মার্কিন নৌবাহিনীতে ১ লাখ ৫০ হাজার, সেনাবাহিনীতে ২ লাখ ডলার পর্যন্ত বোনাস, কারা পাবেন?
অভিজ্ঞ সামরিক বৈমানিকদের চাকরিতে ধরে রাখতে বড় অঙ্কের আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী। নতুন কর্মসূচির আওতায় যোগ্য কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সক্রিয় দায়িত্বে থাকার অঙ্গীকার করলে নৌবাহিনীতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং সেনাবাহিনীতে সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ ডলার পর্যন্ত বোনাস পেতে পারেন।
মার্কিন নৌবাহিনীর ২৬ জুলাই প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা দক্ষ নেভাল এভিয়েটর এবং নেভাল ফ্লাইট অফিসারদের চাকরিতে ধরে রাখাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। যেসব কর্মকর্তা নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ায় যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন, তারাই এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, অভিজ্ঞ বৈমানিকদের দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই তাদের সক্রিয় দায়িত্বে ধরে রাখাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মিলিটারি টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় দুই বা তিন বছরের নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হবে।
দুই বছরের চুক্তিতে বছরে ১৮ হাজার ৫০০ ডলার করে মোট ৩৭ হাজার ডলার দেওয়া হবে। তিন বছরের চুক্তিতে বছরে ৪৩ হাজার ডলার হিসেবে মোট ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া সমুদ্রে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যরা অতিরিক্ত সমুদ্র ভাতা হিসেবে আরও অর্থ পাবেন। দুই বছরের চুক্তিতে বছরে অতিরিক্ত ১০ হাজার ডলার এবং তিন বছরের চুক্তিতে বছরে ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হবে। সব ভাতা মিলিয়ে যোগ্য সদস্যদের মোট প্রণোদনা ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এই কর্মসূচিতে আবেদন করার শেষ সময় ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট।
অন্যদিকে টাস্ক অ্যান্ড পারপাস প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীও অভিজ্ঞ বৈমানিকদের চাকরিতে ধরে রাখতে নতুন বোনাস কর্মসূচি চালু করেছে। ২৬ জুলাইয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ পাইলটরা সর্বোচ্চ ছয় বছরের জন্য সক্রিয় দায়িত্বে থাকার অঙ্গীকার করলে অতিরিক্ত প্রায় ২ লাখ ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন।
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানের সফলতার জন্য দক্ষ বৈমানিকদের ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বৈমানিকদের সংখ্যা ও প্রয়োজন নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং সেই অনুযায়ী ভবিষ্যতে বোনাস কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব পাইলটের চাকরির মেয়াদ ১২ থেকে ১৪ বছর, তারা আরও তিন বছরের জন্য চুক্তি করলে ৭৫ হাজার ৬০০ ডলার পর্যন্ত বোনাস পাবেন।
এ ছাড়া অন্তত ১৮ বছর চাকরি করা ওয়ারেন্ট অফিসাররা চার, পাঁচ অথবা ছয় বছরের নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯ হাজার ৮৮০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ পেতে পারেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিজ্ঞ বৈমানিক ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে দক্ষ পাইলটের চাহিদা বৃদ্ধি এবং উচ্চ বেতনের কারণে অনেক সামরিক পাইলট অবসরের আগেই বেসরকারি খাতে চলে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সেই প্রবণতা কমাতে এবং প্রশিক্ষিত বৈমানিকদের দীর্ঘ সময় বাহিনীতে রাখতে এই ধরনের আর্থিক প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শীত মৌসুমে বাড়ির জ্বালানি ও গরম রাখার খরচ মেটাতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার আবেদন শুরু হয়েছে। হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা হিপ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবার সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৬ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারে। গত ২ নভেম্বর থেকে নিয়মিত কর্মসূচির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। শীতকালে বাড়ি গরম রাখার জন্য জ্বালানি কেনা কিংবা প্রয়োজনীয় গরম ও ঠান্ডা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জামের খরচ মেটাতে এই সহায়তা দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, মাসিক আয়, বাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানির ধরন এবং পরিবারের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সদস্য আছেন কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবার মাসে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৯৪৮ ডলার আয় করলেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য হতে পারে। জ্বালানির ধরন অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণও আলাদা। তেল, কেরোসিন ও প্রোপেন ব্যবহারকারী যোগ্য পরিবার সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার এবং কাঠ, কাঠের গুঁড়ি থেকে তৈরি