- প্রচ্ছদ
- Topic
স্মার্টফোন
নতুন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স কিনেছেন এমন কিছু গ্রাহকের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত অল্পসংখ্যক আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে সেলুলার সংযোগ হারানোর সমস্যা দেখা দিয়েছে। অ্যাপল জানিয়েছে, সমস্যার কারণে আক্রান্ত ফোনে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ফোন কল করা, বার্তা পাঠানো কিংবা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা সম্ভব নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাগ্রস্ত ফোন বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, সমস্যাটি আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের একটি ছোট অংশকে প্রভাবিত করছে। অর্থাৎ নতুন এই মডেলের সব ফোনে এমন সমস্যা হচ্ছে না। এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা নির্দিষ্ট কিছু ডিভাইসেই মূলত সমস্যাটি দেখা গেছে। আক্রান্ত ফোনে কখনো পুরোপুরি, আবার কখনো বিরতিতে নেটওয়ার্ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে ফোনের স্ক্রিনে ‘এসওএস’ দেখাতে পারে। অ্যাপল ইতোমধ্যে সমস্যাটি ঠেকাতে সফটওয়্যার আপডেট দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য আইওএস ২৭.০.১ প্রকাশ করেছে এবং নতুন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের এই আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দিয়েছে। অ্যাপলের নিজস্ব আপডেট নোটে আইওএস ২৭.০.১-এর বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কের জন্য ক্যারিয়ার সেটিংস আপডেটও দেওয়া হয়েছে। অ্যাপল জানিয়েছে, এই আপডেট আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হবে। লক্ষ্য হলো নতুন করে যাতে একই সমস্যায় আরও ব্যবহারকারী আক্রান্ত না হন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সফটওয়্যার আপডেট সব আক্রান্ত ফোনের সমস্যা সমাধান করবে—এমনটা অ্যাপল বলেনি। যেসব আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ইতোমধ্যে এই সমস্যার কারণে সেলুলার সেবা হারিয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যার বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে অ্যাপল নিশ্চিত করেছে। এটিঅ্যান্ডটিও বিষয়টি স্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অ্যাপলের সঙ্গে কাজ করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের সর্বশেষ সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাই আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হলো ফোনে সর্বশেষ সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করা। স্বাভাবিকভাবে ফোনে নেটওয়ার্ক কাজ করলে আপডেট করে নেওয়াই অ্যাপলের পরামর্শ। আর যদি ফোনে এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্ক সংযোগের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে প্রথমে মোবাইল সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজন হলে এরপর অ্যাপল সাপোর্টের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। নতুন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের বাজারমূল্যও কম নয়। এটিঅ্যান্ডটির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ২৫৬ গিগাবাইট সংস্করণের খুচরা মূল্য ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে শুরু। ৫১২ গিগাবাইট সংস্করণের দাম ১ হাজার ৪৯৯ ডলার, ১ টেরাবাইট সংস্করণের দাম ১ হাজার ৮৯৯ ডলার এবং ২ টেরাবাইট সংস্করণের দাম ২ হাজার ৪৯৯ ডলার। আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৬.৯ ইঞ্চির ডিসপ্লে, ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ব্যবস্থা এবং এ২০ প্রো চিপ রয়েছে। অ্যাপলের নতুন প্রিমিয়াম আইফোন সিরিজের অংশ হিসেবে এটি বাজারে এসেছে। তবে নতুন ডিভাইসটির এই সংযোগ সমস্যা বিশেষ করে এটিঅ্যান্ডটি গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অ্যাপলের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সমস্যা নির্দিষ্ট সংখ্যক ফোনে সীমাবদ্ধ। তাই শুধু আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহার করছেন বলেই ফোন বদলাতে হবে—এমন কোনো নির্দেশনা নেই। বরং ডিভাইসে সমস্যা দেখা দিয়েছে কি না এবং সেটি এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যাগ্রস্ত ফোনের ক্ষেত্রে অ্যাপল বা এটিঅ্যান্ডটির মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
