সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

নাজাফ থেকে মাশহাদে নেওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ১:৫৯
নাজাফ থেকে মাশহাদে নেওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ
নাজাফ থেকে মাশহাদে নেওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ থেকে ইরানের মাশহাদে নেওয়া হচ্ছে। বুধবার নাজাফ ও কারবালায় তার জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে গোটা অঞ্চলে।

 

আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদেই খামেনির দাফন সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে কয়েকদিন ধরে চলা রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।

 

খামেনির মৃত্যুর পর গত ছয় দিন ধরে ইরান ও ইরাকজুড়ে ব্যাপক শোকানুষ্ঠান ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইরাকের নাজাফ ও কারবালাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে জানাজা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

নাজাফ থেকে মাশহাদে মরদেহ স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে শেষপর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। খামেনির কার্যালয়ের প্রধান মোহাম্মদ মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি জানিয়েছেন, জীবদ্দশায় তিনি নিজেই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যেন তাকে মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের পাশে দাফন করা হয়।

 

সেই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে মাশহাদেই তার দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটেছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনীতি ও ধর্মীয় নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটালেও তার দাফনকে ঘিরে যে জনসমাগম ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে, তা দেশটির ভেতরে তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন।

 

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
যুক্তরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার, বছরে কার্বন ছড়াবে নিউইয়র্কগামী ৮,৪৮০ ফ্লাইটের সমান
যুক্তরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার, বছরে কার্বন ছড়াবে নিউইয়র্কগামী ৮,৪৮০ ফ্লাইটের সমান

লন্ডনের নর্থ অকেন্ডনে প্রস্তাবিত ১৪.৭ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার চালু হলে বছরে ১২ লাখ টনের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ হতে পারে বলে পরিকল্পনা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিমাণ নিঃসরণ লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে প্রায় ৮ হাজার ৪৮০টি ফ্লাইটের বার্ষিক কার্বন ফুটপ্রিন্টের সমান।    ইস্ট হ্যাভারিং ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস নামে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ইউরোপের অন্যতম বড় ডেটা সেন্টারে পরিণত হতে পারে। ২১৮ হেক্টর গ্রিন বেল্ট জমিতে গড়ে ওঠার কথা রয়েছে এই ক্যাম্পাসের। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণের অবকাঠামো হিসেবে এটি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।   পরিকল্পনা নথি অনুযায়ী, ডেটা সেন্টারটির সম্ভাব্য ৬০ বছরের আয়ুষ্কালে মোট কার্বন নিঃসরণ ৭ কোটি ২০ লাখ টনেরও বেশি হতে পারে। আর ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হলেও বছরে প্রায় ২৬৫ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে, যা যুক্তরাজ্যের ১০ লাখের বেশি পরিবারের বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের কাছাকাছি।    প্রকল্পটির জন্য জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের সংযোগ প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৬০০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার সক্ষমতার সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট গ্রিড অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে।   কার্বন নিঃসরণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা নথিতে প্রকল্পটির কার্বন নিঃসরণ যুক্তরাজ্যের ২০৫০ সালের নেট-জিরো লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩৮ সালের হিসাবে প্রকল্পটির পরিচালনাগত কার্বন নিঃসরণ হ্যাভারিং এলাকার পুরো কার্বন বাজেটের প্রায় ২০ গুণ এবং যুক্তরাজ্যের মোট কার্বন বাজেটের প্রায় ১ শতাংশের সমান হতে পারে।    তবে প্রকল্পটির পক্ষে অর্থনৈতিক সুবিধার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ডেভেলপারদের দাবি, ক্যাম্পাসটি স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি হ্যাভারিংয়ের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। প্রকল্পের পরিকল্পনায় ১১৩ হেক্টরের একটি ইকোলজি পার্ক, ইনডোর হর্টিকালচার সুবিধা এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সবুজ জায়গার কথাও রয়েছে।    হ্যাভারিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পটি এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে স্থানীয় উন্নয়ন আদেশের খসড়া নিয়ে জনমত গ্রহণ করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পরিকল্পনা, পরিবেশগত প্রভাব ও কারিগরি বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে।    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বড় ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব স্থাপনার জন্য বিপুল বিদ্যুৎ, জমি ও শীতলীকরণ অবকাঠামোর প্রয়োজন হওয়ায় পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইস্ট হ্যাভারিং প্রকল্পকে ঘিরে সেই বিতর্কই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১:৩৫
ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান

ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান, খবর পেয়ে ১০ হাজার মানুষ হাজির

সাবেক প্রেমিকাকে সপরিবারে মারতে ইতালি যান শাহাদাত

সাবেক প্রেমিকাকে সপরিবারে মারতে ইতালি যান শাহাদাত

দরজার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চীনে প্রায় ৩০ লাখ টেসলা গাড়ি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

