অস্ত্র উৎপাদনে শক্তিশালী হচ্ছে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে সামরিক চাহিদা ও বিনিয়োগ
ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পে যুক্তরাজ্য আবারও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান জোরদার করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রতিরক্ষা-নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজন—এই তিনটি বিষয় ব্রিটিশ অস্ত্রশিল্পে নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির গতি বাড়িয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যকে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারক বলা সঠিক হবে না। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২১–২৫ সময়ে যুক্তরাজ্য প্রধান প্রচলিত অস্ত্রের রপ্তানিতে বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে ছিল।
ব্রিটেনের বর্তমান উত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুধু অস্ত্র বিক্রি নয়, দেশটির নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা। ২০২৫ সালের প্রতিরক্ষা শিল্প কৌশলে ব্রিটিশ সরকার প্রতিরক্ষা খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যকে দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির দিকে যেতে হবে।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানি বিএই সিস্টেমস। প্রতিষ্ঠানটি গোলাবারুদ, নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী অস্ত্র, কামান ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, যুদ্ধযান এবং বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তি তৈরি করে। কোম্পানিটির অর্ডার-বই ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটি ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ডের নতুন অর্ডার পেয়েছে এবং মোট অর্ডার-বই প্রায় ৮৪ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে।
বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর ব্যবসাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। জুলাই ২০২৬-এ বিএই সিস্টেমস ২০২৬ সালের পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১০–১২ শতাংশে উন্নীত করে। কোম্পানির পণ্য তালিকায় রয়েছে যুদ্ধযান, গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, কামান এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি।
ক্ষেত্রবিশেষে ব্রিটেনের সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে। এমবিডিএ যুক্তরাজ্য ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং যুক্তরাজ্যে জটিল ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র ব্যবস্থা নকশা, উৎপাদন, সংযোজন ও আধুনিকায়নের সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।ইউক্রেন যুদ্ধ ব্রিটিশ অস্ত্রশিল্পের জন্য একটি বড় পরীক্ষাগারেও পরিণত হয়েছে।
ব্রিটেন ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডোসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের জন্য ড্রোন সরবরাহ বাড়াতে ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় এবং ওই বছর এক লাখ ড্রোন সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
২০২৬ সালে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, চালকবিহীন ব্যবস্থা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দুই দেশ দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
যুক্তরাজ্য এখন নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও আরও বাড়াতে চাইছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের জন্য নতুন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০০ কেজি পর্যন্ত ওয়ারহেড বহন করে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেও নেওয়া হয়েছে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো তুলনামূলক কম খরচে দূরপাল্লার অস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা। ২০২৬ সালে ব্রিটিশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমন অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর্যায়ে যায়, যেগুলোর লক্ষ্য অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত করা এবং তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়ে দ্রুত বড় সংখ্যায় তৈরি করা। এই প্রবণতা দেখায়, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্প শুধু অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর নির্ভর না করে ব্যাপক হারে উৎপাদনযোগ্য ব্যবস্থার দিকেও এগোচ্ছে।
ড্রোন খাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগস্ট ২০২৬-এ ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ইউক্রেনীয় বাহিনীর মাধ্যমে রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরে হামলায় ব্যবহৃত হওয়ার খবর সামনে আসে। ব্রিটিশ সরকার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইউক্রেনকে এক লাখ ৫০ হাজার ড্রোন সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এসব ঘটনা ব্রিটিশ ড্রোন শিল্পকে সামরিক সহায়তার পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করছে।
