সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ফিলাডেলফিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় দক্ষিণ এশীয় বিয়ের শোভাযাত্রায় বিখ্যাত ব্যাটমোবাইলের রেপ্লিকা। ছবি: সংগৃহীত
ফিলাডেলফিয়ার বিয়েতে ব্যাটমোবাইল, মার্কেট স্ট্রিটে নজর কাড়লেন নবদম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় এক দক্ষিণ এশীয় বিয়ের শোভাযাত্রায় ব্যতিক্রমী চমক হয়ে হাজির হয়েছিল ব্যাটম্যান চলচ্চিত্রের বিখ্যাত ব্যাটমোবাইলের রেপ্লিকা। লেবার ডে উইকএন্ডে সেন্টার সিটির মার্কেট স্ট্রিটে আয়োজিত ওই বিয়ের বর ধ্রুব পাদোদারা ব্যাটমোবাইলে করে বিয়ের শোভাযাত্রায় অংশ নেন। সঙ্গে ছিলেন কনে ঋষিকা চৌহান। ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দেরও নজর কাড়ে।    ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিলি পেন জানিয়েছে, ব্যবহৃত গাড়িটি ১৯৮৯ সালে টিম বার্টনের ‘ব্যাটম্যান’ চলচ্চিত্রে দেখা ব্যাটমোবাইলের একটি রেপ্লিকা। ধ্রুব পাদোদারা ফিলাডেলফিয়ায় জন্ম নেওয়া একজন ফার্মাসিস্ট এবং ঋষিকা চৌহান ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা একজন অর্থোপেডিক সার্জারি রেসিডেন্ট। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল লোউস ফিলাডেলফিয়া হোটেলকে কেন্দ্র করে।    বিয়ের দিন সকালে মার্কেট স্ট্রিটের ১২তম ও ১৩তম স্ট্রিটের মধ্যবর্তী অংশে ‘বারাত’ বা বরের ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়। এজন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পারমিট নিয়ে রাস্তার নির্দিষ্ট অংশ বন্ধ করার ব্যবস্থা করেছিলেন আয়োজকেরা। সেই শোভাযাত্রাতেই ব্যাটমোবাইলের রেপ্লিকাটি ব্যবহার করা হয়।    দক্ষিণ এশীয় বিয়েতে বর সাধারণত সাজানো ঘোড়া, গাড়ি বা অন্য কোনো বিশেষ বাহনে করে বারাতে অংশ নেন। ধ্রুবের বন্ধুবান্ধবের অনেকেই এর আগে ল্যাম্বরগিনি বা ফেরারির মতো বিলাসবহুল গাড়িতে বারাত করেছেন। কিন্তু ধ্রুব চেয়েছিলেন একটু ভিন্ন কিছু। ব্যাটম্যানের প্রতি তাঁর আগ্রহ থেকেই মজা করে ব্যাটমোবাইল ব্যবহারের কথা তুলেছিলেন। পরে সেই ভাবনাই বাস্তবে রূপ নেয়।    কনে ঋষিকা এরপর অনলাইনে বিশেষ ধরনের চলচ্চিত্রভিত্তিক গাড়ি ভাড়ার প্রতিষ্ঠান খুঁজতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ‘ডিলোরিয়ান রেন্টাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১৯৮৯ সালের ব্যাটমোবাইলের রেপ্লিকাটি পাওয়া যায়। তাদের ওয়েডিং প্ল্যানারও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আগে কাজ করেছিলেন। তবে ব্যাটমোবাইল ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তারও প্রথম ছিল।    গাড়িটি বিয়ের অতিথিদের কাছ থেকেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছিল। ফলে শোভাযাত্রার সময় ব্যাটমোবাইল দেখা মাত্রই অতিথি ও পথচারীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে।    ফিলাডেলফিয়ার ব্লগার ও ফটোগ্রাফার হিউ ই ডিলন তাঁর ‘ফিলি চিটচ্যাট’ অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শহরের দক্ষিণ এশীয় বিয়ের শোভাযাত্রায় আগে হাতি, উট এমনকি মামার্সও দেখেছেন, কিন্তু ব্যাটমোবাইল এই প্রথম। ভিডিওতে দেখা যায়, কালো রঙের ব্যাটমোবাইল রেপ্লিকার পাশে বিয়ের পোশাকে দাঁড়িয়ে আছেন নবদম্পতি, আর আশপাশে পথচারীরাও থেমে দৃশ্যটি দেখছেন।    শুধু গাড়িটিই নয়, পুরো বিয়েটিও ছিল ব্যস্ত সূচির মধ্যে আয়োজন করা। ধ্রুব ও ঋষিকা প্রায় আট মাসের মধ্যে তাদের বড় ভারতীয় বিয়ের পরিকল্পনা শেষ করেন। আগের দিন লোউস হোটেলের ৩৩তম তলার টেরেসে একটি রিসেপশন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন সকালে বারাত এবং পরে মূল বিয়ের আয়োজন হয়।    ধ্রুব ও ঋষিকার পরিচয় হয়েছিল ডেটিং অ্যাপ হিঞ্জে। ঋষিকা পূর্ব উপকূলে আসার পর ধ্রুব ছিলেন তাঁর প্রথম ম্যাচ ও প্রথম ডেট। প্রায় দুই বছর পর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ওয়াইনারিতে ধ্রুব তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এরপরই শুরু হয় বিয়ের প্রস্তুতি।    ফিলাডেলফিয়ার মার্কেট স্ট্রিটে ব্যাটমোবাইলের উপস্থিতি সাময়িকভাবে যান চলাচলেও প্রভাব ফেলেছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারার জানিয়েছে, গাড়িটি কিছু সময়ের জন্য মার্কেট স্ট্রিটে যানজট তৈরি করেছিল। তবে আয়োজনটি অনুমতি নিয়েই করা হয়েছিল এবং বিয়ের শোভাযাত্রার জন্য নির্দিষ্ট অংশ বন্ধ ছিল।    ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ এশীয় বারাতের সঙ্গে জনপ্রিয় সংস্কৃতির এমন সংযোগই মূলত ঘটনাটিকে আলাদা করে তুলেছে। ঘোড়া বা সাধারণ বিলাসবহুল গাড়ির বদলে ব্যাটম্যানের ব্যাটমোবাইল বেছে নিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত পছন্দকে বিয়ের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশিয়েছেন এই দম্পতি। আর সেই আয়োজনই ফিলাডেলফিয়ার ব্যস্ত সেন্টার সিটিতে তৈরি করেছে এক ব্যতিক্রমী মুহূর্ত।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
ফিলাডেলফিয়ায় ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মারা যাওয়া শুভানন সাহিদ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় দীর্ঘ লড়াই শেষে না ফেরার দেশে ৩১ বছরের শুভানন সাহিদ

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মারা গেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ শুভানন সাহিদ। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ২টা ৭ মিনিটে পেনসিলভানিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৩১ বছর।   শুভানন সাহিদ ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ ডক্টর মোহাম্মাদ শহিদুল্লাহ এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সংগঠক ও BADV-এর সাধারণ সম্পাদক সাহিদা আফরোজ নিপুর বড় ছেলে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার, স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।   পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন শুভানন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি জীবনযুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩১ বছর বয়সেই থেমে গেল তাঁর জীবনপথ।   