দুর্ঘটনার পর দরজা খুলতে সমস্যা হতে পারে, চীনে প্রায় ৩০ লাখ টেসলা গাড়ি প্রত্যাহার

তিন সন্তানকে বড় করতে বছরের পর বছর পুরুষের পরিচয়ে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেছেন মিশরের বাহেয়া আলি সুলেইমান। ছবি: সংগৃহীত
সন্তানদের জন্য নিজের কিডনি বিক্রি, হয়রানি থেকে বাঁচতে বছরের পর বছর পুরুষ সেজে কাজ করলেন এক মা

সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন মিশরের বেনি সুয়েফের বাহেয়া আলি সুলেইমান। স্বামী দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে অক্ষম হয়ে কাজ করার সামর্থ্য হারানোর পর তিন সন্তানকে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্মাণশ্রমিকের কাজ থেকে শুরু করে টুকটুক চালানো পর্যন্ত করেছেন তিনি। কিন্তু পুরুষশ্রমিকদের হয়রানি এড়াতে শেষ পর্যন্ত নিজের পরিচয় আড়াল করে পুরুষের পোশাক পরে ‘বাকার’ নামে কাজ করতে শুরু করেন।   তবে এই ঘটনা নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালে আবার আলোচনায় এলেও বাহেয়ার এই ঘটনা মূলত ২০১৭ সালে মিশরের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে আসে। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ৩২ বছর। পরবর্তী বছরগুলোতে তাঁর জীবনকাহিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।   বাহেয়ার স্বামী দুর্ঘটনার পর চলাফেরা ও কাজের সক্ষমতা হারালে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যায়। তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানোর জন্য তখন বাহেয়াকেই কাজের সন্ধানে বের হতে হয়। প্রথমে তিনি টুকটুক চালাতেন। এরপর নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।   কিন্তু নির্মাণকাজে অধিকাংশ শ্রমিক ছিলেন পুরুষ। বাহেয়া প্রথমদিকে আবায়া ও মাথায় ওড়না পরেই কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এতে পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হতে হতো এবং তাঁকে কাজের জায়গায় গুরুত্ব দেওয়া হতো না। পরিস্থিতি থেকে বের হতে তিনি চুল কেটে ফেলেন, পুরুষের পোশাক পরেন এবং ‘বাকার’ নাম গ্রহণ করেন।   এরপর কয়েক বছর ধরে তিনি পুরুষ পরিচয়েই নির্মাণকাজ করেন। ইট, বালু ও অন্যান্য ভারী নির্মাণসামগ্রী বহনের মতো কঠিন কাজও করতে হয়েছে তাঁকে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ ছিল না। বাড়তি আয় করতে তিনি টুকটুক চালিয়ে রাত পর্যন্ত কাজ করতেন।   কিন্তু এত পরিশ্রমের পরও পরিবারের আর্থিক সংকট কাটছিল না। একপর্যায়ে ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের চাপ সামলাতে বাহেয়া নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেন। এর বিনিময়ে তিনি প্রায় ২৫ হাজার মিশরীয় পাউন্ড পেয়েছিলেন, যা তখন প্রায় ১ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলারের সমান ছিল।   কিডনি বিক্রির পর তাঁর শারীরিক অবস্থাও খারাপ হয়ে যায় বলে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন। বাহেয়ার ভাষ্য ছিল, অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি সব সময় দুর্বল বোধ করতেন এবং ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতেও কষ্ট হতো। তারপরও পরিবারের জন্য কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে।   তাঁর টুকটুকটিও একপর্যায়ে পুলিশ জব্দ করে। বৈধ লাইসেন্স না থাকার কারণে সেটি আটক করা হয়েছিল এবং সেটি ফেরত পেতে প্রায় ৩ হাজার মিশরীয় পাউন্ড জরিমানা দিতে বলা হয়েছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সেই অর্থও জোগাড় করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।   বাহেয়ার জীবনকাহিনি ২০১৭ সালে মিশরের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘৯০ মিনিটস’-এ প্রকাশ্যে আসে। অনুষ্ঠানে তিনি নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তাঁর গল্প প্রকাশ্যে আসার পর মিশরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয় এবং তাঁর কঠিন জীবনসংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে।   সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নারীর পোশাকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে তাঁর কখনো ইচ্ছা করে কি না। জবাবে তিনি জানান, নারীদের স্বাভাবিক পোশাকে দেখলে তাঁর কষ্ট হয়। কারণ নিজের পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁকে এমন এক পরিচয় গ্রহণ করতে হয়েছিল, যা তিনি নিজে বেছে নেননি।   তাঁর গল্পের আরেকটি দিক ছিল কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও সুযোগের সংকট। বাহেয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, নারী হিসেবে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে তিনি যে আচরণের মুখোমুখি হয়েছিলেন, পুরুষের পরিচয় নেওয়ার পর সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। ফলে পুরুষ পরিচয় তাঁর কাছে শুধু আয়ের কৌশল নয়, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি থেকে নিজেকে দূরে রাখার একটি উপায়ও হয়ে ওঠে।   তবে কিডনি বিক্রির বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে জীবিত অবস্থায় একটি কিডনি বিক্রি করা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাহেয়ার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে যায়। তাঁর ঘটনা তাই শুধু একজন মায়ের ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়, দারিদ্র্য ও ঋণের চাপে মানুষ কতটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে, তারও একটি উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়েছে।   ২০২৬ সালের আগস্টে উসপসুলসহ কিছু ওয়েবসাইটে তাঁর পুরোনো ঘটনা আবার প্রকাশিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাটিকে ২০২৬ সালের নতুন ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না। বাহেয়ার এই জীবনসংগ্রামের মূল প্রতিবেদন ও টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ২০১৭ সালের।   বাহেয়া আলি সুলেইমানের গল্প শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া এক নারীর কঠিন বাস্তবতার কথাই সামনে আনে। স্বামীর অক্ষমতার পর সন্তানদের দেখভালের দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, পুরুষ পরিচয়ে বছরের পর বছর শ্রম এবং শেষ পর্যন্ত নিজের শরীরের একটি অঙ্গ বিক্রি করে ঋণ সামাল দেওয়ার চেষ্টা তাঁর জীবনের গভীর সংকটকে তুলে ধরে।   সংবাদসূত্র: মিশরীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘৯০ মিনিটস’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২৩:১৩
১২ বছর বয়সী শিশুর পরিচয়ে একটি পরিবারের সঙ্গে ১৪ মাস বসবাসের ঘটনায় আমান্ডা মারিয়া সুজা দে অলিভেইরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

