যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য সেরা রাজ্য ইন্ডিয়ানা, সবচেয়ে পিছিয়ে নিউইয়র্ক
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি নির্মাণ এবং সাধারণ মানুষের বাড়ি কেনার সামর্থ্যের বিচারে ২০২৬ সালের সেরা রাজ্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ইন্ডিয়ানা। অন্যদিকে উচ্চমূল্য, জমির সংকট এবং ধীরগতির নির্মাণ কার্যক্রমের কারণে তালিকার একেবারে নিচে অবস্থান করছে নিউইয়র্ক।
সম্প্রতি প্রকাশিত রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের ‘স্টেট হাউজিং রিপোর্ট কার্ড’-এ এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলো আবাসন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ধরে রেখেছে। বিপরীতে উপকূলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ রাজ্য এখনও উচ্চমূল্য ও আবাসন সংকটের চাপে পিছিয়ে রয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, আবাসন খাতে সামগ্রিক মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৩ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে ইন্ডিয়ানা। গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়ে উঠে তারা প্রথম হয়েছে। ২০২৫ সালে শীর্ষে থাকা সাউথ ক্যারোলাইনা এবার নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্ডিয়ানার সাফল্যের মূল কারণ হলো তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি কেনার সুযোগ এবং নতুন আবাসন নির্মাণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। রাজ্যটিতে একটি মধ্যম মূল্যের বাড়ি কিনতে গড়ে একটি পরিবারের বার্ষিক আয়ের প্রায় ২৮ শতাংশ ব্যয় করতে হয়, যা আবাসন সামর্থ্যের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের মধ্যেই রয়েছে।
রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জোয়েল বার্নার বলেন, এবারের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে পরিচিত আঞ্চলিক বৈষম্য আবারও স্পষ্ট হয়েছে। তবে একই সঙ্গে কিছু রাজ্যের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনও দেখা গেছে।
রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে ৫০টি রাজ্য এবং রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিকে দুটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর একটি হলো বাড়ি কেনার সামর্থ্য এবং অন্যটি নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি। প্রতিটি সূচক মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ করে প্রভাব ফেলেছে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইওয়া এবং তৃতীয় স্থানে সাউথ ক্যারোলাইনা। আইওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে একটি পরিবারকে মধ্যম মূল্যের বাড়ি কিনতে তাদের আয়ের মাত্র এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি ব্যয় করতে হয়।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেক্সাস। নতুন বাড়ি নির্মাণে দেশটির মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় রাজ্য হলেও বাড়ির মূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সামর্থ্যের সূচকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। পঞ্চম স্থানে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনা।
এবারের প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে ডেলাওয়্যার। গত বছরের তুলনায় ১২ ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে রাজ্যটি। একইভাবে ইউটাহও ১২ ধাপ উন্নতি করেছে। নির্মাণ কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নতুন বাড়ির প্রতিযোগিতামূলক মূল্য তাদের এই অগ্রগতির প্রধান কারণ।
অন্যদিকে আলাবামা, মেরিল্যান্ড, নিউ জার্সি, লুইজিয়ানা ও উইসকনসিনের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব রাজ্যে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি কমে যাওয়াই তাদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।
তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে নিউইয়র্ক। মাত্র ৮ দশমিক ৫ নম্বর পেয়ে রাজ্যটি ‘এফ’ গ্রেড অর্জন করেছে। অত্যন্ত উচ্চ আবাসন মূল্য, সীমিত নতুন নির্মাণ এবং ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনার কম সুযোগ এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্কের পাশাপাশি ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়াও সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বাড়ি নির্মাণ করা। বিশেষ করে উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে কঠোর ভূমি ব্যবহার নীতি, সীমিত জমি এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া আবাসন সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবে ইন্ডিয়ানার মতো কিছু রাজ্য দেখিয়ে দিয়েছে, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং নির্মাণ খাতকে উৎসাহ দেওয়া গেলে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ির মালিক হওয়া এখনও সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা এখন অনেকটাই নির্ভর করবে কোন রাজ্য দ্রুত নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে পারে এবং একই সঙ্গে সেগুলোকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পারে তার ওপর।