শুভাননের অকালমৃত্যুতে ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁকে কাছ থেকে চিনতেন এমন অনেকেই তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।   পরিবারের জন্য এই মৃত্যু তৈরি করেছে অপূরণীয় শূন্যতা। যে বয়সে একজন তরুণের সামনে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্ন ও সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা, সেই সময়েই কঠিন রোগের কাছে হার মানতে হলো শুভাননকে। তাঁর দীর্ঘ লড়াই ও অকালপ্রয়াণ স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর বেদনা তৈরি করেছে।   পরিবার, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে শুভাননের স্মৃতি দীর্ঘদিন অমলিন থাকবে। তাঁর চলে যাওয়ায় তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।   মরহুম শুভানন সাহিদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে আমেরিকা বাংলা পরিবার। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত বাবা-মা, পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন। আমিন।   মরহুম শুভানন সাহিদের নামাজে জানাজার সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম, ৫ লাখ ডলার কম দামে বাড়ি কিনতে ফিলাডেলফিয়ায় ছুটছেন বাসিন্দারা
নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম, ৫ লাখ ডলার কম দামে বাড়ি কিনতে ফিলাডেলফিয়ায় ছুটছেন বাসিন্দারা

আকাশছোঁয়া আবাসন ব্যয়ের হাত থেকে বাঁচতে নিউইয়র্কের বাসিন্দারা এখন তাদের পরিচিত প্রতিবেশী শহর ফিলাডেলফিয়াকে বেছে নিচ্ছেন। রিয়েল এস্টেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান রেডফিনের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিউইয়র্ক মেট্রো এলাকায় একটি সাধারণ বাড়ির দাম প্রায় ৮ লাখ ৩২ হাজার ডলার।   অন্যদিকে নিউইয়র্ক থেকে মাত্র ৯০ মাইল দক্ষিণের শহর ফিলাডেলফিয়ায় একটি বাড়ির দাম গড়ে ৩ লাখ ৯ হাজার ডলার। প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার ডলারের এই বিশাল ব্যবধানের কারণেই নিউইয়র্কারদের কাছে ফিলাডেলফিয়া এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য।   রেডফিনের তথ্যমতে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিউইয়র্ক ছেড়ে অন্য শহরে যাওয়ার খোঁজ করেছেন ২৭ হাজার ১৪৩ জনেরও বেশি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০০টি মেট্রো শহরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শহরত্যাগের হার, যেখানে ২৮ হাজার ৬৫২ জনের শহরত্যাগের হার নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস।   তবে নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়া মানুষদের কাছে ফিলাডেলফিয়ার পাশাপাশি ফ্লোরিডাও দারুণ জনপ্রিয়। স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, মিয়ামি ও টাম্পার মতো রৌদ্রোজ্জ্বল শহরগুলোতে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিউইয়র্ক থেকে পাড়ি জমাচ্ছেন।   রাজ্য হিসেবেও ফ্লোরিডা এখন স্থানান্তরের শীর্ষে রয়েছে; দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় ৩৮ হাজার ৯২২ জন মানুষ সেখানে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন, যা পরবর্তী তিনটি জনপ্রিয় রাজ্য অ্যারিজোনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেনেসির সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। অন্যদিকে, রাজ্যভিত্তিক শহরত্যাগের হারে ক্যালিফোর্নিয়ার পরই নিউইয়র্কের অবস্থান।   মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বর্তমানে ঘরে বসে বা হাইব্রিড মডেলে কাজের সুযোগ প্রসারিত হওয়ার কারণেই আমেরিকানদের মধ্যে নিজেদের রাজ্য ছেড়ে সস্তা ও দূরবর্তী এলাকাগুলোতে পাড়ি জমানোর এই নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে।   রেডফিন জানিয়েছে, দেশজুড়ে তাদের ব্যবহারকারীদের ১৮.৭ শতাংশই নিজেদের বর্তমান মেট্রো এলাকার বাইরে বাড়ি খুঁজছেন, যা ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ। যদিও বাসা খোঁজার এই প্রবণতা বেড়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে বাড়ি কেনার হার ধীর হওয়ায় বাস্তব স্থানান্তরের সংখ্যা এখনো মহামারি চলাকালীন সময়ের তুলনায় কম রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামের সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ
৩ হাজার ৪০০ ছাড়াল হাম আক্রান্ত, বিমানবন্দর ঘিরে নতুন সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যেই ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাম আক্রান্ত এক যাত্রী অবস্থান করায় সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ওই যাত্রী বিমানবন্দরে ছিলেন।   ফিলাডেলফিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বিমানবন্দরের বি ও এফ টার্মিনালে ছিলেন। পাশাপাশি সি, ডি ও ই টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত কিছু এলাকাতেও তার চলাচল ছিল। তবে তিনি বিমানবন্দরের বাইরে যাননি। ওই সময় এসব এলাকায় থাকা যাত্রী ও কর্মীদের নিজেদের হাম প্রতিরোধী কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশেষ করে যাদের টিকা নেওয়া হয়নি বা টিকার বিষয়ে নিশ্চিত নন, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। সম্ভাব্য সংক্রমণের পর ৫ অক্টোবর পর্যন্ত কারও হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়টি জানাতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এই সতর্কবার্তার আগে ১১ সেপ্টেম্বর ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালেও হামের সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও বিমানবন্দরের এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৪৭১টি নিশ্চিত হামের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে যেখানে ২ হাজার ২৮৯টি আক্রান্তের ঘটনা ছিল, চলতি বছর এরই মধ্যে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৩৯টি হামের প্রাদুর্ভাবও শনাক্ত করেছে সিডিসি।   অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে পেনসিলভেনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৭৪৫। এরপর রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা ৬৭০ এবং ইউটাহ ৫২৭। এছাড়া টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন, ফ্লোরিডা, ওহাইও ও অ্যারিজোনাতেও ১০০টির বেশি আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।   তবে কিছু অঙ্গরাজ্যে গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। টেক্সাসে ২০২৫ সালে ৮০৩টি আক্রান্তের ঘটনা থাকলেও এ বছর এখন পর্যন্ত ১৯২টি হয়েছে। অ্যারিজোনায় গত বছর ২২২টি আক্রান্তের বিপরীতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১১০টি ঘটনা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আরকানসাস, হাওয়াই, মিসিসিপি, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও নেভাডায় এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়নি।   হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল ও পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ এবং শরীরে র্যা শ দেখা দিতে পারে। র্যা শ সাধারণত প্রথম উপসর্গের তিন থেকে পাঁচ দিন পর দেখা দিয়ে মাথা থেকে শরীরের নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।   গুরুতর ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে এবং কোনো বদ্ধ জায়গায় ভাইরাস প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।   সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, হাম প্রতিরোধে এমএমআর টিকার একটি ডোজ প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দুটি ডোজ প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। টিকা নেওয়ার পরও বিরল ক্ষেত্রে সংক্রমণ হতে পারে, তবে সাধারণত উপসর্গ ও জটিলতার মাত্রা কম থাকে এবং অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকিও কমে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমএমআর টিকা নেওয়ার হারও কমেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এই হার ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীর এমএমআর টিকা সম্পন্ন করার প্রমাণপত্র ছিল না বলে সিডিসির তথ্য জানিয়েছে।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
পার্টির আনন্দ মুহূর্তেই আতঙ্কে, টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গুলিবিদ্ধ ২০ বছরে
পার্টির আনন্দ মুহূর্তেই আতঙ্কে, টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গুলিবিদ্ধ ২০ বছরে

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি বাড়ির পেছনের উঠানে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণ। সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টা ২৭ মিনিটে উত্তর ১৮তম সড়কের ২০০০ নম্বর এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।    ফিলাডেলফিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ তরুণের চিবুক, বুক ও পায়ে গুলি লাগে। পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে তাঁর অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, বাড়িটিতে তখন কোনো ধরনের পার্টি বা জমায়েত চলছিল। তবে সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, কী নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল কিংবা কে গুলি চালিয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    ঘটনার পর টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বার্তা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ তরুণ টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ নন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে ঘটেছে এবং তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফিলাডেলফিয়া পুলিশ।    পুলিশ এখন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং গুলি চালানো ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয় বা হামলার উদ্দেশ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রবীণ নিবাসে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি, তিনজন আহত, কর্মী আটক
ফিলাডেলফিয়ার দোকানে তরুণকে ধাওয়া করে গুলি, ১৮ বছর বয়সেই প্রাণ গেল

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় একটি কর্নার স্টোরের ভেতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত আনুমানিক ৮টা ৪৬ মিনিটে সামারডেল এলাকার ৮৯৯ মার্সেলা স্ট্রিটে ঘটনাটি ঘটে।    পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হামলাকারী ওই তরুণকে রাস্তা থেকে ধাওয়া করে দোকানের ভেতরে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাঁর মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।    ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৬টি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গুলিতে আশপাশের দুটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুলি বাড়িগুলোর দ্বিতীয়তলার শোবার ঘরের জানালা ভেদ করলেও ভেতরে থাকা কেউ আহত হননি।    ঘটনাস্থলের কাছে একটি চুরি যাওয়া ধূসর নিসান অলটিমা গাড়িও পাওয়া যায়। গাড়িটি একটি পার্ক করা গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছিল এবং সেটির ইঞ্জিন চালু ও দরজা খোলা অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।    এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং হত্যার উদ্দেশ্যও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। নিহত তরুণের পরিচয়ও তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
ফিলাডেলফিয়ায় রহস্যময় বাড়িতে নিখোঁজ ৫ নারী, তদন্তে একের পর এক ভ য়ংকর তথ্য
ফিলাডেলফিয়ায় রহস্যময় বাড়িতে নিখোঁজ ৫ নারী, তদন্তে একের পর এক ভ য়ংকর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার ওলনি এলাকার একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে চলা দীর্ঘ তদন্তে এবার নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফিলাডেলফিয়া পুলিশের তদন্তে ওই বাড়ির সঙ্গে নিখোঁজ পাঁচজন নারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ফিলাডেলফিয়া পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিভিআই জানিয়েছে, নিখোঁজ ওই নারীদের মধ্যে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন নিকোল ফুসারো, যিনি ২০১৮ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন।   পুলিশ কমিশনার কেভিন বেথেল জানিয়েছেন, তদন্তের এই পর্যায়ে চলতি সপ্তাহেই নতুন কোনো বড় আপডেট আসতে পারে। মূলত ৪৪ বছর বয়সী ইউজিন হর্শের বাড়িকে কেন্দ্র করেই গত জুন মাস থেকে এই ব্যাপক তল্লাশি ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।   এই মামলার সঙ্গে যুক্ত নিখোঁজ অন্য নারীদের মধ্যে রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল আমারান্দো, যিনি ২০১২ সালে ২২ বছর বয়সে নিখোঁজ হন এবং মারিবেল ফ্রেসেস, যিনি ২০১৮ সালে ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন। গত মাসে পুলিশ জানিয়েছিল যে, তদন্তে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু ছবি ও ভিডিওতে ওই দুই নারীকে দেখা গেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা আর বেঁচে নেই। তবে এখন পর্যন্ত তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।   এই রহস্যময় ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালে নিখোঁজ হওয়া ৩৫ বছর বয়সী ব্লেয়ার টনজেলির অন্তর্ধানের মধ্য দিয়ে। ইউজিন হর্শকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তার সঙ্গে থাকা এক নারীর কাছে টনজেলির নাম লেখা একটি পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, হর্শই তাকে ওই আইডি কার্ডটি দিয়েছিলেন।   এছাড়া ২০১৬ সালে নিখোঁজ হওয়া ৪৪ বছর বয়সী অ্যামি ম্যাকহেলকেও সর্বশেষ এই বাড়িতেই দেখা গিয়েছিল বলে তার পরিবার নিশ্চিত করেছে। ম্যাকহেল ছিলেন ইউজিন হর্শের প্রয়াত বাবা রেমন্ড হর্শের স্ত্রী।   তদন্তের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন রেমন্ড হর্শ। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারীরা এমন একটি ভিডিও উদ্ধার করেছেন, যেখানে রেমন্ডকে এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে দেখা গেছে; যদিও ওই নারীর পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বর্তমানে আগ্নেয়াস্ত্র আইনের মামলায় ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন ইউজিন হর্শ।   গত ১৯ জুন রাতে ইনডিপেনডেন্স মলের কাছে একটি কালো বিএমডব্লিউ গাড়ি সন্দেহজনকভাবে পার্ক করা অবস্থায় দেখে এক পার্ক রেঞ্জার তাদের পরিচয় জানতে চাইলে পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ রাসায়নিক পদার্থ, মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র এবং পানির পাইপের সঙ্গে যুক্ত একটি বড় ড্রাম উদ্ধার করে। বাড়ির সামনের মাটির নিচের পাইপগুলোও পরীক্ষার জন্য তুলে নেওয়া হয়েছে।   এছাড়া সিরিয়াল কিলার টেড বান্ডি ও লাশ গুম করার পদ্ধতি নিয়ে লেখা একটি নোটও ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। গত জুলাইয়ের শুরুতে অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের দায়ে ইউজিন হর্শের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রশিক্ষিত কুকুরের দেওয়া বিশেষ সংকেতের পরই মূলত ওই দুই যাত্রীর কাছে থাকা নগদ অর্থের সন্ধান পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত
বিমানে ওঠার আগেই কুকুরের ঘ্রাণে গোপনে রাখা ১৯ হাজার ডলার জব্দ করল ইউএস কাস্টমস

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রগামী দুই যাত্রীর কাছ থেকে ঘোষণা না করা ১৯ হাজার ডলার জব্দ করেছে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। প্রশিক্ষিত কুকুরের সংকেতের পর তাদের কাছে থাকা বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের সন্ধান পাওয়া যায়।    ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার। সিবিপির তথ্য অনুযায়ী, ৩ বছর বয়সী চকলেট রঙের ল্যাব্রাডর কুকুর নাইট্রো সান্তো দোমিঙ্গোগামী একটি ফ্লাইটে আলাদাভাবে ওঠার চেষ্টা করা এক নারী ও এক পুরুষের বিষয়ে কর্মকর্তাদের সতর্ক করে। নাইট্রোকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।    সিবিপি জানায়, ৬৩ বছর বয়সী ওই নারী তার কাছে ৯ হাজার ডলার এবং ৭৯ বছর বয়সী ওই পুরুষ ৫ হাজার ডলার থাকার কথা জানান। পরে তাদের সিবিপির পরিদর্শনকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে তারা প্রথমে একসঙ্গে ভ্রমণের কথা অস্বীকার করলেও কর্মকর্তারা দেখতে পান, তাদের লাগেজ একই ধরনের। পরে দুজনই একসঙ্গে ভ্রমণের কথা স্বীকার করেন।    তল্লাশিতে তাদের কাছে মোট ১৯ হাজার ৬৮১ ডলার পাওয়া যায়। এর মধ্যে মানবিক কারণে ৬৮১ ডলার ফেরত দেওয়া হয় এবং বাকি ১৯ হাজার ডলার জব্দ করে সিবিপি। পরে ওই দুই যাত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।    সিবিপির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অর্থের পরিমাণ ভাগ করে এবং আলাদাভাবে ভ্রমণের দাবি করে ওই দুই যাত্রী মার্কিন মুদ্রা ঘোষণার নিয়ম এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। ফিলাডেলফিয়া এলাকার ভারপ্রাপ্ত বন্দর পরিচালক এলিয়ট অর্টিজ বলেন, প্রশিক্ষিত কুকুর ও কর্মকর্তাদের তৎপরতায় বিষয়টি ধরা পড়ে।    মার্কিন আইনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা দেশ থেকে বের হওয়ার সময় ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ বা আর্থিক উপকরণ বহন করলে তা ঘোষণা করতে হয়। এ জন্য ফিনসেন-১০৫ ফরম জমা দিতে হয়। নিয়ম না মানলে অর্থ জব্দের পাশাপাশি দেওয়ানি বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।    সিবিপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সংস্থাটির কর্মকর্তা ও এজেন্টরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার ঘোষণা না করা বা অবৈধ মুদ্রা জব্দ করেছেন। 

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
ফিলাডেলফিয়ার ‘হাউস অব হররস’ নামের সেই বাড়িতে মিলল নারীকে শ্বাসরোধে হ ত্যার ভিডিও
