- প্রচ্ছদ
- Topic
রাশিয়া
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানালেও ইউক্রেনের বিশ্লেষকদের দাবি, ক্রেমলিন এখনো যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী নয়। ইউক্রেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Kyiv Post-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুদ্ধ বন্ধের পরিবর্তে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত মিলছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুতিন ইউক্রেনকে স্বাধীন জাতিসত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে আগের অবস্থানেই রয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য ও ক্ষমতার কাঠামো ধরে রাখার একটি হাতিয়ার হিসেবেও উপস্থাপন করছেন বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, সের্গেই লাভরভ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা বন্ধ, রাশিয়ার দখল করা অঞ্চলগুলোর দাবিকে স্বীকৃতি এবং মস্কোর নিরাপত্তা শর্ত মেনে নেওয়ার ওপর জোর দেন। এসব অবস্থানকে শান্তি আলোচনার পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে Kyiv Post। তবে রাশিয়া বরাবরের মতোই বলছে, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু তা হতে হবে তাদের নিরাপত্তা স্বার্থ ও ঘোষিত শর্তের ভিত্তিতে। মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তাকেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করে আসছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেবে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে এবং সেগুলোর ব্যবধান কমানো না গেলে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে না। রুবিও বলেন, “আগামী কয়েক সপ্তাহে আমরা দুই পক্ষকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে এনে এই যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। তবে আমরা এটাও বুঝি যে উভয় পক্ষেরই কিছু দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। সেই অবস্থানগুলোর ব্যবধান কিছুটা কমানো না গেলে চূড়ান্ত সমঝোতা সম্ভব হবে না।” তার এ মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া ২৭টি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি রাশিয়া ড্রোন ব্যবহার করেও একযোগে আক্রমণ চালায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি ও স্বল্প সময়ের সতর্কবার্তার কারণে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। দেশটির বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে উন্নত প্রযুক্তির প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়েও ইউক্রেন বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিয়েভ সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়াও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া ২৭টি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি রাশিয়া ড্রোন ব্যবহার করেও একযোগে আক্রমণ চালায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি ও স্বল্প সময়ের সতর্কবার্তার কারণে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। দেশটির বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে উন্নত প্রযুক্তির প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়েও ইউক্রেন বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিয়েভ সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়াও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
রাশিয়ায় অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরি ও বিতরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ২১ বছর বয়সী এক মডেল কারাদণ্ড এড়িয়েছেন। তবে আদালত তাকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা এবং তিন বছরের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার ও অনলাইনে উপস্থিত থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মস্কোর একটি আদালত সোফিয়া ভারশিনিনা নামের ওই মডেলকে অনলাইনে যৌনস্পষ্ট কনটেন্ট তৈরি ও বিতরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। রুশ আইনে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার নিষিদ্ধ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ায় তথাকথিত ‘ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ’ রক্ষার নীতির অংশ হিসেবে অবৈধ পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যে এই মামলার বিচার হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। তবে আদালতে অভিযোগ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করায় সোফিয়া ভারশিনিনাকে তিন বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থাৎ, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে যাচ্ছেন না। তবে আদালতের নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করলে এই স্থগিত দণ্ড কার্যকর হতে পারে। রায়ের অংশ হিসেবে তাকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন বছর তিনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না এবং অনলাইনে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা বা উপস্থিত থাকতে পারবেন না। ফলে তার অনলাইনভিত্তিক আয়ের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাবে। রুশ প্রসিকিউটরদের দাবি, সোফিয়া ভারশিনিনা অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট বিক্রি করে চার লাখ ডলারের বেশি আয় করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একটি জনপ্রিয় সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি টেলিগ্রামেও অর্থের বিনিময়ে ব্যক্তিগত কনটেন্ট সরবরাহ করতেন। তদন্তের সময় জব্দ করা তার আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স এখনো তদন্ত সংস্থার হেফাজতে রয়েছে। তবে মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রীর কিছু অংশ পরে তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সোফিয়া ভারশিনিনা একমাত্র নন। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ায় অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে আরও কয়েকজন মডেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭ বছর বয়সী ডায়ানা শুরিগিনার বিচারও চলছে। একই অভিযোগে আনাস্তাসিয়া ওভসিয়ানিকোভা নামের আরেক কনটেন্ট নির্মাতাকেও আটক করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ায় অবৈধ পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে আইন বহুদিন ধরেই কার্যকর থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের মামলার সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তথাকথিত ‘ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ’ বাস্তবায়নের নীতির অংশ হিসেবে অনলাইন কনটেন্টের ওপর নজরদারি আরও জোরদার হতে পারে।
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ভলগোগ্রাদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। শুক্রবার চালানো এই হামলায় রুশ ই-কমার্স জায়ান্ট ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিক সেন্টার ও একটি জ্বালানি স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভলগোগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই বোচারভ শুরুতে ৫ জন আহতের কথা জানালেও পরবর্তীতে একটি ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি হামলার শিকার জ্বালানি স্থাপনাটির নাম প্রকাশ করেননি। হামলার পর নাসার ফায়ার মনিটরিং সিস্টেম (এফআইআরএমএস) ভলগোগ্রাদ শহরের ঠিক দক্ষিণে লুকোয়েল পরিচালিত একটি বড় তেল শোধনাগারে বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ছবি ধারণ করেছে। লুকোয়েল কর্তৃপক্ষ তাদের স্থাপনায় হামলার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এক বিবৃতিতে ওয়াইল্ডবেরিজ কর্তৃপক্ষ ড্রোন হামলার পর তাদের একটি লজিস্টিক হাব-এ আগুন লাগার কথা নিশ্চিত করেছে এবং সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে। শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে শহরের আকাশে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। শুধু ভলগোগ্রাদেই নয়, পার্শ্ববর্তী রোস্তভ অঞ্চলের গুকাভো শহরেও আলাদা এক ড্রোন হামলায় এক নারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর ইউরি স্লিইসার। অন্যদিকে, তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রে বিমান হামলার সতর্কতার কারণে ওয়াইল্ডবেরিজের প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান ওজোন তাদের একটি গুদাম খালি করতে বাধ্য হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দূরে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার মুহূর্তে কর্মীরা আতঙ্কে ভবন ছেড়ে পালাচ্ছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তারা রাশিয়া এবং অধিকৃত ক্রিমিয়া জুড়ে ৩৭১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন আটকে দিয়েছে বা ভূপাতিত করেছে। উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহে ড্রোন হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজের এক ডজনেরও বেশি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে কোম্পানিটির স্টোরেজ ক্ষমতার একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ইউক্রেনের অভিযোগ, ওয়াইল্ডবেরিজ রুশ সামরিক বাহিনীকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে সহায়তা করছে। তবে কোম্পানিটি বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার পাল্টা হামলায় দেশজুড়ে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ৪৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে কিয়েভে অবস্থিত একটি আমেরিকান কোম্পানির ড্রোন কারখানায় রুশ সামরিক বাহিনীর হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
রাশিয়ায় তৈরি ত্বক ক্যানসারের টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’ (Neoncovac) মানবদেহে প্রয়োগের পর অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গের দেওয়া তথ্যমতে, এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তার শরীরে টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সফলভাবে তৈরি হয়েছে। ক্যানসার নিরাময়ের ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অনন্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটিতে উদ্ভাবিত দুটি ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ বা পার্সোনালাইজড ক্যানসার চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অ্যাডভান্সড মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের জন্য তৈরি এমআরএনএ-ভিত্তিক (mRNA) ভ্যাকসিন ‘নিওনকোভ্যাক’ এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারকে লক্ষ্য করে তৈরি পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’ অন্যতম। সেই অনুমোদনের ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে হারজেন মস্কো অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির দেহে প্রথমবারের মতো নিওনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিনজবার্গ জানান, ওই রোগীর ইমিউন রেসপন্স অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বোধ করছেন। তাকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এছাড়া আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও দশজন রোগীর জন্য কাস্টমাইজড মেলানোমা ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিন এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রথাগতভাবে শুধু রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে এই পদ্ধতিটি রোগীর নিজস্ব ইমিউন সিস্টেমকে ক্ষতিকর ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে প্রশিক্ষণ দেয়। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করেই নির্দিষ্ট রোগীর জন্য কাস্টমাইজড ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোলরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘অনকোপেপ্টি’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরও প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্যের পথ ধরে বর্তমানে গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও নিবিড় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
নিজেকে ‘রাশিয়ার এজেন্ট’সহ একাধিক মানহানিকর মন্তব্যের শিকার দাবি করে এক ব্লগারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ডলারের মানহানি মামলা করেছিলেন এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। তবে নেভাদার একটি ফেডারেল আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এ মামলার শুনানি করার জন্য নেভাদা আদালতের ব্যক্তিগত এখতিয়ার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কাশ প্যাটেল ব্লগার ও সাবস্ট্যাক লেখক জিম স্টুয়ার্টসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, স্টুয়ার্টসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এবং সাবস্ট্যাকে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে প্যাটেলকে ‘রাশিয়ার এজেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, প্যাটেল ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টায় ভূমিকা রেখেছিলেন। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং তার সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে বলে মামলায় দাবি করেন প্যাটেল। মামলায় কাশ প্যাটেল ১ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক অ্যান্ড্রু গর্ডন রায়ে বলেন, স্টুয়ার্টসনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে কাশ প্যাটেলকে ট্যাগ করা হলেও, তা নেভাদার জনগণ বা নেভাদা অঙ্গরাজ্যকে লক্ষ্য করে প্রকাশ করা হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে নেভাদা আদালতের ব্যক্তিগত এখতিয়ার প্রতিষ্ঠিত হয় না এবং এ কারণে মামলাটি খারিজ করা হয়। বিচারক আরও উল্লেখ করেন, এই রায়ে স্টুয়ার্টসনের মন্তব্য সত্য না মিথ্যা, সে বিষয়ে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। মামলাটি খারিজের কারণ ছিল সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়াগত, অর্থাৎ কোন আদালতে মামলাটি বিচারযোগ্য—সেই প্রশ্ন। রায়ের পর জিম স্টুয়ার্টসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিজয়ের দাবি জানিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। অন্যদিকে কাশ প্যাটেলের পক্ষ থেকে রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। কাশ প্যাটেল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দায়ের করা এই মানহানি মামলার রায় যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য এবং আদালতের এখতিয়ার সংক্রান্ত আইনি আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
রাশিয়ার একটি কারাগারে বন্দিদের কাছে নিষিদ্ধ মাদক পৌঁছে দেওয়ার কাজে একটি বিড়ালকে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। গলায় বিশেষভাবে তৈরি কলারের ভেতরে মাদক বহন করার সময় প্রাণীটিকে আটক করে কারা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোনিউজের তথ্যের বরাত দিয়ে রাশিয়ার ফেডারেল পেনিটেনশিয়ারি সার্ভিস (এফএসআইএন) জানিয়েছে, কারাগারের একটি সংশোধনাগারের বাইরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে বিড়ালটিকে আটক করেন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। পরে প্রাণীটির গলায় বাঁধা দুটি কাপড়ের তৈরি বিশেষ কলার খুলে তল্লাশি চালানো হলে সেখান থেকে নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কারা কর্মকর্তারা বিড়ালটির গলায় থাকা কালো রঙের চওড়া কলার খুলে সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করছেন। তল্লাশির সময় কলারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা মাদক উদ্ধার করা হয়। জব্দ প্রক্রিয়া শেষে বিড়ালটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এফএসআইএনের ভাষ্য, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নাকি পরিকল্পিত পাচারচক্রের অংশ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারা বন্দিদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, কীভাবে বিড়ালটিকে এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার কৌশল কী ছিল। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা অভিযুক্ত করার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অতীতেও কারাগারে মোবাইল ফোন, মাদক কিংবা অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী পৌঁছে দিতে প্রাণী ব্যবহারের বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে এসেছে। রাশিয়ার সর্বশেষ এই ঘটনাও কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পাচারচক্রের নতুন কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ইরানকে সামরিক সহায়তা দিলে চীন ও রাশিয়ার জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তারা ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ করবেন না। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, বেইজিংয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি তাকে বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই চীন ইরানকে অস্ত্র দেবে বা বিক্রি করবে না। তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রতিশ্রুতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প লিখেছেন, দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের কারণে তিনি শি জিনপিংয়ের কথায় আস্থা রাখছেন। একই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাকে একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, পুতিন জানেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে না; বরং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করা হয় এবং সেসব দেশই পরে ইউক্রেনকে সহায়তা দেয়। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে যেসব দেশের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে, সেই দুই দেশ—চীন ও রাশিয়া—বর্তমানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। তবে যদি তারা ভবিষ্যতে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ বা সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে তা তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে এবং সেটি তাদের নিজেদের স্বার্থেরও পরিপন্থী। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ভিন্ন ধরনের উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি কংগ্রেসে বলেন, রাশিয়া ও চীন বিভিন্ন উপায়ে ইরানকে সহায়তা করছে, যদিও তিনি সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। এছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ইরানের সামরিক সক্ষমতায় সম্ভাব্য রুশ সহায়তার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এ বিষয়ে মস্কো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অস্ত্র সংগ্রহ ও সামরিক কর্মসূচিতে সহায়তার অভিযোগে রাশিয়া ও চীনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
রাশিয়ায় বিদ্যালয়ভিত্তিক সাধারণ পড়াশোনা ও উচ্চশিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহে ঐতিহাসিক ধস নেমেছে। সম্পতি প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশটিতে নবম শ্রেণি শেষ করে মাত্র ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ১০ম শ্রেণিতে পদার্পণ করছে, যা আধুনিক রাশিয়ার ইতিহাসে সর্বনিম্ন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী সাধারণ পড়াশোনার পরিবর্তে দ্রুত কারিগরি কলেজে ভর্তি করা এবং কারিগরি পেশায় যুক্ত করার একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় কৌশল দৃশ্যমান হচ্ছে। এর ফলে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়ের মতো সাধারণ শিক্ষার বাইরে ছিটকে পড়ার যে ভয় অভিভাবকদের মনে ছিল, তা ফের চেপে বসেছে দেশটির সমাজে। বিশ্লেষকদের মতে, শিশুদের একাডেমিক শিক্ষার পথ থেকে সরিয়ে কারিগরি শিক্ষার দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে ক্রেমলিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বেশ কয়েকটি হিসাব কাজ করছে। প্রথমত, একটি সন্তানকে ১১ বছর ধরে সাধারণ শিক্ষা দেওয়ার খরচ ৯ বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বড় অংশ সামরিক খাতে ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা খাতের পেছনে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ রাখতে চাইছে না মস্কো। দ্বিতীয়ত, সাধারণ শিক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক বছর সময় পার করা শিক্ষার্থীদের চেয়ে কারিগরি কলেজ থেকে বের হওয়া তরুণরা যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে দ্রুত ভূমিকা রাখতে পারে। তারা সরাসরি কারখানাগুলোতে ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে যুক্ত হতে পারবে এবং ট্যাক্স দিয়ে যুদ্ধের ব্যয়ভার বহনে অবদান রাখতে পারবে। গবেষকদের একাংশের মতে, রাশিয়ার বর্তমান শিক্ষানীতি ও প্রশাসনিক মনোভাব দিন দিন চরম সোশ্যাল ডারউইনবাদী ও অমানবিক রূপ নিচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্হতা ও জ্ঞান প্রসারের মাধ্যমের বদলে কেবল যুদ্ধকালীন শ্রমশক্তি এবং সামরিক বাহিনীর জোগানদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের যোগ্য করার চেষ্টা না করে তাদেরকে সস্তা শ্রমশক্তি কিংবা সরাসরি সামরিক অভিযানে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় স্তরে নীতি-নির্ধারকদের এই কঠোর সিদ্ধান্ত রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের মেধা বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং দেশটির শিক্ষাব্যবস্থাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অঙ্গোলায় সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র এবং প্রাণঘাতী বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার দায়ে দুই রুশ নাগরিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। সন্ত্রাসবাদ ও গুপ্তচরবৃত্তির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁদের এই সাজা ঘোষণা করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দণ্ডিত দুই রুশ নাগরিক হলেন—লেভ লাকশটানভ ও ইগর রাতচিন। আদালত তাঁদের যথাক্রমে আট ও ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে শুরু থেকেই তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছেন যে, তারা মূলত ব্যবসায়িক ও সাংস্কৃতিক কাজের উদ্দেশ্যেই দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। অঙ্গোলার কৌঁসুলিদের অভিযোগ, গত বছর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিনিবাস ট্যাক্সি চালকদের ডাকা ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে তীব্র সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল, যাতে সরকারি হিসাব অনুযায়ী অন্তত ২২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন। সেই বিক্ষোভ ও সহিংসতার পেছনে এই দুই রুশ নাগরিকের হাত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার এবং অঙ্গোলার রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতেই তারা এই ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এছাড়া ওই দুই ব্যক্তি রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি প্রোপাগান্ডা নেটওয়ার্কের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় অভিযুক্ত দুই স্থানীয় নাগরিকের মধ্যে স্পোর্টস সাংবাদিক কার্লোস তোমেকে দুই বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দেওয়া হলেও বিরোধী দলের যুবনেতা ফ্রান্সিসকো ডি অলিভিরা আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। এদিকে রায়ের বিরুদ্ধে সাজাপ্রাপ্ত দুই রুশ নাগরিক ও প্রসিকিউশন পক্ষ উভয়েই আপিল করেছেন। আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা কারাগারেই থাকবেন। তবে এ বিষয়ে অঙ্গোলায় অবস্থিত রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রসমর্থিত হ্যাকারদের নতুন এক সাইবার কৌশল নিয়ে যৌথ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং এক ডজনের বেশি মিত্র দেশ। তাদের দাবি, Laundry Bear নামে পরিচিত একটি রুশ হ্যাকার গোষ্ঠী জনপ্রিয় Zimbra Collaboration Suite-এর একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ করেছে। এই হামলার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, ভুক্তভোগীদের কোনো লিংকে ক্লিক করা, সংযুক্তি (Attachment) ডাউনলোড করা কিংবা পাসওয়ার্ড দেওয়ারও প্রয়োজন হয়নি। কেবল ক্ষতিকর ই-মেইলটি খুললেই হ্যাকাররা সফটওয়্যারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান Proofpoint এই কৌশলকে “হাফ-ক্লিক এক্সপ্লয়েট” নামে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি এমন এক ধরনের হামলা, যেখানে কোনো সামাজিক প্রকৌশল (Social Engineering) ব্যবহার না করেই ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ সম্ভব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, চেক প্রজাতন্ত্রসহ ইউরোপের একাধিক দেশের গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা সংস্থা ৩১ পৃষ্ঠার একটি যৌথ সতর্কতা প্রকাশ করে এই তথ্য জানিয়েছে। তাদের মতে, হামলাকারীরা প্রথমে ইউক্রেনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই পদ্ধতি পরীক্ষা করে। পরে একই কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সরকারি, সামরিক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করা হয়। যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তামন্ত্রী ড্যান জারভিস বলেছেন, ইউক্রেনের ভুক্তভোগীদের ওপর এই কৌশল পরীক্ষা চালিয়ে পরে ন্যাটো দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, Laundry Bear রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থার হয়ে কাজ করা একাধিক হ্যাকার গোষ্ঠীর অন্যতম। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা একটি অভিযোগপত্রে গোষ্ঠীটির সঙ্গে রাশিয়ার সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান Yutek-NN-এর সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে Zimbra সফটওয়্যারের যে নিরাপত্তা ত্রুটি ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে, সেটি ইতোমধ্যে নিরাপত্তা হালনাগাদের (Patch) মাধ্যমে ঠিক করা হয়েছে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো সফটওয়্যার হালনাগাদ করেনি, তারা এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সরকারি দপ্তর, সামরিক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং Zimbra ব্যবহারকারী সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি দ্রুত সফটওয়্যার আপডেট, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ জোরদার এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আবারও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ (Wildberries)–এর লজিস্টিক অবকাঠামো। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী তাতিয়ানা কিম জানিয়েছেন, ক্রাসনোদার ও নেভিনোমিস্ক শহরে অবস্থিত দুটি বড় গুদামে হামলা হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। এর আগেও জুলাই মাসে ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলো একাধিকবার হামলার শিকার হয়। ১৮ জুলাই তামবভ অঞ্চলের কোতোভস্ক ও মস্কোর পূর্বে ইলেকট্রোস্টাল–এ অবস্থিত দুটি লজিস্টিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় কয়েকজন কর্মী নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। একই সময়ে একটি তেল ডিপোতেও আগুন লাগে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, হামলার লক্ষ্য ছিল এমন লজিস্টিক কেন্দ্র, যেখান থেকে রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদন ও নেভিগেশন সরঞ্জামের জন্য বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ করা হতো। তবে ক্রেমলিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ওয়াইল্ডবেরিজ একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ওয়াইল্ডবেরিজ বর্তমানে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১০ লাখেরও বেশি বিক্রেতা যুক্ত এবং প্রতিদিন কোটি কোটি অর্ডার প্রক্রিয়াজাত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার ই-কমার্স খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় এর লজিস্টিক নেটওয়ার্ক দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ফলে শুধু গুদাম নয়, হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর পণ্য সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, প্রতিষ্ঠানটি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছে। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের তৃতীয় বছরে দুই পক্ষই এখন একে অপরের জ্বালানি, পরিবহন ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এর ফলে যুদ্ধের প্রভাব সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবকাঠামোতেও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ওদেসা বন্দর থেকে যাত্রা শুরুর পরপরই একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চার ভারতীয় নাবিকসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক ভারতীয় নাগরিক। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইউক্রেনের নৌবাহিনী সোমবার (২০ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ইউক্রেনের ওদেসা বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় এমভি গোল্ডেন লিও নামের গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজটি হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে মোট ১৭ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় নাগরিক। হামলায় চার ভারতীয় নিহত হন এবং একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে। ইউক্রেনের নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ভুট্টাবোঝাই জাহাজটিতে রাশিয়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই জাহাজে আগুন ধরে যায়। নিহতদের মধ্যে চার ভারতীয় ছাড়াও সিরীয় নাবিক এবং একজন ইউক্রেনীয় সামুদ্রিক পাইলট রয়েছেন। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো, নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক এবং আহত ভারতীয় নাগরিকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে নয়াদিল্লি। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওদেসা বন্দর ও আশপাশের অবকাঠামো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি বিশ্ব খাদ্যবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুধু মানবিক ক্ষয়ক্ষতিই নয়, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলমান থাকায় সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্স, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে প্রস্তাবিত কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আগের প্রস্তাব থেকে সরে এসে নতুন খসড়া বিলে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার অন্যতম বড় জ্বালানি ক্রেতা চীন ও ভারতের ওপর সম্ভাব্য চাপ কিছুটা কমতে পারে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশোধিত এই বিল অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়োজনে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। তবে আগের মতো ৫০০ শতাংশ শুল্কের বিধান রাখা হয়নি। দ্বিদলীয় এই বিলটি রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মস্কোকে চাপের মুখে ফেলা। একই সঙ্গে ভারত, চীনসহ রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতাদের বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করাও বিলটির অন্যতম উদ্দেশ্য। নতুন খসড়ায় রুশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি ও আর্থিক খাতেও নতুন বিধিনিষেধের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত 'শ্যাডো ট্যাংকার' বহর, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ইয়ামাল এলএনজি ও আর্কটিক এলএনজির মতো বড় জ্বালানি প্রকল্পগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। তবে সংশোধিত বিলে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। যেসব দেশ রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং ধীরে ধীরে সেই নির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তারা শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেতে পারে। এই বিধানের আওতায় জাপান, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বিলে প্রেসিডেন্টকে একটি বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের ক্ষেত্রে এসব নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত বা শিথিল করতে পারবেন। বিশ্ববাজারে বর্তমানে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা দেশ হলো চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় আমদানিকারকদের মধ্যে রয়েছে চীন, ফ্রান্স, জাপান, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম। মার্কিন সিনেটে বিলটির প্রতি সমর্থনও বাড়ছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রথম উত্থাপিত এই বিলের পক্ষে বর্তমানে ২৬ জন সিনেটর সমর্থন দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ইউক্রেন সফরকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিলটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞা এই বিলে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে বিলটির সহ-উদ্যোক্তা সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেছেন, আপাতত বিলের মূল উদ্দেশ্য পরিবর্তন না করাই ভালো। তার মতে, নতুন বিষয় যুক্ত করলে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কের হার ৫০০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও সংশোধিত বিলটি রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি ও অর্থনীতির ওপর চাপ ধরে রাখার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এতে মিত্র দেশগুলোর জন্য কিছুটা নীতিগত নমনীয়তাও রাখা হয়েছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে নোঙর করা টোগোর পতাকাবাহী একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়ার হামলায় অন্তত তিনজন নাবিক নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। সোমবার ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অবকাঠামোবিষয়ক মন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা এ তথ্য জানিয়েছেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় জাহাজটি ওডেসা অঞ্চলের একটি বন্দরে অবস্থান করছিল এবং এতে খনিজ সার বহন করা হচ্ছিল। ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপারও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত ও আহত নাবিকদের জাতীয়তা এবং হামলায় জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। কৃষ্ণসাগর উপকূলে অবস্থিত ওডেসা ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বন্দর, জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্যিক অবকাঠামো একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও সার রপ্তানির জন্য এই বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যুদ্ধ চলাকালে বেসামরিক জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক শিপিং নিরাপত্তা এবং কৃষ্ণসাগর হয়ে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনের ওপর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাশিয়া এ হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির কারণে উভয় পক্ষের দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুমি শহরে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা ও স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, হামলাটি শহরের বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। এতে আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ব্যক্তিগত যানবাহন এবং অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে দমকল, চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সহায়তার আহ্বান জানান। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, একই রাতে রাশিয়া দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে শতাধিক ড্রোন এবং একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। একই সময়ে কিয়েভ, খারকিভ, ওডেসা, জাপোরিঝিয়া ও দোনেৎস্ক অঞ্চলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সুমি হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। মস্কো বরাবরের মতো দাবি করে আসছে, তাদের হামলা ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামো ও অস্ত্রভাণ্ডারকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, রাশিয়ার বহু হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছেন এবং আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে সুমি অঞ্চল একাধিকবার ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবর্ষণের শিকার হয়েছে। রাশিয়ার সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যুদ্ধের শুরু থেকেই এটি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলা ইউক্রেনের মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে এবং যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।
ইউক্রেনে রাতভর রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, এই অবিরাম হামলায় রাশিয়া ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র—যার মধ্যে ছয়টি ব্যালিস্টিক—এবং ১২১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। দোনেৎস্ক অঞ্চলে ধসে পড়া নিজ বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দ্য কিয়েভ পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্লোভিয়ানস্ক শহরকে লক্ষ্য করে রাশিয়া তিনটি ‘ফ্যাব-২৫০’ গাইডেড এরিয়াল বোমা নিক্ষেপ করে; যার ফলে অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ওই বৃদ্ধ নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হন আরও অন্তত তিনজন। হামলায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়ির ছবি প্রকাশ করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার সম্ভাব্য 'ডাবল ট্যাপ' বা দ্বৈত হামলার আশঙ্কায় নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। দ্য কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হেনেছে রাশিয়া, যেখানে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরসহ মোট ১১ জন আহত হয়েছেন। তবে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি গাইডেড মিসাইল এবং ১১১টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে সহায়তায় গত ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে নিজেদের মাটিতেই ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল, যার ফলে কিয়েভকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া রুশ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকাতে তারা ব্যর্থ হচ্ছিল। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এটি মার্কিন নীতির একটি অভাবনীয় পরিবর্তন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কেবল কিয়েভকে এই ইন্টারসেপ্টরগুলো সরবরাহ করত, কিন্তু ইউক্রেনকে তাদের নিজেদের মাটিতে এগুলো তৈরির অনুমতি দেয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের মজুত কমে আসা সত্ত্বেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বারবার ইউক্রেনের এই লাইসেন্স পাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কেরও সম্প্রতি ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন বা নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওভাল অফিসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে সঙ্গে নিয়ে দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল, যেখানে ওই তিন নেতার মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা ও চিৎকার-চেঁচামেচি হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছিল।
এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। সর্বশেষ এ হামলায় কিয়েভে অন্তত ১৪ জনসহ মোট কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৬ জন। হামলায় শহরের এক ডজনের বেশি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে চালানো এ হামলার বিষয়ে কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো বলেন, রাতভর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী। শহরের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ এখনো চলছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, কিয়েভের আশপাশের জেলাগুলোতেও হামলার প্রভাব পড়ে। সেখানে আরও অন্তত ছয়জন নিহত এবং ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এক রাতেই রাশিয়া ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫১টি ড্রোন নিক্ষেপ করে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আকারের আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪০ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর রাত ২টা ১০ মিনিট ও ৩টা ১৫ মিনিটে আরও কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজতে শুরু করলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজারো মানুষ ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। এর আগে রোববার রাতে দেওয়া এক ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে রাশিয়া নতুন করে হামলা জোরদার করতে পারে। তার এই আশঙ্কার পরদিনই বড় ধরনের এ আক্রমণ চালানো হলো। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শুরু হওয়া ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠন ঘিরেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করতে এমন হামলা বাড়ানো হতে পারে। গত সপ্তাহের শেষদিকে কিয়েভে রাশিয়ার আরেকটি বড় হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। চলতি বছরে রাজধানীতে সেটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। ধারাবাহিক এই আক্রমণে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান “মানুষ যতটা ভাবছে, তার চেয়েও কাছাকাছি”। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা কতদূর এগিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। প্রায় আড়াই বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধে নতুন করে বড় আকারের হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ন্যাটো সম্মেলনের প্রাক্কালে এমন পরিস্থিতি ইউক্রেন সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাশিয়া সোমবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। দমকল ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এই হামলায় ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫১টি ড্রোন ব্যবহার করে। আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অনেক ড্রোন ভূপাতিত করলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে রাজধানীতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy হামলার পর বলেন, বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তিনি ন্যাটো মিত্রদের প্রতি দ্রুত অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানান। এই হামলা এমন সময়ে হয়েছে, যখন তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। ইউক্রেন আশা করছে, সম্মেলনে দেশটির জন্য নতুন সামরিক সহায়তা ও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসবে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। তবে ইউক্রেন বলছে, হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক এলাকা এবং সাধারণ নাগরিকরা। এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসন নাগরিকদের বিমান হামলার সতর্কবার্তা উপেক্ষা না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসেও সংঘাতের তীব্রতা কমেনি। বরং ন্যাটো সম্মেলনের ঠিক আগে সংঘটিত এই বড় হামলা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের জন্য কী ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তার ঘোষণা আসে, সেদিকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।