মালয়েশিয়া

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মালয়েশিয়ায় ইসরায়েলি শনাক্ত হলেই দেশ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

মালয়েশিয়ার ভূখণ্ডে কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কঠোর অবস্থানের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার যে অনড় নীতি মালয়েশিয়ার রয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাতে কোনোভাবেই আপস করা হবে না।   সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে যে, দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট এবং নাগরিকত্বের নথি ব্যবহার করে কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক জোহর রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে।   প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিশ্চিত করেছেন যে, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। যদি কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের অনুপ্রবেশের সত্যতা মেলে, তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বহিষ্কার করা হবে। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জামব্রি আবদুল কাদির শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।   এদিকে জোহর রাজ্যের ফরেস্ট সিটিতে অবস্থিত ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামের একটি প্রযুক্তিভিত্তিক আবাসিক কমিউনিটিকে ঘিরে সন্দেহ ঘনীভূত হওয়ায় সেখানেও ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে। জোহরের মুখ্যমন্ত্রী দাতুক ওন হাফিজ গাজির আহ্বানে গত ১৪ জুলাই মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম), রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।   জানা গেছে, ২০২৪ সালে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসনের প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। মাসিক দেড় হাজার ডলার ফি দিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলি নাগরিকদের গোপন সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়।   মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রাথমিক যাচাইয়ে বিদেশিদের কাছে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া গেলেও তারা ইমিগ্রেশন আইন (১৯৫৯/৬৩) পুরোপুরি মেনে চলছেন কি না, তা নিশ্চিতে নিবিড় তদন্ত চলছে। পরিচয় গোপন, ভ্রমণ নথির জালিয়াতি কিংবা অভিবাসন সুবিধার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় স্বার্থ, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অভিবাসন আইনের যেকোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে সতর্ক করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক শত শত বিদেশি শ্রমিক। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়াজুড়ে সাঁড়াশি অভিযানে আটক ২৯০ জন বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ দেশজুড়ে একযোগে পরিচালিত বড় ধরনের অভিযানে ৫০৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে। আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯০ জন বাংলাদেশি। অবৈধভাবে অবস্থান, বৈধ কাগজপত্রের অভাব এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।   সোমবার (১৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এ তথ্য জানান। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮টি স্থানে একযোগে পরিচালিত এই অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ, পুলিশ এবং স্থানীয় সরকারের মোট ৮৭৬ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।   অভিযানের সময় নিয়োগকর্তা ও বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২ হাজার ২৬০ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫০৩ জনকে আটক করা হয়।   আটকদের মধ্যে বাংলাদেশের ২৯০ জন ছাড়াও মিয়ানমারের ১০১ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৬৬ জন, নেপালের ৩৮ জন, ভারতের ৩৬ জন এবং অন্যান্য দেশের ১০ জন নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ২১ থেকে ৫২ বছরের মধ্যে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৫ জন নারীও রয়েছেন। পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সবাইকে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।   ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অনেকের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ বা কাজের অনুমতিপত্র না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কেউ কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। আবার অনেকেই যে খাতে কাজ করার অনুমতি পেয়েছিলেন, তার বাইরে অন্য খাতে কাজ করছিলেন। উদাহরণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্মাণ খাতে কাজের ভিসা নিয়ে কেউ কেউ পোশাকের দোকান বা অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, যা ভিসার শর্তের পরিপন্থী।   কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কয়েকজন ইউএনএইচসিআর কার্ডধারীকেও আটক করা হয়েছে। তাদের কার্ডের সত্যতা ও বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে।   এদিকে তদন্তে সহায়তার জন্য আরও ১২০ জনকে বিশেষ নোটিশ (বোরাং ২৯) দেওয়া হয়েছে। নিয়োগকর্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে এই নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।   জাকারিয়া শাবান বলেন, অবৈধ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশিদের মাধ্যমে পরিচালিত অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি জানান, সারা দেশে দুই শতাধিক ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকই ক্লাং ভ্যালি অঞ্চলে অবস্থিত।   মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মঅনুমতি, নির্ধারিত খাতে কাজ এবং ভিসার শর্ত মেনে চলা বাধ্যতামূলক। দেশটির কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং অবৈধ কর্মসংস্থান নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরল খনিজ চুক্তি নিয়ে সংসদীয় শুনানিতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরল খনিজ চুক্তি নিয়ে সংসদীয় শুনানিতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের একটি বিশেষ কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিষ্ঠান লিনাস রেয়ার আর্থস-এর বিরল খনিজ সরবরাহ চুক্তি নিয়ে আগামী ১৬ জুলাই শুনানি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চুক্তিটি দেশের অর্থনীতি, জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা পর্যালোচনা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সংসদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান ওং চেন জানান, শুনানিতে লিনাসের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বক্তব্য নেওয়া হবে। চুক্তির শর্ত, এর বাস্তবায়ন এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।   চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের চার বছরের একটি চুক্তি করে লিনাস রেয়ার আর্থস। প্রতিষ্ঠানটি মালয়েশিয়ায় প্রক্রিয়াজাত করা বিরল খনিজ সরবরাহ করবে, যা উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।   চুক্তির পর থেকেই মালয়েশিয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। রাজধানী কুয়ালালামপুরে সংসদ ভবনের সামনে পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মীরা বিক্ষোভ করে চুক্তির বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাদের আশঙ্কা, এসব খনিজ সামরিক খাতে ব্যবহৃত হলে তা দেশের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।   এদিকে মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ, আইনি কাঠামো এবং বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। সংসদীয় শুনানিতে প্রাপ্ত তথ্য ও সুপারিশ ভবিষ্যতে বিরল খনিজ খাতসংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
কর্মী পাঠানোর শীর্ষে থাকা বাংলাদেশ এখন শীর্ষ তিনেরও বাইরে I ছবি: সংগৃহীত
শীর্ষস্থান থেকে শীর্ষ তিনের বাইরে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমবাজারের বড় পতন

