সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারে নৌ-প্রতিরক্ষা কোম্পানি কিনে নিল মার্কিন জায়ান্ট লকহিড মার্টিন
বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন সোমবার সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী প্রযুক্তিতে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ‘আল্ট্রা মেরিটাইম’ কিনে নেওয়ার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের এই বিশাল ব্যবসায়িক চুক্তিটির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশে সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াবে লকহিড মার্টিন।
আল্ট্রা মেরিটাইম মূলত বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সামরিক ব্যবস্থা তৈরি এবং সরবরাহ করে থাকে। তাদের উৎপাদিত পণ্যের তালিকায় রয়েছে আধুনিক সোনার প্রযুক্তি, সোনোবয়া, টর্পেডো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার সলিউশন এবং স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক সেন্সিং প্ল্যাটফর্মের মতো বিশ্বমানের প্রযুক্তি।
লকহিড মার্টিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অধিগ্রহণের ফলে ডুবোজাহাজ এবং সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সামগ্রিক শক্তি অনেক বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে আল্ট্রা মেরিটাইমের তৈরি সোনোবয়া, টানা সোনার অ্যারে এবং জাহাজের নিচে বসানো সোনার লাইনের মতো পণ্যগুলো এখন সরাসরি লকহিড মার্টিনের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
লকহিড মার্টিন রোটারি অ্যান্ড মিশন সিস্টেমসের প্রেসিডেন্ট স্টেফানি সি হিল বলেন, এই চুক্তির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের সহযোগী দেশগুলোর নৌবাহিনীর কাছে আরও উন্নত মানের সাবমেরিন বিধ্বংসী প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। আল্ট্রা মেরিটাইমের আন্তর্জাতিক বাজার এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলো লকহিড মার্টিনের বর্তমান সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
চুক্তির সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আল্ট্রা মেরিটাইম আনুষ্ঠানিকভাবে লকহিড মার্টিনের ‘রোটারি অ্যান্ড মিশন সিস্টেমস’ ব্যবসায়িক খাতের একটি অংশ হিসেবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আধুনিক নৌ প্ল্যাটফর্মের জন্য এই দুই জায়ান্টের একত্রীকরণ সামরিক বাজারে বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অভিবাসীদের জন্য কিছু ফেরতযোগ্য কর সুবিধা সীমিত করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট চার ধরনের কর ক্রেডিট থেকে করের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন যোগ্যতা না থাকা অভিবাসীরা। তবে তাঁরা নিজেদের বকেয়া আয়কর কমানোর জন্য এসব কর ক্রেডিটের মূল অংশ ব্যবহার করতে পারবেন। বুধবার প্রকাশিত প্রস্তাবিত বিধিমালায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) বলেছে, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল কল্যাণ আইন অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ নন এমন ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ওপর যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তার আওতায় ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশও পড়বে। প্রস্তাবটি এখন জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামতের জন্য উন্মুক্ত। নতুন প্রস্তাবটি চার ধরনের কর ক্রেডিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এগুলো হলো দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিট, শিশু কর ক্রেডিট, আমেরিকান অপরচুনিটি কর ক্রেডিট এবং অর্জিত আয় কর ক্রেডিট। এই কর ক্রেডিটগুলোর বিশেষত্ব হলো, এগুলো ফেরতযোগ্য। অর্থাৎ কোনো করদাতার পাওনা করের পরিমাণের চেয়ে ক্রেডিট বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ সাধারণত কর ফেরত হিসেবে পাওয়া যায়। নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে অননুমোদিত অভিবাসীরা তাঁদের করের দায় কমানোর জন্য ক্রেডিট ব্যবহার করতে পারলেও অতিরিক্ত অংশ নগদ ফেরত হিসেবে পাবেন না। অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশ পেতে হলে করদাতাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বসম্পন্ন ব্যক্তি অথবা ১৯৯৬ সালের আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ হতে হবে। কর ক্রেডিট প্রথমবার দাবি করার সময় এই যোগ্যতা থাকতে হবে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, করদাতাদের অর্থ এমন ব্যক্তিদের সুবিধায় ব্যবহার করা উচিত নয়, যাঁরা ফেডারেল আইনের অধীনে ওই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। আইআরএস কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানোও বলেছেন, নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো ফেডারেল অর্থায়নে দেওয়া সুবিধা কেবল যোগ্য করদাতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। আইআরএসের হিসাবে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে সরকারের বছরে সর্বোচ্চ ২.৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। তবে এই হিসাব প্রস্তাবিত নিয়মের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, নিশ্চিত সাশ্রয়ের পরিমাণ নয়। এই উদ্যোগের পেছনে ১৯৯৬ সালের ‘পার্সোনাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ওয়ার্ক অপরচুনিটি রিকনসিলিয়েশন অ্যাক্ট’ বা কল্যাণ সংস্কার আইনকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই আইনে নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসীদের জন্য যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। তবে কয়েক দশক ধরে কর ক্রেডিটকে ওই আইনের আওতায় সরাসরি ‘সরকারি সুবিধা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনের ব্যাখ্যা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। নতুন প্রস্তাবের যুক্তি হলো, কোনো কর ক্রেডিট শুধু করের দায় কমিয়ে দিলে সেটি এক বিষয়, কিন্তু করের দায়ের অতিরিক্ত অর্থ সরকার থেকে সরাসরি ফেরত দেওয়া হলে সেটি সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অবশ্য সব ধরনের অভিবাসন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত এক বছরের জন্য বিশেষ ‘প্যারোল’ মর্যাদায় প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কিছু ব্যক্তিকে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রতিটি কর ক্রেডিটের নিজস্ব আয়সীমা ও অর্থ পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিটের একটি নির্দিষ্ট অংশ ফেরতযোগ্য। আবার শিশু কর ক্রেডিট ও অর্জিত আয় কর ক্রেডিট মূলত নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা পরিবার ও কর্মজীবীদের করের বোঝা কমাতে সহায়তা করে। আইআরএসের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, কোনো দম্পতি যৌথভাবে কর বিবরণী জমা দিলে তাঁদের মধ্যে একজন সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের যোগ্য হলেই ফেরতযোগ্য অংশ দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে। অর্থাৎ যৌথ কর বিবরণীর ক্ষেত্রে উভয় ব্যক্তির একই ধরনের যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে নতুন বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা শেষে ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস প্রস্তাবটি পরিবর্তন, চূড়ান্ত বা প্রত্যাহার করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের একটি নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ। ওই নির্দেশনায় ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ১৯৯৬ সালের কল্যাণ সংস্কার আইনের বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ট্রেজারি বিভাগ বিচার বিভাগের আইন পরামর্শ দপ্তরের কাছে ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশ ওই আইনের আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে মতামত চায়। প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইন পরামর্শ দপ্তর মত দিয়েছে যে কর ক্রেডিটের যে অংশ করদাতাকে নগদ অর্থ হিসেবে ফেরত দেওয়া হয়, সেটি সরকারি সুবিধার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। নতুন নিয়মটি অবশ্য ওবামা প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ‘ওবামাকেয়ার’-এর প্রিমিয়াম কর ক্রেডিটে প্রযোজ্য হবে না। ট্রেজারি ও আইআরএস জানিয়েছে, ওই কর সুবিধা নিয়ে ইতোমধ্যেই পৃথক আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। একইভাবে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য চালু হওয়া নতুন ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ এবং যোগ্য শিশুদের জন্য নির্ধারিত এককালীন ১ হাজার ডলারের অর্থও এই প্রস্তাবের আওতায় পড়বে না। কারণ এসব সুবিধা আইন অনুযায়ী শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে চলমান বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের অংশ। তবে প্রস্তাবিত বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় বাস্তবে কখন থেকে এর প্রভাব পড়বে এবং কোন কোন করদাতা ঠিক কতটা সুবিধা হারাবেন, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস, প্রায় সব অঙ্গরাজ্যে বাড়ছে সংক্রমণ
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা দুই চাকরিতে ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি: বলছে গবেষণা
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, বাড়তে পারে বাড়ি-গাড়ি ও ক্রেডিট কার্ডের সুদ
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন ফি পরিবর্তনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নতুন প্রস্তাব সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা পার করেছে। এর ফলে প্রস্তাবটি জনসমক্ষে প্রকাশের আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছে গেল, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই প্রস্তাবটি গত বুধবার অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। প্রস্তাবটির কোড নম্বর হলো 'আরআইএন ১৬১৫-এডি২০' এবং এটি খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে। এইচ-১বি ভিসার ফি সংক্রান্ত এই নতুন প্রস্তাবে ঠিক কত টাকা ফি বাড়ানো হবে, কোন ধরনের নিয়োগকর্তা বা আবেদনকারীরা এর আওতায় পড়বেন এবং এটি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এই প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউস থেকে ছাড়পত্র পেলেও এখনই কোনো নতুন ফি কার্যকর হচ্ছে না। যেকোনো নতুন নিয়ম চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার আগে প্রস্তাবটিকে অবশ্যই ফেডারেল স্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হতে হবে এবং অংশীজনদের মতামত নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন প্রস্তাবটি সামনে এনেছে। এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু এইচ-১বি কর্মীর ওপর ১ লাখ ডলারের বিপুল ফি আরোপ করেছিল প্রশাসন। নতুন এই প্রস্তাব ছাড়াও এইচ-১বি কর্মসূচিতে আরও কিছু বড় পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ভিসার যোগ্যতা যাচাই, নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগকর্তাদের ওপর কঠোর নজরদারি এবং থার্ড-পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে তদারকি বাড়ানোর প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কাজের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবেই ভারতীয় নাগরিকদের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। তাই আবেদন ফি বা অন্যান্য খরচ বাড়লে তা সরাসরি সেসব কোম্পানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যারা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের স্পনসর করে থাকে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি পরিবর্তন করেছিল। বর্তমানে এইচ-১বি কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, নতুন এই প্রস্তাবিত ফি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। তবে এই উদ্যোগ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পেশাজীবী ও তাদের স্পনসর করা কোম্পানিগুলোকে আরও কঠোর নিয়ম এবং অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হতে হবে।
বাংলা, স্প্যানিশ ও ম্যান্ডারিনে কথা বলে নেটদুনিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন নিউইয়র্কের মেয়র
নিউইয়র্কে ডাকযোগে পাঠানো প্রায় ৫ লাখ ডলারের চেক চুরি, যুবক গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক স্কুলের তালিকায় শীর্ষ ১২-তে মিশিগানের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ব্যস্ত শপিং মলের বাইরে ৭৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ২০ জুলাই ক্যাপিটোলা মলের কাছে ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত হন র্যাচেল সামার্স নামের ওই নারী। তিনি স্থানীয় ‘আর্ট অব সান্তা ক্রুজ’ নামের একটি শিল্পগ্যালারির ব্যবস্থাপক ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত টাইলার লেইবেলের সঙ্গে নিহত র্যাচেলের আগে থেকে কোনো পরিচয় বা শত্রুতা ছিল না। এটি ছিল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন একটি হামলা। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নিজেই জরুরি নম্বরে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং রক্তমাখা পোশাকসহ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তবে তদন্ত এগোতেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের ভয়ংকর সব তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। আদালতে দাখিল করা নথির বরাত দিয়ে জানা যায়, টাইলার লেইবেল আগে থেকেই মানুষ হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন। এমনকি হামলার দিন ক্যাপিটোলা মলে যাওয়ার আগেও তিনি অন্য কাউকে হত্যার ছক কষেছিলেন, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে গিয়ে র্যাচেল সামার্সকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। জানা গেছে, এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও বড় ধরনের প্রাণহানির হুমকি দেওয়ায় সান্তা ক্রুজ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় তার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত জরুরি সুরক্ষা আদেশ চেয়েছিল। মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়া এই তরুণ বহু মানুষকে হত্যার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে একটি বিদায়পত্রও লিখেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত লেইবেলের বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার (ফার্স্ট-ডিগ্রি) হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার ও ওত পেতে থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে আগামী ৮ অক্টোবর মামলার প্রাথমিক শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এদিকে, সদ্য নানি হওয়া র্যাচেল সামার্সের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্যাপিটোলা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার নাতির ভবিষ্যৎ শিক্ষার জন্য গঠিত তহবিলে ইতিমধ্যেই ১৪ হাজার ৭১২ ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে। অতীতে একাধিকবার সহিংসতার ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও কেন এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এড়ানো গেল না, তা নিয়েই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে বাড়িতে ঢোকার মুহূর্তে ধসে পড়ল বারান্দা, আহত ৭ কর্মকর্তা
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালিকে নিয়ে রোজি ও’ডনেলের মন্তব্যে তুমুল আলোচনা