- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাষ্ট্রের খবর
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় বন্দুক নিয়ে খেলতে গিয়ে প্রেমিকাকে গুলি করার পর এক তরুণেরও মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, ২২ বছর বয়সী ল্যান্ডন লোরেন্স একটি রিভলবার নিয়ে খেলছিলেন। একপর্যায়ে সেটি তাঁর ২১ বছর বয়সী প্রেমিকা ক্লোইরে ম্যাকব্রেয়ারের দিকে তাক করে ট্রিগার চাপলে গুলি বেরিয়ে তাঁকে আঘাত করে। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের বাগদানের পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছে তরুণীর পরিবার। ঘটনাটি ঘটে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে আলাস্কার ফেয়ারব্যাঙ্কস শহরের বেন্টলি ড্রাইভের একটি বাড়িতে। ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, রাত প্রায় ৯টা ১২ মিনিটে জরুরি সেবা ৯১১-এ ফোন করেন লোরেন্সের এক বন্ধু। তিনি জানান, লোরেন্স দুর্ঘটনাবশত তাঁর প্রেমিকাকে গুলি করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লোরেন্স একটি রিভলবার নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন এবং একপর্যায়ে সেটি ম্যাকব্রেয়ারের দিকে তাক করেন। এরপর ট্রিগার চাপলে গুলি বেরিয়ে যায়। ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশের উপপ্রধান রিচার্ড সুইট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের ধারণা রিভলবারটির চেম্বারে একটি গুলি ছিল। তবে অস্ত্রটিতে গুলি থাকার বিষয়টি লোরেন্স জানতেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সময় ম্যাকব্রেয়ার অন্য একজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। গুলির ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত লোরেন্সের বন্ধু দ্রুত ৯১১-এ ফোন করেন এবং পুলিশ আসা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে লাইনে ছিলেন। এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। পুলিশ জানায়, লোরেন্স আরেকটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিলে তাঁর বন্ধু তাঁকে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ৯১১-এর ফোন সংযোগ তখনও চালু ছিল এবং অপর প্রান্ত থেকে ধস্তাধস্তির শব্দ শোনা যায়। বন্ধুর চেষ্টা সত্ত্বেও লোরেন্স নিজেকে গুলি করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ম্যাকব্রেয়ারকে মৃত অবস্থায় পায়। গুরুতর আহত লোরেন্সকে ফায়ার বিভাগের চিকিৎসাকর্মীরা ফেয়ারব্যাঙ্কস মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত এবং ৯১১-এ ফোন করা বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় ওই বন্ধুর কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তারা মনে করছে না। ৯১১ কলের রেকর্ডের কারণে প্রথম গুলির পর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা একটি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। তবে অঙ্গরাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষকের চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তদন্তটি খোলা রাখা হয়েছে। ঘটনার পর ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ একে ‘মর্মান্তিক ও প্রতিরোধযোগ্য প্রাণহানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পুলিশ সবাইকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশের উপপ্রধান রিচার্ড সুইট বলেছেন, প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্র সব সময় গুলিভর্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছাড়া কখনোই কারও দিকে অস্ত্র তাক করা উচিত নয়। এদিকে ম্যাকব্রেয়ারের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই লোরেন্সের সঙ্গে তাঁর বাগদানের পরিকল্পনা ছিল। আলাবামায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা ম্যাকব্রেয়ার সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব আলাস্কা ফেয়ারব্যাঙ্কসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। ম্যাকব্রেয়ারের মা আমান্ডা হুপার মেয়েকে পরিবারের প্রাণবন্ত একজন সদস্য হিসেবে স্মরণ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ম্যাকব্রেয়ার পরিবার ও বন্ধুদের গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং অন্যদের সাহায্য করতে পছন্দ করতেন। ছোটবেলায় তিনি খেলাধুলা, চিয়ারলিডিং ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বন্ধুর মাধ্যমে লোরেন্সের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ম্যাকব্রেয়ারের। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ম্যাকব্রেয়ারের বড় বোন লরি হান্ট জানান, পরিবার তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করছিল। মেয়ের মৃত্যুর পর লোরেন্সের পরিবারের প্রতিও সহমর্মিতা জানিয়েছেন ম্যাকব্রেয়ারের মা। তিনি বলেছেন, লোরেন্সের বাবা-মায়ের ওপর তিনি ক্ষুব্ধ নন এবং তাঁদের পক্ষেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল না। তবে ঠিক কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা জানতে চান তিনি। ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ বলছে, ঘটনাটি আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বন্দুক নিয়ে কোনো ধরনের খেলা বা এমন কর্মকাণ্ডে অংশ না নিতে সতর্ক করেছে পুলিশ, যেখানে নিজের বা অন্য কারও জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সূত্র: ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ বিভাগ, Alaska’s News Source
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যে নদীতে টিউবিং করার সময় বোনকে বাঁচাতে গিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ক্লার্কস ফর্ক নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর বৃহস্পতিবার উদ্ধারকারীরা নদীর পানির নিচ থেকে কিশোরটির মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত কিশোরের নাম এফ্রাইম ডেলি। কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মন্টানার ফ্রমবার্গের কাছে ক্লার্কস ফর্ক নদীতে বোনের সঙ্গে টিউবিং করার সময় তারা সমস্যায় পড়েছিল। একপর্যায়ে এফ্রাইম তার বোনকে নিরাপদে তীরে উঠতে সহায়তা করলেও নিজে পানিতে তলিয়ে যান। কার্বন কাউন্টির শেরিফ জশ ম্যাককুইলামের বরাত দিয়ে এমটিএন নিউজ জানিয়েছে, এফ্রাইম ও তার বোন নদীতে টিউবের ওপর ভেসে যাচ্ছিল। কোনো একপর্যায়ে তার বোন টিউব থেকে পড়ে যান অথবা টিউব থেকে নামার চেষ্টা করেন। তখন তিনি পানিতে সমস্যায় পড়লে এফ্রাইম তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। শেরিফ ম্যাককুইলাম বলেন, এফ্রাইম শেষ পর্যন্ত তার বোনকে টিউবে উঠতে সহায়তা করতে সক্ষম হন। তবে বোনটি এফ্রাইমকে একইভাবে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে মেয়েটি তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও এফ্রাইম পানিতে তলিয়ে যান। ঘটনার পরপরই তাকে খুঁজতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ক্লার্কস ফর্ক নদীর যে অংশে এফ্রাইম পানিতে তলিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে পানির গভীরতা ছিল প্রায় ৬ থেকে ১০ ফুট। উদ্ধারকারী দলের ডুবুরিরা নদীর ওই অংশে ব্যাপক তল্লাশি চালান। অভিযানে ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও সহায়তা করে। একটি জরুরি ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নদীর আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে বিশেষ পানির নিচের অনুসন্ধান প্রযুক্তির সাহায্যে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে এফ্রাইমের সন্ধান পাওয়া যায়। কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, পানির নিচ থেকে এফ্রাইমকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এফ্রাইম ছিলেন নয় ভাইবোনের একজন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও পরিচিতরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের সহায়তার জন্য খোলা একটি তহবিলের পাতায় এক ব্যক্তি এফ্রাইমকে ‘অসাধারণ নায়ক’ হিসেবে স্মরণ করেছেন। সেখানে তার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং হাসির গল্প বলে অন্যদের আনন্দ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নদীতে টিউবিংয়ের মতো বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে পানির স্রোত, গভীরতা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ক্লার্কস ফর্ক নদীর দুর্ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান চলছে। সূত্র: কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, MTN News
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল গতিতে চলন্ত টেসলা গাড়িতে চালকের আসনে ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে পুলিশ। গাড়িটিতে টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ ব্যবস্থা চালু ছিল বলে জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল বা সিএইচপি। সোলানো কাউন্টির ইন্টারস্টেট ৮০ মহাসড়কে ঘটনাটি ঘটে। সিএইচপির এক মোটরসাইকেল কর্মকর্তা দেখতে পান, টেসলাটি ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল গতিতে চললেও চালক আসনে থাকা ব্যক্তি আসনে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছেন বলে মনে হচ্ছে। তাঁর চোখে ছিল কালো চশমা। পরে কর্মকর্তা গাড়িটিকে থামান। সিএইচপির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ২ সেপ্টেম্বর ঘটে। গাড়ি থামানোর পর চালককে অনিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য টিকিট দেওয়া হয়। পাশাপাশি চালককে বোঝানো হয় যে টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ ব্যবস্থা চালু থাকলেও গাড়ির নিয়ন্ত্রণ থেকে চালক নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নিতে পারেন না। সিএইচপি জানিয়েছে, বর্তমানে চালকের ঘুমিয়ে থাকার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চালানোর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান নেই। তবে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিদ্যমান ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা যেতে পারে। সিএইচপি কর্মকর্তা স্কট হেইটম্যান বলেন, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য নিরাপদ গতি হলো ঘণ্টায় শূন্য মাইল। টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ নামটি শুনে এটি পুরোপুরি চালকবিহীন ব্যবস্থা বলে মনে হলেও বাস্তবে এটি চালকের সহায়তাকারী প্রযুক্তি। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের নথিতেও চালক সহায়তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ও সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব চালকের ওপর থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সিএইচপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি তুলে ধরে চালকদের সতর্ক করেছে। সংস্থাটি বলেছে, গাড়িতে উন্নত চালক সহায়তা প্রযুক্তি থাকলেও চালককে সজাগ থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সোলানো কাউন্টির ঘটনাটি অবশ্য এ ধরনের প্রথম ঘটনা নয়। চলতি বছরের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার মারিন কাউন্টিতে একটি টেসলা সাইবারট্রাকের চালককে হাইওয়ে ১০১-এ গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ার মতো অবস্থায় দেখা যায়। সেই ঘটনার পরও সিএইচপি জানিয়েছিল, গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় বা চালক সহায়তা প্রযুক্তি থাকলেও গাড়ির দায়িত্ব চালকেরই। এর আগে মার্চ মাসে ভ্যাকাভিল শহরেও টেসলাকে ঘিরে আরেকটি ঘটনা সামনে আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চালক সহায়তা ব্যবস্থা চালু থাকা অবস্থায় একটি টেসলা চলতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে কর্মকর্তারা গাড়ির সামনের আসনে চালককে ঘুমন্ত অবস্থায় পান। গাড়িতে পিৎজার বাক্স ও ছোট আকারের কয়েকটি মদের বোতলও ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। ওই ব্যক্তিকে মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানোর সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। সিএইচপি বলছে, আধুনিক চালক সহায়তা প্রযুক্তি গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু এগুলো চালকের দায়িত্ব পুরোপুরি সরিয়ে দেয় না। চলন্ত গাড়িতে চালকের মনোযোগ ধরে রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখা জরুরি। সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল, SFGATE