তবে ব্রিটেনের অস্ত্রশিল্পকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো—দেশটি এখনও সব ধরনের অস্ত্র উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়লেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, উপাদান ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। এমনকি ইউরোপের দেশগুলোর অস্ত্র আমদানিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক বেড়েছে। ২০২১–২৫ সময়ে ইউরোপ বিশ্বের মোট প্রধান অস্ত্র আমদানির ৩৩ শতাংশ গ্রহণ করেছে, যা আগের পাঁচ বছরের তুলনায় ২১০ শতাংশ বেশি।
ব্রিটেন নিজেও বড় অস্ত্র আমদানিকারক হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইউরোপে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের পর যুক্তরাজ্য ছিল প্রধান অস্ত্র আমদানিকারকদের অন্যতম। এর অর্থ হলো ব্রিটেনের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প থাকা সত্ত্বেও দেশটি নিজস্ব সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন মেটাতে বিদেশি প্রযুক্তি ও অস্ত্রের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করে।
অন্যদিকে পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতাও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্পের বড় অংশ। ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় আগামী চার বছরে পারমাণবিক আধুনিকায়নে প্রায় ৬৩ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে ড্রেডনট শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণ, নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের মতো প্রকল্প রয়েছে।
সব মিলিয়ে, “যুক্তরাজ্য অস্ত্র উৎপাদনে একটি শক্তিধর দেশ হয়ে উঠছে”—এই বক্তব্যের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ, যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে। কিন্তু এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র উৎপাদক বলা যাবে না। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, চীন ও ইতালির মতো কয়েকটি দেশ প্রধান অস্ত্র রপ্তানিতে ব্রিটেনের ওপরে রয়েছে।
বর্তমান প্রবণতা অবশ্য দেখাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইউরোপের নিরাপত্তা সংকট ব্রিটেনকে দীর্ঘদিনের তুলনায় দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর দিকে ঠেলে দিয়েছে। সরকারি বিনিয়োগ, বিএই সিস্টেমস ও এমবিডিএর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের অর্ডার বৃদ্ধি, ড্রোন প্রযুক্তির বিস্তার এবং নতুন দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র প্রকল্প—সব মিলিয়ে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা শিল্প আবারও ইউরোপের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সামনে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View more২০১৩ সালে চীনের এক ব্যক্তি ফার্স্ট-ক্লাসের একটি পুরোপুরি রিফান্ডযোগ্য বিমান টিকিটকে এমন কৌশলে ব্যবহার করেছিলেন, যা পরে বিমান কর্তৃপক্ষের নজর কাড়ে। উড়োজাহাজে না চড়েও ওই টিকিট দেখিয়ে তিনি প্রায় এক বছর ধরে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিনামূল্যে খাবার খেয়েছিলেন। ঘটনাটি ঘটে চীনের শানসি প্রদেশের শি'আন বিমানবন্দরে। চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট-ক্লাস টিকিটধারীরা বিমান ছাড়ার আগে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পেতেন, যেখানে খাবার ও পানীয় বিনামূল্যে পাওয়া যেত। ওই ব্যক্তি প্রথমে একটি ফার্স্ট-ক্লাস টিকিট কেনেন। এরপর নির্ধারিত ফ্লাইটে ওঠার বদলে লাউঞ্জে গিয়ে টিকিট দেখিয়ে খাবার খেতেন। খাওয়া শেষ হলে তিনি ফ্লাইটের তারিখ পরবর্তী দিনের জন্য পরিবর্তন করে দিতেন। পরদিন আবার নতুন তারিখের টিকিট নিয়ে বিমানবন্দরে হাজির হতেন। একইভাবে লাউঞ্জে গিয়ে খাবার খেয়ে আবার ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তন করতেন। এভাবে একই প্রক্রিয়া তিনি বারবার চালিয়ে যান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে ওই একই টিকিটের বুকিং ৩০০ বারেরও বেশি পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের এক কর্মীর নজরে আসে। এরপর বিমান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে ওই যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে এবং তার এই কৌশল বন্ধ হয়ে যায়। তবে ঘটনার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল শেষটা। টিকিটটি পুরোপুরি রিফান্ডযোগ্য হওয়ায় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তিনি সেটি বাতিল করেন এবং নিজের দেওয়া পুরো টাকাই ফেরত পান। অর্থাৎ, প্রায় এক বছর ধরে ভিআইপি লাউঞ্জের খাবার ও অন্যান্য সুবিধা নেওয়ার পরও টিকিটটির জন্য শেষ পর্যন্ত তার কোনো খরচই থাকেনি। তৎকালীন বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক ও বিরল ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তবে ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য মূলত ২০১৪ সালে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এসেছে।
হুথিদের দমন করা সৌদি আরবের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়, কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের
ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ দিন পর জীবিত উদ্ধার প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ৮৪ বছরের বৃদ্ধা
অস্ত্র উৎপাদনে শক্তিশালী হচ্ছে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে সামরিক চাহিদা ও বিনিয়োগ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা যেকোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ ও বিচ্ছিন্নতা তৈরির ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির আওতায় শুধু সরকার নয়—ইরানকে আর্থিক বা বাণিজ্যিকভাবে সহায়তা করা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর ও সরকারি সংস্থাও পড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ট্রাম্পের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যার দিক থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তেহরান জানিয়েছে, তারা আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি; তবে আলোচনা আত্মসমর্পণের সমার্থক হতে পারে না। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীনকে নিয়েও বিশেষ নজর রয়েছে, কারণ চীনের সঙ্গে ইরানের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনসহ অন্যান্য দেশের সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি ইরানের ওপর শুধু সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নয়, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানের তেল ও বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার পথও সংকুচিত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘোষণাটির বাস্তব প্রয়োগের নির্দিষ্ট কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি।
যেখানে সেবাই নেই, সেখানেও টিপের দাবি; যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ক্রেতাদের ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন হ্যারি-মেগান, ছয় বছর পর কেন আবার যুক্তরাজ্যে ফিরছেন তারা?
একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি, অন্যদিকে বন্দি ইরানিদের ফেরত, ফাঁস নথিতে ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতি
রাশিয়ায় একটি আদালত কর্তৃক 'চরমপন্থী' বা এক্সট্রিমিস্ট হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর নিজেদের সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অন্যতম শীর্ষ এলজিবিটিকিউ অধিকার গোষ্ঠী 'রাশিয়ান এলজিবিটি নেটওয়ার্ক'। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বিবৃতির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। এর আগে, গত এপ্রিলে রাশিয়ার বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়ের করা এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি আদালত ওই অধিকার গোষ্ঠীটিকে চরমপন্থী হিসেবে আখ্যা দেয়। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত রাশিয়ান এলজিবিটি নেটওয়ার্ক দীর্ঘ সময় ধরে দেশজুড়ে অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছিল। তবে চরমপন্থী তকমা পাওয়ার পর সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ঝুঁকির বিষয়টি গভীরভাবে মূল্যায়নের পরই তারা কার্যক্রম বন্ধের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চরমপন্থী হিসেবে ঘোষণার পর আগের মতো প্রকাশ্যে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তারা জানায়, বর্তমানে এই সংগঠনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। দমনমূলক এই পরিবেশে মানুষের নিরাপত্তাকেই তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গত এক দশক ধরেই এলজিবিটিকিউ অধিকারের ওপর ক্রেমলিনের কঠোর দমনপীড়ন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৩ সালে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট 'আন্তর্জাতিক এলজিবিটি আন্দোলন'-কে চরমপন্থী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে 'ইলগা ওয়ার্ল্ড' নামক একটি বৈশ্বিক অধিকার গোষ্ঠীকেও 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করে মস্কো, যার সঙ্গে যুক্ত থাকলে রাশিয়ায় ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, রাশিয়ান এলজিবিটি নেটওয়ার্ক হলো এ বছর রাশিয়ায় চরমপন্থী আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করা নয়টি অধিকার গোষ্ঠীর মধ্যে একটি। সবশেষে বিদায়বেলায় সংগঠনটি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম হয়তো বন্ধ হচ্ছে, কিন্তু মানুষের মর্যাদা, সংহতি এবং নিজস্ব পরিচয়ে বাঁচার অধিকার কখনোই ধ্বংস করা যাবে না।
ক্যানসারকে হারিয়ে জীবন ফিরে পেয়েছেন, এবার মা হতে চান তরুণী, প্রয়োজন ১০ হাজার ডলার
পর্যটকবাহী সাফারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ মার্কিন নাগরিকসহ নি হত ৭