ফিলাডেলফিয়ার ‘হাউস অব হররস’ নামের সেই বাড়িতে মিলল নারীকে শ্বাসরোধে হ ত্যার ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ি, যা ইতোমধ্যে একাধিক নারী নিখোঁজের ঘটনায় 'হাউস অব হররস' বা আতঙ্কের বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, সেখান থেকে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার একটি রোমহর্ষক ভিডিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রেমন্ড 'আরসি' হর্স নামের প্রয়াত এক পর্নোগ্রাফারের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে জব্দ করা একটি হার্ড ড্রাইভে এই 'স্ন্যাফ মুভি' (বাস্তব হত্যার দৃশ্য সংবলিত ভিডিও) পাওয়া গেছে।   ভিডিওটিতে রেমন্ডকে তার ওই বাড়িতে এক নারীকে শ্বাসরোধ করতে দেখা যায়। নিহত ওই নারীর পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও পুলিশ তার এক আত্মীয়কে বিষয়টি অবহিত করেছে। তবে, এই বাড়িটির সাথে সংশ্লিষ্ট যে পাঁচজন নিখোঁজ নারীর নাম উঠে এসেছে, তাদের কারও দেহাংশ এখন পর্যন্ত সেখানে পাওয়া যায়নি।   রেমন্ড হর্স তার ছেলে ইউজিন হর্সের (৪৪) সাথে ফিলাডেলফিয়ার ওলনি এলাকার এই বাড়িতে থাকতেন। ২০২৫ সালের মে মাসে ৮২ বছর বয়সে রেমন্ড মারা যান। গত জুনে ইউজিনকে তার এক নারী সঙ্গীসহ গ্রেপ্তার করার পরই মূলত এই বাড়ির বীভৎস সব ইতিহাস সামনে আসতে শুরু করে।   গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছে মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ভুয়া ডিইএ ব্যাজ এবং ব্লেয়ার টনজেল্লি নামক ২০২৩ সাল থেকে নিখোঁজ এক নারীর পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। এরপর পুলিশ ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি ভস্মীভূত দেহাবশেষের পাত্র (আর্ন), ২০টির বেশি রাসায়নিক পদার্থ ভর্তি কনটেইনার এবং অন্তত ৫০টি হার্ড ড্রাইভ জব্দ করে।   এসব হার্ড ড্রাইভে সিরিয়াল কিলার ও লাশ গুমের বর্ণনা লেখা প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার পাণ্ডুলিপি, ৬ লাখ ছবি এবং ৭০ হাজারেরও বেশি ভিডিও পাওয়া যায়, যার মধ্যে এই স্ন্যাফ মুভিটিও ছিল। পুলিশের ধারণা, এই বিপুল ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে নিখোঁজ ওই পাঁচ নারীর মধ্যে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।   গত আগস্ট মাসে পুলিশ নিশ্চিত করেছিল যে, হার্ড ড্রাইভে মারিবেল ফ্রেসেস (২০১৮ সাল থেকে নিখোঁজ) এবং গ্যাব্রিয়েল আমারান্দো (২০১২ সাল থেকে নিখোঁজ) নামের দুই নারীর মৃতদেহ ও তাদের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য পাওয়া গেছে।   রেমন্ড হর্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি শহরের মাদকাসক্ত ও দুর্বল নারীদের ফাঁদে ফেলে বাড়িতে আনতেন এবং সিরিয়াল কিলারের মতো তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ধারণ করতেন।   প্রাক্তন এফবিআই প্রোফাইলার জেমস আর. ফিটজেরাল্ড জানিয়েছেন, রেমন্ডের প্রাক্তন স্ত্রী অ্যামি ম্যাকহেলও ২০১৬ সাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ছেলে ইউজিনের বিরুদ্ধে বর্তমানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ভুয়া পরিচয়পত্রের ফেডারেল মামলা চললেও, বাবা বা ছেলে কারও বিরুদ্ধেই এখন পর্যন্ত সরাসরি হত্যার কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
'চাকি’ মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে ঘিরে রহস্য, লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকার আশঙ্কা
'চাকি’ মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে ঘিরে রহস্য, লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকার আশঙ্কা

ফিলাডেলফিয়ায় ‘চাকি’ চরিত্রের আদলের মুখোশ পরে পথচারীদের ভয় দেখানো ও হামলার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী জাইমির হিউজকে খুঁজছে পুলিশ। পুলিশের আশঙ্কা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর তিনি পেনসিলভানিয়া ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন।    ফিলাডেলফিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১২ আগস্ট ভোরে সেন্টার সিটি এলাকায় একাধিক ব্যক্তির কাছে গিয়ে তাদের ভয় দেখানো, ধাওয়া করা এবং এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ রয়েছে হিউজের বিরুদ্ধে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই সময় অন্তত ১৫ থেকে ১৬ জনকে লক্ষ্য করা হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।    এক ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এক নারী দৌড়ানোর সময় হিউজ তার পিছু নেন বলে অভিযোগ। তার হাতে থাকা একটি হাত পেছনে রাখা ছিল এবং তিনি ওই নারীকে মৃত্যুর বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আতঙ্কে দৌড়ে পালানোর সময় ওই নারী গুরুতরভাবে পায়ে আহত হন এবং চিকিৎসা নিতে হয়।    পুলিশের দাবি, হিউজ নিজের মুঠোফোনে এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা এ ধরনের ভিডিও থেকে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেও তিনি ঘটনাগুলো ধারণ করে থাকতে পারেন। তবে তার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।  হিউজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশ বলছে, তার লস অ্যাঞ্জেলেস ও লাস ভেগাসে যাতায়াতের সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি প্রায়ই এসব এলাকায় যাতায়াত করতেন। ফলে তিনি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।    তার সঠিক অবস্থান এখনো জানা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাদার বিভিন্ন পরিবহনকেন্দ্র এবং সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে নজরদারি চালাচ্ছে।   পুলিশের পক্ষ থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার বাসিন্দাদের তাকে দেখলে কাছে না গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
ফিলাডেলফিয়ায় তীব্র বজ্রঝড়ে সড়কের ওপর উপড়ে পড়ে বিশাল গাছ। ছবি: সংগৃহীত
আকস্মিক বজ্রঝড়ে লন্ডভন্ড ফিলাডেলফিয়া, উপড়ে পড়ল অসংখ্য গাছ; বিদ্যুৎহীন হাজারো গ্রাহক

ফিলাডেলফিয়া, ১১ জুলাই—শনিবার বিকেলে আকস্মিক তীব্র বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ায় ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র কয়েক মিনিটের এই ঝড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে, সড়ক অবরুদ্ধ হয়, একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাজারো গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।   বিকেল প্রায় ৩টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট ফিলাডেলফিয়া, ইউনিভার্সিটি সিটি, সেন্টার সিটি, নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়া, মাউন্ট এয়ারি, চেস্টনাট হিল, জার্মানটাউন এবং সাউথ ফিলাডেলফিয়ার বিভিন্ন অংশ। প্রবল বাতাসে বহু পুরোনো গাছ ভেঙে সড়ক ও পার্কিং এলাকায় পড়ে, ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   চেস্টনাট স্ট্রিট এলাকার একটি স্থানে বিশাল একটি গাছ সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে পার্ক করে রাখা কয়েকটি গাড়িকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।   ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান পিকোর আউটেজ ট্র্যাকার অনুযায়ী, ঝড়ের পর হাজারো গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে কয়েক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।   এদিকে ফিলাডেলফিয়ার বিভিন্ন সড়কে ভেঙে পড়া গাছ ও ডালপালা সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ফায়ার বিভাগ, জরুরি সেবাকর্মী, সিটি কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা একযোগে কাজ শুরু করেছেন। বাসিন্দাদের ভেঙে পড়া গাছ, ছিঁড়ে যাওয়া বিদ্যুৎ লাইন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ঝড়ের সময় প্রবল বাতাস, বজ্রপাত এবং অল্প সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতে অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়েস্ট ফিলাডেলফিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে উপড়ে পড়া গাছ, ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক বাসিন্দা ঝড়টির তীব্রতাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী বজ্রঝড় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এ ধরনের শক্তিশালী বজ্রঝড়ের প্রবণতা বেড়ে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ঝড়ের সতর্কতা জারি হলে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করা, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ লাইনের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ফুড ডেলিভারির সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হকের জানাজা আগামীকাল

নিহত মাহফুজুল হকের নামাজে জানাজা আগামীকাল দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ফিলাডেলফিয়ার টাইসন মসজিদে (১৪২১ Tyson Avenue, Philadelphia, PA 19111) অনুষ্ঠিত হবে। জীবিকার তাগিদে ডোরড্যাশে কাজ শুরুর আগে তিনি উইলো গ্রোভ এলাকার আল-শাম রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। অকালে প্রাণ হারানো এই প্রবাসী মৃত্যুকালে স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন।   স্থানীয় পত্রিকা ফিলাডেলফিয়া পেপারের সম্পাদক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (আরিফ) জানান, এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবারসহ পুরো কমিউনিটি গভীরভাবে শোকাহত। শোকস্তব্ধ প্রবাসীরা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।   উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় গত মঙ্গলবার রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে এক মর্মান্তিক হামলায় প্রাণ হারান ৪৩ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রমতে, শহরের কিংসেসিং এলাকার সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ ব্লকে ডোরড্যাশের মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে মাহফুজুল হকের ব্যবহৃত গাড়িটি ইঞ্জিন চালু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়া সেখান থেকে ডোরড্যাশের ডেলিভারি ব্যাগ এবং বেশ কয়েকটি গুলির ব্যবহৃত খোসাও আলামত হিসেবে সংগ্রহ করেছিলেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই সন্দেহ করছেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে।   তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বাংলাদেশের রাজশাহীর সন্তান মাহফুজুল হক সপরিবারে ফিলাডেলফিয়ার নর্থইস্ট এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে গোটা প্রবাসী কমিউনিটিতে শোকের পাশাপাশি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হক

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় খাবার সরবরাহের কাজ করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী মো. মাহফুজুল হক (৪৩)। তিনি বাংলাদেশের রাজশাহীর সন্তান এবং বর্তমানে ফিলাডেলফিয়ার নর্থইস্ট এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে ফিলাডেলফিয়ার কিংসেসিং এলাকার সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ ব্লকে ডোরড্যাশের মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে মাহফুজুল হকের ব্যবহৃত গাড়িটি চালু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডোরড্যাশের ডেলিভারি ব্যাগ এবং গুলির ব্যবহৃত খোসাও উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা। কমিউনিটি সূত্রের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি।   স্থানীয় পত্রিকা ফিলাডেলফিয়া পেপারের সম্পাদক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (আরিফ) আমেরিকা বাংলাকে জানান, ঘটনাটি মঙ্গলবার রাতে ঘটেছে। তিনি বলেন, নিহতের পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যরা গভীর শোকাহত। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাহফুজুল হকের জানাজার সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্রেই দাফন করা হবে—সেই সিদ্ধান্তও এখনো হয়নি।   কমিউনিটি সূত্র জানায়, মাহফুজুল হক এর আগে উইলো গ্রোভ এলাকার আল-শাম রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি পরে ডোরড্যাশে খাবার সরবরাহের কাজ শুরু করেন। তিনি স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন।   ঘটনার পর ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। প্রবাসীরা দ্রুত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
পোকেমন কার্ড। ছবি: সংগৃহীত
ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে ২৪ হাজার ডলারের বিরল পোকেমন কার্ড কিনতে গিয়ে ফিলাডেলফিয়ার যুবক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ সদর দপ্তরের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনে ২৪ হাজার ২০০ ডলারের একটি বিরল পোকেমন সংগ্রহযোগ্য কার্ড কেনার সময় ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করার অভিযোগে ফিলাডেলফিয়ার এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ব্যক্তি ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ২৪ হাজার ২০০ ডলারে একটি বিরল পোকেমন কার্ড বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। পরে ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের পর উভয় পক্ষ নিরাপদ লেনদেনের উদ্দেশ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনে দেখা করেন।   লেনদেনের সময় ক্রেতা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন। তবে পরে যাচাই করে দেখা যায়, অর্থ পরিশোধে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি ভুয়া ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পুলিশকে অভিযোগ জানান। তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ২৬ বছর বয়সী ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা ক্রিশ্চিয়ান এলামকে শনাক্ত করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরি এবং কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।   ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ বিভাগ জানায়, তাদের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনটি নিউ জার্সির মার্লটন এলাকার ৯৮৪ টাকারটন রোডে অবস্থিত পুলিশ সদর দপ্তরের লবিতে রয়েছে। এটি দিনে ২৪ ঘণ্টা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং পুরো এলাকা সার্বক্ষণিক ভিডিও নজরদারির আওতায় রয়েছে।   ঘটনার পর পুলিশ জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, নিরাপদ স্থানে লেনদেন করলেও উচ্চমূল্যের পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত না হয়ে কোনো পণ্য হস্তান্তর করা উচিত নয়। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা একাধিকবার যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।   পুলিশ আরও জানিয়েছে, সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনের উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ পরিবেশে ক্রেতা ও বিক্রেতার সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়া। তবে পুলিশ সদস্যরা কোনো লেনদেনে অংশ নেন না, সাক্ষী হিসেবে থাকেন না কিংবা আইনি পরামর্শও দেন না। এছাড়া অস্ত্র বা মাদক-সংক্রান্ত কোনো লেনদেন সেখানে অনুমোদিত নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ভবিষ্যতের মানুষের জন্য মাটির ১৫ ফুট গভীরে এক টন ওজনের এক ‘রহস্যময় বাক্স’ লুকাচ্ছে আমেরিকা!

আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি বা সেমি কুইনসেন্টেনিয়াল (Semiquincentennial) উপলক্ষে যখন পুরো দেশ জুড়ে নানা উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, তখন ভবিষ্যতের ৫০০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীকে লক্ষ্য করে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে ফিলাডেলফিয়ার ইন্ডিপেনডেন্স ন্যাশনাল হিস্টোরিক্যাল পার্কে মাটির ১৫ ফুট গভীরে পুঁতে রাখা হবে একটি ঐতিহাসিক ‘টাইম ক্যাপসুল’। কংগ্রেসের ২০১৬ সালের আইনি ম্যান্ডেট অনুযায়ী, ঠিক ২৫০ বছর পর অর্থাৎ ২২৭৬ সালের ৪ জুলাই আমেরিকার ৫০০তম জন্মদিনে এটি আবার মাটি খুঁড়ে বের করা হবে। যার গায়ে স্পষ্ট লেখা থাকবে—‘৪ জুলাই, ২২৭৬ সালের আগে খোলা নিষেধ’।   আমেরিকার সব কটি অঙ্গরাজ্য, অঞ্চল এবং ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পাঠানো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বস্তু, বই, পান্ডুলিপি ও স্মারক দিয়ে সাজানো হচ্ছে এই টাইম ক্যাপসুল। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেমন দেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়, ঠিক তেমনি আমেরিকার এই ক্যাপসুলেও স্থান পাচ্ছে তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির নানা প্রতীক। এর মধ্যে যেমন থাকছে একটি আধুনিক ‘আইফোন ১৭’ (iPhone 17), তেমনি থাকছে নেটিভ আমেরিকানদের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম, শিক্ষার্থীদের লেখা প্রবন্ধ, কয়েন ও পিন এবং একটি কোকা-কোলার বোতল। এমনকি আমেরিকার গৃহযুদ্ধে ইউনিয়ন সৈন্যদের সাথে থাকা একটি ঈগল পাখির পালকও সংরক্ষণ করা হচ্ছে এতে।   তবে সবচেয়ে বড় চমক থাকছে লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের সৌজন্যে পাঠানো আমেরিকার মূল ঘোষণাপত্র বা ফাউন্ডিং ডকুমেন্টসগুলোতে। সম্পূর্ণ নতুন ও উচ্চ প্রযুক্তির ‘সিন্থেটিক ডিএনএ’ (Synthetic DNA) কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল কপি হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে থমাস জেফারসনের লেখা স্বাধীনতার ঘোষণার মূল খসড়া, আব্রাহাম লিংকনের হাতের একটি প্রতিরূপ এবং আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত ‘দ্য স্টার-স্প্যানগেল্ড ব্যানার’-এর একটি বিশেষ রেকর্ডিং। একটি ছোট থিম্বলের (Thimble) আকারের পাত্রে এই বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ইতিহাস কোড করে রাখা হচ্ছে।   বিগত ২৫০ বছরের ইতিহাসে এত দীর্ঘ সময় টিকে থাকার মতো টাইম ক্যাপসুল তৈরি করা হয়নি। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি (NIST)-এর গবেষকেরা জানিয়েছেন, মাটির নিচে পানি ঢুকে পড়ার কারণে সাধারণত বেশিরভাগ টাইম ক্যাপসুল নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই ক্যাপসুলটিকে সুরক্ষিত রাখতে এক টন ওজনের স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি একটি সিলিন্ডার আকৃতির নকশা বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের গবেষকেরা এমন সব বস্তু বাতিল করে দিয়েছেন যা পচে যেতে পারে বা ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি করতে পারে। ফলে কোনো চামড়ার জিনিস বা খাবার আইটেম এতে স্থান পায়নি।   আমেরিকার প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব স্মারকের মধ্যে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া পাঠিয়েছে কয়লা দিয়ে খোদাই করা তাদের রাজ্যের একটি মানচিত্র এবং ওহাইও পাঠিয়েছে রাইট ভাইদের ঐতিহাসিক বিমানের একটি কাপড়ের টুকরো, যার সাথে রয়েছে অরভিল রাইটের আসল বিবৃতি। এই প্রজেক্টের ব্যবস্থাপক টম মেডেমা জানান, এই টাইম ক্যাপসুলটি মূলত ভবিষ্যতের মানুষের সাথে যোগাযোগের একটি মাধ্যম এবং এর মাধ্যমে আমেরিকার স্বাধীনতার অবিনশ্বর আদর্শগুলো আগামী প্রজন্মের কাছে অক্ষুণ্ন থাকবে।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াতে ফোন ছিনতাই ঠেকাতে গিয়ে গুলিতে নিহত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় মোবাইল ফোন ছিনতাই ঠেকাতে গিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছেন ২২ বছর বয়সী পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিলি শ্মিট। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তার বাবা বলেছেন, তিনি চান ছেলের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।   স্থানীয় সময় শনিবার ভোর প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ ফিলাডেলফিয়ায় পরিবারের বাড়ির অদূরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, বিলি শ্মিট বন্ধুদের সঙ্গে একটি বারে এনবিএ ফাইনাল খেলা দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় দুই মুখোশধারী ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোন ছিনতাইয়ের পর দুই সন্দেহভাজন পালিয়ে গেলে বিলি তাদের পিছু নেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, একজন সন্দেহভাজন তার মুখোমুখি হওয়ার পর দুজনই দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং বিলি তাদের ধাওয়া করেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে একজন ছিনতাইকারী মোবাইল ফোনটি রাস্তায় ফেলে দেয় এবং একটি পার্ক করা গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। অন্যজন ঘুরে দাঁড়িয়ে বিলির বুকে গুলি করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে বিলি বলছিলেন, “আমার ফোনটা ফেরত দাও।”   বিলির বাবা বিল শ্মিট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি ওই দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে চাই এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে চাই।”   তিনি বলেন, “সে খুব ভালো একজন মানুষ ছিল। সবার প্রতি তার আন্তরিকতা ছিল। সে কখনও কারও ক্ষতি করেনি। এমন একজন মানুষের এভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক।” ঘটনার পর বিলিকে দ্রুত Penn Presbyterian Medical Center-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   বিলির বোন আনা শ্মিট বলেন, “কেউ কীভাবে আমার এবং আমার পরিবারের সঙ্গে এমনটা করতে পারে, আমি বুঝতে পারছি না। আমি তাকে খুব মিস করছি।”   পরে বিলির বাবা রাস্তার পাশে একটি গাড়ির নিচে পড়ে থাকা তার মোবাইল ফোনটি খুঁজে পান এবং সেটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।   তিনি বলেন, “ফোনটি ছিনতাই হওয়ার পর সে তাদের পিছু নিয়েছিল, এটা জেনে আমি বিস্মিত হয়েছি। পরে জানতে পারি, মোড়ের কাছে পৌঁছালে আরেকজন বেরিয়ে এসে তাকে গুলি করে।” এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ ও প্রসিকিউটররা আশা করছেন, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনে থাকা ডিএনএ নমুনা সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।   ফিলাডেলফিয়ার সহকারী জেলা অ্যাটর্নি বিল ফ্রিটজে বলেন, তদন্তকারীরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন এবং ঘটনাস্থলে পুনরায় গিয়ে সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাবাস্সুম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় ছিনতাইকারীর গুলিতে নিহত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় ছিনতাইকারীদের হাত থেকে নিজের মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ২২ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের। নিহতের নাম বিলি শ্মিট। তিনি পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির (পেন স্টেট) ডিজিটাল জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং আগামী ডিসেম্বরেই তার স্নাতক সম্পন্ন করার কথা ছিল। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাউথ ফিলাডেলফিয়ায় নিজের বাড়ির কাছেই এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, বন্ধুদের সঙ্গে এনবিএ ফাইনাল খেলা দেখা শেষে রাতে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন বিলি শ্মিট। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তার পথ রোধ করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিলি শ্মিট তার ফোনটি ফেরত পাওয়ার জন্য ছিনতাইকারীদের পিছু নিয়েছিলেন। এ সময় তাকে 'আমার ফোন ফেরত দাও' বলে আকুতি জানাতে শোনা যায়।   কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই এক ছিনতাইকারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ফোনটি একটি গাড়ির নিচে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পেন প্রেসবাইটেরিয়ান মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   সামান্য একটি ফোনের জন্য এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের বাবা বিল শ্মিট সংবাদমাধ্যমের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ছেলে অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিল এবং কখনো কারো কোনো ক্ষতি বা বিরক্তি তৈরি করেনি। তিনি আরও বলেন, "ফোন চুরি যাওয়ার পর সে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেছিল ভেবে আমি অবাক হচ্ছি। ধারণা করছি, সে যখন রাস্তার মোড়ে পৌঁছায়, তখন আরেকজন বেরিয়ে এসে তাকে গুলি করে।"   এদিকে পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি এক শোকবার্তায় বিলি শ্মিটের অকাল মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। পুলিশ এখনো এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, তবে অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বিলির প্রতিবেশী এবং পরিবার অবিলম্বে এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন এবং অপরাধীদের শনাক্তে যেকোনো তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০