আমেরিকা

ভিসা পেতে সাজানো ডাকাতি: যুক্তরাষ্ট্রে ১০ ভারতীয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৬:১০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত ১০ ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে দোকানে সাজানো ডাকাতির মাধ্যমে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতের জুরি এই অভিযোগ গঠন করেছে।

 

মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন দোকানের কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা সাজাতেন। পরে ওই কর্মীরা নিজেদের ‘অপরাধের শিকার’ দাবি করে বিশেষ ভিসার জন্য আবেদন করতেন। এই বিশেষ ভিসা সাধারণত অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া হয়, যা অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

 

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জিতেন্দ্রকুমার প্যাটেল, মহেশকুমার প্যাটেল, সঞ্জয়কুমার প্যাটেল, দীপিকাবেন প্যাটেল, রমেশভাই প্যাটেল, অমিতাবাহেন প্যাটেল, রোনাককুমার প্যাটেল, সংগীতাবেন প্যাটেল, মিনকেশ প্যাটেল ও সোনাল প্যাটেল।

 

তাদের মধ্যে দীপিকাবেন প্যাটেলকে ইতিমধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রমেশভাই প্যাটেল ও রোনাককুমার প্যাটেল বর্তমানে অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদের আগে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সাজা শেষে তাদের সবাইকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

 

তদন্তে জানা গেছে, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী রমেশভাই প্যাটেল ও তার সহযোগীরা ম্যাসাচুসেটসসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি দোকানে সাজানো ডাকাতির ঘটনা ঘটান। এর উদ্দেশ্য ছিল দোকানের কর্মচারীদের ভুক্তভোগী হিসেবে দেখিয়ে ভিসা আবেদনে সুবিধা নেওয়া।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঘটনায় একজন ভুয়া ডাকাত অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ক্যাশ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেত। পুরো ঘটনাটি দোকানের নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা হতো। এরপর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে দোকানের কর্মী বা মালিক পুলিশে খবর দিতেন।

 

এই ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রমেশভাই প্যাটেল ও তার গাড়িচালক বলিউন্দর সিং গ্রেপ্তারের পর। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের মে মাসে তারা দোষী সাব্যস্ত হন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
শিকাগোর ব্যাক অব দ্য ইয়ার্ডস এলাকার একটি গলির আবর্জনার পাত্র থেকে এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
শিকাগোয় আবর্জনার পাত্র থেকে নারীর গলিত লাশ উদ্ধার, এলাকায় রহস্য

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ব্যাক অব দ্য ইয়ার্ডস কমিউনিটি এলাকার একটি গলি থেকে এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে ওয়েস্ট ৫৪ নম্বর স্ট্রিটের ৭০০ ব্লকের পেছনে এবং এমেরাল্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি একটি আবর্জনার পাত্রের ভেতর থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।   উদ্ধারকৃত লাশটিতে ইতিমধ্যে পচন ধরেছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রবিবার সকাল পর্যন্ত এই নারীর পরিচয় কিংবা কীভাবে বা কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো সম্ভব হয়নি।   এই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ওয়েন্টওয়ার্থ এলাকার গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন। মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।   এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১০:৭
ইরান যুদ্ধের জেরে তেলের দাম বাড়ায় লুইজিয়ানার কৃষি বিমানের জ্বালানি খরচ এক দফায় ৩০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, চরম সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার কৃষকেরা

শিকাগোর ওয়েস্ট সাইডে খোলা জায়গায় থাকা ১৪ বছরের কিশোরের ওপর গুলি; এলাকা জুড়ে আতঙ্ক। ছবি: সংগৃহীত

শিকাগোর সাউথ অস্টিনে ১৪ বছরের এক কিশোরকে একাধিক গুলি, তদন্তে পুলিশ

৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদোর মৃত্যুর জেরে উত্তাল হিউস্টন; ইউনিয়ন কার্যালয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতকে স্মরণ। ছবি: সংগৃহীত

"আজ আমেরিকান হয়ে কষ্ট হচ্ছে", আইসিইর গুলিতে নিহত অভিবাসীকে ঘিরে হিউস্টনে শোকের ঢল

ত্বকের ক্যান্সারের আক্রান্ত মেয়ের ছবি সংগৃহীত
ব্রণ ভেবে ছয় বছর অবহেলা, শেষে ধরা পড়ল ত্বকের ক্যানসার; মুখের ছোট দাগ থেকেই মিলল ভয়াবহ সত্য