জ্বালানি ও কয়লা ব্যবহারকারী পরিবার সর্বোচ্চ ৭০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারে। যেসব পরিবার অন্য সরকারি সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধা পাচ্ছে না, তাদের আবেদন করতে হবে। নিউইয়র্কের বাসিন্দারা অনলাইনে, ডাকযোগে অথবা স্থানীয় সামাজিক সেবা দপ্তরে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা অ্যাকসেস এইচআরএ পোর্টালের মাধ্যমেও আবেদন করতে পারবেন। তবে এই সহায়তা সবার জন্য নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীর আয়, পরিবারের অবস্থা ও অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আবেদন গ্রহণ করা হবে আগে এলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে এবং বরাদ্দ শেষ হলে আবেদন বন্ধ হতে পারে। যোগ্য পরিবারগুলোকে দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সহায়তার অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। যেসব পরিবার শীতকালে বাড়ি গরম রাখার খরচ নিয়ে চাপে রয়েছে, তারা নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করতে পারেন। আবেদনের ওয়েবসাইট: https://otda.ny.gov/programs/heap/ নিউইয়র্ক সিটি: https://a069-access.nyc.gov/
দিল্লির বস্তি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রথম দক্ষিণ এশীয় মেয়র নিত্যা রমন
মিশিগানের শিশুদের ‘আরবি সংখ্যা’ শেখাবেন আবদুল এল সাঈদ, পোস্ট ভাইরাল
ওয়াল স্ট্রিটে বড় ধস! একদিনেই উধাও ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রেমিকের সঙ্গে ছুটি কাটাতে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী। পলা ভ্যালেন্টিনা আলবর্নোজ হার্নান্দেজ নামের ওই তরুণী ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে পড়াশোনা করছেন। গত ৩০ অক্টোবর সান ফ্রান্সিসকো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা এবং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট থাকার পরও গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্ট ও বার্কলিসাইডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হার্নান্দেজ তাঁর প্রেমিক অ্যান্থনির সঙ্গে ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পড়াশোনার চাপ থেকে কিছুটা বিরতি দিতে প্রেমিকই এই ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। বিমানবন্দরে ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকার সময় সাধারণ পোশাক পরা এক ব্যক্তি তাঁদের কাছে এসে হার্নান্দেজের পরিচয় জানতে চান। প্রেমিকের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি প্রথমে নিজেকে আইসিই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেননি। পরে হার্নান্দেজের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে আলাদা করে হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। কলম্বিয়ার নাগরিক হার্নান্দেজ ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। নিজ দেশে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী নিকো ডি ব্রেমেকার। আবেদনটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আইনজীবীর দাবি, হার্নান্দেজ নিয়মিত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন, প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিকস দিয়েছেন এবং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছেন। তাঁর কোনো অপরাধের রেকর্ডও নেই। প্রথমে সান হোসে সিটি কলেজে পড়াশোনা করলেও পরে তিনি ইউসি বার্কলেতে ভর্তি হন। সেখানে ব্যবসায় প্রশাসন নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, হার্নান্দেজ ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ২০২৩ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত তাঁর থাকার অনুমতি ছিল। নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি দেশ ছাড়েননি। বিভাগের দাবি, আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা কিংবা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের মর্যাদা দেয় না। তাঁকে ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে হেফাজতে রাখা হবে। গ্রেপ্তারের পর হার্নান্দেজকে একাধিক ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া সিটির একটি আইসিই ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে রয়েছেন। তাঁর আইনজীবীরা গ্রেপ্তারকে বেআইনি দাবি করে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, যথাযথ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাঁকে আটক করা হয়েছে এবং তিনি পালিয়ে যেতে পারেন কি না, তা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি। আদালতের কাছে তাঁর মুক্তির আবেদন জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউসি বার্কলের চ্যান্সেলর রিচার্ড লায়ন্স। তিনি হার্নান্দেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর পড়াশোনা অব্যাহত রাখার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করতেও উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৪ নভেম্বর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সমাবেশ করেন। আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৭ নভেম্বর হার্নান্দেজের ইমিগ্রেশন কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে তাঁর মুক্তির দাবিতে ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলাটিও চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম কঠোর হওয়ার মধ্যে বিমানবন্দরে এমন গ্রেপ্তারের ঘটনা অভিবাসী শিক্ষার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ভ্রমণসংক্রান্ত উদ্বেগ নতুন করে সামনে এনেছে।
প্রেমের স্মৃতিবিজড়িত কিম কার্দাশিয়ানের প্রথম বাড়ি আবারো বিক্রির বাজারে, দাম ৮৫ লাখ ডলার
ছুটির মৌসুমে ৩ লাখের বেশি কর্মী নিচ্ছে অ্যামাজন, ঘণ্টায় বেতন ২০ ডলার
একসঙ্গে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ, ক্লার্কসন ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেলেন চুয়েটের দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে মেয়েদের স্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সীমিত করার উদ্যোগ ‘ইনিশিয়েটিভ ৬৩৮’ ভোটে অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে মেয়েদের স্কুল ক্রীড়া দলে অংশ নিতে ইচ্ছুক সব শিক্ষার্থীর জৈবিক লিঙ্গ যাচাইয়ের জন্য চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হচ্ছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা প্রস্তাবটির পক্ষে রায় দেন। বুধবার রাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ফলাফল ঘোষণা করে। ওয়াশিংটনের নির্বাচনী ফলাফলের প্রাথমিক হিসাবে প্রস্তাবটির পক্ষে ৫৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পড়েছে, বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের হিসাবে, পক্ষে ভোটের সংখ্যা ১১ লাখ ১৯ হাজারের বেশি। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে মেয়েদের জন্য নির্ধারিত একক ও দলীয় প্রতিযোগিতায় জন্মের সময় পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে না। পাশাপাশি মেয়েদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত ক্রীড়া-স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে চিকিৎসকের স্বাক্ষর করা প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। শিক্ষার্থীর প্রজনন অঙ্গসংস্থান, জিনগত বৈশিষ্ট্য অথবা শরীরে স্বাভাবিকভাবে উৎপাদিত টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ভিত্তিতে জৈবিক লিঙ্গ যাচাই করা যাবে বলে উদ্যোগটির সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এত দিন ওয়াশিংটনে শিক্ষার্থীরা নিজেদের লিঙ্গপরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্কুল ক্রীড়া দলে অংশ নিতে পারত। নতুন উদ্যোগটি সেই নীতিতে পরিবর্তন আনবে। তবে চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্রের জন্য ঠিক কী ধরনের পরীক্ষা করা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উদ্যোগটির সমর্থকেরা বলছেন, আলাদা কোনো পরীক্ষা প্রয়োজন হবে না, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমেই বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের স্কুল ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, তাদের বর্তমান নিয়মে মেয়েদের যৌনাঙ্গ সরাসরি পরীক্ষা, ডিএনএ পরীক্ষা কিংবা হরমোন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। উদ্যোগটির সমর্থকেরা বলছেন, মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ন্যায্যতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা প্রয়োজন। ‘লেটস গো ওয়াশিংটন’ নামের উদ্যোগটির পক্ষে প্রচার চালানো রাজনৈতিক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান হেউড ভোটের ফল প্রকাশের পর বলেন, নারী ক্রীড়াবিদদের দাবির প্রতি ভোটাররা সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, জন্মের সময় পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষার্থীরা মেয়েদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ উদ্যোগটির বিরোধীরা বলছেন, এটি ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য তৈরি করবে। তাঁদের আশঙ্কা, মেয়েদের খেলায় অংশ নিতে সব শিক্ষার্থীর জন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে লিঙ্গ যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ‘নো হেট ইন ওয়াশিংটন স্টেট’ নামের বিরোধী সংগঠনও বলেছে, এ উদ্যোগ মেয়েদের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ও অস্বস্তিকর শারীরিক পরীক্ষার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পাশাপাশি কলোরাডোতেও ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের স্কুল ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ সীমিত করার প্রস্তাব ভোটে অনুমোদন পেয়েছে। এদিকে ওয়াশিংটনে ইনিশিয়েটিভ ৬৩৮ আগামী ৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিরোধীরা এটি বাস্তবায়ন ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। সংবাদ সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, অ্যাক্সিওস।
হাকিম জেফ্রিসকে স্পিকার না করার দাবিতে পিটিশনে ৫ লাখ স্বাক্ষর, চাপে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব
জিম্মিদশা থেকে পালিয়ে পুলিশের কাছে সাহায্য চাইতে গিয়ে উল্টো পুলিশের গুলিতে আহত কলেজশিক্ষার্থী