- প্রচ্ছদ
- Topic
বিশ্বকাপ ফুটবল
বিশ্বকাপ ফুটবলের মেগা ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত হয়েছেন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তার এই উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিশেষ নিরাপত্তা প্রটোকলের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্টেডিয়ামের একটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বুলেটপ্রুফ গ্যালারিতে বসার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো পরিস্থিতি এড়ানো যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো মেটলাইফ স্টেডিয়ামজুড়ে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী। স্টেডিয়ামের সাধারণ প্রবেশপথ থেকে শুরু করে ভিআইপি গ্যালারি পর্যন্ত সর্বত্রই নিশ্ছিদ্র নজরদারি ও কড়া তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়। ড্রোনের মাধ্যমে আকাশসীমা এবং মাঠের চারপাশ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উপস্থিতি ফুটবল ভক্ত ও দর্শকদের মাঝে বাড়তি আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেডিয়ামের বাইরের পরিবেশেও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল ও সাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গ্যালারিতে হাজারো ফুটবলপ্রেমীর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হাই-প্রোফাইল উপস্থিতি এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের অন্যতম আলোচিত ও চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। হাইপ্রোফাইল এই ম্যাচটিকে ঘিরে দর্শকদের মাঝে তুমুল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে এবং শেষ মুহূর্তের কিছু টিকিট এখনও পাওয়া যাচ্ছে, যার সর্বনিম্ন মূল্য শুরু হয়েছে ২ হাজার ৫২৭ ডলার থেকে। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের এই লড়াইয়ে একদিকে যেমন মাঠে নামবেন হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের মতো তারকারা, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠ মাতাবেন লিওনেল মেসি। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে গত সপ্তাহে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। অপরদিকে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। পরাশক্তিদের এই লড়াই মাঠে বসে দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীদের পকেটের বড় একটি অংশই খসাতে হচ্ছে। বর্তমানে সাধারণ ক্যাটাগরির সবচেয়ে কমদামী টিকিটের মূল্যই নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫২৭ ডলার। এই মূল্য গত মঙ্গলবারের ফ্রান্স বনাম স্পেনের সেমিফাইনাল ম্যাচের শেষ মুহূর্তের টিকিটের দামের তুলনায় প্রায় ঠিক দ্বিগুণ। যারা গ্যালারির একদম সামনে থেকে মেসি ও কেইনের দ্বৈরথ উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য টিকিটের মূল্য আরও অনেক বেশি। স্টেডিয়ামের একদম লোয়ার লেভেলের ১০০-লেভেলের গ্যালারির টিকিটগুলোর মূল্য বর্তমানে শুরু হচ্ছে ৩ হাজার ৬৬৯ ডলার থেকে, যা মূলত সেকশন ১২২-এর আসনের জন্য প্রযোজ্য। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় এই ব্লকবাস্টার ম্যাচটি শুরু হবে। এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্বের জন্য দুটি ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার একটি টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম এবং অন্যটি আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম। মঙ্গলবারের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও স্পেন। এই সেমিফাইনালের মহারণ শেষ হওয়ার পর আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক সিটির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল। ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দামও ইতোমধ্যে আকাশ ছুঁয়েছে, যার সর্বনিম্ন মূল্য শুরু হচ্ছে ৬ হাজার ৮৪২ ডলার থেকে। আর একদম মাঠের কাছাকাছি লোয়ার-লেভেলের ক্যাটাগরি-১ টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে ১৩ হাজার ৭০ ডলার থেকে।
চলতি মাসেই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচের বিরতিতে জমকালো ‘হাফটাইম শো’ বা বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। ইতিহাসের প্রথম এই হাফটাইম শোতে পারফর্ম করার তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা জাস্টিন বিবার। গত বুধবার ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতি অনুযায়ী, পপ তারকা জাস্টিন বিবার এই বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে সহ-প্রধান শিল্পী বা কো-হেডলাইনার হিসেবে মঞ্চ মাতাবেন। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে তার সঙ্গে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় বয় ব্যান্ড বিটিএস এবং ল্যাটিন পপ তারকা শাকিরা। ইতিহাসে এই প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন বড় আকারের কনসার্টের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে (যা মেটলাইফ স্টেডিয়াম নামে পরিচিত) বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন ম্যাচের প্রথমার্ধের বিরতির সময়ে এই হাফটাইম শো প্রদর্শিত হবে। পপ তারকাদের পাশাপাশি এই আয়োজনে আরও পারফর্ম করবেন নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়, বিশ্বখ্যাত কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল এবং কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের সাথে নিউ ইয়র্কের স্টেটেন আইল্যান্ডের পিএস-২২ কোরাস স্কুল অব চিলড্রেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর এলমো এবং কুকি মনস্টারের মতো জনপ্রিয় পুতুল চরিত্রদের সাথে নিয়ে এক ভিডিও বার্তায় এই সুপারস্টারদের নাম ঘোষণা করেছিলেন। বিশ্বকাপের ফাইনালের এই ঐতিহাসিক হাফটাইম শোটির তত্ত্বাবধান করছেন ক্রিস মার্টিন নিজেই এবং এটি প্রযোজনা করছে দারিদ্র্য বিমোচনে নিয়োজিত বৈশ্বিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সিটিজেন’। এই কনসার্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এ জমা হবে, যা বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবল খেলার সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করে। ফিফার দেওয়া বিবৃতিতে জাস্টিন বিবার বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্বকে এমনভাবে একত্রিত করে যা অন্য কোনো কিছু পারে না। এই হাফটাইম শোর অংশ হতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ এবং আরও বেশি আনন্দিত যে এই আয়োজন বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ প্রসারিত করতে সাহায্য করছে। গত ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ফাইনাল ম্যাচটি আগামী ১৯ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শক্তিশালী মানবিক বার্তা দিয়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছিলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এক তুর্কি সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন—আর্জেন্টিনাকে হারালে আবারও তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াবেন কি না। প্রশ্নের জবাবে কোনো সাধারণ হ্যাঁ বা না না বলে হোসাম হাসান সরাসরি মানবতার পক্ষে কথা বলেন। তিনি বলেন, "পৃথিবীতে এমন কেউ যদি থাকে যে ফিলিস্তিনিদের কষ্ট অনুভব করতে পারে না, তবে সে মানুষই নয়। সে আরব, ইউরোপীয় বা যে কোনো দেশেরই হোক না কেন—এটি কেবল ধর্মের বা নাগরিকত্বের বিষয় নয়, এটি পুরোপুরি মানবতার বিষয়।" মিশরীয় কোচ পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন, "ইউরোপ ও আমেরিকায় পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুরতা হলেও মানুষ সোচ্চার হয়। তাহলে মানবাধিকার কোথায় গেল, যখন প্রতিদিন ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুরা হামলার শিকার হচ্ছে? আমরা যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে আরাম-আয়েশে খাচ্ছি, তখন আরেকটি জাতি রাস্তায় খাবার, পানি ও আশ্রয়হীন অবস্থায় ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। এই তীব্র শীতে বা গরমে তাদের রক্ষা করার কেউ নেই।" ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে বার্তা ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম উল্লেখ করে হোসাম হাসান আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, "আমি আরব বা মিশরীয় হওয়ার আগে একজন মানুষ। ফুটবলের মাধ্যমে আমরা পুরো বিশ্বকে একটি বার্তাই দিতে চাই—দয়া করে ফিলিস্তিনিদের বাঁচতে দিন, দয়া করে তাদের শান্তিতে বাঁচতে দিন।"
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে চমক দেখানো আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের ফুটবল দলের অধিনায়ক রায়ান মেন্দেসের বিরুদ্ধে এক নারী দোভাষীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দলের জন্য নিয়োজিত এক ব্রাজিলীয় দোভাষী দাবি করেছেন, মেন্দেস গত মার্চ মাসে নিউজিল্যান্ড সফর চলাকালীন তার হোটেল রুমে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে ধর্ষণ করেন। ব্রাজিলের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম 'গ্লোবো'র এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ঘটনার পর তিনি কেপ ভার্দে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অন্তত তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে বিচার চাইলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাননি। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় পরবর্তীতে তিনি নিউজিল্যান্ড পুলিশের দ্বারস্থ হন। বর্তমানে নিউজিল্যান্ড পুলিশ অকল্যান্ডের ওই হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং চূড়ান্ত ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে মেন্দেসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট গঠনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। বিবৃতিতে ওই দোভাষী উল্লেখ করেন, ফিফা সিরিজের ম্যাচ চলাকালীন কেপ ভার্দে দলের দোভাষী হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। চিলির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ শেষে তাকে একটি রুমে আলোচনার কথা বলে ডাকা হয়। কিন্তু সেখানে কোনো দোভাষীর কাজ না থাকায় এবং সেটি একটি সামাজিক আড্ডা বুঝতে পেরে তিনি নিজের রুমে ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই ৩৬ বছর বয়সী ফুটবলার রায়ান মেন্দেস তার রুমের দরজায় নক করেন এবং দরজা খোলামাত্রই ভেতরে ঢুকে তার ওপর চড়াও হন। আক্রান্ত নারী ইতিমধ্যে তার মুখে, গলায় এবং পায়ে লাগা আঘাতের বেশ কিছু ছবি পুলিশের কাছে প্রমাণ হিসেবে হস্তান্তর করেছেন। এই ঘটনার পর বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। যেকোনো ধরনের অসদাচরণের অভিযোগকে ফিফা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়। তবে তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় তারা এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে কেপ ভার্দে যখন ফুটবল বিশ্বে রূপকথা তৈরি করছে, ঠিক তখনই অধিনায়কের বিরুদ্ধে এমন কলঙ্কজনক অভিযোগ দলটিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিল। কেপ ভার্দের হয়ে বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচেই খেলা এই তারকা ফুটবলার মেন্দেস অবশ্য এখনো এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
বিশ্বকাপ ফুটবলে দীর্ঘ ২০ বছর পর নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর। শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক গৌরব নিশ্চিত করেছে দলটি। ২৬ জুন শুক্রবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এই নাটকীয় জয়ের পর পুরো দেশজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এই অবিস্মরণীয় অর্জনকে উদ্যাপন করতে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া পরের দিনকে দেশটিতে সাধারণ জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় প্রেসিডেন্ট নোবোয়া খেলোয়াড় ও কোচদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি লিখেছেন, যারা সমালোচনা, অপমান আর কঠিন সময়ের পরও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এবং পুরো দেশে এই বিশাল আনন্দ এনে দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনি একই সাথে পরের দিন ছুটি ঘোষণা করে ইকুয়েডরের দীর্ঘায়ু কামনা করেন। অথচ এই ম্যাচের শুরুটা ইকুয়েডরের জন্য ছিল একেবারেই দুঃস্বপ্নের মতো, কারণ খেলার মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে নেন লেরয় সানে। তবে জার্মানির প্রথম গোলটি নিয়ে মাঠেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। গোলের ঠিক আগে আলেক্সান্ডার পাভলোভিচ ইকুয়েডরের মিডফিল্ডার পেদ্রো ভিতেকে উঁচু বুট দিয়ে আঘাত করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ইকুয়েডরের খেলোয়াড়রা ফাউলের জোরালো প্রতিবাদ করলেও রেফারি টোরি পেনসো গোল বহাল রাখেন এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর এই বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। তবে সেই ধাক্কা সামলে দ্রুতই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় ইকুয়েডর এবং সাত মিনিটের মধ্যে ভিতে জার্মানির কাছ থেকে বল কেড়ে নেন। এরপর নিলসন আঙ্গুলো বক্সের বাইরে থেকে একটি চমৎকার বাঁকানো শট নেন, যা পাভলোভিচের পায়ের ফাঁক দিয়ে সরাসরি জালে জড়ায়। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের প্রথম গোল এবং টুর্নামেন্টে তাদের ৪০তম শটে আসা প্রথম সাফল্য। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জার্মানি পেনাল্টির দাবি তুললেও ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন, কারণ বিল্ড-আপের সময় সানে নিজেই ফাউল করেছিলেন। খেলার ৬৪ মিনিটে মাঠে আসেন কেভিন রদ্রিগেজ এবং ৭৭ মিনিটে একটি কর্নার থেকে তাঁর হেড ফ্লিক পেনাল্টি এলাকার ভেতরে চলে যায়। সেখানে সবার আগে পৌঁছে পা বাড়িয়ে বলটি জালে ঠেলে দেন গনজালো প্লাতা, যার ফলে ইকুয়েডর ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। শেষ ১০ মিনিট জার্মানি সমতার জন্য একের পর এক আক্রমণ করলেও ইকুয়েডর রক্ষণ গুটিয়ে প্রতিটি আক্রমণ প্রতিহত করে নাটকীয় এই জয় নিশ্চিত করে।
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম দুই সপ্তাহে লাখ লাখ বিদেশি পর্যটক মন ভরে উপভোগ করছেন বার্গার, বার্বিকিউসহ হরেক রকমের খাঁটি আমেরিকান খাবার ও পানীয়। তবে ভুরিভোজ শেষে রেস্তোরাঁ বা বারে বকশিশ বা ‘টিপস’ দেওয়ার চেনা আমেরিকান সংস্কৃতিতে মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে এই দর্শকদের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীদের এই বকশিশ-বিমুখতায় চরম বিপাকে পড়েছেন আমেরিকার ১১টি আয়োজক শহরের রেস্তোরাঁ ও বারের কর্মীরা। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির এক বারে আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার ম্যাচ চলাকালীন একটি বড় দল প্রায় ৩০০ ডলারের বিল করার পর মাত্র ৪ ডলার বকশিশ রেখে যায়। এই ঘটনাটিকে চরম হতাশাজনক ও আপত্তিকর বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই বারের কর্মী জেসিকা ওর্দেনিয়ানা। আমেরিকার বকশিশ সংস্কৃতির এই মারপ্যাঁচ বিদেশিদের কাছে প্রায়শই গোলমেলে ঠেকে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক রেস্তোরাঁ কর্মী বা বারটেন্ডারদের মূল মজুরি ঘণ্টায় মাত্র ২ দশমিক ১৩ ডলারের মতো নগণ্য হতে পারে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য তারা পুরোপুরি গ্রাহকদের দেওয়া বকশিশের ওপর নির্ভর করেন। এই কারণেই দেশটিতে যেকোনো বিলের ওপর অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বকশিশ দেওয়া একপ্রকার বাধ্যতামূলক সামাজিক নিয়ম। অপরদিকে ইউরোপ বা বিশ্বের অন্যান্য দেশে খাবারের মূল্যের সঙ্গেই সার্ভিস চার্জ যুক্ত থাকে এবং সেখানকার রেস্তোরাঁ কর্মীরা সাধারণ নিয়মে ভালো বেতন পান। ফলে সেসব দেশে বকশিশ দেওয়াটা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক এবং সর্বোচ্চ এক বা দুই ইউরো দিলেই চলে। এই সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণেই মূলত বাঁধছে যত বিপত্তি। অবশ্য অনেক পর্যটকই ইচ্ছে করে এমনটা করছেন না, বরং তারা স্থানীয় নিয়মটি বুঝতে না পেরে কর্মীদের কাছে জানতে চান কীভাবে বকশিশের হিসাব করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ চলাকালীন নিজেদের কর্মীদের আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে অনেক বার ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এখন মোট বিলের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ বকশিশ (অটো গ্র্যাচুইটি) জুড়ে দিচ্ছে। তবে ম্যাচ চলাকালীন অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক সময় এই নিয়ম কার্যকর করতে ভুল হয়ে যাচ্ছে। আবার কানসাস সিটির মতো কিছু শহরের রেস্তোরাঁ মালিকরা এই স্বয়ংক্রিয় বকশিশের নিয়ম চালু করে উল্টো লোকসানের মুখে পড়েছেন; কারণ অতিরিক্ত খরচের ভয়ে অনেক গ্রাহক শহরের কেন্দ্রস্থলের রেস্তোরাঁগুলো এড়িয়ে চলছেন, আবার কেউ কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তি টাকা কাটায় অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। আমেরিকার এই বহু পুরনো বকশিশ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন সমাজকর্মী ও বিশ্লেষকরা। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর ইউরোপীয় সামন্তবাদী প্রথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই বকশিশ ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছিল। কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে খাটিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রেস্তোরাঁ মালিকরা বকশিশের নিয়ম চালু করেন, যা মূল বেতনের পরিপূরক না হয়ে কালক্রমে বেতনের বিকল্প হিসেবে রূপ নেয়। বিশ্বকাপ ফুটবলের এই মহোৎসবে বিদেশি পর্যটকদের বকশিশ দেওয়ার অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের সেই শতবর্ষী বিতর্ক সূত্রঃ ইয়াহু নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখে বাড়ি ফেরার পথে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় মর্মান্তিক প্রাণহানির শিকার হয়েছেন দুই নারী। গত শনিবার নিউজার্সির নেওয়ার্ক এলাকার পার্ক অ্যাভিনিউ এবং নর্থ সেভেনথ স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এই ভয়াবহ 'হিট-অ্যান্ড-রান' বা গাড়িচাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত ওই দুই নারীর নাম মারিয়ানা এলিজাবেথ ভালভার্দে বেলট্রান (৫৮) এবং মারিয়া ইসাবেল দেলসঅ্যাঞ্জেলেস সালগাদো আয়ালা (৬১)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৬ বছর বয়সী ডেভিড জে. জাপাতা-ভেরা নামের এক যুবক অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে ওই দুই নারীকে সজোরে ধাক্কা দেন, যার তীব্রতায় তারা ছিটকে শূন্যে উড়ে যান। ম্যানুয়েল ক্যান্ডেলেরিয়া নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ট্রাফিক সিগন্যালের আলো পরিবর্তনের ঠিক আগমুহূর্তে ঘাতক চালক গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দিয়ে ক্রসওয়াক অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না তা নিশ্চিত না হলেও, অতিরিক্ত গতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন এই প্রত্যক্ষদর্শী। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দুই নারীকে উদ্ধার করে দ্রুত নেওয়ার্কের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অপ্রত্যাশিত এই মৃত্যুতে নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্বজনরা মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নিহত বেলট্রানের চাচাতো ভাই জেফরি চ্যাকন জানান, ইকুয়েডরে থাকা তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এই দুঃসংবাদ জানাতে গিয়ে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। অন্যদিকে, প্রাণঘাতী এই ঘটনার তিন দিন পর গত মঙ্গলবার ঘাতক চালক জাপাতা-ভেরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি ভেহিকুলার হোমিসাইড, মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং আহতদের বিপদে ফেলে যাওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের নথিপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে তাকে বিনা জামিনে এসেক্স কাউন্টি কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।
নিউ জার্সির নেওয়ার্ক শহরে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখা শেষে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও কয়েক দিনের মধ্যে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস জানিয়েছে, নিহত দুই নারী হলেন ৫৮ বছর বয়সী মারিয়ানা এলিজাবেথ ভালভার্দে বেলত্রান এবং ৬১ বছর বয়সী মারিয়া ইসাবেল দেলোসআনহেলেস সালগাদো আয়ালা। বেলত্রানের বাড়ি এলিজাবেথ শহরে এবং সালগাদো আয়ালার বাড়ি নেওয়ার্কে। দুর্ঘটনার পর দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে নেওয়ার্কের নর্থ সেভেন্থ স্ট্রিট ও পার্ক অ্যাভিনিউর মোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি লাল রঙের সেডান গাড়ি পথচারী পারাপারের অংশ দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দুই নারীকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এরপর গাড়িটি না থেমেই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। উপস্থিত লোকজন সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবায় ফোন করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি ৭ জানিয়েছে, নিহত দুই নারী বন্ধু ছিলেন। সেদিন তারা নেওয়ার্কে আয়োজিত একটি বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখার অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন। ওই রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের মধ্যকার ম্যাচটি ড্র হয়। ইকুয়েডর দলের জার্সির রং হলুদ হওয়ায় নিহত দুই নারীও হলুদ পোশাক পরেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। নিহত মারিয়ানা বেলত্রানের এক স্বজন এবিসি ৭-কে জানান, পরিবারের সদস্যরা ইকুয়েডরে থাকা তার ছেলে ও বোনদের কাছে এই দুঃসংবাদ পৌঁছে দিচ্ছেন। আকস্মিক এ মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। বুধবার এসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস জানায়, ২৬ বছর বয়সী নেওয়ার্কের বাসিন্দা ডেভিড জাপাতা ভেরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুটি করে দ্বিতীয় ডিগ্রির যানবাহনজনিত হত্যার অভিযোগ, প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার স্থান ত্যাগের অভিযোগ এবং আহত ব্যক্তিকে বিপদের মধ্যে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পথচারী পারাপারের অংশে থাকা দুই নারীকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান। তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার কারণ এবং ঘটনার সময় চালকের আচরণ নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছিল। তবে দুর্ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রে পথচারীদের জড়িত হিট অ্যান্ড রান দুর্ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া শুধু আইনগতভাবে গুরুতর অপরাধই নয়, দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ নষ্ট হওয়ায় এতে প্রাণহানির ঝুঁকিও অনেক বেড়ে যায়। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে নকআউটের দৌড়ে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে লিওনেল মেসিদের মূল লক্ষ্য যেহেতু ফাইনাল, তাই নকআউট পর্বে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের সামনে কোন প্রতিপক্ষ আসতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের মাঝে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। বিশেষ করে আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের ম্যাচের ফলাফল তাদের কোন সমীকরণের দিকে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। সোমবার (২২ জুন) প্রকাশিত এক ক্রীড়া প্রতিবেদনে আর্জেন্টিনার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণ এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বকাপের বর্তমান সূচি ও সমীকরণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা যদি 'জে' গ্রুপ থেকে শীর্ষ দল অর্থাৎ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে উন্নীত হতে পারে, তবে শেষ ৩২-এর নকআউট পর্বে তাদের মুখোমুখি হতে হবে 'এইচ' গ্রুপের রানার্সআপ বা দ্বিতীয় সেরা দলের। এই মুহূর্তে 'এইচ' গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল উরুগুয়ে। এই গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেন এবং উরুগুয়ের সমান পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও কেবল গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে টেবিলের তিন নম্বরে অবস্থান করছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণটি বেশ সহজ। আজ অস্ট্রিয়া এবং পরবর্তী ম্যাচে জর্ডানকে সরাসরি হারাতে পারলে কোনো সমীকরণ ছাড়াই লিওনেল মেসিরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের পর্বে চলে যাবেন। তবে আর্জেন্টিনা যদি কোনো ম্যাচে পয়েন্ট হারায়, তাহলেও তাদের গ্রুপ সেরা