স্মার্টফোন এখন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ। খবর জানা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, কাজের সমন্বয় কিংবা নানা প্রয়োজনীয় কাজ—সবকিছুতেই স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ছে। তবে এর পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারের একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে তারা যতটা ঘুম পেতেন, তার চেয়ে কম ঘুম পাচ্ছেন। বিপরীতে মাত্র ৫ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আর ৪৬ শতাংশের মতে, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের ওপর তেমন কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের আমেরিকান ট্রেন্ডস প্যানেল-এর মাধ্যমে ২০২৬ সালের ২৬ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। এতে অংশ নেন ৯ হাজার ৭৫০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক। বয়সভেদে স্মার্টফোনের প্রভাবের পার্থক্য বেশ স্পষ্ট। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬২ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৫২ শতাংশ। ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ একই কথা বলেছেন। শুধু ঘুম নয়, স্মার্টফোন কাজের উৎপাদনশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের উৎপাদনশীলতা কমিয়েছে। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৪৩ শতাংশ, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৮ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ১৫ শতাংশ। মানসিক অবস্থার ক্ষেত্রে অবশ্য চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। জরিপে ২২ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিপরীতে ১৮ শতাংশ বলেছেন, এটি তাদের মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় অংশ, ৫১ শতাংশ, বলেছেন স্মার্টফোন তাদের মেজাজে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো প্রভাবই ফেলে না। স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় নিয়েও অনেক মার্কিনের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জরিপে ৫৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, তারা স্মার্টফোনে যতটা সময় কাটান, তা তাদের কাছে অতিরিক্ত মনে হয়। ৩৬ শতাংশ বলেছেন, তারা যে পরিমাণ সময় ফোন ব্যবহার করেন তা মোটামুটি ঠিক আছে। মাত্র ৩ শতাংশ মনে করেন, তারা স্মার্টফোনে খুব কম সময় কাটান। এ ক্ষেত্রেও তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহারের অনুভূতি সবচেয়ে বেশি। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের প্রায় ৭০ শতাংশ মনে করেন, তারা স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় কাটাচ্ছেন। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৬৪ শতাংশ, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ। তবে স্মার্টফোনকে মার্কিনরা শুধু নেতিবাচকভাবেই দেখছেন না। বরং এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথাও উঠে এসেছে জরিপে। প্রায় ৭৩ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন ও তথ্যসমৃদ্ধ থাকতে সাহায্য করে। আর ৫১ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে মাত্র ৩ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোনের কারণে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে দূরে থাকেন। ১২ শতাংশ মনে করেন, ফোনের কারণে অন্য মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থাৎ, স্মার্টফোন মানুষের জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি কিছু সমস্যাও তৈরি করছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহার, ঘুমের ঘাটতি এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ তুলনামূলক বেশি। জরিপের ফলাফল বলছে, স্মার্টফোনের সুবিধা মানুষ স্বীকার করলেও এর ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ে অনেকেই এখন নতুন করে ভাবছেন।
রাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে দিয়ে বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়া এখন খুবই সাধারণ অভ্যাস। বিশেষ করে দ্রুতগতির চার্জিং প্রযুক্তির কারণে অনেক ফোন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরোপুরি চার্জ হয়ে যায়, অথচ ব্যবহারকারী ঘুম থেকে ওঠা পর্যন্ত সেটি বিদ্যুৎ সংযোগে থাকে। এতে ফোনের ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয় কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এর উত্তর আগের তুলনায় কিছুটা বদলেছে। বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় চার্জে থাকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একটি আধুনিক ফোনকে সাধারণভাবে রাতভর চার্জে রাখা মানেই ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে, এমনটা বলা যায় না। উদাহরণ হিসেবে, আইফোন পুরোপুরি চার্জ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিং নিয়ন্ত্রণ করে এবং অপ্টিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং চালু থাকলে দীর্ঘ সময় সংযুক্ত থাকার পরিস্থিতিতে প্রায় ৮০ শতাংশের পর চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে স্থগিত করে, পরে ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক ব্যবহারের সময়ের কাছাকাছি গিয়ে পূর্ণ চার্জ সম্পন্ন করে। গুগলের পিক্সেল ফোনেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। অ্যাডাপটিভ চার্জিং ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বুঝে দীর্ঘ সময় ফোন চার্জে থাকলে ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর সময়টি পিছিয়ে দিতে পারে। আবার কিছু পিক্সেল মডেলে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমিত করার সুযোগও রয়েছে। গুগলের মতে, যারা সাধারণত দিনের শেষে ফোনে কিছুটা চার্জ অবশিষ্ট রাখেন, তাদের জন্য এই সীমা ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে সহায়ক হতে পারে। স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ফোনেও ব্যাটারি সুরক্ষার জন্য একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। সাম্প্রতিক সফটওয়্যার সংস্করণে ব্যাটারি সুরক্ষা ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ চার্জের সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। নতুন কিছু গ্যালাক্সি ফোনে ৮০, ৮৫, ৯০ বা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার ঘুমের সময় চার্জ প্রায় ৮০ শতাংশে থামিয়ে ব্যবহারকারীর জেগে ওঠার আগে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে মডেল ও সফটওয়্যার সংস্করণ অনুযায়ী ফিচারের নাম ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। ব্যাটারির আয়ু নিয়ে মূল বিষয়টি হলো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির স্বাভাবিক রাসায়নিক ক্ষয়। ফোনের ব্যাটারি অসংখ্যবার চার্জ ও ব্যবহারের পর ধীরে ধীরে তার আগের সক্ষমতা হারায়। দীর্ঘ সময় ব্যাটারিকে পুরোপুরি চার্জ অবস্থায় রাখা এবং নিয়মিতভাবে শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আবার পুরো ১০০ শতাংশে চার্জ করার অভ্যাস ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এ কারণে নির্মাতারা এখন ব্যবহারকারীদের জন্য চার্জ সীমা ও স্মার্ট চার্জিংয়ের মতো বিকল্প দিচ্ছে। তবে রাতে ফোন চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাটারির চার্জের পরিমাণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো তাপমাত্রা। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত তাপ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যাপলও জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরম পরিবেশে ফোন চার্জ করলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা বেশি হলে ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারে। এই কারণেই রাতে ফোন চার্জে দেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি এড়িয়ে চলা উচিত, সেটি হলো ফোনকে বালিশ, কম্বল বা বিছানার চাদরের নিচে রেখে দেওয়া। এসব জায়গায় ফোন ও চার্জার থেকে উৎপন্ন তাপ সহজে বের হতে পারে না। অ্যাপলের নিরাপত্তা নির্দেশনাতেও চার্জের সময় ফোন, চার্জার ও ওয়্যারলেস চার্জারকে ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বালিশ বা কম্বলের নিচে রেখে চার্জ না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফোনকে গরম গাড়ির ভেতর বা সরাসরি রোদে রেখেও চার্জ দেওয়া উচিত নয়। অ্যাপলের নির্দেশনা অনুযায়ী, আইফোন সাধারণভাবে ০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পরিবেশে ব্যবহারের জন্য তৈরি। অতিরিক্ত গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে। ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে নিরাপত্তার জন্য চার্জিং সাময়িকভাবে বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তাহলে কি প্রতিদিন রাতে ফোন চার্জে রেখে ঘুমানো যাবে? আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে তা করা যায়। বিশেষ করে ফোনে যদি অপ্টিমাইজড বা অ্যাডাপটিভ চার্জিং সুবিধা থাকে, সেটি চালু করে রাখা ভালো। যারা প্রতিদিন ১০০ শতাংশ চার্জের প্রয়োজন অনুভব করেন না, তারা নিজেদের ফোনে চার্জ সীমা নির্ধারণের সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে বা ভ্রমণের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পুরো চার্জ নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই যুক্তিযুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফোন ও চার্জারকে অতিরিক্ত গরম হতে না দেওয়া। চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে বালিশ বা কম্বলের নিচে না রাখা, সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা এবং ভালো বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় চার্জ দেওয়া নিরাপদ অভ্যাস। একই সঙ্গে নিজের ফোনের ব্যাটারি সেটিংসে গিয়ে স্মার্ট চার্জিং বা চার্জ সীমার সুবিধা রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া যেতে পারে। বর্তমান প্রযুক্তিতে তাই রাতভর ফোন চার্জে রাখার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কের প্রয়োজন নেই। বরং ফোনের নিজস্ব ব্যাটারি সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলাই দীর্ঘদিন ব্যাটারি ভালো রাখার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য কনভারসেশন, অ্যাপল, স্যামসাং ও গুগল
নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের বাইরের রং নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তাঁদের দাবি, ফোনের পেছনের ক্যামেরা লেন্সের চারপাশে রং ফিকে হয়ে যাচ্ছে। ফোন ফেরত দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ। ১৮ সেপ্টেম্বর বাজারে আসা আইফোন ১৮ প্রোর যুক্তরাষ্ট্রে শুরুর দাম ১ হাজার ১৯৯ ডলার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারগান্ডি রঙের একটি প্রো ম্যাক্সের ছবি দিয়ে এক ক্রেতা জানান, তিনটি ক্যামেরা লেন্সের চারপাশের অংশ মূল রঙের তুলনায় হালকা ও গোলাপি দেখাচ্ছে। সেখানে ময়লা বা আঁচড় নেই এবং পরিষ্কার করার পরও রঙের পার্থক্য দূর হয়নি বলে তাঁর দাবি। আরও কয়েকজন ব্যবহারকারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। কালো রঙের মডেল নিয়েও অভিযোগ এসেছে। তবে ফোনের রং স্থায়ীভাবে বদলে যাচ্ছে, নাকি ক্যামেরার আশপাশের উপরিভাগে অন্য কোনো কারণে রঙের পার্থক্য দেখা দিচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কতটি ফোনে এমন হয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো উৎপাদন ব্যাচে সমস্যা রয়েছে কি না, সে তথ্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে অ্যাপল এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। এর আগে আইফোন ১৭ প্রোর কমলা রঙের কিছু ফোন গোলাপি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় রং বসানোর পর অ্যালুমিনিয়ামের উপরিভাগ সিল করার প্রক্রিয়া নিয়ে সম্ভাব্য প্রশ্ন তুলেছিল প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম অ্যাপলইনসাইডার। কিন্তু নতুন আইফোনের অভিযোগের পেছনেও একই কারণ রয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অ্যাপলের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আইফোন ১৮ প্রোর ক্যামেরার আশপাশের বিশেষ উপরিভাগে অন্য জিনিসের উপাদান লেগে কখনো দাগের মতো দেখাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তা পরিষ্কার করা যায়। তবে ছবিসহ অভিযোগ করা ক্রেতা জানিয়েছেন, তাঁর ফোনে পরিষ্কার করার পরও পার্থক্য রয়ে গেছে। ফোনটি পরীক্ষা ছাড়া তাঁর অভিযোগের কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি অ্যাপল থেকে কেনা পণ্য হাতে পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে নির্ধারিত শর্তে ফেরত বা বদলের সুযোগ রয়েছে। অন্য বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে সেই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। রং পরিবর্তন ওয়ারেন্টির আওতায় পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে অ্যাপলের পরীক্ষায় উৎপাদনগত ত্রুটি পাওয়া যায় কি না তার ওপর।
বাবা, দাদা বা পরিবারের অন্য সদস্যের নামে কোথায় কতটুকু জমি রয়েছে, তার প্রাথমিক তথ্য এখন স্মার্টফোন থেকেই খুঁজে দেখা যায়। ভূমি সেবা ডিজিটাল হওয়ায় ঘরে বসে অনলাইনে খতিয়ান ও দাগসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু কারও নাম লিখে দেশের সব এলাকায় তাঁর নামে থাকা জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জমির রেকর্ড নির্দিষ্ট এলাকা, খতিয়ান ও দাগের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আরটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জমির তথ্য খুঁজতে প্রথমে স্মার্টফোনের ক্রোম ব্রাউজারে গিয়ে ই-পর্চা সার্চ করতে হবে। এরপর সরকারি ই-পর্চা সেবায় প্রবেশ করে খতিয়ান অনুসন্ধানের অপশন নির্বাচন করতে হবে। সেখানে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার মতো প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচন করার পর খতিয়ানের ধরন নির্ধারণ করতে হবে। রেকর্ড অনুযায়ী বিএস, সিএস, আরএস বা এসএ খতিয়ানের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এরপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট জমির তথ্য অনুসন্ধান করা যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ক্যাপচা পূরণ করে অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে হয়। অনুসন্ধানের পর পাওয়া রেকর্ডে জমির মালিকের নাম, দাগ ও খতিয়ানসংক্রান্ত তথ্য এবং জমির পরিমাণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ফলে জমির অবস্থান বা রেকর্ড সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানতে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। খতিয়ানের কপি প্রয়োজন হলে অনলাইনেই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, ই-মেইল, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হতে পারে। নির্ধারিত সরকারি ফি থাকলে অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে তা পরিশোধ করা যায়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খতিয়ানের অনলাইন কপি পাওয়ার জন্য নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা। তবে অনলাইনে পাওয়া তথ্যকে চূড়ান্ত মালিকানার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার বা মালিকানা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খতিয়ান, দলিল, নামজারি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে পুরোনো জমির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ের খতিয়ানে তথ্য পরিবর্তিত থাকতে পারে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবার আওতায় খতিয়ান ও অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত সেবা অনলাইনে দেওয়ার ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে পাওয়া কিউআর কোডযুক্ত খতিয়ানও যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বাবা-দাদা বা পরিবারের কারও জমির তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে অনলাইন অনুসন্ধানকে প্রাথমিক যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে মালিকানা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব বৈধ নথি মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। সূত্র: আরটিভি
