হাঙ্গেরি

ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবান
ট্রাম্পের ইরান নীতি ও হাঙ্গেরিতে অরবানের পতন: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ইরান নীতি এবং হাঙ্গেরির দীর্ঘকালীন নেতা ভিক্টর অরবানের নির্বাচনী পরাজয় বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কীভাবে এই দুই নেতার রাজনৈতিক ভাগ্য এবং কৌশল একে অপরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসলামাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থাকে আরও ঘনীভূত করেছে। এদিকে, ইউরোপে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। নির্বাচনে পিটার ম্যাগিয়ারের ‘তিসজা’ (Tisza) পার্টির কাছে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছেন অরবান। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি এবং অরবানের 'ইললিবারেল ডেমোক্রেসি' বা অনুদার গণতন্ত্রের মডেল দীর্ঘকাল ধরে একে অপরকে সমর্থন দিয়ে আসছিল। অরবানের পরাজয় ইউরোপে পপুলিস্ট বা জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানে একটি "প্রকৃত চুক্তির" (Real Agreement) দাবিতে অনড় থেকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের যে হুমকি দিচ্ছেন, তা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সিএনএন বলছে, অরবানের প্রস্থান ট্রাম্পের জন্য ইউরোপে তার প্রভাব বিস্তারের পথকে কিছুটা কণ্টকাকীর্ণ করে তুলল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ এবং সামরিক তৎপরতা চালিয়ে ট্রাম্প বিশ্বকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি তার পররাষ্ট্র নীতিতে কোনো আপস করবেন না।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
হাঙ্গেরির কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। ছবি: সংগৃহীত
হাঙ্গেরিতে রেকর্ডসংখ্যক ভোট: গদি হারাতে পারেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র অরবান

দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের পর আজ এক অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হাঙ্গেরির কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। আজ রোববার হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এক ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন, যার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব—বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বুদাপেস্টের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা নাগাদ ভোট প্রদানের হার ৫৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এবার দেশটিতে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়তে পারে। নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে অরবানের ক্ষমতাসীন দল ‘ফিদেজ’ (Fidesz) এবং তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বর্তমান বিরোধী নেতা পিটার ম্যাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন ‘তিসজা’ (Tisza) পার্টির মধ্যে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে ম্যাগিয়ারের দল অরবানের দলের চেয়ে প্রায় ৭-৯ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে। ৪৩ বছর বয়সী ম্যাগিয়ার নিজেকে একজন উদারপন্থী ও ইউরোপ-পন্থি নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি দেশের দুর্নীতি দমন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ? ১. ইইউ ও ইউক্রেন যুদ্ধ: অরবানের শাসনামলে হাঙ্গেরির সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ইইউ-র অধিকাংশ দেশ যখন কিয়েভকে সমর্থন দিচ্ছে, তখন অরবান রাশিয়ার প্রতি কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন। ম্যাগিয়ার জয়ী হলে হাঙ্গেরি পুনরায় ইউরোপীয় মূলধারায় ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২. রুশ সংযোগ: নির্বাচনের ঠিক আগে অরবানের সরকারের বিরুদ্ধে মস্কোর সাথে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। অন্যদিকে অরবান একে ‘শান্তি বনাম যুদ্ধ’ হিসেবে প্রচার করছেন, যেখানে তিনি নিজেকে হাঙ্গেরিকে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষার একমাত্র রক্ষাকর্তা হিসেবে দাবি করেছেন। ৩. ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আন্তর্জাতিক প্রভাব: অরবানের অন্যতম বড় সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি নির্বাচনের ঠিক আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুদাপেস্ট সফর করে অরবানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। অরবানের পতন হলে ইউরোপে উগ্র-ডানপন্থী রাজনীতির বড় একটি স্তম্ভ ভেঙে যেতে পারে। ভোট দিতে আসা এক তরুণ ভোটার মিহালি বাসি বলেন, "আমরা দেশে পরিবর্তন চাই। বর্তমান সরকারের আমলে জনজীবনে অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছেছে। আমাদের ভবিষ্যৎ এখন ব্যালট বাক্সে।" অন্যদিকে অরবানের সমর্থকরা মনে করেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও হাঙ্গেরির স্বকীয়তা বজায় রাখতে অরবানের কোনো বিকল্প নেই। তবে অরবানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাঙ্গেরির বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিদেজ সরকারের তৈরি করা বিশেষ নির্বাচনী সীমানার কারণে ম্যাগিয়ারের দলকে অন্তত ৫-৬ শতাংশ বেশি ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করতে হবে। আজ সন্ধ্যা ৭টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক ফলাফল আসা শুরু হবে। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয়ী কে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। এটি কি অরবানের ‘ইলিবেরাল ডেমোক্রেসি’ বা অনুদার গণতন্ত্রের জয় হবে, নাকি পিটার ম্যাগিয়ারের হাত ধরে হাঙ্গেরি নতুন দিগন্তের পথে যাত্রা শুরু করবে—তা সময়ই বলে দেবে।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
মঙ্গলবার বুদাপেস্টে ‘হাঙ্গেরীয়-মার্কিন মৈত্রী দিবস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান করমর্দন করছেন।
ইউরোপে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রকে হারাতে যাচ্ছেন ট্রাম্প!

