সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মুসলিম নারী

হিজাব নিষেধের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে হিজাব নিষেধের প্রস্তাব: মুসলিম নারীদের পাশে দাঁড়াতে হিজাব পরে ছবি-ভিডিও প্রকাশ ফরাসি নারীদের

ফ্রান্সে জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের নতুন ঢেউ দেখা দিয়েছে। মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এমন অনেক ফরাসি নারী, যারা সাধারণত হিজাব পরেন না, তারাও মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব পরা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছেন।   এই প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে উগ্র ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালি বা আরএনের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। দলটির পক্ষ থেকে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তা কার্যকর করতে জরিমানার বিধান আনার কথা বলা হয়েছে।   গত ৩০ আগস্ট ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরএনের এমপি জঁ-ফিলিপ তাগি বলেন, দলটি ক্ষমতায় এলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সম্ভাব্য জরিমানাকে সিটবেল্ট না বাঁধার জন্য গাড়িচালকদের যে ধরনের জরিমানা করা হয়, তার সঙ্গে তুলনা করেন। তবে জরিমানার নির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো ঠিক করা হয়নি।   এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। হিজাব না পরা বেশ কয়েকজন নারী নিজেদের মাথা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে ভিডিও প্রকাশ করেন। এসব ভিডিওতে তারা হিজাব পরা মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানান এবং পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান প্রকাশ করেন। তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এমন একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।   আরব নিউজভিত্তিক আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের কেউ কেউ নিজেদের প্রকাশনায় মুসলিম নারীদের সঙ্গে সংহতির কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার বলেছেন, হিজাব নিষিদ্ধ করার মতো আইন কার্যকর হলে তারাও প্রতিবাদ হিসেবে হিজাব পরবেন।   জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধের প্রস্তাবটি অবশ্য নতুন নয়। ন্যাশনাল র‍্যালির নেত্রী মারিন ল পেন দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধের কথা বলে আসছেন এবং ২০১৭ ও ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাতেও বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ ছিল।   সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি আবারও ফ্রান্সের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ল পেন বর্তমানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি অনিশ্চয়তা থাকলেও ন্যাশনাল র‍্যালি হিজাব, অভিবাসন ও ইসলামকে ঘিরে কঠোর অবস্থানকে নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছে।   ফ্রান্সে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে এরই মধ্যে বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্য ধর্মীয় প্রতীক পরিধান ২০০৪ সাল থেকে নিষিদ্ধ। সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের সময়ও দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে ন্যাশনাল র‍্যালির প্রস্তাবটি এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত, কারণ এর লক্ষ্য জনপরিসরে হিজাব পরিধানকে নিয়ন্ত্রণ করা। প্রস্তাবটির সমালোচকেরা মনে করছেন, এটি ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।   এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটির সমালোচকেরা এর সাংবিধানিক বৈধতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি ন্যাশনাল র‍্যালির ভেতর থেকেও কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে দলটির নেতৃত্ব বলছে, হিজাবকে তারা ফ্রান্সের প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখে।   ফ্রান্সের এই বিতর্কের সঙ্গে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হবে ১৮ এপ্রিল ২০২৭ এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২ মে। ফ্রান্সের সংবিধান অনুযায়ী কোনো প্রেসিডেন্ট টানা দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। ফলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ২০২৭ সালের নির্বাচনে তৃতীয় টানা মেয়াদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন না।   এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। ন্যাশনাল র‍্যালির জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। দলটির নেতারা অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, ইসলাম ও নিরাপত্তার মতো বিষয়কে নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। হিজাব নিষেধের প্রস্তাব সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানেরই একটি অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।   তবে হিজাবকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাল্টা প্রচারণা দেখাচ্ছে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। মুসলিম নারীদের পোশাকের স্বাধীনতার প্রশ্নে তাদের পাশে দাঁড়াতে অমুসলিম নারীদের একাংশও প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ফ্রান্সে ধর্মনিরপেক্ষতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
