যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ ওয়েলসে সংঘবদ্ধভাবে শিশুদের যৌন শোষণ ও ধর্ষণের অভিযোগে তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ আট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে ১৭টি। প্রায় তিন দশক আগের ঘটনাগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত পুলিশের তদন্তের পর অভিযুক্তদের আদালতে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে সংঘটিত বলে অভিযোগ করা ঘটনাগুলো নিয়ে গোয়েন্ট পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো আট ভুক্তভোগীর সঙ্গে সম্পর্কিত, যারা ঘটনার সময় শিশু ছিল। ‘অপারেশন ওক’ নামে এই তদন্ত পরিচালনা করছে গোয়েন্ট পুলিশ। কয়েকজন নারী শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ জানালে তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ বলছে, এটি দক্ষিণ ওয়েলসে সংঘবদ্ধ শিশু যৌন শোষণের অভিযোগ নিয়ে পরিচালিত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত। অভিযুক্ত তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নান, শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ এবং আমিনুর রহমান চৌধুরী। এডিনবরার বাসিন্দা ৫৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে ধর্ষণ, ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণে সহায়তা, অশালীন হামলা এবং ধর্ষণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। নিউপোর্টের ৭৩ বছর বয়সী শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহর বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি অভিযোগ প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং অন্যটি ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোরীকে ঘিরে। লন্ডনের টটেনহামের বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী আমিনুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রাপ্তবয়স্ক এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। অন্য পাঁচ অভিযুক্ত হলেন শফাক মোহাম্মদ, সৈয়দ মোহাম্মদ আশান তাকভি, কেভিন লরেন্স, শাকিল বাবর ও মুরাদ আলী। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, শিশু যৌন নিপীড়ন এবং অশালীন হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের প্রধান কৌঁসুলি জেনি হপকিন্স বলেন, মামলাটি আদালতে নেওয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা জনস্বার্থে প্রয়োজন বলে কৌঁসুলিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। গোয়েন্ট পুলিশের ডিটেকটিভ চিফ সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ড্রু টাক বলেন, তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভুক্তভোগীদের সহায়তা করা। বিশেষায়িত সংস্থার সহযোগিতায় তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। আট অভিযুক্তকে আগামী ২৪ জুলাই নিউপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির করার কথা রয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়া সক্রিয় থাকায় আদালতের কার্যক্রম প্রভাবিত করতে পারে—এমন মন্তব্য, প্রতিবেদন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ ও প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে তাঁর নামে একটি সড়কের আনুষ্ঠানিক নামফলক উন্মোচন করা হয়েছে। আজ শনিবার ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৭২ স্ট্রিটের একটি অংশের নতুন নাম রাখা হয় “ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে” (Detective Didarul Islam Way)। অনুষ্ঠানে দিদারুল ইসলামের পরিবার, নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এনওয়াইপিডির কর্মকর্তারা, বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। দিদারুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ ভবনে সংঘটিত প্রাণঘাতী বন্দুক হামলায় দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন। সে সময় তিনি ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় অনুমোদিত নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিলেন। হামলাকারীর গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ওই হামলায় আরও তিনজন নিহত হন। নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস এবং পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ তখন দিদারুল ইসলামকে সাহসী ও আত্মত্যাগী কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করেন। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার সন্তান দিদারুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর প্রথমে নিউইয়র্ক সিটির স্কুল সেফটি এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন নিষ্ঠাবান, বিনয়ী এবং জনসেবায় নিবেদিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর হাজারো পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্যরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। এনওয়াইপিডি তাঁকে মরণোত্তর “ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড” পদে পদোন্নতি দেয়। তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান এবং গর্ভে থাকা তৃতীয় সন্তানকে রেখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সড়কের নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে” শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্মৃতিচিহ্ন নয়; এটি নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অবদান, জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন সিএআইআর-নিউইয়র্ক (CAIR-NY) এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, দিদারুল ইসলামের বীরত্ব ও জনসেবার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদানকে স্মরণীয় করে রাখবে। দিদারুল ইসলামের স্মৃতিকে ঘিরে নিউইয়র্কে এর আগেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর নামে “Didarul Islam Police Recruitment Act” শীর্ষক একটি আইন প্রস্তাবও আনা হয়েছে, যার লক্ষ্য স্কুল সেফটি এজেন্টসহ অন্যান্য জননিরাপত্তা পদে কাজের অভিজ্ঞতাকে এনওয়াইপিডিতে যোগদানের ক্ষেত্রে আরও স্বীকৃতি দেওয়া। আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য, এই উদ্যোগ দিদারুল ইসলামের কর্মজীবন ও জনসেবার আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে।
