সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

রাশিয়া

রাশিয়ার তেল কেনায় ভারত-চীনসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে
রাশিয়ার তেল কেনায় ভারত-চীনসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে

রাশিয়া ও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানির জেরে ভারত, চীনসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়াগত ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিলটির ওপর চূড়ান্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই আলোচিত বিলটি মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২১৪-২১১ ভোটে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়। এর আগে গত মাসে মার্কিন সিনেটেও ৮৬-১১ ভোটে বিলটি বিপুল সমর্থন পেয়েছিল।   প্রস্তাবিত এই আইনে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব ‘ছায়া বহর’ বা গোপন জাহাজ নেটওয়ার্ক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিলটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবেন।   সম্ভাব্য এই শুল্কের আওতায় থাকা ১০টি দেশ হলো ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, অপরিশোধিত তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনা করছে মস্কো।   আর তাই রাশিয়ার আয়ের প্রধান এই উৎসটি বন্ধ করতে জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে বিলটির বিরোধিতা করে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা গ্রেগরি মিকস অভিযোগ করেছেন, এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে তা দ্রুতই প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, ডেনিশ হেলিকপ্টারে রুশ হা মলা
লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, ডেনিশ হেলিকপ্টারে রুশ হা মলা

ইউরোপে ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনার পারদ আরও একধাপ বেড়েছে। লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি ড্রোনকে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান। গত মঙ্গলবার লিথুয়ানিয়ার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রথমবারের মতো তাদের আকাশসীমায় কোনো ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা এটি।   দেশটির ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের প্রধান ভিলমান্টাস ভিটকাসকাস জানিয়েছেন, ড্রোনটি সম্ভবত রুশ মিত্র বেলারুশ থেকে প্রবেশ করেছিল এবং ভূপাতিত করার আগে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে লিথুয়ানিয়ার আকাশে ওড়ে। ড্রোনটিতে বিস্ফোরক ছিল এবং তা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্টাস কাউনাস। সম্প্রতি জার্মানি, ডেনমার্ক ও পোল্যান্ডসহ অন্যান্য ন্যাটো মিত্ররাও রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশ ও নাশকতার অভিযোগ করে আসছে।   এর পাশাপাশি, ডেনমার্ক অভিযোগ করেছে যে বাল্টিক সাগরে তাদের একটি সামরিক হেলিকপ্টার যখন রুটিন নজরদারি চালাচ্ছিল, তখন সেটিকে লক্ষ্য করে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে ‘ফ্লেয়ার’ বা সতর্কতামূলক গোলা ছোড়া হয়। ডেনিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।   তবে ডেনমার্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির বারবিন পাল্টা দাবি করেছেন যে ডেনিশ হেলিকপ্টারটি রুশ যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক আচরণ করছিল। এই দুই ঘটনা প্রসঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার বৃহত্তর আগ্রাসন ও উসকানিরই অংশ।   এদিকে, ইউক্রেনেও রুশ ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মস্কো তাদের জ্বালানি ও লজিস্টিক খাতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এর জবাবে কিয়েভও পশ্চিম রাশিয়ার সিজরান শহরের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে।   ক্রেমলিন ট্রাম্পের জ্বালানি অবকাঠামোতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘ভালো ধারণা’ বলে উল্লেখ করলেও জানিয়েছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণেই বিশ্বজুড়ে গ্যাস ও ডিজেলের সরবরাহে প্রভাব পড়ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়া সীমান্তে ন্যাটোর ঘাঁটিতে সেনা পাঠাচ্ছে জার্মানি
রাশিয়া সীমান্তে ন্যাটোর ঘাঁটিতে সেনা পাঠাচ্ছে জার্মানি, বাড়ছে ৩য় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা!

রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা জোরদার করতে লিথুয়ানিয়ায় জার্মান সেনা মোতায়েন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াসের নির্দেশে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম দফায় কয়েক শ সেনাকে বাধ্যতামূলকভাবে এই দায়িত্বে পাঠানো হতে পারে। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।   লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির প্যানজারব্রিগেড ৪৫ ‘লিটাউয়েন’ গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিগেডটির প্রয়োজনীয় পদগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে স্বেচ্ছাসেবী সেনাদের মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এখনও জনবলের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও লজিস্টিকস কর্মীর মতো দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে।   এই ঘাটতি পূরণে আগে স্বেচ্ছাসেবার ওপর জোর দেওয়া হলেও এখন প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্রিগেডটির প্রায় ২০ শতাংশ পদ এমন বাধ্যতামূলক নিয়োগের আওতায় পড়তে পারে। তবে জার্মান সেনাবাহিনী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে।   লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির এই সামরিক উপস্থিতি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জার্মানি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ লিথুয়ানিয়ায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ সেনা এবং প্রায় ২০০ বেসামরিক কর্মী নিয়ে একটি স্থায়ী সামরিক ব্রিগেড গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। পুরো ব্রিগেডের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের পর ন্যাটো পূর্বাঞ্চলীয় সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া ও পোল্যান্ডকে ঘিরে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির নেতৃত্বে ন্যাটোর বহুজাতিক সামরিক উপস্থিতি ২০১৭ সাল থেকেই রয়েছে। ২০২৩ সালের ন্যাটো ভিলনিয়াস সম্মেলনের পর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জার্মানি সেখানে পূর্ণাঙ্গ একটি ব্রিগেড মোতায়েনের উদ্যোগ নেয়।   ন্যাটো জানিয়েছে, জার্মান ব্রিগেডটি লিথুয়ানিয়ায় ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এতে ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, আর্টিলারি ও এয়ার ডিফেন্স সক্ষমতা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে ব্রিগেডটি লিথুয়ানিয়ায় বড় পরিসরের সামরিক মহড়াতেও অংশ নেয়।   সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত রোববার লিথুয়ানিয়ার আকাশে সন্দেহজনক ড্রোন দেখা যাওয়ার পর ভিলনিয়াস বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল। পরে সেটি ড্রোন নয়, পাখির ঝাঁক বলে নিশ্চিত করা হয়। এর কয়েক দিন আগে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনাও ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করে।   জার্মান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিথুয়ানিয়ায় পূর্ণাঙ্গ জার্মান ব্রিগেড ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণভাবে কার্যক্ষম হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে রাশিয়ার কাছাকাছি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে জার্মানির স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি আরও বড় আকার নেবে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা
সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা! মৃত্যুর আগে করা হয় মাথা ন্যাড়া

রাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলে তিন সন্তানের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীকে তাঁর বাবা হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জুখরা মুজায়েভা নামের ওই নারীকে স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তাঁর মাথা ন্যাড়া করে নিজেই নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘটনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।    চেচনিয়ার কুরচালয় গ্রামে বসবাসকারী জুখরা এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, তাঁর বাবা সামরাদি মুজায়েভ মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, জুখরা জীবিত ও সুস্থ আছেন। পরে জানান, তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তবে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।    স্বাধীনভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন তিনটি সূত্র দাবি করেছে, জুখরাকে তাঁর বাবা হত্যা করে থাকতে পারেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁর মাথা ন্যাড়া করা হয়, এরপর তাঁকে নিজের কবর নিজেকেই খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করা হয়। স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই কথিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।    জুখরার স্বামী ইয়াকুব মাগোমাদভ ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে অংশ নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জুখরার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল কিশোরী বয়সে। ১৭ বছর বয়সে তিনি যমজ সন্তানের মা হন। পরে তাঁদের আরও একটি কন্যাসন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রসাধনী বিক্রির ছোট ব্যবসাও পরিচালনা করতেন তিনি।    ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘অনার কিলিং’ বা কথিত সম্মান রক্ষার নামে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, জুখরাকে হত্যার পেছনে পরিবারের ‘সম্মান’ রক্ষার ধারণা কাজ করে থাকতে পারে। এ ঘটনায় চেচনিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।    তবে জুখরা সত্যিই নিহত হয়েছেন কি না, সেটিও এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ককেশাস নটসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও হত্যার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
নতুন নিয়মে কাজ শেষে বিদেশি শ্রমিকদের আর রাশিয়ায় থাকার সুযোগ থাকবে না, তাদের সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। ছবি: সংগৃহীত
কাজে এসে কাজ শেষেই ফিরতে হবে দেশে, রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য আসছে নতুন নিয়ম

শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের নিয়ে নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কাজের জন্য রাশিয়ায় আনা হবে এবং কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।.   রাশিয়ার প্রথম উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিবাসনবিষয়ক বিভাগের প্রধান আন্দ্রেই কিকোত বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পুতিন প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটিকে ‘সভ্য পদ্ধতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে নিউজউইকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো রুশ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় অভিবাসন পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এরপর বিশেষায়িত একটি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শ্রমিক খুঁজে দেবে। কর্মীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে রাশিয়ায় নিয়ে আসা হবে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।   কর্মীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনের ব্যবস্থা করবে নিয়োগকর্তা। কর্মস্থলে যাতায়াতের ব্যবস্থাও থাকবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কর্মীকে আবার রাশিয়ার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।   কিকোত এই ব্যবস্থাকে ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিকল্পনাটি আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে চালু করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো রুশ পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়নি।   রাশিয়ায় বর্তমানে শ্রমিকের ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বেকারত্বের হার মে মাসে ঐতিহাসিকভাবে কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছিল। বর্তমানে তা প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী মাকসিম রেশেতনিকভ চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়াকে ‘শ্রমিক ঘাটতির অর্থনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।   এই সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক রুশ নাগরিক সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন জুনে জানিয়েছিলেন, ৭ লাখের বেশি রুশ সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ২ লাখ মানুষ সামরিক বাহিনীতে চুক্তিভিত্তিকভাবে যোগ দিয়েছেন।   একই সময়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণও বেসামরিক খাত থেকে কর্মী টেনে নিচ্ছে। ফলে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন। রাশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দ্রুত কমে যাচ্ছে। ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা চলতি দশকের শেষ নাগাদ প্রায় ৬৩ লাখ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকোভা জানিয়েছেন, ২০৩২ সালের মধ্যে অবসর নেওয়া প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ কর্মীর জায়গা পূরণ করতে হবে।   এই পরিস্থিতিতে বিদেশি শ্রমিক আনা রাশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে। তবে অভিবাসন নীতিতে মস্কোর সাম্প্রতিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে কঠোর।   পুতিনের একটি ডিক্রিতে রাশিয়ার জনসংখ্যা ও শ্রমবাজার বৃদ্ধির প্রধান উৎস হিসেবে দেশের নিজস্ব জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে অভিবাসন নিয়ে ২২টি পৃথক আইন পাস করা হয়েছে।   কিকোত পুতিনকে জানিয়েছেন, গত ১৮ মাসে প্রায় ১ লাখ বিদেশিকে রাশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজারকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে।   নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মী নিতে চায়, অন্যদিকে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনে উৎসাহিত করতে চায় না। ফলে বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট চাকরি ও চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রেখে কাজ শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও এ ব্যবস্থার কিছু মিল রয়েছে। দেশটিতে নির্দিষ্ট খাতের জন্য এইচ-২ ভিসায় বিদেশি অস্থায়ী কর্মীরা কাজ করতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য মার্কিন সরকার অতিরিক্ত ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি অস্থায়ী কর্মী ভিসার অনুমতি দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে কর্মী সংকটের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।   তবে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান হারানো বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি কর্মীর জন্য তুলনামূলক বেশি সুযোগ রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ভিসায় থাকা কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সাধারণত ৬০ দিন পর্যন্ত নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পেতেন।   তবে যুক্তরাষ্ট্রেও সম্প্রতি এ বিষয়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের এই সময়সীমা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরির ভিত্তি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। তবে এইচ-২ ভিসার কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুরক্ষা বহাল রাখার কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।   রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ইতিমধ্যে আরও কিছু কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর করের বোঝা বাড়ানোর একটি আইন পুতিন জুলাইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। রাশিয়ায় থাকা নির্ভরশীল প্রতিটি সন্তানের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মাসিক করের পরিমাণ আরও ৫০ শতাংশ বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে।   এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের সন্তানদের রুশ স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও গত বছর থেকে কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে। রুশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এসব নিয়ম চালুর পর কর্মহীন অভিবাসীদের সংখ্যা কমেছে।   তবে নতুন প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ধরন আরও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। কর্মীদের নিজস্বভাবে চাকরি খোঁজা বা এক নিয়োগকর্তা থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও রাশিয়া একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন কমিয়ে রাখতে চাইছে। প্রস্তাবিত ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল সেই দুই নীতির মধ্যে সমন্বয় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
হারানো বৈশ্বিক নেতৃত্ব ফিরে পেতে মরিয়া পশ্চিমারা, লক্ষ্য পূরণে কোনো কিছুই বাদ দিচ্ছে না: পুতিন
হারানো বৈশ্বিক নেতৃত্ব ফিরে পেতে মরিয়া পশ্চিমারা, লক্ষ্য পূরণে কোনো কিছুই বাদ দিচ্ছে না: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেছেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো যেকোনো উপায়ে—এমনকি অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে হলেও নিজেদের হারানো বৈশ্বিক নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিকস বিজনেস ফোরামে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই দাবি করেন।   পুতিনের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বর্তমানে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন চলছে এবং পুরনো নেতৃত্বের জায়গা দখল করে নিচ্ছে নতুন নতুন প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রগুলো। আর এই পরিবর্তনের মাঝেই পশ্চিমা প্রতিদ্বন্দ্বীরা মরিয়া হয়ে নিজেদের আধিপত্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।   পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, নিজেদের স্বার্থ হাসিলে তারা এখন শিল্প ও সরবরাহ অবকাঠামোয় সরাসরি আঘাত, পাইপলাইন ধ্বংস, আন্তর্জাতিক পরিবহন করিডর আটকে দেওয়া, সমুদ্রগামী জাহাজ জব্দ এবং অন্য দেশগুলোর ওপর ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’র হুমকির মতো ধ্বংসাত্মক পন্থা ব্যবহার করছে।   অন্যদিকে, ব্রিকসের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪০ শতাংশের বেশি এসেছে ব্রিকস দেশগুলো থেকে, যেখানে একই সময়ে জি৭-এর অবদান ছিল মাত্র ২৯ শতাংশ।   বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা অধ্যুষিত ব্রিকস দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা বিশ্বের আরোপিত ৩০ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে পুতিন বলেন, এটি বিশ্বের অন্য সব দেশের ওপর আরোপিত মোট নিষেধাজ্ঞার প্রায় দ্বিগুণ। তবে এসব বাধা সত্ত্বেও মস্কো নিজেদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব আরও সুসংহত করেছে এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য ও সহযোগিতা বাড়িয়েছে।   গত তিন বছরে রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির জিডিপি ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রুশ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী, স্থিতিস্থাপক ও গতিশীল করেছে। ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যকার এই নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়িক সম্পর্ক আগামী দিনে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল ও যেকোনো সংকট মোকাবেলায় সক্ষম করে তুলবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ৫০ ফুট সোভিয়েত যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে জাপানের ক্ষোভ

