আমেরিকা

৩০০ ডলারের বিল, বকশিশ মাত্র ৪ ডলার—বিশ্বকাপ পর্যটকদের ওপর ক্ষুব্ধ মার্কিন রেস্তোরাঁ কর্মীরা

Unknown প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৭:৬
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম দুই সপ্তাহে লাখ লাখ বিদেশি পর্যটক মন ভরে উপভোগ করছেন বার্গার, বার্বিকিউসহ হরেক রকমের খাঁটি আমেরিকান খাবার ও পানীয়। তবে ভুরিভোজ শেষে রেস্তোরাঁ বা বারে বকশিশ বা ‘টিপস’ দেওয়ার চেনা আমেরিকান সংস্কৃতিতে মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে এই দর্শকদের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীদের এই বকশিশ-বিমুখতায় চরম বিপাকে পড়েছেন আমেরিকার ১১টি আয়োজক শহরের রেস্তোরাঁ ও বারের কর্মীরা। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির এক বারে আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার ম্যাচ চলাকালীন একটি বড় দল প্রায় ৩০০ ডলারের বিল করার পর মাত্র ৪ ডলার বকশিশ রেখে যায়। এই ঘটনাটিকে চরম হতাশাজনক ও আপত্তিকর বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই বারের কর্মী জেসিকা ওর্দেনিয়ানা।

 

আমেরিকার বকশিশ সংস্কৃতির এই মারপ্যাঁচ বিদেশিদের কাছে প্রায়শই গোলমেলে ঠেকে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক রেস্তোরাঁ কর্মী বা বারটেন্ডারদের মূল মজুরি ঘণ্টায় মাত্র ২ দশমিক ১৩ ডলারের মতো নগণ্য হতে পারে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য তারা পুরোপুরি গ্রাহকদের দেওয়া বকশিশের ওপর নির্ভর করেন। এই কারণেই দেশটিতে যেকোনো বিলের ওপর অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বকশিশ দেওয়া একপ্রকার বাধ্যতামূলক সামাজিক নিয়ম। অপরদিকে ইউরোপ বা বিশ্বের অন্যান্য দেশে খাবারের মূল্যের সঙ্গেই সার্ভিস চার্জ যুক্ত থাকে এবং সেখানকার রেস্তোরাঁ কর্মীরা সাধারণ নিয়মে ভালো বেতন পান। ফলে সেসব দেশে বকশিশ দেওয়াটা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক এবং সর্বোচ্চ এক বা দুই ইউরো দিলেই চলে। এই সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণেই মূলত বাঁধছে যত বিপত্তি।

 

অবশ্য অনেক পর্যটকই ইচ্ছে করে এমনটা করছেন না, বরং তারা স্থানীয় নিয়মটি বুঝতে না পেরে কর্মীদের কাছে জানতে চান কীভাবে বকশিশের হিসাব করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ চলাকালীন নিজেদের কর্মীদের আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে অনেক বার ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এখন মোট বিলের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ বকশিশ (অটো গ্র্যাচুইটি) জুড়ে দিচ্ছে। তবে ম্যাচ চলাকালীন অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক সময় এই নিয়ম কার্যকর করতে ভুল হয়ে যাচ্ছে। আবার কানসাস সিটির মতো কিছু শহরের রেস্তোরাঁ মালিকরা এই স্বয়ংক্রিয় বকশিশের নিয়ম চালু করে উল্টো লোকসানের মুখে পড়েছেন; কারণ অতিরিক্ত খরচের ভয়ে অনেক গ্রাহক শহরের কেন্দ্রস্থলের রেস্তোরাঁগুলো এড়িয়ে চলছেন, আবার কেউ কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তি টাকা কাটায় অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

 