মাত্র চার বছরের ব্যবধানে মালয়েশিয়ার বিদেশি শ্রমবাজারে এক অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। একসময় মালয়েশিয়ায় সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী পাঠানো দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শীর্ষে থাকলেও, বর্তমানে সেই স্থান দখল করে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। বিদেশি কর্মী নিয়োগের সার্বিক সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এখন দ্রুত ডিজিটাল ও কঠোর নিয়ন্ত্রণভিত্তিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে।   মঙ্গলবার পার্লামেন্টে দেওয়া এক লিখিত জবাবে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল জানান, ২০২৫ সালে দেশটিতে মাত্র ৭৭ হাজার ৮০৭ জন বিদেশি কর্মী প্রবেশ করেছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৯১ শতাংশ কম। এই কর্মীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ বা ৩৫ হাজার ১১ জন এসেছেন ইন্দোনেশিয়া থেকে। এরপর রয়েছে নেপাল ও ভারত। অথচ এই শীর্ষ তিন দেশের তালিকায় এবার বাংলাদেশের কোনো নাম নেই। কোটা মেলাকা আসনের সংসদ সদস্য খু পোয়ে তিয়ংয়ের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।   এর আগে কোভিড-পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ঢল নামে, যা ২০২৩ সালে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে। ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর মোট ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩১ জন বিদেশি কর্মীর মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশ বা ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। কিন্তু অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির একচেটিয়া প্রভাব, কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়া এবং শ্রমিক শোষণের মতো গুরুতর অভিযোগের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে মালয়েশিয়া সরকার নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং নিয়োগের হার এক ধাক্কায় অনেক কমে যায়।   বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকার নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিদেশি কর্মীর কোটা আবেদন এখন অনলাইনেই সম্পন্ন হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ২০২৬ সালে ইউনিভার্সাল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্সড প্ল্যাটফর্ম (তুরাপ) নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে 'ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম' (নাইস) চালুর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে মালয়েশিয়া।   অভিবাসন ও শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া এখন সংখ্যার চেয়ে গুণগত মান, দক্ষতা এবং শৃঙ্খলার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা হলেও, এটি একই সঙ্গে নতুন সুযোগ। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, কর্মীদের অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর জনশক্তি তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিজের শীর্ষ অবস্থান ফিরে পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২৭০ অভিবাসী আটক | ছবি: এনএসটিপি
মালয়েশিয়ায় পুলিশের তাড়া খেয়ে ময়লার ড্রামে লুকালেন বাংলাদেশি শ্রমিক, আটক বাংলাদেশিসহ ২৭০

