাম্পের এসব বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ—দুই ক্ষেত্রেই উত্তেজনা ও বিতর্ক চলছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ইরান আলোচনায় আগ্রহী, ট্রাম্পের দাবি
ইরান আলোচনায় আগ্রহী, ট্রাম্পের দাবি

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে আগ্রহী—এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।   ট্রাম্পের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর ইরান এখন সমঝোতার পথ খুঁজছে। তিনি বলেন, “আমরা এক দিনেই ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করেছি। তারা এখন সমঝোতা করতে মরিয়া; তারা খুব করে সমঝোতা করতে চায়।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য ওয়াশিংটন তেহরানকে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিয়েছিল। “আমরা ভালো বলেই তাদের শেষ বিদায়ের জন্য সময় দিয়েছি,” যোগ করেন তিনি।   এদিকে খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়কে ঘিরে ইরানে শুরু হয়েছে ছয় দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে এ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তেহরান ছাড়াও ইরাকের বিভিন্ন শহরে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তীতে তাকে দাফন করা হবে।   রাজধানী তেহরান-এর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে মরদেহ পৌঁছানোর আগেই হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হন। অনেকের হাতে ছিল লাল পতাকা, যা প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এ সময় বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা স্লোগান দেন এবং প্রতিশোধের দাবি তোলেন।   ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। বিশাল এই প্রাঙ্গণের মূল চত্বর শোকাহত মানুষের ভিড়ে দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীজুড়ে কঠোর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।   বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান নয়; বরং এটি বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও শক্তির ভারসাম্যের প্রতিফলনও বহন করছে। একই সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যৌন নির্যাতন মামলা: সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ধাক্কা, আবেদন খারিজ

মার্কিন লেখক ও কলামিস্ট ই. জিন ক্যারল দায়ের করা যৌন নির্যাতন মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আপিল খারিজ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকল।   আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলের জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেছিলেন। তবে গতকাল সেই আবেদন নাকচ করে দেন বিচারপতিরা। কেন এই আবেদন খারিজ করা হলো, সে বিষয়ে আদালত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি—যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নয়।   মামলার সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেন যে, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতন করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এবং ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।   দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালের মে মাসে নিম্ন আদালত ক্যারলের পক্ষে রায় দেন। আদালত ট্রাম্পকে দায়ী সাব্যস্ত করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ফেডারেল আপিল আদালতে আবেদন করা হলে সেখানেও নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।   পরবর্তীতে ২০২৫ সালে বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট আপিল গ্রহণ না করায় কার্যত ফেডারেল ও নিম্ন আদালতের রায়ই চূড়ান্ত রূপ পেল।   এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত আইনি লড়াইগুলোর একটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবেক একজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবং আদালতের ধারাবাহিক রায় দেশটির বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও প্রক্রিয়াগত ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
হায়দ্রাবাদে সড়কের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’, কৃতজ্ঞতা জানালেন ট্রাম্প
হায়দ্রাবাদে সড়কের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’, কৃতজ্ঞতা জানালেন ট্রাম্প

