ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঠিক পাশেই ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের অত্যন্ত কাছে একটি ‘প্রজেক্টাইল’ বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। যদিও এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা কাঠামোগত বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে এখন বৈশ্বিক উত্তাপ তুঙ্গে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই ঘটনাকে "দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সচল পারমাণবিক চুল্লির মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের তেজস্ক্রিয় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত। মস্কো জানিয়েছে, বুশেহর কেন্দ্রে এখনও রুশ বিশেষজ্ঞরা কর্মরত আছেন এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করা হয়েছিল। জাখারোভার বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, এই হামলাকে রাশিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং একে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি মনে করছে। আইএইএ সতর্ক করে বলেছে যে, পারমাণবিক স্থাপনার এত কাছে এ ধরনের সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তার পরিপন্থী। সামান্য এদিক-সেদিক হলেই তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে পড়তে পারত, যার প্রভাব কেবল ইরানে নয়, বরং পুরো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় সৃষ্টি করত।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার একমাত্র উপায় হলো কূটনৈতিক আলোচনা। এর আগে ইরানের হুমকি ও জাহাজে হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সব ধরনের সামুদ্রিক চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। রাশিয়া আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করলে নিরাপদে জাহাজ চলাচল আবার শুরু করা সম্ভব হবে।
ভারতের পর এবার পাকিস্তানকেও কম দামে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। পাকিস্তানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত অ্যালবার্ট খোরেভ জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ দেখায়, তাহলে মস্কো দেশটিকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে প্রস্তুত। সংবাদ সম্মেলনে খোরেভ বলেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো জ্বালানি খাত। এই খাতে যে কোনো অগ্রগতি ইসলামাবাদের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি ‘জটিল ও অপ্রত্যাশিত’। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই জ্বালানি তেলের যোগান নিশ্চিত করতে সমস্যার মুখে পড়েছে। এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তা পর্যায়েও পড়েছে; পাকিস্তান ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। খোরেভ বলেন, বর্তমান উত্তেজনা কখন এবং কীভাবে শেষ হবে তা পূর্বানুমান করা কঠিন।
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি রাশিয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান। মস্কোয় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস (TASS) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি একটি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। ওই একই হামলায় তার বাবা নিহত হয়েছিলেন বলেও সেই অসমর্থিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আরও দাবি করা হয় যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় মস্কো নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি রাষ্ট্রদূত জালালি এই পুরো বিষয়টিকে গুজব হিসেবে আখ্যা দিয়ে সত্যতা নাকচ করেছেন।
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে নেওয়া হয়েছে—এমন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম। কুয়েতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জারিদার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ রুশ সামরিক বিমানে করে তাকে গোপনে মস্কোতে নেওয়া হয়। সেখানে তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই খবর আসে যে ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল ও দ্য সান আল জারিদার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্টের উদ্যোগে মস্কোর একটি বিশেষ স্থানে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি কিছু অসমর্থিত সূত্রে বলা হয়েছে, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওয়াশিংটনের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হতে পারেন। তবে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ফলে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে তাদের সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই দুই দেশ ইরানের কৌশলগত অংশীদার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সহযোগিতা চলছে। তবে সামরিক সহায়তার নির্দিষ্ট বিবরণ তিনি প্রকাশ করেননি। একই সাক্ষাৎকারে আরাঘচি অভিযোগ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, দুবাই ও রাস আল-খাইমাহর মতো জনবহুল এলাকা থেকে এসব রকেট হামলা পরিচালনা করা হয়েছে, যা তিনি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে আরাঘচির বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করে জানায়, তারা সন্ত্রাসী আগ্রাসনের মুখে আত্মরক্ষার অধিকার রাখে। একই সঙ্গে আমিরাত কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানায়। হরমুজ প্রণালি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপাতত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে এমন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে ইতোমধ্যেই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি খার্গ দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব কমিয়ে দেখান। উল্লেখ্য, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আরাঘচি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়, তাহলে পারস্য উপসাগরজুড়ে জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে। বিশেষ করে যেসব স্থাপনায় মার্কিন কোম্পানির মালিকানা বা অংশীদারত্ব রয়েছে, সেগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবের অভিযোগ—ইরানের হামলায় বেসামরিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এ বিষয়েও তিনি নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যে দাবি করেছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন—সে দাবিও আরাঘচি নাকচ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে।