ভুক্তভোগী ড. হুদা শালাশ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে হিজাব পরা মুসলিম নারীকে পথ আটকে থুতু ও হ ত্যার হুমকি, ‘হেইট ক্রাইম’ তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি ইউনিভার্সিটির (ইউকে) এক মুসলিম নারী কর্মকর্তাকে হেনস্তা, মুখে থুতু নিক্ষেপ এবং হত্যার হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চিলড্রেনস হাসপাতাল থেকে কাজ শেষে ফেরার পথে ড. হুদা শালাশ নামের ওই নারী এই বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হন।   তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সোশ্যাল ওয়ার্ক বা সমাজকর্ম বিভাগের একজন প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর মুসলিমদের নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) বুধবার এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে 'হেইট ক্রাইম' বা বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে আমলে নিয়ে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে।   ভুক্তভোগী ড. হুদা শালাশ জানান, মাথায় হিজাব পরিহিত অবস্থায় তিনি যখন নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ এক ব্যক্তি তার পথ আটকে দাঁড়ায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তি তার মুখে থুতু ছিটিয়ে দেয় এবং তাদের মতো মানুষদের প্রতি সে কেমন ধারণা পোষণ করে, তা নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করতে থাকে।   একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেয়। ড. শালাশ সেখান থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বুঝতে পারেন লোকটি তাকে অনুসরণ করছে। এ সময় কাছাকাছি থাকা একজন নির্মাণশ্রমিক নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং ড. শালাশকে ওই আক্রমণকারীর হাত থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।   এই ঘটনার পর ড. শালাশ কেন্টাকি ইউনিভার্সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (ইউকেপিডি) এবং লেক্সিংটন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইউকেপিডি এক ভয়েসমেইলের মাধ্যমে তাকে জানিয়েছে যে, তারা ইতোমধ্যে ওই আক্রমণকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে।   সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মুভ-ইন টিম'-এর টি-শার্ট পরা থাকলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে সে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মী নয়। ড. শালাশ তার এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ফেসবুকে শেয়ার করার পর সারা দেশ থেকে অনেক মুসলিম নারী নিজেদের একই ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।   তবে এই কঠিন সময়ে স্থানীয় লেক্সিংটন কমিউনিটির মানুষ তাকে ব্যাপক মানসিক সমর্থন ও নিরাপত্তা জুগিয়েছে। বর্তমানে ড. শালাশ সেই সহৃদয়বান নির্মাণশ্রমিককে খুঁজছেন, যেন তাকে সামনাসামনি ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে পারেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
আসমা আলী, মিসিসিপির একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন আসমা আলী, মিসিসিপিতে প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী বিচারক

মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী আসমা আলী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারকের দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তবে এই তথ্যের বিষয়ে এখনো মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি।    আসমা আলীর নিয়োগের খবরটি প্রথম দিকের প্রকাশ্য অভিনন্দন বার্তাগুলোর একটি হিসেবে লিংকডইনে শেয়ার করেন নিউইয়র্কভিত্তিক শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি নেতা এবং ব্রিজিং কালচারস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ডেবি আলমন্টাসার। তিনি তাঁর পোস্টে জানান, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আসমা আলীকে চেনেন এবং শুরু থেকেই বিশ্বাস করতেন যে তিনি একদিন বড় অর্জনের স্বাক্ষর রাখবেন। তিনি আরও লেখেন, এই নিয়োগ ইয়েমেনি-আমেরিকান, মুসলিম ও হিজাবি নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার মাইলফলক।   ড. আলমন্টাসারের পোস্ট অনুযায়ী, আসমা আলী ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা-মা ১৯৭০ এর দশকে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। পরে তিনি নিজস্ব অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, জাতীয় পর্যায়ের আইনি সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁর পেশাগত কাজের জন্য স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন।   মিসিসিপিতে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে এবং অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেতে নির্ধারিত আইনি যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।    এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত আসমা আলীর নিয়োগ নিয়ে মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট আদালত, পৌর কর্তৃপক্ষ বা অঙ্গরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী মিউনিসিপাল কোর্ট বিচারক এই দাবিটি বর্তমানে ড. ডেবি আলমন্টাসারের লিংকডইন পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