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হায়দ্রাবাদে একটি সড়কের নাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। শনিবার (২৭ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যার নামে ভারতে কোনো সড়কের নামকরণ করা হলো। তিনি এই সম্মানকে বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করে ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান।   এর আগে তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার হায়দ্রাবাদের মার্কিন কনসুলেট সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’ রাখার ঘোষণা দেয়। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সড়কের নামফলক উন্মোচন করা হয়।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেলেঙ্গানার উপমুখ্যমন্ত্রী মাল্লু ভাট্টি বিক্রমর্ক এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক সার্জিও গর। ট্রাম্প তার পোস্টে এই অনুষ্ঠানের একটি ছবিও শেয়ার করেন, যেখানে তাদের দুজনকে নামফলক উন্মোচন করতে দেখা যায়।   নতুন নামকরণ করা সড়কটির আশপাশে রয়েছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস, যার মধ্যে মাইক্রোসফট, গুগল ও আমাজনের মতো মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ফলে এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ‘টেক হাব’ হিসেবে পরিচিত।   তেলেঙ্গানা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নামকরণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের পাশাপাশি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার প্রতিফলন। একই সঙ্গে হায়দ্রাবাদ যে দুই দেশের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে, সেটিরও স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাত, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে একটি সড়কের নাম মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামে রাখা প্রতীকী হলেও তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্টে ট্রাম্পের ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্টে ট্রাম্পের ছবি, স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদ্‌যাপনে নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত হতে যাওয়া সীমিত সংস্করণের (লিমিটেড এডিশন) নতুন মার্কিন পাসপোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি রাখা হয়েছে। নতুন এই পাসপোর্টের নকশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করে ট্রাম্প লিখেছেন, “Welcome, but be good!” (স্বাগতম, তবে নিয়ম মেনে চলুন)।     মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উদ্যোগে তৈরি এই স্মারক পাসপোর্টে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণা (Declaration of Independence)-এর অংশবিশেষ, তার স্বাক্ষর এবং ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক দৃশ্যও যুক্ত করা হয়েছে। এটি ‘আমেরিকা ২৫০’ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে প্রকাশ করা হচ্ছে।     প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্ম থেকেই এই বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্ট ইস্যু শুরু হবে। এটি অতিরিক্ত কোনো ফি ছাড়াই সীমিত সংখ্যক মার্কিন নাগরিকের জন্য উপলভ্য হবে। মূলত যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করবেন, তারাই এই সংস্করণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।     তবে পাসপোর্টটির নকশা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সমর্থকদের একাংশ এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তির স্মারক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, একটি সরকারি ভ্রমণ নথিতে দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্টের ছবি ও ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং যুক্ত করা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে এই বিশেষ পাসপোর্ট অন্যতম আলোচিত উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর সীমান্ত ও অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন চলায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।  

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত ট্রাম্প, জরুরি সহায়তার ঘোষণা

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে সৃষ্ট মানবিক সংকট মোকাবিলায় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও মানবিক সহায়তা নিয়ে ওয়াশিংটন দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবে।   বুধবার (২৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “ভেনেজুয়েলার মহান জনগণের ওপর আঘাত হানা দুটি বড় ভূমিকম্প অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল এবং এতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।”   এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব ফেডারেল সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, “আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।” একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, এই কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে থাকবে।   তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি মূল্যায়নের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা কার্যক্রম শুরু হতে পারে।   এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় ক্যারিবীয় উপকূলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূবিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ইয়ারাকুই রাজ্যের সান ফেলিপ এলাকার কাছে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয়। এর প্রায় ৪০ সেকেন্ড পর ইউমারে শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি।   প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের পরপরই ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ভূমিকম্পের প্রভাবে বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়।   তবে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি। উদ্ধার তৎপরতা চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার, উদ্ধারকর্মী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত থাকবেন
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ট্রাম্প, ইনফ্যান্তিনোর সঙ্গে দেবেন ট্রফি

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত থাকবেন এবং বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন—এমনটাই নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফ্যান্তিনো বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করবেন এবং দুজন একসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন। তার ভাষায়, “আমরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকব, ফাইনাল উপভোগ করব এবং অবশ্যই একসঙ্গে বিজয়ীর হাতে ট্রফি তুলে দেব। আমরা সব সময়ই একসঙ্গে আছি।”   ইনফ্যান্তিনোর এই বক্তব্যের একটি অংশ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হোয়াইট হাউসের সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রকাশ করা হয়। তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।   ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকায় ফাইনালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি নিয়ে আগ্রহ ছিল অনেকদিন ধরেই। যদিও ট্রাম্প ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন বড় ক্রীড়া আয়োজনে অংশ নেন, এবার বিশ্বকাপের গ্রুপ বা নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচে তাকে দেখা যায়নি।   এর আগে ট্রাম্প ও ইনফ্যান্তিনো একাধিকবার একই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে চেলসি ৩-০ ব্যবধানে পিএসজিকে হারানোর পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে এই দুই ব্যক্তিকে একসঙ্গে দেখা যায়।   বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি কেবল ক্রীড়া আয়োজনে নয়, কূটনৈতিক ও প্রতীকী দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে বৈশ্বিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে ফাইনাল ম্যাচটি।