আমেরিকার এই বহু পুরনো বকশিশ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন সমাজকর্মী ও বিশ্লেষকরা। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর ইউরোপীয় সামন্তবাদী প্রথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই বকশিশ ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছিল। কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে খাটিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রেস্তোরাঁ মালিকরা বকশিশের নিয়ম চালু করেন, যা মূল বেতনের পরিপূরক না হয়ে কালক্রমে বেতনের বিকল্প হিসেবে রূপ নেয়। বিশ্বকাপ ফুটবলের এই মহোৎসবে বিদেশি পর্যটকদের বকশিশ দেওয়ার অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের সেই শতবর্ষী বিতর্ক

 

সূত্রঃ ইয়াহু নিউজ 

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রেকর্ড ২০৪ কোটি ডলারের পাওয়ারবল লটারি জ্যাকপট জেতা একমাত্র বিজয়ী এডউইন কাস্ত্রো (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত
২০৪ কোটি ডলারের লটারি জিতে ট্যাক্সের পর হাতে ৬২ কোটি ৮০ লাখ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লটারি জ্যাকপট জিতেছিলেন এডউইন কাস্ত্রো। পাওয়ারবল লটারির সেই জ্যাকপটের মূল্য ছিল ২০৪ কোটি ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ার আলতাডেনার একটি ছোট সার্ভিস স্টেশন থেকে কেনা টিকিটে একমাত্র বিজয়ী হন তিনি। তবে ২০৪ কোটি ডলারের পুরো অর্থ একসঙ্গে হাতে পাননি কাস্ত্রো।   জ্যাকপটের ঘোষিত ২০৪ কোটি ডলারের অঙ্কটি ছিল প্রায় ৩০ বছর ধরে কিস্তিতে অর্থ নেওয়ার হিসাব। কাস্ত্রোর সামনে এককালীন অর্থ নেওয়ার সুযোগও ছিল। তিনি কিস্তিতে অর্থ নেওয়ার বদলে এককালীন অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   এককালীন অর্থ হিসেবে কাস্ত্রোর পাওনা দাঁড়ায় প্রায় ৯৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২০৪ কোটি ডলারের ঘোষিত জ্যাকপটের তুলনায় একবারে পাওয়া অর্থ ছিল অনেক কম।   এরপর তাঁর পাওয়া অর্থের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্যাক্স প্রযোজ্য হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় লটারি জয়ের অর্থের ওপর রাজ্য আয়কর নেওয়া হয় না। তবে ফেডারেল ট্যাক্সের কারণে কাস্ত্রোর এককালীন পাওয়া অর্থ থেকে বড় একটি অংশ কেটে যায়।   ট্যাক্সের পর বিভিন্ন হিসাবে কাস্ত্রোর হাতে থাকা অর্থ দাঁড়ায় প্রায় ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২০৪ কোটি ডলারের ঘোষিত জ্যাকপট শেষ পর্যন্ত এককালীন অর্থ এবং ফেডারেল ট্যাক্সের পর কমে প্রায় ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে নেমে আসে।   সহজ হিসাবে পুরো বিষয়টি হলো, ঘোষিত জ্যাকপট ২০৪ কোটি ডলার, এককালীন অর্থ ৯৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার, আর ট্যাক্সের পর হাতে থাকে প্রায় ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।   কাস্ত্রোর জেতা পাওয়ারবল জ্যাকপটটি যুক্তরাষ্ট্রের লটারির ইতিহাসে রেকর্ড তৈরি করেছিল। বিজয়ী টিকিটটি ক্যালিফোর্নিয়ার আলতাডেনার একটি সার্ভিস স্টেশনে বিক্রি হয়েছিল এবং সেই টিকিটের একমাত্র বিজয়ী ছিলেন কাস্ত্রো।   লটারির ঘোষিত জ্যাকপট এবং বিজয়ীর হাতে থাকা প্রকৃত অর্থের মধ্যে পার্থক্যের মূল কারণ হলো পুরস্কার নেওয়ার পদ্ধতি ও ট্যাক্স। কিস্তিতে নিলে ঘোষিত পুরো অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাওয়া যায়, আর এককালীন অর্থ নিলে শুরুতেই তুলনামূলক কম অঙ্ক পাওয়া যায়। এরপর প্রযোজ্য ফেডারেল ট্যাক্স বাদ দিলে হাতে থাকা অর্থ আরও কমে যায়।   এই কারণে ২০৪ কোটি ডলারের বিশাল জ্যাকপট জিতলেও কাস্ত্রোর হাতে থাকা অর্থ শেষ পর্যন্ত ঘোষিত পুরস্কারের চেয়ে অনেক কম হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১২:৫০
স্ত্রী বিচ্ছেদের আবেদন করায় খননযন্ত্র দিয়ে নিজের বাড়ি ভাঙার অভিযোগে অভিযুক্ত পেনসিলভানিয়ার ইরিক পিয়েভশচা (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী বিচ্ছেদের আবেদন করতেই খননযন্ত্র দিয়ে নিজের বাড়ি ভাঙলেন স্বামী

কাবুলে নিখোঁজ হওয়ার চার বছর পর সন্ধান দিলে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণার আলোচনায় আফগান-আমেরিকান ব্যবসায়ী মাহমুদ শাহ হাবিবি। ছবি: সংগৃহীত

চার বছর ধরে নিখোঁজ আফগান-আমেরিকান শাহ হাবিবি, সন্ধান দিলে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার

ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ইনস্টাগ্রাম লাইভে নিজের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেছেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ। ছবি: সংগৃহীত

ইনস্টাগ্রাম লাইভে হরমোনের ইনজেকশন নিলেন মার্কিন নারী, জানালেন ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত

ভুল করে অ্যালকোহলযুক্ত একটি পানীয় পান করার পর নিজের দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার কারণ খুঁজে পান হান্নাহ সিদ্দিকি। ছবি: সংগৃহীত
যে ভুল পানীয় পান করেই দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার কারণ খুঁজে পেলেন তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ২৮ বছর বয়সী হান্নাহ সিদ্দিকি ভুল করে অ্যালকোহলযুক্ত একটি পানীয় পান করার পর নিজের দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যাগুলোর সম্ভাব্য কারণ খুঁজে পান। শৈশব থেকেই নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও সেগুলোকে আলাদা আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখেছিলেন তিনি। পরে ভুল পানীয় পান করার পর দেখা দেওয়া উপসর্গের সঙ্গে পুরোনো সমস্যাগুলোর সম্ভাব্য যোগসূত্র সামনে আসে।   ঘটনাটি ঘটে সান ফ্রান্সিসকোর একটি রেস্তোরাঁয়। ওই সময় সিদ্দিকি ১৯৭ দিন ধরে মদ্যপান থেকে বিরত ছিলেন। তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে রেস্তোরাঁয় গিয়ে একটি মকটেল পান করেন। পরে আরও একটি মকটেল অর্ডার করেন। বারটেন্ডার একটি বোতলে রাখা আগে থেকে তৈরি মিশ্রণ দিয়ে পানীয়টি তৈরি করে দেন। স্বাদে সেটি ফলের রসের মতো মনে হওয়ায় তিনি বুঝতে পারেননি যে পানীয়টিতে অ্যালকোহল রয়েছে।   গ্লাসের শেষের দিকে পৌঁছানোর পর সিদ্দিকির মাথা হালকা লাগতে শুরু করে এবং তিনি কিছুটা মাতাল অনুভব করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, পানীয়টি আসলে তার চাওয়া মকটেল ছিল না। পরদিন সকালে তার মাইগ্রেন, পেটের সমস্যা, ঠান্ডা লাগা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। প্রথমে তিনি এসব উপসর্গকে অ্যালকোহল পান করার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বলে মনে করেছিলেন।   কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত ভালো হয়নি। সিদ্দিকি জানান, প্রায় তিন দিন তিনি এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে সোফা থেকে উঠতেও পারছিলেন না। তার ত্বক গরম ও চুলকানিযুক্ত হয়ে ওঠে। খাবার খেলে বমিভাব তৈরি হতো। পরে সামান্য জ্বরও দেখা দেয়। একই সঙ্গে তিনি এমন এক ধরনের উদ্বেগ অনুভব করেন, যা তার মতে শুধু ওই ঘটনায় অ্যালকোহল পান করার কারণে তৈরি হয়নি।   ঘটনার দুই দিন পর নিজের শারীরিক সমস্যার বিষয়ে তিনি ক্লড নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তার আগের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার তথ্যও ছিল। চ্যাটবটটি নতুন উপসর্গের সঙ্গে শৈশব থেকে থাকা কিছু সমস্যার সম্ভাব্য যোগসূত্র তুলে ধরে।   সিদ্দিকি জানান, ছোটবেলা থেকেই তার অতিরিক্ত ক্লান্ত হলে নাক বন্ধ হয়ে যেত। চুল অপসারণের পর মুখে চাকা ওঠার মতো প্রতিক্রিয়াও হতো। এ ছাড়া বিভিন্ন খাবার খেলে তার শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও অ্যালার্জির পরীক্ষায় তা ধরা পড়েনি। এসব বিষয় তিনি এতদিন আলাদা আলাদা শারীরিক সমস্যা হিসেবেই দেখেছিলেন।   চ্যাটবটটি এসব উপসর্গের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে মাস্ট সেল অ্যাক্টিভেশন সিনড্রোম বা এমসিএএসের কথা তুলে ধরে। এই অবস্থায় শরীরের মাস্ট সেল অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। চুলকানি, চাকা ওঠা, শরীর ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাসহ বিভিন্ন উপসর্গ এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।   সিদ্দিকি পরে বিষয়টি তার চিকিৎসকের কাছে তুলে ধরেন। চিকিৎসকও এটিকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করেন এবং অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। সিদ্দিকি জানান, ওষুধ শুরু করার তৃতীয় দিন থেকেই তিনি ভালো অনুভব করতে শুরু করেন।   তবে নিউজউইকের সঙ্গে কথা বলা রোগ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ মেহাক জহুর খান সতর্ক করে বলেছেন, অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহারের পর উপসর্গ কমে যাওয়া একাই এমসিএএসের নিশ্চিত প্রমাণ নয়। সাধারণ পরিবেশগত বা খাবারের অ্যালার্জির ক্ষেত্রেও অ্যান্টিহিস্টামিন উপকার করতে পারে। তাই শুধু ওষুধে উপকার পাওয়ার ভিত্তিতে এই রোগ নিশ্চিত করা যায় না।   বিশেষজ্ঞের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরঞ্জাম চিকিৎসাবিষয়ক শব্দ ও সম্ভাব্য সম্পর্ক বুঝতে মানুষকে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব সরঞ্জাম দিয়ে এমসিএএস বা অন্য কোনো রোগ নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা নিরাপদ নয়। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন।   সিদ্দিকি এখন নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস, পরিপূরক গ্রহণ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরে হিস্টামিনের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে নিজের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অভিজ্ঞতাকে তিনি অনলাইন কনটেন্ট ও আধ্যাত্মিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন।   সিদ্দিকির এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার প্রকাশ করা ভিডিওটি ৩১ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাকে আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখার পর ভুল করে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান করার ঘটনায় নতুন উপসর্গ দেখা দেয়। সেই ঘটনাই তাকে পুরোনো সমস্যাগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে দেখার দিকে নিয়ে যায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১১:২৯
১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা পাওয়ার পর অবশেষে ৮৮ বছর বয়সে অবসরের সুযোগ পেলেন মার্কিন সেনাসদস্য এড বামবাস। ছবি: সংগৃহীত