একসময় মোবাইল ফোনের বাজারে নোকিয়া ১১০০ ছিল পরিচিত এক নাম। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই বাটন ফোনটি এখন স্মার্টফোনের যুগে অনেকটাই অতীতের স্মৃতি। তবে প্রায় দুই দশক পরও নোকিয়া ১১০০ অনলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে। পুরোনো এই ফোনটি কেউ সংগ্রহের জন্য, আবার কেউ সেই সময়ের স্মৃতি ফিরে পেতে কিনতে চাইলে এখনো বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সেট খুঁজে পাওয়া যায়। নোকিয়া ১১০০ বাজারে আসে ২০০৩ সালে। ফোনটি তৈরি করা হয়েছিল সহজ ব্যবহার, কম দাম এবং টেকসই গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে। এতে ছিল সাদাকালো ডিসপ্লে, কল ও এসএমএসের সুবিধা, অ্যালার্ম, ক্যালকুলেটর, গেম এবং সবচেয়ে আলোচিত ফিচারগুলোর একটি টর্চলাইট। শক্তপোক্ত বডি ও সহজ ব্যবহারের কারণে ফোনটি দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় এর বিক্রির পরিসংখ্যানে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, নোকিয়া ১১০০-এর ২৫ কোটির বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। এই বিক্রির পরিমাণের কারণে মডেলটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের রেকর্ড ধরে রেখেছে। গিনেসের হিসাবে, বিক্রির দিক থেকে নোকিয়া ১১০০ তার সময়ের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নোকিয়ার ৩২১০ ও ৩৩১০ এবং মটোরোলা রেজর ভি৩-এর চেয়েও অনেক এগিয়ে ছিল। অর্থাৎ ২৫ কোটি ইউনিট বিক্রি মানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কোনো না কোনো সময় এই ফোনটি ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোবাইল যোগাযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সময় নোকিয়া ১১০০ বড় ভূমিকা রাখে। কম দাম, দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, সহজ ব্যবহার এবং তুলনামূলকভাবে শক্তপোক্ত নকশা ফোনটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিল। নোকিয়া ১১০০-এর জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ ছিল এর সময়োপযোগী নকশা। তখনকার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মোবাইল ফোনের মূল প্রয়োজন ছিল ফোন করা, এসএমএস পাঠানো এবং দীর্ঘ সময় চার্জ ছাড়া ফোন ব্যবহার করা। ইন্টারনেট, ক্যামেরা, অ্যাপ কিংবা টাচস্ক্রিন তখনো স্মার্টফোনের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজন হয়ে ওঠেনি। ফলে নোকিয়া ১১০০ অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোনের প্রায় আদর্শ উদাহরণ হয়ে উঠেছিল। নোকিয়া নিজেও ২০০৫ সালের এক প্রতিবেদনে ১১০০ মডেলের ভালো পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেছিল। কোম্পানির ওই বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নোকিয়া ১১০০ এবং নোকিয়া ৬০১০ ভালো পারফর্ম করেছে। সময়ের সঙ্গে মোবাইল প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আসে। রঙিন ডিসপ্লে, ক্যামেরা, মোবাইল ইন্টারনেট এবং পরে স্মার্টফোনের ব্যাপক বিস্তারের কারণে নোকিয়া ১১০০-এর মতো বাটন ফোন ধীরে ধীরে বাজারের মূলধারা থেকে সরে যায়। কিন্তু বিক্রির রেকর্ডের কারণে ফোনটি মোবাইল প্রযুক্তির ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। আজও পুরোনো নোকিয়া ১১০০ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়নি। বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ব্যবহৃত, পুরোনো এবং সংস্কার করা সেট পাওয়া যায়। ফলে কেউ চাইলে এখনো এই ঐতিহাসিক ফোনটি সংগ্রহ করতে পারেন। তবে অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে ফোনটি আসল কি না, সেটি ব্যবহৃত নাকি সংস্কার করা, এর অবস্থা কেমন এবং বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্কে সেটি কাজ করবে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। ২০০৩ সালে বাজারে আসা একটি সাধারণ বাটন ফোন কীভাবে ২৫ কোটির বেশি মানুষের হাতে পৌঁছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের রেকর্ড গড়েছিল, নোকিয়া ১১০০ তারই একটি বড় উদাহরণ। স্মার্টফোনের আধুনিক যুগে ফোনটির প্রযুক্তি হয়তো অনেক পুরোনো, কিন্তু নোকিয়া ১১০০ এখনো কোটি কোটি মানুষের কাছে একটি বিশেষ নস্টালজিয়ার নাম।
সময়কে গল্প বলার অন্যতম শক্তিশালী উপাদানে পরিণত করা, বাস্তব লোকেশনে দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য নির্মাণ এবং জটিল কাহিনিকে আবেগের সঙ্গে মিশিয়ে দর্শককে নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়া—এসব কারণেই বিশ্ব চলচ্চিত্রে আলাদা অবস্থান গড়ে তুলেছেন অস্কারজয়ী ব্রিটিশ নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান। আজ ৩০ জুলাই ৫৬ বছরে পা রাখলেন ‘ওপেনহেইমার’, ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘ইনসেপশন’ ও ‘দ্য ডার্ক নাইট’-এর এই নির্মাতা। নোলানের নতুন সিনেমা মুক্তি মানেই বিশ্বজুড়ে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ। তাঁর আসন্ন ছবি ‘দ্য অডিসি’ ঘিরেও একই উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও তাঁর সিনেমার জন্য দর্শকদের আগ্রহ বরাবরই চোখে পড়ার মতো। ১৯৭০ সালের ৩০ জুলাই লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে জন্ম নোলানের। বাবা ছিলেন একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার নির্বাহী, আর মা ছিলেন শিক্ষক ও সাবেক বিমানবালা। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা নোলান মাত্র সাত বছর বয়সে বাবার সুপার-৮ ক্যামেরা হাতে পান। সেখান থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর ভালোবাসার শুরু। খেলনা ব্যবহার করে ছোট ছোট চলচ্চিত্র বানাতেন তিনি। ‘স্টার ওয়ার্স’ সিরিজ তাঁর শৈশবের কল্পনাশক্তিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। অনেকের ধারণা, নোলান চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। বাস্তবে তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র সমিতিতে কাজ করতে গিয়েই হাতে-কলমে সিনেমা নির্মাণ শেখেন। পরবর্তীতে ফিল্ম স্কুলে আবেদন করলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে সেই ব্যর্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি। বন্ধুদের নিয়ে সপ্তাহান্তে স্বল্প বাজেটে চলচ্চিত্র নির্মাণ চালিয়ে যান তিনি। তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফলোয়িং’ নির্মিত হয় খুব সীমিত বাজেটে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয় ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মেমেন্টো’। স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত এক ব্যক্তির গল্পকে উল্টো সময়রেখায় তুলে ধরার অভিনব কৌশল চলচ্চিত্র সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। পরে ছবিটি দুটি বিভাগে অস্কারের মনোনয়নও পায়। এরপর ‘ব্যাটম্যান বিগিনস’ দিয়ে সুপারহিরো চলচ্চিত্রকে নতুন বাস্তবধর্মী রূপ দেন নোলান। ‘দ্য ডার্ক নাইট’ আজও আধুনিক চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর ‘ইনসেপশন’, ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘ডানকার্ক’, ‘টেনেট’ এবং ‘ওপেনহেইমার’ দিয়ে তিনি নিজের নির্মাণশৈলীকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। ‘ওপেনহেইমার’-এর জন্য তিনি সেরা পরিচালক এবং ছবিটি সেরা চলচ্চিত্রসহ একাধিক বিভাগে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়। নোলানের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সময়কে গল্পের কেন্দ্রে নিয়ে আসা। ‘মেমেন্টো’তে উল্টো সময়রেখা, ‘ইনসেপশন’-এ স্বপ্নের ভেতরে স্বপ্ন, ‘ইন্টারস্টেলার’-এ আপেক্ষিকতার প্রভাবে সময়ের ভিন্ন গতি, ‘টেনেট’-এ সময়ের বিপরীত প্রবাহ এবং ‘ওপেনহেইমার’-এ একাধিক সময়রেখার সমন্বয় তাঁর নির্মাণশৈলীর স্বাক্ষর। তবে জটিলতা সৃষ্টি নয়, বরং দর্শককে গল্পের সক্রিয় অংশে পরিণত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগেও নোলান সেলুলয়েড ফিল্মের অন্যতম বড় সমর্থক। তিনি এখনও ৭০ মিলিমিটার ও আইম্যাক্স ক্যামেরায় শুটিং করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কম্পিউটারনির্ভর দৃশ্যের পরিবর্তে বাস্তব লোকেশন ও ব্যবহারিক বিশেষ প্রভাব ব্যবহারে তাঁর আগ্রহ বেশি। ‘দ্য ডার্ক নাইট’-এ বাস্তবে ট্রাক উল্টে দেওয়া, ‘ইনসেপশন’-এর ঘূর্ণায়মান করিডর কিংবা ‘ওপেনহেইমার’-এ যতটা সম্ভব বাস্তব বিস্ফোরণের ব্যবহার তাঁর এই দর্শনেরই প্রতিফলন। ব্যক্তিগত জীবনে নোলানের সবচেয়ে বড় সহযাত্রী তাঁর স্ত্রী এমা টমাস। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই তাঁদের পরিচয়। এমা শুধু জীবনসঙ্গী নন, নোলানের প্রায় সব চলচ্চিত্রের প্রযোজকও। দুজনে মিলে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘সিনকোপ’, যা হলিউডের অন্যতম সফল পরিচালক-প্রযোজক অংশীদারত্বের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কাজের ক্ষেত্রেও নোলান বরাবরই ব্যতিক্রমী। তিনি স্মার্টফোন খুব কম ব্যবহার করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে ই-মেইল ব্যবহার করেন না বলেই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। শুটিং সেটে অপ্রয়োজনীয় মানুষের উপস্থিতি পছন্দ করেন না। চিত্রনাট্য সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নতুন প্রকল্প নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কম কথা বলেন এবং অভিনেতাদের কাছ থেকেও কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার প্রত্যাশা করেন। নোলানের বিশ্বাস, প্রযুক্তি মানুষের সৃজনশীলতাকে সহায়তা করবে, কিন্তু গল্প বলার বিকল্প হতে পারে না। এই দর্শনই তাঁকে সমকালীন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও সফল চলচ্চিত্র নির্মাতায় পরিণত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ পার্ক শহরে বাসিন্দা এবং পর্যটকদের জন্য এক অভিনব ও ইন্টারেক্টিভ অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে নতুন এক উদ্যোগ, যার নাম ‘এআর ট্রেইল’। এই প্রকল্পটির মাধ্যমে সাধারণ পাবলিক আর্ট বা গণ-শিল্পকর্মের সাথে অগমেন্টেড রিয়ালিটি (এআর) প্রযুক্তির এক দারুণ মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। এখন থেকে শহরের দেয়ালচিত্র বা ম্যুরালগুলোর পাশে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করেই দর্শনার্থীরা তাদের স্মার্টফোনে পেয়ে যাবেন এক জাদুকরী অভিজ্ঞতা। এই এআর ট্রেইলের মাধ্যমে মানুষ শুধু দেয়ালচিত্র দেখবেই না, বরং সরাসরি শিল্পীদের মুখে শুনতে পাবেন সেই আর্টের পেছনের গল্প এবং ইতিহাস। এই প্রকল্পের নির্মাতা বিল ফোর্ড জানান, পুরো প্রক্রিয়ার শুরুটাই হয় সাইন বোর্ডে থাকা কিউআর কোড দিয়ে। কোডটি স্ক্যান করার সাথে সাথেই মোবাইলের স্ক্রিনে পুরো দেয়ালচিত্রটি জীবন্ত বা অ্যানিমেটেড হয়ে ওঠে। কিছু ম্যুরালে বিশেষ ‘হট স্পট’ বা বাটন রয়েছে, যেখানে চাপ দিলে শিল্পীদের পরিচিতি এবং তাদের দেওয়া বার্তার বিস্তারিত জানা যায়। বিল ফোর্ড আরও বলেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে কলেজ পার্কের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং এর ভেতরের গভীর বার্তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। ট্রেইলে থাকা প্রতিটি শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন এই শহরেরই স্থানীয় শিল্পীরা, যা কলেজ পার্কের নিজস্ব ঐতিহ্য ও পরিচয় ফুটিয়ে তোলে। যেমন, এই ট্রেইলের অন্যতম একটি আকর্ষণ হলো প্রিন্সটন অ্যাভিনিউ এবং মেইন স্ট্রিটের সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি দেয়ালচিত্র। সেখানে শিল্পী জন ডিউক প্রায় ১৩০০ ফুট ইটের দেয়ালকে রঙে রঙে রাঙিয়ে তুলেছেন। এই কাজের লক্ষ্য ছিল পথচারীদের জন্য এলাকাটিকে আরও সুন্দর ও নিরাপদ করে তোলা। এটি মূলত এক ধরনের ‘কৌশলগত নগর পরিকল্পনা’, যেখানে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বসে না থেকে শিল্পীরা সরাসরি শহরের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছেন। অন্য একটি স্থানে ফুটপাতে আঁকা হয়েছে নীল ঢেউয়ের চিত্র। এটি মূলত রাস্তার নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী ও জলধারা সম্পর্কে পথচারীদের সচেতন করতে তৈরি করা হয়েছে। এই স্থানটির সাথে আদিবাসী আমেরিকানদের ইতিহাসও জড়িত রয়েছে। এই এআর ট্রেইলটি সবার ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তবে কেউ চাইলে এই শিল্পকর্মগুলোর ডিজিটাল কপি কিনে নিতে পারেন, যার লভ্যাংশ সরাসরি সাহায্য করবে স্থানীয় শিল্পীদের। কলেজ পার্কের পর খুব শীঘ্রই এই প্রযুক্তিভিত্তিক আর্ট ট্রেইলটি ‘ইস্ট পয়েন্ট’ শহরেও চালু করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।