নীলুফা নিশাত জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
চুক্তি ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা: ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, চুক্তির কোনো শর্ত অমান্য করা হলে তেহরানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্র পিছপা হবে না।   সোমবার (২২ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “ইরান যদি চুক্তি অনুযায়ী না চলে, অথবা তারা যদি ঠিকভাবে আচরণ না করে, তাহলে যা করার প্রয়োজন হবে আমি তাই করব।” তার এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কড়া নজরদারি রাখছে।   গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সই করেন। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   চুক্তি স্বাক্ষরের তিন মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়।   পরবর্তীতে মধ্যস্থতাকারীদের সক্রিয় ভূমিকার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে এই শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।   সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের অবরুদ্ধ অর্থের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলেও সেই অর্থ ব্যবহারে নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। তার দাবি, চুক্তি অনুযায়ী ওই অর্থ কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিজাত খাদ্যপণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করার কথা।   এ বিষয়ে তিনি বলেন, “ওই অর্থ শেষ পর্যন্ত খাদ্য কেনার মাধ্যমে আবার আমাদের কাছেই ফিরে আসবে। তাদের খাদ্যের প্রয়োজন রয়েছে। প্রায় ৯ কোটির বেশি মানুষের দেশ হলেও তারা নিজেদের জনগণকে পর্যাপ্তভাবে খাদ্য সরবরাহ করতে পারছে না।”   বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সুবিধাও নিজেদের দিকে রাখার কৌশল নিয়েছে।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।   এদিকে, এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়ে দামেও ব্যাপক ওঠানামা দেখা দিয়েছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে এই চুক্তির সফল বাস্তবায়নের ওপর।

নীলুফা নিশাত জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হিজবুল্লাহকে থামান, নইলে ইরানে আরও ভয়াবহ হামলা করব—ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

লেবাননে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর আরও ভয়াবহ হামলার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি চরম সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, ইরানকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের 'উচ্চ বেতনের প্রক্সি' গোষ্ঠীর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। তারা যদি তা না করে, তবে গত সপ্তাহে যেভাবে হামলা চালানো হয়েছিল, এবার তার চেয়েও আরও কঠোর ও বড় পরিসরে ইরানে আঘাত হানা হবে।   গত শুক্রবার থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর প্রাথমিক শান্তি চুক্তিকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। এর মধ্যেই শনিবার হিজবুল্লাহর ওপর ইসরাইলি হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করে ইরান। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বিশ্বজ্বালানি পরিবহনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে এখনও অন্যান্য দেশের নৌযান চলাচল করতে পারছে।   ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানকে চরম পরিণতি ভোগের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করে তবে তাদের কোনো দেশের অস্তিত্বই থাকবে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রকে যদি প্রণালিতে অন্যান্য দেশের তেলের জাহাজের 'ত্রাণকর্তা' হিসেবে কাজ করতে হয়, তবে এর জন্য টোল আদায়ের বা প্রণালির পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়ারও হুমকি দেন তিনি। একই সঙ্গে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের 'ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার না ছাড়ার' প্রকাশ্য ঘোষণারও কড়া সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি চরম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, পেজেশকিয়ানকে অবশ্যই কথাবার্তায় লাগাম টানতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে।   এর আগে, ইরানের সাথে একটি সংবেদনশীল শান্তি চুক্তি টিকিয়ে রাখার স্বার্থে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও চাপ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে রোববারের বার্তায় তিনি পুরো সংঘাতের দায়ভার মূলত ইরানের ওপরই চাপিয়েছেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রথম শর্তই ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা। কিন্তু বাস্তবে তা অত্যন্ত কঠিন প্রমাণিত হচ্ছে। চলমান এই সংঘাতের জেরে সুইজারল্যান্ডে এমওইউ-এর অধীনে প্রথম দফার শান্তি আলোচনাও বিলম্বিত হয়েছে, যা রোববার থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য, একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এবং ইউরেনিয়াম মজুতের মতো জটিল বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে এই সমঝোতা স্মারকে উভয় দেশকেই ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ। ছবি: এএফপি
ইরান চুক্তি ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনে বিভক্তি, গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বাড়ছে সন্দেহ