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট এলাকায় আকাশে দুটি গ্লাইডার বিমানের সংঘর্ষে এক পাইলট নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সারাটোগা কাউন্টির এডিনবার্গ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর একটি গ্লাইডার নিরাপদে বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারলেও অন্যটি প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৬ মিনিটের দিকে এডিনবার্গের হুইলার রোডের কাছে দুই উড়োজাহাজের সংঘর্ষের খবর পায় কর্তৃপক্ষ। এলাকাটি গ্রেট স্যাকানডাগা লেকের কাছাকাছি এবং সারাটোগা স্প্রিংস থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে। সংঘর্ষের পর একটি গ্লাইডার কাছের প্লেটু স্কাই র্যাঞ্চ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ওই গ্লাইডারের পাইলট আহত হননি। তবে সংঘর্ষে বিমানটির সামনের অংশে কিছুটা ক্ষতি হয়। বিমানবন্দরের মালিক এলেইন ওয়েড দ্য টাইমস ইউনিয়নকে জানিয়েছেন, পাইলট দুর্ঘটনায় মানসিকভাবে বিচলিত হলেও শারীরিকভাবে নিরাপদ ছিলেন। অন্য গ্লাইডারটি সংঘর্ষের পর একটি দুর্গম ও ঘন বনাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। সেটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেতে উদ্ধারকারী দলকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান চালাতে হয়। বিকেল প্রায় ৪টা ৫৪ মিনিটে স্যান্ড লেক রোডের কাছের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেখানে পৌঁছে একমাত্র আরোহী পাইলটকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত পাইলটের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার পর পরিচয় প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার অভিযানে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের বিমান ইউনিট, স্টেট ফরেস্ট রেঞ্জার, সারাটোগা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়সহ স্থানীয় বিভিন্ন জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা অংশ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপদে অবতরণ করা গ্লাইডারের পাইলটও পরে অন্য গ্লাইডারটির সন্ধানে সহায়তা করতে আকাশে ফিরে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি গ্লাইডারের একটি ছিল Schempp-Hirth Ventus-2B এবং অন্যটি Schleicher ASW-24 বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)। গ্লাইডার সাধারণত ইঞ্জিনবিহীন উড়োজাহাজ, যা বায়ুর উত্থান ও অন্যান্য বায়ুগত শক্তি কাজে লাগিয়ে আকাশে অবস্থান করে। এখন পর্যন্ত কী কারণে দুটি গ্লাইডার আকাশে সংঘর্ষে জড়াল, তা জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড ও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কেউ থাকলে তাদের ৫১৮-৪৫৭-৬৮১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, ABC News, The Times Union
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক নারী সারোগেট হিসেবে একটি শিশুকে গর্ভে ধারণ করার পর জানতে পারেন, শিশুটির অভিপ্রেত বাবা চীনা ধনকুবের শু বো। ওই ব্যবসায়ী যুক্তরাষ্ট্রে সারোগেসির মাধ্যমে শতাধিক সন্তানের বাবা হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর সাবেক সঙ্গী আবার দাবি করেছেন, তাঁর সন্তানের সংখ্যা ৩০০-এরও বেশি। নিজের পরিচয় গোপন রাখতে সিবিএস নিউজ ওই নারীকে ‘জুডি’ নামে পরিচয় করিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সারোগেসির জন্য চুক্তি করার সময় শিশুটির বাবা সম্পর্কে তাঁকে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। জুডি সিবিএস নিউজকে বলেন, সন্তানটি কার জন্য ধারণ করছেন এবং সেই পরিবারের পরিচয় সম্পর্কে শুরুতেই সারোগেসি সংস্থার আরও স্বচ্ছ হওয়া উচিত ছিল। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি তাঁকে ভাবতে বাধ্য করেছে, শিশুটির অভিপ্রেত বাবাকে জানার অধিকার তাঁর আদৌ আছে কি না। জুডির সারোগেসির যাত্রা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি বিজ্ঞাপন দেখে। সেখানে সারোগেট হওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সাত বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে একা বড় করা জুডি নিজের ও মেয়ের জন্য একটি ভালো বাসস্থান তৈরি করার সুযোগ হিসেবে বিষয়টি দেখেছিলেন। পরে তিনি প্যাট্রিয়ট কনসেপশন্স নামের একটি সারোগেসি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি শিশুটির অভিপ্রেত বাবাকে এমন একজন একক বাবা হিসেবে উপস্থাপন করেছিল, যিনি তাঁর পরিবার আরও বড় করতে চান। তবে পরে জুডি জানতে পারেন, একই ব্যক্তির জন্য আরও অনেক নারী সারোগেট হিসেবে সন্তান ধারণ করছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে জানানো হয়েছিল, সংখ্যাটি প্রায় দুই ডজনের কাছাকাছি। এত সংখ্যক গর্ভধারণের বিষয়টি জানার পর উদ্বেগ তৈরি হলেও ইতোমধ্যে চুক্তি হয়ে যাওয়ায় এবং অর্থের প্রয়োজন থাকায় তিনি প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যান। জুডি বলেন, তাঁর বন্ধু ও স্বজনেরাও তাঁকে গর্ভধারণের প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছিলেন। তবে শিশুটির অভিপ্রেত বাবার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার তাঁর একাধিক চেষ্টা সফল হয়নি। শু বো চীনের অনলাইন গেমিং প্রতিষ্ঠান দুওইয়ের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি তুলনামূলকভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে তাঁর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্ট এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সারোগেসির মাধ্যমে তাঁর শতাধিক সন্তান থাকতে পারে। শুর সাবেক সঙ্গী তাং জিং অবশ্য আরও বড় দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শু বো ৩০০-এর বেশি সন্তানের বাবা হয়েছেন। তাঁদের নিজেদেরও দুই কন্যাসন্তান রয়েছে এবং এ দুই সন্তানকে ঘিরে তাঁদের মধ্যে আইনি বিরোধ চলছে। শুর সঙ্গে সম্পর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ভিডিও নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে একটি বড় বাড়িতে কয়েক ডজন ছোট ছেলেকে দেখা যায়। ক্যামেরা তাঁদের দিকে এগিয়ে গেলে শিশুরা উঠে এসে চীনা ভাষায় ‘বাবা’ বলে ডাকতে থাকে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। শু বো সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিনি বিপুলসংখ্যক সন্তান নেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ভবিষ্যতে তাঁর সন্তানদের ইলন মাস্কের সন্তানদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার মতো কল্পনার কথাও উঠে এসেছে। তবে মাস্কের ক্ষেত্রেও নিজের বংশধারা বিস্তারের জন্য পরিচিতদের শুক্রাণু দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি রয়েছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে শু বো চারটি অনাগত শিশুর পাশাপাশি সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া আরও অন্তত আটটি শিশুর ওপর অভিভাবকত্বের অধিকার পাওয়ার আবেদন করেছিলেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। আদালত এ বিষয়ে একটি গোপন শুনানির আয়োজন করে এবং শু ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন। সেই শুনানিতে শু জানিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ২০ বা তার বেশি সন্তানের বাবা হতে চান এবং তাঁর ব্যবসা ভবিষ্যতে সন্তানদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি বিশেষ করে ছেলে সন্তান চাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে তাঁর কয়েকজন সন্তান ন্যানিদের তত্ত্বাবধানে বসবাস করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শু আদালতে জানিয়েছিলেন, কাজের ব্যস্ততার কারণে তিনি তখনও অনেক সন্তানের সঙ্গে দেখা করেননি, তবে ভবিষ্যতে তাঁদের চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে আদালত তাঁর অভিভাবকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অনাগত শিশুদের আইনি অবস্থান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সারোগেসি ব্যবস্থায় বিদেশি ধনী ব্যক্তিদের ব্যাপক ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। শুর প্রতিষ্ঠান দুওইয়ের এক প্রতিনিধি অবশ্য তাঁর বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের বড় একটি অংশকে অসত্য বলে দাবি করেছেন। তবে কোন তথ্যগুলো ভুল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক সারোগেসি একটি বড় শিল্পে পরিণত হয়েছে। চীনে সারোগেসি আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় কিছু চীনা নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশে এ ধরনের সেবার দিকে ঝুঁকছেন। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর নাগরিকত্বের বিষয়টিও কিছু বিদেশি অভিভাবকের কাছে অতিরিক্ত আকর্ষণ তৈরি করে বলে গবেষণা ও শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জুডির ঘটনা অবশ্য এই ব্যবস্থার আরেকটি দিক সামনে এনেছে। সারোগেট মায়েরা যাঁদের জন্য সন্তান ধারণ করছেন, তাঁদের পরিচয়, পরিবার ও একই সময়ে কতজন সারোগেট কাজ করছেন, এসব তথ্য কতটা স্বচ্ছভাবে জানানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্লানো শহরে একটি মসজিদের বাইরে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভ হলেও ভেতরে স্বাভাবিকভাবেই চলেছে জুমার নামাজ। শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব কলিন কাউন্টির বাইরে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ইসলাম ও শরিয়াহ আইনবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। একই সময়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানাতে সেখানে পাল্টা বিক্ষোভেও অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। ১১ সেপ্টেম্বর ছিল যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী। এই দিনটিকেই বিক্ষোভের জন্য বেছে নেয় লোন স্টার লিজিওনারিজ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্লানোর ৬৪০১ ইন্ডিপেনডেন্স পার্কওয়ের মসজিদটির সামনে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ‘স্ট্যান্ড ফর টেক্সাস’ নামে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ডালাস মর্নিং নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে প্রায় ৫০ জন অংশ নেন। তাদের হাতে শরিয়াহ আইনবিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ছিল। কিছু বিক্ষোভকারী অস্ত্রও বহন করছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মসজিদের ভেতরে থাকা মুসল্লিদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানিয়েছিল এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছিল। বিক্ষোভ চলার সময়ও মসজিদের ভেতরে জুমার নামাজ স্বাভাবিক নিয়মে অনুষ্ঠিত হয়। নারীদের জন্য নির্ধারিত কক্ষেও মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। প্রায় তিন দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী জেবা সিদ্দিকি বিক্ষোভের খবর জানার পরও নামাজে অংশ নেন। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে মুসল্লিদের ভয় পেয়ে স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। বরং তারা যেভাবে নিয়মিত নামাজ পড়েন, সেভাবেই সেদিনও নামাজ আদায় করতে চেয়েছেন। নামাজ শেষে মসজিদের বাইরে মুসল্লিদের একাংশকে দেখা যায়। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ সদস্যরাও এলাকায় নজরদারি করেন। বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, তারা টেক্সাসে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করছেন। বিক্ষোভের আয়োজক ব্র্যান্ডন বারখার্ট বলেন, ধর্মের আড়ালে কথিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ ঠেকাতে তারা প্রতিবাদ করছেন। তবে এসব বক্তব্যের সঙ্গে মসজিদ বা স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিক্ষোভের বিপরীতে প্রায় ৪০ জন পাল্টা বিক্ষোভকারী মসজিদের কাছে জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল ‘প্রতিবেশীকে ভালোবাসুন’ এবং ‘বিভেদ নয়, ঐক্য’ ধরনের বার্তা। তাদের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল ক্লার্জি লিগ ফর ইমার্জেন্সি অ্যাকশন অ্যান্ড রেসপন্স বা ক্লিয়ার ডিএফডব্লিউ নামের একটি আন্তধর্মীয় জোট। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আলমাস মুসকাটওয়ালা বলেন, তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের জানাতে চেয়েছেন যে স্থানীয় অনেক মানুষ তাদের পাশে রয়েছেন। প্লানোর এই মসজিদের বাইরে বিক্ষোভ অবশ্য নতুন নয়। ডালাস মর্নিং নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর টেক্সাসে মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ও বিক্ষোভের ঘটনা বেড়েছে। এর মধ্যে ম্যাককিনিতে একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছে। ফ্রিসকোতেও এক মেয়র প্রার্থীর মুসলিম ও ভারতীয় অভিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। আগস্টে কেরা নিউজের এক প্রতিবেদনে উত্তর টেক্সাসে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। প্রতিবেদনে টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং তাদের ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কথা বলা হয়। ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব কলিন কাউন্টির সভাপতি আকরাম সাইয়েদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের পরিস্থিতি আগের কয়েক দশকের তুলনায় আলাদা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৯২ সাল থেকে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম সম্প্রদায়কে খুব বেশি বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিমদের নিয়ে অন্যায়ভাবে আলাদা করে দেখানো ও প্রান্তিক করার প্রবণতা বেড়েছে। মসজিদটির দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মসজিদটিতে আসেন। এটি শুধু নামাজের স্থান নয়, স্থানীয় মুসলিমদের জন্য সামাজিক ও সম্প্রদায়ভিত্তিক মিলনকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিক্ষোভের আগে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি নিরাপত্তা পোশাক পরা কয়েকজন মুসল্লি ওয়াকিটকি নিয়ে মসজিদ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি করেন। তবে বিক্ষোভের কারণে জুমার নামাজ বা মসজিদের অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য জেবা সিদ্দিকি আশা প্রকাশ করেন, যারা ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, তারা একদিন সরাসরি মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাদের জীবনযাপন ও ধর্ম সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে তৈরি ধারণার বাইরে বাস্তব মুসলিম সম্প্রদায়কে জানার সুযোগ থাকলে অনেক ভুল ধারণা দূর হতে পারে। ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন উত্তর টেক্সাসে ইসলাম ও মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে বিতর্ক নতুন করে তীব্র হয়েছে। তবে বিক্ষোভের মধ্যেও প্লানোর মসজিদে জুমার নামাজ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় মুসল্লিরা তাদের স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। সূত্র: ডালাস মর্নিং নিউজ, ডালাস এক্সপ্রেস ও লোন স্টার লিজিওনারিজের নিজস্ব ওয়েবসাইট।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মদ্যপ অবস্থায় টেসলা গাড়ি চালিয়ে কাঠামোর সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা ঘনিষ্ঠ বন্ধু এলিস সুয়োমি নিহত হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, গাড়ি চালানোর সময় ওই নারীর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল আইনগত সীমার প্রায় তিন গুণ। অভিযুক্ত আলেহান্দ্রা পাহারসিংহের বিরুদ্ধে যানবাহনজনিত অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ত্যাগের অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে ম্যানহাটনের মিডটাউন এলাকায় ২০২৪ সালের একটি টেসলা চালানোর সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান বলে অভিযোগ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে ম্যাডিসন অ্যাভিনিউ ও পূর্ব ৪২তম স্ট্রিটের কাছে গাড়িটি ফুটপাতে উঠে একটি ডাকবাক্সে আঘাত করে। এরপর সেটি রাস্তার পাশে নির্মাণকাজের জন্য স্থাপন করা কাঠামোতে ধাক্কা দেয়। গাড়িতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন ২৭ বছর বয়সী এলিস সুয়োমি। দুর্ঘটনার পরও পাহারসিংহ গাড়ি চালিয়ে কয়েক ব্লক এগিয়ে যান। পরে পূর্ব ৪২তম স্ট্রিট ও সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে গাড়ি থামলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর আহত সুয়োমিকে দ্রুত বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ৩টার কিছু পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পাহারসিংহও দুর্ঘটনায় সামান্য আহত হন এবং চিকিৎসা নেওয়ার পর পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। ম্যানহাটন প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, পাহারসিংহের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল দশমিক ২২৯। নিউইয়র্কে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আইনগত সীমা দশমিক শূন্য আট। অর্থাৎ তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা নির্ধারিত সীমার প্রায় তিন গুণ ছিল। মামলার নথিতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা থমাস ডিলনের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাহারসিংহ ওই রাতে একাধিকবার মদ্যপানের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশকে জানান, ৪২তম স্ট্রিটে গাড়ি চালানোর ঘটনা তাঁর মনে নেই। পাহারসিংহ কানেকটিকাটের বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে তাঁর আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। বুধবার রাতে ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় তাঁকে হেফাজতে রাখার জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নগদ জামিন অথবা ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ড চেয়েছিল। তবে বিচারক জেফরি গেরশুনি জামিনের পরিমাণ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পাহারসিংহ রাইকার্স আইল্যান্ডে হেফাজতে ছিলেন। আগামী সোমবার তাঁকে আবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। নিহত এলিস সুয়োমি হারলেমে থাকতেন এবং তাঁর তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। দুর্ঘটনার পর তাঁর বাসার বাইরে স্বজন ও বন্ধুরা স্মরণসভা করেন। সেখানে নীল ও সাদা মোমবাতি, তাঁর ছবি এবং ছোট মেয়ের সঙ্গে তাঁর একটি ছবিও রাখা হয়। সুয়োমির প্রতিবেশী জর্জ কার্টাগেমা নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, তিনি সুয়োমিকে ভালো মানুষ হিসেবে চিনতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সুয়োমি অন্যদের সাহায্য করতেন এবং কারও খাবার বা পোশাকের প্রয়োজন হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতেন। পাহারসিংহ ও সুয়োমি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট থেকেও ধারণা পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার আগে তাঁদের একসঙ্গে থাকার ছবি ও বন্ধুত্বের নানা স্মৃতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিল। তবে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনাটির পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে। আইনগতভাবে পাহারসিংহের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তিনি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। উৎস: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের চায়নাটাউনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়া একটি পণ্যবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ৭৭ বছর বয়সী এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৫২ ও ৭১ বছর বয়সী দুই নারী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ৬৬ বছর বয়সী ট্রাকচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে ব্যস্ত বোওয়ারি স্ট্রিট ও ক্যানাল স্ট্রিটের সংযোগস্থলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, চালক ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নেমে ক্যানাল স্ট্রিট দিয়ে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিলেন। পরে বোওয়ারি স্ট্রিটে ডান দিকে মোড় নেওয়ার সময় ট্রাকটি হঠাৎ ফুটপাতে উঠে যায় এবং সেখানে থাকা তিন পথচারীকে ধাক্কা দেয়। ট্রাকটিতে কাঠের প্যালেট বোঝাই ছিল। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের ছবিতে পথচারীদের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। গুরুতর আহত ৭৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে দ্রুত বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত দুই নারীকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পথচারীদের ধাক্কা দেওয়ার পরও ট্রাকটি সঙ্গে সঙ্গে থামেনি। পুলিশ জানিয়েছে, চালক বোওয়ারি স্ট্রিট ধরে আরও এগিয়ে হেস্টার স্ট্রিটের কাছে একটি সেডান গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পর থামেন। ঘটনাটির সময় ট্রাকটির সামনের কাচ ভেঙে যায় এবং চারটি টায়ারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাঠের প্যালেট বোঝাই ট্রাকটিকে আশপাশের যানবাহনের তুলনায় দ্রুতগতিতে চলতে দেখা যায়। ভিডিওতে ট্রাকটির অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগার দৃশ্যও রয়েছে। তবে পথচারীদের ধাক্কা দেওয়ার সরাসরি মুহূর্ত ভিডিওতে ধরা পড়েনি। পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবের স্পষ্ট কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং চালকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগও আনা হয়নি। এনওয়াইপিডির হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের সংঘর্ষ তদন্তকারী দল ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা ট্রাকটি কেন ফুটপাতে উঠে গেল, চালকের আচরণ, গাড়ির অবস্থা এবং দুর্ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন। দুর্ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাস্থলটি ম্যানহাটন ব্রিজের কাছের ব্যস্ত এলাকা। ক্যানাল স্ট্রিট ও বোওয়ারির সংযোগস্থলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পথচারী ও যানবাহনের চলাচল থাকে। স্থানীয়দের কাছে এ এলাকা আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১০১০ উইনসের প্রতিবেদনে এলাকাবাসীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নামার সময় কিছু গাড়ি দ্রুতগতিতে চলাচল করে। স্থানীয় নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১০১০ উইনসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়েও ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নামার পর একটি চুরি করা গাড়ির ধাক্কায় একজন সাইকেল আরোহী ও একজন পথচারী নিহত হয়েছিলেন। ফলে বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনার পর ওই এলাকার সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত ৭৭ বছর বয়সী ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার নাম প্রকাশ না করার নীতি অনুসরণ করছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিউইয়র্কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বড় যানবাহন ফুটপাতে উঠে গেলে পথচারীদের গুরুতর আহত বা নিহত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি আবারও ব্যস্ত নগর সড়কে ভারী যানবাহনের চলাচল ও পথচারী নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে দুর্ঘটনার জন্য চালকের গতি, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের শারীরিক অবস্থা বা অন্য কোনো কারণ দায়ী কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি কারণকে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে না। এনওয়াইপিডির সংঘর্ষ তদন্তকারী দল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে চালকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, সেটিও নির্ধারণ করা হবে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা ৭৯ শিশুকে খুঁজে বের করেছে ইউএস মার্শাল সার্ভিস। সংস্থাটির দাবি, এটি ওহাইওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের অভিযান। ‘অপারেশন মেরিডিয়ান’ নামে অভিযানটি আগস্টজুড়ে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ এক ছিল না। কিছু শিশু নিখোঁজ হয়েছিল পালিয়ে যাওয়ার কারণে, আবার কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, অবহেলা, সম্ভাব্য মানব পাচার এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির বিষয় ছিল। তদন্তকারীরা শিশুদের খুঁজতে ওহাইওর বিভিন্ন এলাকায় কাজ করার পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের বাইরেও অনুসন্ধান চালান। কয়েকটি শিশুকে জর্জিয়া পর্যন্ত গিয়ে খুঁজে বের করা হয়। ইউএস মার্শাল সার্ভিসের নর্দার্ন ও সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে এফবিআই, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ওহাইও ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন, স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের কার্যালয়সহ বহু সংস্থা অংশ নেয়। আকরন, ক্লিভল্যান্ড, কলম্বাস ও টলিডোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোও বিভিন্ন মামলায় সরাসরি কাজ করেছে। অভিযানের একটি ঘটনায় কলম্বাস এলাকার দুই বোনকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী দুই বোনের একজনকে ২০২৪ সালের জুলাই এবং অন্যজনকে ২০২৬ সালের এপ্রিলে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা কলম্বাস পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের খোঁজ শুরু করেন। তদন্তের সূত্র ধরে লকবোর্নের একটি বাড়িতে গিয়ে ১৩ বছর বয়সী মেয়েটিকে খুঁজে পান কর্মকর্তারা। ইউএস মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, বাড়িটির একটি শোবার ঘরের আলমারির মেঝের নিচে থাকা বেজমেন্টের একটি গোপন জায়গায় তাকে পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় মেয়েদের মাকে ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির একটি পুরোনো প্রবেশন লঙ্ঘনের পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের সময় পাওয়া অতিরিক্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরে ১৬ বছর বয়সী বোনটির অবস্থানও শনাক্ত করা হয়। তাকে কলম্বাসের একটি রেস্তোরাঁ থেকে উদ্ধার করা হয়। দুই বোনকে উদ্ধারের পর তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। আরেকটি ঘটনায় টলিডোতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে খুঁজে বের করা হয়। ১৮ আগস্ট তাকে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ইউএস মার্শাল সার্ভিস জানিয়েছে, ওই কিশোরীকে আগে মানব পাচারের শিকার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। টলিডো পুলিশ এবং ইউএস মার্শালদের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল ওহাইও ও মিশিগানে বিভিন্ন সূত্র অনুসরণ করে তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মেয়েটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে থাকতে পারে। টলিডোর একটি ঠিকানায় দুজনকে খুঁজে পাওয়া যায়। কিশোরীটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই পুরো প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয় বলে জানিয়েছে ইউএস মার্শাল সার্ভিস। শিশু ও পরিবারবিষয়ক সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এসব সহায়তার মধ্যে মানসিক আঘাত মোকাবিলায় পরামর্শ, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। অভিযানে বিশেষভাবে যুক্ত ছিলেন আমান্ডা বেরি। ক্লিভল্যান্ডের এই নারী ২০০৩ সালে অপহৃত হওয়ার পর প্রায় এক দশক বন্দি ছিলেন এবং ২০১৩ সালে পালিয়ে মুক্ত হন। পরে তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসছেন। অপারেশন মেরিডিয়ান শুরুর আগে বেরি ইউএস মার্শালদের দলের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিটি নিখোঁজ শিশুকে নিজেদের সন্তানের মতো বিবেচনা করে খোঁজার আহ্বান জানান। ইউএস মার্শাল পিট এলিয়ট বলেন, কর্মকর্তারা সেই পরামর্শ অনুসরণ করেই কাজ করেছেন। ইউএস মার্শাল সার্ভিসের কর্মকর্তা মাইকেল ব্ল্যাক বলেন, তাদের সংস্থা সাধারণত পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করতে যে দক্ষতা ও অনুসন্ধান পদ্ধতি ব্যবহার করে, একই সক্ষমতা নিখোঁজ ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের উদ্ধারের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। তবে ৭৯ শিশুর উদ্ধারের সঙ্গে কতজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে ইউএস মার্শাল সার্ভিস কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, উদ্ধার হওয়া সব শিশু যে মানব পাচারের শিকার ছিল, এমন নয়। তাদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি ছিল, যার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া, নির্যাতন, অবহেলা এবং অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে। ইউএস মার্শাল সার্ভিসের হিসাবে, আগস্টজুড়ে পরিচালিত অপারেশন মেরিডিয়ানে ৭৯ শিশুকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনা ওহাইওতে এ ধরনের একক অভিযানে সর্বোচ্চ। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি শিশুকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা শুধু একটি নিখোঁজ মামলা সমাধান নয়, বরং তাদের আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়া ঠেকানোরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সূত্র: ইউএস মার্শাল সার্ভিস, সিবিএস নিউজ এবং ওহাইওর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
নিউইয়র্কের হারলেম এলাকায় একটি গির্জায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে কুরআনের একটি কপি ছেঁড়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন অধিকারকর্মী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ঘটনাটিতে জড়িত হিসেবে ডানপন্থী কর্মী জেক ল্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে। প্রকাশিত ভিডিও ও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনুষ্ঠানের সময় ল্যাং কুরআনের একটি কপি হাতে নিয়ে সেটি ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তিনি মুসলিমদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক বক্তব্যও দেন। তবে ঘটনাটির পূর্ণ ভিডিও, অনুষ্ঠানের আয়োজক এবং ল্যাংয়ের বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট নিয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই এখনো সীমিত। ঘটনাটি নিউইয়র্কের হারলেম এলাকার একটি গির্জায় হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের একটি গির্জার অনুষ্ঠান সম্পর্কেও অনলাইনে তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে জেক ল্যাংয়ের উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে। জেক ল্যাং যুক্তরাষ্ট্রের ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের একজন ছিলেন। পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তিনি প্রায় চার বছর হেফাজতে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির ঘটনায় অভিযুক্ত ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করলে ল্যাংও মুক্তি পান। কারাগার থেকে মুক্তির পর ল্যাং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরোধিতা করে সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক, মিশিগান ও মিনেসোটাসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নেতৃত্বে বা অংশগ্রহণে ইসলামবিরোধী কর্মসূচির খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে মার্চে নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনের বাইরে ল্যাংয়ের নেতৃত্বে একটি ইসলামবিরোধী সমাবেশকে কেন্দ্র করে পাল্টা বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে দুটি সন্দেহজনক বিস্ফোরক ডিভাইস ছোড়া হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ পরে একটি ডিভাইসকে বিস্ফোরক হিসেবে শনাক্ত করে। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেসি ম্যানশনের ওই সমাবেশে ল্যাংয়ের কর্মসূচির মূল বক্তব্য ছিল নিউইয়র্কে কথিত ‘ইসলামিক দখল’ বা ইসলামায়নের বিরোধিতা। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তখন ল্যাংয়ের কর্মসূচিকে বিদ্বেষ ও বর্ণবাদের সঙ্গে যুক্ত বলে সমালোচনা করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি পাল্টা বিক্ষোভে সহিংসতারও নিন্দা জানান। সাম্প্রতিক হারলেমের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের সীমা নিয়ে বিতর্ক চলছে। মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ব্যাপক মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত করলেও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার মতো কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন থাকে, অন্যদিকে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে হারলেমের ঘটনাটিও এই বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত হারলেমের ঘটনায় নিউইয়র্ক পুলিশ বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা কোনো মামলা বা তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে গির্জা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে জেক ল্যাংয়ের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। আগস্টে মিশিগানের ডিয়ারবর্নে তার নেতৃত্বে ইসলামবিরোধী সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও সংবাদে এসেছে। হারলেমের সর্বশেষ ঘটনাটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় গ্রন্থ ছেঁড়ার ঘটনা হিসেবে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্কের নতুন একটি উদাহরণ হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। তবে ঘটনার আইনগত পরিণতি বা কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে আরও নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। সূত্র: মিশরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মাসরাওয়ি, সিবিএস নিউজ, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয় এবং অন্যান্য প্রকাশিত প্রতিবেদন।