বাংলাদেশের চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা মো. লতিফ আজ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)-এর একজন লেফটেন্যান্ট। দীর্ঘ দুই দশকের কর্মজীবনে ধাপে ধাপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। লেফটেন্যান্ট মো. লতিফের জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায়। তার পারিবারিক শিকড় কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায়। তিনি চট্টগ্রামের ওমরগণি এমইএস কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০০৪ সালে ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের ইস্ট এলমহার্স্ট এলাকায় বসবাস করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করার পর ধীরে ধীরে তিনি নিজের কর্মজীবন গড়ে তোলেন। ২০০৫ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে তার কর্মজীবনের সূচনা হয় ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট হিসেবে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের পর তিনি এনওয়াইপিডিতে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। পরিশ্রম, দক্ষতা এবং পেশাগত নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হন। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি এনওয়াইপিডি পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে নতুন পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করেন। সর্বশেষ তিনি এনওয়াইপিডির কমিউনিটি আউটরিচ ডিভিশনের সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যেখানে পুলিশ ও বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। লেফটেন্যান্ট মো. লতিফ নিউইয়র্কে কর্মরত বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি এনওয়াইপিডি দেশি সোসাইটি এবং এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার্স সোসাইটির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। এসব সংগঠনের মাধ্যমে বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকা রাখছেন। এছাড়া তিনি এনওয়াইপিডির ৭৫তম ও ১১৫তম প্রিসিঙ্কটেও বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তার অভিজ্ঞতা তাকে বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষা এবং পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে এনওয়াইপিডির নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছানোর এই যাত্রা অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসের অদূরে অবস্থিত শান্ত ও সমৃদ্ধ শহরতলি অ্যালেন। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ আবাসিক এলাকা এবং উচ্চশিক্ষিত বাসিন্দাদের জন্য পরিচিত এই শহরে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ঘটে যায় এমন এক মর্মান্তিক ঘটনা, যা শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদেরই নয়, বাংলাদেশি কমিউনিটিকেও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। একটি সফল ও শিক্ষিত পরিবারকে ঘিরে বাইরে থেকে যে সুখী জীবনের ছবি দেখা যেত, তার পরিণতি হয়েছিল এক ভয়াবহ পারিবারিক ট্র্যাজেডিতে। ঘটনাটিতে প্রাণ হারান একই পরিবারের ছয় সদস্য। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের কর্তা তৌহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন। তিনি একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল পদে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী, সন্তান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে অ্যালেনে বসবাস করতেন তিনি। পরিবারটি স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছেও পরিচিত ছিল। শিক্ষাগত সাফল্য, পেশাগত অর্জন এবং সামাজিক অবস্থানের কারণে অনেকেই তাদের একটি আদর্শ অভিবাসী পরিবারের উদাহরণ হিসেবে দেখতেন। কিন্তু ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল সকালে পুলিশ জরুরি একটি কল পেয়ে অ্যালেনের ওই বাসভবনে পৌঁছায়। দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন স্বজন ও পরিচিতরা। পুলিশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করার পর এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের মুখোমুখি হয়। বাসার বিভিন্ন স্থানে পরিবারের ছয় সদস্যের মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাটি দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে পরিণত হয়। তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পারে, পরিবারের দুই তরুণ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জটিলতার মুখোমুখি ছিলেন। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচনা করেন এবং এর পেছনে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে ধারণা করেন। তবে ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন এবং তদন্ত সংস্থাগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে। পরিবারটির ব্যক্তিগত জীবন, চিকিৎসা ইতিহাস এবং ঘটনার আগে-পরে বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেক সময় বাইরে থেকে একটি পরিবারকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সফল মনে হলেও পরিবারের ভেতরে চলমান মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা বা অন্যান্য সংকট সহজে দৃশ্যমান হয় না। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক অসুস্থতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাব কখনও কখনও ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা ও পারিবারিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্যরাও ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেন। অনেকেই বলেন, ঘটনাটি তাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি কতটা প্রয়োজন। বিশ্লেষকদের মতে, অ্যালেনের এই মর্মান্তিক ঘটনা কেবল একটি পরিবারের মৃত্যুর গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক যোগাযোগ, সামাজিক সহায়তা এবং সংকট মোকাবিলার গুরুত্ব সম্পর্কে একটি বড় সতর্কবার্তা। বছর পেরিয়ে গেলেও টেক্সাসের ওই পরিবারের ঘটনা এখনো বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের স্মৃতিতে বেদনার এক অধ্যায় হয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশা, এমন ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেতা নাবিলাহ পার্কসের জর্জিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন পাওয়ার স্বপ্ন আপাতত থেমে গেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রানঅফ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্টেট সিনেটর জশ ম্যাকলরিন স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয়ের পথে রয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ৮২ শতাংশ প্রিসিঙ্কটের ফল গণনা শেষে জশ ম্যাকলরিন ১ লাখ ৭০ হাজার ৯২১ ভোট পেয়ে মোট ভোটের ৫৫ শতাংশ অর্জন করেছেন। অন্যদিকে নাবিলাহ পার্কস পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ১৭৮ ভোট, যা মোট ভোটের ৪৫ শতাংশ। নাবিলাহ পার্কস জর্জিয়ার রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। ২০২২ সালে তিনি অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে তার রাজনৈতিক উত্থান শুধু জর্জিয়ায় নয়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দেয়। লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে প্রার্থী হয়ে তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ভোটাধিকার সুরক্ষা, নারীদের প্রজনন অধিকার এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য অর্থনৈতিক সহায়তার মতো বিষয়গুলোকে প্রচারণার মূল ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন। যদিও এবারের রানঅফ নির্বাচনে তিনি পিছিয়ে পড়েছেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নাবিলাহ পার্কস ইতোমধ্যে জর্জিয়ার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী হিসেবে অঙ্গরাজ্যব্যাপী নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয় এবং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করার পথে থাকা জশ ম্যাকলরিন আগামী সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, পরাজয় সত্ত্বেও নাবিলাহ পার্কসের এই প্রচারণা ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক সুযোগের ভিত্তি তৈরি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রতিনিধিত্বের পথকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের স্টেট সেনেটের ডিস্ট্রিক্ট-১৮ আসনের সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান আইনজীবী হাসিব ফাতমী। গত সপ্তাহে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মে নর্থ ক্যারোলাইনা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতিনির্ধারকরা হাসিব ফাতমীকে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য এই পদে মনোনয়ন দেন। পরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিনি স্টেট সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার সঙ্গে রয়েছে হাসিব ফাতমীর পারিবারিক শিকড়। তার বাবা মোহাম্মদ বদরুল এহসান ফাতমী এবং মা সাইদা ফাতমী স্নিগ্ধা ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে পাড়ি জমান। এরপর সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তারা। দায়িত্ব গ্রহণের পর এক নির্বাচনি সমাবেশে হাসিব ফাতমী বলেন, সম্প্রতি তিনি ওয়েক ফরেস্ট টাউনের কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং স্থানীয় জনগণের কল্যাণে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটাররা তাকে পূর্ণ মেয়াদের জন্যও নির্বাচিত করবেন। ডিস্ট্রিক্ট-১৮ আসনটি শূন্য হয় সাবেক সেনেটর টেরেন্স এভারিটের পদত্যাগের পর। এর আগে থেকেই আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন হাসিব ফাতমী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগেই সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে, যা আসন্ন নির্বাচনে তাকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। হাসিব ফাতমীর এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির আরেকটি উদাহরণ। বর্তমানে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে শেখ রহমান ও নাবিলা ইসলাম, ভার্জিনিয়ায় সাদ্দাম আজলান সেলিম, কানেকটিকাটে মাসুদুর রহমান এবং নিউ হ্যামশায়ারে আবুল খান আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ১৯৮৮ সালে নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন হাসিব ফাতমী। শিক্ষাজীবনে তিনি ২০০৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট চ্যাপেল হিল থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০১২ সালে নিউইয়র্কের ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ের নাগরিক ও জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার রাজনৈতিক উত্থানকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বই বাড়াচ্ছে না, বরং নতুন প্রজন্মকেও জনসেবা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে। সেই ধারাবাহিকতায় নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট সেনেটে হাসিব ফাতমীর অন্তর্ভুক্তি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।