সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা

১৫ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের নিয়মে পরিবর্তন আসছে। ছবি: সংগৃহীত
১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বদলাচ্ছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার নিয়ম, বাংলাদেশিদের যা জানা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণের নিয়মে পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এফ, জে ও আই শ্রেণির অস্থায়ী ভিসাধারীদের আর আগের মতো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   নতুন নিয়মে এফ-১ শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমোদিত সময় সাধারণত তাদের শিক্ষাক্রম শেষ হওয়ার তারিখ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হবে। তবে এই সময়সীমা সর্বোচ্চ চার বছর হতে পারবে। কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রম চার বছরের বেশি হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা বা শিক্ষাক্রমে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   এতদিন এফ-১ শিক্ষার্থীরা সাধারণত ‘অবস্থানের মেয়াদ পর্যন্ত’ যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেতেন। অর্থাৎ শিক্ষার্থী যতদিন অনুমোদিত শিক্ষাক্রমে নিয়ম মেনে পড়াশোনা করতেন, ততদিন তাদের অবস্থানের মেয়াদ বহাল থাকত। নতুন নিয়মে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট শেষ তারিখ দেওয়ার বিধান করা হচ্ছে।   নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থীর অনুমোদিত অবস্থানের সময় শেষ হয়ে গেলে এবং তিনি আরও সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে তাকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে নিজের শিক্ষাক্রমের বর্তমান অবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করতে হতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে নতুন মেয়াদে অবস্থানের সুযোগ পাওয়া যাবে।   শুধু এফ-১ শিক্ষার্থী নয়, জে-১ বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপরও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য ব্যবহৃত আই শ্রেণির অবস্থানের মেয়াদও নির্দিষ্ট সময়ের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে পরিবর্তনটি শুধু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নয়, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আরও কিছু অস্থায়ী ভিসাধারীর ওপরও প্রভাব ফেলবে।   তবে ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে আলাদা বিধান রয়েছে। নতুন নিয়মের কারণে বৈধভাবে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থীকে ১৫ সেপ্টেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, এমন নয়। তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের পরিবর্তনকালীন বিধান এবং অনুমোদিত অবস্থানের তথ্য বিবেচনা করা হবে।   নতুন বিধানে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য এফ-১ শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময়ের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের পর নতুন করে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা বা অনুমোদিত কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সময় ৩০ দিন করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনকালীন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।   নতুন নিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জও হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। মামলাকারীদের দাবি, নতুন নিয়মের কারণে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর নিয়মটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে অস্থায়ী ভিসাধারীদের অবস্থান ও ভিসার শর্ত মানার বিষয়টি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের চূড়ান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, এফ ও জে শ্রেণির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থান চালু করার পাশাপাশি মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন প্রক্রিয়া থাকবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থাকা যথেষ্ট হবে না; যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বৈধ অবস্থানের সময়সীমার দিকেও নিয়মিত নজর রাখতে হবে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় শিক্ষাক্রমের মেয়াদ বেড়ে গেলে, পড়াশোনার পরিকল্পনায় পরিবর্তন হলে কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাক্রম শেষ করা সম্ভব না হলে আগেভাগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন হতে পারে। নিজের অবস্থানের নথি, শিক্ষাক্রমের শেষ তারিখ এবং অবস্থান বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।   নতুন নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এর বিরুদ্ধে করা মামলার কারণে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেটিও নজরে থাকবে। তাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
৪০টি বৃত্তি নিয়ে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাচ্ছেন ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী আদেওলা আদেয়েমো। ছবি: সংগৃহীত
২০০টির বেশি স্কলারশিপে আবেদন করে ৪০টি পেলেন তরুণী, পড়বেন আইভি লিগের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পার এক সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থী ২০০টির বেশি বৃত্তির জন্য আবেদন করে ৪০টি বৃত্তি পেয়েছেন। এসব বৃত্তির অর্থ ব্যবহার করেই এবার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রিন্সটনে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছেন আদেওলা আদেয়েমো।   কলেজে পড়ার খরচ কমানোই ছিল তার মূল লক্ষ্য। তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নয়, উচ্চমাধ্যমিকের শেষ সময়টায় তিনি নিয়মিত বিভিন্ন বৃত্তির জন্য আবেদন করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৪০টি বৃত্তি পাওয়ার পর প্রিন্সটনে পড়ার আর্থিক চাপ অনেকটাই কমেছে তার। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আদেওলা বলেন, কলেজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে খরচই ছিল তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার ভাষায়, কলেজ নির্বাচনের সময় মূল্য ও সামর্থ্যকে তিনি সবকিছুর ওপরে রেখেছিলেন।   