সামাজিক মাধ্যম

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে ভুয়া খবর করায় আমিরাতে ১৯ ভারতীয়সহ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর অভিযোগে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। এতে ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।   রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং গুজব প্রতিরোধের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-সামসি জানান, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনলাইনে কোনো ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কার্যক্রম তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দলটি বাস্তব ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়েছে যা দেশের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। দ্বিতীয় দলটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভুয়া ভিডিও তৈরি ও প্রচার করেছে। তৃতীয় দলটি অনলাইনে শত্রুপক্ষের প্রশংসা করে বিভিন্ন তথ্য প্রচার করেছে।   আমিরাত প্রশাসন জানিয়েছে, এই কার্যক্রম দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অভিযুক্তরা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের এক বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যক্রম শুরু করেছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়েছে।   সূত্র: এনডিটিভি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ঢাকার রাস্তায় মডেল মনিকার মারধরের দৃশ্য।
ঢাকার ব্যস্ত সড়কে পথচারীকে মারধর করলেন বিদেশি নারী মডেল

রাজধানীর গুলশান এভিনিউতে এক পথচারীকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী সড়কের মাঝেই এক পথচারীকে আঘাত করছেন। পরে জানা যায়, ওই নারী রাশিয়ান বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মডেল মনিকা কবির।   ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাফিক সিগন্যালে অসংখ্য গাড়ি থেমে আছে। এ সময় কাঁধে ব্যাগ নিয়ে এক পথচারী রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তখন ওই ব্যক্তির ব্যাগ মনিকার কনুইয়ে লাগে বলে ধারণা করা হয়।   এরপর তিনি হাত বাড়িয়ে লোকটিকে ধাক্কা দেন এবং হাতে থাকা ব্যাগ দিয়ে আঘাত করতে শুরু করেন। কয়েক মুহূর্ত ধরে তাকে মারধর করতে দেখা যায়। আশপাশে লোকজন উপস্থিত থাকলেও কাউকে তেমন হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়নি।   ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এ ঘটনার সমালোচনা করেছেন। তবে কিছু সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, ওই পথচারী নাকি মনিকার প্রতি অশোভন ইঙ্গিত করেছিলেন, যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   ভিডিওর শেষ দিকে দেখা যায়, ঘটনার পর মনিকা ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে একটি ‘ফ্লাইং কিস’ ছুড়ে দেন। মনিকাকে মূলধারার মডেলিংয়ে খুব বেশি সক্রিয় দেখা যায় না। বিভিন্ন সময় ইউটিউব সাক্ষাৎকার ও অনলাইন ভিডিওতে নানা বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন। এবার গুলশানের সড়কে পথচারীকে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আবারও আলোচনায় এলেন তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দুই সন্তানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পরীমনির আবেগঘন মুহূর্ত

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি দীর্ঘ বিরতির পর ‘ডোডোর গল্প’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও বড়পর্দায় ফিরছেন। আগামী ঈদে মুক্তি পেতে যাওয়া এই সিনেমা দিয়ে অভিনয়ে প্রত্যাবর্তন হলেও সামাজিক মাধ্যমে বরাবরই সক্রিয় রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে দুই সন্তান পুণ্য ও প্রিয়মকে ঘিরেই তার ব্যস্ততা ও ভালোবাসার জগৎ।   নায়ক শরীফুল রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই সন্তানকে নিয়ে সিঙ্গেল মাদারের দায়িত্ব পালন করছেন পরীমনি। কাজের পাশাপাশি সন্তানদের সময় দেওয়াকেই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই সন্তানদের সঙ্গে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্ত শেয়ার করেন এই অভিনেত্রী।   শুক্রবার দুপুরে ফেসবুকে সন্তানদের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন পরীমনি। ছবিতে দেখা যায়, গাড়ির ভেতরে দুই পাশে সন্তানদের আগলে রেখে হাসিমুখে বসে আছেন তিনি। কালো রঙের হিজাব ও চশমায় পরীমনিকে দেখা গেছে স্নিগ্ধ রূপে। আর দুই সন্তান পরেছিল লাল রঙের ম্যাচিং পোশাক। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘হ্যাপি ফ্রাইডে! মাশাআল্লাহ।’   পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভক্ত-অনুরাগী ও নেটিজেনরা মা ও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানান। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই ছবিটিকে একটি সুখী পরিবারের প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
পিয়া জান্নাতুল। ছবি: সংগৃহীত
পিয়া জান্নাতুলের মানবিক আহ্বান

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী, মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল ২০০৭ সালে ‘মিস বাংলাদেশ’ খেতাব অর্জনের মাধ্যমে বিনোদন জগতে পরিচিতি পান। গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যম পর্যন্ত তিনি ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ রাখেন।   সম্প্রতি জাপানের ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানার একটি মা হারানো বানরের বাচ্চার ভিডিওতে তার মনোযোগী হন। ভিডিওতে দেখা যায়, বাচ্চা বানরটি একটি নরম খেলনা আঁকড়ে ধরে আছে। তবে অসহায় প্রাণীর কষ্টকে বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রচারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা অভিনেত্রীকে অপ্রীতিকর মনে হয়েছে।   পিয়া জান্নাতুল সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “দেখলাম ও একটা নরম খেলনা জড়িয়ে ধরে আছে। সত্যি বলছি, ভিডিওটা দেখে খারাপ না লাগা সম্ভব নয়। কিন্তু এরপর অনেক ব্র্যান্ড ওর নাম ট্যাগ করে নিজের প্রোডাক্টের সঙ্গে ওর গল্প জুড়ে দিয়েছে। এটা আমার কাছে স্বার্থপর মনে হয়েছে।”   তিনি আরও বলেন, “এখন তো রমজান। আমরা নিজেরাই রোজা রেখে বুঝি পেটের কষ্ট কী। তাহলে ভাবুন, রাস্তায় থাকা প্রাণীগুলো কেমন কষ্ট পায়।”   অভিনেত্রী ভক্ত-অনুরাগীদের মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দয়া করে একটু মানবিক হই। সম্ভব হলে কিছু খাবার দিই, খেয়াল রাখি। রমজান আমাদের শুধু নিজের ইবাদত নয়, অসহায় প্রাণীদের প্রতিও দায়িত্ব মনে করিয়ে দিক।”   এর আগে তিনি হিজাব পরিহিত ছবি শেয়ার করে নিজের ধর্মচর্চা ও দায়িত্বের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। পিয়া বলেন, “ইবাদত আমার কাছে শুধু অনুভূতি নয়, দায়িত্ব ও চর্চা। আমি যেমন ফ্যাশন মডেল, তেমনই পেশাদার আইনজীবীও। আধুনিক চিন্তাভাবনা ও ধর্মীয় বিশ্বাস আমার ব্যক্তিত্বের অংশ।”   তিনি আরও বলেন, “আমার বা অন্য কারো কাজ পছন্দ হতে পারে বা নাও হতে পারে। তবে সম্মান সবসময় থাকা উচিত—সব মানুষের জন্য, সব ধর্মের জন্য, সবার বিশ্বাসের জন্য।” অভিনেত্রী সকলকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0