হওয়া সম্ভব। সে ক্ষেত্রে 'জে' গ্রুপের অন্য দুই দল আলজেরিয়া ও জর্ডানের মধ্যকার ম্যাচগুলোর ফলাফল আর্জেন্টিনার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ন্ত্রক বা প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। যদি আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়, তবে 'এইচ' গ্রুপের আগামী ২৭ জুনের দুটি ম্যাচের ফলাфলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে। ওই দিন স্পেন খেলবে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে এবং সৌদি আরব মাঠে নামবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে। এই ম্যাচগুলোতে যদি উরুগুয়ে জয়লাভ করে এবং কেপ ভার্দে ড্র বা পরাজিত হয়, তবে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে স্পেনের মুখোমুখি হতে হবে আর্জেন্টিনার। আবার উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে উভয় দলই যদি নিজ নিজ ম্যাচে জয়ী হয়, তবে গোল ব্যবধান, গোল সংখ্যা কিংবা ফেয়ার প্লে টেবিলের ভিত্তিতে যে দল দ্বিতীয় হবে, তারা আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে। অন্যান্য সমীকরণের মধ্যে, যদি উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের ম্যাচ দুটিই ড্র হয়, তবে তারা প্রথম স্থানের বদলে দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়বে এবং সমীকরণ অনুযায়ী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে। আবার কেপ ভার্দে যদি ৪ বা তার কম গোলের ব্যবধানে জেতে এবং উরুগুয়ে ড্র করে, তবে কেপ ভার্দেই হবে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ। কিন্তু কেপ ভার্দে ৪ বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জিতলে এবং উরুগুয়ে ড্র করে, তবে প্রতিপক্ষ হবে স্পেন। আর উরুগুয়ে যদি নিজের ম্যাচে জয় পেতে ব্যর্থ হয় এবং সৌদি আরব জয়লাভ করে, তবে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে সৌদি আরবের। তবে কোনো কারণে আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পেরে দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউটে যায় এবং স্পেন যদি 'এইচ' গ্রুপের শীর্ষে থাকে, তবে শেষ ৩২-এর মঞ্চেই দেখা যাবে আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণ। আর মেসিরা যদি চরম অঘটনের শিকার হয়ে গ্রুপে তৃতীয় হন, তখন তাদের গ্রুপ ডি, জি, এল, বি অথবা কে-এর চ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি হতে হবে। উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিল নির্ধারিত হচ্ছে অলিম্পিক পদ্ধতিতে, যেখানে পয়েন্ট সমান হলে যথাক্রমে হেড-টু-হেড ম্যাচ, গোল ব্যবধান, সামগ্রিক গোল পার্থক্য, ফেয়ার প্লে পয়েন্ট এবং সর্বশেষ ফিফা র্যাঙ্কিং বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা বার্তা রেখে গেছে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি ম্যাচ খেলার পর বিদায়ী ওই বার্তায় শহরটির আতিথেয়তা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি স্মরণ করা হয়েছে ইরানের মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ে হামলায় নিহত শিশুদের। চলমান বিশ্বকাপে অভিবাসন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৮ ঘণ্টার বেশি অবস্থানের অনুমতি পায়নি ইরান দল। সে কারণে লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি ম্যাচ শেষ করে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে হাতে লেখা একটি বার্তা রেখে যায়। রোববার বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ইরান টুর্নামেন্টে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচ পর্যন্ত টিকে থাকা নিশ্চিত করে। তাদের পরবর্তী ম্যাচ সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে। দলটির রেখে যাওয়া বার্তার শুরুতে লেখা ছিল, “হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের আত্মা আজও জীবিত এবং দৃঢ়ভাবে স্থির রয়েছে।” বার্তাটিতে #১৬৮ এবং #মিনাব হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করা হয়। এটি মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘটিত হামলায় নিহতদের স্মরণে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য থাকলেও হামলাটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়েছে। বার্তায় আরও লেখা হয়, “আমরা গর্ব নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছি, সম্মানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি এবং মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিচ্ছি।” এতে আরও বলা হয়, “লস অ্যাঞ্জেলেস, তোমাদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে প্রতিটি ইরানিকে ধন্যবাদ, যারা এই ১৮০ মিনিট জুড়ে ইরানের জন্য তাদের হৃদয়, কণ্ঠ এবং আত্মা উজাড় করে দিয়েছে।” বার্তার শেষাংশে বলা হয়, “সব জাতির মধ্যে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।” বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে ইরান দলকে। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধের কারণে দলটিকে তাদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনার টুসন থেকে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় সরিয়ে নিতে হয়। ড্রেসিংরুমে রেখে যাওয়া ইরানি ফুটবলারদের হাতে লেখা চিঠি। ছবি: ডেইল মেইল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে ইরান দল ম্যাচের আগের দিন লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছায়। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হয়। এ ছাড়া দলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর খেলোয়াড় মেহদি তোরাবির একবার প্রবেশযোগ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে নতুন ভিসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে আবেদন করতে হয়। ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই এই বিধিনিষেধের সমালোচনা করে তার দলকে “পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দল” বলে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় নিউইয়র্ক শহর যখন এক বিশাল আন্তর্জাতিক উৎসবের রূপ নিয়েছে, তখন স্থানীয় রেস্তোরাঁকর্মী ও বারটেন্ডাররা পড়েছেন নতুন এক বিড়ম্বনায়। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীরা আমেরিকার বকশিশ বা 'টিপিং' সংস্কৃতির সঙ্গে খুব একটা পরিচিত নন। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে অঞ্চলটিতে প্রায় ১২ লাখ দর্শকের সমাগম ঘটছে। সকালের কিকঅফ থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বার ও রেস্তোরাঁগুলো কানায় কানায় পূর্ণ থাকছে। বিক্রি বাড়লেও, কর্মীদের প্রাপ্ত বকশিশের পরিমাণ হতাশাজনক। তবে এর সমাধানে আমেরিকার বেশ কয়েকটি শহরের রেস্তোরাঁ মালিকরা ইতোমধ্যে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন। আরও পড়ুন... ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে কনসার্ট চলাকালে ৫১ বছর বয়সী দর্শকের মৃত্যু, উঁচু স্থান থেকে পড়ে প্রাণহানি রেস্তোরাঁ শিল্প সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলো জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন ক্যানসাস সিটি, আটলান্টা এবং ফিলাডেলফিয়ার মতো শহরের অনেক রেস্তোরাঁ গ্রাহকদের বিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০ শতাংশ বকশিশ বা গ্র্যাচুইটি যোগ করতে শুরু করেছে। রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো সেসব মার্কিন সার্ভারদের সুরক্ষা দেওয়া, যাদের আয়ের একটি বড় অংশ আসে এই বকশিশ থেকে। এর পাশাপাশি, আমেরিকার টিপিং নিয়মনীতি সম্পর্কে অপরিচিত বিদেশি পর্যটকদের বিভ্রান্তি এড়াতেও এটি সাহায্য করবে। ওয়েস্ট ৪৬ নম্বর স্ট্রিটে অবস্থিত ম্যাকার্থি'স পাবের ওয়েট্রেস লুইস ড্যাগেট জানান, আন্তর্জাতিক দর্শকদের সেবা দেওয়াটা যেমন ক্লান্তিকর, তেমনি বেশ আনন্দদায়কও। তিনি বলেন, দর্শকরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত ও অমায়িক হলেও বিল পরিশোধ এবং বকশিশ হিসাব করার মার্কিন রীতিতে তারা বেশ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অনেক গ্রাহক কয়েক ঘণ্টা ধরে পানীয় পান করে প্রায় ৭০০ ডলারের বিশাল বিল তুললেও কোনো বকশিশ রেখে যাচ্ছেন না। আরও পড়ুন...নিউইয়র্কের হারলেম পার্কে গোলাগুলি, দুই কিশোরসহ আহত ৪ ড্যাগেট অবশ্য এর জন্য পর্যটকদের অভদ্রতাকে দায়ী করছেন না, বরং তিনি মনে করেন, এখানকার রীতি সম্পর্কে তারা সত্যিই অজ্ঞ। পর্যটকরা যখন এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান, তখন ড্যাগেট হাসিমুখে তাদের বুঝিয়ে বলেন যে, নিউইয়র্কে টিপিং একটি প্রচলিত ও প্রশংসনীয় সংস্কৃতি। কয়েক ব্লক দূরে অবস্থিত হার্লে'স সেলুনের সহ-মালিক অ্যান ক্যালিম্যানো জানান, এই বিশ্বকাপ শহরের সাধারণত ধীরগতির ব্যবসায়ের মৌসুমকে একটি নিরবচ্ছিন্ন পার্টিতে পরিণত করেছে। ব্যবসা চমৎকার হলেও বকশিশের হার একেবারেই স্বাভাবিক নয়। এর কারণ হিসেবে তিনি সাংস্কৃতিক পার্থক্যকেই তুলে ধরেন। ইউরোপের অনেক দেশে রেস্তোরাঁর বিলেই সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই পর্যটকরা ধরে নেন এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। পর্যটকদের এই সংস্কৃতির সঙ্গে কর্মীরাও এখন মানিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, গার্ভে'স আইরিশ পাবের বারটেন্ডার ক্যাথাল রেনল্ডসও বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ সন্তুষ্ট। তিনি জানান, পর্যটকরা এমনিতেই অনেক অর্থ ব্যয় করে এখানে এসেছেন, তাই বকশিশের বিষয়ে তিনি খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না। তবে তিনি নতুন পর্যটকদের স্থানীয় মার্কিন সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে তাদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও আনন্দদায়ক হয়।
বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে কেপ ভার্দেকে ঐতিহাসিক ড্র এনে দেওয়া গোলরক্ষক ভোজিনহার আবেগঘন এক আক্ষেপের অবসান হতে যাচ্ছে। ছেলের বিশ্বকাপের খেলা সরাসরি মাঠে বসে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন তার মা আনা কান্দিদা এভোরা। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে আলোচনায় আসেন ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে মায়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সে সময় তিনি জানান, অর্থসংকট ও ভিসা জটিলতার কারণে তার মা গ্যালারিতে বসে ছেলের বিশ্বকাপের স্বপ্নপূরণের মুহূর্তটি দেখতে পারেননি। ভোজিনহার সেই অশ্রুসিক্ত বক্তব্য দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার মায়ের অনুপস্থিতির গল্প ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় স্পর্শ করে এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। কেপ ভার্দের সাও ভিসেন্তে দ্বীপের সেসারিয়া এভোরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন আনা কান্দিদা এভোরা। যাত্রার আগে নাতি মারভিন জুনিয়র ও নাতনি লাইস সোফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দরে তোলা তার কয়েকটি আবেগঘন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ছবিগুলোতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আনন্দঘন মুহূর্ত ফুটে উঠেছে। এর আগে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভোজিনহা বলেছিলেন, বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ হলেও মায়ের অনুপস্থিতি তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে। জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের মুহূর্তটি তিনি মায়ের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান এই গোলরক্ষক। এবার সেই আক্ষেপ দূর হতে যাচ্ছে। গ্যালারিতে বসে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন আনা কান্দিদা এভোরা, যা ভোজিনহা ও তার পরিবারের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুল ইসলাম শহিদকে মারধর ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম শহিদ। ফেসবুক পোস্টে শহিদ দাবি করেন, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে তিনি ও তার হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা দেখতে যান। খেলার প্রায় ৩০-৩১ মিনিটের সময় রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হল সংসদের জিএস আশিক শিকদার তাকে তাদের পাশে বসে খেলা দেখার জন্য ডাকেন। পরে তিনি এলইডি স্ক্রিনের পাশে সুতা দিয়ে ঘেরা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে ভিপির পাশে বসেন। তিনি আরও জানান, খেলা দেখার প্রায় এক মিনিট পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি সেখানে আসেন। ওই সময় ভিপি একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে স্থান ত্যাগ করলে আম্মার তাকে ওই স্থান থেকে সরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আম্মার তার গেঞ্জির কলার ধরে টানাটানি করেন এবং সেখানে কেউ থাকতে পারবে না বলে জানান। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক দড়ির ভেতরের স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পোস্টে শহিদ আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ভিপি ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। তখন তিনি ভবিষ্যতে রাকসুর কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অনাগ্রহের কথা জানান। পরে ভিপি তাকে অন্যত্র নিয়ে যান। এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী রাকসুর সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ নূন বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তবে মূল ঘটনা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তার ভাষ্য, তিনি স্ক্রিনের পাশে বক্সের একদম সামনে অবস্থান করছিলেন। সেখানে কী কথা হয়েছে বা কোনো গালাগালির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তিনি স্পষ্টভাবে শুনতে পাননি। পরে তিনি অভিযোগকারীর ফেসবুক পোস্টটি দেখেন বলে জানান। অন্যদিকে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি দাবি করেন, খেলা প্রদর্শনীতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, স্ক্রিনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকায় দর্শকদের, বিশেষ করে নারী দর্শকদের খেলা দেখতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্য পাশে গিয়ে বসতে বলেন। তিনি আরও বলেন, তাকে কোনো ধরনের শারীরিকভাবে স্পর্শ করা হয়নি এবং অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার দাবি, ঘটনাটির সময় ওই শিক্ষার্থী অশালীন ভাষা ব্যবহার করে স্থান ত্যাগ করেন। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পরই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় ইরান জাতীয় ফুটবল দলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ম্যাচ শেষে নির্ধারিত বিশ্রামের সুযোগ না পেয়ে রাতেই মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা দিতে বাধ্য হওয়ায় প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই এবং অধিনায়ক মেহেদি তারেমি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে সোমবার রাতটি স্থানীয় সময় ক্যালিফোর্নিয়াতেই কাটানোর কথা ছিল ইরান দলের। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের জানানো হয়, অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। ফলে রাতেই মেক্সিকোর উদ্দেশে বিমান ধরতে হয় দলটিকে। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই। তিনি বলেন, ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের জানানো হয় এখনই দেশ ছাড়তে হবে। তার ভাষায়, খেলোয়াড়দের শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়েই দলকে জোর করে যাত্রায় পাঠানো হয়েছে। দলের অধিনায়ক ও ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমিও একই ধরনের অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবেশের সময়ও দীর্ঘ সময় নিরাপত্তা চৌকিতে অপেক্ষা করতে হয়েছে দলকে। তারেমি বলেন, মেক্সিকো সীমান্ত পার হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে আসার সময় স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করতে হলেও নিরাপত্তা চেকপোস্টে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিনি জানান, কেন এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে তা দল বুঝতে পারছে না এবং পুরো বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সূচি অনুযায়ী ম্যাচের আগে ও পরে নির্ধারিত সময় পাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু হঠাৎ করে যেভাবে দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফিফার হস্তক্ষেপ কামনা করে অলিম্পিয়াকোসে খেলা এই ফরোয়ার্ড বলেন, খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে এবং তারা পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছেন না। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দলের জন্য চরম চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবারের বিশ্বকাপে ইরান নিজেদের বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে স্থাপন করেছে। ম্যাচ খেলার জন্য তারা সীমিত সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে। গ্রুপ ‘এ’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইরান। এরপর ২৮ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে তারা।
চলমান বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা নিয়েও প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ের পর দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনুই অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ইরানই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি ও বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছে। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ঘালেনুই বলেন, খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না দিয়েই দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া অন্য কোনো দলকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়নি। ইরান কোচ জানান, ভিসা জটিলতার কারণে দলের একাধিক কর্মকর্তা, সহায়ক কর্মী এবং ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। এতে দলের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। দলের অধিনায়ক মেহেদি তারেমিও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অতিরিক্ত ভ্রমণ এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দলকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব ফুটবল অঙ্গনে আলোচনায় আসে। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ইরানের মূল ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে দলটি মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানাকে বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করছে এবং প্রতিটি ম্যাচের জন্য সীমান্ত অতিক্রম করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ইরান দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরতে সক্ষম হয়। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের প্রস্তুতি, যাতায়াত এবং প্রশাসনিক জটিলতাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচ সামনে রেখে ইরান দল প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কোচ ও অধিনায়কের বক্তব্যে স্পষ্ট, মাঠের প্রতিপক্ষের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জও তাদের বিশ্বকাপ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