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এক বিশাল অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ২৭০ জন শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম অনলাইন নিউ স্ট্রেইটস টাইমস-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে সেলাঙ্গরের পোর্ট ক্লাংয়ের তেলোক গং শিল্প এলাকার একটি আসবাবপত্র তৈরির কারখানায় এই ‘অপস মেগা’ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইমিগ্রেশন পুলিশ কারখানায় প্রবেশ করতেই শ্রমিকদের মাঝে হুড়োহুড়ি লেগে যায় এবং তারা দিগ্বিদিক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।   গ্রেফতার এড়াতে অভিবাসী শ্রমিকরা কারখানার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও অদ্ভুত জায়গায় আত্মগোপন করেন। এর মধ্যে ২০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণ শ্রমিক কারখানার ভেতরে থাকা প্লাস্টিকের ময়লাভর্তি একটি বড় রোল-অন বা রোল-অফ (রোরো) কনটেইনারের ভেতরে ময়লার আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। তল্লাশির একপর্যায়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে সেখান থেকে হাতেনাতে আটক করেন। আটকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই তরুণ কথা না বলে হাতজোড় করে বারবার ইংরেজিতে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরবর্তীতে তাঁর এক সহকর্মী মালয় ভাষায় অনুবাদ করে জানান যে, ইমিগ্রেশন পুলিশ দেখে ভয়েই তিনি ময়লার ড্রামে লুকিয়েছিলেন।   একই কারখানায় অন্য দুই বাংলাদেশি শ্রমিককে কাঠ কাটার মেশিনের পেছনে এবং আসবাবপত্রের বড় বড় বাক্সের আড়ালে ধুলোবালির মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আটক করা হয়। আটকের সময় তাঁদের শরীর ও চুল কারখানার কাঠের গুঁড়ো ও ময়লায় ধূসর হয়ে গিয়েছিল। এর আগে সকাল ৮টার দিকে মেরু এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় অভিযানের প্রথম ধাপ শুরু হয়, যেখানে প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে গোপন নজরদারি বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছিল ইমিগ্রেশন বিভাগ।   সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-পরিচালক মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন জানান, মেরুর প্লাস্টিক কারখানায় ৬৬ জন শ্রমিকের নথিপত্র পরীক্ষা করে ১৮ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ১৭ জন বাংলাদেশি ও ১ জন করে নেপাল ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, তেলোক গংয়ের আসবাবপত্র কারখানায় ৫২০ জন শ্রমিকের মধ্যে ২৫২ জনকে আটক করা হয়। এই ২৫২ জনের মধ্যে ১৭৫ জন বাংলাদেশি, ৩৯ জন পাকিস্তানি, ৩৩ জন নেপালি, ৪ জন মিয়ানমারের এবং ১ জন শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছেন।   ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটককৃত সকল শ্রমিকের বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং তারা সবাই পুরুষ. প্রাথমিক তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই শেষে দেখা গেছে, আটককৃতদের সিংহভাগই মালয়েশিয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং অনেকে ওয়ার্ক পারমিট বা পাসের শর্ত লঙ্ঘন করে নির্ধারিত খাতের বাইরে কাজ করছিলেন। কয়েকজন শ্রমিক নিজেদের বৈধ দাবি করলেও অভিযানের সময় মূল কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।   মোট ৫০ জন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল এই ঝটিকা অভিযানটি পরিচালনা করে. মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, এই ক্র্যাকডাউন বা চিরুনি অভিযান শুধু কারখানাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং ম্যাসেজ পার্লারের মতো জায়গাগুলোতেও তা চালানো হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   সূত্র: নিউ স্ট্রেইটস টাইমস