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে নির্মিত একটি ৫০ ফুট উচ্চতার স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গ্রানাইটের তৈরি ওই স্মৃতিস্তম্ভে দেখা যায়, এক সোভিয়েত সেনা তার রাইফেলের বাট দিয়ে একটি সীমান্তচিহ্ন ভেঙে ফেলছেন। ওই সীমান্তচিহ্নে জাপানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ক্রিস্যান্থেমাম বা সম্রাটের প্রতীক খোদাই করা রয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খাবারভস্কে স্মৃতিস্তম্ভটি উন্মোচন করা হয়। এতে যে সীমান্তচিহ্ন দেখানো হয়েছে, সেটি প্রশান্ত মহাসাগরের সাখালিন দ্বীপে একসময় ব্যবহৃত সীমান্তচিহ্নের আদলে তৈরি। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বীপটির দক্ষিণ অংশ দখল করে নেয়। এর মধ্য দিয়ে পুরো সাখালিন সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। রাশিয়া স্মৃতিস্তম্ভটিকে ১৯৪৫ সালে জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে দেখছে। তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্মৃতিস্তম্ভটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, জাপানের ক্রিস্যান্থেমাম প্রতীক ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরে এমন কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, টোকিও কূটনৈতিক চ্যানেলে রাশিয়ার কাছে স্মৃতিস্তম্ভটি সরানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা চাপ অব্যাহত রাখবে। রাশিয়া অবশ্য জাপানের আপত্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সামরিকবাদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়ের বিষয়টি মস্কো ভুলে যায়নি। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভাও জাপানকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাপানের উচিত এ নিয়ে ‘চিরকাল অনুতপ্ত থাকা’। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন স্মৃতিস্তম্ভটি রাশিয়া ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতির আরেকটি প্রতীক। ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের অধ্যাপক পল রিচার্ডসন বলেন, স্মৃতিস্তম্ভটির নকশায় ‘আক্রমণাত্মক ও বিজয়োল্লাসের’ আবহ রয়েছে। টেম্পল ইউনিভার্সিটি জাপানের অধ্যাপক জেমস ব্রাউন মনে করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়কে গুরুত্ব দিয়ে স্মরণ করার ক্ষেত্রে মস্কোর সাম্প্রতিক পরিবর্তনের সঙ্গে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতার সম্পর্ক রয়েছে। এদিকে রাশিয়া-জাপান সম্পর্কে ইউক্রেন যুদ্ধও বড় প্রভাব ফেলেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর টোকিও মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। গত আগস্টে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেন। জাপান এসব দ্বীপকে ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ’ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং পুতিনের সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাবে জাপান ইউক্রেনকে আরও জোরালো সমর্থন দিতে পারে। দেশটির কিছু রক্ষণশীল মহল ইতোমধ্যে কিয়েভকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যের বিষয়টিও জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে জাপানের আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ৯ শতাংশ এসেছিল রাশিয়া থেকে। ফলে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হলেও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।  

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিকস সম্মেলনের আগে মোদি-পুতিন বৈঠক, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় জোর

ভারতের নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শিল্প, জ্বালানি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকের শুরুতে দুই নেতা করমর্দন ও আলিঙ্গন করেন। বৈঠকে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি শিল্প সহযোগিতা, রেল ও টানেল নির্মাণ, ইস্পাত খাত, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সার এবং রাশিয়ায় দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। বৈঠকের আগে মোদি পুতিনকে প্রাচীন তামিল সাহিত্যকর্ম ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ ভাষার অনুবাদ উপহার দেন। কবি ও দার্শনিক তিরুভাল্লুভারের লেখা এই গ্রন্থে নৈতিকতা, শাসন, সম্পদ, ভালোবাসা ও মানবিক আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ১ হাজার ৩৩০টি দ্বিপদী রয়েছে। এদিকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নাইজেরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমাও ভারতে পৌঁছেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়েরও সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। মোদির সঙ্গে শির পৃথক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ার সংকট, হরমুজ প্রণালির অবরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্কনীতির মতো বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও সম্মেলনের আলোচনায় প্রভাব ফেলবে। রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাংক এসবারব্যাংকও ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা (CBDC) ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। ব্যাংকটির প্রধান জার্মান গ্রেফের মতে, ডিজিটাল মুদ্রাভিত্তিক বাণিজ্য নিষ্পত্তি আরও কার্যকর হতে পারে।  

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়ায় ইলেকট্রনিক শ্রমিকের কাজের আশায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত নান্দাইলের আল মামুন
ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে, যুদ্ধে প্রাণ হারালেন মামুন

ময়মনসিংহের নান্দাইলের আল মামুন রাশিয়ায় ইলেকট্রনিক শ্রমিকের কাজের আশায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। ৮ সেপ্টেম্বর সকালে রাশিয়ায় থাকা এক সহকর্মীর ফোনে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর পান। পরিবারের দাবি, চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় নেওয়ার পর মামুনকে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল। আল মামুন নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ২৪ থেকে ৩০ বছর বলা হয়েছে। তিনি দেশে ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লাম্বিংয়ের কাজ করতেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও পাঁচ মাস বয়সী এক মেয়েকে রেখে চলতি বছরের ৭ মে রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি।  পরিবারের ভাষ্য, ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক শ্রমিক হিসেবে কাজের জন্য মামুন রাশিয়ায় যান। এ জন্য তাঁর পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এই টাকা জোগাড় করতে ব্যাংকঋণের পাশাপাশি চড়া সুদে ধার করতে হয়েছিল পরিবারকে।  পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় যাওয়ার পর মামুন ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও প্রায় ৩০ বাংলাদেশিকে কাজ না দিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁদের সামরিক পোশাক পরিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।  পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলো জানিয়েছে, রাশিয়ায় যাওয়ার পর মামুনদের কাছ থেকে রুশ ভাষায় একটি চুক্তিতে সই নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনেরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল, বাংলাদেশিদের যুদ্ধে পাঠানো হবে না। পরে পরিবারটি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে।  সহকর্মীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় মামুনের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী আহত হয়েছেন বলে পরিবারের কাছে খবর এসেছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, মামুনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তাঁর ছবি বা ভিডিও এখনো পরিবারের হাতে আসেনি।  মামুনের মৃত্যুর খবরে স্ত্রী মহিমা আক্তার ও মা রোকেয়া আক্তার ভেঙে পড়েছেন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি। স্বজনদের প্রধান দাবি, মামুনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দাফনের ব্যবস্থা করা এবং তাঁকে রাশিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত জানিয়েছেন, মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবার মৌখিকভাবে জানিয়েছে। পরিবারকে লিখিত আবেদন দিতে বলা হয়েছে। আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের প্রবাসী কল্যাণ শাখার মাধ্যমে বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ বৈধতা দিচ্ছে ইউক্রেন
যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ বৈধতা দিচ্ছে ইউক্রেন

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে বাড়তি রাজস্বের উৎস তৈরি করতে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট শিল্পকে বৈধ ও করের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির পার্লামেন্টে উত্থাপিত একটি বিল প্রথম দফার অনুমোদন পেয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে এই খাত থেকে বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার কর আদায় হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক।    প্রস্তাবটির লক্ষ্য শুধু কর আদায় নয়, বর্তমানে আইনি জটিলতার মধ্যে থাকা অনলাইন প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট শিল্পকে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় আনা। ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণ এখনো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় ঘোষণা এবং কর দেওয়ার ক্ষেত্রেও এক ধরনের আইনি দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।    আইনপ্রণেতাদের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইউক্রেনের প্রায় ৭ হাজার ৯০০ জন নাগরিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ওনলিফ্যানসের মাধ্যমে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেন। এই বিপুল আয়ের ওপর কর আদায়ের সুযোগ থাকলেও বর্তমান আইনের কারণে সংশ্লিষ্টরা একই সঙ্গে কর দেওয়ার এবং ফৌজদারি আইনের আওতায় পড়ার ঝুঁকিতে থাকেন।   ঝেলেজনিয়াকের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার অতিরিক্ত কর রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে। তার দাবি, এই অর্থ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোনের অর্থায়ন করা সম্ভব। তবে এটি আইনপ্রণেতার হিসাব, কোনো নিশ্চিত সরকারি বরাদ্দ বা ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নয়।    প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের সরকারি অর্থের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রয়োজন বছরে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই তুলনায় প্রস্তাবিত ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার খুব বড় অঙ্ক না হলেও সরকার অতিরিক্ত রাজস্বের প্রতিটি সম্ভাব্য উৎস খুঁজছে।    এদিকে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান ও আইনি হয়রানির অভিযোগও সামনে এসেছে। কিছু নির্মাতা দাবি করেছেন, তারা আয়কর দেওয়ার পরও এমন কর্মকাণ্ডের জন্য আইনি ঝুঁকিতে পড়ছেন, যা বর্তমান আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এই পরিস্থিতিতে কয়েকজন নির্মাতা ইউক্রেনের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    বিতর্কটি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছেও পৌঁছেছে। একটি গণস্বাক্ষরিত আবেদনের পর জেলেনস্কি বিষয়টি পার্লামেন্টে বিবেচনার কথা জানিয়েছেন। তবে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট বৈধ করার প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত আইন নয় এবং এটি পার্লামেন্টের পরবর্তী ধাপের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।    প্রস্তাবটি পাস হলে ইউক্রেনের জন্য এটি একই সঙ্গে করনীতি, অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধকালীন অর্থনীতির একটি বিতর্কিত পরিবর্তন হবে। সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা বলছেন, বৈধ কাঠামো তৈরি হলে কর আদায় বাড়বে এবং বর্তমানে চলমান আইনি অস্পষ্টতাও কমবে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাব দেবে রাশিয়া
ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাব দেবে রাশিয়া

ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতে তেহরানকে পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ১০ দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক জোট সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলন শেষে তিনি এ কথা জানান।   পশ্চিমাদের 'ক্ষুধার্ত হাঙর' আখ্যা দিয়ে পুতিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কেউ যদি তাদের গিলে খেতে বা গ্রাস করতে চায়, তবে রাশিয়া তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।   ইউক্রেন সংকট সমাধানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পুতিন। সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের বিরল মস্কো সফরের পরপরই রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, ট্রাম্পের আস্থাভাজন এই দুই দূতের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।   তবে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা নিয়ে ভলোদিমির জেলেনস্কির বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে পুতিন স্পষ্ট করেছেন যে, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। উল্টো ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে আরও ব্যাপক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি, যা দেশটির অর্থনীতি ও কৃষিপণ্য রপ্তানিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া রাশিয়ায় নতুন করে সেনা নিয়োগের গুঞ্জনকে তিনি ‘আজেবাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।   অন্যদিকে, এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে হওয়া এক বৈঠকে তেহরানের প্রতি মস্কোর জোরালো সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন পুতিন। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই রাশিয়া দেশটিকে সমর্থন দিয়ে আসছে।   পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি ড্রোন তৈরির যন্ত্রাংশও পাঠিয়েছে মস্কো। ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির জনগণের সাহস ও দৃঢ়তার প্রশংসা করে পুতিন আশ্বাস দেন যে, এই কঠিন সময়ে তেহরানের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া কাজ করে যাবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানিতে সরাসরি হামলার হুমকি রাশিয়ার, যুক্তরাজ্যকেও সতর্ক করলেন পুতিন

ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। জার্মানির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন স্থাপনায় সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় রাশিয়া হামলা চালাতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বিষয়টি ‘সামরিক গোপনীয়তা’।   জার্মানি গত মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে, গত মাসে লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন হামলার চেষ্টার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশি তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য এবং হামলার ধরন বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।   এর পরই মেদভেদেভ জার্মানির বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জার্মানির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলো সরাসরি হামলার লক্ষ্য হতে পারে। বার্লিনের আরও কিছু স্থাপনাকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   গত ৪ আগস্ট লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এলাকায় একটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন পাওয়া যায়। জার্মান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইউক্রেনের একটি কার্গো বিমানের কাছে ছিল এবং এতে বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর ছিল। পরে ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। জার্মান সরকার ঘটনাটিকে রাশিয়ার বৃহত্তর ‘হাইব্রিড অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে দেখছে।   অভিযোগের পর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জার্মানি। পাশাপাশি বন শহরে রাশিয়ার কনস্যুলেট বন্ধ এবং বার্লিনে রাশিয়ান হাউসের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রুশ নাগরিকদের প্রবেশে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।   তবে মস্কো জার্মানির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন, বার্লিনের অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। পুতিনও জার্মানির পদক্ষেপকে গুরুতর ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   এদিকে যুক্তরাজ্যকে নিয়েও রাশিয়ার হুঁশিয়ারি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি দীর্ঘপাল্লার স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে আরও সক্ষম করে তুলতে ব্রিটেনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর মস্কো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে।   কিরগিজস্তানে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিনকে প্রশ্ন করা হয়, রাশিয়া ব্রিটিশ ভূখণ্ডে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা বিবেচনা করছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, এটি ‘সামরিক গোপনীয়তা’। এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সতর্ক করে জানিয়েছিল, ইউক্রেনকে ব্রিটিশ অস্ত্র সরবরাহের কারণে যুক্তরাজ্য রাশিয়ার হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।   সব মিলিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জার্মানির পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে ইউরোপে রাশিয়ার কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞা জোরদারের আলোচনা চলছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার পর রানওয়েতে রোবটসহ তদন্ত ও নিষ্ক্রিয়করণ কাজে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত
লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি জার্মানির

