সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

হিজাব খুলতে বাধ্য করায় ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের বিরুদ্ধে দুই মুসলিম নারীর মামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১১, ২০২৬ ২২:১
অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই মুসলিম নারী। ছবি: সংগৃহীত
অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই মুসলিম নারী। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগ এবং অরেঞ্জ কাউন্টি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেছেন দুই মুসলিম নারী। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের মে মাসে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভিন (ইউসি আরভিন) ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে গ্রেপ্তারের পর বুকিং প্রক্রিয়ার সময় তাদের হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয়েছিল।

 

বাদী দুই নারীর নাম সালমা নাসুরউদ্দিন এবং শেনাই আইনি। মামলাটি দায়েরে তাদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস, লস অ্যাঞ্জেলেস (CAIR-LA) এবং এশিয়ান ল' ককাস। মামলায় ক্ষতিপূরণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য ধর্মীয় অধিকারবিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং নীতিমালায় পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ মে ইউসি আরভিনে ফিলিস্তিনপন্থী একটি শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় বহু শিক্ষার্থী ও কর্মীর সঙ্গে এই দুই নারীও গ্রেপ্তার হন। পরে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের হেফাজতে নেওয়ার পর বুকিংয়ের জন্য তাদের হিজাব খুলে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়। তাদের দাবি, এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।

 

আদালতে দাখিল করা নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হিজাব ছাড়া তোলা ছবিগুলো এমন একটি ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়, যেখানে পুরুষ কর্মীদেরও সেগুলো দেখার সুযোগ ছিল। বাদীপক্ষের দাবি, মুসলিম নারীদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এটি তাদের জন্য গভীর মানসিক ও ধর্মীয় আঘাতের কারণ।

 

অন্যদিকে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বন্দিদের বুকিং প্রক্রিয়ায় অনুসৃত নিরাপত্তাব্যবস্থা সবার জন্য একই। বিভাগের দাবি, হিজাব অপসারণের প্রয়োজন হলে তা ব্যক্তিগত কক্ষে এবং নারী ডেপুটিদের উপস্থিতিতেই করা হয়, যা নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাইয়ের মানসম্মত পদ্ধতির অংশ।

 

এদিকে মামলাটি আদালতে যাওয়ার পর চলতি বছরের এপ্রিলে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আদালত নির্দেশ দেন, বাদীদের হিজাববিহীন ছবি পুরুষদের জন্য উন্মুক্ত রাখা যাবে না, জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না এবং সংরক্ষিত ছবিতে তাদের চুল, ঘাড় ও কান আড়াল করতে হবে।

 

নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই মামলা শুধু দুই নারীর ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্ন নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে। মামলার চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে হিন্দুত্ববাদী আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান নিয়ে মামদানির আপত্তি
নিউইয়র্কে হিন্দুত্ববাদী আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান নিয়ে মামদানির আপত্তি

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি আগামী শনিবার ম্যানহাটানে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন। তবে অনুষ্ঠানটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করা হওয়ায় এটি বাতিল করার ক্ষেত্রে সিটি প্রশাসনের আইনগত ক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।   ২৫ আগস্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মামদানি বলেন, তিনি এই অনুষ্ঠান সমর্থন করেন না। তবে কোনো ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের আয়োজন বাতিল করার এখতিয়ার নিউইয়র্ক সিটির আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’। এতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২০০টির বেশি হিন্দু আমেরিকান সংগঠন অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি, নাগরিক দায়িত্ব ও বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সংলাপ জোরদার করা।   অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। যুক্তরাষ্ট্রে তার এ সফরকে সংগঠনটির শতবর্ষ উদযাপন এবং বৈশ্বিক সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য, অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে।   মামদানি বলেন, ভারতে বেড়ে ওঠার সময় তিনি যে দেশের ধারণার সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, সেটি ছিল বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ একটি সমাজ, যেখানে ভারতের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও অন্তর্ভুক্তির জায়গা রয়েছে। সেই দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে কোনো দেশকে বাদ দেওয়ার বা বিভাজনের ভিত্তিতে পরিচালিত করার ধারণার উত্থান তাকে উদ্বিগ্ন করে বলেও জানান তিনি।   আরএসএসকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রেও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন সংগঠনটির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে মোহন ভাগবতের সফর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তবে আরএসএস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে তুলে ধরে।   মামদানির অবস্থানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনও ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর ও অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে আয়োজক হিন্দু আমেরিকান সংগঠনগুলো অনুষ্ঠানটিকে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করছে।   এদিকে অনুষ্ঠানটি বাতিল করার দাবি উঠলেও এখন পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন এটি বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মামদানির বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগতভাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করার আইনগত এখতিয়ার সিটির রয়েছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৯:০
উবারের নতুন ফিচার, সন্তানের রাইড লাইভ ভিডিওতে দেখতে পারবেন বাবা-মা

উবারের নতুন ফিচার, সন্তানের রাইড লাইভ দেখতে পারবেন বাবা-মা

ফ্লোরিডায় ৪১টি ভুয়া গাড়ির ইন্স্যুরেন্স আবেদন এবং ৪৪ হাজার ডলার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার

ফ্লোরিডায় ৪১টি ভুয়া গাড়ির ইন্স্যুরেন্স আবেদন এবং ৪৪ হাজার ডলার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার

ফ্লোরিডায় স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য ৪ টিকার বাধ্যতামূলক নিয়ম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব

ফ্লোরিডায় স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য ৪ টিকার বাধ্যতামূলক নিয়ম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব

২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়তে পারে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ
২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়তে পারে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ঘোষণা ১৪ অক্টোবর

যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন আগামী ১৪ অক্টোবর ২০২৭ সালের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা কতটা বাড়বে, তা ঘোষণা করতে পারে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী বছর ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে।   অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন এএআরপি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। এই হিসাব কার্যকর হলে বর্তমানে গড়ে মাসে ২ হাজার ৮৬ ডলার অবসরভাতা পাওয়া একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি আগামী জানুয়ারি থেকে প্রায় ৭৩ ডলার বেশি পেতে পারেন।   তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাসে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। দায়িত্বশীল ফেডারেল বাজেট কমিটি ভাতা ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং সিনিয়র সিটিজেনস লিগ ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।   কীভাবে নির্ধারণ করা হয় ভাতা বৃদ্ধির হার ২০২৭ সালের চূড়ান্ত বৃদ্ধির হার নির্ধারণে চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য ব্যবহার করা হবে। এই তিন মাসের গড় ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কতটা বেড়েছে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী বছরের ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়।   এ ক্ষেত্রে শহুরে মজুরিভোগী ও দাপ্তরিক কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচক ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন। খাদ্য, জ্বালানি, চিকিৎসা ও অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামের পরিবর্তন এই সূচকে প্রতিফলিত হয়।   মূল্যস্ফীতি নিয়ে কী বলছে এএআরপি এএআরপি বলছে, ভাতা কতটা বাড়তে পারে—এমন আগাম ধারণা প্রবীণদের আগামী বছরের আর্থিক পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে খাবার, জ্বালানি, বাসস্থান ও চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা নিজেদের বাজেট ঠিক করতে পারবেন।   এএআরপি পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচ জনসন বলেন, অনেক বয়স্ক আমেরিকানের আয়ের প্রধান উৎস সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা। তাই আগামী বছর ভাতা কতটা বাড়তে পারে, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য যত দ্রুত পাওয়া যাবে, তারা তত দ্রুত নিজেদের আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারবেন।   জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশটির সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। জুনে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।   সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণে ব্যবহৃত মূল্যসূচকও জুলাইয়ে এক বছরের ব্যবধানে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে মাসিক হিসাবে সূচকটি অপরিবর্তিত ছিল।   খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিলে মূল মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দামের পরিবর্তন আগামী দুই মাসে ভাতা বৃদ্ধির চূড়ান্ত হারেও প্রভাব ফেলতে পারে।   চূড়ান্ত ঘোষণা ১৪ অক্টোবর সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সমন্বয় করা হয়, যাতে পণ্য ও সেবার দাম বাড়লেও ভাতাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা খুব বেশি কমে না যায়।   তবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এখনো পূর্বাভাস। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর ১৪ অক্টোবর ২০২৭ সালের চূড়ান্ত ভাতা বৃদ্ধির হার ঘোষণা করা হবে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৬:২১
ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’ নামকরণের হুমকির জবাব কানাডার

ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’ নামকরণের হুমকির জবাব কানাডার, ‘আমরা লেক অন্টারিওই বলব’

যুক্তরাষ্ট্রে ফায়ার স্টেশন থেকে সরঞ্জামভর্তি ব্যাগ চুরি করে পালাল ‘দুষ্টু’ কালো ভালুক

