যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

অপরাধ জগতে "এল মায়ো" নামেও ব্যাপকভাবে পরিচিত ইসমায়েল জাম্বাদা গার্সিয়া। ছবি:সংগৃহীত
পাঁচ দশকের মাদক সাম্রাজ্যের অবসান, ব্রুকলিন আদালতে ‘এল মায়ো’র যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী মাদকচক্র সিনালোয়া কার্টেলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও দীর্ঘদিনের নেতা ইসমাইল ‘এল মায়ো’ জাম্বাদা গার্সিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ পরিচালনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন, হেরোইন, মেথামফেটামিন ও ফেন্টানিল সরবরাহের দায়ে ৭৬ বছর বয়সী এই মাদক সম্রাটের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণা করেন ব্রুকলিনের ফেডারেল বিচারক ব্রায়ান কোগান। আদালত বলেন, জাম্বাদার নেতৃত্বে পরিচালিত অপরাধচক্রের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে বিপুল পরিমাণ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে, যার সঙ্গে অসংখ্য হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা এবং প্রাণঘাতী মাদক সংকট জড়িত। বিচারকের মতে, তার অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই ছিল উপযুক্ত ও বাধ্যতামূলক শাস্তি। রায় ঘোষণার আগে আদালতে বক্তব্য দিতে গিয়ে জাম্বাদা নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সহিংসতা কখনোই কোনো সমস্যার সমাধান নয় এবং নতুন প্রজন্মকে অপরাধের পথ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তবে প্রসিকিউটররা আদালতে যুক্তি দেন, তার নেতৃত্বে পরিচালিত অপরাধচক্রের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে যে ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তা কোনো অনুশোচনায় পূরণ হওয়ার নয়। জাম্বাদা ২০২৫ সালে আদালতে অপরাধী চক্র পরিচালনা, মাদক পাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। তিনি স্বীকার করেন যে, সিনালোয়া কার্টেলের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দোষ স্বীকারের ফলে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া এড়ানো সম্ভব হলেও তাকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে বাধ্যতামূলক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত জাম্বাদার বিরুদ্ধে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দিয়েছে। তবে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই বিপুল সম্পদের বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে টেক্সাসের এল পাসোতে নাটকীয় অভিযানে জাম্বাদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে উঠে আসে, সিনালোয়া কার্টেলের আরেক নেতা জোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমানের ছেলে জোয়াকিন গুজমান লোপেজ তাকে প্রতারণার মাধ্যমে বিমানে তুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্টেলের অভ্যন্তরে রক্তক্ষয়ী ক্ষমতার সংঘর্ষ শুরু হয়, যাতে বহু মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হয়েছে। ইসমাইল ‘এল মায়ো’ জাম্বাদা এবং জোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমান যৌথভাবে সিনালোয়া কার্টেলকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মাদকচক্রে পরিণত করেন। ২০১৯ সালে এল চাপোও যুক্তরাষ্ট্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। এরপর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে জাম্বাদা কার্টেলের কৌশলগত নেতৃত্ব বজায় রেখেছিলেন এবং কখনো গ্রেপ্তার হননি—২০২৪ সালের গ্রেপ্তার পর্যন্ত। শুনানিতে জাম্বাদার আইনজীবীরা বলেন, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় তিনি ভুগছেন। বিচারক তার চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত কারা হাসপাতালে রাখার সুপারিশ করেন। তবে এতে সাজা বা দণ্ডের মেয়াদে কোনো পরিবর্তন হবে না। এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে সিনালোয়া কার্টেল এখনো সক্রিয় থাকায় এবং নেতৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরীণ সংঘাত চলতে থাকায় মেক্সিকোতে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফেন্টানিল ও অন্যান্য প্রাণঘাতী মাদকের বৈশ্বিক সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভাঙতে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর যৌথ অভিযান আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই রায়।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
৩০ বছর পর ভাঙল নীরবতা: গির্জার ছাদে পাদ্রি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে তিন দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৯৬ সালে একটি গির্জার ছাদে কাজ করার সময় গুলিতে নিহত এক পাদ্রির হত্যার ঘটনায়, বর্তমানে অন্য একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগরত এক বন্দির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।   জর্জিয়া ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (জিবিআই) জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালের ১ জুন জেফ ডেভিস কাউন্টির স্নাইপসভিল এলাকার ফুল গসপেল চার্চের ছাদে ৫৪ বছর বয়সী পাদ্রি জেমস হ্যান্ডকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি সেদিন গির্জার ছাদ মেরামতের কাজ করছিলেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে সে সময় তদন্ত চালিয়েও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং মামলাটি দীর্ঘদিন ‘কোল্ড কেস’ হিসেবে রয়ে যায়।   দীর্ঘ ৩০ বছর পর নতুন তথ্য-প্রমাণ এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে ৪৭ বছর বয়সী জাকারি বি. হার্পারের বিরুদ্ধে ফেলনি মার্ডার ও ম্যালিস মার্ডার-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। জিবিআই জানিয়েছে, হার্পার বর্তমানে জেনকিন্স কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে অন্য একটি হত্যা মামলায় দেওয়া যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।   তদন্তকারীদের ভাষ্য, নতুন সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পুনঃতদন্তের মাধ্যমে মামলাটিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। এর ফলে প্রায় তিন দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এই হত্যাকাণ্ডে বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   জিবিআই আরও জানিয়েছে, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে মামলার নথি ব্রান্সউইক জুডিশিয়াল সার্কিট ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা অপরাধের ঘটনাগুলোকে ‘কোল্ড কেস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি, নতুন সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পুনঃতদন্তের মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন বহু পুরোনো মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। জর্জিয়ার এই ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে আট নারী হত্যার দায়ে সিরিয়াল কিলারের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা

গিলগো বিচ সিরিয়াল কিলার রেক্স হিউম্যানের একটি নতুন মগশট বা পুলিশের তোলা ছবি মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তার চোখেমুখে এক স্পষ্ট, শীতল ও ক্রূর দৃষ্টি ফুটে উঠেছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করার জন্য তাকে কারাগারে পাঠানোর ঠিক এক দিন আগে এই ভয়ংকর ছবিটি প্রকাশ্যে আসে।   ৬২ বছর বয়সী হিউম্যান গত এপ্রিলে আদালতে স্বীকার করেন যে, তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে আটজন যৌনকর্মীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন এবং তাদের মৃতদেহগুলো লং আইল্যান্ডের বিভিন্ন নির্জন এলাকায় ফেলে দিয়েছেন। এই দোষ স্বীকার চুক্তির (প্লি ডিল) অংশ হিসেবে তাকে তিনটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নিশ্চিত করা হয়। বুধবার রিভারহেড কোর্টহাউসে আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই সাজা ঘোষণা করার কথা রয়েছে।   বিশালদেহী এই স্থপতির নতুন মগশটে যে ভীতিকর এবং অবজ্ঞাপূর্ণ দৃষ্টি দেখা গেছে, তা আদালতে দোষ স্বীকার করার সময় তার মুখে লেগে থাকা সেই কুটিল হাসির চেয়ে একেবারেই আলাদা। ছবিতে তার অভিব্যক্তিতে কোনো অনুশোচনার ছাপ নেই, বরং এক ধরনের ঔদ্ধত্য প্রকাশ পেয়েছে।   গিলগো বিচের এই লোমহর্ষক ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলো ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লং আইল্যান্ডের বাসিন্দাদের মনে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে রেখেছিল। দশকের পর দশক ধরে অধরা থাকা এই খুনিকে নিয়ে পুলিশও অন্ধকারে ছিল। অবশেষে ২০২৩ সালে হিউম্যানকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই দীর্ঘকালীন রহস্যের জট খুলতে শুরু করে এবং সম্প্রতি তার দোষ স্বীকার করার মধ্য দিয়ে এই ভয়ংকর অধ্যায়ের যবনিকা পাত হতে চলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইনিভাবে বাবার ‘ক্রুজ’ পদবি বাদ দিয়ে নতুন নাম গ্রহণ করেছেন সুরি। ছবি: সংগৃহীত

কোটি টাকার সম্পত্তি ও পরিচয় ছেড়ে আইনিভাবে বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন টম ক্রুজের মেয়ে সুরি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০