শিশু সেজে পরিবারের সঙ্গে বসবাস, প্রতারণার দায়ে ৩৮ বছর বয়সী নারী দোষী সাব্যস্ত

গাজায়  মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও

গাজায় জীবিতদের আশ্রয় নেই, মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও

গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত, তাদের একজন মরিয়ম আবু দাগ্গা

ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলায় চার দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র
ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলায় চার দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের একটি সাইবার হামলায় যুক্তরাজ্যের একটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র চার দিন বন্ধ ছিল বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ঘটনাটি গত মাসে ঘটলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২২ আগস্ট। এটিকে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রথম সফল সাইবার হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।    তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, আক্রান্ত স্থাপনাটি ছোট হওয়ায় এই হামলায় দেশটির সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বা জাতীয় গ্রিডে কোনো প্রভাব পড়েনি। নিরাপত্তার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নামও প্রকাশ করা হয়নি।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যাকাররা সাইবার হামলার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। কর্মীরা সিস্টেম পুনরায় চালু করতে কাজ করার পর প্রায় চার দিন পর কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।    ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার-কে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হামলার বিষয়ে সতর্ক করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।    ব্রিটিশ কর্মকর্তারা সরাসরি হামলার জন্য ইরান সরকারকে দায়ী করে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের এই হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।    ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে ইরানকে যুক্তরাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও অনির্দেশ্য রাষ্ট্রীয় হুমকির অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার বিদ্যুৎ খাতের সাইবার নিরাপত্তা আরও জোরদারের পরিকল্পনা করছে। সরকারের কৌশলপত্রে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে     সফিস্টিকেটেড সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্ত এবং হামলার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-হামলাটি জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি না করলেও, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনার কার্যক্রম চার দিন বন্ধ করে দিতে সক্ষম হওয়া যুক্তরাজ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৪:৬
ব্রিটেনকে আবারও হুমকি পুতিনের

ব্রিটেনকে আবারও হুমকি পুতিনের, বেপরোয়া পদক্ষেপের আশঙ্কা

মুসলিম পরিচয় নিয়ে জেমিনির বিতর্কিত উত্তর, তীব্র সমালোচনার মুখে ইসলামবিদ্বেষী উত্তরের পরিবর্তন

মুসলিম পরিচয় নিয়ে জেমিনির বিতর্কিত উত্তর, তীব্র সমালোচনার মুখে ইসলামবিদ্বেষী উত্তরের পরিবর্তন

কৃষ্ণাঙ্গ দম্পতির ঘরে নীল চোখ ও সোনালি চুলের শিশুর জন্ম, বিস্মিত চিকিৎসকরাও

কৃষ্ণাঙ্গ দম্পতির ঘরে নীল চোখ ও সোনালি চুলের শিশুর জন্ম, বিস্মিত চিকিৎসকরাও

0 Comments