- প্রচ্ছদ
- Topic
ভ্রমণ
টানা দুই দশক ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে একা ভ্রমণ করে আসছিলেন এই ব্রিটিশ নারী পর্যটক। জর্জিয়া, কলম্বিয়া বা ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে একাই ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। তবে ২০ বছর পর প্রথমবারের মতো একটি গ্রুপ ট্যুরে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। আর এই একটি সিদ্ধান্তই চিরতরে বদলে দিয়েছে তার জীবন; অপ্রত্যাশিতভাবে খুঁজে পেয়েছেন নিজের ভালোবাসার মানুষকে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এ প্রকাশিত এক ভ্রমণকাহিনিতে লিডিয়া সোয়িনস্কো নামের এই পর্যটক জানিয়েছেন তার অসাধারণ এই অভিজ্ঞতার কথা। মিলেনিয়াল বা বর্তমান প্রজন্মের কাছে গ্রুপ ট্যুরের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে একটি অ্যাসাইনমেন্টের অংশ হিসেবে তিনি ২০২৪ সালের মার্চ মাসে শ্রীলঙ্কায় ১২ দিনের একটি গ্রুপ ট্যুরে অংশ নেন। অপরিচিত মানুষদের সাথে ছোটখাটো আড্ডা বা জোর করে আনন্দ করার বিষয়ে আগে থেকেই তার মনে বেশ ভীতি ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় পা রাখার পর এই চমৎকার দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করে। এই ১২ দিনের ট্যুরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার আরও কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের গাইড হিসেবে ছিলেন সুরঙ্গা নামের এক স্থানীয় যুবক। সুরঙ্গার গভীর জ্ঞান, পর্যটকদের প্রতি তার ধৈর্য আর সূক্ষ্ম রসবোধ শুরু থেকেই লিডিয়াকে আকৃষ্ট করেছিল। তবে তাদের সম্পর্কের মোড় ঘোরে সফরের অষ্টম দিনে। ইয়ালা ন্যাশনাল পার্কে সাফারি শেষে রাতে হঠাৎ হাত থেকে পড়ে লিডিয়ার মোবাইলের স্ক্রিন ভেঙে যায়। ট্যুর শেষে কলম্বোর পেট্টাহ এলাকার একটি দোকানে ফোনটি সারাতে তাকে সাহায্য করার জন্য নিজে থেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন গাইড সুরঙ্গা। ফোন জমা দিয়ে তারা দুজন কাছের একটি ক্যাফেতে সময় কাটান এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে গল্প করেন। গ্রুপ ট্যুরের ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে সেই দিনের এই একান্তে কাটানো আড্ডাতেই তাদের মধ্যে একটি বিশেষ সখ্যতা গড়ে ওঠে। এরপর লিডিয়া তার শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের সময়সীমা আরও কয়েক মাস বাড়িয়ে নেন। তারা দুজনে প্রতিদিন কথা বলতেন এবং সময় মিললেই দেখা করতেন। এভাবে ছয় মাস পার হওয়ার পর তারা ভিন্ন সংস্কৃতি ও প্রত্যাশার ব্যবধান ঘুচিয়ে একসঙ্গে জীবন কাটানোর বড় সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলেন। বর্তমানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে তারা একসঙ্গেই আছেন এবং শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন অচেনা-অজানা অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। লিডিয়ার মতে, গ্রুপ ট্যুর হয়তো তার মতো স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু নিজের কমফোর্ট জোন বা স্বস্তির জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার কারণেই তিনি এমন একজনকে খুঁজে পেয়েছেন, যার সঙ্গে অন্য কোনো উপায়ে হয়তো তার কখনোই দেখা হতো না। তার এই গল্পটি প্রমাণ করে যে, জীবনে কখনো কখনো অপছন্দের পথে পা বাড়ালেও তা আমাদের সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত এক হোটেলে এক রাত কাটানোর পর ছারপোকার ভয়ংকর কামড়ের শিকার হয়েছেন হান্নাহ স্টিফেনসন নামের এক নারী। ৩১ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের দাবি, ক্যামব্রিজের ট্রাভেলজ হোটেলে এক রাত থাকার পর তার হাত, পা, বুক ও মুখমণ্ডল ছারপোকার কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার শেয়ার করা ছবিগুলো দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক মাধ্যম টিকটকে এক পোস্টে স্টিফেনসন তার কামড়ে ফুলে যাওয়া লাল দাগের ছবি শেয়ার করে লেখেন, "এই হোটেলে এক রাতের জন্য ছিলাম। সকালে উঠে দেখি প্রচণ্ড চুলকানি আর বালিশে রক্তের দাগ। এমনকি আমি ছারপোকাগুলো স্বচক্ষে দেখেছি।" পোস্টটিতে এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক ভিউ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যামব্রিজের নিউমার্কেট রোডে অবস্থিত ওই হোটেলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তার এই দুর্দশার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই অবস্থায় আমাকে একটা পারিবারিক বিয়েতে অংশ নিতে হয়েছে। জঘন্য এই কামড়ের দাগ ঢাকতে নতুন জামাকাপড় কিনতে হয়েছে। একটানা চুলকানির কারণে আমি কয়েক সপ্তাহ ধরে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি, এমনকি আমার প্যানিক অ্যাটাকও হয়েছে।" প্রাথমিকভাবে দ্য পোস্টের মন্তব্যের অনুরোধে ট্রাভেলজ ইউকে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। তবে বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই বাজেট হোটেল ব্র্যান্ডটি জানিয়েছে, "স্টিফেনসনের এমন অভিজ্ঞতার জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। এমন ঘটনা কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে তা আমরা বুঝতে পারছি।" গত ২৬ জুলাই বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটানোর পর রাতে বাড়ি ফেরার বদলে ট্রাভেলজ হোটেলে একটি রুম ভাড়া নিয়েছিলেন স্টিফেনসন। তিনি বলেন, "ক্যামব্রিজের সুন্দর জায়গা ও পাবগুলোতে খুব ভালো সময় কাটিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ছারপোকার কামড়ে সব আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। রক্ত আর ছারপোকাগুলো দেখার আগে আমি বুঝতেই পারিনি কী হয়েছে।" তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তার মুখ ও হাতের লালচে ফোলা দাগগুলো কমেনি। এ সময় তাকে প্রচুর অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ খেতে হয়েছে, যা তাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি মানসিকভাবেও তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন, যার কারণে অনেক সামাজিক অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে পারেননি। এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় বসবাস করা এই ইনফ্লুয়েন্সার বলেন, "ক্যামব্রিজের মতো জায়গায় এমন কিছু ঘটবে তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।" তবে টিকটকে তার পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিফেনসন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ট্রাভেলজ হোটেল থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার (২ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৩ লাখ টাকা) গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, "এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আমার শত্রুরও যেন না হয়।" তিনি আশা করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচ্ছন্নতা ও ছারপোকা দমনের ব্যবস্থা আরও উন্নত করবে। ট্রাভেলজ হোটেলের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, "আমাদের গ্রাহকদের নিরাপত্তা সবার আগে। পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধ এবং তা মোকাবিলা করার জন্য আমরা বিশেষজ্ঞ পরিচালিত কঠোর ব্যবস্থা বজায় রাখি। কোনো হোটেলে এমন অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এবং তার আশেপাশের রুমগুলো বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দিই।" ছারপোকার সমস্যা শুধু যুক্তরাজ্যেই নয়, আমেরিকাতেও প্রকট। সম্প্রতি ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের এক দর্শনার্থী ফ্লোরিডায় তাদের রিসোর্টে থাকার সময় ছারপোকার কামড় খাওয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। অন্যদিকে, ছারপোকার উপদ্রবের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে শিকাগোর পরই লস অ্যাঞ্জেলেসের অবস্থান। গবেষকদের মতে, ছারপোকার কামড় সাধারণত ব্যথাহীন হলেও এর ফলে ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া এটি মানসিক চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত এমনকি মারাত্মক অ্যালার্জির কারণও হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে সামগ্রিক সতর্কতার মাত্রা লেভেল ৩ ‘পুনর্বিবেচনা করে ভ্রমণ’ থেকে লেভেল ২ ‘অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে ভ্রমণ’ এ নামিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে দেশটির সর্বশেষ মূল্যায়নে বাংলাদেশে ভ্রমণের ঝুঁকি আগের তুলনায় কম বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এ ইতিবাচক অগ্রগতি আসে। বৈঠক শেষে সার্জিও গর বার্তার মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সিদ্ধান্তটির কথা জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্রমণ সতর্কতার এই পরিবর্তন বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা আস্থার প্রতিফলন। সরকারের ধারাবাহিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের প্রচেষ্টার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবেও এ সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। সরকারের আশা, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে এখনো সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে বিবেচনা করছে না। সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশনায় বাংলাদেশ সফরে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের পার্বত্য এলাকার জন্য ‘লেভেল ৪: ভ্রমণ করবেন না’ সতর্কতা অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতকারী পর্যটক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুসংবাদ। মার্কিন কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) তাদের 'মোবাইল পাসপোর্ট কন্ট্রোল' (MPC) অ্যাপের মাধ্যমে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুততর করার উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি ভিসাস নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ভ্রমণকারীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলা ছাড়াই নিজেদের পাসপোর্ট এবং কাস্টমস ডিক্লারেশন সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি স্মার্টফোনের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন। MPC অ্যাপটি মূলত একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা বিমানবন্দরের প্রচলিত কাগজের ফরম পূরণের ঝামেলা কমিয়ে দেয়। ভ্রমণকারীরা বিমানে থাকাকালীন বা অবতরণের পরপরই নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের তথ্য (সর্বোচ্চ ১২ জন) অ্যাপে ইনপুট দিতে পারেন। এরপর একটি ডিজিটাল রিসিট জেনারেট হয়, যা বিমানবন্দরের নির্ধারিত এমপিসি লেন-এ (MPC Lane) দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে দেখালেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়। কারা এই সুবিধা পাবেন? বর্তমানে মার্কিন নাগরিক, গ্রিন কার্ডধারী (LPR), নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির কানাডিয়ান নাগরিক এবং ভিসামুক্ত দেশের (VWP) যাত্রীরা এই অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারছেন। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি যারা পর্যটক হিসেবে যাচ্ছেন, তারা আপাতত নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হলে বা ভবিষ্যতে আপডেট আসলে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ৪টি সমুদ্রবন্দরে এই সুবিধা চালু রয়েছে। সুবিধাসমূহ: ১. কোনো বাড়তি ফি বা খরচ ছাড়াই অ্যাপটি ডাউনলোড করা যায়। ২. পরিবারের সবাই একসাথে একটি অ্যাপের মাধ্যমেই তথ্য জমা দিতে পারেন। ৩. বিমানবন্দরের সাধারণ লাইন থেকে অনেক ছোট হয় এমপিসি লাইন, ফলে সময় বাঁচে। পেশাদার ভ্রমণকারীদের জন্য এটি একটি আধুনিক সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের পর ইমিগ্রেশনের ক্লান্তি অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এখন থেকে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশের জন্য পাসপোর্টে কোনো প্রথাগত সিল বা স্ট্যাম্পের প্রয়োজন হবে না। পরিবর্তে চালু হচ্ছে উন্নত ‘এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম’ (ইইএস), যেখানে ভ্রমণকারীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ফেসিয়াল স্ক্যান বা বায়োমেট্রিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ইসরায়েলি নাগরিকসহ ইইউ বহির্ভূত সব দেশের পর্যটকদের প্রথমবার ইউরোপে প্রবেশের সময় ডিজিটাল নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। এই তথ্য ইইউ-এর তথ্যভাণ্ডারে পরবর্তী তিন বছর সংরক্ষিত থাকবে। মূলত সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং জালিয়াতি রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভ্রমণকারীদের এই নতুন পদ্ধতির সাথে অভ্যস্ত করতে ‘ট্রাভেল টু ইউরোপ’ নামের একটি অ্যাপ ইতিমধ্যে বড় বড় বিমানবন্দরগুলোতে চালু করা হয়েছে। যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ৭২ ঘণ্টা আগেই পাসপোর্টের তথ্য ও ছবি এই অ্যাপের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনের সময় কিছুটা বাড়তি ভিড় বা দীর্ঘ লাইনের আশঙ্কা থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও সহজ করবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইইউ আরও একটি ডিজিটাল সিস্টেম ‘ইটিআইএএস’ (ETIAS) চালুর পরিকল্পনা করেছে। এর মাধ্যমে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার থাকা দেশগুলোর নাগরিকদেরও ইউরোপ ভ্রমণের আগে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে অগ্রিম অনুমোদন নিতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে আগামী ১০ এপ্রিল থেকে চালু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত 'এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম' (EES)। নতুন এই বায়োমেট্রিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে ইউরোপের প্রবেশপথগুলোতে দীর্ঘ জনজট ও অন্তত ৭০ শতাংশ বেশি সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। যদিও এই সতর্কতা বিশেষভাবে অস্ট্রেলীয় পর্যটকদের জন্য জারি করা হয়েছে, তবে বাংলাদেশের মতো ইইউ-বহির্ভূত দেশের (Non-EU countries) নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এটি সমানভাবে কার্যকর হবে। এতদিন ইউরোপের পাসপোর্ট কন্ট্রোল ডেস্কে কর্মকর্তাদের ম্যানুয়ালি সিল দেওয়ার যে রীতি ছিল, তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে পর্যটকদের আঙুলের ছাপ (Fingerprints) এবং মুখমণ্ডলের ছবি (Facial scans) সংগ্রহ করা হবে। প্রথমবার নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক যাত্রীকে এই ডিজিটাল তথ্য দিতে হবে, যা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকবে। ভিসাএইচকিউ (VisaHQ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার প্রাথমিক দিনগুলোতে সীমান্ত পারাপারে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি সময় ব্যয় হতে পারে। বিশেষ করে বড় বিমানবন্দর এবং ট্রেন স্টেশনগুলোতে (যেমন লন্ডন-প্যারিস রুটের ইউরোস্টার) দীর্ঘ সারির আশঙ্কা করা হচ্ছে। একেকজন যাত্রীর বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করতে কয়েক মিনিট সময় লাগতে পারে, যা ব্যস্ত সময়ে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য যা জানা জরুরি: ১. প্রথমবার নিবন্ধনে সময়: বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা যখন প্রথমবার ইইউতে প্রবেশ করবেন, তখন তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। এতে বাড়তি সময় হাতে রেখে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ২. পাসপোর্ট সিল বিলুপ্তি: নতুন সিস্টেমে পাসপোর্টে আর কোনো শারীরিক সিল পড়বে না। আপনার প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল ডেটাবেজে নথিভুক্ত হয়ে যাবে। ৩. ভিসা প্রক্রিয়া: শেনজেন বা ইইউ ভিসার বর্তমান নিয়মে কোনো পরিবর্তন না এলেও, সীমান্তে স্ক্যানিং প্রক্রিয়াটি হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০ এপ্রিল বা তার পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে যারা ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের কানেক্টিং ফ্লাইট বা পরবর্তী গন্তব্যের ট্রেনের সময়ের ক্ষেত্রে অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা বাফার টাইম রাখা উচিত। বিশেষ করে যারা পরিবার বা বড় দল নিয়ে ভ্রমণ করছেন, তাদের জন্য এই বাড়তি সময় অত্যন্ত জরুরি। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থা নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যটকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।