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভেতরেই তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন—চুক্তির চূড়ান্ত শর্তে ইরান আসলে কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।   আলোচনা সম্পর্কে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, শুধু র‍্যাটক্লিফ নন—প্রশাসনের আরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাও এই চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হ্যাগসেথ গত রোববার ঘোষিত সমঝোতা স্মারকের বেশ কিছু দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিপরীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।   চুক্তি ঘোষণার আগে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টাদের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সংগৃহীত সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা করছেন, তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   র‍্যাটক্লিফ ও রুবিওর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত করছে—যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা আশা করছে, ইরান শেষ পর্যন্ত তা মেনে নাও নিতে পারে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষায়, “ইরানের প্রকৃত উদ্দেশ্য চুক্তির অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলে না—গোয়েন্দা তথ্য সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।”   তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারই। তার দাবি, এই সমঝোতা স্মারক ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিগত সীমারেখা বজায় রেখেই করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, অতিরিক্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না।   এদিকে, সিআইএ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   রোববার স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকের পারমাণবিক শর্তগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ-বাগের গালিবফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।   ১৪ দফার এই প্রাথমিক চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে, বর্তমান কাঠামোয় ইরান তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাচ্ছে—যদি না তারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি কঠোর পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হয়।   চুক্তির অন্তর্বর্তী শর্ত অনুযায়ী, আলোচনাকালীন সময়ে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন থেকেও বিরত থাকবে। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধকালীন মোতায়েন করা সেনা প্রত্যাহার করবে এবং পর্যায়ক্রমে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।   তবে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের অবস্থান এবং মার্কিন আলোচকদের দাবি—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট অমিল রয়েছে। তিনি অবিলম্বে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের দাবি জানান।   এই সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। চুক্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন ইরান কোনো ধরনের ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। ভবিষ্যতে ওমানসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই নৌপথ পরিচালনার বিষয়ে সংলাপ চালানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে।   তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে, ৬০ দিনের পর এই প্রণালিতে ট্রানজিট ফি আরোপ করা হতে পারে—যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   চুক্তির আরেকটি বিতর্কিত অংশ হলো ইরানের জব্দ বা স্থগিত সম্পদ অবমুক্ত করা। সমঝোতা অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে এই তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেবে। মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে ‘কাজের ভিত্তিতে অর্থ ছাড়’ মডেল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন—অর্থাৎ ইরান চুক্তির শর্ত মানলে পর্যায়ক্রমে অর্থ ছাড় করা হবে।   এছাড়া ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি যৌথ তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে সমর্থকদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ইরান পুরোপুরি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংস্কার না আনলে তা বাস্তবায়িত হবে না।   সব মিলিয়ে, ইরান চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এখন নজর আসন্ন আলোচনায় এই মতপার্থক্য কতটা কাটিয়ে ওঠা যায় এবং চূড়ান্ত চুক্তি আদৌ সম্ভব হয় কি না।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালিতে ‘সেবার ফি’ নেওয়ার ইঙ্গিত ইরানের
হরমুজ প্রণালিতে ‘সেবার ফি’ নেওয়ার ইঙ্গিত ইরানের, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে শঙ্কা