মুখে ছোট একটি ফুসকুড়ি দেখে প্রথমে তেমন গুরুত্ব দেননি যুক্তরাজ্যের কেন্টের গ্রেভসেন্ড এলাকার বাসিন্দা জ্যাকি ব্লোর। ছয় বছর ধরে সেটিকে সাধারণ একটি ত্বকের সমস্যা ভেবেই এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, সেটি আসলে ত্বকের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন ‘বেসাল সেল কার্সিনোমা (বিসিসি)’।   নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্যাকি জানান, দ্বিতীয় সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় প্রথম মুখে ছোট সাদা দানার মতো একটি দাগ দেখতে পান। তিনি ধারণা করেছিলেন এটি ‘মিলিয়া’—কেরাটিন জমে ত্বকের নিচে তৈরি হওয়া ক্ষতিকর নয় এমন ছোট সিস্ট।   তবে সময়ের সঙ্গে দাগটি না সেরে বরং মাঝেমধ্যে রক্তপাত শুরু করে এবং উপরে খোসা পড়তে থাকে। কখনোই পুরোপুরি ভালো না হওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।   প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসক জানান, এটি বেসাল সেল কার্সিনোমা হতে পারে। পরে দাগটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করে বায়োপসি করা হলে সেই আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হয়।   জ্যাকি বলেন, স্থানীয় অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে খুব অল্প সময়েই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তার মুখে চারটি সেলাই লেগেছিল এবং এখন ক্ষতটি ভালোভাবে সেরে গেছে। কেবল ছোট একটি দাগ রয়ে গেছে।   নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সতর্ক করতে প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, নতুন কোনো দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে, বিশেষ করে সেটি যদি রক্তপাত করে বা দীর্ঘদিনেও না সারে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা না করালে ক্যানসারটি ত্বকের গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তখন আরও জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, বেসাল সেল কার্সিনোমা হলো ত্বকের সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসার। সূর্যের অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি বা ট্যানিং বেডের কারণে ত্বকের বেসাল কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই ক্যানসার তৈরি হতে পারে। বিশ্বজুড়ে নন-মেলানোমা ত্বকের ক্যানসারের প্রায় ৮০ শতাংশই এই ধরনের।   বেসাল সেল কার্সিনোমার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মুক্তোর মতো চকচকে ছোট দানা, এমন ক্ষত যা দীর্ঘদিনেও সারে না, লালচে খসখসে দাগ অথবা মোমের মতো শক্ত দাগ। এগুলো সাধারণত শরীরের সেই অংশে দেখা যায়, যেখানে দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো পড়ে।   সাধারণভাবে এই ক্যানসার ধীরে ধীরে বাড়ে। তবে চিকিৎসা না করালে এটি আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। কিছু বিরল ধরনের বেসাল সেল কার্সিনোমা তুলনামূলক দ্রুতও ছড়াতে পারে। দ্রুত আকার বৃদ্ধি, অস্পষ্ট সীমানা, দীর্ঘদিন রক্তপাত বা ঘা না শুকানো এবং ক্ষতস্থান দাগের মতো শক্ত হয়ে যাওয়া—এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৯:৫
মার্কিন নার্স ম্যাকেঞ্জি মিখালস্কি ও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে পুলিশকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছবি:সংগৃহীত

মার্কিন নার্স হত্যার নেপথ্যে আইরিশ খুনির বিকৃত গোপন জীবন, আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

মনস্তাত্ত্বিক এআই সংবলিত ছবি সংগৃহীত

এআইয়ের যুগে চাকরির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, প্রস্তুতির অভাবে উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছবি সংগৃহীত

‘ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন তার মূল্য দিচ্ছে’—মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের বিশিষ্ট রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ ও সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ছবি সংগৃহীত
ইউক্রেন থেকে ইসরায়েল—মার্কিন কূটনীতির সক্রিয় মুখ লিন্ডসে গ্রাহাম আর নেই

মার্কিন সিনেটর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র লিন্ডসে গ্রাহাম আর নেই। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় ৭১ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সংক্ষিপ্ত ও আকস্মিক অসুস্থতার’ পর তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে এ সময় সবার কাছে দোয়া চেয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছে।    রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “লিন্ডসে গ্রাহাম আমার পরিচিত সবচেয়ে অসাধারণ মানুষ ও সিনেটরদের একজন ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যিকারের মার্কিন দেশপ্রেমিক। তাকে গভীরভাবে মিস করা হবে।” সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও গ্রাহামকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী’ উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও স্বাধীনতাপন্থী দেশগুলোর পক্ষে তিনি সারাজীবন দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।    দক্ষিণ ক্যারোলাইনা থেকে ২০০২ সালে প্রথমবার সিনেটে নির্বাচিত হন গ্রাহাম। এর আগে তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ছিলেন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হন। বিশেষ করে ইরান, রাশিয়া ও ইউক্রেনসহ বৈদেশিক নীতি ইস্যুতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই তিনি ইউক্রেন সফর করে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।    মার্কিন রাজনীতিতে গ্রাহাম ছিলেন ‘হকিশ’ বা কঠোর পররাষ্ট্রনীতির প্রবল সমর্থক। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য থাকাকালে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। সিনেটে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিচারবিষয়ক কমিটি এবং সর্বশেষ বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটের নিয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।    একসময় রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন গ্রাহাম। ম্যাককেইন ও সাবেক সিনেটর জো লিবারম্যানকে নিয়ে গঠিত ‘থ্রি অ্যামিগোস’ জোট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল।    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি গ্রাহামকে ‘ইসরায়েলের মহান বন্ধু’ এবং ‘ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক জোরদারে তিনি আজীবন কাজ করেছেন।   গ্রাহামের মৃত্যুতে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন শূন্য হলো। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার অস্থায়ীভাবে একজন সিনেটর নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তী মেয়াদ শুরু হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৭:৩২
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও হরমুজ সংকটে ন্যাটো কি আরও সক্রিয় হবে? আঙ্কারা বৈঠকে বাড়ল জল্পনা

ইরানের হামলার হুমকিতে ট্রাম্পকে হাসপাতালে নেওয়ার দাবি

ইরানের হামলার হুমকিতে ট্রাম্পকে হাসপাতালে নেওয়ার দাবি,যাচাইয়ে মিলল ভিন্ন তথ্য

লিন্ডসি গ্রাহামের মৃত্যুতে শোক ট্রাম্পের

লিন্ডসি গ্রাহামের মৃত্যুতে শোক ট্রাম্পের, বললেন—‘আমেরিকা হারাল এক দেশপ্রেমিককে’

0 Comments