- প্রচ্ছদ
- Topic
ভারতীয় নাগরিক
বাংলাদেশে পরিচয় হওয়া এক নারীর সঙ্গে দেখা করতে এসে মারা যাওয়া ভারতীয় নাগরিক প্রবীর মণ্ডলের মরদেহ গত পাঁচ বছর ধরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। আইনি জটিলতা, স্বজনদের অনাগ্রহ এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের অভাবে মরদেহটি এখনও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে দেশে দাহ করার উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, মামলা-সংশ্লিষ্ট নথি এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নিমচা মৈত্রী স্ট্রিট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন প্রবীর মণ্ডল। তার বাবার নাম মহাদেব মণ্ডল। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশের এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। একই বছরের নভেম্বর মাসে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে তিনি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে আসেন। সেখানে আজিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রবীর। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর একটি মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন করা হয়। কিন্তু এরপর কেটে গেছে পাঁচ বছর, এখনও সেই মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরেই সংরক্ষিত রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রবীর মণ্ডলের পোশাক থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় পাসপোর্টে দেখা যায়, তিনি ২০১৭ সালের ৩ মার্চ তিন মাসের ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং ২০১৮ সালের ১৬ মার্চ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরে যান। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি কীভাবে আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের হিমঘরের দায়িত্বে থাকা এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন সংরক্ষণে থাকার কারণে এবং বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ নানা কারণে মরদেহটির অবস্থা মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে সেটি অনেকটাই বিকৃত হয়ে পড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরে একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহটি ভারতের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, প্রবীর মণ্ডলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে তারা এখন পর্যন্ত মরদেহ গ্রহণে আগ্রহ দেখাননি। এদিকে হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মরদেহটি মর্গে পড়ে থাকলেও বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে ওঠেনি। ফলে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর কিংবা স্থানীয়ভাবে শেষকৃত্যের কোনো সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
সিঙ্গাপুরের চায়নাটাউনের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার) মূল্যের একটি হিরা চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন দুই ভারতীয় নাগরিক। আসল হিরার পরিবর্তে একই আকার ও নম্বরের নকল হিরা রেখে পালানোর কৌশলও নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু পুরো ঘটনাই ধরা পড়ে দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায়। পরে দেশ ছাড়ার আগেই বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ৪১ বছর বয়সী মাঙ্গরোলিয়া মনোজকুমার কুরজিভাইকে দুই বছর দুই মাস দুই সপ্তাহের কারাদণ্ড দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের আদালত। তিনি চুরির অভিযোগ স্বীকার করার পর গত ১৭ জুলাই আদালত এ রায় দেন। একই মামলার অপর অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী সেরাসিয়া মিলান রামনিকভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, দুই অভিযুক্ত ভিজিট পাসে সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করেন। সেখানে যাওয়ার আগে ভারতের সুরাটে তারা আসল হিরার আকৃতি, ওজন ও সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে মিল রেখে একটি নকল হিরা তৈরি করান। উদ্দেশ্য ছিল দোকানের কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আসল হিরা বদলে নকলটি রেখে চলে যাওয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মনোজকুমার দোকানের বিক্রয় ব্যবস্থাপককে বিভিন্ন গয়না দেখানোর অনুরোধ করে ব্যস্ত রাখেন। সেই সুযোগে মিলান মুখে লুকিয়ে রাখা নকল হিরাটি বের করে প্রদর্শনের জন্য আনা ৪ দশমিক ৯৫ ক্যারেটের আসল হিরার সঙ্গে অদলবদল করেন। এরপর আসল হিরাটি মুখে লুকিয়ে ফেলেন। তবে তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি। দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হয়। দুই ব্যক্তি দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিক্রয় ব্যবস্থাপক বিশেষ পরীক্ষার যন্ত্রে হিরাটি পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন সেটি আসল নয়। ঘটনার পরপরই দুই অভিযুক্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই হোটেল থেকে চেক-আউট করেন এবং সেদিন সন্ধ্যায় ভারতের উদ্দেশে বিমানের টিকিট বুক করেন। কিন্তু চাঙ্গি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এ অভিবাসন কার্যক্রম শেষ করার সময় পুলিশ তাদের আটক করে। পরে মিলানের ব্যাগ তল্লাশি করে চুরি হওয়া আসল হিরাটি উদ্ধার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে জানায়, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র চুরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সিঙ্গাপুরে এসেছিলেন। অপরাধ সংঘটনের আগে থেকেই নকল হিরা তৈরি করা, আসল হিরা অদলবদলের কৌশল নির্ধারণ এবং দ্রুত দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা তাদের পূর্বপরিকল্পিত অপরাধের প্রমাণ। অন্যদিকে, দণ্ডপ্রাপ্ত মনোজকুমার আদালতে দোভাষীর মাধ্যমে জানান, ভারতে তার দুই সন্তান রয়েছে। তিনি আদালতের কাছে কম শাস্তির আবেদন করেছিলেন। তবে অপরাধের ধরন, পরিকল্পনা ও আর্থিক ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় আদালত কারাদণ্ডের রায় দেন। সূত্র: এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে ইউ-ভিসার আবেদন করার একটি আলোচিত মামলায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, এ মামলায় অভিযুক্ত ৪০ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক মিতুল প্যাটেল ফেডারেল আদালতে ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের ফেডারেল আদালতে মিতুল প্যাটেল দোষ স্বীকার করেন। আদালত আগামী ২৯ জুলাই তার সাজা ঘোষণা করবেন। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মিতুল প্যাটেল অর্থের বিনিময়ে একটি পরিকল্পিত ভুয়া সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই ঘটনাটি বাস্তবে কোনো অপরাধ ছিল না; বরং অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য আগেই পরিকল্পনা করে এটি সাজানো হয়েছিল। বিচার বিভাগের অভিযোগে বলা হয়েছে, এই চক্রের মূল সংগঠক ছিলেন রামভাই প্যাটেল। তিনি বিভিন্ন কনভেনিয়েন্স স্টোর, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভুয়া ডাকাতির ঘটনা সাজানোর ব্যবস্থা করতেন। সংশ্লিষ্ট দোকান মালিক ও অংশগ্রহণকারীরা আগেই পুরো পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত ছিলেন। ঘটনাগুলোকে বাস্তব মনে করাতে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হতো এবং পরে পুলিশকে খবর দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন তৈরি করা হতো। এরপর সেই পুলিশ রিপোর্ট ও ভিডিও ফুটেজ ইউ-ভিসার আবেদনের সমর্থনে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলায় মিতুল প্যাটেল ছাড়াও জিতেন্দ্রকুমার প্যাটেল, মহেশকুমার প্যাটেল, সঞ্জয়কুমার প্যাটেল, দীপিকাবেন প্যাটেল, রমেশভাই প্যাটেল, অমিতাবাহেন প্যাটেল, রোনাককুমার প্যাটেল, সঙ্গীতাবেন প্যাটেল, মিনকেশ প্যাটেল এবং সোনাল প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দীপিকাবেন প্যাটেলকে এরই মধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অভিযোগপত্র দাখিলের সময় বাকি অভিযুক্তরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন নথি ছাড়া অবস্থান করছিলেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইউ-ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ মানবিক অভিবাসন কর্মসূচি, যা গুরুতর অপরাধের প্রকৃত শিকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে সহযোগিতা করা বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা ও বৈধভাবে দেশটিতে থাকার সুযোগ দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই মামলায় সেই কর্মসূচির অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ইউ-ভিসা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সম্ভাব্য জালিয়াতির বিরুদ্ধে তাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ মনে করিয়ে দিয়েছে, আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হলেও যেসব অভিযুক্ত এখনও দোষ স্বীকার করেননি বা যাদের বিচার শেষ হয়নি, তারা আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সুবিধা পেতে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা ফাঁস হয়েছে। সিনেমাকেও হার মানানো পরিকল্পনায় সশস্ত্র ডাকাতির ভুয়া নাটক সাজিয়ে বিশেষ ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করে ১০ ভারতীয় নাগরিকের একটি চক্র। ঘটনাটি ঘটেছে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তদন্ত সংস্থাগুলোকেও বিস্মিত করেছে। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সশস্ত্র ডাকাত সেজে দোকানে হামলা চালানো হতো। একই সময়ে দোকানের কর্মীরা ভয়ে আতঙ্কিত হওয়ার অভিনয় করতেন। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হতো, যাতে নিজেদের সশস্ত্র হামলার শিকার দাবি করে বিশেষ অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করা যায়। এই অভিনব প্রতারণার কৌশল দীর্ঘদিন গোপন থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে। ২০২৩ সালে সংঘটিত ওই সাজানো ডাকাতির ঘটনার তদন্তে একে একে বেরিয়ে আসে চক্রের সব তথ্য। ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস জানিয়েছে, দোকানের ক্যাশ থেকে অর্থ লুটের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ সাজানো এবং প্রতারণার উদ্দেশ্যে পরিচালিত। মামলাটি আদালতে গড়ালে জুরি বোর্ড অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাজা ভোগের পর তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য এমন জালিয়াতি শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি গোটা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাকে ক্ষুণ্ন করে। বোস্টনের আদালতের নথিতে ঘটনাটি এখন একটি নজিরবিহীন প্রতারণার উদাহরণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত ১০ ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে দোকানে সাজানো ডাকাতির মাধ্যমে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতের জুরি এই অভিযোগ গঠন করেছে। মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন দোকানের কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা সাজাতেন। পরে ওই কর্মীরা নিজেদের ‘অপরাধের শিকার’ দাবি করে বিশেষ ভিসার জন্য আবেদন করতেন। এই বিশেষ ভিসা সাধারণত অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া হয়, যা অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জিতেন্দ্রকুমার প্যাটেল, মহেশকুমার প্যাটেল, সঞ্জয়কুমার প্যাটেল, দীপিকাবেন প্যাটেল, রমেশভাই প্যাটেল, অমিতাবাহেন প্যাটেল, রোনাককুমার প্যাটেল, সংগীতাবেন প্যাটেল, মিনকেশ প্যাটেল ও সোনাল প্যাটেল। তাদের মধ্যে দীপিকাবেন প্যাটেলকে ইতিমধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রমেশভাই প্যাটেল ও রোনাককুমার প্যাটেল বর্তমানে অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদের আগে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সাজা শেষে তাদের সবাইকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। তদন্তে জানা গেছে, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী রমেশভাই প্যাটেল ও তার সহযোগীরা ম্যাসাচুসেটসসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি দোকানে সাজানো ডাকাতির ঘটনা ঘটান। এর উদ্দেশ্য ছিল দোকানের কর্মচারীদের ভুক্তভোগী হিসেবে দেখিয়ে ভিসা আবেদনে সুবিধা নেওয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঘটনায় একজন ভুয়া ডাকাত অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ক্যাশ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেত। পুরো ঘটনাটি দোকানের নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা হতো। এরপর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে দোকানের কর্মী বা মালিক পুলিশে খবর দিতেন। এই ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রমেশভাই প্যাটেল ও তার গাড়িচালক বলিউন্দর সিং গ্রেপ্তারের পর। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের মে মাসে তারা দোষী সাব্যস্ত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।