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ রাখার ঘোষণা দিলেও তার পরদিনই ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। দেশটি জানিয়েছে, সরাসরি টোল আরোপ না করলেও নির্দিষ্ট কিছু ‘সেবার’ বিনিময়ে জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “ইরান ট্রানজিট টোল আরোপ করতে চায় না; তবে আমরা যে সেবা প্রদান করব, তার জন্য ফি নেওয়া হবে।” যদিও ঠিক কী ধরনের সেবা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।   তবে ইরানের কিছু কর্মকর্তার ধারণা, পরিবেশ সুরক্ষা, নিরাপত্তা বা নৌপথ ব্যবস্থাপনার মতো খাতে ব্যয় মেটাতে এই ফি নির্ধারণ করা হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন করে খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই প্রণালির মাধ্যমেই পরিবাহিত হয়।   আন্তর্জাতিক নৌ-আইন বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, টোল এবং সেবামূলক ফি—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, প্রাকৃতিক আন্তর্জাতিক জলপথে অর্থ আদায়ের প্রশ্নে আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নৌ-আইন বিশ্লেষক জেমস আর. হোমস বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনে কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্রের জন্য প্রাকৃতিক জলপথ ব্যবহার বাবদ অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। আপনি এটিকে টোল বলুন বা ফি—দুই ক্ষেত্রেই বিষয়টি বিতর্কিত।”   তিনি মালাক্কা প্রণালি ও তাইওয়ান প্রণালির উদাহরণ টেনে বলেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে এ ধরনের কোনো অর্থ আদায়ের নজির নেই। তবে পানামা খাল বা সুয়েজ খালের মতো কৃত্রিম জলপথে সেবা ও অবকাঠামোর বিনিময়ে ফি নেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।   পরিস্থিতির পেছনে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর ইরান আঞ্চলিক জলপথে নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে চাইছে। এরই অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ এবং পরবর্তীতে ফি আরোপের পরিকল্পনা সামনে আসে।   এর আগে মার্চ মাসে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের চিন্তা করছে তারা। পরে মে মাসে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে একটি সংস্থা গঠন করা হয়, যা এই নৌপথে নিরাপদ চলাচল ও অনুমোদন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে বলে জানানো হয়। একই সময়ে প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য অর্থপ্রদানের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চালায় তেহরান।   এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন বজায় রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই এই প্রণালিতে টোল আরোপ করা উচিত নয়।   অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ইরানের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। যদিও অতীতে তিনি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ প্রণালি থেকে রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে মে মাসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা চাই এই পথ উন্মুক্ত থাকুক, কোনো ধরনের টোল না থাকাই উচিত।”   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরও কড়া অবস্থান নিয়ে বলেছেন, “এ ধরনের কোনো ফি আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। এতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে যাবে।”   বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন নজর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার ঝড়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের লনে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন করেছেন—এমনই দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়, জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে সেখানে ‘কেজ ফাইট’ বা খাঁচার লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ নামে একটি বিশেষ প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মিক্সড মার্শাল আর্ট সংস্থা Ultimate Fighting Championship–এর ১৪ জন তারকা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দক্ষিণ লনের অস্থায়ী ভেন্যু ‘দ্য ক্ল’-এ এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।   দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই আয়োজনটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পরিকল্পনা করা হলেও তা ট্রাম্পের জন্মদিনের সঙ্গে একই সময়ে পড়ে যায়। ফলে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন, নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি ধনী পরিবারে। বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন চার ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। ১৩ বছর বয়সে তাকে নিউইয়র্ক মিলিটারি একাডেমিতে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।   পরবর্তী সময়ে বাবার রিয়েল এস্টেট ব্যবসার দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’ রাখেন। ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারসহ একাধিক বহুতল ভবন, হোটেল ও গলফ কোর্স নির্মাণের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পান। পরে ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে।   রাজনীতিতে প্রবেশের পর ২০১৫ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগান দিয়ে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ট্রাম্প। ২০২৪ সালে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।   এদিকে জন্মদিন উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, বিশেষ করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে তার ভূমিকার জন্য।   হারজগ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইসরায়েলের প্রতি অবিচল সমর্থনের জন্য তার নেতৃত্বকে ইসরায়েলিরা গভীরভাবে মূল্যায়ন করে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্প ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।   তবে হোয়াইট হাউসে জন্মদিন ঘিরে ‘কেজ ফাইট’ আয়োজনের দাবি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা এ ধরনের আয়োজনকে অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক বলে সমালোচনা করছেন, যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

নীলুফা নিশাত জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হক

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০