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী এক মেরুকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে হাঙ্গেরি। ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান আবারও এক উত্তপ্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন কেবল হাঙ্গেরির অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এর ফলাফল আটলান্টিকের দুই পারের ভূ-রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ভিক্টর অরবান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার কৌশলগত মিত্রতা এবারের নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে রয়েছে। অরবানের রক্ষণশীল ও কট্টর জাতীয়তাবাদী নীতির সাথে ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' বা 'আমেরিকা প্রথম' নীতির অদ্ভুত এক মিল খুঁজে পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। হাঙ্গেরির বর্তমান প্রশাসন সরাসরি ট্রাম্পের আদর্শকে সমর্থন জানিয়ে আসছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি-নির্ধারকদের জন্য এক বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা অরবানের জন্য এবারের নির্বাচন বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করা হচ্ছে। ইইউ-এর সাথে হাঙ্গেরির আইনি ও আর্থিক দ্বন্দ্ব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা বিরোধী শিবিরকে শক্তিশালী করেছে। ব্রাসেলসের নীতিনির্ধারকরা বারবার অরবানের বিরুদ্ধে ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ’ লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। অন্যদিকে, অরবানের দাবি, তিনি হাঙ্গেরির সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছেন এবং বাইরের শক্তির প্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত রাখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রভাব বা দৃষ্টিভঙ্গি অরবানের এই প্রচারণাকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে। যদি ট্রাম্প বা তার আদর্শিক মিত্ররা পশ্চিমা বিশ্বে পুনরায় আধিপত্য বিস্তার করে, তবে সেটি অরবানের মতো নেতাদের জন্য এক বড় আশীর্বাদ হতে পারে। তবে বিপরীতে, ইইউ যদি অরবানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে হাঙ্গেরি ও ইউরোপের সম্পর্কের ফাটল আরও চওড়া হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক গবেষকরা মনে করছেন, অরবানের এই নির্বাচন হাঙ্গেরির ভবিষ্যতের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপের ঐক্য রক্ষার প্রশ্নে। অরবানের জয় মানে হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ার সাথে সহমর্মী বা 'পুতিন-পন্থী' বলয়ের আরও শক্তিশালী হওয়া। আর পরাজয় মানে হাঙ্গেরির রাজনীতিতে বড় ধরনের ক্ষমতার পট পরিবর্তন। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে হাঙ্গেরির রাজনৈতিক মাঠ এখন সরগরম। একদিকে জাতীয়তাবাদের স্লোগান, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের দাবি—এই দুইয়ের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী কে হবে, তা জানতে এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

হত্যাকারী চিকিৎসকের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

দুই ছেলেকে হত্যার পর নিজ চেম্বারে অগ্নিসংযোগ, শেষে গাড়িতে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা চিকিৎসকের

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০