সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাইবার অপরাধ তদন্তে স্বতন্ত্র ইউনিট চালু,
সাইবার অপরাধ তদন্তে স্বতন্ত্র ইউনিট চালু, জনবল কাঠামোয় ৪ হাজার ৫৯২ পদ

সাইবার অপরাধের তদন্ত ও প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে ইউনিটটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি নতুন ইউনিটের জনবল ও কার্যক্রমের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।   অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোয় ইউনিটটির জন্য ৪ হাজার ৫৯২টি পদ রাখা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের দিনই এই সংখ্যক সদস্য কাজে যোগ দিয়েছেন, এমন তথ্য সরকার দেয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুরুতে পুলিশের বিদ্যমান বাহিনী থেকে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পদায়ন করা হবে। পরে নিয়োগের মাধ্যমে জনবল কাঠামো পূর্ণ করা হবে।   ইউনিটটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার বা মনোনীত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কার্যক্রম তদারকি করবেন। থানায় সাইবার সেবা ও তদন্তের জন্য এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিটি থানায় ইতিমধ্যে দুই থেকে তিনজন প্রশিক্ষিত তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করছেন, এমন তথ্য উদ্বোধনী বক্তব্যে নিশ্চিত করা হয়নি।   পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ছড়িয়ে থাকা সাইবার তদন্তকে একটি কাঠামোয় আনার লক্ষ্য জানিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিটের অধীনে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে। ডার্ক ওয়েব, ক্রিপ্টো, ম্যালওয়্যার, আর্থিক তথ্য ও সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন কাজে চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ল্যাব ও বিশেষজ্ঞ পদে নিয়োগের কথা ভবিষ্যৎ উদ্যোগ হিসেবে জানিয়েছেন তিনি।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার ও অপরাধের ধরন বদলে যাওয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। নতুন ইউনিট আর্থিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধসহ বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্তে সহায়তা করবে বলে সরকার আশা করছে। তবে ইউনিটটির জন্য পৃথক ২৪ ঘণ্টার সহায়তা কেন্দ্র চালু হয়েছে বা সেটি ৯৯৯-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে - এমন ঘোষণা যাচাই করা সূত্রগুলোতে পাওয়া যায়নি।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
২০০৮ সালে সালাহউদ্দিনের সম্পদ ছিল ৬.৩ কোটি, ২০২৫ এ ৩০ কোটি এত সম্পদের উৎস কী!
২০০৮ সালে সালাহউদ্দিনের সম্পদ ছিল ৬.৩ কোটি, ২০২৫ এ ৩০ কোটি এত সম্পদের উৎস কী!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের উৎস ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শুক্রবার, ২ অক্টোবর ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি এমপি-মন্ত্রী ও তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব নিয়মিত যাচাইয়ের আহ্বান জানান। এই প্রক্রিয়া তাঁকে দিয়ে শুরু করার কথাও বলেন।    ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসনাত পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদ ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে কয়েকটি হিসাব তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনী হলফনামা অনুসারে এই দম্পতির সম্পদ ২০০৮ সালে ৬ কোটি ৩০ লাখ, ২০১৮ সালে ১২ কোটি ৭০ লাখ এবং ২০২৫ সালে ৩০ কোটি টাকা ছিল। এসব অঙ্ক হাসনাতের পোস্টে উল্লিখিত হিসাব।    গুলশানে সম্পত্তি এবং সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আয়, উত্তরাধিকার ও বিনিয়োগ থেকে কতটা সম্পদ এসেছে, তার যাচাইযোগ্য ব্যাখ্যা প্রকাশের দাবি জানান হাসনাত।    সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র কারও হিসাব চাইতে পারে। তবে সরকারের সমালোচনার পর এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনস্বার্থে একইভাবে এমপি-মন্ত্রীদের হিসাবও যাচাইয়ের দাবি জানান।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
অপ্রতিম হ ত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অপ্রতিম হ ত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হ ত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার আশা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রামিসা হ ত্যা কাণ্ডের মতো অপ্রতিম হ ত্যা মামলার বিচারও দ্রুততম সময়ে শেষ করার চেষ্টা করা হবে। মন্ত্রী জানান, অপ্রতিম নি খোঁ জ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার ম র দে হ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে আগে এবং একজনকে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের সঙ্গে অপ্রতিমের বন্ধুত্ব ও নিয়মিত ওঠাবসা ছিল। তদন্তে তাদের কয়েকজন অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বয়সে বড় বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেরও গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তার সঙ্গে থাকা আইফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার প্রয়োজনীয় আলামতও জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলোর ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাদের বক্তব্য আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রমের পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার অপ্রতিমের দা ফ ন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর পরদিন তার ম র দে হ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে; তবে বিচার করবে আদালত। এখন তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা, জবানবন্দি এবং পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়াই মামলার পরবর্তী ধাপ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ছবি: সংগৃহীত
বেনজীরকে দেশে ফেরাতে ইউএইকে নথি পাঠানো হয়েছে, এখনো কোনো জবাব মেলেনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।   তিনি জানান, বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের পর আবুধাবি থেকে ফেডারেল পুলিশ ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি অবহিত করে। একই সঙ্গে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠাতে বলা হয়।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা তিন দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করেছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেগুলো ইউএই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”   সীমান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশিদের ‘পুশইন’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকেই জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   তিনি বলেন, “আমরা কূটনৈতিকভাবে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছি, যদি কোনো বাংলাদেশি সেখানে অবস্থান করে, তাহলে তাদের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমাদের কাছে পাঠানো হোক। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”   এ সময় শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, মামলার তিন আসামিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গ্রেফতার করেছে এবং তারা বর্তমানে কলকাতায় রয়েছে বলে জানা গেছে।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “ভারতের আইন অনুযায়ী আদালতে মামলা হয়েছে। আমরা এক্সট্রাডিশন চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে পাঠিয়েছি। আশা করছি, তাদের শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।”   তিনি আরও বলেন, আসামিদের ফেরত আনার পর মামলার বাকি তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল করা যাবে।