নিউইয়র্ক সিটিতে আবাসিক ভবনের ট্র্যাশ ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম আজ, মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবনে সাধারণ ট্র্যাশ বাইরে রাখার ক্ষেত্রে এখন থেকে অফিসিয়াল NYC বিন ব্যবহার করতে হবে। নিয়ম না মানলে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন বা ডিএসএনই সামন্স জারি করে জরিমানা করতে পারবে। নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য। যেসব বাংলাদেশি পরিবার এক বা দুই পরিবারের বাড়ির মালিক কিংবা ৯টি পর্যন্ত আবাসিক ইউনিট রয়েছে এমন ভবনের মালিক বা ম্যানেজার, তাদের ট্র্যাশ নির্ধারিত বিনে রাখতে হবে। ভবনের বাসিন্দাদের উৎপাদিত সব ট্র্যাশ রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিনের ব্যবস্থা করার দায়িত্বও মালিক বা বিল্ডিং ম্যানেজারের। ডিএসএনই জানিয়েছে, ১ জুন ২০২৬ থেকেই ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবনের জন্য অফিসিয়াল NYC বিন ব্যবহারের নিয়ম কার্যকর ছিল। তবে নিয়মটি বাস্তবায়নের আগে বাসিন্দা ও সম্পত্তির মালিকদের প্রস্তুতির সুযোগ দিতে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়। সেই সময় শেষ হওয়ার পর ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে পূর্ণাঙ্গ এনফোর্সমেন্ট। জরিমানার পরিমাণ অপরাধের সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে। প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে ৫০ ডলার, দ্বিতীয়বার ১০০ ডলার এবং তৃতীয় ও পরবর্তী অপরাধে ২০০ ডলার জরিমানা হতে পারে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ২০০ ডলারের জরিমানা প্রযোজ্য হবে তৃতীয় ও পরবর্তী লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে। শুধু নির্দিষ্ট বিন ব্যবহার করলেই হবে না, ট্র্যাশের বিনেরও কিছু শর্ত রয়েছে। ট্র্যাশ রাখার জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ গ্যালনের বিন ব্যবহার করতে হবে এবং বিনের ঢাকনা নিরাপদভাবে বন্ধ থাকতে হবে। বিন উপচে ট্র্যাশ বাইরে পড়ে থাকলেও জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে অফিসিয়াল NYC বিন বিভিন্ন আকারে পাওয়া যাচ্ছে। ৪৫ গ্যালনের বিন একাধিক আবাসিক ইউনিটের ভবনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ছোট একক পরিবারের বাড়ির জন্য ৩৫ গ্যালনের বিন এবং জায়গা কম থাকা বা কম ট্র্যাশ উৎপাদনকারী বাড়ির জন্য ২৫ গ্যালনের বিনও রয়েছে। তবে রিসাইক্লিং ও কম্পোস্টের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। রিসাইক্লিংয়ের জন্য অফিসিয়াল NYC বিন কেনা বাধ্যতামূলক নয়। রিসাইক্লিং উপযুক্ত যেকোনো কনটেইনারে অথবা স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগে রাখা যায়। কম্পোস্টও ঢাকনাযুক্ত ও সঠিকভাবে চিহ্নিত উপযুক্ত বিনে রাখা যাবে। নিউইয়র্ক সিটি বলছে, এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো রাস্তায় পড়ে থাকা কালো ট্র্যাশ ব্যাগ কমানো, জনসাধারণের জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং ইঁদুরসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের সমস্যা কমানো। নতুন NYC বিন গুলো ইঁদুর প্রতিরোধী এবং স্যানিটেশন বিভাগের নতুন যান্ত্রিক ট্র্যাশ সংগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শুধু ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবন নয়, বড় ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে কন্টেইনারাইজেশন ব্যবস্থা চালু করছে নিউইয়র্ক সিটি। ৩১ বা তার বেশি আবাসিক ইউনিটের ভবনগুলোতে নির্দিষ্ট এলাকায় এম্পায়ার বিন ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ১০ থেকে ৩০ ইউনিটের ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির সব আবাসিক ট্র্যাশকে ধীরে ধীরে কন্টেইনারাইজেশন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আবাসিক ভবনের মালিক, ম্যানেজার ও ভাড়াটিয়াদের জন্য নতুন ট্র্যাশ ব্যবস্থাপনা নিয়ম সম্পর্কে এখন থেকেই সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর একটি মসজিদে হামলার ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার ও হামলাকারীদের উগ্রবাদী লেখা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে নর্থ ক্যারোলিনার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার আগে দুই বন্দুকধারীর সঙ্গে ওই কিশোরীর যোগাযোগ ছিল এবং হামলার ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই সমঝোতা হয়েছিল। ফোরসাইথ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি জিম ও'নিল সোমবার উইনস্টন-সালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। আদালতের নথি অনুযায়ী, কিশোরীকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ এবং একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অনুমোদন করে। আদালতের নথিতে তার নাম সারাহ লিন্ডসে সান্তিয়াগো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার আগে সান্তিয়াগো হামলাটি সরাসরি সম্প্রচার করার, সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার এবং হামলাকারীদের লেখা একটি নথি প্রকাশ করার দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি পরে এসব কাজ করেন। এমনকি হামলাকারীদের একজনের ব্যবহারের জন্য শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী প্রতীকযুক্ত একটি প্যাচ কিনে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। জেলা অ্যাটর্নি ও'নিল বলেন, ওই কিশোরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও হামলার সঙ্গে তার ভূমিকা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নর্থ ক্যারোলিনার আইনে হত্যায় সহায়তা ও প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্য মূল অপরাধীর মতোই শাস্তির বিধান রয়েছে। ফলে সরাসরি গুলি না চালালেও অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে গুরুতর শাস্তির ঝুঁকি রয়েছে। ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ১৮ মে সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে। পুলিশ ও তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক এবং ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাজকেজ সেখানে হামলা চালায়। হামলায় মসজিদটির নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহসহ তিনজন নিহত হন। পরে দুই সন্দেহভাজন হামলাকারী একটি গাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের বাবা এবং মসজিদটির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় তিনি দুই বন্দুকধারীকে মসজিদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন এবং শিশুদের নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মসজিদে তখন প্রায় ১৪০ শিশু ছিল। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রতিরোধের কারণে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। হামলায় নিহত অপর দুই ব্যক্তি হলেন মানসুর কাজিহা ও নাদির আওয়াদ। পুলিশ জানিয়েছে, তারা হামলাকারীদের মসজিদ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে তারা হামলাকারীদের হাতে নিহত হন। তদন্তকারীরা বলছেন, হামলাকারীদের রেখে যাওয়া লেখায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া গেছে। সেখানে উগ্র ডানপন্থি মতাদর্শের বিভিন্ন উৎসের উল্লেখও ছিল। তদন্তকারীদের মতে, অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা উগ্রবাদী বক্তব্য ও সহিংসতার প্রচারণা দুই হামলাকারীর চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলেছিল। মামলাটিতে অনলাইনে সহিংসতার প্রচার এবং হামলাকারীদের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, সান্তিয়াগো শুধু হামলার ভিডিও ধারণ করেননি, বরং সেটি ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হামলাকারীদের লেখা প্রকাশেও ভূমিকা রেখেছেন। এদিকে, সান্তিয়াগোর আইনজীবী তার নির্দোষিতার দাবি করেছেন। মামলাটি এখন আদালতের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্তকারীরা হামলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত আরও ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। সান দিয়েগোর এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে উগ্রবাদী মতাদর্শের বিস্তার এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রচার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হামলার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার ও পরে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে ডিজিটাল যোগাযোগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর এক ডেলিভারি চালককে নগ্ন অবস্থায় বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান বাড়ির মালিক কিয়ান্তে ম্যাটলক। ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ আগস্ট হিউস্টনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, হোমস্টেড এলাকার কাছাকাছি ম্যাটলকের বাড়িতে। ম্যাটলক জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির ভেতরে বসে ভিডিও গেম খেলছিলেন। তার মেয়েও তখন বাড়িতে ছিল। মেয়ের কাছ থেকে ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসার কথা জানতে পেরে ম্যাটলক বুঝতে পারেন, তার খাবারের অর্ডার পৌঁছে গেছে। এরপর তিনি বাড়ির রিং নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে গিয়ে অস্বাভাবিক দৃশ্যটি দেখতে পান। ফুটেজে দেখা যায়, খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর ডেলিভারি চালকটি বাড়ির বাইরে নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না বলে জানান ম্যাটলক। ম্যাটলক নিয়মিত ডোরড্যাশ ব্যবহার করেন। তবে ওই দিনের খাবার তিনি আর গ্রহণ করেননি। পরে ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ তার অর্ডারের অর্থ ফেরত দেয়। ঘটনার বিষয়ে ডোরড্যাশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৬ হিউস্টন। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র ঘটনাটিকে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর ডোরড্যাশ সরাসরি ম্যাটলকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সংশ্লিষ্ট চালকের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। ডোরড্যাশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের যৌন হয়রানি বা অনুপযুক্ত আচরণ তারা মেনে নেয় না। ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন হলে তাদের সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তাদের অ্যাপের মাধ্যমে জমা পড়া অভিযোগগুলো ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বিভাগ পর্যালোচনা করে। ডেলিভারির সময় কোনো গ্রাহক অস্বাভাবিক বা উদ্বেগজনক আচরণের মুখে পড়লে দ্রুত অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে অনিরাপদ মনে হলে স্থানীয় পুলিশকে জানানোর পরামর্শও দিয়েছে ডোরড্যাশ। তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা থাকলে জরুরি নম্বরে ৯১১-এ ফোন করতে বলা হয়েছে। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে হিউস্টন পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছে ফক্স ২৬। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাড়ির বাসিন্দারা এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পুলিশকে জানানো এবং ঘটনার সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত। এর মধ্যে রিং ক্যামেরা, দরজার ক্যামেরা কিংবা বাড়ির অন্য কোনো নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে সে জন্য আগে ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রয়োজন এবং এরপর পুলিশ তদন্ত করে দেখবে ঠিক কী ঘটেছিল। ফক্স ২৬ জানিয়েছে, টেক্সাসের আইনে এ ধরনের আচরণ কোন পরিস্থিতিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তা জানতে তারা একজন আইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করছে। ঘটনাটি আবারও বাড়িতে খাবার বা পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সময় নিরাপত্তা ক্যামেরার গুরুত্ব সামনে এনেছে। বিশেষ করে ডেলিভারি কর্মীর আচরণ নিয়ে কোনো উদ্বেগ তৈরি হলে ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ফক্স ২৬ হিউস্টন (FOX 26), প্রতিবেদক লেসলি ডেলাসবোর।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক নারীর ব্রায়ের ভেতর থেকে দুটি জীবন্ত কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। বিমানে ওঠার আগে নিরাপত্তা স্ক্যানারে তার শরীরের বুকের অংশে অস্বাভাবিক কিছু শনাক্ত হওয়ার পর তল্লাশি চালিয়ে কচ্ছপ দুটির সন্ধান পান পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের (টিএসএ) কর্মকর্তারা। ঘটনাটি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঘটলেও টিএসএ বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে জুলাইয়ে। ওই নারীকে শনাক্ত করা হয়নি। টিএসএর প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, কচ্ছপ দুটিকে গজের মতো কাপড় ও প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয়েছিল। কচ্ছপগুলোর কোন প্রজাতির ছিল, তা সংস্থাটি জানায়নি। নিরাপত্তা স্ক্যানারে প্রথমে ওই নারীর শরীরের বুকের অংশে সন্দেহজনক কিছু ধরা পড়ে। এরপর তাকে আলাদা করে তল্লাশি করা হলে পোশাকের ভেতর থেকে দুটি কচ্ছপ বেরিয়ে আসে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছেও ঘটনাটি ছিল বেশ অস্বাভাবিক। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে দুঃখজনক দিক হলো, দুটি কচ্ছপের একটি পরে মারা যায়। বেঁচে যাওয়া কচ্ছপটিকে ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পর যাত্রীদের উদ্দেশে অদ্ভুত কিন্তু স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেয় টিএসএ। সংস্থাটি জানায়, ছোট পোষা প্রাণী নিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়া সম্ভব হলেও সেগুলো পোশাকের নিচে লুকিয়ে নেওয়া যাবে না। টিএসএর নিয়ম অনুযায়ী, ছোট পোষা প্রাণী নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রাণীকে তার বহনকারী খাঁচা বা ব্যাগ থেকে বের করে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় হাতে বহন করতে হয়। একই সঙ্গে বিমানে পোষা প্রাণী নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নিজস্ব নিয়মও আগে জেনে নিতে হয়। মায়ামির এই ঘটনা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে প্রাণী লুকিয়ে নেওয়ার প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ব্যক্তিকে প্যান্টের ভেতরে একটি জীবন্ত কচ্ছপ লুকিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। ওই কচ্ছপটি পরে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মায়ামি বিমানবন্দরে ২০২৩ সালে একটি ব্যাগ থেকে পাখির ডাক শোনার পর অ্যামাজন প্রজাতির পাখির ডিম ও জীবন্ত পাখি উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালেও এক ব্যক্তিকে ব্যাগে সাপ নিয়ে বিমানে ওঠার চেষ্টা থেকে আটক করা হয় বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত যাত্রী, বিমান ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি। তাই প্রাণী বহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে টিএসএ। বিশেষ করে প্রাণীকে শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা তার নিজের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি প্রাণীটির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। মায়ামির ঘটনায় দুটি কচ্ছপের একটি মারা যাওয়ার বিষয়টি সেই ঝুঁকিকেই সামনে এনেছে। নিরাপত্তা তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে যাত্রার আগে এয়ারলাইনসের পোষা প্রাণী পরিবহনের নিয়ম এবং টিএসএর নিরাপত্তা নির্দেশনা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংবাদসূত্র: সিবিএস নিউজ ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)।
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের বিলিংসে একটি বাড়িতে গুলির ঘটনায় একই পরিবারের আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার শিশুও রয়েছে। গুলির ঘটনার পর বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের আরও সদস্যদের হারিয়ে শোকাহত বাবা অ্যাডাম ঘেকিয়েরে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় ঘটনাটির খবর শুনে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনাটি ঘটে গত রোববার সন্ধ্যায় বিলিংসের ওয়েস্ট এন্ড এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে বাড়িটিতে গুলির ঘটনা সম্পর্কে জরুরি নম্বরে ফোন আসে। ফোনে কথা বলার সময় পেছনে গুলির শব্দও শোনা যাচ্ছিল। প্রায় ১১ মিনিট পর প্রথম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর বাড়ির পেছন দিক থেকে আরও গুলির শব্দ শোনা যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাড়িটি আগুনে পুড়ে যেতে শুরু করে। ঘেকিয়েরে তখন একটি এয়ার শোতে উদ্ধারকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় কাছাকাছি এলাকায় একটি গুরুতর ঘটনা ঘটার খবর শুনেই তার সন্দেহ হয়, ঘটনাটি তার শ্বশুরবাড়ির আশপাশে কি না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে ফোন করেন। কিন্তু কেউ ফোন ধরেনি। পরে তিনি তার দুই সন্তান ল্যান্ডন ও শার্লটের অবস্থান জানার চেষ্টা করেন এবং তাদের ফোন করেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছানোর পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা তাদের আর এগোতে দেননি, কারণ তখনও সেখানে সক্রিয় হামলার আশঙ্কা ছিল। সেই মুহূর্তেই তিনি সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কা করেছিলেন। নিহতদের মধ্যে ঘেকিয়েরের ১৫ বছর বয়সী ছেলে ল্যান্ডন এবং ১২ বছর বয়সী মেয়ে শার্লট রয়েছে। তার স্ত্রী মেগান ঘেকিয়েরেও নিহত হয়েছেন। মেগানের দুই সন্তান, ১৩ বছর বয়সী ওউেন এবং ৭ বছর বয়সী ক্লোয়িও প্রাণ হারিয়েছে। পরিবারের আরও তিন সদস্যও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে মেগানের বাবা-মা এবং ৯২ বছর বয়সী দাদি এভলিন স্মিথও ছিলেন। ঘটনাটি একটি যৌথ পরিবারের চার প্রজন্মকে ছিন্নভিন্ন করেছে। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন ৭ বছরের ক্লোয়ে এবং সবচেয়ে প্রবীণ ছিলেন ৯০-এর বেশি বয়সী এক নারী। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চার শিশুসহ আটজনই একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। ঘটনার পর পরিবারের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, সন্দেহভাজন হামলাকারী পরিবারেরই একজন। তবে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধ থেকে শুরু হওয়া ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি অপরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে চালানো এলোমেলো হামলা ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিও পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যান। তার আঘাতকে আত্মঘাতী গুলির ক্ষত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ফলে ঘটনাটিতে সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ মোট আটজন নিহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িটি দ্রুত আগুনে পুড়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও তদন্তকাজও কঠিন হয়ে পড়ে। পুলিশ ও দমকলকর্মীদের পাশাপাশি ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, মন্টানা হাইওয়ে পেট্রোল এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি সেবাদাতা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করেন। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিল। পরে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের জন্য আর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই। নিহত দুই শিশু ল্যান্ডন ও শার্লটকে ঘিরে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে ল্যান্ডনকে ধৈর্যশীল, সুরক্ষাদানকারী ও ভালো বড় ভাই হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। শার্লটকে বলা হয়েছে হাসিখুশি, বুদ্ধিদীপ্ত ও প্রাণবন্ত একটি শিশু, যার নিজের মতো করে চলার দৃঢ়তাও ছিল। অ্যাডাম ঘেকিয়েরের কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঘটনার সময় তিনি সন্তানদের কাছে ছিলেন না। জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় খবর শোনার পর তাদের ফোন করা, অবস্থান খোঁজা এবং ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া, সবকিছুই ঘটেছিল কয়েক মিনিটের মধ্যে। কিন্তু সক্রিয় হামলার পরিস্থিতির কারণে তিনি বাড়ির কাছে যেতে পারেননি। তদন্তকারীরা এখনো ঘটনার পূর্ণ কারণ ও ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখছেন। কেন পারিবারিক বিরোধ এমন ভয়াবহ ঘটনায় রূপ নিল, হামলার আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং আগুন কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে অত্যন্ত জটিল তদন্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিলিংসের এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও গভীর শোক নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা নিহতদের স্মরণ করছেন এবং শেষকৃত্যসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন। তদন্ত চলায় কর্তৃপক্ষ এখনো ঘটনার সব তথ্য প্রকাশ করেনি। সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও সিবিএস নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় একটি নার্সিং হোমের চরম অবহেলায় এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ৮৩ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা আলঝেইমার রোগে ভুগছিলেন। নার্সিং হোমের খোলা দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাকে আক্রমণ করে অসংখ্য বিষ পিঁপড়া বা ফায়ার অ্যান্ট। তার শরীরে এক হাজারেরও বেশি কামড়ের দাগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ওই নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। আইন ও অপরাধ বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ল অ্যান্ড ক্রাইমের হাতে আসা মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, নিহত বৃদ্ধার নাম শেলবা ক্যাটারটন। তিনি কথা বলতে পারতেন না এবং অ্যাডভান্সড ডিমেনশিয়া বা চরম স্মৃতিভ্রম রোগে ভুগছিলেন। গত ২৩ জুলাই রাত ১০টার পর নার্সিং হোমের এক কর্মীর ভুলে খোলা থাকা একটি দরজা দিয়ে তিনি একা বাইরে বেরিয়ে যান। এরপরই তিনি পিঁপড়ার আক্রমণের শিকার হন। কয়েক ঘণ্টা পর চার্লসটনের হারমনি অ্যাট ওয়েস্ট অ্যাশলে নামের ওই নার্সিং হোমের একটি সুরক্ষিত আঙিনায় পিঁপড়ার ঢিবির ওপর তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অসুস্থতার কারণে তিনি চিৎকার করতে বা শরীর থেকে পিঁপড়াগুলো সরিয়ে ফেলতে পারেননি। এক কর্মী তাকে ওই অবস্থায় দেখে জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে কল করেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ওই কর্মী কল রিসিভারকে জানিয়েছিলেন, বৃদ্ধার শরীরে অসংখ্য পিঁপড়া ছেঁকে ধরেছিল। তার পিঠে এবং মুখে প্রচুর ফোসকা পড়েছিল। চার্লসটন পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং তাদের ধারণা, এক কর্মীর খোলা রাখা দরজা দিয়েই ক্যাটারটন বাইরে গিয়েছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হারমনির কর্মীরা যখন তাকে উদ্ধার করেন, ততক্ষণে তার শরীরে অন্তত এক হাজারবার কামড় ও হুল ফোটানো হয়েছে। তার মুখ, চোখ, মাথা, পিঠ, বুক, হাত ও পায়ে ছিল অসংখ্য কামড়ের দাগ। উদ্ধারের পর ক্যাটারটনের চিকিৎসা করা চিকিৎসকরা জানান, তিনি হাইপোথার্মিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করার পর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, ৭ আগস্ট ওই বৃদ্ধা মারা যান। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার অবহেলা, অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং আলঝেইমার রোগীদের যত্নের বিষয়ে রাজ্যের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও কর্মীরা তাদের কিছু জানাননি। পরিবারের আইনজীবী নেট হিউই স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিবিডিকে জানান, গত ২৫ বছরে বয়স্কদের ওপর নির্যাতনের যতগুলো মামলা তিনি পরিচালনা করেছেন, এটি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। ক্যাটারটনের মেয়ে জ্যান বুইস ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এই ঘটনায় আতঙ্কিত। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কারও যাওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফায়ার অ্যান্ট বা বিষ পিঁপড়ার কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা বিরল হলেও শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে একাধিক কামড়ে অ্যানাফিল্যাকটিক শকসহ মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এদিকে হারমনি নার্সিং হোমের একজন মুখপাত্র ডব্লিউসিবিডিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দ্য ইনডিপেনডেন্ট এ বিষয়ে আরও জানতে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। তথ্যসূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সন্তানদের বাবাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১০০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এক নারী। মামলার আসামি মিন্ডি ওস্টিন শিশুদের বাবা ক্রিস্টোফার ট্রাভিস জোন্সকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারের বাইরে গুলি করে হত্যা করেন। ওই সময় তাঁদের দুই সন্তান গাড়ির ভেতরে ছিল। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই ফ্লোরিডার স্টার্ক শহরের আন্টি লিলিজ চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের সামনে। ৩৭ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার জোন্স সেদিন তাঁদের দুই সন্তানকে ডে-কেয়ার থেকে নিতে গিয়েছিলেন। সন্তানদের গাড়িতে তোলার পর তিনি চালকের আসনে বসেন। তখন মিন্ডি ওস্টিন একটি ব্যাগ নিয়ে তাঁর কাছে এগিয়ে যান। তদন্তকারীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিজেবি জানিয়েছে, ওস্টিন প্রথমে জোন্স ও শিশুদের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন। এরপর জোন্স সন্তানদের গাড়ির পেছনের আসনে বসিয়ে চালকের আসনে বসার পর ওস্টিন তাঁর ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গাড়ির দিকে গুলি চালান। জোন্স গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গাড়ি থেকে বেরিয়ে ডে-কেয়ার সেন্টারের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রবেশপথের দ্বিতীয় নিরাপত্তা দরজা দিয়ে ঢুকতে না পেরে তিনি দুই দরজার মাঝের জায়গায় আটকা পড়েন। তদন্তকারীদের মতে, সেখানেও ওস্টিন গুলি চালান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জোন্স ওস্টিনের নাম উল্লেখ করে জানান, তিনিই তাঁকে গুলি করেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় জোন্স ও ওস্টিনের দুই সন্তান গাড়ির ভেতর ছিল। ডে-কেয়ার ভবনের ভেতরেও আরও ছয় শিশু ও দুই কর্মী ছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। তবে ঘটনায় কোনো শিশু আহত হয়নি। ঘটনার পর ওস্টিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা, শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা, অস্ত্র রাখা এবং অন্যান্য অভিযোগ আনা হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলেছিলেন, গুলি চালানোর আগে তিনি একটি ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তবে মামলাটি শেষ পর্যন্ত বিচার পর্যন্ত গড়ায়নি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ওস্টিন দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা এবং আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করে সমঝোতাভিত্তিক মামলার নিষ্পত্তিতে রাজি হন। আদালত ওই সমঝোতা গ্রহণ করে তাঁকে বিভিন্ন অভিযোগে ধারাবাহিক সাজা দেন, যার মোট মেয়াদ ১০০ বছর। একই সঙ্গে জোন্সের পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মামলার শুনানিতে জোন্সের পরিবারের সদস্যরা আদালতে বক্তব্য দেন। তাঁর পরিবারের এক সদস্য ফিলিস স্যান্ডস জানান, শুরুতে পরিবার আরও কঠোর শাস্তি চেয়েছিল। তবে ১০০ বছরের সাজায় কার্যত ওস্টিনের জীবনের বাকি সময় কারাগারে কাটানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জোন্সের দুই সন্তান ওই ঘটনার কারণে গভীরভাবে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে তাদের এমন এক নারী দত্তক নেন, যিনি জোন্সের পরিবারের সদস্য নন। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, বড় হওয়ার পর সন্তানরা একদিন বাবার মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইবে এবং সেই স্মৃতি তাদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। জোন্সের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি সন্তানদের জন্য কাজ করতেন এবং তাদের জীবনে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও পরিবারের বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। মামলাটি শেষ পর্যন্ত ১০০ বছরের কারাদণ্ডে শেষ হলেও ঘটনাটির মূল প্রশ্নগুলো এখনও পরিবারের জন্য গভীর বেদনার বিষয় হয়ে রয়েছে। সন্তানদের নিতে যাওয়া একটি সাধারণ বিকেল কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী ঘটনায় পরিণত হয়েছিল, সেই স্মৃতি এখন জোন্সের পরিবারের পাশাপাশি তাঁর দুই সন্তানের জীবনেও দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে। সংবাদসূত্র: ডব্লিউসিজেবি, নিউজ৪জ্যাক্স ও ব্র্যাডফোর্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রিনিটি নদী থেকে দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। নিহতরা হলেন ৪৫ বছর বয়সী লেক্স রিনকন এবং তাঁর ১৮ বছর বয়সী ছোট ভাই কৃষ্ণ রিনকন, যিনি গণেশ নামেও পরিচিত ছিলেন। বুধবার হামবোল্ট কাউন্টির উইলো ক্রিক এলাকার ট্রিনিটি নদীতে তাঁদের মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, পানিতে ডুবে তাঁদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের দিন নদীর স্রোতে এক ব্যক্তিকে বিপাকে পড়তে দেখা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। পরদিন সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে হামবোল্ট কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা ট্যাগমেয়ার বিচ এলাকায় পৌঁছান। সেখানে নদীর তীরে একটি গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় দেখতে পান তারা। এরপর নদীর পানির পাশাপাশি আশপাশের নদীতীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে পানির ভেতর থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারী দল। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ জানায়, একজন লেক্স রিনকন। তিনি হামবোল্ট কাউন্টির আর্কাটা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তাঁর বয়স ৪৫ বছর। অপরজন তাঁর ১৮ বছর বয়সী ভাই কৃষ্ণ রিনকন, যিনি নিউইয়র্কে থাকতেন। দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। আগামী সপ্তাহে তাঁদের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে মৃত্যুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না। ট্রিনিটি নদীর ওই অংশটি স্রোত ও পানির পরিস্থিতির কারণে বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত। নদীতে হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেলে সাঁতারু বা পানিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে দুই ভাই ঠিক কীভাবে পানিতে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। নিহতদের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিউইয়র্কে বসবাস করেন। ফলে শেষবারের মতো দুই ভাইকে বিদায় জানাতে তাঁদের স্বজনদের হামবোল্ট কাউন্টিতে যেতে হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হঠাৎ করে বিমানের টিকিট কিনতে হওয়ায় যাতায়াতের ব্যয়ও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একটি অনলাইন অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে স্বজনদের ক্যালিফোর্নিয়ায় যাতায়াত, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় সামাল দিতে সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। লেক্সের বন্ধু গ্রেগরি টেরি তাঁকে স্মরণ করে বলেন, লেক্স ছিলেন অত্যন্ত সদয়, দৃঢ়চেতা, সৃজনশীল ও রসিক একজন মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে জানার সুযোগ পেয়েছেন উল্লেখ করে টেরি বলেন, লেক্সের ছোট ভাই গণেশের সঙ্গেও পরিচিত হতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। দুই ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের পর তাঁদের মৃত্যুর বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রশান্ত মহাসাগরের বিপজ্জনক স্রোতে আটকে পড়া এক শিশুকে সাহায্য করতে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে গুরুতর মেরুদণ্ডের আঘাত পেয়েছেন পাঁচ সন্তানের বাবা জশ কোলেট। ৪২ বছর বয়সী এই ব্যক্তির ঘাড় থেকে শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে। বর্তমানে তাঁর সামনে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের পথ। ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার সান ক্লেমেন্টের রিভিয়েরা বিচে। ওই দিন পরিবারের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে সময় কাটাচ্ছিলেন জশ। এ সময় সাত থেকে আট বছর বয়সী এক শিশু রিপ কারেন্ট বা সমুদ্রের শক্তিশালী বিপরীতমুখী স্রোতে আটকে পড়ে বলে জশের বোন হিলারি কোলেট স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিএলএকে জানিয়েছেন। শিশুটিকে বিপদে দেখে তার মা প্রথমে পানিতে নামেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জশও দ্রুত এগিয়ে যান এবং শিশুটিকে সাহায্য করার জন্য সাগরে ঝাঁপ দেন। কিন্তু পানিতে নামার পরপরই তিনি পাথর অথবা পানির নিচে থাকা বালুর উঁচু অংশে আঘাত পান বলে পরিবারের ভাষ্য। আঘাতটি এতটাই গুরুতর ছিল যে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়ার ক্ষমতা হারান। সৈকতে থাকা কয়েকজন দ্রুত তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেন এবং তাঁকে পানি থেকে তীরে নিয়ে আসেন। উদ্ধারের পর জশ তাঁর স্ত্রীকে জানান, তাঁর মনে হচ্ছে ঘাড় ভেঙে গেছে। পরে চিকিৎসকেরা তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা তাঁদের বলেছেন জশের ঘাড় থেকে শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে। তবে যে শিশুটিকে সাহায্য করতে তিনি সাগরে নেমেছিলেন, সেই শিশু নিরাপদে পানি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। জশকে উদ্ধার করে তীরে আনার আগেই শিশুটি নিরাপদে ছিল বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গুরুতর শারীরিক অবস্থার কারণে জশ এখনো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। তবে পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তাঁর কথা বলার ক্ষমতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁর বোন হিলারির ভাষ্য অনুযায়ী, এত বড় দুর্ঘটনার পরও জশ মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনার পর জশের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরিবারে। পাঁচ সন্তানের এই বাবার চিকিৎসা, থেরাপি এবং পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে স্বজনেরা অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। পরিবারের তহবিল সংগ্রহের আবেদনে বলা হয়েছে, সামনে জশের সুস্থ হয়ে ওঠার পথ দীর্ঘ এবং সহজ হবে না। তারপরও পরিবার তাঁর অবস্থার উন্নতি নিয়ে আশাবাদী এবং চিকিৎসার প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্যাচের ২১ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত তহবিলে প্রায় ৬৫ হাজার ডলার উঠেছিল, যেখানে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ডলার। জশের দুর্ঘটনাটি আবারও সমুদ্রের রিপ কারেন্টের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। এ ধরনের স্রোত উপকূলের কাছ থেকে দ্রুত পানি সমুদ্রের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। ফলে ভালো সাঁতারুদের জন্যও পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। জশের পরিবার এখন তাঁর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। মেরুদণ্ডের গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর ভবিষ্যৎ শারীরিক সক্ষমতা কেমন হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিবার বলছে, সামনে দীর্ঘ পথ থাকলেও তারা আশা হারাচ্ছে না। সংবাদসূত্র: কেটিএলএ, নিউইয়র্ক পোস্ট ও প্যাচ
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে তীব্র গরমের মধ্যে মরুভূমিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ৭২ বছর বয়সী গ্র্যান্ট সাইলার। প্রায় ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় মাটিতে পড়ে থাকার পর তাঁর শরীরে ভয়াবহ দগ্ধ হওয়ার ক্ষত তৈরি হয়েছে। এখন তাঁর ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হতে পারে। অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে গত ৩ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১০ ফিনিক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইলার সেদিন বাড়ির এলাকা থেকে প্রায় এক মাইল দূরে মরুভূমির দিকে হাঁটতে গিয়েছিলেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিজে উঠে দাঁড়াতে বা সাহায্য চাইতে পারেননি। সাইলারের মেয়ে হিদার ক্রুক জানান, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বুলহেড সিটিতে বসবাস করছে এবং প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে তারা পরিচিত। ১৯৮৮ সালে তাঁর পরিবার সেখানে চলে আসে। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ক্রুক বলেন, প্রথমে বাবার পড়ে যাওয়ার খবর শুনে তাঁর মনে হয়েছিল, এত গরমের মধ্যে তিনি বাইরে হাঁটতে গেলেন কেন। কিন্তু পরে তাঁর অবস্থার ভয়াবহতা জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সাইলারকে শেষ পর্যন্ত এক পথচারী নারী দেখতে পান। তিনি মাটিতে পড়ে থাকা সাইলারের শরীরে পানি ঢালেন এবং তাঁকে জ্ঞান ফেরাতে সাহায্য করেন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তাঁর বাড়ির ঠিকানা জেনে জরুরি সেবায় খবর দেন। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় সাইলার প্রচণ্ড কাঁপছিলেন। তাঁর শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল বলে তাঁর পরিবারের ভাষ্য। তাঁকে দ্রুত লাস ভেগাসের একটি দগ্ধ রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় উত্তপ্ত মাটির ওপর পড়ে থাকার কারণে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাত্রার দগ্ধ হওয়ার ক্ষত তৈরি হয়েছে। তিনি একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা-সংক্রান্ত জটিলতারও মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর ডান পায়ের টিস্যু এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তা আর স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠার সম্ভাবনা নেই বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। এ কারণে আগামী ৩১ আগস্ট তাঁর ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলার অস্ত্রোপচার করার কথা রয়েছে। এরপর তাঁকে দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম পা, চলাফেরার সহায়ক সরঞ্জাম এবং বাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মতো বিষয়ও পরিবারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইলারের মেয়ে ক্রুক পেশায় একজন নার্স। তিনি বাবাকে অত্যন্ত শক্ত ও স্বনির্ভর মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সাধারণত সামান্য আঘাত পেলেও সাইলার চিকিৎসা বা অন্যের সহায়তা নিতে চাইতেন না। ক্রুক জানান, মাত্র নয় মাস আগেও তাঁর বাবা তাঁর বাড়ির পেছনে একটি দেয়াল নিজেই পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। তখন প্রায় ৮০ পাউন্ড ওজনের একটি কংক্রিটের ব্লক তাঁর পায়ের ওপর পড়ে গেলেও তিনি ব্যথানাশক ওষুধও নিতে চাননি। সেই মানুষটিই এখন তীব্র ব্যথায় কাতরাচ্ছেন বলে জানান তাঁর মেয়ে। ফক্স ১০-কে ক্রুক বলেন, তাঁর বাবা এমন মানুষ, যিনি সাধারণত পড়ে গেলে উঠে দাঁড়িয়ে আবার কাজ শুরু করার চেষ্টা করেন। তাই তাঁকে এবার এতটা কষ্টে দেখতে পাওয়া পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার পর শুধু চিকিৎসাজনিত সংকট নয়, আর্থিক চাপও তৈরি হয়েছে পরিবারের ওপর। সাইলারের স্ত্রী ভিকি প্রতিদিন নেভাদার হাসপাতালে স্বামীকে দেখতে যান। এ জন্য তাঁকে প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা যাতায়াত করতে হচ্ছে। পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় সামাল দিতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬ হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সামনে আরও বড় ব্যয়ের আশঙ্কা করছে পরিবার। বাড়িতে হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী পরিবর্তন, কৃত্রিম পা, বিশেষ চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের খরচ এর মধ্যে রয়েছে। অ্যারিজোনার মরুভূমি অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় সরাসরি উত্তপ্ত মাটির সংস্পর্শে থাকা শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাইলারের ঘটনা সেই ঝুঁকিরই একটি ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে। বর্তমানে সাইলার লাস ভেগাসের দগ্ধ রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তাঁর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট নির্ধারিত অস্ত্রোপচারের পর তাঁর সুস্থতা ও পুনর্বাসনের দীর্ঘ পথ শুরু হবে। সংবাদসূত্র: ফক্স ১০ ফিনিক্স
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে দুই মাস বয়সী এক শিশুকে ডায়াপার পরিবর্তনের সময় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে লুথেরান চার্চের এক ভিকারিয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জোসায়াহ জাঙ্কিন। ২৭ বছর বয়সী জাঙ্কিন ফোর্ট ওয়েন শহরের একটি লুথেরান চার্চে ভিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তিনি অ্যালেন কাউন্টি কারাগারে আটক আছেন। জাঙ্কিনের বিরুদ্ধে একটি শিশু যৌন নির্যাতনের মামলা করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিটিএ ও ডব্লিউকেআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের একটি ঘটনার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। এক নারী পুলিশকে জানান, জাঙ্কিন নিজেই তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি শিশুটিকে ডায়াপার পরিবর্তনের সময় নির্যাতন করেছিলেন। পরে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের সময়ও জাঙ্কিন একই শিশুকে একাধিকবার নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির কাছে জাঙ্কিন অন্তত চারবার শিশুটিকে নির্যাতনের কথা বলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানার পর ওই ব্যক্তি মিশিগানের কর্তৃপক্ষকে জানান। অন্যদিকে, শিশুটির বিষয়ে পাওয়া তথ্য এক নারী ইন্ডিয়ানার শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছেও জানান। ঘটনাটি নিয়ে মিশিগানেও তদন্ত হয়েছে। তদন্তকারী এক গোয়েন্দা জানিয়েছেন, জাঙ্কিন ফোর্ট ওয়েনে শিশুটিকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এদিকে ইন্ডিয়ানায় তদন্তকারীরা অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এবং আদালতের নথিতে থাকা তথ্য সংগ্রহ করেন। তদন্তের সময় পুলিশ এমন একটি ব্যক্তিগত ডায়েরির ছবিও পায়, যেটি যৌন আসক্তি থেকে মুক্তির একটি কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ডায়েরিতে জাঙ্কিন তাঁর যৌন আচরণকে গ্রেপ্তারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে চিহ্নিত করেছিলেন। সেখানে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণসংক্রান্ত কল্পনার কথাও লেখা ছিল বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ জাঙ্কিনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি। তবে তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি নিজে আত্মসমর্পণ করবেন। পরে ২০ আগস্ট তাঁকে অ্যালেন কাউন্টি কারাগারে আটক করা হয়। কারাগারের নথিতেও তাঁর বিরুদ্ধে শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। জাঙ্কিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ইন্ডিয়ানা ও মিশিগান উভয় অঙ্গরাজ্যেই চলছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর আগে তিনি লুথেরান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন। লুথেরান চার্চের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তিনি উইসকনসিনের একটি লুথেরান চার্চে ভিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং একটি নতুন চার্চ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগেও কাজ করেছিলেন। বর্তমান মামলায় অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ২০২৪ সালে ফোর্ট ওয়েনে দুই মাস বয়সী শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা। তদন্তকারীরা জাঙ্কিনের কথিত স্বীকারোক্তি, ব্যক্তিগত নথি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন। মামলার পরবর্তী ধাপে আদালতে এসব তথ্য ও প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জাঙ্কিনের বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সংবাদসূত্র: ডব্লিউপিটিএ, ডব্লিউকেআরসি, ২১অ্যালাইভ নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।