বৃত্তি পাওয়ার জন্য তার প্রচেষ্টার পরিমাণও ছিল উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসভিএনকে তিনি জানান, ভ্রমণের সময়, বন্ধুদের বাড়িতে, ক্লাসের মাঝের অবসর সময়ে এমনকি দুপুরের খাবারের বিরতিতেও তিনি বৃত্তির আবেদন করতেন। তার যুক্তি ছিল, বৃত্তির অর্থ দাবি না করলে সেই অর্থ অন্য কেউ পেয়ে যাবে, তাই নিজের সুযোগ কাজে লাগাতে তিনি নিয়মিত আবেদন করে গেছেন।   প্রিন্সটনে এবার শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনা শুরু করবেন আদেওলা। তার লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি অপারেশনস রিসার্চ অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার পরিকল্পনা করছেন এবং ২০৩০ সালে স্নাতক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রিন্সটনের এই বিভাগে পরিসংখ্যান, সম্ভাব্যতা, গণিতভিত্তিক বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয় পড়ানো হয়।   প্রিন্সটন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত একটি বেসরকারি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ের টিউশন ফি ৬৮ হাজার ১৪০ ডলার। এর সঙ্গে আবাসন, খাবার, বই ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ যোগ হলে এক শিক্ষাবর্ষের আনুমানিক মোট ব্যয় ৯৪ হাজার ৬২৪ ডলারে পৌঁছাতে পারে।   এত বড় অঙ্কের খরচের কারণে আদেওলার কাছে বৃত্তি সংগ্রহ ছিল শুধু অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং প্রিন্সটনে পড়ার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ৪০টি বৃত্তির অর্থ তিনি টিউশনসহ কলেজের বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করবেন। আদেওলা উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময়ও বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। ২০২৬ সালের বৃত্তিপ্রাপকদের তালিকায় তার নাম রয়েছে ডিবার্তোলো ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের বৃত্তি কর্মসূচিতেও। একই বছরে অ্যাকচুয়ারিয়াল ফাউন্ডেশনের ‘এসটিইএম স্টারস’ কর্মসূচিতেও তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। ওই কর্মসূচিতে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের চার বছরে মোট ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়।   বিভিন্ন বৃত্তির পাশাপাশি তার একাডেমিক ও সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডও উল্লেখযোগ্য। ডিইসিএর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বৃত্তিপ্রাপকদের তালিকাতেও আদেওলার নাম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার ব্যয় গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি, অনুদান ও আর্থিক সহায়তার জন্য প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।   আদেওলার গল্পে সেই বাস্তবতার পাশাপাশি অন্য একটি দিকও উঠে এসেছে। প্রিন্সটনের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও তিনি শুধু ভর্তি নিশ্চিত করেই থেমে থাকেননি। বরং পড়াশোনার খরচ কমাতে শত শত বৃত্তির সুযোগ খুঁজেছেন এবং যেসব বৃত্তির জন্য যোগ্য মনে করেছেন, সেগুলোতে আবেদন করেছেন।   এখন প্রিন্সটনে পড়াশোনা শুরু করার পরও থামতে চান না আদেওলা। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের খরচ মেটাতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ও নতুন বৃত্তির জন্য আবেদন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।   তার এই প্রচেষ্টা দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচ অনেক বেশি হলেও বৃত্তির সুযোগ খুঁজে পরিকল্পিতভাবে আবেদন করলে শিক্ষার্থীরা আর্থিক চাপ কমানোর সুযোগ পেতে পারেন। তবে প্রতিটি বৃত্তির যোগ্যতা, আবেদনের সময়সীমা ও শর্ত আলাদা হওয়ায় আগে থেকেই পরিকল্পনা করে আবেদন করাই গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি আবেদনকারীদের জন্য ১৮১টি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে চান? ১৮১ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি ও ভর্তি সম্ভাবনার তথ্য এক তালিকায়

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার স্বপ্ন দেখছেন? কিন্তু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, কোথায় আবেদন ফি কম, কোথায় ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করছেন? সেই সমস্যার সমাধান দিতে তৈরি হয়েছে ১৮১টি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন R1 (Carnegie Classification) গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার।   প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই তালিকায় একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি, ২০২৫ সালের উপলব্ধ ভর্তি তথ্যের ভিত্তিতে আনুমানিক পিএইচডি অ্যাকসেপ্টেন্স রেট (Acceptance Rate) এবং ডুওলিঙ্গো ইংলিশ টেস্ট (DET) গ্রহণ করে কি না এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।   সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অ্যাকসেপ্টেন্স রেট অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। ফলে শত শত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেঁটে সময় নষ্ট না করে আবেদনকারীরা খুব সহজেই নিজেদের প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে একটি বাস্তবসম্মত শর্টলিস্ট তৈরি করতে পারবেন। এতে আবেদন ব্যয়, প্রতিযোগিতার মাত্রা এবং সম্ভাব্য সুযোগ সবকিছু এক নজরেই বোঝা সম্ভব।   তালিকার প্রস্তুতকারীর দাবি, তথ্যগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংকলন করা হয়েছে। তবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি, সেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই বাদ রাখা হয়েছে, যাতে বিভ্রান্তিকর তথ্য অন্তর্ভুক্ত না হয়।   উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং নয়, গবেষণার ক্ষেত্র, সম্ভাব্য সুপারভাইজার, অর্থায়নের সুযোগ, আবেদন ব্যয় এবং ভর্তি প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি নির্ভরযোগ্য ও সংগঠিত তথ্যভান্ডার আবেদনকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা থাকলে আবেদন শুরু করার আগে এই তথ্যভান্ডার একবার দেখে নেওয়া আপনার সময়, অর্থ এবং পরিশ্রম তিনটিই বাঁচাতে পারে। তাই সম্পূর্ণ তালিকাটি দেখে নিজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেছে নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া না করাই ভালো।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০