বিশ্বমঞ্চে নিজেদের খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে আজ সোমবার বিকেলে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হচ্ছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। আগামীকাল মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামছে আলবিসেলেস্তেরা। সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের রণকৌশল এবং দলের সার্বিক পরিস্থিতি জানাতেই আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই মাস্টারমাইন্ড। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্কালোনির সাথে আর্জেন্টিনার একজন খেলোয়াড়ও উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সেই খেলোয়াড়ের নাম এখনো কৌশলগত কারণে গোপন রেখেছে আর্জেন্টিনা টিম ম্যানেজমেন্ট। ফুটবল মহলে জোর গুঞ্জন চলছে যে, আজ কোচের পাশে আসন গ্রহণ করতে পারেন স্বয়ং আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগের দিনও স্কালোনির সাথে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। যদিও সেই উদ্বোধনী ম্যাচে আর্জেন্টিনা হেরেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতেছিল তারাই। চার বছর পর বিশ্বমঞ্চের প্রথম ম্যাচের আগে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে স্কালোনি কোনো লাকি টোটকা বা কুসংস্কারের পথ অবলম্বন করতে চান কি না, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এদিকে আলজেরিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে একমাত্র নিশ্চিত দুঃসংবাদ হলো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ইনজুরি। বাঁ পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি নিশ্চিতভাবেই মাঠের বাইরে থাকছেন। তবে দলের কোচিং স্টাফ আশা করছে, গ্রুপ ‘জে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাকে দলে পাওয়া যেতে পারে। যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তার শারীরিক রিকভারির ওপর। তাগলিয়াফিকোর এই আকস্মিক অনুপস্থিতিতে লেফট-ব্যাক পজিশনে স্কালোনি কাকে খেলাবেন, তা নিয়ে আর্জেন্টিনা দলে বেশ কিছুদিন ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। গত কয়েক সপ্তাহের চোটের ধাক্কা সামলে আর্জেন্টিনা দল এখন মানসিকভাবে দারুণ চাঙ্গা অবস্থানে রয়েছে। পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াকের পরিচালনায় আগামীকাল আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে স্কালোনির দল। তার আগে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে কোচ নিজেই দল নিয়ে সব ধরনের ধোঁয়াশা দূর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়, মাঠের বাইরের নানা গল্পও। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সৌভাগ্যের প্রতীক কিংবা অদ্ভুত অভ্যাস প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসে। এবারের বিশ্বকাপেও তেমনই এক ব্যতিক্রমী কারণে সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছেন স্পেনের ডিফেন্ডার Marc Cucurella। স্প্যানিশ এই লেফট-ব্যাক জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশ নিতে এসে তিনি নিজের লাগেজে স্ত্রীর একটি পায়জামা সঙ্গে করে এনেছেন। তার বিশ্বাস, এই পায়জামাটি তার জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে Spain national football team-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কুকুরেয়া ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও একই পায়জামা সঙ্গে নিয়েছিলেন। সেই টুর্নামেন্টে স্পেন শিরোপা জিতেছিল। এরপর থেকেই বিষয়টি তার কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেতে শুরু করে। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুকুরেয়া বলেন, তিনি বিশ্বকাপে কয়েকটি ব্যক্তিগত জিনিস সঙ্গে এনেছেন, যেগুলো তাকে মানসিকভাবে অনুপ্রাণিত করে। তার ভাষায়, “আমি কিছু বিশেষ জিনিস সঙ্গে এনেছি। আমার সন্তানরা আমাকে যে কয়েকটি চাবির রিং বানিয়ে দিয়েছে, সেগুলো রয়েছে। এছাড়া আমার স্ত্রীর একটি পায়জামাও এনেছি, যা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সময় আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল। এবারও সেটি স্যুটকেসে রেখেছি, যদি আবারও সৌভাগ্য বয়ে আনে।” ফুটবল ইতিহাসে এমন ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। বিশ্বের অনেক তারকা খেলোয়াড়ই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে নিজেদের সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে নির্দিষ্ট পোশাক, তাবিজ, পারিবারিক উপহার কিংবা ব্যক্তিগত স্মারক সঙ্গে রাখেন। অনেকের কাছে এগুলো কুসংস্কার মনে হলেও খেলোয়াড়দের মতে, এসব বিষয় মানসিক স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে মানসিক প্রস্তুতি শারীরিক প্রস্তুতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনেক ফুটবলারই নিজের পরিচিত পরিবেশ বা প্রিয় স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত কিছু জিনিস কাছে রাখার চেষ্টা করেন। কুকুরেয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক তেমনই। তিনি এটিকে কোনো রহস্যময় সৌভাগ্যের উপাদান হিসেবে নয়, বরং পরিবারের সঙ্গে আবেগগত সংযোগ এবং আত্মবিশ্বাসের উৎস হিসেবে দেখছেন। ২০২৪ ইউরোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার বিশ্বকাপেও স্পেনের অন্যতম ভরসার নাম কুকুরেয়া। এখন দেখার বিষয়, তার ‘সৌভাগ্যের সঙ্গী’ পায়জামা সত্যিই স্পেনকে আরেকটি বড় শিরোপার পথে এগিয়ে নিতে পারে কি না। বিশ্বকাপের মঞ্চে ট্রফি জয়ের লড়াই যেমন চলবে, তেমনি মাঠের বাইরের এমন মানবিক ও ব্যতিক্রমী গল্পও সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।