Unknown জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
সংগৃহীত ছবি
সংসদে জিসান বিতর্ক: বক্তব্য বাদ দেওয়ার দাবি বিরোধীদের

জাতীয় সংসদে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল।   রোববার (১৪ জুন) সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারায় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জিসান মিয়ার ‘নিখোঁজ’, উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগের বিষয়েও সংসদকে অবহিত করেন তিনি।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ওই নারী গর্ভবতী হলে তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং এতে জিসানের এক আত্মীয় সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিয়ে এড়িয়ে আত্মগোপনে চলে যান জিসান এবং তার স্বজনের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে কুমিল্লার লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।   একই বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্নীতির মামলায় পলাতক সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তারের তথ্যও সংসদকে জানান।   তবে জিসান প্রসঙ্গ সংসদে তোলার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, একটি বিতর্কিত বিষয় এভাবে সংসদে উপস্থাপন করা অনভিপ্রেত এবং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা হতে পারে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই অংশের বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।   এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা নিজেদের আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জবাব দিতে দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে কিছু সময়ের জন্য সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল হস্তক্ষেপ করেন। তিনি জানান, ৩০০ ধারায় প্রদত্ত বিবৃতির ওপর সাধারণত প্রশ্ন বা বিতর্কের সুযোগ নেই, তবে নিয়ম মেনে স্পষ্টীকরণ চাওয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, যদি কোনো বক্তব্য সংসদীয় রীতির পরিপন্থী প্রমাণিত হয়, তাহলে বিধি অনুযায়ী তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।   ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশনার পর উভয় পক্ষ আসনে ফিরে গেলে সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
টিআইবির প্রতিবেদন শুধু পত্রিকার কাটিংনির্ভর নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের কোন ভিত্তি নেই: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন শুধু পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া এমন বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই বলে জোরালো মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই পাল্টা জবাব দেয়।   বিবৃতিতে টিআইবি উল্লেখ করেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন যে টিআইবি কোনো তদন্ত সংস্থা নয়। এটি মূলত একটি গবেষণানির্ভর দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসনবিষয়ক অধিপরামর্শ, জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা ভিত্তিক পরিবর্তনপ্রত্যাশী সামাজিক সংগঠন। সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত গুণগত এবং পরিমাণগত তথ্য সংগ্রহের বিজ্ঞানসম্মত পরিসংখ্যান পদ্ধতি অনুসরণ করেই তাদের প্রতিটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।   সংস্থাটি আরও জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে টিআইবি যে তথ্যগুলো ব্যবহার করেছে, তার মূল উৎস ছিল বাংলাদেশ পুলিশ ও তিনটি সুপরিচিত মানবাধিকার সংগঠন। যা প্রতিবেদনে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং টিআইবির এই প্রতিবেদনকে ঢালাওভাবে ‘পত্রিকার কাটিং নির্ভর’ বলা শুধু অযৌক্তিকই নয়, বরং মূল সংকট ও বাস্তব বিষয়কে পাশ কাটানোর একটি ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়।   বিবৃতিতে টিআইবি প্রশ্ন তোলে, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় না? অতএব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান বা অপপ্রচারের নামে গণমাধ্যমকে এভাবে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। পুলিশ কর্তৃপক্ষও সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক, সেই মূল পর্যবেক্ষণের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেনি বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

তাবাস্সুম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
‘জুলাই যোদ্ধা’দের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি: সংসদে বিল পাস

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দিতে জাতীয় সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিলটি সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।   সভার শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ শিরোনামের বিলটি উত্থাপন করেন। পরে আলোচনা শেষে তা পাস হয়।   নতুন আইনের ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ তৈরি হলো। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব মামলা বাতিল করা হবে বলে আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ছাড়া এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন করে মামলা দায়ের বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনি দায়মুক্তি পাবেন।   একই দিনে সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ বিল-২০২৬’ও পাস হয়। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে এখন থেকে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকেও সন্ত্রাসে সম্পৃক্ততার অভিযোগে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত হলো।   এই সংশোধনের ফলে ক্ষমতাচ্যুত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার আইনি ভিত্তিও নিশ্চিত হয়েছে।

Unknown এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ । ছবি: সংগৃহীত
বিসিবিতে ‘বাপের দোয়া-মায়ের দোয়া’ কমিটি করি নাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিসিবিতে কোনো ধরনের ‘বাপের দোয়া’ বা ‘মায়ের দোয়া’ ভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়নি।   বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা বলেন তিনি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ-এর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।   এর আগে সংসদে নিজের বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন আর আগের মতো নেই। তার ভাষায়, “বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নেই, এটি ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে।”   তিনি ওইদিন বিকেলে সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ বিল-২০২৬’ উত্থাপনের প্রস্তাবে আপত্তি জানাতে গিয়ে বিসিবির পরিচালনা কাঠামো নিয়ে এই সমালোচনা করেন।   এমন প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে অভিযোগটি নাকচ করে বলেন, বোর্ড পরিচালনায় কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক বা অনিয়মের সুযোগ নেই এবং এ ধরনের মন্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

Unknown এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে: জুলাই সনদ অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনা ও 'জুলাই সনদ'কে সংবিধানে স্থায়ী রূপ দিতে সংস্কার নয় বরং প্রয়োজনীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে সম্মান জানিয়ে 'জুলাই ঘোষণা'র মূল নির্যাসকে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও উচ্চতা অন্য কিছুর সাথে তুলনীয় নয়। সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিগত সরকার বড় ধরনের 'লেজিসলেটিভ ফ্রড' বা আইনি প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, হাইকোর্ট ইতিমধ্যে ওই সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। এখন এই সার্বভৌম সংসদ ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে চাপিয়ে দেওয়া ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা বাতিল করে প্রকৃত ইতিহাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট থেকে 'প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট' হিসেবে তা প্রচার করেন—এটিই প্রকৃত ইতিহাস। সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত 'মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' নীতিটি সংবিধানে পুনর্বহাল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়া তিনি জানান, রাষ্ট্রক্ষমতায় জনগণের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'উচ্চকক্ষ' প্রবর্তনের ম্যান্ডেট রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে। বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে দেশ চলবে না।" তিনি সরকারি, বিরোধী ও স্বতন্ত্র সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সংবিধানকে যুগোপযোগী করার আহ্বান জানান।

Unknown এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
তেল পাচার ও কৃত্রিম সংকট রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে সরকারি দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, অসাধু চক্রের তৎপরতা ও সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই; ইতিমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টনের জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং সমপরিমাণ তেল আসার পথে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তেলের বাজার মনিটরিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল সংসদ অধিবেশনে জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন।   এছাড়া বৈঠকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, সংরক্ষিত নারী আসন ও বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চিফ হুইপ জানান, সংসদ সদস্যদের এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তাবাস্সুম মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্মৃতিসৌধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের শ্রদ্ধা । ছবি: পুলিশ সদর দপ্তরের সৌজন্যে
স্বাধীনতা দিবসে রাজারবাগে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্মৃতিসৌধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।   বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থিত পুলিশ স্মৃতিসৌধে তাঁরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।   প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   এরপর আইজিপি আলী হোসেন ফকির শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন।   পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিউব্লিউএন)-এর পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো স্থাপনা থাকবে না

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত রাখার জন্য কোনো স্থাপনা অনুমোদন করা হবে না। রবিবার (২২ মার্চ) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে সুগন্ধা পয়েন্টে উচ্ছেদকৃত স্থান পরিদর্শনকালে তিনি এ তথ্য জানান।   মন্ত্রী জানান, নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান চলমান থাকবে। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।   পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় বালিয়াড়িতে কোনো স্থাপনা রাখা যাবে না এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।   এর আগে, ৯ মার্চ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট দখলমুক্ত করা হয়েছে।

Unknown মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

হাতে ১০ হাজার ডলার? এখন কোথায় বিনিয়োগে সুযোগ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০