তাবাস্সুম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জ্বালানির দাম কমায় সব রুটে বিমান ভাড়া কমালো এয়ারএশিয়া এক্স
জ্বালানির দাম কমায় সব রুটে বিমান ভাড়া কমালো এয়ারএশিয়া এক্স

আন্তর্জাতিক বাজারে জেট জ্বালানির দাম কমে আসায় নিজেদের সব রুটে বিমান ভাড়া হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা এয়ারএশিয়া এক্স। সংস্থাটি জানিয়েছে, যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ ব্যয় কমাতে ইতোমধ্যে ভাড়া কমানো কার্যকর করা হয়েছে।   বিমান সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেনিয়ামিন ইসমাইল জানিয়েছেন, গত ১৫ জুন থেকে প্রতি টিকিটে গড়ে ৫ শতাংশ হারে ভাড়া কমানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে জেট জ্বালানির দাম আরও কমলে ভাড়া পুনর্বিন্যাস করে আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।   বিমান খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক লিঙ্গম মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতে স্বস্তি এনে দিয়েছে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণে জ্বালানির যে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, তা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে—যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিমান ভাড়ার ওপর।   তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি গত কয়েক মাসে বিমান শিল্পকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে এই খাত ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।   আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সিঙ্গাপুর জেট জ্বালানির দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১২ ডলারে লেনদেন হয়েছে। অথচ গত ৩০ মার্চ মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি চরম উত্তেজনায় থাকাকালে এই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছিল রেকর্ড ২৪২ ডলার পর্যন্ত। যদিও বর্তমান দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তবুও তা এখনও সংঘাত-পূর্ব সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি—যখন প্রতি ব্যারেল জ্বালানির দাম ছিল প্রায় ৮০ ডলার।   বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির বাজারে এই স্বস্তির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে আরও বিমান সংস্থা ভাড়া কমানোর পথে হাঁটতে পারে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার

মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ ও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় সফলভাবে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দিনব্যাপী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সাথে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। আজ রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার বিশেষ প্রতিনিধি দলকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের রাষ্ট্রীয় ভিভিআইপি ফ্লাইটটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে নিরাপদে অবতরণ করে।   কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণের পর মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে দেশটির ধর্মমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। এরপর বিমানবন্দর চত্বরে মালয়েশিয়া রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানকে সে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুশল বিনিময় শেষে গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।   ঐতিহাসিক এই রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের সময় কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীসহ বাংলাদেশ দূতাবাসের উচ্চপদস্থ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আজ বাংলাদেশের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে সস্ত্রীক কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে সে সময় সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তাকে বিদায় জানান।   কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় দুই দিনের এই সংক্ষিপ্ত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফর শেষেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের বিশেষ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে একটি রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে রওনা হবেন। মালয়েশিয়া ও চীনের এই টানা সফর দুটি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।   কুয়ালালামপুরে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে এক একান্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের উন্নয়ন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনি সুরক্ষা, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে সরকারিভাবে জানা গেছে।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ মালায় মেইল
মালয়েশিয়ায় অবৈধ ব্যবসা ও ভিসা অপব্যবহারে সরকারের 'জিরো টলারেন্স'

মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ব্যবসার লাইসেন্স ব্যবহার করে বিদেশিদের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা, বিভিন্ন ধরনের ভিসার অপব্যবহার এবং কথিত ‘আলী বাবা’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর দেশটির ব্যবসায়ী মহল ও প্রবাসী কমিউনিটিতে এই নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের নামে লাইসেন্স নিয়ে বিদেশিদের প্রক্সি কোম্পানি গঠন এবং ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ থাকলেও এবার বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।   সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, স্থানীয় কিংবা বিদেশি—যে-ই হোক না কেন, ব্যবসায়িক লাইসেন্স বা ভিসার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিলও জানিয়েছেন, আইন লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা বা ভিসার শর্ত ভঙ্গের ঘটনায় কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না; প্রয়োজনে অপরাধে জড়িত স্থানীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে সংশ্লিষ্টরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি হিসেবেই দেখছেন।   মালয়েশিয়ায় বহু বছর ধরে ‘আলী বাবা’ ব্যবসা একটি আলোচিত বিষয়। এর মাধ্যমে মূলত স্থানীয় মালয়েশীয় নাগরিকরা অর্থের বিনিময়ে তাদের ব্যবসায়িক লাইসেন্স বা কোম্পানির নিবন্ধন বিদেশিদের ভাড়া দেন। কাগজে-কলমে স্থানীয়রা মালিক হলেও খুচরা ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, মুদি দোকান থেকে শুরু করে আমদানি-রপ্তানির মতো লাভজনক খাতের পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে বিদেশিদের হাতে। এতে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়, তেমনি ব্যবসা খাতে জবাবদিহির অভাব দেখা দেয়। এর পাশাপাশি, শিক্ষার্থী, সোশ্যাল ভিজিট বা ডিপেনডেন্ট ভিসায় এসে অবৈধভাবে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার মতো ঘটনাও নিয়মিত উদ্ঘাটন করছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ।     সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটিতে বৈধভাবে ব্যবসা করা প্রবাসী ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা। দীর্ঘ দুই দশক ধরে মালয়েশিয়ায় ব্যবসা করা বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মো. কাজী সালাহউদ্দিন ও মানিউল্লাহ জানান, অসাধু উপায়ে চলা ব্যবসার কারণে নিয়ম মেনে চলা বৈধ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরাই লাভবান হবেন। অন্যদিকে, সেলাঙ্গরের স্থানীয় ব্যবসায়ী লিম চি ওয়েই মনে করেন, শুধু অভিযান চালানোই যথেষ্ট নয়, বরং লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়ন প্রক্রিয়াও আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।   প্রবাসী কমিউনিটি নেতারাও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তারা মনে করেন, অল্পসংখ্যক মানুষের অনিয়মের দায় পুরো প্রবাসী সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই প্রবাসীদের ভিসা ও ব্যবসার নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর এমন কঠোর বার্তার পর শিগগিরই অভিবাসন বিভাগসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যৌথ অভিযান জোরদার হতে পারে। এই উদ্যোগ সফল হলে মালয়েশিয়ার ব্যবসা খাতে স্বচ্ছতা ফেরার পাশাপাশি বৈধ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
২৮ বাংলাদেশিসহ ১৭৫ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া।
মালয়েশিয়া থেকে ফেরত ১৭৫ অভিবাসী, তাদের মধ্যে ২৮ বাংলাদেশি

মালয়েশিয়া ২৮ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১৭৫ জন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেশটির জোহর রাজ্যের অভিবাসন বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   তাদের জানানো হয়, জোহরের পেকান নেনাস অভিবাসন আটক কেন্দ্রে থাকা বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিতভাবে নিজ দেশে পাঠানো হচ্ছে। যেসব অভিবাসী তাদের দণ্ড ভোগ শেষ করেছেন, তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।   চলতি বছরের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই কেন্দ্র থেকে মোট ১৭৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার ১৩৬ জন, বাংলাদেশের ২৮ জন, ভারতের ৪ জন, থাইল্যান্ডের ২ জন, কম্বোডিয়ার ২ জন এবং ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা ও স্পেনের একজন করে নাগরিক।   প্রত্যাবাসনের সময় তাদের বিভিন্ন পথ দিয়ে নিজ দেশে পাঠানো হয়, যার মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নৌপথের যাত্রীঘাট।   এই যাতায়াত ব্যয় বিভিন্ন উৎস থেকে বহন করা হয়েছে। কেউ নিজ খরচে, কেউ পরিবারের সহায়তায় এবং কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে ফিরেছেন।   ফেরত পাঠানো সব অভিবাসীর নাম মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তারা আর কোনোভাবেই মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় আটক ইসরাইলি পাসপোর্টধারীরা