রাশিয়া ও ইরানকে ঘিরে নতুন এক বিতর্ক সামনে এনেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোন ইরান ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এ সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক ফরিদ জাকারিয়ার সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ইরান যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে—এ বিষয়ে তিনি “সম্পূর্ণ নিশ্চিত”। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক কিছু হামলার ক্ষেত্রেও এই ধরনের ড্রোন ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও সব ঘটনায় ড্রোনগুলো ঠিক কোথায় তৈরি হয়েছে তা স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। শাহেদ ড্রোন মূলত ইরানেই প্রথম তৈরি হয়। তুলনামূলক কম খরচে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় এগুলো ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২২ সালের শেষ দিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের সময় এই ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, তখন থেকে রুশ বাহিনী হাজার হাজার শাহেদ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। প্রথমদিকে ইরান থেকে এসব ড্রোন সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে রাশিয়া নিজস্ব কারখানায় একই ধরনের ড্রোন তৈরি করছে বলে জানা গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য দেশও তাদের সামরিক কার্যক্রমে এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান অভিযানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা দেখা গেছে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
চলমান সংঘাতের মধ্যে রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে মানবিক সহায়তা পাঠিয়ে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে প্রায় ১৩ টন ওষুধ ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী একটি বিশেষ বিমান ইতিমধ্যে ইরানে পৌঁছেছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপ মূলত ইরানের হাসপাতালে গড়ে ওঠা সংকট মোকাবিলায় নেয়া হয়েছে। ক্রেমলিনের তরফে বলা হয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে এই জরুরি সহায়তা পাঠানো হয়েছে। রাশিয়ার জরুরি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আই-৭৬ বিমানের মাধ্যমে প্রথমে আজারবাইজানে অবতরণ করা হয় সামগ্রীগুলো। সেখান থেকে সড়কপথে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংঘাতের কারণে ইরান ও রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায়ও রাশিয়ার সমর্থন ছিল। যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হলেও আজারবাইজানের মধ্য দিয়ে চলাচলরত স্থলপথটি ইরানের জন্য এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা হিসেবে কাজ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই মানবিক সহায়তা শুধু রোগীদের জন্যই নয়, ইরানের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে একটি গুরুত্বপুর্ন বার্তা হিসেবে কাজ করছে।
ইরান ইউক্রেনকে সরাসরি আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে সংঘাত শুরু করেছে, কিয়েভ এখন সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে। তিনি বলেন, “ইসরায়েলকে ড্রোন ও বিমানবিধ্বংসী সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে ইউক্রেন কার্যত এই যুদ্ধে জড়িত। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে ইরানকে আত্মরক্ষার জন্য ইউক্রেনের যেকোনো অঞ্চলে আঘাত হানার বৈধ অধিকার রয়েছে।” আজিজি ইউক্রেন সরকারকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর ফলে পুরো দেশ ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পারস্য উপসাগরের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে কিয়েভের ভূমিকায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জেলেনস্কি দাবি করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে ড্রোন প্রতিরক্ষা ও সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে। ইউক্রেন ইতোমধ্যে নিজ দেশে তৈরি ড্রোন ইন্টারসেপ্টর ও অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট টিম ওই অঞ্চলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রস্তাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ড্রোন প্রতিরক্ষা নিয়ে আমেরিকার কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রযুক্তি বিশ্বের সেরা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভ্লাদিমির পুতিন হয়তো ইরানকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তার ধারণা অনুযায়ী পুতিন হয়তো তেহরানকে “সামান্য সহায়তা” করছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এর পেছনে রাশিয়ার একটি রাজনৈতিক যুক্তিও থাকতে পারে। ট্রাম্পের মতে, পুতিন সম্ভবত মনে করছেন যে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ইউক্রেনকে সহায়তা করছে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানকে সমর্থন দেওয়াও অনেকটা তার প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপের মতো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও ইঙ্গিত দেন, শুধু রাশিয়াই নয়—চীনের মতো বড় শক্তিগুলিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন হিসাব-নিকাশ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু বিভিন্ন দেশ বা মিত্রকে সহায়তা দিচ্ছে, তাই অন্য শক্তিগুলোও নিজেদের মিত্রদের সমর্থন দেওয়া স্বাভাবিক বলে তারা মনে করতে পারে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন গণমাধ্যমে নতুন একটি দাবি সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া নাকি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান সংক্রান্ত কিছু গোয়েন্দা তথ্য ইরানের কাছে সরবরাহ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মস্কো হয়তো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তেহরানকে দিয়েছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলো চিহ্নিত করা সহজ হয়। যদিও ট্রাম্প বিষয়টিকে তুলনামূলকভাবে সীমিত সহায়তা হিসেবে দেখছেন, তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখতে চাওয়া ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ, ২০২৬) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়, সমুদ্রে আটকা পড়া বা ট্রানজিটে থাকা রুশ তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশকে ৩০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড় (Waiver) দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা স্থিতিশীল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে এশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে দেখা গেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল দূত কিরিল দিমিত্রিভ জানিয়েছেন, এই ছাড়ের ফলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা প্রায় এক দিনের বিশ্ব চাহিদার সমান। মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের এই বাস্তবসম্মত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ প্রধান ইউরোপীয় মিত্ররা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মতে, রাশিয়ার আয়ের প্রধান উৎস তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করা হবে। তারা মনে করছে, মুদ্রাস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ তেলের দাম কমাতে গিয়ে ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন চাপের মুখে ছিল। সমালোচকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন নির্বাচন এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই রাশিয়ার সাথে এই সাময়িক সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিস্ফোরক দাবি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফক্স নিউজ রেডিওকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্ভবত ইরানকে নেপথ্যে থেকে সহায়তা করছেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রেক্ষিতে পুতিন কি ইরানের পাশে দাঁড়াচ্ছেন? জবাবে নিজের চিরাচরিত ভঙ্গিতে ট্রাম্প বলেন, "আমার মনে হয় তিনি কিছুটা সাহায্য করছেন।" তবে এই সহায়তার পেছনে তিনি সরাসরি বাইডেন প্রশাসনের ইউক্রেন নীতিকে দায়ী করেছেন। ট্রাম্পের মতে, যেহেতু আমেরিকা ইউক্রেনকে সর্বাত্মক সাহায্য করছে, তাই পুতিনও ইরানের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে একটি 'পাল্টা পদক্ষেপ' হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন যে, কেবল রাশিয়া নয়, চীনও একই ধরনের সমান্তরাল কৌশল গ্রহণ করতে পারে। ইতিপূর্বে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গতিবিধি সংক্রান্ত অতি গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। যদিও পেন্টাগনের বর্তমান প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন যে, ইরান ইস্যুতে রাশিয়া বা চীনের ভূমিকা খুব একটা বড় নয়, তবে ট্রাম্পের এই নতুন মন্তব্য সেই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।
বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অস্থিরতা এবং তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার জেরে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায়, রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়াম আমদানির ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে, তা মোকাবিলা করতেই ৩০ দিনের জন্য এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই স্বল্পমেয়াদী সিদ্ধান্তের ফলে পুতিন সরকার খুব বেশি আর্থিক সুবিধা লাভের সুযোগ পাবে না। বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী মাইকেল শ্যাঙ্কস এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরাবে না। শ্যাঙ্কসের মতে, এই ধরনের নমনীয়তা ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধে আরও অর্থ বিনিয়োগের রসদ জোগাবে। এদিকে ক্রেমলিন এই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। মস্কোর মতে, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং এতে উভয় দেশের স্বার্থই জড়িত। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, বিশেষ লাইসেন্সের মাধ্যমে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজে লোড করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্রেজারির অধীন সংস্থা অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে নতুন পরিস্থিতিতে সেই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশলের অংশ। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে তেলের দাম যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেটিও এই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে হয়। ফলে পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত মজুত থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা তাদের সদস্য দেশগুলোকে সরকারি মজুত থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত মজুত ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এদিকে বিভিন্ন সূত্র বলছে, চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইরান তাদের তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। পারস্য উপসাগরে অন্য দেশগুলোর তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেলের মূল্য আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই নেতার আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বসহকারে মতবিনিময় হয়েছে। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে ইরানকেন্দ্রিক যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, গত ৬ মার্চ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘোষণা দেয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
একসময়ের ‘শাস্তি’ এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি রক্ষার ‘ওষুধ’। ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার শরণাপন্ন হতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে রাশিয়ান তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই ভারতের জন্যই রুশ তেল কেনার পথ প্রশস্ত করল হোয়াইট হাউজ। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনার পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়ার তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করা হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রকেট গতিতে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার বিশেষ ছাড়পত্র দিয়েছে আমেরিকা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ভারতের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও সেই সময় শর্ত ছিল যে ভারত রুশ তেল কেনা কমিয়ে দেবে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের আবহে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি বর্তমানে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ান তেলের চালান অনায়াসেই কিনতে পারবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং ভারতের মাধ্যমে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখাই এখন ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়েহতে অবস্থিত রাশিয়ান হাউস পার্টনার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ইসরায়েলের বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মস্কো। রাশিয়ার আন্তর্জাতিক মানবিক সহযোগিতা সংস্থা এ ঘটনাকে উসকানিহীন আগ্রাসন বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসসোত্রুদনিচেস্টভো-এর প্রধান ইয়েভগেনি প্রিমাকভ এক বিবৃতিতে বলেন, হামলার শিকার ভবনটি ছিল সম্পূর্ণ বেসামরিক একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সেখানে কোনো ধরনের সামরিক কার্যক্রম চলছিল না। তিনি জানান, হামলার সময় কেন্দ্রটির পরিচালক আসাদ দেইয়া নিরাপদ ছিলেন এবং বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। মস্কোর দাবি, এই হামলার কোনো উসকানি ছিল না এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক স্থাপনায় হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত রাশিয়ার বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্র নাবাতিয়েহ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। রাশিয়া আরও স্মরণ করিয়ে দেয়, ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে সোভিয়েত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও ইসরায়েলি বোমা হামলায় ধ্বংস হয়েছিল। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে ইরান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, যার প্রভাব লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা কোনো গোপন বিষয় নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারত্ব বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দুই দেশের এই প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বহু বছর ধরে চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু খুঁজে পেতে রাশিয়া কোনো সহায়তা করছে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও আরাঘচি দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট সামরিক তথ্য তার কাছে না থাকলেও তেহরান ও মস্কোর সম্পর্ক এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুসংহত। এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিবিএস নিউজ দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন জাহাজ, বিমান এবং রাডার সিস্টেমের অবস্থান সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে রাশিয়া। গোয়েন্দা তথ্যের এই আদান-প্রদান মার্কিন বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য হামলা চালাতে ইরানকে সাহায্য করছে বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যদিও এই বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার গভীর রাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে এই শোক প্রকাশের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ক্রেমলিনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফোনালাপে পুতিন খামেনির মৃত্যুকে একটি "নৃশংস হত্যাকাণ্ড" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলে কঠোর নিন্দা জানান। উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন তেহরানে বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন। রুশ প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যে খামেনিকে একজন 'অসামান্য রাষ্ট্রনায়ক' হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, "রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।" খামেনির পাশাপাশি ওই হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের বিদেহী আত্মার প্রতিও সমবেদনা জানান পুতিন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুতিন স্পষ্ট জানান, সামরিক শক্তি দিয়ে কোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সংঘাত পরিহার করে কূটনৈতিক পথে ফেরার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে যাতে দ্রুত একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা যায়। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য রাশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাশিয়ার এই অবস্থান ইরানের জনগণের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থার মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যা বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দ্রুত যুদ্ধ ও সহিংসতা বন্ধ করে কূটনৈতিক আলোচনার পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ) মাসদু পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন পুতিন। ফোনালাপে তিনি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। এ সময় পেজেশকিয়ান চলমান সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে পুতিনকে অবহিত করেন। পরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় Kremlin থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানে দ্রুত সহিংসতা বন্ধ হওয়া জরুরি। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সমাধানে সামরিক শক্তি প্রয়োগ না করে রাজনৈতিক আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুতিন নিয়মিতভাবে ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানা আলোচনা চলে। তবে ওই আলোচনায় কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয় Operation Epic Fury। একই সময়ে ইসরাইলও তাদের অভিযান Operation Roaring Lion শুরু করে। এই হামলার জবাবে ইরান ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে এমনও দাবি করা হচ্ছে যে, এই সংঘাতে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া।
ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা (SSU) যৌথভাবে চালানো সফল ড্রোন হামলায় কৃষ্ণসাগরে মোতায়েন রাশিয়ার শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ‘অ্যাডমিরাল এসেন’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার ফলে জাহাজটি বর্তমানে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ‘কালিবার’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ক্ষমতা হারিয়েছে। হামলা ১ ও ২ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দরে পরিচালিত হয়। হামলায় রণতরীটির কেন্দ্রীয় কাঠামো আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ১৮ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। জাহাজের প্রধান নজরদারি রাডার ‘ফ্রেগেট-এম২এম’, বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নির্দেশক ‘জেডআর-৯০ ওরেখ’, এবং ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ‘টিকে-২৫’ অকেজো হয়েছে। এছাড়া জাহাজের আটটি কালিবার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনের ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই অভিযানে নভোরোসিস্ক বন্দরের একটি তেল টার্মিনালেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার আরও তিনটি জাহাজ—‘ভ্যালেন্টিন পিকুল’, ‘ইয়েস্ক’ এবং ‘কাসিমভ’—ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অ্যাডমিরাল এসেনের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ অকেজো হওয়া কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার নৌ-শক্তির জন্য বড় ধাক্কা। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন একের পর এক ড্রোন হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার নৌবহরকে চাপের মধ্যে রেখেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস