জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনা ও 'জুলাই সনদ'কে সংবিধানে স্থায়ী রূপ দিতে সংস্কার নয় বরং প্রয়োজনীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে সম্মান জানিয়ে 'জুলাই ঘোষণা'র মূল নির্যাসকে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও উচ্চতা অন্য কিছুর সাথে তুলনীয় নয়। সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিগত সরকার বড় ধরনের 'লেজিসলেটিভ ফ্রড' বা আইনি প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, হাইকোর্ট ইতিমধ্যে ওই সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। এখন এই সার্বভৌম সংসদ ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে চাপিয়ে দেওয়া ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা বাতিল করে প্রকৃত ইতিহাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট থেকে 'প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট' হিসেবে তা প্রচার করেন—এটিই প্রকৃত ইতিহাস। সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত 'মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' নীতিটি সংবিধানে পুনর্বহাল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়া তিনি জানান, রাষ্ট্রক্ষমতায় জনগণের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'উচ্চকক্ষ' প্রবর্তনের ম্যান্ডেট রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে। বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে দেশ চলবে না।" তিনি সরকারি, বিরোধী ও স্বতন্ত্র সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সংবিধানকে যুগোপযোগী করার আহ্বান জানান।
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে সরকারি দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, অসাধু চক্রের তৎপরতা ও সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই; ইতিমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টনের জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং সমপরিমাণ তেল আসার পথে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তেলের বাজার মনিটরিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল সংসদ অধিবেশনে জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া বৈঠকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, সংরক্ষিত নারী আসন ও বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চিফ হুইপ জানান, সংসদ সদস্যদের এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্মৃতিসৌধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থিত পুলিশ স্মৃতিসৌধে তাঁরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর আইজিপি আলী হোসেন ফকির শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিউব্লিউএন)-এর পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত রাখার জন্য কোনো স্থাপনা অনুমোদন করা হবে না। রবিবার (২২ মার্চ) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে সুগন্ধা পয়েন্টে উচ্ছেদকৃত স্থান পরিদর্শনকালে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান চলমান থাকবে। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় বালিয়াড়িতে কোনো স্থাপনা রাখা যাবে না এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে, ৯ মার্চ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট দখলমুক্ত করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো বিচারাধীন এবং এটি আইনে পরিণত হলে তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরুর আগে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের নয়। সংবিধান অনুযায়ী এমন কোনো পরিষদের অস্তিত্ব নেই। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে যদি কোনো সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয় আসে, তাহলে প্রথমে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে। সেই সংশোধনী সংসদে আলোচনা ও অনুমোদনের মাধ্যমে পাস হতে হবে। সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই এ ধরনের কোনো পরিষদ গঠন বা শপথ গ্রহণের বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। এ সময় তিনি আরও জানান, সংসদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার তাঁদের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে বিষয়টি সংসদে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমিনিটি দেওয়ার বিষয়টি জাতীয়ভাবে সম্মত থাকা প্রয়োজন। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার অধ্যাদেশ, নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি বলেন, অভ্যুত্থানে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের হাতে যদি কিছু মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়ে থাকে, সেটিকে সবসময় মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যায় না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলিতে ১৪০০-এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এতে জাতীয়ভাবে সম্মত থাকতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, লাখ লাখ মামলার মধ্য দিয়ে দেশে শান্তি স্থাপন করা সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদের পতনের পর নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে, হিংসা-প্রতিহিংসার পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। সেই চিন্তায় রিকন্সিলিয়েশন ব্যবস্থা গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ কমিশনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে হয়তো হাফ ট্রুথ কমিশন গঠন করা হবে। তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন কমিশন গঠন করতেই হবে। এটি জাতির ঐক্য বজায় রাখা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কক্সবাজার সফরে এসে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দেন এবং সমুদ্রসৈকতের শৃঙ্খলা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানিয়েছেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে এবং সৈকতে থাকা সব অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণ করা হবে। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ও নবগঠিত বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ব্যাটারিচালিত টমটম ও অন্যান্য অযান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যা আর বৃদ্ধি পাবে না। ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত জনবল সরবরাহ করা হবে এবং লাইসেন্সের নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, সৈকতকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং পর্যটকদের জন্য অসুবিধাজনক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যা পুলিশ প্রশাসনের নেতৃত্বে বাস্তবায়ন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় কক্সবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও সার্বিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন–এর ভাষণ নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন; তিনি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। দেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংসদকে স্মরণীয় করে রাখতে হলে এর কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা পূরণে সংসদের ভূমিকা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বিরোধী দলের প্রসঙ্গে বলেন, ডেপুটি স্পিকারকে লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সরকার এ বিষয়ে উদারতা দেখিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ পুলিশের অধিকাংশ সদস্য আগের গাঢ় নীল রঙের (নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট) পোশাকে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মতামত দেওয়া সদস্যদের মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার ৯১৩ জন আগের পোশাকের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমানে ব্যবহৃত লৌহ (আয়রন) রঙের শার্ট ও কফি (শেল) রঙের প্যান্টের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৯১১ জন সদস্য। বুধবার (৪ মার্চ) পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার সদস্য কর্মরত আছেন। গত সোম ও মঙ্গলবার দেশের ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কল্যাণ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পুলিশ, রেঞ্জ পুলিশ ও পুলিশ সদর দপ্তরের সদস্যসহ মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৬৪১ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন। প্যারেডে অংশ নেওয়া সদস্যদের কাছে লিখিত ফর্মের মাধ্যমে পোশাক নিয়ে মতামত চাওয়া হয়। সেই মতামতের হিসাব অনুযায়ী দেখা গেছে, প্রায় ৯৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ সদস্য আগের নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট এবং মহানগর এলাকায় সবুজ শার্ট ও গাঢ় রঙের প্যান্টের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে ২ হাজার ৮১৭ জন সদস্য ভিন্ন রঙের পোশাক চান, যা মোট মতামতের প্রায় ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করার পর পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। এদিন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে পুলিশ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে জানতে চান, পোশাক পরিবর্তন করলে পুলিশের মানসিকতার পরিবর্তন হবে কি না। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে তৎকালীন সরকার পুলিশের আগের পোশাক নির্ধারণ করেছিল। তখন আবহাওয়া, দায়িত্ব পালনের সুবিধা, দৃশ্যমানতা এবং অন্যান্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্য না থাকার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছিল। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ধারিত নতুন পোশাক নির্বাচন করার সময় পুলিশ সদস্যদের মতামত, আবহাওয়া ও অন্যান্য বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে অন্যান্য ইউনিফর্মধারী বাহিনীর সঙ্গে পোশাকের সাদৃশ্য তৈরি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করতে সমস্যা তৈরি করছে। এ কারণে পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গত ১৩ দিনে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটেছে এবং সরকার আইনশৃঙ্খলা আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে স্বাভাবিকভাবেই স্থিতিশীলতা আসে এবং মানুষের মনে আস্থা তৈরি হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। গত ১৩ দিনে কী ধরনের উন্নতি হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরসিংদীর একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা বাস্তবায়ন করেছে। অন্যান্য কয়েকটি ঘটনাতেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা আন্তরিক ও কঠোর তা জনগণ ইতোমধ্যে বুঝতে পেরেছে। তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। মন্ত্রী আনন্দের সঙ্গে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন বলে আখতার হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেন। পোস্টে তিনি জানান, ‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে আয়োজিত ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল কর্মসূচি শুরু হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উক্ত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন।
দেশে পাসপোর্ট প্রাপ্তিতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে পাসপোর্ট সেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। অধিকাংশ মানুষ সঠিকভাবে আবেদন করার নিয়ম না জানায় দালালচক্র বা অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের কবলে পড়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও হয়রানির শিকার হন। তিনি জানান, এ সমস্যা নিরসনে সরকার নতুন একটি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দলিল লেখকদের মতো পাসপোর্ট কার্যক্রমেও কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ‘নিবন্ধিত সহায়তাকারী’ হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব নিবন্ধিত সহায়তাকারী আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবেন। বিনিময়ে তারা নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ নিতে পারবেন। এতে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে এবং দালালনির্ভরতা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে পাসপোর্ট সেবা আরও স্বচ্ছ ও সহজলভ্য হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তিনি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো এই অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি একটি শোক প্রস্তাবও আনা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
সরকার গঠনের পর বুধবার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে মব কালচার শেষ এবং এটি আর কোনোভাবে উৎসাহিত করা যাবে না। মন্ত্রী বলেন, দাবির যে কোনো অভিযোগ অবশ্যই যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করতে হবে। মিছিল বা সমাবেশ করা যাবে, তবে দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে মহাসড়ক বন্ধ করা যাবে না। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, মব কালচার সহ্য করা হবে না। পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের বন্ধু হিসেবে পুলিশকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং পূর্বের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তির পুনর্নির্মাণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত রাখার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “টোটালি করাপশন ফ্রি মিনিস্ট্রি” নিশ্চিত করতে হবে। সবার দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, এবং যে কেউ বাহিনীর মধ্যে অপরাধে জড়িত থাকলে সাথে সাথে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews