সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বাংলাদেশি নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের স্মার্ট কার্ড দিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রতিনিধি দিয়েও সংগ্রহের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের স্মার্ট কার্ড দিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রতিনিধি দিয়েও সংগ্রহের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (স্মার্ট কার্ড) সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তুত স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীরা অফিস চলাকালে সরাসরি উপস্থিত হতে পারবেন। তবে কোনো আবেদনকারীর পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হলে নির্ধারিত প্রতিনিধির মাধ্যমেও কার্ড সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে বলে দূতাবাসের একটি বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।   বার্তায় বলা হয়েছে, স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের জন্য দূতাবাসের অফিস সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। কার্ড নিতে যাওয়ার সময় আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার সময় দূতাবাস থেকে সরবরাহ করা ‘ডেটা এন্ট্রি প্রুফ কপি’ সঙ্গে রাখতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বা স্টেট আইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড অথবা পাসপোর্টের মতো পরিচয়পত্রের একটি ফটোকপি সঙ্গে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   দূতাবাসের বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারী নিজে উপস্থিত হতে না পারলে একজন নির্ধারিত প্রতিনিধিকে অনুমতিপত্র বা অথরাইজেশন লেটার দিয়ে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের দায়িত্ব দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপিও সঙ্গে রাখতে হবে।   এ ছাড়া, যারা সরাসরি দূতাবাসে যেতে পারবেন না, তাদের জন্য ডাকযোগে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের পদ্ধতির কথাও বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে যথাযথভাবে পূরণ ও স্বাক্ষর করা একটি এফিডেভিট বা হলফনামা, নিজের ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় ডাকমাশুলসহ একটি ফেরত খাম এবং পরিচয়পত্রের ফটোকপি পাঠাতে হবে। বার্তায় বলা হয়েছে, ফেরত খামের ক্ষেত্রে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ডাক পরিষেবা ইউএসপিএসের খাম গ্রহণ করা হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিনিধি বা ডাকযোগে কার্ড সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনুমতিপত্র, হলফনামা ও অন্যান্য নথির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
ইএসটিএ অনুমোদন নিয়ে ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে কর্মসূচিভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের। ছবি: সংগৃহীত
ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ পেল ৪২ দেশের নাগরিক, ইএসটিএতেই মিলবে অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন, ব্যবসা বা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ পাওয়া দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ৪২টি দেশ। এসব দেশের যোগ্য নাগরিকদের প্রচলিত ভিসার জন্য দূতাবাস বা কনস্যুলেটে আবেদন না করে ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইএসটিএর মাধ্যমে ভ্রমণের অনুমোদন নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা ‘ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রাম’ নামে পরিচিত। কর্মসূচির আওতাভুক্ত দেশের নাগরিকরা সাধারণত পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে বৈধ ইএসটিএ অনুমোদন থাকতে হবে।   বর্তমানে কর্মসূচিতে ৪২টি দেশ রয়েছে। তালিকায় ইউরোপের দেশগুলোর পাশাপাশি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশও রয়েছে।   তালিকায় রয়েছে অ্যান্ডোরা, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ব্রুনেই, চিলি, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইসরায়েল, ইতালি, জাপান, লাটভিয়া, লিশটেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মোনাকো, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, কাতার, সান মারিনো, সিঙ্গাপুর, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্য।   কাতার এই কর্মসূচির সর্বশেষ সংযোজন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র কাতারকে ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করে। একই বছরের ২১ নভেম্বর থেকে কাতারের নাগরিকদের জন্য ইএসটিএ আবেদন চালু হয়। কাতারকে কর্মসূচির ৪২তম সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয়েছিল।    ইএসটিএ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের পরিচালিত একটি অনলাইন ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য যোগ্য কি না, তা আগেই যাচাই করা হয়। ইএসটিএ অনুমোদন পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত হওয়া নয়। বিমানবন্দর বা অন্য প্রবেশপথে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন সীমান্ত কর্মকর্তারা।   ভিসা ওয়েভার কর্মসূচির আওতায় ভ্রমণকারীদের নির্দিষ্ট শর্তও পূরণ করতে হয়। যেমন বৈধ ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট থাকতে হয় এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ভ্রমণ করতে হয়। এছাড়া কিছু ভ্রমণ ইতিহাস থাকলে ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের সুবিধা পাওয়া যায় না।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা ওয়েভার কর্মসূচির কোনো দেশের নাগরিক ২০১১ সালের ১ মার্চের পর উত্তর কোরিয়া, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া বা ইয়েমেনে ভ্রমণ বা অবস্থান করলে সাধারণত এই কর্মসূচির আওতায় ভ্রমণের যোগ্যতা হারাতে পারেন। একইভাবে ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারির পর কিউবায় ভ্রমণ বা অবস্থানের ক্ষেত্রেও কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ভিসা প্রয়োজন হতে পারে।   বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশ ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের ৪২ দেশের তালিকায় নেই। ফলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে যেতে হলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।   বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছিল। তবে ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে আদালতের আদেশের পর ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে দপ্তরটি জানিয়েছে।   অন্যদিকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা বন্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে এমন দেশগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে যাদের নাগরিকদের নির্দিষ্ট ভিজিটর ভিসার ক্ষেত্রে ভিসা বন্ডের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। এই ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়েছে।   ভিসা ওয়েভার কর্মসূচিতে থাকা দেশগুলোর বেশিরভাগই ইউরোপের। এশিয়ার মধ্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই ও তাইওয়ান রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসরায়েল ও কাতার এই তালিকায় রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নাগরিকরাও এই সুবিধা পান।   তবে ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের সুবিধা শুধু পর্যটনের জন্য নয়। যোগ্য ব্যক্তিরা ব্যবসায়িক সফরের ক্ষেত্রেও ইএসটিএ ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি, দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনা, স্থায়ী বসবাস বা অন্য কোনো অনুমোদিত নয় এমন উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থার আওতায় ভ্রমণ করা যায় না।   তাই ৪২ দেশের তালিকায় থাকা মানেই ওই দেশের প্রত্যেক নাগরিক কোনো শর্ত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন, এমন নয়। ভ্রমণের উদ্দেশ্য, পাসপোর্ট, ইএসটিএ অনুমোদন এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।   বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমানে বাংলাদেশ এই ভিসা ওয়েভার কর্মসূচির অংশ নয়। ফলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রেও প্রচলিত ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।   সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
২ বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি
২ বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি

ভারতে দুই বছর কারাভোগ শেষে ৪৭ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ৪৩ জন পুরুষ ও চারজন নারী।   রাত প্রায় ৮টার দিকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা ব্যক্তিদের বাড়ি নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায়।   বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে ভারতের তামিলনাড়ুতে প্রবেশ করেন। পরে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করার সময় স্থানীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।   ভারতের আদালতের দেওয়া দুই বছরের কারাদণ্ড শেষ করার পর তাদের তামিলনাড়ুর আত্তুর, সালেম ও তিরুচিরাপল্লির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগের পর ভারত সরকার তাদের দেশে ফেরার জন্য বিশেষ ট্রাভেল পারমিট দেয়।   বাংলাদেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় নেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ উইমেন ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, রাইটস যশোর এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের দায়িত্ব নেয় এবং পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।   এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও দুই বছর বা তার বেশি সময় ভারতের কারাগারে থাকার পর কয়েক দফায় বাংলাদেশি নাগরিকদের বেনাপোল দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক
কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপ ও অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে সবাইকে আরও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের জন্য দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগে পাঠানো হয়েছে।    নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঠামেলের হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস, হোটেল ডি ভেদা এবং হোটেল আল রহমানসহ কয়েকটি স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়। কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ অবস্থান ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।    আটক ব্যক্তিরা হলেন ফাহিমা আক্তার হাসান, মাহমুদ, মাহবুব হাসান, রিপন মাহমুদ, এমডি কেরামত আলী খান, শহিদুর রহমান, এমডি খলিলুর রহমান, আরিফুর রহমান, এমডি মারুফ মৃধা এবং মোহাম্মদ হানিফ মিয়া। তাদের বয়স ২৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাদের বাংলাদেশের গাজীপুরের গাজীপুর সদর ও গাছাবাড়ি পুলিশ স্টেশন এলাকার বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    নেপালের ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক টিকারাম ধাকাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তিদের একজনের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি নেপালে অবস্থান করছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলছে।    পুলিশের বরাতে আরও বলা হয়েছে, দলটির সদস্যরা ঠামেলের মুসলিমা টোল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মারামারি এবং ভিসায় যে উদ্দেশ্যে নেপালে প্রবেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান।    এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরেক বাংলাদেশি নারী খাতুন-ই-জান্নাত বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।    নেপালে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এর আগেও তরুণদের উন্নত দেশে পাঠানোর কথা বলে বাংলাদেশ থেকে নেপালে নেওয়া এবং তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তদন্তের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে বর্তমান ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই আগের অভিযোগগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। সর্বশেষ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে আইস অভিযানে আটক দুই বাংলাদেশি
নিউইয়র্কে আইস অভিযানে আটক দুই বাংলাদেশি, কমিউনিটিতে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে ইউএস ইমিগ্রেশন আন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর চলমান অভিযান ও নজরদারির মধ্যে নিউইয়র্কে দুই বাংলাদেশি নাগরিক আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল বাফেলো শহরে পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। আটক দুইজনই আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং তাদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া চলমান ছিল।   আটক ব্যক্তিদের একজন নূর মোহাম্মদ। তিনি কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে আইস কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন বলে জানা গেছে। অপরজন মহিউদ্দিন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পরে দুজনকেই বাতাভিয়া ডিটেনশন সেন্টার -এ নেওয়া হয়েছে।   কমিউনিটির নেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আপস্টেট নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন এলাকায় আইসের তৎপরতা বেড়েছে। এতে আশ্রয়প্রার্থী ও অনিয়মিত অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। অনেকেই নিয়মিত কোর্ট ডেট ও রিপোর্টিং থাকা সত্ত্বেও আটক হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।   ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের মামলা চলমান রয়েছে তাদের অবশ্যই কাগজপত্র হালনাগাদ রাখতে হবে, আইনজীবীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।   সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজার হাজার অভিবাসী আইসের হেফাজতে রয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ নেই।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
আমিরাতে ড্রোন দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত
আমিরাতে ড্রোন দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলে প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুলি করে নামানো একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে একজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি।   সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মানববিহীন উড়োজাহন (ড্রোন) সনাক্ত করে তা ভূপাতিত করেছে। তবে ধ্বংসাবশেষ এল-রিফা’আ এলাকার একটি খামারে পড়ে ঘটনাস্থলে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জরুরি সেবা দল ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০