৮৮ বছরেও কাজ করছিলেন মার্কিন সেনা, ১৭ লাখ ডলার সহায়তায় মিলল অবসর

ডিয়ারবর্ন হাইটসে নিজের গাড়ি ও বাড়ির মাঝে চাপা পড়ে প্রাণ হারানো পাঁচ সন্তানের একক মা নাদা শুকেইয়ার। ছবি: সংগৃহীত

গাড়ি থামাতে গিয়ে নিজের গাড়ির চাপায় প্রাণ গেল পাঁচ সন্তানের মায়ের

অ্যারিজোনায় হত্যার শিকার হওয়া ১৯ বছর বয়সী জুলিসা রুবি সালাজার এবং অভিযুক্ত প্রেমিক ভারতীয় শিক্ষার্থী ভারুন ব্যাচিগারি (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকাকে হত্যা করে পালানোর পথে জার্মানিতে গ্রেপ্তার ভারতীয় শিক্ষার্থী, ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে

ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেনে খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়ে বন্দুকধারীদের হামলার মুখে পড়েন এক ডেলিভারি কর্মী। ছবি: সংগৃহীত
বন্দুক দেখিয়ে ডাকাতির চেষ্টা, নিজের অস্ত্রেই হামলাকারীকে হত্যা করল ফুড ডেলিভারিম্যান

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেনে খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়ে বন্দুকধারী দুই ব্যক্তির হামলার মুখে পড়ে আত্মরক্ষায় একজনকে গুলি করে হত্যা করেছেন ২৮ বছর বয়সী এক ডেলিভারি কর্মী। ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থলে থেকে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেন এবং তার আত্মরক্ষার দাবির পক্ষে আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহে সহায়তা করেন।   ঘটনার সময় ওই ডেলিভারি কর্মী একটি খাবারের অর্ডার পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে দুই ব্যক্তি তাকে বন্দুকের মুখে জিম্মি করার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি নিজের বৈধভাবে বহন করা অস্ত্র বের করে গুলি চালান।   প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে সাত থেকে ১২টি গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে দুই সন্দেহভাজনের একজন গুলিবিদ্ধ হন। ওই ব্যক্তি তখন কালো স্কি মাস্ক পরা ছিলেন।   গুলিবিদ্ধ সন্দেহভাজনকে এয়ারলিফট করে আভেনচুরা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।   ঘটনার পর ডেলিভারি কর্মী পালিয়ে না গিয়ে ঘটনাস্থলেই অবস্থান করেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করেন। নিজের আত্মরক্ষার দাবির পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহে তিনি আশপাশের বাসাবাড়ির নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও খুঁজতে সহায়তা করেন।   পরে স্থানীয় একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে ডেলিভারি কর্মীর দেওয়া ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। এতে তার আত্মরক্ষার দাবির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মেলে।   তবে হামলায় জড়িত দ্বিতীয় সন্দেহভাজন গুলিবর্ষণের পর ঘটনাস্থল থেকে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।   ঘটনাটি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তাধীন। আত্মরক্ষার পরিস্থিতিতে অস্ত্র ব্যবহারের বৈধতা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১০:১৬
বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব

নায়ক থেকে গায়ক, অপূর্বর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ নিউইয়র্কের দর্শক

জন্মের পরপরই পরিত্যক্ত হওয়া ফ্রেডি ফিগার্স আজ একজন সফল প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং ইনসেটে তাঁর দত্তক বাবা-মা। ছবি: সংগৃহীত

জন্মের পর মা ফেলে গিয়েছিলেন, সেই শিশুই একদিন গড়ে তুললেন কোটি ডলারের ব্যবসা

নিউইয়র্ক সিটিতে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মাদক ও অ্যালকোহলজনিত সমস্যা সামনে এসেছে। ছবি: এপি নিউজ

নিউইয়র্কে গৃহহীনদের করুণ পরিণতি, প্রায় অর্ধেক মৃত্যুর পেছনে মাদক ও অ্যালকোহল

0 Comments