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে গাড়ির ধাক্কায় তিন সন্তানের এক মা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে কার্লসবাড শহরের রেডউড অ্যাভিনিউ ও কার্লসবাড বুলেভার্ডের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো ও দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী ফার্নান্দো সালদানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত নারীর নাম ভ্যানেসা হুইল্যান্ড। পরিবারের বন্ধুদের বরাত দিয়ে এনবিসি ৭ সান দিয়েগো জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ভ্যানেসা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। স্থানীয় সময় রাত ৮টার কিছু আগে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকতে দেখে। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পাওয়া বিভিন্ন আলামত, স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য এবং স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করে সালদানার অবস্থান শনাক্ত করেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের একটি জায়গা থেকে তাকে আটক করা হয়। সালদানার বিরুদ্ধে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালানো, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত ঘটানো এবং গুরুতর যানবাহনজনিত অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে ভিস্তা ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে রাখা হয়েছে এবং শুক্রবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। মামলাটিতে সালদানার আগের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এনবিসি ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার আগের দণ্ডের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে। এই ধরনের মামলায় আগের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দণ্ড চালকের ঝুঁকি সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান ছিল কি না, সেটি আইনি বিবেচনায় আসতে পারে। নিহত ভ্যানেসা হুইল্যান্ডের পরিবার ও স্বজনেরা তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি একজন নিবেদিত স্ত্রী, মা ও প্রিয় বন্ধু ছিলেন। তার স্বামী ও তিন সন্তানকে রেখে তিনি মারা গেছেন। পরিবারের সহায়তায় একটি তহবিলও গঠন করা হয়েছে। ভ্যানেসা স্যান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কার্লসবাড ও বৃহত্তর স্যান দিয়েগো এলাকায় বৈদ্যুতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হুইল্যান্ড ইলেকট্রিকের প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর কার্লসবাডের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দা এনবিসি ৭কে জানিয়েছেন, ওই সড়কে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটতে দেখেছেন তারা, যার মধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও রয়েছে। ফলে সড়কটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভ্যানেসার স্মরণে টামারাক বিচে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে স্বজন ও পরিচিতরা তার স্মরণে প্রার্থনা ও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভ্যানেসার মৃত্যু তার সন্তান ও স্বজনদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্লসবাড পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাবে না। সূত্র: এনবিসি ৭ স্যান দিয়েগো ও কার্লসবাড পুলিশ বিভাগ।
ফ্লোরিডায় পোষা কুকুরের সঙ্গে যৌন আচরণের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ করল ইলিনয়, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন আইন
ডালাসে চার মাসের শিশুর জীবনরক্ষা, ৭৫ জনের বেশি চিকিৎসাকর্মীর চেষ্টায় বাড়ি ফিরল কেনজি
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বার্ষিক সেরা ৫০ রেস্তোরাঁর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে নিউজার্সির একটি বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ। জার্সি সিটিতে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটির নাম কড়াই কিচেন। সম্পূর্ণ বাংলাদেশি ঘরানার খাবার পরিবেশনের জন্য ব্যাপক পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন মা ও মেয়ের একটি সফল জুটি। হাডসন কাউন্টির এই জনপ্রিয় রেস্তোরাঁটি নূর-ই গুলশান রহমান এবং তার মেয়ে নূর-ই ফারহানা রহমানের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৮ সালে সাধারণ বুফে চালুর মাধ্যমে তারা এই রেস্তোরাঁর যাত্রা শুরু করেন। শুরুর দিকে মায়ের হাতের রান্না করা খাঁটি বাংলাদেশি খাবারগুলো স্থানীয় মানুষদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে রেস্তোরাঁটিতে সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনগুলোতে খাবার কিনে নিয়ে যাওয়ার বা টেকআউট