নওয়াদায় মুসলিম নারীকে হেনস্তার অভিযোগে ভাইরাল ভিডিওর তদন্ত শুরু করেছে বিহার পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
বিহারে মুসলিম নারীকে নিকাব খুলে জোর করে সিঁদুর পরানোর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

ভারতের বিহার রাজ্যের নওয়াদা জেলায় এক মুসলিম নারীকে প্রকাশ্যে হেনস্তা এবং জোরপূর্বক তাঁর নিকাব খুলে সিঁদুর পরানোর অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এখন পর্যন্ত দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নওয়াদা জেলার চরকি পাহাড় এলাকার মাধোপুরের কাছে ঘটে। পরীক্ষা শেষে এক মুসলিম নারী তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে তারা রাস্তার পাশে একটি গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে থামলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাদের ঘিরে ফেলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা ওই নারীকে মুখের নিকাব খুলতে বাধ্য করেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষ আত্মীয়কে জোর করে নারীর কপালে একাধিকবার সিঁদুর পরাতে বলেন। পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।   ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী বারবার হাতজোড় করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করছেন। তবে উপস্থিত ব্যক্তিদের কয়েকজন তার আবেদন উপেক্ষা করে ভিডিও ধারণ চালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থল ছেড়ে মোটরসাইকেলে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের অনুসরণ করা হয়।   নওয়াদা সদর-২ মহকুমার পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) রাহুল সিং জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নম্বর যাচাই করে তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ধর্মেন্দ্র কুমার ও বাহাদুর চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।   ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তি একই পরিবারের আত্মীয়। তদন্তে তাদের পরিচয় যাচাই করে পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিন্ন ধর্মের নারী-পুরুষকে ঘিরে বিভিন্ন দাবি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ আরও জানিয়েছে, ভাইরাল ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।   ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এ ধরনের ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া বাকি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই মুসলিম নারী। ছবি: সংগৃহীত
হিজাব খুলতে বাধ্য করায় ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের বিরুদ্ধে দুই মুসলিম নারীর মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগ এবং অরেঞ্জ কাউন্টি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেছেন দুই মুসলিম নারী। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের মে মাসে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভিন (ইউসি আরভিন) ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে গ্রেপ্তারের পর বুকিং প্রক্রিয়ার সময় তাদের হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয়েছিল।   বাদী দুই নারীর নাম সালমা নাসুরউদ্দিন এবং শেনাই আইনি। মামলাটি দায়েরে তাদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস, লস অ্যাঞ্জেলেস (CAIR-LA) এবং এশিয়ান ল' ককাস। মামলায় ক্ষতিপূরণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য ধর্মীয় অধিকারবিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং নীতিমালায় পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ মে ইউসি আরভিনে ফিলিস্তিনপন্থী একটি শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় বহু শিক্ষার্থী ও কর্মীর সঙ্গে এই দুই নারীও গ্রেপ্তার হন। পরে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের হেফাজতে নেওয়ার পর বুকিংয়ের জন্য তাদের হিজাব খুলে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়। তাদের দাবি, এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।   আদালতে দাখিল করা নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হিজাব ছাড়া তোলা ছবিগুলো এমন একটি ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়, যেখানে পুরুষ কর্মীদেরও সেগুলো দেখার সুযোগ ছিল। বাদীপক্ষের দাবি, মুসলিম নারীদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এটি তাদের জন্য গভীর মানসিক ও ধর্মীয় আঘাতের কারণ।   অন্যদিকে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বন্দিদের বুকিং প্রক্রিয়ায় অনুসৃত নিরাপত্তাব্যবস্থা সবার জন্য একই। বিভাগের দাবি, হিজাব অপসারণের প্রয়োজন হলে তা ব্যক্তিগত কক্ষে এবং নারী ডেপুটিদের উপস্থিতিতেই করা হয়, যা নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাইয়ের মানসম্মত পদ্ধতির অংশ।   এদিকে মামলাটি আদালতে যাওয়ার পর চলতি বছরের এপ্রিলে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আদালত নির্দেশ দেন, বাদীদের হিজাববিহীন ছবি পুরুষদের জন্য উন্মুক্ত রাখা যাবে না, জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না এবং সংরক্ষিত ছবিতে তাদের চুল, ঘাড় ও কান আড়াল করতে হবে।   নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই মামলা শুধু দুই নারীর ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্ন নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে। মামলার চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে মুসলিম নারীদের টার্গেট করে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অশ্লীল কনটেন্ট