জার্মানি লিপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও দেশটি কাজ করছে বলে জার্মান সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ভেল্ট আম সনটাগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানি সরাসরি রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এসব পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তুত করা নতুন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনায় জার্মানি সরাসরি রাশিয়ার সরকারকে দায়ী করবে, নাকি রুশ কোনো ব্যক্তিকে বা অপারেটিভকে দায়ী করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তদন্তের ফলাফল পর্যালোচনার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় নির্ধারণ করা হবে।   ভেল্ট আম সনটাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানি এর আগে রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার বা বার্লিনে রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধের মতো যেসব পদক্ষেপ বিবেচনা করেছিল, নতুন পরিকল্পনা তার চেয়ে কঠোর হতে পারে। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে আরও নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনকে অতিরিক্ত অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ও থাকতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ গত সপ্তাহে লিপজিগের ঘটনার পেছনে যারা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে তিনি সরাসরি রাশিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। মের্জ বলেছিলেন, জার্মান সরকার বিভিন্ন ধরনের গোপন হামলার জন্য দায়ীদের মূল্য দিতে বাধ্য করবে এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে এবং শিগগিরই সরকার এর ফলাফল প্রকাশ করবে।   এদিকে জার্মান সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে লিপজিগ বিমানবন্দরের ড্রোন হামলার চেষ্টাকে প্রথম দিকের ধারণার চেয়ে বেশি গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের একটি আন্তোনভ কার্গো বিমানে হামলার চেষ্টায় ব্যবহৃত ড্রোনে বিস্ফোরক সংযুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনডিআর ও ডব্লিউডিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে একটি নয়, একাধিক ড্রোন জড়িত থাকার ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।   লিপজিগের ঘটনার পাশাপাশি বার্লিনের কাছে একটি অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনাও জার্মান সরকারের অবস্থান আরও কঠোর করেছে বলে ভেল্ট আম সনটাগ জানিয়েছে। চলতি মাসে দেশটির কর্তৃপক্ষ রাজধানীর কাছের একটি জঙ্গলে মাটির নিচে পেশাদারভাবে তৈরি একটি গোপন স্থাপনা থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটররা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এমন গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে বিষয়টি তদন্ত করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ধারণা করছে, এসব অস্ত্র রুশ গুপ্তচরদের জন্য মজুত করা হয়েছিল এবং মস্কোর নির্দেশে তাদের দিয়ে হত্যাকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা থাকতে পারে।   লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগ নিয়ে বার্লিনের অবস্থান কঠোর হলেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোতে হত্যাকাণ্ড, নাশকতা ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রুশবিরোধী আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ করেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা রাশিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা রাশিয়ার

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রধান জন র‍্যাটক্লিফের মস্কো সফরের কয়েক দিনের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ৬ হাজার ৭০০ কিলোমিটারের বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম।   শুক্রবার রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আরখানগেলস্ক অঞ্চল থেকে মোবাইল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে দেশটির সুদূর পূর্বাঞ্চলের কামচাটকা অঞ্চলের কুরা পরীক্ষাকেন্দ্রে।   রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী একটি মোবাইল আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চারকে দূরবর্তী এলাকায় সরিয়ে নেওয়া, উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি এবং সফল উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়া অনুশীলন করে।   রাশিয়ার এই পরীক্ষা এমন সময়ে হলো, যখন গত ২৫ আগস্ট সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ গোপনে মস্কো সফর করেন। সেখানে তিনি রুশ গোয়েন্দাপ্রধান সের্গেই নারিশকিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়া সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার পরিণতি নিয়ে মস্কোকে সতর্ক করাই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।   তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, র‍্যাটক্লিফের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কোনো বৈঠক হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সফরটিকে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি দূরপাল্লার ড্রোন হামলার বদলে তা প্রতিদিন ১ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   রাশিয়ার জ্বালানি খাতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার প্রভাব পড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক তেল শোধনাগারে হামলার পর আগস্টের শেষ দিকে রাশিয়ার পেট্রোল উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে।   এদিকে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনী ওজোনের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে বলে কিয়েভভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা পরিদর্শনের জন্য ওই কেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।   অন্যদিকে, রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং ইউক্রেনের পাল্টা দূরপাল্লার হামলা—দুই পক্ষের সামরিক তৎপরতাই যে আরও তীব্র হচ্ছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে তারই ইঙ্গিত মিলছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের বিশাল গুদাম আগুনে পুড়ে ধ্বংস
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের বিশাল গুদাম আগুনে পুড়ে ধ্বংস

রাশিয়ার তামবভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর দেশটির অন্যতম বড় অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম ওয়াইল্ডবেরিজের একটি বিশাল লজিস্টিকস সেন্টারে আগুন ধরে পুরো স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বুধবার ২৬ আগস্ট রাতে ওই হামলায় একজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   তামবভের গভর্নর ইয়েভগেনি পারভিশভ জানান, কতোভস্ক শহরের লজিস্টিকস সেন্টারটিতে ড্রোন হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আগুন প্রায় ১ লাখ বর্গমিটার এলাকায় ছড়িয়ে যায়, যা প্রায় ১৪টি ফুটবল মাঠের সমান। পরে তিনি জানান, আগুনে লজিস্টিকস সেন্টারটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।   হামলার সময় গুদামে থাকা কর্মীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। বিস্ফোরণের ধাক্কায় একজন কর্মী আহত হয়ে কনকাশনে আক্রান্ত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ওয়াইল্ডবেরিজও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ওই স্থাপনায় নতুন পণ্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।   তামবভ কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোন হামলার দায় ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।   ওয়াইল্ডবেরিজের এই গুদামটি এর আগেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয়েছিল। গত ১৮ জুলাই একই কতোভস্ক স্থাপনায় হামলায় সাতজন নিহত ও ২৫ জন আহত হন। এরপর জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক গুদাম ও লজিস্টিকস স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার আরেক বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওজনের লজিস্টিকস সেন্টারগুলোকেও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বাজারে ওয়াইল্ডবেরিজ ও ওজন দুই প্রতিষ্ঠানই বড় অংশ দখল করে আছে। যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি যখন ধীরগতির প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে, তখন বাণিজ্যিক ও লজিস্টিকস অবকাঠামোয় এ ধরনের হামলা অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকদের মতে।   এদিকে তামবভের পাশের লিপেতস্ক অঞ্চলে ড্রোন হামলার পর একটি বাড়িতে আগুন লেগে এক ব্যক্তি ও ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বেলগোরোদ অঞ্চলেও ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।   রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই বারবার দাবি করে আসছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাদের মনোবল বাড়াতে পুতিনের ভরসা ৬০০ বছরের পুরোনো সেনাপতির দে হাবশেষ
ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাদের মনোবল বাড়াতে পুতিনের ভরসা ৬০০ বছরের পুরোনো সেনাপতির দে হাবশেষ

