- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, কিন্তু ডাউন পেমেন্টের বাইরে আরও কয়েক হাজার ডলার খরচের কথা শুনে বিভ্রান্ত হচ্ছেন? বাড়ি কেনার সময় ডাউন পেমেন্টের পাশাপাশি ক্রেতাকে যে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়, তার একটি বড় অংশ হলো ক্লোজিং কস্ট। বাড়ির মালিকানা হস্তান্তর, মর্টগেজ ঋণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন, আইনি নথিপত্র তৈরি এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফি পরিশোধের জন্য এই অর্থ ব্যয় হয়। বাড়ির দাম ও ডাউন পেমেন্ট নিয়ে অনেক ক্রেতা আগে থেকেই পরিকল্পনা করলেও ক্লোজিং কস্ট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় শেষ মুহূর্তে আর্থিক চাপে পড়েন। বিশেষ করে যারা প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনছেন, তাদের মধ্যে এ নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা যায়। সাধারণভাবে ক্লোজিং কস্ট বলতে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ফি, কর, বিমা এবং আগাম পরিশোধযোগ্য খরচের সমষ্টিকে বোঝায়। এটি বাড়ির ডাউন পেমেন্টের অংশ নয়। আবার পুরো অর্থও ব্যাংক বা মর্টগেজ কোম্পানির কাছে যায় না। বরং ঋণদাতা, টাইটেল কোম্পানি, অ্যাটর্নি, সরকারি রেকর্ড অফিস, বিমা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবাদাতার কাছে এই অর্থের একটি অংশ পরিশোধ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত বাড়ির ক্রয়মূল্যের প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্লোজিং কস্ট হতে পারে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট বা বাধ্যতামূলক হার নয়। বাড়ির অবস্থান, ক্রয়মূল্য, ঋণের ধরন, ঋণদাতা এবং স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী খরচ কমবেশি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। ক্লোজিং কস্টের মধ্যে কী কী খরচ থাকে? বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং কস্টের মধ্যে একাধিক খাতের অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সব ক্রেতার ক্ষেত্রে প্রতিটি খরচ প্রযোজ্য না হলেও সাধারণত নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। লোন অরিজিনেশন ফি: মর্টগেজ ঋণ তৈরি ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য ঋণদাতা যে ফি নেন, সেটি লোন অরিজিনেশন ফি। ঋণের আবেদন, নথিপত্র প্রস্তুত এবং ঋণ প্রক্রিয়াকরণের প্রশাসনিক খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। অ্যাপ্রেইজাল ফি: বাড়িটির বাজারমূল্য নির্ধারণের জন্য একজন পেশাদার অ্যাপ্রেইজার নিয়োগ করা হয়। ঋণদাতা সাধারণত নিশ্চিত হতে চান যে বাড়ির মূল্য এবং প্রস্তাবিত ঋণের পরিমাণের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে। এই মূল্যায়নের জন্য যে অর্থ দিতে হয়, সেটি অ্যাপ্রেইজাল ফি। ক্রেডিট রিপোর্ট ও আন্ডাররাইটিং ফি: ক্রেতার ক্রেডিট স্কোর, আয়, সম্পদ, ঋণ পরিশোধের ইতিহাস এবং আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এসব যাচাই ও ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ফি যুক্ত হতে পারে। টাইটেল সার্চ ও টাইটেল ইন্স্যুরেন্স: বাড়িটির মালিকানা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা, বকেয়া ঋণ, অন্য কোনো ব্যক্তির দাবি বা মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি ঋণদাতার স্বার্থ সুরক্ষার জন্য সাধারণত লেন্ডারস টাইটেল ইন্স্যুরেন্স নেওয়া হয়। ক্রেতা চাইলে নিজের মালিকানা সুরক্ষার জন্য আলাদাভাবে ওনার্স টাইটেল ইন্স্যুরেন্সও নিতে পারেন। অ্যাটর্নি ও সেটেলমেন্ট ফি: বাড়ির মালিকানা হস্তান্তর, চুক্তিপত্র যাচাই, আইনি নথি তৈরি এবং চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য অ্যাটর্নি বা সেটেলমেন্ট প্রতিষ্ঠানের ফি দিতে হতে পারে। অঙ্গরাজ্যভেদে এই প্রক্রিয়া ও খরচের ধরন আলাদা। রেকর্ডিং ও সরকারি ফি: বাড়ির দলিল এবং মর্টগেজসংক্রান্ত নথি স্থানীয় কাউন্টির সরকারি রেকর্ডে নিবন্ধন করতে হয়। এ জন্য রেকর্ডিং ফি, ডিড রেকর্ডিং চার্জ এবং প্রযোজ্য সরকারি কর বা ট্রান্সফার ফি দিতে হতে পারে। প্রিপেইড প্রপার্টি ট্যাক্স ও হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স: বাড়ি কেনার সময় কিছু কর ও বিমার অর্থ আগাম পরিশোধ করতে হয়। যেমন, বাড়ির হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের প্রথম বছরের প্রিমিয়াম এবং নির্দিষ্ট সময়ের প্রপার্টি