যুক্তরাষ্ট্রে ফায়ার স্টেশন থেকে সরঞ্জামভর্তি ব্যাগ চুরি করে পালাল ‘দুষ্টু’ কালো ভালুক

নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য ইউএস ওপেনের ১,০০০টি টিকিট মাত্র ১০০ ডলারে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কবাসীর জন্য মামদানির উপহার, ১০০ ডলারে ইউএস ওপেনের ১,০০০ টিকিট

ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সংস্কার পরিকল্পনা আদালত আটকে দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আদালত বাধা দিলে কেনেডি সেন্টার ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের

ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সংস্কার পরিকল্পনা আদালত আটকে দিলে ভবনটি শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, সংস্কার ও অর্থায়নের উদ্যোগ থেমে গেলে কেন্দ্রটি আরও জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে পড়তে পারে।    বিষয়টি সামনে এসেছে কেনেডি সেন্টার নিয়ে চলমান আইনি বিরোধের মধ্যে। ট্রাম্প প্রশাসন কেন্দ্রটিতে বড় ধরনের সংস্কার করতে চায়। একই সঙ্গে ভবনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগও নিয়েছে কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদ। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের এখতিয়ার নেই বলে এর আগে একটি ফেডারেল আদালত রায় দিয়েছে।    বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক আদালত নথিতে বলা হয়েছে, সংস্কার পরিকল্পনা স্থায়ীভাবে আটকে গেলে কেন্দ্রটি আর্থিক ও অবকাঠামোগত সংকটে পড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ভবনটি ভেঙে সেখানে পটোম্যাক নদীর তীরে একটি বড় উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার নির্মাণের মতো বিকল্প বিবেচনা করা হতে পারে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।    প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা গুরুতর এবং বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। প্রস্তাবিত সংস্কার প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৫ কোটি ডলার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে অর্থ সংগ্রহ ও সংস্কারের উদ্যোগ থেমে গেলে কেন্দ্রটির আর্থিক অবস্থা আরও দুর্বল হতে পারে।    তবে এই দাবিকে ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নাম কেন্দ্রটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর টিকিট বিক্রি ও তহবিল সংগ্রহ কমেছে বলে কিছু অভ্যন্তরীণ নথিতে উঠে এসেছে। ফলে কেন্দ্রটির আর্থিক সংকটের জন্য ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতা কতটা দায়ী এবং প্রশাসনের সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।    কেনেডি সেন্টারের নাম নিয়ে আইনি লড়াইও এখনো চলছে। মে মাসে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার রায় দেন, কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে। এরপর ভবনের সামনে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ট্রাম্প-সমর্থিত পরিচালনা পর্ষদ আগস্টে নতুন করে ভবনে ট্রাম্পের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের ভূমিকা উল্লেখ করার প্রস্তাব অনুমোদন করে।    নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম অপরিবর্তিত রেখে ভবনের সামনে ট্রাম্পের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের ভূমিকা উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের আশপাশের চত্বরের নাম ট্রাম্পের নামে করার প্রস্তাবও রয়েছে। প্রশাসনের আইনজীবীদের দাবি, এটি কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন নয়।    এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন কংগ্রেস সদস্য জয়েস বিটি। তিনি আদালতের কাছে ট্রাম্পের নাম বা তার ভূমিকা তুলে ধরার নতুন উদ্যোগ বন্ধ করার আবেদন করেছেন। তার যুক্তি, কেনেডি সেন্টারকে প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির স্মৃতির উদ্দেশ্যে জাতীয় স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠার আইনি কাঠামোর সঙ্গে এসব পরিবর্তন সাংঘর্ষিক।    ১৯৭১ সালে চালু হওয়া কেনেডি সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারফর্মিং আর্টস প্রতিষ্ঠান। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান নয়, প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি জাতীয় স্মারক হিসেবেও পরিচিত।   সংস্কার পরিকল্পনা, ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিরোধ এখন কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎকে ঘিরে বড় আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। আদালত শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত দেয়, তার ওপর সংস্কার প্রকল্প এবং কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২:৫৯
যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক গ্রোসারি খরচ কমানো এখন অনেকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রোসারি খরচ কমানোর ১০ বাস্তব উপায়, মাসে শত শত ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন সংস্থা সিবিপিতে একাধিক পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরির বড় সুযোগ, সিবিপিতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা সীমিত করে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আইসের অভিযান ঘিরে বড় পরিবর্তন, কার্যকর হলো নতুন দুই আইন

0 Comments