ইউক্রেন যুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না পেয়ে এবার সেনাদের হারানো মনোবল চাঙা করতে মধ্যযুগীয় ইতিহাস ও ধর্মীয় আবেগের দ্বারস্থ হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চতুর্দশ শতকের বিখ্যাত রুশ সামরিক নেতা গ্র্যান্ড প্রিন্স দিমিত্রি দনস্কয়ের সদ্য আবিষ্কৃত দেহাবশেষ বা হাড়গোড় ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের কাছে পাঠানোর এক ব্যতিক্রমী পরিকল্পনায় আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি বিস্টের এক প্রতিবেদনে পুতিনের এই অভিনব যুদ্ধ-কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়েছে।   সম্প্রতি মস্কোর ঐতিহাসিক আর্কেঞ্জেল ক্যাথেড্রালের সংস্কারকাজ চলার সময় দিমিত্রি দনস্কয়ের এই দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয় বলে জানায় রুশ অর্থোডক্স চার্চ। তাদের দাবি, ১৩৮৯ সালে মারা যাওয়া এই বীরের দেহাবশেষ প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে; কেবল বাম পায়ের গোড়ালির একটি হাড় ছাড়া।   এই আবিষ্কারের পরপরই গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ক্যাথেড্রালটি পরিদর্শনে যান ৭৩ বছর বয়সী পুতিন। ক্রেমলিনের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি মোমবাতি হাতে প্রার্থনাসভায় অংশ নিচ্ছেন এবং রুশ সেনাবাহিনীর বিজয় ও জাতির জন্য আশীর্বাদ কামনা করছেন। প্রার্থনা শেষে তিনি কাপড়ে ঢাকা ওই দেহাবশেষ রাখা দুটি খোলা সমাধিও ঘুরে দেখেন।   রুশ ইতিহাসে দিমিত্রি দনস্কয় এক কিংবদন্তি সামরিক বীর, যিনি ১৩৮০ সালের কুলিকোভোর যুদ্ধে দুর্ধর্ষ মঙ্গোল বাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন। রুশ অর্থোডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল এই বীরের দেহাবশেষের কিছু অংশ ইউক্রেন ফ্রন্টে লড়াইরত সেনাদের কাছে পাঠানোর প্রস্তাব দিলে পুতিন তাতে সম্মতি দেন।   যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে এমন এক কিংবদন্তি বীরের দেহাবশেষ আবিষ্কারের ঘটনাকে ‘বিস্ময়কর’ ও ‘অলৌকিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে রাশিয়াকে বিপুল সামরিক সরঞ্জাম হারাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট।   দেশ ও দেশের বাইরে যখন পুতিনের ওপর চাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই মধ্যযুগীয় এক বীরের স্মৃতি ও ধর্মীয় প্রতীককে সামনে এনে রুশ বাহিনীর মনোবল পুনরুদ্ধারের এই আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে ক্রেমলিন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিযোগে টেলর সুইফটের সাবেক প্রেমিক কনর কেনেডিকে ওয়ান্টেড তালিকায় তুলেছে রাশিয়া। ছবি: সংগৃহীত
টেলর সুইফটের সাবেক প্রেমিক কনর কেনেডি আন্তর্জাতিক মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়!

টেলর সুইফটের সাবেক প্রেমিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের ছেলে কনর কেনেডিকে আন্তর্জাতিক মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তুলেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী এই মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে রাশিয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।   রাশিয়ার অভিযোগ, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় কনর ইউক্রেনের ইন্টারন্যাশনাল লিজিয়নে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে রুশ ফৌজদারি আইনের ৩৫৩ ধারার তৃতীয় অংশে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে সশস্ত্র সংঘাতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সাত থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।    তবে কনর নিজেই ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনে যাওয়ার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনের পরিস্থিতি দেখে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং দেশটির হয়ে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ইউক্রেনের দূতাবাসে গিয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিয়নে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন।   কনরের দাবি অনুযায়ী, তিনি নিজের পরিবার ও বন্ধুদের বিষয়টি জানাননি। এমনকি ইউক্রেনে যাওয়ার সময় বাবাকেও জানাননি যে তিনি কোথায় যাচ্ছেন। তার বাবা রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র পরে জানিয়েছিলেন, ছেলে তাকে শুধু জানিয়েছিল যে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আইন প্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছে।   ইউক্রেনে কনরের প্রথম দায়িত্ব ছিল ড্রোন পরিচালনা করা। পরে তিনি মেশিনগান অপারেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন বলে তার বাবা জানিয়েছেন। কনর প্রায় আড়াই মাস ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ফ্রন্টে ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    যুদ্ধে যাওয়ার আগে কনরের কোনো সামরিক অভিজ্ঞতা ছিল না। নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি জানিয়েছিলেন, সময়টা ভয়ংকর হলেও সৈনিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি অর্থবহ ছিল।   কনর কেনেডি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কেনেডি পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত। তবে ২০১২ সালে পপ তারকা টেলর সুইফটের সঙ্গে তার স্বল্পস্থায়ী সম্পর্কের কারণে তিনি আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। ওই বছরের গ্রীষ্মে তাদের সম্পর্ক শুরু হলেও অক্টোবরে বিচ্ছেদ হয়।    বর্তমানে কনর বিনোদনজগতের সঙ্গে নয়, বরং তার ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের কারণে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। রাশিয়ার আদালত তার অনুপস্থিতিতে গ্রেপ্তারের অনুমোদন দিয়েছে এবং এরপরই তাকে আন্তর্জাতিকভাবে খোঁজা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    কনর বর্তমানে ব্রাজিলিয়ান শিল্পী জিউলিয়া বের সঙ্গে বিবাহিত। টেলর সুইফটের সাবেক প্রেমিক হিসেবে একসময় যে ব্যক্তি বিনোদন সংবাদে পরিচিত ছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে তার গোপন অংশগ্রহণের কারণে এখন সেই কনর কেনেডিই রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা নিয়ে নতুন করে শিরোনামে এসেছেন।

তাবাস্সুম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
২৭ বার সন্তান জন্ম দিয়ে মোট ৬৯ সন্তানের মা হওয়া রাশিয়ার ইতিহাসখ্যাত নারী ভ্যালেন্টিনা ভাসিলিয়েভা। ছবি: সংগৃহীত
২৭ বার সন্তান জন্ম দিয়ে ৬৯ সন্তানের মা, ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া নারী তিনি