এবং ডেলিভারির সুবিধা রয়েছে। তবে শুক্র ও শনিবার রাতে তারা আম্মাস দাওয়াত নামে তাত্ত্বিকভাবে আট পদের একটি বিশেষ ভোজের আয়োজন করে থাকেন। তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই আয়োজনে রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার সুযোগ পান ভোজনরসিকরা। রেস্তোরাঁটির এই বড় স্বীকৃতি অবশ্য স্থানীয় ভোজনরসিকদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। গত বছর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের করা নিউজার্সির সেরা ৯৯টি রেস্তোরাঁর তালিকাতেও শীর্ষস্থান দখল করেছিল কড়াই কিচেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে কড়াই কিচেন সম্পর্কে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে এই ছোট্ট বাংলাদেশি রেস্তোরাঁটির একটি মজার স্লোগান হলো নো চিকেন টিক্কা মাসালা। অর্থাৎ এখানে গতানুগতিক ভারতীয় খাবার পরিবেশন করা হয় না বরং সম্পূর্ণ নিজস্ব ধারায় রান্না হয়। কাঁচা মরিচ এবং খাঁটি সরিষার তেলের ব্যবহার এখানকার খাবারের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে এখানকার রান্নায় প্রতিটি ভাতের দানা থেকে শুরু করে সব উপাদানের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। এই রেস্তোরাঁ থেকে খাবার খেয়ে বের হওয়ার পর পেট যেমন ভরে ঠিক তেমনি মানুষের হৃদয়ও তৃপ্ত হয়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এর আগেও গার্ডেন স্টেট খ্যাত নিউজার্সির বিভিন্ন রেস্তোরাঁকে তাদের মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান দিয়েছে। ফ্র্যাঙ্কলিন পার্কের চটপটি দিল্লি ২০২৫ সালে এবং নিউফিল্ডের সুইট অ্যামালিয়া মার্কেট অ্যান্ড কিচেন ২০২৪ সালের তালিকায় জায়গা পেয়েছিল। এ বছরের তালিকায় কড়াই কিচেন ছাড়াও শিকাগোর ক্রিপিস এবং ফিলাডেলফিয়ার বোম বোম নামের রেস্তোরাঁগুলো স্থান করে নিয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও এনজে ডটকম
অপরিষ্কার থাকার অভিযোগে চাকরিতে যোগ দেওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই চাকরি গেল নিউইয়র্কের প্রযুক্তিকর্মীর
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হাসপাতালে পাইলট
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের জন্য নতুন নিয়ম: এখন থেকে যাচাই হবে ক্রেডিট স্কোর
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চুরির দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া এক নারীর ছবি বা 'মগশট' অনলাইনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ নেটিজেনদের অনেকেই প্রথম দেখায় তাকে বিখ্যাত মার্কিন পপ তারকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ ভেবে ভুল করেছেন। সাইরেনা অ্যান কোয়াস্ট নামের ওই নারীকে গত ৩০ আগস্ট মিনেসোটার মন্টিসেলো শহরের একটি দোকান থেকে ব্যাটারি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর নিয়ম অনুযায়ী পুলিশের তোলা তার ছবিটিই মূলত ইন্টারনেট দুনিয়ায় এই তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন বিনোদন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড-এর প্রাপ্ত পুলিশি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইরেনা প্রায় ৫৮০ ডলার বা প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের পাওয়ার টুলের দুটি ডাবল প্যাক ব্যাটারি চুরি করেছিলেন। ঘটনার দিন ওই দোকানের এক কর্মী তাকে চিনতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। ওই কর্মীর দাবি, সাইরেনা কয়েক দিন আগেও তাদের দোকানে এসে একই ধরনের একটি চুরির ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে রাইট কাউন্টি জেলে পাঠায় এবং তার বিরুদ্ধে 'গ্রস মিসডিমিনর' বা গুরুতর চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারের খবরের চেয়েও অনলাইনে নেটিজেনদের বেশি মনোযোগ কেড়েছে সাইরেনার মগশটটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার সাথে জেনিফার লোপেজের চেহারার অদ্ভুত মিল খুঁজে পেয়েছেন। একজন নেটিজেন বিস্ময় প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন, “অবিশ্বাস্য! তাদের চেহারার এই মিল সত্যিই অবাক করার মতো!” আরেকজন আবার অন্যদের প্রতি প্রশ্ন রেখে লিখেছেন, “কীভাবে মানুষ এই দুজনের মধ্যে মিল দেখতে পাচ্ছে না!” এমনকি লোপেজের ২০০২ সালের জনপ্রিয় গান 'জেনি ফ্রম দ্য ব্লক'-এর সূত্র ধরে এক মন্তব্যকারী সাইরেনাকে "আসল জেনি ফ্রম দ্য ব্লক" বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তবে সবাই যে এই তুলনার সাথে একমত হয়েছেন, এমনটা নয়। অন্তত একজন মন্তব্যকারী এর চরম বিরোধিতা করে লিখেছেন যে, এই দুজনের চেহারার মধ্যে বিন্দু পরিমাণও মিল নেই।
এবার মামদানিকে গ্রেপ্তারের আহ্বান ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের, নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের আগে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের পর অস্ট্রেলিয়াতেও অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি, উদ্বেগে অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা