- প্রচ্ছদ
- Topic
সাবমেরিন
নিজেদের নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে জার্মানির একটি বিখ্যাত কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে ১২টি অত্যাধুনিক ও উচ্চপ্রযুক্তির সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এই সামরিক চুক্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এই মেগা চুক্তিটি পাওয়ার জন্য জার্মানির থিসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হানভা ওশেন কোম্পানির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছিল। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে জার্মানির কোম্পানিটি এই বিলিয়ন ডলারের লাভজনক সরকারি চুক্তিটি হাতিয়ে নিয়েছে। কানাডার নৌবাহিনীতে বর্তমানে যে ৪টি ভিক্টোরিয়া-শ্রেণীর সাবমেরিন আছে, সেগুলো ১৯৯৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে পুরনো কেনা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের পুরনো এই ৪টি সাবমেরিনের মধ্যে ৩টিই বর্তমানে মেরামতের অধীনে রয়েছে। ফলে নিজেদের জলসীমার প্রতিরক্ষার জন্য এবারই প্রথম সম্পূর্ণ নতুন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাবমেরিন কিনতে যাচ্ছে কানাডা। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আগামীতে ন্যাটোর সাথে দেশটির সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন কেনা এই সাবমেরিনগুলো মূলত আধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে শত্রুপক্ষ সহজে এদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারবে না। কানাডার উত্তর মেরু তথা আর্কটিক অঞ্চলের বিশাল জলসীমায় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা জোরদার করতে এগুলো ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে বরফে ঢাকা নর্থওয়েস্ট প্যাসেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত নৌপথে দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি মিশন পরিচালনা করতে এই জার্মান সাবমেরিনগুলো দারুণ কার্যকর। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার তৈরি জাহাজগুলো আকারে বড় হলেও কানাডা শেষ পর্যন্ত জার্মানিকেই বেছে নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ১২টি সাবমেরিন কেনার মূল খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি বা ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এই মেগা চুক্তির মধ্যে আগামী প্রায় অর্ধ শতাব্দীর রক্ষণাবেক্ষণ খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী এই পুরো প্রজেক্টের মোট বাজেট শেষ পর্যন্ত ৭ হাজার কোটি বা ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করতে ফেডারেল সরকার ও জার্মান কোম্পানির মধ্যে আরও কয়েক বছর আলোচনা চলতে পারে। কানাডার ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি দেশের প্রতিরক্ষা বাজেট ব্যাপকভাবে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ করা। সম্প্রতি দেশটি ন্যাটোর দীর্ঘদিনের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জিডিপির ২ শতাংশ অর্জন করেছে। আমেরিকার ওপর সামরিক নির্ভরশীলতা কিছুটা কমিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক মজবুত করতেই কানাডা এই বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এর পাশাপাশি আমেরিকার কাছ থেকে ১৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার প্রতিশ্রুতিও বহাল রেখেছে ওটাওয়া।
বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন সোমবার সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী প্রযুক্তিতে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ‘আল্ট্রা মেরিটাইম’ কিনে নেওয়ার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের এই বিশাল ব্যবসায়িক চুক্তিটির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশে সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াবে লকহিড মার্টিন। আল্ট্রা মেরিটাইম মূলত বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সামরিক ব্যবস্থা তৈরি এবং সরবরাহ করে থাকে। তাদের উৎপাদিত পণ্যের তালিকায় রয়েছে আধুনিক সোনার প্রযুক্তি, সোনোবয়া, টর্পেডো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার সলিউশন এবং স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক সেন্সিং প্ল্যাটফর্মের মতো বিশ্বমানের প্রযুক্তি। লকহিড মার্টিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অধিগ্রহণের ফলে ডুবোজাহাজ এবং সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সামগ্রিক শক্তি অনেক বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে আল্ট্রা মেরিটাইমের তৈরি সোনোবয়া, টানা সোনার অ্যারে এবং জাহাজের নিচে বসানো সোনার লাইনের মতো পণ্যগুলো এখন সরাসরি লকহিড মার্টিনের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। লকহিড মার্টিন রোটারি অ্যান্ড মিশন সিস্টেমসের প্রেসিডেন্ট স্টেফানি সি হিল বলেন, এই চুক্তির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের সহযোগী দেশগুলোর নৌবাহিনীর কাছে আরও উন্নত মানের সাবমেরিন বিধ্বংসী প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। আল্ট্রা মেরিটাইমের আন্তর্জাতিক বাজার এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলো লকহিড মার্টিনের বর্তমান সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। চুক্তির সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আল্ট্রা মেরিটাইম আনুষ্ঠানিকভাবে লকহিড মার্টিনের ‘রোটারি অ্যান্ড মিশন সিস্টেমস’ ব্যবসায়িক খাতের একটি অংশ হিসেবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আধুনিক নৌ প্ল্যাটফর্মের জন্য এই দুই জায়ান্টের একত্রীকরণ সামরিক বাজারে বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চীন ২০২৪ সালের পর প্রথমবারের মতো একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি পারমাণবিক সক্ষম সাবমেরিন থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ধারিত জলসীমার দিকে প্রশিক্ষণ ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয় এবং সেটি নির্ধারিত স্থানে আঘাত হানে। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরুর আগে চীন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপানসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশকে আগাম অবহিত করে। তবে এ ধরনের পরীক্ষা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, এটি তাদের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে। চীনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষা কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে পরিচালিত হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চীন প্রশান্ত মহাসাগরে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছিল, যা ১৯৮০ সালের পর দেশটির প্রথম প্রকাশ্য দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছিল। সর্বশেষ পরীক্ষাটি সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গোপসাগরে ভারতের যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙ্গর’। সেই ঘটনার বহু বছর পর আবারও বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় ফিরছে পাকিস্তানের অত্যাধুনিক ‘হাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিন। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীনে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনপ্রাপ্ত পাকিস্তানের হাঙ্গর শ্রেণির প্রথম সাবমেরিনটি গত সপ্তাহে করাচি বন্দরে এসে পৌঁছেছে। তবে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা কেবল আরব সাগরের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে এই সাবমেরিনকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। বরং একে আরও বিস্তৃত ও দূরপাল্লার সামরিক অভিযানে নিয়োজিত করার মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন তারা। শ্রীলঙ্কার কলম্বোভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মর্নিং’-এর তথ্য অনুযায়ী, চীন থেকে নতুন সাবমেরিনটিকে দেশে নিয়ে আসা নৌবহরের কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক চলতি মাসের শুরুতে কলম্বো বন্দরে এক অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। পাকিস্তানি ফ্রিগেট ‘পিএনএস তৈমুর’-এ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "নতুন হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন বহরে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান এখন থেকে বঙ্গোপসাগরেও নিজেদের কার্যকর সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করবে।" এই সাবমেরিনটিকে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করে কমোডর ফারুক আরও জানান, বেইজিংয়ের সহযোগিতায় এই শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন পর্যায়ক্রমে তাদের নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে ইসলামাবাদ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানি নৌ কর্মকর্তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে ইসলামাবাদ এখন আর শুধু নিজেদের উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি নয়। তারা ভারত মহাসাগরসহ বঙ্গোপসাগরের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় বিস্তৃত অপারেশনাল উপস্থিতি গড়ে তুলতে চায়, যা সরাসরি উন্মুক্ত সমুদ্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে। গত পাঁচ দশকে ভারতীয় নৌবাহিনী ব্যাপকভাবে নিজেদের সম্প্রসারিত করেছে। বর্তমানে ভারতের কাছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, দুটি বিশালাকার বিমানবাহী রণতরী এবং দীর্ঘ-পাল্লার সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের এই নতুন সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরের সার্বিক সামরিক ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে না পারলেও, ভারতের জাতীয় ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য এটি একটি বড় ধরণের কৌশলগত অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তা বলেছেন, নতুন হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন বহর পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে আরও সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করার সক্ষমতা দেবে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার সংবাদপত্র দ্য মর্নিং–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ওমর ফারুক। সাক্ষাৎকারের তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের সহায়তায় নির্মিত ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি আধুনিক সাবমেরিন সম্প্রতি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাবমেরিনটি গ্রহণের জন্য পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কমোডর ওমর ফারুক। চীন থেকে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে অবস্থানকালে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে কমোডর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন পাকিস্তানের সামুদ্রিক সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। তার ভাষায়, এই শ্রেণির সাবমেরিন পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। তিনি আরও জানান, শুধু একটি নয়, একই শ্রেণির আরও সাতটি সাবমেরিন পর্যায়ক্রমে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বহর ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগর এলাকায় পাকিস্তানের নৌ উপস্থিতি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে কারণ ১৯৭১ সালের পর থেকে বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর উপস্থিতি কার্যত সীমিত হয়ে যায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন এই অঞ্চলে মোতায়েন ছিল। তবে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তানের সামুদ্রিক কার্যক্রম মূলত আরব সাগরকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বঙ্গোপসাগর শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক কৌশলগত প্রতিযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর জন্য এই জলসীমা বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভারত দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা ভোগ করে আসছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের সদর দপ্তর বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত। এছাড়া আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান ভারতকে এই অঞ্চলে বাড়তি সামুদ্রিক সক্ষমতা দিয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাকিস্তানের নতুন সাবমেরিন কর্মসূচি মূলত নৌ সক্ষমতা আধুনিকীকরণের অংশ। তবে বঙ্গোপসাগরে উপস্থিতি বৃদ্ধির পরিকল্পনা দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। চীনের সহায়তায় নির্মিত হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিনগুলোকে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের ভবিষ্যৎ কৌশলগত সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। কমোডর ওমর ফারুক সাক্ষাৎকারে এই সাবমেরিনগুলোকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মোতায়েন পরিকল্পনা বা সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বঙ্গোপসাগরে এই উপস্থিতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে এখনো বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইস্যুর প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই পরিকল্পনা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক কৌশলগত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।