ট্যাক্স। এসব খরচও অনেক সময় ক্লোজিংয়ের সময় পরিশোধ করতে হয়। এসক্রো অ্যাকাউন্টের প্রাথমিক জমা: অনেক ঋণদাতা বাড়ির প্রপার্টি ট্যাক্স ও ইন্স্যুরেন্সের অর্থ সংগ্রহ এবং পরিশোধের জন্য এসক্রো অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন। এই অ্যাকাউন্টে প্রাথমিক ব্যালান্স রাখার জন্য কয়েক মাসের কর ও বিমার অর্থ আগাম জমা দিতে হতে পারে। ডিসকাউন্ট পয়েন্ট: কেউ যদি মর্টগেজের সুদের হার কমাতে চান, তাহলে ঋণের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ আগাম পরিশোধ করে ডিসকাউন্ট পয়েন্ট কিনতে পারেন। এটি বাধ্যতামূলক নয়। তবে কেউ এই সুবিধা নিলে সেই অর্থও ক্লোজিং কস্টের মধ্যে যুক্ত হয়। এ ছাড়াও বাড়ির ধরন ও লেনদেন অনুযায়ী হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা এইচওএ ফি, কনডোমিনিয়াম চার্জ এবং অন্যান্য পরিদর্শনসংক্রান্ত খরচ যুক্ত হতে পারে। তবে সব খরচ প্রত্যেক ক্রেতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ক্লোজিং কস্ট কি শুধু ক্রেতাকেই দিতে হয়? না। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্লোজিং কস্টের সব অর্থ যে ক্রেতাকেই বহন করতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। চুক্তি এবং স্থানীয় প্রচলন অনুযায়ী কিছু খরচ বিক্রেতাও বহন করতে পারেন। আবার অনেক সময় বিক্রেতা ক্রেতাকে বাড়ি কেনার প্রাথমিক খরচ কমাতে আর্থিক সহায়তা দেন। এই সুবিধাকে বলা হয় সেলার কনসেশন বা সেলার ক্রেডিট। উদাহরণ হিসেবে, একজন ক্রেতা ৪ লাখ ডলারের একটি বাড়ি কিনতে চাচ্ছেন। ডাউন পেমেন্টের পাশাপাশি তার ক্লোজিং কস্টের জন্য আরও ১২ হাজার ডলার প্রয়োজন। ক্রেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বিক্রেতা যদি ৮ হাজার ডলার ক্লোজিং কস্ট বহনের প্রস্তাব দেন, তাহলে ঋণদাতার অনুমোদন ও প্রযোজ্য নিয়মের মধ্যে থেকে সেই অর্থ ক্রেতার অনুমোদিত ক্লোজিং খরচ মেটাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্রেতাকে নিজের পকেট থেকে পুরো ১২ হাজার ডলার দিতে হবে না। অবশিষ্ট ৪ হাজার ডলার দিতে হবে। সেলার ক্রেডিট কীভাবে পাওয়া যায়? সাধারণত বাড়ি কেনার অফার দেওয়ার সময়ই এই সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ক্রেতার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট বিক্রেতার কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডলার অথবা বাড়ির বিক্রয়মূল্যের নির্দিষ্ট শতাংশ ক্লোজিং কস্ট হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করতে পারেন। বিক্রেতা রাজি হলে বিষয়টি ক্রয়চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ঋণদাতার অনুমোদন অনুযায়ী চূড়ান্ত ক্লোজিং ডকুমেন্টে সেই অর্থ সমন্বয় করা হয়। তবে সেলার ক্রেডিট মানে বিক্রেতা ক্রেতাকে সরাসরি হাতে নগদ টাকা দিয়ে দেবেন, এমন নয়। সাধারণত এই অর্থ অনুমোদিত ক্লোজিং খরচ ও প্রিপেইড খরচের বিপরীতে সমন্বয় করা হয়। ক্রেতার ডাউন পেমেন্টের বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যায় না। ফলে অফার দেওয়ার সময় সেলার ক্রেডিটের বিষয়টি সঠিকভাবে চুক্তিতে উল্লেখ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্লোজিং কস্ট কমানোর উপায় কী? বাড়ি কেনার সময় কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করলে ক্রেতারা নিজেদের প্রাথমিক খরচ কমাতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিক্রেতার কাছ থেকে সেলার ক্রেডিট চাওয়া। বাড়ির অফার দেওয়ার সময় এজেন্টের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনা করা যেতে পারে। এ ছাড়া ঋণদাতার কাছ থেকে লেন্ডার ক্রেডিট নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এর বিনিময়ে তুলনামূলক বেশি সুদের হার গ্রহণ করতে হয়। ফলে শুধু প্রাথমিক খরচ কমানোর দিকে না তাকিয়ে দীর্ঘমেয়াদে মোট কত অর্থ পরিশোধ করতে হবে, সেটিও হিসাব করা উচিত। টাইটেল কোম্পানি, সেটেলমেন্ট সার্ভিস এবং অন্যান্য যেসব সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর খরচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করাও উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি ডিসকাউন্ট পয়েন্ট কিনলে সুদের হার কমার বিপরীতে আগাম দেওয়া অর্থ দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী হবে কি না, তা যাচাই করা দরকার। ক্লোজিংয়ের আগে কোন বিষয়গুলো যাচাই করবেন?যুক্তরাষ্ট্রের কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর নিয়ম অনুযায়ী, মর্টগেজের আবেদন পাওয়ার পর ঋণদাতাকে সাধারণত তিন কর্মদিবসের মধ্যে লোন এস্টিমেট দিতে হয়। এতে সম্ভাব্য ঋণের শর্ত এবং আনুমানিক ক্লোজিং কস্ট উল্লেখ থাকে। অন্যদিকে, নির্ধারিত ক্লোজিংয়ের অন্তত তিন কর্মদিবস আগে ক্রেতাকে চূড়ান্ত ক্লোজিং ডিসক্লোজার দিতে হয়। এতে ঋণের চূড়ান্ত শর্ত, বিভিন্ন খরচ, কে কোন অর্থ পরিশোধ করছেন এবং ক্রেতাকে শেষ পর্যন্ত কত টাকা দিতে হবে, তার বিস্তারিত হিসাব থাকে। ক্লোজিং ডিসক্লোজার হাতে পাওয়ার পর লোন এস্টিমেটের সঙ্গে চূড়ান্ত খরচের পার্থক্য রয়েছে কি না, বিক্রেতার প্রতিশ্রুত ক্রেডিট সঠিকভাবে যুক্ত হয়েছে কি না এবং টাইটেল, অ্যাটর্নি, অ্যাপ্রেইজাল ও অন্যান্য ফি সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা উচিত। প্রিপেইড ট্যাক্স, ইন্স্যুরেন্স এবং এসক্রো অ্যাকাউন্টের অর্থের হিসাবও ভালোভাবে দেখা দরকার। সবশেষে ক্যাশ টু ক্লোজ বা বাড়ি কেনার দিন নিজের পকেট থেকে ঠিক কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, সেটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কারণ ক্লোজিং কস্টের মোট পরিমাণ এবং ক্লোজিংয়ের দিন হাতে নিয়ে যেতে হবে এমন অর্থ এক বিষয় নয়। আগে দেওয়া ডিপোজিট, ঋণের অর্থ এবং বিক্রেতা বা ঋণদাতার অনুমোদিত ক্রেডিট সমন্বয়ের পর চূড়ান্ত ক্যাশ টু ক্লোজ নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা শুধু ডাউন পেমেন্টের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিভিন্ন আইনি, আর্থিক ও প্রশাসনিক খরচ। তাই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য ক্লোজিং কস্ট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া বাংলাদেশি অভিবাসীদের উচিত বাড়ির দাম ও মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের পাশাপাশি ক্লোজিং কস্টের জন্যও আলাদা বাজেট রাখা। একই সঙ্গে বিক্রেতার কাছ থেকে ক্লোজিং কস্টের আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায় কি না, সেটিও বাড়ি কেনার অফার দেওয়ার সময় আলোচনা করা যেতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, ঋণদাতার সঙ্গে আগাম আলোচনা এবং চুক্তির শর্ত ভালোভাবে যাচাই করলে বাড়ি কেনার সময় অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি নির্মাণ এবং সাধারণ মানুষের বাড়ি কেনার সামর্থ্যের বিচারে ২০২৬ সালের সেরা রাজ্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ইন্ডিয়ানা। অন্যদিকে উচ্চমূল্য, জমির সংকট এবং ধীরগতির নির্মাণ কার্যক্রমের কারণে তালিকার একেবারে নিচে অবস্থান করছে নিউইয়র্ক। সম্প্রতি প্রকাশিত রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের ‘স্টেট হাউজিং রিপোর্ট কার্ড’-এ এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলো আবাসন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ধরে রেখেছে। বিপরীতে উপকূলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ রাজ্য এখনও উচ্চমূল্য ও আবাসন সংকটের চাপে পিছিয়ে রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আবাসন খাতে সামগ্রিক মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৩ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে ইন্ডিয়ানা। গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়ে উঠে তারা প্রথম হয়েছে। ২০২৫ সালে শীর্ষে থাকা সাউথ ক্যারোলাইনা এবার নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্ডিয়ানার সাফল্যের মূল কারণ হলো তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার সুযোগ এবং নতুন আবাসন নির্মাণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। রাজ্যটিতে একটি মধ্যম মূল্যের বাড়ি কিনতে গড়ে একটি পরিবারের বার্ষিক আয়ের প্রায় ২৮ শতাংশ ব্যয় করতে হয়, যা আবাসন সামর্থ্যের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের মধ্যেই রয়েছে। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জোয়েল বার্নার বলেন, এবারের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে পরিচিত আঞ্চলিক বৈষম্য আবারও স্পষ্ট হয়েছে। তবে একই সঙ্গে কিছু রাজ্যের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনও দেখা গেছে। রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে ৫০টি রাজ্য এবং রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিকে দুটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর একটি হলো বাড়ি কেনার সামর্থ্য এবং অন্যটি নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি। প্রতিটি সূচক মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ করে প্রভাব ফেলেছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইওয়া এবং তৃতীয় স্থানে সাউথ ক্যারোলাইনা। আইওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে একটি পরিবারকে মধ্যম মূল্যের বাড়ি কিনতে তাদের আয়ের মাত্র এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি ব্যয় করতে হয়। চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেক্সাস। নতুন বাড়ি নির্মাণে দেশটির মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় রাজ্য হলেও বাড়ির মূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সামর্থ্যের সূচকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। পঞ্চম স্থানে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনা। এবারের প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে ডেলাওয়্যার। গত বছরের তুলনায় ১২ ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে রাজ্যটি। একইভাবে ইউটাহও ১২ ধাপ উন্নতি করেছে। নির্মাণ কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নতুন বাড়ির প্রতিযোগিতামূলক মূল্য তাদের এই অগ্রগতির প্রধান কারণ। অন্যদিকে আলাবামা, মেরিল্যান্ড, নিউ জার্সি, লুইজিয়ানা ও উইসকনসিনের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব রাজ্যে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি কমে যাওয়াই তাদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে নিউইয়র্ক। মাত্র ৮ দশমিক ৫ নম্বর পেয়ে রাজ্যটি ‘এফ’ গ্রেড অর্জন করেছে। অত্যন্ত উচ্চ আবাসন মূল্য, সীমিত নতুন নির্মাণ এবং ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনার কম সুযোগ এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্কের পাশাপাশি ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়াও সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বাড়ি নির্মাণ করা। বিশেষ করে উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে কঠোর ভূমি ব্যবহার নীতি, সীমিত জমি এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া আবাসন সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। তবে ইন্ডিয়ানার মতো কিছু রাজ্য দেখিয়ে দিয়েছে, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং নির্মাণ খাতকে উৎসাহ দেওয়া গেলে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ির মালিক হওয়া এখনও সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা এখন অনেকটাই নির্ভর করবে কোন রাজ্য দ্রুত নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে পারে এবং একই সঙ্গে সেগুলোকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পারে তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি নির্মাণের খরচ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তবে শুধু নির্মাণসামগ্রী, শ্রমিকের মজুরি বা জমির দামই নয়, বাড়তি ব্যয়ের বড় একটি অংশ এখন আসছে বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন, নির্মাণবিধি, পরিদর্শন প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক নিয়মকানুন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হোম বিল্ডার্স (এনএএইচবি)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব নিয়ন্ত্রক ব্যয় এখন একটি নতুন একক-পরিবারের বাড়ির মোট বিক্রয়মূল্যের ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৪ ডলার সরাসরি বিভিন্ন অনুমোদন, ফি, বিধিনিষেধ, পরিদর্শন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে যুক্ত হয়েছে। গবেষণাটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটের মুখোমুখি। দেশজুড়ে কয়েক মিলিয়ন আবাসন ইউনিটের ঘাটতি রয়েছে এবং বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য আবাসন ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এনএএইচবির চেয়ারম্যান বিল ওয়েন্স বলেন, অতিরিক্ত এবং ব্যয়বহুল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দেশের আবাসন সক্ষমতা সংকটকে আরও গভীর করছে। তার মতে, এসব নিয়মকানুনের কারণে নির্মাতাদের পক্ষে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি নির্মাণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি নীতিনির্ধারকদের প্রতি অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, অনেক নিয়ম এমনভাবে খরচ বাড়াচ্ছে যে সাধারণ ক্রেতারা আবাসন বাজার থেকে কার্যত ছিটকে পড়ছেন এবং নতুন প্রকল্পের গতি কমে যাচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে আবাসন নির্মাণে নিয়ন্ত্রক ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালে যেখানে এসব ব্যয় একটি নতুন বাড়ির ক্ষেত্রে গড়ে ৬৫ হাজার ২২৪ ডলার ছিল, ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৭০ ডলারে। বর্তমানে সেই ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার ডলারেরও বেশি। নির্মাণ খাতে নিয়ন্ত্রণের ধরনও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। আগে জমি-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বড় ব্যয়ের কারণ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্মাণবিধি, নকশা সংক্রান্ত শর্ত এবং অতিরিক্ত পরিদর্শন প্রক্রিয়ার খরচ আরও দ্রুত বেড়েছে। এনএএইচবির জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৮৮ শতাংশ আবাসন উন্নয়নকারী জানিয়েছেন, তাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নকশা-সংক্রান্ত শর্ত মানতে হয়, যা প্রচলিত জোনিং বিধির বাইরের বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্পের একটি অংশ জনসাধারণের ব্যবহার বা সরকারি প্রয়োজনে সংরক্ষিত রাখার বাধ্যবাধকতাও থাকে। এছাড়া সময়ক্ষেপণও বড় ব্যয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৪ শতাংশ উন্নয়নকারী জানিয়েছেন, বিভিন্ন অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে। ফলে উন্নয়ন ঋণের সুদ বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত বাড়ির ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণবিধির পরিবর্তন বর্তমানে সবচেয়ে বড় ব্যয়-সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোর একটি। বাড়ির বাইরের আবরণ, বেড়া, প্রবেশপথ কিংবা ভবনের অবস্থান নির্ধারণের মতো নানামুখী নকশাগত শর্তও নির্মাতাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য করছে। আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের আরেকটি বড় অভিযোগ হলো বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মকানুনের ব্যাপক বৈচিত্র্য। ডালাসভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান আরআরইএএফ হোল্ডিংসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জেফ হোলজম্যান বলেন, তারা যেসব অঙ্গরাজ্যে কাজ করেন সেখানে মোট প্রকল্প ব্যয়ের ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক খাতে ব্যয় হয়। তার মতে, সমস্যা শুধু খরচ নয়; বরং একেক শহর ও অঞ্চলে একেক ধরনের নিয়ম থাকায় পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ আরও জটিল হয়ে পড়ে। কোথাও যানবাহন চলাচল-সংক্রান্ত সমীক্ষা বাধ্যতামূলক, কোথাও আবার জোনিং অনুমোদন পেতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। হোলজম্যান বলেন, ব্যবসায়ীরা তখনই নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হন, যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্পষ্ট ও পূর্বানুমানযোগ্য থাকে। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তা প্রকল্পের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থমাস জেমস হোমসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ শ্লাগেটারও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন শহরে নিয়ম ও ব্যাখ্যার ধরন আলাদা। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিবেশগত মূল্যায়ন ও উপকূলীয় উন্নয়ন-সংক্রান্ত অনুমোদন প্রকল্পের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। বাড়তি ব্যয় ও দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে নতুন সরবরাহ বৃদ্ধির গতি কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নির্মাণ ব্যয় বাড়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান প্রকল্প সীমিত করছে অথবা বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পথে হাঁটছে। আবাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকট নিরসনের জন্য শুধু নতুন বাড়ি নির্মাণ বাড়ালেই হবে না; বরং নির্মাণ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন আরও দূরে সরে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।