ভারতে মুসলিম নারীদের অনলাইনে হেনস্তা ও মানহানি করার জন্য জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-কে নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ছবি বিকৃত করে অশ্লীল ও আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বসবাসরত কাশ্মীরি মডেল সামরিন আইয়ুবের সাথে ঘটা একটি ঘটনা এর অন্যতম বড় প্রমাণ। গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ছবিগুলো এআই দিয়ে জুড়ে দিয়ে একটি ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হয়, যেখানে মিথ্যা দাবি করা হয় যে তিনি দেহব্যবসায় জড়িত। ভিডিওটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে স্বয়ং সামরিনও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।   ওয়াশিংটন ভিত্তিক 'সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট' (সিএসওএইচ)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত এক্স (টুইটার), ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ২৯৭টি পাবলিক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করা ১,৩২৬টি এআই-জেনারেটেড ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা এসব আপত্তিকর কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে, যার ইন্টারঅ্যাকশন বা ভিউ প্রায় ৬৭ লাখ ছাড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো কারিগরি দক্ষতা ছাড়াই যে কেউ বিনামূল্যে এবং খুব দ্রুত যেকোনো মানুষের ছবিকে বিকৃত করে বাস্তবসম্মত আপত্তিকর ছবি বা ডিপফেক তৈরি করতে পারছে।   মুম্বাই ভিত্তিক রাতি (RATI) ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত অনলাইন হেল্পলাইন 'মেরি ট্রাস্টলাইন'-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনেও এই উদ্বেগের সত্যতা মিলেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এআই অপব্যবহারের শিকার হিসেবে গণমাধ্যমে সাধারণত তারকা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম বেশি আসলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে সাধারণ নারীরাও এর বড় শিকার হচ্ছেন। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই হেল্পলাইনটি ৪৮২টিরও বেশি মামলা পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ মামলাই ছিল ডিজিটালি বিকৃত বা এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট সংক্রান্ত। লোকলজ্জা, ভয় এবং ট্রমার কারণে ভুক্তভোগী নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই নির্যাতনের কথা নিজের পরিবারকেও জানাতে পারেন না।   মিউনিখের লুডউইগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটির মিডিয়া অ্যানথ্রোপলজিস্ট সাহানা উদুপা এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে 'রাজনীতির পর্নোলাইজেশন' বা নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। উগ্রপন্থী কিছু ডিজিটাল গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুক, মিম এবং আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে এই ধরনের হয়রানিকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি কেবল নারীবিদ্বেষ নয়, বরং এর পেছনে গভীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিতে নারীদের পরিবারের সম্মান হিসেবে দেখা হয়, তাই মুসলিম নারীদের এভাবে টার্গেট করার মাধ্যমে পুরো সম্প্রদায়কে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।   এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে ভারতে 'সুল্লি ডিলস' এবং 'বুল্লি বাই' নামক অ্যাপের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ছবি আপলোড করে ভুয়া 'অনলাইন নিলাম'-এর আয়োজন করা হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজনৈতিক নেতা আতিফ রশিদ অবশ্য এই ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি ভালো ও মন্দ উভয় কাজেই ব্যবহার হতে পারে এবং এর অপব্যবহার রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে পূর্বের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বিজেপি সব ধর্মের নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে তিনি দাবি করেন।   এদিকে ভারতের বর্তমান আইনি কাঠামো এআই-প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের সাথে তাল মেলাতে পারছে না বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং আইনজীবী অপর গুপ্তা জানান, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ই ধারা অনুযায়ী সম্মতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করা অপরাধ। কিন্তু ছবি বা শরীর যদি সম্পূর্ণ এআই বা কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়, তবে এই ধারাটি প্রয়োগ করা জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া মেটা বা গুগলের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জটিল রিপোর্টিং সিস্টেমের কারণে সাধারণ নারীরা সহজে এসব ডিপফেক বা আপত্তিকর কনটেন্ট ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা তাদের জীবন ও ক্যারিয়ারকে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০