যৌন নির্যাতন মামলা: সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ধাক্কা, আবেদন খারিজ
মার্কিন লেখক ও কলামিস্ট ই. জিন ক্যারল দায়ের করা যৌন নির্যাতন মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আপিল খারিজ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকল।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলের জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেছিলেন। তবে গতকাল সেই আবেদন নাকচ করে দেন বিচারপতিরা। কেন এই আবেদন খারিজ করা হলো, সে বিষয়ে আদালত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি—যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নয়।
মামলার সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেন যে, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতন করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এবং ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালের মে মাসে নিম্ন আদালত ক্যারলের পক্ষে রায় দেন। আদালত ট্রাম্পকে দায়ী সাব্যস্ত করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ফেডারেল আপিল আদালতে আবেদন করা হলে সেখানেও নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালে বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট আপিল গ্রহণ না করায় কার্যত ফেডারেল ও নিম্ন আদালতের রায়ই চূড়ান্ত রূপ পেল।
এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত আইনি লড়াইগুলোর একটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবেক একজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবং আদালতের ধারাবাহিক রায় দেশটির বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও প্রক্রিয়াগত ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ঔপন্যাসিক স্টিফেন কিংয়ের কয়েকটি মন্তব্য আবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। তবে এগুলো নতুন বক্তব্য নয়। পরমাণু অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগের কথাটি কিং লিখেছিলেন ২০১৭ সালে; ট্রাম্পের ব্যক্তিত্ব ও ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া নিয়ে তাঁর সমালোচনা এসেছিল ২০২২ সালের এক সাক্ষাৎকারে। ২০১৭ সালের মে মাসে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, কিং সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, তাঁর হাতে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা থাকার বিষয়টি নিজের লেখা যেকোনো ভয়ের গল্পের চেয়েও ভীতিকর। কিংয়ের বক্তব্যের বিষয় ছিল ওই ক্ষমতা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ; ট্রাম্পকে তিনি নিজের সব কাল্পনিক দানবের চেয়ে ভয়ংকর বলেছেন, এমন ভাষা ব্যবহার করেননি। ২০২২ সালে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিং ট্রাম্পকে ‘ভয়াবহ প্রেসিডেন্ট’ ও ‘ভয়াবহ মানুষ’ বলে অভিহিত করেন। সে সময় ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ছিলেন না। একই সাক্ষাৎকারে কিং বলেন, তাঁর মতে ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে না পেরে মার্কিন গণতন্ত্র উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ট্রাম্পকে ‘সোসিওপ্যাথ’ বলাটিও কিংয়ের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনো চিকিৎসাগত নির্ণয় নয়। ট্রাম্প সম্পর্কে কিং পরে আরও মন্তব্য করেছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি ট্রাম্পকে ‘একটি ভয়ের গল্প’ বলে বর্ণনা করেন। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ঘুরতে থাকা বক্তব্যগুলো কিংয়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমালোচনার অংশ হলেও, ২০১৭ ও ২০২২ সালের কথাগুলোকে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা বিভ্রান্তিকর।
রেস্তোরাঁয় খেয়ে বিল ফাঁকি: গ্রাহকদের শায়েস্তা করতে সামাজিক মাধ্যমে ছবি প্রকাশ করছেন নিউইয়র্কের মালিকরা
নিউইয়র্কে ডেলিভারি দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার নারী, গ্রেপ্তার ১৪ বছরের কিশোর
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই থেকে ভিসা ইন্টারভিউ, কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে মা ও মায়ের প্রেমিককে হত্যার ঘটনায় জুলিয়া এগলার নামে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে ৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে হত্যাকাণ্ডের সময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর। শুক্রবার আদালতে তিনি দ্বিতীয়-স্তরের হত্যার দুটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। সমঝোতার ভিত্তিতে করা এই দোষ স্বীকারের পর তাকে ৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার মধ্যে অন্তত ২৫ বছর কারাগারে থাকতে হবে। এরপর অঙ্গরাজ্যের আইনে তার সাজা পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৭ জুলাই ফ্লোরিডার পাম বে শহরের বেনচোর রোডের একটি বাড়িতে। নিহতরা হলেন এগলারের মা কেলি ম্যাককলম, বয়স ৩৮ বছর, এবং মায়ের প্রেমিক ম্যাথিউ সেজনরক, বয়স ২২ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, এগলার ওই রাতে ৯১১ নম্বরে ফোন করে দাবি করেছিলেন, এক অজ্ঞাত ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে তাদের ওপর হামলা করেছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে পাওয়া বিভিন্ন আলামত তার বর্ণনার সঙ্গে মিলছিল না। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বাড়িতে জোর করে প্রবেশের কোনো চিহ্ন ছিল না এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামতও এগলারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। তার মায়ের রিভলভার, একটি ছুরি এবং রক্তের দাগসহ অন্যান্য আলামত তদন্তকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পুলিশ বলেছে, এগলার প্রথমে হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি বা বাড়িতে অনুপ্রবেশের ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সাজানো হয়েছিল। পাম বে পুলিশের নথি অনুযায়ী, এগলার মায়ের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। এর মধ্যে তার লিঙ্গ পরিবর্তন নিয়ে মায়ের আপত্তি এবং মায়ের ২২ বছর বয়সী সেজনরকের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও মতবিরোধ ছিল। তদন্তকারীদের কাছে এগলার জানিয়েছিলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল এবং একপর্যায়ে তিনি মানসিকভাবে চরম অবস্থায় পৌঁছে যান। মামলার শুরুতে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রথম-স্তরের হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। পুলিশের নথিতে হত্যাকাণ্ডের রাতের ঘটনাপ্রবাহেরও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এগলার দম্পতির বাড়িতে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন এবং তারা প্রবেশ করার পর তাদের গুলি করেন। সেজনরক গুলিবিদ্ধ হয়ে বাথরুমের দিকে চলে গেলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে গুলির খোসা ও ছুরিসহ বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়। পুলিশ ও প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, উভয় ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটনাস্থলেই হয়। হত্যার পর এগলার পুলিশকে জানান, এক ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে বাড়ির কাচের দরজা ভেঙে ঢুকেছিল। কিন্তু তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের কাচ ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে তার বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থলের অবস্থান এবং জোর করে প্রবেশের কোনো স্পষ্ট চিহ্ন না থাকায় ওই বর্ণনা টেকেনি। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে এগলার হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং ঘটনাটিকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করার কথাও জানান। মামলাটি পরে ব্রেভার্ড কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরির সামনে যায় এবং ২০২৪ সালের আগস্টে এগলারের বিরুদ্ধে প্রথম-স্তরের পরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগে অভিযোগপত্র গঠন করা হয়। তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছিল। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনাও শেষ করেন। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ বিচার এড়াতে প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমঝোতায় দ্বিতীয়-স্তরের হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এই সমঝোতা ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের অনুমোদন পেয়েছিল বলে স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর ব্রেভার্ড কাউন্টির সার্কিট জজ মিশেল ন্যাবারহাউস এগলারকে ৫০ বছরের কারাদণ্ড দেন। সাজা ঘোষণার সময় এগলার আদালতে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন তিনি অনুশোচনা ও শোকের মধ্যে থাকেন এবং নিজেকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানান। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ বছর পর তার সাজা পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হবে। কারাদণ্ডের পর তাকে আরও ২০ বছর তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে এবং মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আদালতে নিহত ম্যাথিউ সেজনরকের ভাই ডাস্টিনও বক্তব্য দেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ঘটনাস্থলের মাত্র ৭৫ ফুট দূরে ছিলেন এবং গুলির শব্দকে আতশবাজির শব্দ মনে করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তার ভাই তখন প্রাণের জন্য লড়াই করছিলেন। ডাস্টিন বলেন, এই ঘটনায় শুধু তার ভাইকেই হারাননি, তাদের পরিবারের বাড়িও সেই ঘটনার কারণে স্থায়ীভাবে বদলে গেছে। তার ভাষায়, কোনো সাজাই তার ভাইকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। সূত্র: ফ্লোরিডার ১৮তম জুডিশিয়াল সার্কিটের স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়, ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো
২০০ বছর পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াই ৪ বছরের এলেনার
নিউইয়র্কে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে মাদক খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধ র্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ৭ শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে তারই চালানো গাড়ির ধাক্কায় ৬২ বছর বয়সী বাংলাদেশি বাবা মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়েছে। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ওয়ার্নার অ্যাভিনিউয়ের ২৪ হাজার ব্লকের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওয়ারেন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় আব্দুর রহিম তার ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্লিকঅনডেট্রয়েট জানিয়েছে, মেয়েটি তখন গাড়ি পার্ক করার অনুশীলন করছিল। একপর্যায়ে গাড়িটি তার বাবাকে ধাক্কা দেয় এবং থামার আগে তাকে অল্প দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুর রহিমকে কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ১৮ বছর বয়সী মেয়েটি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া আলামত মেয়েটির দেওয়া ঘটনার বিবরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় মাদক বা অ্যালকোহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করছে ওয়ারেন পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট। দুর্ঘটনা সম্পর্কে তথ্য থাকলে তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। ওয়ারেন পুলিশ এখনো নিহত ব্যক্তির নাম বা পারিবারিক পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে আমেরিকা বাংলার কমিউনিটি সূত্রে নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এবং তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন আব্দুর রহিম। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে বলেও জানা গেছে। মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আব্দুর রহিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। যে বাবা মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ড্রাইভিং শেখানোর সময়ই ঘটে গেল তার জীবনের শেষ দুর্ঘটনা। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় মামদানির উদ্যোগ, রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউইয়র্ক টাইমস কর্মকর্তাকে গুলি করে হ ত্যা, কয়েক মিনিটেই শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার