যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ সদর দপ্তরের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনে ২৪ হাজার ২০০ ডলারের একটি বিরল পোকেমন সংগ্রহযোগ্য কার্ড কেনার সময় ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করার অভিযোগে ফিলাডেলফিয়ার এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ব্যক্তি ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ২৪ হাজার ২০০ ডলারে একটি বিরল পোকেমন কার্ড বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। পরে ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের পর উভয় পক্ষ নিরাপদ লেনদেনের উদ্দেশ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনে দেখা করেন। লেনদেনের সময় ক্রেতা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন। তবে পরে যাচাই করে দেখা যায়, অর্থ পরিশোধে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি ভুয়া ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পুলিশকে অভিযোগ জানান। তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ২৬ বছর বয়সী ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা ক্রিশ্চিয়ান এলামকে শনাক্ত করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরি এবং কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ বিভাগ জানায়, তাদের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনটি নিউ জার্সির মার্লটন এলাকার ৯৮৪ টাকারটন রোডে অবস্থিত পুলিশ সদর দপ্তরের লবিতে রয়েছে। এটি দিনে ২৪ ঘণ্টা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং পুরো এলাকা সার্বক্ষণিক ভিডিও নজরদারির আওতায় রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, নিরাপদ স্থানে লেনদেন করলেও উচ্চমূল্যের পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত না হয়ে কোনো পণ্য হস্তান্তর করা উচিত নয়। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা একাধিকবার যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে তারা। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনের উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ পরিবেশে ক্রেতা ও বিক্রেতার সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়া। তবে পুলিশ সদস্যরা কোনো লেনদেনে অংশ নেন না, সাক্ষী হিসেবে থাকেন না কিংবা আইনি পরামর্শও দেন না। এছাড়া অস্ত্র বা মাদক-সংক্রান্ত কোনো লেনদেন সেখানে অনুমোদিত নয়।
আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি বা সেমি কুইনসেন্টেনিয়াল (Semiquincentennial) উপলক্ষে যখন পুরো দেশ জুড়ে নানা উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, তখন ভবিষ্যতের ৫০০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীকে লক্ষ্য করে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে ফিলাডেলফিয়ার ইন্ডিপেনডেন্স ন্যাশনাল হিস্টোরিক্যাল পার্কে মাটির ১৫ ফুট গভীরে পুঁতে রাখা হবে একটি ঐতিহাসিক ‘টাইম ক্যাপসুল’। কংগ্রেসের ২০১৬ সালের আইনি ম্যান্ডেট অনুযায়ী, ঠিক ২৫০ বছর পর অর্থাৎ ২২৭৬ সালের ৪ জুলাই আমেরিকার ৫০০তম জন্মদিনে এটি আবার মাটি খুঁড়ে বের করা হবে। যার গায়ে স্পষ্ট লেখা থাকবে—‘৪ জুলাই, ২২৭৬ সালের আগে খোলা নিষেধ’। আমেরিকার সব কটি অঙ্গরাজ্য, অঞ্চল এবং ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পাঠানো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বস্তু, বই, পান্ডুলিপি ও স্মারক দিয়ে সাজানো হচ্ছে এই টাইম ক্যাপসুল। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেমন দেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়, ঠিক তেমনি আমেরিকার এই ক্যাপসুলেও স্থান পাচ্ছে তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির নানা প্রতীক। এর মধ্যে যেমন থাকছে একটি আধুনিক ‘আইফোন ১৭’ (iPhone 17), তেমনি থাকছে নেটিভ আমেরিকানদের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম, শিক্ষার্থীদের লেখা প্রবন্ধ, কয়েন ও পিন এবং একটি কোকা-কোলার বোতল। এমনকি আমেরিকার গৃহযুদ্ধে ইউনিয়ন সৈন্যদের সাথে থাকা একটি ঈগল পাখির পালকও সংরক্ষণ করা হচ্ছে এতে। তবে সবচেয়ে বড় চমক থাকছে লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের সৌজন্যে পাঠানো আমেরিকার মূল ঘোষণাপত্র বা ফাউন্ডিং ডকুমেন্টসগুলোতে। সম্পূর্ণ নতুন ও উচ্চ প্রযুক্তির ‘সিন্থেটিক ডিএনএ’ (Synthetic DNA) কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল কপি হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে থমাস জেফারসনের লেখা স্বাধীনতার ঘোষণার মূল খসড়া, আব্রাহাম লিংকনের হাতের একটি প্রতিরূপ এবং আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত ‘দ্য স্টার-স্প্যানগেল্ড ব্যানার’-এর একটি বিশেষ রেকর্ডিং। একটি ছোট থিম্বলের (Thimble) আকারের পাত্রে এই বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ইতিহাস কোড করে রাখা হচ্ছে। বিগত ২৫০ বছরের ইতিহাসে এত দীর্ঘ সময় টিকে থাকার মতো টাইম ক্যাপসুল তৈরি করা হয়নি। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি (NIST)-এর গবেষকেরা জানিয়েছেন, মাটির নিচে পানি ঢুকে পড়ার কারণে সাধারণত বেশিরভাগ টাইম ক্যাপসুল নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই ক্যাপসুলটিকে সুরক্ষিত রাখতে এক টন ওজনের স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি একটি সিলিন্ডার আকৃতির নকশা বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের গবেষকেরা এমন সব বস্তু বাতিল করে দিয়েছেন যা পচে যেতে পারে বা ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি করতে পারে। ফলে কোনো চামড়ার জিনিস বা খাবার আইটেম এতে স্থান পায়নি। আমেরিকার প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব স্মারকের মধ্যে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া পাঠিয়েছে কয়লা দিয়ে খোদাই করা তাদের রাজ্যের একটি মানচিত্র এবং ওহাইও পাঠিয়েছে রাইট ভাইদের ঐতিহাসিক বিমানের একটি কাপড়ের টুকরো, যার সাথে রয়েছে অরভিল রাইটের আসল বিবৃতি। এই প্রজেক্টের ব্যবস্থাপক টম মেডেমা জানান, এই টাইম ক্যাপসুলটি মূলত ভবিষ্যতের মানুষের সাথে যোগাযোগের একটি মাধ্যম এবং এর মাধ্যমে আমেরিকার স্বাধীনতার অবিনশ্বর আদর্শগুলো আগামী প্রজন্মের কাছে অক্ষুণ্ন থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় মোবাইল ফোন ছিনতাই ঠেকাতে গিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছেন ২২ বছর বয়সী পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিলি শ্মিট। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তার বাবা বলেছেন, তিনি চান ছেলের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। স্থানীয় সময় শনিবার ভোর প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ ফিলাডেলফিয়ায় পরিবারের বাড়ির অদূরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, বিলি শ্মিট বন্ধুদের সঙ্গে একটি বারে এনবিএ ফাইনাল খেলা দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় দুই মুখোশধারী ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোন ছিনতাইয়ের পর দুই সন্দেহভাজন পালিয়ে গেলে বিলি তাদের পিছু নেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, একজন সন্দেহভাজন তার মুখোমুখি হওয়ার পর দুজনই দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং বিলি তাদের ধাওয়া করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে একজন ছিনতাইকারী মোবাইল ফোনটি রাস্তায় ফেলে দেয় এবং একটি পার্ক করা গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। অন্যজন ঘুরে দাঁড়িয়ে বিলির বুকে গুলি করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে বিলি বলছিলেন, “আমার ফোনটা ফেরত দাও।” বিলির বাবা বিল শ্মিট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি ওই দুই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে চাই এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে চাই।” তিনি বলেন, “সে খুব ভালো একজন মানুষ ছিল। সবার প্রতি তার আন্তরিকতা ছিল। সে কখনও কারও ক্ষতি করেনি। এমন একজন মানুষের এভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক।” ঘটনার পর বিলিকে দ্রুত Penn Presbyterian Medical Center-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিলির বোন আনা শ্মিট বলেন, “কেউ কীভাবে আমার এবং আমার পরিবারের সঙ্গে এমনটা করতে পারে, আমি বুঝতে পারছি না। আমি তাকে খুব মিস করছি।” পরে বিলির বাবা রাস্তার পাশে একটি গাড়ির নিচে পড়ে থাকা তার মোবাইল ফোনটি খুঁজে পান এবং সেটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তিনি বলেন, “ফোনটি ছিনতাই হওয়ার পর সে তাদের পিছু নিয়েছিল, এটা জেনে আমি বিস্মিত হয়েছি। পরে জানতে পারি, মোড়ের কাছে পৌঁছালে আরেকজন বেরিয়ে এসে তাকে গুলি করে।” এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ ও প্রসিকিউটররা আশা করছেন, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনে থাকা ডিএনএ নমুনা সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। ফিলাডেলফিয়ার সহকারী জেলা অ্যাটর্নি বিল ফ্রিটজে বলেন, তদন্তকারীরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন এবং ঘটনাস্থলে পুনরায় গিয়ে সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় ছিনতাইকারীদের হাত থেকে নিজের মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ২২ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের। নিহতের নাম বিলি শ্মিট। তিনি পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির (পেন স্টেট) ডিজিটাল জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং আগামী ডিসেম্বরেই তার স্নাতক সম্পন্ন করার কথা ছিল। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাউথ ফিলাডেলফিয়ায় নিজের বাড়ির কাছেই এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, বন্ধুদের সঙ্গে এনবিএ ফাইনাল খেলা দেখা শেষে রাতে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন বিলি শ্মিট। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তার পথ রোধ করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিলি শ্মিট তার ফোনটি ফেরত পাওয়ার জন্য ছিনতাইকারীদের পিছু নিয়েছিলেন। এ সময় তাকে 'আমার ফোন ফেরত দাও' বলে আকুতি জানাতে শোনা যায়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই এক ছিনতাইকারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ফোনটি একটি গাড়ির নিচে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পেন প্রেসবাইটেরিয়ান মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সামান্য একটি ফোনের জন্য এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের বাবা বিল শ্মিট সংবাদমাধ্যমের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ছেলে অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিল এবং কখনো কারো কোনো ক্ষতি বা বিরক্তি তৈরি করেনি। তিনি আরও বলেন, "ফোন চুরি যাওয়ার পর সে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেছিল ভেবে আমি অবাক হচ্ছি। ধারণা করছি, সে যখন রাস্তার মোড়ে পৌঁছায়, তখন আরেকজন বেরিয়ে এসে তাকে গুলি করে।" এদিকে পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি এক শোকবার্তায় বিলি শ্মিটের অকাল মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। পুলিশ এখনো এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, তবে অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বিলির প্রতিবেশী এবং পরিবার অবিলম্বে এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন এবং অপরাধীদের শনাক্তে যেকোনো তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।