রাশিয়ার ১৮ শতকের এক কৃষক পরিবারের নারী ভ্যালেন্টিনা ভাসিলিয়েভাকে ঘিরে এমন এক রেকর্ডের দাবি রয়েছে, যা আজও অবিশ্বাস্য মনে হয়। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, তিনি ২৭ বার সন্তান জন্ম দিয়ে মোট ৬৯ সন্তানের মা হয়েছিলেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসও এটিকে এক মায়ের সর্বোচ্চ সন্তান জন্মদানের রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে কয়েক শতাব্দী পুরোনো হওয়ায় ঘটনাটির সব তথ্য আধুনিক মানদণ্ডে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।    ভ্যালেন্টিনা ছিলেন রুশ কৃষক ফিওদর ভাসিলিয়েভের প্রথম স্ত্রী। গিনেসের তথ্য অনুযায়ী, ১৭২৫ থেকে ১৭৬৫ সালের মধ্যে ২৭টি প্রসবে তিনি ১৬ জোড়া যমজ, ৭ সেট ট্রিপলেট এবং ৪ সেট কোয়াড্রুপলেটের জন্ম দেন। সব মিলিয়ে সন্তানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৯।    এই হিসাব অনুযায়ী, ১৬ জোড়া যমজে সন্তান ৩২ জন, ৭ সেট ট্রিপলেটে ২১ জন এবং ৪ সেট কোয়াড্রুপলেটে ১৬ জন। তিন ধরনের সন্তান মিলিয়েই ৬৯ জন।   ঘটনাটির তথ্য প্রথমদিকে রাশিয়ার নিকোলস্ক মঠের নথিতে পাওয়া যায়। ১৭৮২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মস্কোয় পাঠানো একটি প্রতিবেদনে ভাসিলিয়েভ পরিবারের সন্তানসংখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে ১৭৮২ সালে দ্য জেন্টলম্যানস ম্যাগাজিনেও বিষয়টি প্রকাশিত হয়।    তবে ভ্যালেন্টিনার গল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নিজেও বলছে, ঘটনাটি পরিসংখ্যানগতভাবে অত্যন্ত অস্বাভাবিক মনে হলেও সেই সময়ের একাধিক নথি এর পক্ষে প্রমাণ হিসেবে পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ভ্যালেন্টিনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়, এমনকি তার নাম নিয়েও ঐতিহাসিক সূত্রে নিশ্চিততা নেই।    আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ফিওদর ভাসিলিয়েভ পরে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তার আরও ১৮ সন্তান ছিল, যার মধ্যে ছিল ৬ জোড়া যমজ ও ২ সেট ট্রিপলেট। ফলে দুই স্ত্রী মিলিয়ে তার মোট সন্তানের সংখ্যা ৮৭ বলে দাবি করা হয়েছে।    এত বেশি যমজ ও একাধিক সন্তান একসঙ্গে জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে কিছু আধুনিক বিশ্লেষণে জেনেটিকভাবে একাধিক ডিম্বাণু নিঃসরণের প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। তবে ভ্যালেন্টিনার ক্ষেত্রে এমন কোনো কারণ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।    চার শতাব্দী আগের এই ঘটনাটির সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হলেও, ৬৯ সন্তান জন্ম দেওয়ার দাবিটি এখনো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের রেকর্ড তালিকায় রয়েছে। তাই ভ্যালেন্টিনা ভাসিলিয়েভার নাম ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া মায়েদের তালিকায় এক অনন্য রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
রুশ ক্ষে পণাস্ত্রের হু মকিতে অ্যান্টার্কটিকার মাঝপথ থেকে পালিয়ে গেল মার্কিন সামরিক বিমান
রুশ ক্ষে পণাস্ত্রের হু মকিতে অ্যান্টার্কটিকার মাঝপথ থেকে পালিয়ে গেল মার্কিন সামরিক বিমান

নিউজিল্যান্ড থেকে অ্যান্টার্কটিকা যাওয়ার পথে ‘মহাকাশ সংক্রান্ত সম্ভাব্য বিপজ্জনক কার্যক্রম’-এর সতর্কবার্তা পেয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন বিমান। গত মঙ্গলবার সকালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ থেকে উড্ডয়নের তিন ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ‘সি-১৭ গ্লোবমাস্টার’ মডেলের মার্কিন বিমানটি আবার সেখানে ফিরে আসে।   আইসিই২৮ (ICE28) কল সাইনযুক্ত এই ফ্লাইটটি নিউজিল্যান্ডের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএ) জারি করা পাইলটদের জন্য একটি বিশেষ নোটিশ বা 'নোটাম' (NOTAM)-এর কারণেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়।   সিএএ-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন তাদেরকে ওই অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপজ্জনক কার্যক্রমের বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছিল। পরবর্তীতে জানানো হয় যে, এটি ছিল মূলত রাশিয়ার একটি পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সতর্কতা।   এর ফলে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় সিএএ পাইলটদের জন্য এই নোটাম জারি করে। এই বিপদের আশঙ্কাটি তৈরি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড নিয়ন্ত্রিত ‘ওশেনিক ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন (এফআইআর)’ এলাকার মধ্যে, যা মূলত আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার চুক্তির অধীনে নিউজিল্যান্ড পরিচালনা করে থাকে।   নিউজিল্যান্ডের এয়ার ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের মতে, এফআইআর অঞ্চলটি প্রায় তিন কোটি বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এর বেশিরভাগ অংশই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর এবং তাসমান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্গত। তবে সিএএ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা ওই এলাকাটিকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতা জারি করলেও, তা বিমান চলাচলে কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ছিল না; বরং ফ্লাইটের অপারেটরদের সতর্ক করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।   উল্লেখ্য, মার্কিন বিমানবাহিনীর এই ফ্লাইটটি তাদের বার্ষিক শীতকালীন ফ্লাইটের একটি অংশ ছিল। অ্যান্টার্কটিকায় গ্রীষ্মকালীন গবেষণা মৌসুম শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ডের গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও গবেষকদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই প্রতি বছর ক্রাইস্টচার্চ থেকে এই রুটিন ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করা হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
অস্ত তৈরি প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত।
অস্ত্র উৎপাদনে শক্তিশালী হচ্ছে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে সামরিক চাহিদা ও বিনিয়োগ

ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পে যুক্তরাজ্য আবারও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান জোরদার করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রতিরক্ষা-নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজন—এই তিনটি বিষয় ব্রিটিশ অস্ত্রশিল্পে নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির গতি বাড়িয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যকে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারক বলা সঠিক হবে না। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২১–২৫ সময়ে যুক্তরাজ্য প্রধান প্রচলিত অস্ত্রের রপ্তানিতে বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে ছিল।   ব্রিটেনের বর্তমান উত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুধু অস্ত্র বিক্রি নয়, দেশটির নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা। ২০২৫ সালের প্রতিরক্ষা শিল্প কৌশলে ব্রিটিশ সরকার প্রতিরক্ষা খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যকে দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির দিকে যেতে হবে।   এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানি বিএই সিস্টেমস। প্রতিষ্ঠানটি গোলাবারুদ, নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী অস্ত্র, কামান ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, যুদ্ধযান এবং বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তি তৈরি করে। কোম্পানিটির অর্ডার-বই ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটি ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের নতুন অর্ডার পেয়েছে এবং মোট অর্ডার-বই প্রায় ৮৪ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে।   বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর ব্যবসাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। জুলাই ২০২৬-এ বিএই সিস্টেমস ২০২৬ সালের পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১০–১২ শতাংশে উন্নীত করে। কোম্পানির পণ্য তালিকায় রয়েছে যুদ্ধযান, গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, কামান এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি।   ক্ষেত্রবিশেষে ব্রিটেনের সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে। এমবিডিএ যুক্তরাজ্য ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং যুক্তরাজ্যে জটিল ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র ব্যবস্থা নকশা, উৎপাদন, সংযোজন ও আধুনিকায়নের সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।ইউক্রেন যুদ্ধ ব্রিটিশ অস্ত্রশিল্পের জন্য একটি বড় পরীক্ষাগারেও পরিণত হয়েছে।   ব্রিটেন ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডোসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের জন্য ড্রোন সরবরাহ বাড়াতে ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় এবং ওই বছর এক লাখ ড্রোন সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করে।   ২০২৬ সালে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, চালকবিহীন ব্যবস্থা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দুই দেশ দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।   যুক্তরাজ্য এখন নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও আরও বাড়াতে চাইছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের জন্য নতুন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০০ কেজি পর্যন্ত ওয়ারহেড বহন করে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেও নেওয়া হয়েছে।   এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো তুলনামূলক কম খরচে দূরপাল্লার অস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা। ২০২৬ সালে ব্রিটিশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমন অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর্যায়ে যায়, যেগুলোর লক্ষ্য অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত করা এবং তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়ে দ্রুত বড় সংখ্যায় তৈরি করা। এই প্রবণতা দেখায়, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্প শুধু অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর নির্ভর না করে ব্যাপক হারে উৎপাদনযোগ্য ব্যবস্থার দিকেও এগোচ্ছে।   ড্রোন খাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগস্ট ২০২৬-এ ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ইউক্রেনীয় বাহিনীর মাধ্যমে রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরে হামলায় ব্যবহৃত হওয়ার খবর সামনে আসে। ব্রিটিশ সরকার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইউক্রেনকে এক লাখ ৫০ হাজার ড্রোন সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এসব ঘটনা ব্রিটিশ ড্রোন শিল্পকে সামরিক সহায়তার পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করছে।   তবে ব্রিটেনের অস্ত্রশিল্পকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো—দেশটি এখনও সব ধরনের অস্ত্র উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়লেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, উপাদান ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। এমনকি ইউরোপের দেশগুলোর অস্ত্র আমদানিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক বেড়েছে। ২০২১–২৫ সময়ে ইউরোপ বিশ্বের মোট প্রধান অস্ত্র আমদানির ৩৩ শতাংশ গ্রহণ করেছে, যা আগের পাঁচ বছরের তুলনায় ২১০ শতাংশ বেশি।   ব্রিটেন নিজেও বড় অস্ত্র আমদানিকারক হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইউরোপে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের পর যুক্তরাজ্য ছিল প্রধান অস্ত্র আমদানিকারকদের অন্যতম। এর অর্থ হলো ব্রিটেনের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প থাকা সত্ত্বেও দেশটি নিজস্ব সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন মেটাতে বিদেশি প্রযুক্তি ও অস্ত্রের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করে।   অন্যদিকে পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতাও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্পের বড় অংশ। ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় আগামী চার বছরে পারমাণবিক আধুনিকায়নে প্রায় ৬৩ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে ড্রেডনট শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণ, নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের মতো প্রকল্প রয়েছে।   সব মিলিয়ে, “যুক্তরাজ্য অস্ত্র উৎপাদনে একটি শক্তিধর দেশ হয়ে উঠছে”—এই বক্তব্যের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ, যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে। কিন্তু এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র উৎপাদক বলা যাবে না। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, চীন ও ইতালির মতো কয়েকটি দেশ প্রধান অস্ত্র রপ্তানিতে ব্রিটেনের ওপরে রয়েছে।   বর্তমান প্রবণতা অবশ্য দেখাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইউরোপের নিরাপত্তা সংকট ব্রিটেনকে দীর্ঘদিনের তুলনায় দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর দিকে ঠেলে দিয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ, বিএই সিস্টেমস ও এমবিডিএর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের অর্ডার বৃদ্ধি, ড্রোন প্রযুক্তির বিস্তার এবং নতুন দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র প্রকল্প—সব মিলিয়ে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা শিল্প আবারও ইউরোপের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সামনে আসছে।

Unknown আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়ায় ‘চরমপন্থী’ তকমা পেয়ে ট্রান্সজেন্ডারসহ এলজিবিটিকিউ অধিকার গোষ্ঠীর কার্যক্রম বন্ধ
রাশিয়ায় ‘চরমপন্থী’ তকমা পেয়ে ট্রান্সজেন্ডারসহ এলজিবিটিকিউ অধিকার গোষ্ঠীর কার্যক্রম বন্ধ

রাশিয়ায় একটি আদালত কর্তৃক 'চরমপন্থী' বা এক্সট্রিমিস্ট হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর নিজেদের সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অন্যতম শীর্ষ এলজিবিটিকিউ অধিকার গোষ্ঠী 'রাশিয়ান এলজিবিটি নেটওয়ার্ক'। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বিবৃতির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। এর আগে, গত এপ্রিলে রাশিয়ার বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়ের করা এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি আদালত ওই অধিকার গোষ্ঠীটিকে চরমপন্থী হিসেবে আখ্যা দেয়।   ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত রাশিয়ান এলজিবিটি নেটওয়ার্ক দীর্ঘ সময় ধরে দেশজুড়ে অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছিল। তবে চরমপন্থী তকমা পাওয়ার পর সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ঝুঁকির বিষয়টি গভীরভাবে মূল্যায়নের পরই তারা কার্যক্রম বন্ধের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   চরমপন্থী হিসেবে ঘোষণার পর আগের মতো প্রকাশ্যে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তারা জানায়, বর্তমানে এই সংগঠনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। দমনমূলক এই পরিবেশে মানুষের নিরাপত্তাকেই তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।   গত এক দশক ধরেই এলজিবিটিকিউ অধিকারের ওপর ক্রেমলিনের কঠোর দমনপীড়ন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৩ সালে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট 'আন্তর্জাতিক এলজিবিটি আন্দোলন'-কে চরমপন্থী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।   এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে 'ইলগা ওয়ার্ল্ড' নামক একটি বৈশ্বিক অধিকার গোষ্ঠীকেও 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করে মস্কো, যার সঙ্গে যুক্ত থাকলে রাশিয়ায় ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, রাশিয়ান এলজিবিটি নেটওয়ার্ক হলো এ বছর রাশিয়ায় চরমপন্থী আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করা নয়টি অধিকার গোষ্ঠীর মধ্যে একটি।   সবশেষে বিদায়বেলায় সংগঠনটি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম হয়তো বন্ধ হচ্ছে, কিন্তু মানুষের মর্যাদা, সংহতি এবং নিজস্ব পরিচয়ে বাঁচার অধিকার কখনোই ধ্বংস করা যাবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০