যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি নির্মাণ এবং সাধারণ মানুষের বাড়ি কেনার সামর্থ্যের বিচারে ২০২৬ সালের সেরা রাজ্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ইন্ডিয়ানা। অন্যদিকে উচ্চমূল্য, জমির সংকট এবং ধীরগতির নির্মাণ কার্যক্রমের কারণে তালিকার একেবারে নিচে অবস্থান করছে নিউইয়র্ক।
সম্প্রতি প্রকাশিত রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের ‘স্টেট হাউজিং রিপোর্ট কার্ড’-এ এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলো আবাসন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ধরে রেখেছে। বিপরীতে উপকূলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ রাজ্য এখনও উচ্চমূল্য ও আবাসন সংকটের চাপে পিছিয়ে রয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, আবাসন খাতে সামগ্রিক মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৩ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে ইন্ডিয়ানা। গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়ে উঠে তারা প্রথম হয়েছে। ২০২৫ সালে শীর্ষে থাকা সাউথ ক্যারোলাইনা এবার নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্ডিয়ানার সাফল্যের মূল কারণ হলো তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার সুযোগ এবং নতুন আবাসন নির্মাণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। রাজ্যটিতে একটি মধ্যম মূল্যের বাড়ি কিনতে গড়ে একটি পরিবারের বার্ষিক আয়ের প্রায় ২৮ শতাংশ ব্যয় করতে হয়, যা আবাসন সামর্থ্যের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের মধ্যেই রয়েছে।
রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জোয়েল বার্নার বলেন, এবারের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে পরিচিত আঞ্চলিক বৈষম্য আবারও স্পষ্ট হয়েছে। তবে একই সঙ্গে কিছু রাজ্যের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনও দেখা গেছে।
রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে ৫০টি রাজ্য এবং রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিকে দুটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর একটি হলো বাড়ি কেনার সামর্থ্য এবং অন্যটি নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি। প্রতিটি সূচক মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ করে প্রভাব ফেলেছে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইওয়া এবং তৃতীয় স্থানে সাউথ ক্যারোলাইনা। আইওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে একটি পরিবারকে মধ্যম মূল্যের বাড়ি কিনতে তাদের আয়ের মাত্র এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি ব্যয় করতে হয়।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেক্সাস। নতুন বাড়ি নির্মাণে দেশটির মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় রাজ্য হলেও বাড়ির মূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সামর্থ্যের সূচকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। পঞ্চম স্থানে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনা।
এবারের প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে ডেলাওয়্যার। গত বছরের তুলনায় ১২ ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে রাজ্যটি। একইভাবে ইউটাহও ১২ ধাপ উন্নতি করেছে। নির্মাণ কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নতুন বাড়ির প্রতিযোগিতামূলক মূল্য তাদের এই অগ্রগতির প্রধান কারণ।
অন্যদিকে আলাবামা, মেরিল্যান্ড, নিউ জার্সি, লুইজিয়ানা ও উইসকনসিনের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব রাজ্যে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি কমে যাওয়াই তাদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।
তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে নিউইয়র্ক। মাত্র ৮ দশমিক ৫ নম্বর পেয়ে রাজ্যটি ‘এফ’ গ্রেড অর্জন করেছে। অত্যন্ত উচ্চ আবাসন মূল্য, সীমিত নতুন নির্মাণ এবং ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনার কম সুযোগ এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্কের পাশাপাশি ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়াও সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বাড়ি নির্মাণ করা। বিশেষ করে উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে কঠোর ভূমি ব্যবহার নীতি, সীমিত জমি এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া আবাসন সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবে ইন্ডিয়ানার মতো কিছু রাজ্য দেখিয়ে দিয়েছে, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং নির্মাণ খাতকে উৎসাহ দেওয়া গেলে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ির মালিক হওয়া এখনও সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা এখন অনেকটাই নির্ভর করবে কোন রাজ্য দ্রুত নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে পারে এবং একই সঙ্গে সেগুলোকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পারে তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারে নতুন ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইনজীবীরা। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক আবেদনকারীকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, “আপনার পরিবর্তে এই কাজটি কোনো আমেরিকান কর্মী করতে পারবে না কেন?” মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে অনুষ্ঠিত এইচ-১বি ভিসা সাক্ষাৎকারে এ ধরনের প্রশ্নের সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন একাধিক অভিবাসন আইনজীবী। তাদের মতে, বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক পেশার ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা কেন বিদেশি কর্মীকে বেছে নিয়েছেন, তা আরও গভীরভাবে যাচাই করার অংশ হিসেবে এই প্রশ্ন করা হচ্ছে। বর্তমান মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ দিলে তাদের নিশ্চিত করতে হয় যে এতে একই ধরনের কাজ করা মার্কিন কর্মীদের বেতন বা কর্মপরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে পারে। সাধারণত এসব পদের জন্য নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি বা সমমানের যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। প্রতি বছর নতুন এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা ৮৫ হাজারে সীমাবদ্ধ। এর মধ্যে ২০ হাজার ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। মার্কিন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তা মরগান বেইলি নিউজউইককে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাক্ষাৎকারে এই ধরনের প্রশ্ন আগের তুলনায় অনেক বেশি শোনা যাচ্ছে। তার ভাষায়, আবেদনকারীদের প্রায়ই জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, “আপনি এতটা বিশেষ দক্ষ কেন যে কোনো আমেরিকান এই কাজটি করতে পারবে না?” কিংবা “কেন আপনাকেই এই পদে প্রয়োজন?” তবে তিনি আবেদনকারীদের সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় মার্কিন কর্মীদের সঙ্গে নিজের তুলনা করা উচিত নয়। বরং নিয়োগদাতা কেন তাকে বেছে নিয়েছেন এবং তার শিক্ষা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কীভাবে ওই পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করা উচিত। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামুকান সেন্টুরজোথি বলেন, তিনি কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় এই প্রশ্ন শুনেছেন। যদিও এটিকে এখনই ব্যাপক প্রবণতা বলা যাবে না, তবুও এটি সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়তি যাচাই-বাছাইয়ের ইঙ্গিত দেয়। তিনি জানান, সম্প্রতি এমনও দেখা গেছে যে একই দিনে চারজন আবেদনকারীকে একই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে। আরেক আইনজীবী এলেন ফ্রিম্যান বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই এই ধরনের প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাই বর্তমানে তিনি তার ক্লায়েন্টদের সাক্ষাৎকারের আগে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেন। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি। দীর্ঘদিন ধরেই এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়। সমর্থকদের মতে, এইচ-১বি কর্মসূচি দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বসেরা দক্ষ জনবল নিয়োগের সুযোগ দেয়। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে স্থানীয় কর্মীদের সুযোগ কমিয়ে দেয় এবং বেতন কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন এইচ-১বি আবেদনের ওপর এক লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপের নির্দেশ দেন। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এতে শুধুমাত্র উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে এবং কর্মসূচির অপব্যবহার কমবে। তবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তারা আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে চলতি মাসে বোস্টনের এক ফেডারেল বিচারক এই ফি কার্যকর করা স্থগিত করেন। আদালতের মতে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের ফি আরোপ করা যায় না। পরে প্রশাসন এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। এদিকে গত বছরের শেষ দিক থেকে এইচ-১বি আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রমও আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা এখন আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি ও প্রকাশ্য কার্যক্রমও যাচাই করছেন। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, বাড়তি নজরদারি ও প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও এখনও বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী ভিসা অনুমোদন পাচ্ছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে সময় বেশি লাগছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সাক্ষাৎকারে আবেদনকারীদের আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে এবং নিজেদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বিশেষ দক্ষতা সম্পর্কে স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলতে হবে। কারণ এইচ-১বি ভিসার মূল উদ্দেশ্য হলো বিশেষায়িত পেশায় প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল সরবরাহ করা, মার্কিন কর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ায় টানা পর্যটকবাহী গাড়ির এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্ক ভ্রমণে এসে এমন দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি চলাচল অব্যাহত রাখা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয় পুলিশ, শ্রমিক ইউনিয়ন ও পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে সেন্ট্রাল পার্কের জনপ্রিয় ট্যাভার্ন অন দ্য গ্রিন এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যরা ঘোড়ার গাড়িতে পুনরায় উঠছিলেন। ঠিক সেই সময় ‘স্যাম্পসন’ নামের ঘোড়াটি হঠাৎ আতঙ্কিত হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দ্রুতগতিতে ছুটতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগই ছিল না। নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি ছুটে যাওয়ার সময় ১৮ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণটি গাড়ি থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত ম্যানহাটনের ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দ্রুতগতিতে ছুটে চলা গাড়ি থেকে একজন যাত্রী ছিটকে পড়ছেন। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দুর্ঘটনার সময় গাড়িচালক গাড়ির ভেতরে ছিলেন না। ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (টিডব্লিউইউ) লোকাল ১০০-এর প্রশাসনিক ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী চালক যাত্রীদের ছবি তুলতে গিয়ে ঘোড়ার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে পার্কে কাজ শুরু করা ঘোড়াটি কেন হঠাৎ ভয় পেয়েছিল, সেটি এখনও তদন্তাধীন। নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর গাড়িটি আরেকটি ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। ওই সময় গাড়িতে আরও কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট চালককে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় জড়িত ঘোড়াটিকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে আলেকজান্ডার কেম্প বলেন, একজন যাত্রীর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে হয়তো এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। তার মতে, কোনো চালকেরই যাত্রীদের ছবি তোলার জন্য গাড়ি ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, সেন্ট্রাল পার্কে ই-বাইক, পেডিক্যাব, ডেলিভারি যান এবং ঘোড়ার গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে। ফলে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। এদিকে সেন্ট্রাল পার্ক কনজারভেন্সি, যারা দীর্ঘদিন ধরে পার্কে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে, তারাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, একজন তরুণ পর্যটক আনন্দময় সময় কাটাতে পার্কে এসেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন। এমন ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নগর পার্কে ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই তারা নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের কাছে দ্রুত ‘রাইডার্স ল’ পাস করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি চালকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রাণী অধিকার সংগঠন পেটাও (পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিম্যালস) এ ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনা নতুন নয়। জননিরাপত্তা এবং প্রাণী কল্যাণের স্বার্থে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই সেন্ট্রাল পার্কে যাত্রী পরিবহনের সময় ‘ডেনিজ’ নামের আরেকটি ঘোড়ার মৃত্যু হয়। পরে জানা যায়, বিষাক্ত উদ্ভিদ খাওয়ার কারণে প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনাও ঘোড়ার গাড়ি ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা বাড়িয়েছিল। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনার পর নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি শিল্পের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং পর্যটকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস এলাকায় ভরদুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে দুই পক্ষের মধ্যে চলা বন্দুকযুদ্ধের মাঝে পড়ে এক বৃদ্ধা ও এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ওই এলাকায় ছিটকে আসা এলোপাথাড়ি বুলেটের (স্ট্রে বুলেট) আঘাতে ওই প্রবীণ নারী মারাত্মকভাবে জখম হন। এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ম্যাথিউ বনিলা নামের ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানায়, ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারাত্মক শারীরিক আক্রমণ এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, গত বুধবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে ব্রঙ্কসের ওই রাস্তায় হঠাৎ করেই বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। দুই পক্ষের গোলাগুলির এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে ভুল সময়ে ভুল স্থানে উপস্থিত থাকায় ৭৯ বছর বয়সী এক নির্দোষ বৃদ্ধা ক্রসফায়ারের মুখে পড়েন। ড্রোনের মতো ছুটে আসা একটি গুলি ওই বৃদ্ধার বাম পায়ে গিয়ে আঘাত করে। একই সময়ে সেখানে উপস্থিত ২৬ বছর বয়সী এক যুবকও বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন, যাকে পুলিশ এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু (ইনটেন্ডেড টার্গেট) বলে ধারণা করছে। সূত্র জানায়, ওই আহত যুবকটি সম্ভবত অন্য কোনো পক্ষের সাথে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত ছিল এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছিল। ভয়াবহ এই ঘটনার পরপরই রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে দ্রুত সেন্ট বার্নাবাস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের দুজনের শারীরিক অবস্থাই স্থিতিশীল রয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত ম্যাথিউ বনিলা ঘটনাস্থল থেকে মাত্র এক ব্লক দূরের একটি বাড়িতে বসবাস করেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এর আগে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় পুলিশ তাকে প্রথম আটকেছিল এবং পরে তল্লাশি চালিয়ে তার গাড়িতে একটি চুরি হওয়া লাইসেন্স প্লেট পাওয়া যায়। এই ডবল-শুটিংয়ের ঘটনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আদালতের আনুষ্ঠানিক শুনানি প্রক্রিয়াধীন ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, দুপুরের এই রণক্ষেত্রে দুই পক্ষই গুলি চালিয়েছিল কি না তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে এবং এই সহিংসতার সাথে জড়িত আরও একজন সন্দেহভাজনকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। সূত্রঃ নিউইয়র্ক পোস্ট