মিসাইল

ছবি: সংগৃহীত।
ইসরায়েলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ইরানের ‘ক্লাস্টার মিসাইল’: কেন এই অস্ত্র এতোটা ভয়ানক?

চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র। গত ১৭ মার্চ ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিকে ইসরায়েলি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে তেল আবিবসহ মধ্য ইসরায়েলে একের পর এক ক্লাস্টার মিসাইল ছুড়েছে ইরান। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে তেল আবিবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের মাথায় যেখানে একটি মাত্র শক্তিশালী বিস্ফোরক থাকে, সেখানে ক্লাস্টার মিসাইলের মাথায় থাকে অসংখ্য ছোট ছোট বোমা বা ‘বোম্বলেট’। ক্ষেপণাস্ত্রটি যখন লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন এর খোলসটি খুলে যায় এবং ভেতরে থাকা ২০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত ছোট বোমা একটি বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সামরিক বিশ্লেষক এলিজাহ ম্যাগনিয়ার আল জাজিরাকে জানান, এই প্রযুক্তিটি একটি একক ব্যালিস্টিক মিসাইলকে অনেক বেশি বিপজ্জনক করে তোলে। কারণ এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে আঘাত না করে পুরো এলাকাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারে। এটি ইসরায়েলের মাল্টি-লেয়ারড এয়ার ডিফেন্স আর্কিটেকচারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হচ্ছে? ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক উজি রুবিন বলেন, “ইরানের কাছে থাকা প্রায় সব ধরনের ওয়ারহেডেই এখন ক্লাস্টার সুবিধা রয়েছে।” সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করা সহজ হলেও ক্লাস্টার মিসাইল যখন তার ভেতরের বোমাগুলো ছেড়ে দেয়, তখন রাডার বা ইন্টারসেপ্টরগুলোর পক্ষে একযোগে এতগুলো লক্ষ্যবস্তুকে আটকে দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। গত সপ্তাহের হামলায় তেল আবিবের কাছে রামাত গান এলাকায় দুই বয়স্ক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, সাইরেন বাজার পর তারা সেফ রুমে পৌঁছানোর পর্যাপ্ত সময় পাননি। এছাড়া দানিয়া ও দিমোনার পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের কাছের শহরগুলোতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যাতে অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রুখতে পুরোপুরি সফল হয়নি। ক্লাস্টার বোমা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ না হলেও ১১১টি দেশ ২০০৮ সালের ‘কনভেনশন অন ক্লাস্টার মিউনিশনস’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির বাইরে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই বোমার ৯৩ শতাংশ শিকারই সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, এই ছোট বোম্বলেটগুলোর সব সময় তৎক্ষণাৎ বিস্ফোরিত হয় না। এগুলো মাটিতে পড়ে থাকে এবং বছরের পর বছর পর শিশুদের খেলনা ভেবে তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবেই এখন ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার বাড়িয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিশাল এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি সাধন এবং উদ্ধারকারী দল বা বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। ইরান গত ২০২৫ সালের জুনে প্রথম এই সক্ষমতার মহড়া দিলেও ২০২৬-এর এই যুদ্ধে তারা এটিকে নিয়মিত মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানি বিপ্লবী গার্ড: “ট্রাম্প পারস্য সাগরে জাহাজ আনুক, আমরা প্রস্তুত”

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন তারা ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছেন, তা মিথ্যা। তিনি বলেন, যদি তার সাহস থাকে, তাহলে পারস্য সাগরে জাহাজ আনুক।   মুখপাত্র আরও বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে বাধা থাকায় পারস্য সাগরে পৌঁছানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালী ইরানের দ্বারা বন্ধ রয়েছে এবং এটি এখনও অবরুদ্ধ। ওমান সাগরের পথ ব্যবহার করে পারস্য সাগরে যেতে হয়, যা ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন।   আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত যেসব মিসাইল ব্যবহার করেছি, সেগুলো এক দশক আগে তৈরি করা। গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতের পর আমরা নতুন মিসাইল তৈরি করেছি, তবে সেগুলো এখনও ব্যবহার করা হয়নি।   বিপ্লবী গার্ডের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির উত্তরে ইরানের শক্তি প্রদর্শনের একটি নির্দেশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
কুয়েতের আল-জাবের বিমান ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা: ৩ সেনাসদস্য আহত

কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান ঘাঁটিতে শক্তিশালী মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, আহমেদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটির সীমানার ভেতরে দুটি মিসাইল আঘাত হানে। এতে সেখানে কর্মরত অন্তত তিনজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির আকাশসীমায় মোট সাতটি মিসাইল শনাক্ত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে তিনটি মিসাইল মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, বাকি দুটি মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঘাঁটির আশপাশে আঘাত হানে। আহত তিন সেনাসদস্যের আঘাত গুরুতর নয় বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তারা সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পর ওই এলাকা এবং সংলগ্ন সামরিক স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিধ্বংসী হামলা: হাইপারসনিকের সঙ্গে যুক্ত হলো আরও তিন শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে এবার সরাসরি ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের আঘাত হানল ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৩৪তম দফার এই অভিযানে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আরও তিন ধরনের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে তেহরান। মঙ্গলবার ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে আইআরজিসির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং এর লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশলগত ঘাঁটিগুলো। যেখানে যেখানে চালানো হয়েছে হামলা: ইরানের এই বিশাল মিসাইল বহর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে: সংযুক্ত আরব আমিরাত: আবুধাবির কাছে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের গুরুত্বপূর্ণ আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি। বাহরাইন: জুফায়ার মার্কিন নৌ-ঘাঁটি ও সেনা স্থাপনা। ইসরায়েল: রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি এবং হাইফার বেসামরিক বিমানবন্দর। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলের গোপন ও সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাইপারসনিকের সাথে আরও তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার একটি নতুন কৌশল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি
ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশের ওপর হামলা চালানো যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তজনার মাঝে ইরাককে কোনো যুদ্ধের রণক্ষেত্র হতে দেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি।  মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও’র সাথে এক ফোনালাপে তিনি হুশিয়ারি দেন যে, ইরাকের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করে প্রতিবেশী কোনো দেশের ওপর হামলা চালানো যাবে না। প্রধানমন্ত্রী সুদানি জোর দিয়ে বলেন, ইরাককে চলমান আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে টেনে আনার যেকোনো চেষ্টা তিনি প্রত্যাখ্যান করছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরাকের আকাশসীমায় বিভিন্ন দিক থেকে মিসাইল ও যুদ্ধবিমানের আনাগোনা বাড়ায় বাগদাদ এখন নিরাপত্তার বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো পক্ষই যেন ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে সামরিক কার্যক্রম না চালায়। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরাকের মাটিতে অবস্থানরত বিভিন্ন ইরান-পন্থী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ওই গোষ্ঠীগুলোও মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরাকের অবস্থান এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
আয়াতুল্লাহ খামেনি
আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যায় ব্যবহৃত ‘মিসাইল ফ্রম স্পেস’ আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করে এই মারাত্মক অস্ত্র?

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলায় “মিসাইল ফ্রম স্পেস” ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।   তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, “মিসাইল ফ্রম স্পেস” আসলে কোনো মহাকাশ থেকে নিক্ষেপ করা অস্ত্র নয়। এটি মূলত এমন একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অনেক ওপরে উঠে যায় এবং পরে অত্যন্ত উচ্চ গতিতে নিচে নেমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।   এই ধরনের মিসাইলের গতিপথ সাধারণত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যাকে অনেক সময় “নিয়ার-স্পেস” বলা হয়। মিসাইলটি প্রথমে শক্তিশালী রকেট ইঞ্জিনের সাহায্যে দ্রুত আকাশে উঠে যায়। এরপর এটি একটি বাঁকা বা ব্যালিস্টিক গতিপথে অনেক দূর পর্যন্ত ভ্রমণ করে এবং শেষ ধাপে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নিচে নেমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। এই কারণেই অনেক সংবাদমাধ্যম সহজভাবে বোঝাতে এটিকে “স্পেস থেকে আসা মিসাইল” বলে উল্লেখ করে।   কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি ইসরায়েলের পরীক্ষামূলক Blue Sparrow missile–এর মতো হতে পারে। এই ধরনের মিসাইল সাধারণত যুদ্ধবিমান বা বিশেষ লঞ্চ প্ল্যাটফর্ম থেকে নিক্ষেপ করা হয় এবং এটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার আগে বায়ুমণ্ডলের অনেক উঁচুতে উঠে যায়। পরে রি-এন্ট্রি বা পুনঃপ্রবেশের সময় এটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে নিচে নেমে আসে, যার ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এটিকে আটকানো কঠিন হয়ে পড়ে।   সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মিসাইল ব্যবহারের প্রধান সুবিধা হলো এর গতি এবং আক্রমণের কোণ। মিসাইলটি এত দ্রুত এবং এত উঁচু থেকে নিচে নেমে আসে যে অনেক সময় শত্রু দেশের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তা শনাক্ত বা প্রতিহত করার আগেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এ কারণে আধুনিক যুদ্ধে এই ধরনের ব্যালিস্টিক মিসাইলকে অত্যন্ত কার্যকর ও মারাত্মক অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “মিসাইল ফ্রম স্পেস” শব্দটি মূলত একটি মিডিয়া বর্ণনা। বাস্তবে এটি মহাকাশ থেকে ছোঁড়া কোনো অস্ত্র নয়; বরং এমন একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল যা আক্রমণের আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অনেক ওপরে উঠে আবার দ্রুত গতিতে নিচে নেমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0