সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার ঝড়

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ৪:২৭
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের লনে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন করেছেন—এমনই দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়, জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে সেখানে ‘কেজ ফাইট’ বা খাঁচার লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ নামে একটি বিশেষ প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মিক্সড মার্শাল আর্ট সংস্থা Ultimate Fighting Championship–এর ১৪ জন তারকা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দক্ষিণ লনের অস্থায়ী ভেন্যু ‘দ্য ক্ল’-এ এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

 

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই আয়োজনটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পরিকল্পনা করা হলেও তা ট্রাম্পের জন্মদিনের সঙ্গে একই সময়ে পড়ে যায়। ফলে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন, নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি ধনী পরিবারে। বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন চার ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। ১৩ বছর বয়সে তাকে নিউইয়র্ক মিলিটারি একাডেমিতে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

পরবর্তী সময়ে বাবার রিয়েল এস্টেট ব্যবসার দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’ রাখেন। ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারসহ একাধিক বহুতল ভবন, হোটেল ও গলফ কোর্স নির্মাণের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পান। পরে ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে।

 

রাজনীতিতে প্রবেশের পর ২০১৫ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগান দিয়ে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ট্রাম্প। ২০২৪ সালে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

 

এদিকে জন্মদিন উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, বিশেষ করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে তার ভূমিকার জন্য।

 

হারজগ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইসরায়েলের প্রতি অবিচল সমর্থনের জন্য তার নেতৃত্বকে ইসরায়েলিরা গভীরভাবে মূল্যায়ন করে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্প ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

 

তবে হোয়াইট হাউসে জন্মদিন ঘিরে ‘কেজ ফাইট’ আয়োজনের দাবি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা এ ধরনের আয়োজনকে অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক বলে সমালোচনা করছেন, যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি, তবু মূল্যস্ফীতির চাপে নাজেহাল সাধারণ মানুষ

আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে প্রকাশিত মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের নতুন পরিসংখ্যানে দেশটির অর্থনীতির এক মিশ্র চিত্র উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের আগাম হিসাবে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বার্ষিক ৩.৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রয়টার্সের অর্থনীতিবিদদের ৩.২ শতাংশের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। তবে সামষ্টিক অর্থনীতির এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটিতে মূল্যস্ফীতিও অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে ৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা সাধারণ ভোটারদের জন্য বড় একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতকে কেন্দ্র করে বিশাল ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং ভোক্তাদের টেকসই ব্যয়ের কারণেই এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই প্রবৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাবকে অনেকাংশেই সামাল দিতে পেরেছে। কিন্তু পরিসংখ্যানের এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক হতাশার চিত্র একেবারেই সাংঘর্ষিক। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি অর্থনীতি পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন বা রেটিংও এখন রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে গেছে।   মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের আদর্শ হার ২ শতাংশ নির্ধারণ করলেও, অর্থনীতি বর্তমানে তার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে প্রসারিত হচ্ছে। ফেডের পছন্দের সূচক পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার (পিসিই) অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৩.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই সেপ্টেম্বরে ৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফেড তাদের বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখলেও আগামী ডিসেম্বরে তা বাড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ জানিয়েছেন, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ ব্যয় বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।   ভোক্তাদের ব্যয় টানা দুই প্রান্তিকে ৩.৮ শতাংশ হারে বাড়লেও মূলত মানুষের জমানো সঞ্চয় ভেঙে খাওয়ার কারণেই এই ব্যয়প্রবাহ সচল রয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশটিতে প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের দাম গত বছরের তুলনায় এক ডলার বেড়ে চার ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের জরিপ বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ভোক্তাদের আস্থা ১৫ শতাংশ কমে গেছে। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদিপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোটারদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১২:১১
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধির চাপে দিশেহারা ভোটাররা, খাবার নাকি ওষুধ কিনবেন সেই দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ

মিশিগানে সেনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্রেটিক পার্টির কোন্দল প্রকাশ্যে। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানের সেনেট নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের কোন্দল, প্রচারণায় স্টিভেন্সকে নিষিদ্ধ করলেন এল-সায়েদ

৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যু। ছবি: সংগৃহীত

জানুয়ারি থেকে মেডিকেইডে নতুন বিধিনিষেধ, স্বাস্থ্যবিমা থাকা মার্কিনিদেরও চিকিৎসার খরচ বাড়বে

৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জিতলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হবেন সাইয়েদ। ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আবদুল এল-সাইয়েদ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। আগামী ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তিনি জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন। তবে নির্বাচনের আগে তাঁকে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। ভোটের ফলই নির্ধারণ করবে, তিনি সেই ইতিহাস গড়তে পারবেন কি না। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স।    এল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারণায় ডেমোক্রেটিক পার্টির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা সমর্থন জানিয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সম্প্রতি ডেট্রয়েটে তাঁর পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবং সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন। এসব সমর্থন তাঁর প্রচারণায় বাড়তি গতি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।    নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপে এল-সাইয়েদ এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সিএনএন ও এসএসআরএসের অক্টোবরের শেষ দিকের এক জরিপে তিনি রজার্সের চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে ইনসাইডার অ্যাডভান্টেজের জরিপে ব্যবধান ছিল মাত্র ১ পয়েন্ট। বিভিন্ন জরিপের গড় হিসাবেও এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। তবে মিশিগান একটি গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেট হওয়ায় শেষ মুহূর্তের ভোটের হিসাব নির্বাচনের ফল বদলে দিতে পারে।    নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সাইয়েদের মুসলিম পরিচয় এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান শিবিরের কয়েকজন নেতা তাঁর বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ধরনের সংশ্লিষ্টতার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে মিশিগানের নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে।    বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারাও নির্বাচনটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা ও ডেমোক্রেটিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মিনহাজ চৌধুরী আমেরিকা বাংলাকে বলেন, এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে। তাঁর ধারণা, শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যেও সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন; নির্বাচনের প্রকৃত ফল নির্ভর করবে ৩ নভেম্বরের ভোটের ওপর।    এল-সাইয়েদের সম্ভাব্য বিজয় শুধু মিশিগানের রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম ও অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। দেশটির সিনেটে এখনো কোনো মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হননি। ফলে তাঁর জয় হলে মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা পর্যন্ত।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১১:২২
হ্যালোইন অনুষ্ঠানে বেলুনের অংশ গলায় আটকে ১১ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

জন্মদিনের দুই দিন আগে হ্যালোইন অনুষ্ঠানে বেলুন গলায় আটকে শিশুর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ (ইউএসপিএস) প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থানের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পোস্ট অফিসে চাকরি, ওভারটাইমসহ নানা সুবিধা, আবেদন করবেন যেভাবে

নতুন ফেডারেল নিয়মের কারণে নিউ ইয়র্কে লাখো মানুষের মেডিকেইড হারানোর আশঙ্কা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে মেডিকেইড হারানোর আশঙ্কা, বাসিন্দাদের সহায়তায় ৩০ লাখ ডলারের উদ্যোগ

নিকি মিনাজকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি দেখতে চাওয়ার দাবি সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
নিকি মিনাজকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি করার দাবি টাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় র‍্যাপ সংগীতশিল্পী নিকি মিনাজকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দেখতে চান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এমন একটি দাবি সামনে এসেছে। তবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এ ধরনের আগ্রহ প্রকাশের কোনো নির্ভরযোগ্য বক্তব্য বা হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে বিষয়টিকে এখনই প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত কিংবা সম্ভাব্য নিয়োগের খবর হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।   হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্র। এই পদে থাকা ব্যক্তি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রদান করেন। ফলে পদটিতে কোনো পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   নিকি মিনাজ আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠেছেন এবং র‍্যাপ সংগীতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাঁর বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। সংগীতের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করেও আলোচনায় এসেছেন তিনি।   গত ৩০ অক্টোবর রাজনৈতিক ভাষ্যকার বেনি জনসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিকি মিনাজকে পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। জবাবে তিনি প্রস্তাবটিকে ভালো ধারণা বলে মন্তব্য করেন এবং বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে জানান। পরে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী বেনি জনসনকেও ওই পদের জন্য উপযুক্ত হতে পারেন বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট। ফলে তাঁর বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিক নিয়োগের ঘোষণা ছিল না।   এর আগে ২৫ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিকি মিনাজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে ধারণ করা ভিডিওতে মিনাজকে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি ও নেতৃত্বের প্রশংসা করতে দেখা যায়। ভিডিওটির সঙ্গে চুং রসিকতা করে লেখেন, তাঁরা সম্ভবত হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারিকে খুঁজে পেয়েছেন।   একই সময়ে মিশিগানের পোর্ট হিউরনে রিপাবলিকান পার্টির একটি নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের সঙ্গে অংশ নেন নিকি মিনাজ। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন জানান। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সমাবেশে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।   এদিকে অক্টোবরের মাঝামাঝি কেটি জাকারিয়ার সংক্ষিপ্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদটি শূন্য রয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন মুখপাত্র কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনায় নিকি মিনাজের নাম উঠে এলেও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।   ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে ৩১ অক্টোবর টিএমজেড ও প্যারেডসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিকি মিনাজকে প্রেস সেক্রেটারি করার ধারণা ট্রাম্প সরাসরি নাকচ করেননি। তবে তাঁর মন্তব্য কতটা গুরুত্বের সঙ্গে করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত নিকি মিনাজকে নিয়োগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ৯:৪৮
ট্রাম্পের দেওয়া ১ হাজার ডলারের চাইল্ড অ্যাকাউন্ট নিতে নারাজ বাবা, মেয়ের নামে জড়াতে চান না প্রেসিডেন্টের নাম

ট্রাম্পের দেওয়া ১ হাজার ডলারের চাইল্ড অ্যাকাউন্ট নিতে নারাজ বাবা, মেয়ের নামে জড়াতে চান না প্রেসিডেন্টের নাম

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ওক পার্কে  নারীকে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে নারীকে গুলি করে হত্যা, ঘটনাস্থলে মিলল ২৯টি গুলির খোসা

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে আকাশে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, ৫০০ ফুট নিচে পড়ে নি হত ব্রিটিশ শিক্ষার্থীসহ ৩

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে আকাশে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, ৫০০ ফুট নিচে পড়ে নি হত ব্রিটিশ শিক্ষার্থীসহ ৩

0 Comments