মালয়েশিয়ায় প্রবেশ বা ট্রানজিটের সময় ইসরাইলি পাসপোর্টধারীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সম্প্রতি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত আটজন ইসরাইলি আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ সরাসরি মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন, কেউ আবার অন্য এশিয়ার দেশে ট্রানজিটে ছিলেন।   একটি ঘটনায় ফিলিপাইনগামী ফ্লাইটের ট্রানজিটে চারজন ইসরাইলি তরুণ-তরুণী আটক হন। তাদের মধ্যে দুজন জানান, থাইল্যান্ড থেকে ফিলিপাইনে যাওয়ার আগে তারা চ্যাটবটের মাধ্যমে কুয়ালালামপুরে ট্রানজিট নিরাপদ কিনা জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং ইতিবাচক উত্তর পেয়েছিলেন। পরে তারা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   অন্য ঘটনায় কম্বোডিয়া থেকে ফিলিপাইনে যাওয়ার পথে দুই ইসরাইলি পুরুষকে মালয়েশিয়ায় আটক করা হয়, দুই দিন পর তাদের আবার কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়।   সাধারণত আটককালে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে, তবে কখনও কখনও পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়। বিশেষ করে যখন অন্যান্য দেশ বহিষ্কৃত ইসরাইলিদের প্রবেশ অনুমোদন দেয় না, তখন ভ্রমণকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।   সিঙ্গাপুরে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসের সহায়তায় কয়েকজনকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রদূত এলিয়াহু ভেরেড হাজান নাগরিকদের মালয়েশিয়া ভ্রমণ বা ট্রানজিট এড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য ভোগান্তি, যাত্রাপথে দেরি এবং অতিরিক্ত খরচের কারণ হচ্ছে।

Unknown মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ: বিপাকে লাখো বাংলাদেশি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া থেকে প্রবাসীদের জন্য ধেয়ে আসছে এক বিশাল দুঃসংবাদ। স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ঐতিহাসিক এক কঠোর নীতি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।  এই নতুন পরিকল্পনার ফলে আগামী ১ জুন থেকে বিদেশি কর্মীদের ‘এমপ্লয়মেন্ট পাস’ বা কাজের অনুমতির জন্য ন্যূনতম বেতনের সীমা প্রায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে, যা মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ৮ লাখ বৈধ বাংলাদেশিসহ লাখো প্রবাসীর ভবিষ্যতে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া ফেলেছে। মালয়েশিয়ার ২০২৫ সালের জাতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে মোট শ্রমশক্তির ১৪ শতাংশ বিদেশি কর্মী। সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে এই হার মাত্র ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মূলত স্থানীয়দের উচ্চ বেতনে চাকরির সুযোগ করে দিতেই এই বিধিনিষেধ। নতুন এই নিয়মে বিদেশি পেশাজীবীদের তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে: ক্যাটাগরি-১: ন্যূনতম মাসিক বেতন ২০ হাজার রিঙ্গিত (আগে ছিল ১০ হাজার)। অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর। ক্যাটাগরি-২: বেতনসীমা ১০ হাজার থেকে ১৯,৯৯৯ রিঙ্গিত। অবস্থানের মেয়াদ ১০ বছর। ক্যাটাগরি-৩: সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে এই স্তরে। আগে ৫ হাজার রিঙ্গিত বেতন হলেই চলত, এখন তা বাড়িয়ে ৫ হাজার থেকে ৯,৯৯৯ রিঙ্গিত করা হয়েছে। তবে তাদের অবস্থানের সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ৫ বছর করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উচ্চ বেতন কাঠামো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর (এসএমই) পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব হবে। ফলে নিয়োগকর্তারা বাধ্য হয়ে বিদেশি কর্মীদের পরিবর্তে স্থানীয়দের নিয়োগ দেবেন। এতে করে বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবী ও সাধারণ শ্রমিকদের একটি বড় অংশকে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে দেশে ফিরতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, রেমিট্যান্স আহরণে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চতুর্থ শীর্ষ দেশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশটিতে থেকে ২৮০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। মালয়েশিয়ার এই অনমনীয় নীতির ফলে কর্মী ছাঁটাই শুরু হলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে এখনই বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০