- প্রচ্ছদ
- Topic
মেডিকেইড
নিউইয়র্কের স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিচালিত মেডিকেইড কর্মসূচিতে বড় ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে। স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক অডিট প্রতিবেদনে জানা গেছে, পর্যাপ্ত নজরদারি ও স্পষ্ট নির্দেশনার অভাবে এই কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ভুলভাবে পরিশোধ করা হয়েছে। অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ক্ষেত্রে একজন রোগী তার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ কতবার সেই পরীক্ষা করাতে পারবেন, তার একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারিত রয়েছে। তবে এই সীমা উপেক্ষা করে হাজার হাজার দাবির বিপরীতে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে এমন অনেক জেনেটিক পরীক্ষাও রয়েছে, যেগুলো সাধারণত মানুষের জীবনে একাধিকবার করার কোনো প্রয়োজন হয় না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এমন ৯১ হাজার ৭১৮টি দাবি শনাক্ত করা হয়েছে, যার বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ ডলারই পরিশোধ করেছে মেডিকেইড পরিচালনাকারী ম্যানেজড কেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো। অডিটরদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই পরীক্ষার নির্ধারিত সীমা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি এবং তাদের দাবি যাচাই করার নিজস্ব ব্যবস্থায়ও মারাত্মক দুর্বলতা ছিল। এছাড়াও, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য ল্যাব ও অ্যাম্বুলেটরি সেবার আরও ১১ হাজার ৪৯টি দাবির বিপরীতে প্রায় ১৮ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের এসব সেবার খরচ সাধারণত নির্ধারিত ইনপেশেন্ট প্যাকেজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। ফলে আলাদা করে এসব বিল পরিশোধ করায় একই সেবার জন্য অনর্থক অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে। স্টেট কম্পট্রোলারের কার্যালয় জানিয়েছে, নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ ২৭৫ ধরনের ল্যাব পরীক্ষার ক্ষেত্রে আজীবন সীমা নির্ধারণ করলেও প্রকাশ্য নির্দেশিকায় মাত্র সাতটির তথ্য উল্লেখ করেছে। ফলে বাকি পরীক্ষাগুলোর সীমা সম্পর্কে ম্যানেজড কেয়ার প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের কাছে কোনো সঠিক তথ্য ছিল না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে অডিট প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে অতিরিক্ত পেমেন্টগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত আনার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে, সীমা নির্ধারিত থাকা সব ল্যাব পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ভুল পেমেন্ট ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের মেডিকেইড কর্মসূচিতে বছরে প্রায় ৯০ বিলিয়ন বা ৯ হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়। এই সুবিশাল কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের ৮০ লাখের বেশি নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন থাকা বাসিন্দা চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ জানিয়েছে, অপচয় ও অপব্যবহার ঠেকাতে ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট ল্যাব পরীক্ষার সীমা কার্যকর করার জন্য সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম শনাক্ত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফেডারেল সরকার যখন নিউইয়র্কের মেডিকেইড ব্যয় ও ব্যবহারের ওপর তাদের নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঠিক তখনই নতুন এই অডিট প্রতিবেদনটি প্রকাশ পেল।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সহায়তা বা 'মেডিকেইড' সুবিধা গ্রহণকারী প্রবীণদের মৃত্যুর পর তাদের বসতবাড়ি বেহাত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ২০১২ সালে মারা যাওয়া ফিলোমেন বেনোইট নামের এক নারী প্রায় ৯ বছর ধরে মেডিকেইড সুবিধা নিয়েছিলেন, যার ফলে তার নামে ৪ লাখ ১৫ হাজার ডলারের বেশি সরকারি ব্যয়ের বিল জমেছিল। ২০১৯ সালে তার স্বামী ক্লারভক্সের মৃত্যুর পর নিউজার্সি কর্তৃপক্ষ তাদের বসতবাড়ির ওপর আইনি অধিকার (লিয়েন) দাবি করে বসে। পরে বাড়িটি ৩ লাখ ২ হাজার ডলারে বিক্রি হলেও দেখা যায়, মেডিকেইডের পাওনা অর্থের পরিমাণ বাড়িটির বিক্রয়মূল্যের চেয়েও এক লাখ ডলারেরও বেশি! মূলত যুক্তরাষ্ট্রের 'মেডিকেইড এস্টেট রিকভারি' নীতির কারণেই দেশটিতে এমন সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বা নার্সিং হোমের ব্যয় অত্যন্ত চড়া; একটি সাধারণ রুমের বাৎসরিক খরচ ১ লাখ ১৪ হাজার থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই বিপুল ব্যয় মেটাতে গিয়ে সাধারণ পরিবারগুলো যখন নিঃস্ব হয়ে পড়ে, তখন মেডিকেইড তাদের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তিটি তৈরি হয় আবেদনের প্রাথমিক পর্যায়ে। মেডিকেইড সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের সময় আবেদনকারীর নিজের ব্যবহৃত বসতবাড়িটিকে সম্পদের হিসাবে ধরা হয় না। ফলে পরিবারগুলো স্বস্তিতে থাকে এই ভেবে যে তাদের বাড়িটি হয়তো নিরাপদ। কিন্তু ফেডারেল আইন অনুযায়ী, ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনো সুবিধাভোগীর মৃত্যুর পর রাজ্য সরকারগুলোকে বাধ্য করা হয় ওই ব্যক্তির পেছনে ব্যয় হওয়া দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার খরচ তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে আদায় করে নিতে। বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানেরা উত্তরাধিকার সূত্রে বাড়িটি পাওয়ার আশায় বছরের পর বছর নিজেদের পকেট থেকে এর রক্ষণাবেক্ষণ বিল বা প্রপার্টি ট্যাক্স পরিশোধ করেন। কিন্তু মৃত্যুর পর যখন 'এস্টেট রিকভারি' বা সম্পত্তি পুনরুদ্ধার নিয়মটি কার্যকর হয়, তখন তাদের চরম স্বপ্নভঙ্গ হয়। রাটগার্স ইউনিভার্সিটির গবেষক আমান্ডা স্পিশাক-থমাসের মতে, এই রিকভারি নীতির কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ তাদের সঞ্চিত সম্পদের মূল অংশই হলো এই বসতবাড়ি। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সামান্য অর্থও তাদের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে, যা এই আইনি বেড়াজালে আটকে ব্যাহত হচ্ছে। তবে মেডিকেইডের এই অর্থ আদায়ের নিয়ম একেক রাজ্যে একেক রকম হতে পারে। পিটসবার্গ এলাকার প্রবীণ-আইনজীবী টিম সেচলার জানান, কিছু রাজ্য কেবল 'প্রোবেট' বা সাধারণ আইনি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় থাকা সম্পদ থেকে তাদের খরচ আদায় করে। কিন্তু নিউজার্সির মতো বেশ কিছু রাজ্য এস্টেট বা সম্পদের অনেক বিস্তৃত সংজ্ঞা ব্যবহার করে, যার ফলে যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তিতেও তারা আইনি ভাগ বসাতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেওয়ার কয়েক বছর পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে তাদের সাধের বাড়িটি আর তাদের নেই। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আকস্মিক সংকটের আগেই সঠিক আইনি পরিকল্পনা ও পরামর্শ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের লং আইল্যান্ডভিত্তিক একটি অ্যাম্বুলেট পরিবহন সেবা প্রতিষ্ঠানের মালিক আদনান আরশাদ মেডিকেইডে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলারেরও বেশি জালিয়াতির মামলায় ৮ বছর ১ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত তার ১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি এবং অন্যান্য সম্পদ। মঙ্গলবার নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল আইসলিপে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত এ রায় দেন। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে আদনান আরশাদ স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং অর্থপাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আদনান আরশাদ নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি এমটিকে ট্যাক্সির মালিক এবং অল-স্টার ট্যাক্সির সহ-মালিক ছিলেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুনে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত তিনি ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে মেডিকেইডে ভুয়া পরিবহন বিল জমা দিয়ে এই জালিয়াতি চালিয়ে যান। তদন্তে দেখা যায়, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের অবৈধ অর্থ বা কিকব্যাক দেওয়া হতো। এরপর তাদের নামে পরিবহন সেবার বিল জমা দিয়ে মেডিকেইড থেকে অর্থ আদায় করা হতো। এমনকি যেসব ব্যক্তি মারা গেছেন, হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা কারাগারে ছিলেন, তাদের নামেও ভুয়া যাতায়াত দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। জালিয়াতির অর্থের পরিমাণ আরও বাড়াতে সুবিধাভোগীদের কাছাকাছি চিকিৎসাকেন্দ্রের পরিবর্তে নিউইয়র্ক সিটির দূরের মেথাডোন চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আবেদন করতে বলা হতো। পাশাপাশি ভুয়া পিকআপ ঠিকানা ব্যবহার করে যাত্রাপথ দীর্ঘ দেখিয়ে মেডিকেইড থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো। মার্কিন প্রসিকিউটর জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত মেডিকেইড কর্মসূচিকে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন আদনান আরশাদ। তিনি জালিয়াতির অর্থ দিয়ে বহু মিলিয়ন ডলারের বাড়ি, একটি ফেরারি এবং একাধিক বিএমডব্লিউ ও মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়ি কিনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন। এই সাজা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা বহন করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদনান আরশাদকে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। মামলায় জড়িত তার অন্তত পাঁচজন সহযোগী ইতোমধ্যে দোষ স্বীকার করেছেন। তাদের সাজা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পরিচালিত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি। এই কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎ বা জালিয়াতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন বিচার বিভাগ ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে।
ক্যালিফোর্নিয়া ও মিনেসোটার জন্য নির্ধারিত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ছাড়া হবে না। তবে দুই অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস) জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য ৮৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং মিনেসোটার জন্য ১৯৯ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি স্থায়ী অর্থ কর্তন নয়; সংশ্লিষ্ট দাবির বৈধতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে অর্থ ছেড়ে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র বলেন, মেডিকেইড কর্মসূচির অর্থ কেবল বৈধ দাবির ক্ষেত্রেই ব্যয় হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে জালিয়াতি, অপচয় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সিএমএসের প্রশাসক ড. মেহমেত ওজও বলেন, অর্থ বিতরণের পর তা উদ্ধারের চেয়ে আগে থেকেই সন্দেহজনক দাবিগুলো যাচাই করাই সংস্থার নতুন কৌশল। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশেষ করে ইন-হোম কেয়ার কর্মসূচির ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং মিনেসোটার ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতে কিছু দাবির বিষয়ে অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফেডারেল সরকার নির্দিষ্ট কোনো জালিয়াতির প্রমাণ প্রকাশ করেনি। এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ক্যালিফোর্নিয়ার ইন-হোম সাপোর্টিভ সার্ভিসেস (আইএইচএসএস) কর্মসূচির ওপর, যার মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি নিজ বাড়িতে পরিচর্যা সেবা পান। অর্থ দীর্ঘ সময় স্থগিত থাকলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পরিচর্যাকারীদের অর্থপ্রদান বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। তবে বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা বা স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করা হয়নি। অন্যদিকে মিনেসোটায় স্থগিত হওয়া অর্থ ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও কতজন সুবিধাভোগী সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন, সে সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি ফেডারেল সরকার বা অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রশাসন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই অর্থ স্থগিত করেছে এবং এর ফলে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের পরিবার, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগীর জন্য পরিচালিত যৌথ ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি। সাম্প্রতিক এই অর্থ স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে স্বাস্থ্যনীতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আমেরিকার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে একজন নামকরা চিকিৎসককে অভিযুক্ত করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫২ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের নাম মুরেল কার্নেল রুটলেজ জুনিয়র, যিনি ইস্ট পয়েন্টের ‘রুটলেজ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েটস’-এর স্বত্বাধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে রোগীদের কোনো চিকিৎসা সেবা না দিয়েই ভুয়া বিল জমা দিয়ে জর্জিয়া মেডিকেইড থেকে প্রায় ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার আত্মসাতের চেষ্টা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র এবং প্রমাণাদি থেকে জানা গেছে, ডাক্তার রুটলেজ ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ১১ হাজার ৩০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বিল জমা দিয়েছিলেন। এসব দাবিকৃত বিলের সিংহভাগই ছিল রোগীদের মুখোমুখি বসে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক থেরাপি বা সাইকোথেরাপি দেওয়ার ভুয়া বিবরণী। এ ছাড়া সিস্ট অপসারণ, বিশেষ অ্যালার্জি পরীক্ষা এবং ক্ষতস্থানের চিকিৎসার মতো জটিল কিছু জরুরি স্বাস্থ্যসেবা তিনি রোগীদের কখনোই দেননি, অথচ সরকারি তহবিল থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে জর্জিয়া মেডিকেইডের কাছে নিয়মিত ভুয়া বিল পেশ করেছিলেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ডাক্তার রুটলেজ জর্জিয়া মেডিকেইডের কাছে মোট ৪৩ লাখ ডলারের ভুয়া দাবি সাবমিট করে ইতিমধ্যেই ২৬ লাখ ডলার সরকারি তহবিল থেকে অবৈধভাবে তুলে নিয়েছেন। এই বিশাল অর্থনৈতিক জালিয়াতির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণার মোট ৪০টি পৃথক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, যারা সরকারি মেডিকেইড কর্মসূচি থেকে অর্থ চুরি করবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি হতে হবে এবং চুরির সমস্ত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হবে। মার্কিন আইন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনা বড় ধরনের অভিযোগটি মূলত মার্কিন বিচার বিভাগের ২০২৬ সালের ‘ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার ফ্রড টেকডাউন’ বা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের একটি অংশ। দেশজুড়ে চালানো এই বিশাল ক্র্যাকডাউন বা চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪৫৫ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এই দেশব্যাপী অভিযানে অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে ৯০ জনই হলেন লাইসেন্সধারী ডাক্তার এবং উচ্চ পদমর্যাদার অন্যান্য চিকিৎসা পেশাজীবী। এই একই তদন্তের অংশ হিসেবে লোনি রেলেফোর্ড নামের ৫৭ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে আটক করেছে জর্জিয়ার প্রসিকিউটররা। তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা এবং জালিয়াতির একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি কোনো ধরনের নার্সিং ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা ছাড়াই নিজের অপরাধের সমস্ত ইতিহাস সম্পূর্ণ গোপন করে জর্জিয়ায় নার্স হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছিলেন। অবৈধভাবে কাজ করার লক্ষ্যে তিনি ভুয়া নথিপত্র জমা দিয়ে এবং একজন আসল রেজিস্টার্ড নার্সের পরিচয় বা আইডি চুরি করে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে বড় ধরনের জালিয়াতি এবং পরিচয় চুরির পুরোনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি অর্থ ও ট্যাক্সদাতাদের ডলার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও ফেডারেল অংশীদাররা একযোগে কাজ করছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার আরও জানান, এই দেশব্যাপী জালিয়াতি বিরোধী প্রচেষ্টা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। তাঁরা প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির শতভাগ সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। চিকিৎসা খাতের এই বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।